রাত্রি তিনটা…

ক্রিং ক্রিং ক্রিং…
ক্রিং ক্রিং ক্রিং….

– হুম, হ্যালো…

ঘুমে চোখের শাটার আপনাআপনি পড়ে যাচ্ছে সমনের, আর এই রাত তিনটার দিকে এ ফোনটা আসবেই …. দীর্ঘ দিনের অভ্যাস হয়ে গেছে, মোটামুটি ৩৬৫ দিন + ১৫০-১৭০ দিনের অভ্যাস, একে দীর্ঘই বলা চলে। হয়তো তাই এই আজব কলের জন্য এ সময়টাতে ঘুম কিছুটা হলেও পাতলা হয়ে যায়…



ক্রিং ক্রিং ক্রিং…
ক্রিং ক্রিং ক্রিং….

– হুম, হ্যালো…

ঘুমে চোখের শাটার আপনাআপনি পড়ে যাচ্ছে সমনের, আর এই রাত তিনটার দিকে এ ফোনটা আসবেই …. দীর্ঘ দিনের অভ্যাস হয়ে গেছে, মোটামুটি ৩৬৫ দিন + ১৫০-১৭০ দিনের অভ্যাস, একে দীর্ঘই বলা চলে। হয়তো তাই এই আজব কলের জন্য এ সময়টাতে ঘুম কিছুটা হলেও পাতলা হয়ে যায়…

– কথা বলছেন না কেন??
– আপনি কেমন আছেন??

কথাটা প্রায় কষ্ট সাধ্য ভাবেই শুনতে হয় সমনের, কেননা ওপাশের মেয়েটা ফিসফিস করে কথা বলছে, বলতে গেলে শোনাই যায় না…

– সবসময় খারাপ
– কি ক র ছে ন?
– কি??
– ব লি আ প নি কি কর ছেন!!!!
– কিছু না বেইবি , নাচতেছি, উড়ুক্কু ধুরুক্কু নাচ। বাসায় আসো, একসাথে নাচি…

ওপ্রান্ত থেকে অনেকটা নিঃশব্দে হাসার মত শব্দ পেল সমন, একটু অবাক লাগছে বটে। রাত তিনটায় ফোন দিয়ে বলে কিনা কি করছি!!!!!!
হাসুক, ফোনটা কেটে দিল সমন, সাইলেন্ট করে মোবাইলটা একপাশে রেখে দিলো। বিছানায় শুয়ে পড়ে চোখ বুজল আরামে, আহ্ শান্তি!!! আস্তে আস্তে আবার গভীর ঘুমের তলায় পৌঁছে যাচ্ছে ….

মোবাইলটা ভাইব্রেট করে উঠল আবার , কল এসেছে!!

* * * * * * *

– হুম, কত দিন ধরে এ অবস্থা?

মুখ তুলে মামুনের দিকে তাকালো সমন, ” এই ধর একবছরের বেশি তো হবেই!! ”

– তো, এতদিন পরে বলছিস কেন হতচ্ছাড়া!!
– ইয়ে মানে ঠিক…
– আচ্ছা, বলতে হবে না। কিন্তু মামা মাইয়া তো তোমার প্রেমে পড়ছে..
– এটা তোর বলতে হবে না। এতটুকু অন্তত বুঝি, বয়স হয়েছে তো।
– ওরে আমার সমু বাবা এত বড় হয়ে গেছে!!!

জ্বলন্ত চোখে মামুনের দিকে তাকালো সমন। ওর মা ওকে আদর করে সমু বলে ডাকে। আর হতচ্ছাড়া ছেলেটা তা শুনে এখন ব্যঙ্গ করে। হাফপ্যাণ্ট কালের বন্ধু, বাসায় যাওয়া আসা করতে করতে এ তথ্যটা জেনে গেছে। মাথা নাড়ল সমন, এই হাফপ্যাণ্ট কালের বন্ধু গুলো আর মানুষ হলো না….

– ফিসফিস করে কথা বলে…
– হ্যাঁ
– মানে..
– মানে?
– মেয়েটা তোর পরিচিত।

মনে মনে একটু ধাক্কাই খেলো সমন, ” পরিচিত!! তুই বুঝলি কেমনে? ”

– হেহহেহেহ, মামা এজন্যই আমার নাম মামুন , আমি…
– বলবি কি না??
– দেখ মেয়েটা তোকে চিনে, তুইও মেয়েটাকে চিনিস। এমনকি মনে হয়, তুই ওর সাথে কথাও বলেছিস, সামনাসামনি। তুই ওর কন্ঠ চিনিস। তাই ওই মেয়ে ফিসফিস করে কথা বলে যাতে তুই ওকে চিনতে না পারিস।

ওও, , পুরা ভার্সিটির দিকে একবার তাকালো সমন। কত মেয়ে ঘোরাফেরা করছে। এদের মধ্যে কেউ একজন, সেই রহস্যময়ী , ওর শত্রু। ….শত্রু???

– বুঝলি?
– হুম বুঝলাম। কিন্তু অন্য কারণও তো থাকতে পারে
– কেমন?
– হয়তো বাসায় প্রবলেম, জোরে শব্দ করে কথা বলতে পারে না….
– উহু বস!! আমার কথাই সত্যি হবে।
– ঠিক আছে ….
– চল ক্লাসে যাবো, তবে আর একটা কথা ….
– আবার কি!!!
– মেয়েটা আমাদের গ্রুপেরও হতে পারে….
– মামুইন্যা, অতিরিক্ত স্বপ্ন দেখছিস, চল!!!

মামুনকে এক প্রকার টানতে টানতেই নিয়ে গেল সমন.।

ভার্সিটির ক্লাসগুলো করার পরে বেরিয়ে সমনরা প্রায় পনের ষোল জনের গ্রুপ হয়ে যায়। সেই স্কুল থেকে এখন পর্যন্ত আছে তাই একটু স্পেশাল ভাবেই আছে সবাই। আতিক, মামুন , সমন, পলাশ, রনি, তপু, ফাহিম, নীলা, মেহজাবিন সহ আরো নতুন যুক্ত হওয়া জুঁই আর তাবাসসুম তো আছেই, মোটামুটি এরা সবাই একসাথে আড্ডা দেয়, ঘুরে। হইচই করতে থাকে সবসময়ই, প্রাণ খুলে হাসে। মোটকথা , গ্রুপে প্রাণ বিদ্যমান। গ্রুপের অন্যতম প্রাণ মামুন , আনমনেই মুচকি হাসছে সমন, ছেলেটা পারেও বটে!!!
সবাই হাসছে, কেউ বিষণ্ণ নয়। তপুর পিঠে কিল মারছে নীলা, কি করেছে কে জানে!!

– এই যে মিস্টার ভাবুক।

পিছনে তাকালো সমন, জুঁই আসছে।

– হ্যাঁ, বলো, মিস ফুল!!
– হিহিহি, এই উপাধি পেলাম কবে??
– তাহলে আমি ভাবুক উপাধি পেলাম কবে??
– কবেই তো!! কথা বার্তা কম বলেন, খালি ভাবেন, ক্লাসে গালে হাত দিয়ে স্যারের লেকচার শুনেন …
– মোটেই না। ভিজে বিলাই সাজা পুরোনো অভ্যাস আমার
– হুহ, মিথ্যা বলেন কেন!!!

আতিক এগিয়ে এলো। চশমাটি বারবার নিচে পড়ে যায় ওর, আর খুবই অদ্ভুত ভাবে উপরে তুলে!! কাছে এসে সেটাই করলো।

– আতিক সাহেব…
– জ্বি রাণী!!

অদ্ভুত চোখে আতিকের দিকে তাকাল সমন, ” রাণী কি রে!!! ”

থতমত খেলো আতিক, ” না, দুষ্টামি করাই যায়, এ কিছু না!! ”

– হু, জুঁই, ইনাকে কি বলবেন??
– প্রজা!!! হ্যা, বলেন প্রজা, আজ কি খাজনা দেবেন!!
– আইসক্রিম!!

সমন ডাকতে শুরু করলো ওদের , ” কিপটাতিক আজ সবাইকে আইসক্রিম খাওয়াবে, এদিকে আয় তো!! ” দাঁত বের করে আতিককে স্পেশাল হাসি উপহার দিলো সমন

– সমন

মামুনের ডাক পেয়ে ঘুরে দাঁড়ায় সমন, ” হ্যাঁ, বল ”

– আজ যেতে হবে রে
– কোথায়?
– বাসায়, একটু কাজ আছে।

দাঁত বের করে হাসলো সমন , ” নাকি অদিতিকে নিয়ে আজ ঘুরবি? ”

– হ্যাঁ, ওটাই। ওকেও তো সময় দেয়া উচিত।
– হাহাহা , আচ্ছা ,আমিও যাবো। মা তাড়াতাড়ি বাসায় যেতে বলেছেন।
– হুম, আয় তাহলে

হাত নেড়ে সবাইকে বিদায় জানিয়ে এসে পড়ল মামুন আর সমন। রিকশায় উঠেই শুরু করেছে মামুন

– দোস্ত, আমি এখন শিওর আমাদের গ্রুপের কেউ
– ধুর! কি আবোলতাবোল বলিস!!!
– না, সত্যিই। কেন আমাদের গ্রুপের মেয়েরা কি প্রেম করতে জানে না…
– মামুন , টপিক চেঞ্জ ..
– কেন, এটা তোর জীবন মরণের সমস্যা ….
– হোয়াট!! জীবনমরণ!!
– হ্যাঁ, তোকে মেয়ে ঘুমের ডিস্টার্ব করে, পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মানুষের মৃত্যু হতে পারে..
– ওওফ!!? মামুন থামবি!!!
– না, তোকে শুনতে হবে ..
– মামুন…
– আচ্ছা, চুপ …
– হুহ
– দোস্ত
– কি?
– অন্তত আর একটা কথা বলতে দে…
– মামুন !!!!!
– চুপ…

আরেক দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়াল সমন, নাহ্, এগুলো ওরে পাগল করে ছাড়বেই ….

টুংটাং বেল বাজতে বাজতে রিকশা এগিয়ে যায়. .

## ## ##

বাড়িতে বেডে করুণ মুখে শুয়ে আছে সমন। যেন কত কষ্ট হচ্ছে!! কিন্তু সবই ভান। মনে মনে একটু রেগে আছে সমন। সব হারামি মামুনের বুদ্ধি …

পরিবারের সবাই গ্রামের বাড়িতে এক সপ্তাহের জন্য চলে যাওয়ায় বাড়ি মোটামোটি খালি। এদিকে ছোট্ট একটু র্দুঘটনায় সমনকে একদিনের জন্য বিছানায় বিশ্রাম নিতে হয় আর তখনই আসে মামুনের মাথায় কুবুদ্ধি .. সমনের প্রায় সারা শরীরেই ব্যান্ডিজ দিয়ে আবৃত। সব মামুনের চাল…

মেয়েটা ফোন দিয়েছিল দুদিন আগে। এবার দুপুরে ..

– আপনি নাকি এক্সিডেন্ট করেছেন …
– হ্যাঁ, , খুব যন্ত্রণা হচ্ছে!!! উফফফফফফফফ!!!

ওপাশে ফুপিয়ে কান্নার শব্দ শোনা যাচ্ছে। সমনের মনটা খারাপ হয়ে গেল ধোঁকা দিচ্ছে বলে …

– হ্যালো…

কান্নারত মেয়েটার ফোঁপানি একটু কমে এল, ফিসফিসিয়ে বলল, ” বলুন ”
– তুমি আমাকে অনেক ভালোবাসো, না??
– ….
– নীরবতা সম্মতির লক্ষণ।
– …..
– তাহলে নিজেকে লুকায় রাখছো কেনো?? সামনে আসতে পারো না??
– ….
– কখনোই তোমায় দেখবো না??
– আমি তো তোমার আশেপাশেই আছি, থাকবো …

কি মোলায়েম কন্ঠ মেয়েটার!! এ কন্ঠ সে শুনেছে!! কার কার…

– আমি তোমায় দেখতে আসবো…
– কবে??
– পরশুদিন … তোমাকে সবাই যখন দেখতে আসবে অনেকে, , ওদের ভিড়ে আমি একজন থাকবো …
– তোমায় চিনবো কি করে??
– চেনার কি দরকার!!! এই তো ভালো আছি না!!
– আউউউ!!
– কি হলো!!!???
– বা হাতে প্রচুর ব্যথা!!! কেটে গেছে!!
– ওও।
– হুহ
– আচ্ছা রাখি।

লাইন কেটে গেল। কি মনে করে আবার কল করলো সমন কিন্তু যান্ত্রিক কন্ঠে মহিলার কথা শুনতে পেল, ” আপনার কাঙ্ক্ষিত নম্বরে এই মূহুর্তে সংযোগ দেয়া….”
কি আজব!!

দেখতে দেখতে একদিন পার হয়ে গেল আর…
আজ সেই দিন।

দরজা ঠেলে সবাইকে নিয়ে ডুকলো মামুন। সদাজ্জ্বল হাসিমুখ সবার।
কে হতে পারে, ভাবলো সমন, এখানে এসেছে তো??
টুং করে মৃদু জানান দিল মোবাইলটায়, একটা মেসেজ। ছোট্ট করে দুটি শব্দ, ” আমি এসেছি ”

ধকধকানির শব্দ শুনছে সমন। করুণ করে তুললো মুখের চেহারা!! আহা! বেচারা!
সবাই সমনের বেডের ডান কিনারে এসেই দাঁড়ালো, একমাত্র মামুন সমনের বাঁ হাতের কিনারে।
তপু হেসে উঠল, ” হেহহেহেহ, বিছানায় শুয়ে কতকিছু মিস করলিরে মনু!! নীলা সবাইকে ব্রেকফাস্ট করিয়েছে কাল, জম্পেশ ..”
নীলা চেঁচিয়ে উঠল, ” চিকনা বান্দর এত খায় কিভাবে!!! তুই বিশ্বাস করবি কি না, তপু এত খেতে পারে, পুরা ফকির বানিয়ে দিল…”
রনি দেঁতো হাসি দিল, ” দেখছোস নীলা, তোরে বলছিলাম না!! বড়দের কথা শুনতে হয় .. ”

একেকজন একেক ভাবে কথা বলে গরম করে তুলছে ঘরটা, ভাবছে সমন, আজব!! ওকে কি সহানুভূতি জানাতে এসেছে এরা নাকি মজাদার কথা বলে আফসোস করানোর জন্য এসেছে!!! মুখ বাঁকালো সমন।
জুঁইয়ের দিকে চোখ পড়ল সমনের , চুপচাপ, এতক্ষণ এদিকেই তাকিয়ে ছিলো। ও তাকাতেই চোখ সরিয়ে নিল।

– কি রে, অনুভূতি কেমন??

পলাশের কথায় ঘর কাঁপিয়ে হেসে উঠল সবাই। মুন্নি সাহার পুরুষ সংস্করণ!!
জীবনের সেরা অভিনয় করার চেষ্টা করলো সমন, ” সুস্থ হয়ে নিই খালি, হাত পা ভেঙে বিছানায় ফেলে রাখবো যখন, বুঝবি অনুভূতি কেমন! ”

দাঁত বের করে হাসি উপহার দিলো মামুন , বাঁ হাতটা ধরতে যাবে, চিৎকার করে উঠল জুঁই, ” বাঁ হাত ধরো না, ওখানে বিশ্রী ভাবে কেটেছে!!!! ”

সবাই জুঁইয়ের দিকে অবাক হয়ে ফিরে তাকালো, আতিক সমনকে জিজ্ঞাসা করলো, ” সত্যি? ”

– হ্যাঁ

মামুন হাত সরিয়ে নিলো। সমন মুচকি একটু হাসলো, বাঁ হাতে ওর কিছুই হয় নি আসলে!! জুঁই বের হয়ে গেল।

দু ঘন্টা পর…..
সিগারেট টানছে মামুন। সমন খুব কষ্টে পায়ের ব্যান্ডেজ খুলছে।

– কাল ফুল নিয়ে যাস , সদ্য ফোটা গোলাপ …
– হারামী, কি পেঁচিয়েছিস এগুলা!!! যন্ত্রণা!!
– ধুরো যা!!! আমার কথা শোন, ফুল নিয়ে যাবি কিন্তু সামনে …..

## ## ## ##

রাত তিনটা …

গভীর ঘুম থেকে ধীরে ধীরে জেগে উঠছে সমন, ফোন বাজছে।

– হুম…
– হ্যালো
– হ্যালো, পাখি …
– ডিনার করছো তো??
– হুম। তুমি?
– হ্যা করছি। কালকে আসবো, তোমাকে ছাড়া ভালো লাগে না …
– আচ্ছা, রাখি?
– কিসের রাখারাখি?? আজ ফোনে প্রেম করবো! কবিতা শোনাও?!!
– আমি!! পারবো না মিসেস. ..
– সমন!!
– না…
– শোনাও!
– না ..

খুনসুটি শুরু হলো ফোনে মিঃ ও মিসেস সমনের। মিসেস জুঁইকে পেয়েছিলেন সমন, বাঁ হাতের মিথ্যে ব্যাপারটার জন্য মামুনকে অসংখ্যবার ডিনার খাওয়াতে হয়েছে সমনকে। আজ সমনের সাথে থাকছে মামুন , রাতে খাওয়া সেরে একসাথে ঘুমিয়েছে দুই বন্ধু।
বিরক্ত ভঙ্গিতে পাশ ফিরে তাকালো মামুন,,

– ওই হারামী , আস্তে কথা বল
– আস্তে কমু ক্যান? আমার বউয়ের সাথে চিল্লায় কথা বলবো .. .
– আমার ঘুমের ডিস্টার্ব হয় …
– হোক।। জানু, তোমারে একটা পাপ্পি দেই, উম্মাহ ….
– আল্লাহ!! কি অশ্লীল কি অশ্লীল!!! তুই দোযখে যাবি সমন.!!
– ওইত্তেরি!! আমার বউ আর ….

প্রিয় বন্ধুর মুখ হতে বুলেট সদৃশ কথা বের হতে দেখ.. কানে হাতচাপা দিল মামুন , কোন কুচিন্তায় এই শয়তানের সাথে আজ রাত থাকতে আইছে!!! বউ!! ও বউ!! আর জীবনে তোমায় একা রেখে দোস্তের কাছে আসবো না….

জুঁইয়ের সাথে বিবাহের ছয় মাস পেরিয়ে গেছে সমনের , কিন্তু রাত তিনটার অভ্যাস গেল না!! এটা কি আজকের অভ্যাস?? আট বছর নয় মাস ছাব্বিশ দিনের অভ্যাস। ঘন্টা, মিনিট আর সেকেন্ডের হিসেব নাই বা ধরলাম…..

দীর্ঘ দিন তো বলাই যায় …..!!!!!!

৬ thoughts on “রাত্রি তিনটা…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *