মসলিন ও জামদানি ///একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ ।।

মসলিন ও জামদানি ///একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ ।।

বাঙালীর একসময়কার গর্বের বিষয় মসলিন বিলুপ্ত হলেও মসলিনের জাত ভাই হিসেবে জামদানি আজো টিকে আছে। জামদানি আর মসলিন আসলেই একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ । যারা মসলিন না দেখতে না পারার আক্ষেপে পুড়ছিলেন তারা জামদানি দেখে দুধের সাধ ঘোলে মেটাতে পারেন।


মসলিন ও জামদানি ///একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ ।।

বাঙালীর একসময়কার গর্বের বিষয় মসলিন বিলুপ্ত হলেও মসলিনের জাত ভাই হিসেবে জামদানি আজো টিকে আছে। জামদানি আর মসলিন আসলেই একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ । যারা মসলিন না দেখতে না পারার আক্ষেপে পুড়ছিলেন তারা জামদানি দেখে দুধের সাধ ঘোলে মেটাতে পারেন।

অতিপ্রাচীনকালে ভারতবর্ষে চার ধরণের পোশাক পাওয়া যেত।পোশাকগুলোর নাম ছিলো ক্ষৌম,দুকুল,পত্রোর্ণ ও কার্পাসী।প্রাচীনকালের ঐ দুকুলকেই মসলিন বলা হতো।মসলিন মূলত তৈরি হতো ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে উৎপন্ন ফুটি তুলা দিয়ে।এছাড়াও তখন বেরাইট ও দিশি নামে আরো দুরকম তুলা পাওয়া যেত,যেগুলো দিয়ে মসলিনের চেয়ে ঈষৎ নিচুমানের কাপড় তৈরি করা হতো।খ্রিষ্টপূর্ব যুগেই মসলিনের আবির্ভাব ঘটে।কৌটিল্য তার অর্থশাস্ত্র নামক বইয়ে একপ্রকার মিহিকাপড়ের কথা উল্লেখ করেন।তখনকার দিনে প্রাচীন বঙ্গ ও পুন্ড্র বর্তমান বগুড়ায় এ কাপড় পাওয়া যেতো বলে উল্লেখ করা হয়।পেরিপ্লাস অভ দ্য ইরিথ্রিয়ান সী নামক বইতেও এ চার ধরণের পোশাকের কথা জানা যায়।পরবর্তী সময়ে বাংলায় মুসলমান শাসন শুরু হলে মসলিন ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করে। ফোরবেস ওয়াটসনের টেক্সটাইল ম্যানুফ্যাকচারাস নামক বইয়ে উল্লেখ আছে তৎকালীন সময়ে ধামরাই,সোনারগাঁও,বাজিতপুরে মসলিনের মতই আরেকপ্রকার মিহি কাপড় তৈরি হতো।একে জামদানি বলা হতো।জামদানি বলতে এখনকার সময়ে শাড়ি বুঝালেও তৎকালীন সময়ে স্কার্ফ ও রুমাল বুঝাতো।মুসলমান শাসন শুরু হলে ফতুয়া লম্বা হয়ে পান্জাবী হয়ে যায়,আর স্কার্ফ লম্বা হয়ে শাড়ি হয়ে যায়।তখন থেকেই এই জামদানি শাড়ীর প্রচলন শুরু হয়। মসলিন ও জামদানি উভয়প্রকার শাড়ীর বিকাশ ঘটে মুঘল আমলে।তখন সারাবিশ্বব্যাপী মসলিনের পাশাপাশি জামদানিও প্রশংসিত হয়।পূর্বে মসলিন আর জামদানির মধ্যে তেমন পার্থক্য ছিলো না।ফুটি তুলা থেকে যে কাপড় তৈরি হতো তাকে মসলিন এবং বিরাইট ও দিশি তুলা থেকে উৎপন্ন কাপড়কে জামদানি বলা হতো।

৩ thoughts on “মসলিন ও জামদানি ///একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ ।।

  1. মসলিন নিয়ে আরো কিছু
    মসলিন নিয়ে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করতে পারতেন।


    ↑↑↑ লস এঞ্জেলেস কাউন্টি মিউজিয়াম অব আর্টে প্রদর্শিত আনুমানিক ১৮৫৫ সালে ইউরোপীয় নারীর জন্যে মসলিনের তৈরী পোষাক।

    মসলিন শব্দের উদ্ভবঃ বাংলা মসলিন শব্দটি আরবি, ফারসি কিংবা সংস্কৃতমূল শব্দ নয়। এস. সি. বার্নেল ও হেনরি ইউল নামের দুজন ইংরেজ কর্তৃক প্রকাশিত অভিধান “হবসন জবসন”-এ উল্লেখ করা হয়েছে মসলিন শব্দটি এসেছে ‘মসূল’ থেকে। ইরাকের এক বিখ্যাত ব্যবসাকেন্দ্র হলো মসূল। এই মসূলেও অতি সূক্ষ্ম কাপড় প্রস্তুত হতো। এই ‘মসূল’ এবং ‘সূক্ষ্ম কাপড়’ -এ দুয়ের যোগসূত্র মিলিয়ে ইংরেজরা অতিসূক্ষ্ম কাপড়ের নাম দেয়
    ‘মসলিন’। অবশ্য বাংলার ইতিহাসে ‘মসলিন’
    বলতে বোঝানো হয় তৎকালীন ঢাকা ও তার
    পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে উৎপাদিত অতি সূক্ষ্ম একপ্রকার কাপড়কে।

    প্রকারভেদঃ
    ১। মলবুস খাসঃ ‘মলবুস খাস’ মানেই হলো খাস বস্ত্র বা আসল কাপড়। এজাতীয় মসলিন সবচেয়ে সেরা আর এগুলো তৈরি হতো সম্রাটদের জন্য। আঠারো শতকের শেষদিকে মলবুস খাসের মতো আরেক প্রকারের উঁচুমানের মসলিন তৈরি হতো, যার নাম ‘মলমল খাস’। এগুলো লম্বায় ১০ গজ, প্রস্থে ১ গজ, আর ওজন হতো ৬-৭ তোলা।
    ২।সরকার-ই-আলাঃ সরকার-ই- আলা নামের জায়গা থেকে পাওয়া খাজনা দিয়ে এর দাম শোধ করা হতো বলে এর এরকম নামকরণ। লম্বায় হতো ১০ গজ, চওড়ায় ১ গজ আর ওজন হতো প্রায় ১০ তোলা।
    ৩। ঝুনাঃ ঝুনা ‘ঝুনা’ শব্দটি, জেমস টেইলরের মতে, এসেছে হিন্দী ঝিনা থেকে, যার অর্থ হলো সূক্ষ্ম। ঝুনা মসলিন লম্বায় ২০ গজ, প্রস্থে ১ গজ হত। ওজন ২০ তোলা।
    ৪। আব-ই-রওয়ানঃ ফারসি শব্দ, অর্থ প্রবাহিত পানি। এই মসলিনের সূক্ষ্মতা বোঝাতে প্রবাহিত পানির মতো টলটলে উপমা থেকে এর নামই হয়ে যায়। লম্বায় হতো ২০ গজ, চওড়ায় ১ গজ, আর ওজন হতো ২০ তোলা।
    ৫। খাসসাঃ ফারসি শব্দ খাসসা। এই মসলিন ছিলো মিহি আর সূক্ষ্ম, অবশ্য বুনন ছিলো ঘন। ইংরেজরা একে বলতো কুষা (cousha)।
    ৬। শবনমঃ ‘শবনম’ কথাটার অর্থ হলো ভোরের শিশির। ভোরে যদি শবনম মসলিন শিশির ভেজা ঘাসে শুকোতে দেয়া হলে শবনম দেখাই যেতোনা, এতোটাই মিহী আর সূক্ষ্ম ছিলো এই মসলিন। ২০ গজ লম্বা আর ১ গজ প্রস্থের শবনমের ওজন হতো ২০ থেকে ২২ তোলা।
    ৭। নয়ন সুখঃ মসলিনের একমাত্র এই নামটিই বাংলায়। সাধারণত গলাবন্ধ রুমাল হিসেবে এর ব্যবহার হতো। এজাতীয় মসলিনও ২০ গজ লম্বা আর ১ গজ চওড়া হতো।
    ৮। বদন খাসঃ এজাতীয় মসলিনের নাম থেকে ধারণা করা হয় সম্ভবত শুধু জামা তৈরিতে এ মসলিন ব্যবহৃত হতো। দৈর্ঘ্য২৪ গজ, প্রস্থ দেড় গজ, ওজন ৩০ তোলা।
    ৯। সর-বন্ধঃ ফারসি শব্দ সর-বন্ধ মানে হলো মাথা বাঁধা। প্রাচীন বাংলা উচ্চপদস্থ কর্মচারীরা মাথায় পাগড়ি বাঁধতেন, যাতে ব্যবহৃত হতো সার-বন্ধ। লম্বায় ২০-২৪ গজ আর চওড়ায় আধা থেকে এক গজ হতো; ওজন হতো ৩০ তোলা।
    ১০। ডোরিয়াঃ ডোরা কাটা মসলিন ‘ডোরিয়া’ বলে পরিচিত ছিলো। লম্বায় ১০-১২ গজ আর চওড়ায় ১ গজ হতো।
    ১১। জামদানিঃ আগেকার যুগে ‘জামদানী’ বলতে বোঝানো হতো নকশা করা মসলিনকে। বর্তমানে মসলিনের এই জাতভাই টিকে আছে শুধু।

    তৈরী পদ্ধতিঃ মসলিন তৈরির কাজটি ছিল ভীষন জটিল, কঠিন, সময়সাধ্য- তারচেয়েও বড় কথা হলো সেটা তৈরির জন্য দরকার হতো অসামান্য নৈপুণ্য আর আসুরিক ধৈর্য। মোটামুটি যে ক’ধাপ পেরিয়ে তৈরি হতো মসলিন সেগুলো হলো; সুতা নাটানো, টানা হোতান, সান বাঁধা, নারদ বাঁধা, বু-বাধাঁ, আর সবশেষে কাপড় বোনা । এসব শেষে একজন তাঁতি আর তার দু’জন সহকারীর লাগতো কমপক্ষে দু’তিন মাস। মসলিন তৈরি শেষে ওগুলো ধোয়া হতো। সম্রাট আকবর এর আমালে সোনারগাঁ’র কাছে এগোরো সিন্ধুর পানি কাপড় ধোয়ার জন্য প্রসিদ্ধ ছিল। আসলে এটা যে শুধু পানির গুনে হতো তা নয়, এর সাথে ছিল ভাল ক্ষার বা সাবান আর ধোপার দক্ষতা। মসলিন ধোবার জন্য রীতিমতো একটা শ্রেনীর মানুষই তৈরি হয়েছিল।

    আঠারো শতকের গোড়ায় একখন্ড মসলিন ধোয়ার খরচ পড়তো দশ টাকা। আবার ধোয়ার সময় কাপড়ে কোন দাগ লাগলে বিভিন্ন ফলের রস দিয়ে সেটা তুলে দেয়া হত। কাপড় ধোবার সময় কোন সুতা সরে গেলে সেটা ঠিক করতো দক্ষ রিফুকাররা, তাদেরকে বলা হতো নারোদিয়া । এরপর শঙ্খ বা ছোট মুগুর দিয়ে পিটিয়ে মোলায়েম করা হতো। মোলায়েম করার সময় ছিটানো হতো চাল ধোয়া পানি
    একাজে নিয়োজিতোদের বলা হতো কুন্ডুগার । তারপর সাবধানে ইস্ত্রি করা হতো মসলিন। কোন কোন মসলিনে ছুঁচের বা চিকনের কাজও করা হতো।

    মসলিন নিয়ে প্রচলিত দুটো গল্পঃ
    ¶ একবার সম্রাট আওরঙ্গজেবের দরবারে তাঁর
    মেয়ে উপস্থিত হলে তিনি মেয়ের প্রতি রাগান্বিত হয়ে বললেন তোমার কি কাপড়ের অভাব নাকি? তখন মেয়ে আশ্চর্য হয়ে জানায় সে আব-ই-রওয়ানের
    তৈরি সাতটি জামা
    গায়ে দিয়ে আছে।

    ¶ নবাব আলীবর্দী খান বাংলার সুবাদার থাকাকালীন তাঁর জন্য তৈরি এক টুকরো আব-ই- রওয়ান ঘাসের উপর শুকোতে দিলে একটি গরু এতোটা পাতলা কাপড় ভেদ করে ঘাস আর কাপড়ের পার্থক্য করতে না পেরে কাপড়টা খেয়ে ফেলে। এর খেসারৎস্বরূপ
    আলীবর্দী খান ঐ চাষীকে ঢাকা থেকে বের করে দেন।

    কেন চার পাঁচশত বছরের বিখ্যাত মসলিন মাত্র দেড়শো বছরের মাঝেই হারিয়ে গেলঃ মসলিন তৈরির প্রক্রিয়াটা এত জটিল আর সময় সাপেক্ষ ছিল যে সম্রাটদের জন্য উন্নত মসলিন তৈরি করেই দিন কাটতো তাঁতিদের- বাড়তি মসলিন তৈরি করার সময় মিলতো তাই কম। যতদূর জানা যায়, ঢাকা শহরে ‘মলবুস খাস’ তৈরির কারখানা ছিল বর্তমানের নাজিমুদ্দিন রোডে। ১৭৭২ সালের এক হিসাব থেকে দেখা যায় যে ওই বছর সম্রাট কে পাঠানো হয় একলক্ষ টাকার ‘মলবুস খাস’ আর বাংলার নবাব কে পাঠানো হয় তিনলক্ষ টাকার ‘সরকার-ই- আলি’

    ওলোন্দাজ ব্যবসায়ীরা ইউরোপে রপ্তানীর জন্য ১৭৮৭ সালে একলক্ষ টাকার মসলিন রপ্তানী করে ইংরেজ কোম্পানী ওই বছর সংগ্রহ করে তিন লাখ টাকার মসলিন

    ১৭৫৭ সালের পলাশী যুদ্ধের পর ইংরেজরা যখন বাংলার বর্তা হয়ে ওঠে তখন তারা বছরে আট লাখ টাকার মসলিন রপ্তানী করতো। সেই সময়ে ফরাসিরা কিনেছিলো প্রায় তিন লাখ টাকার মসলিন । এরা ছাড়াও ইরানি, তুরানি, আর্মেনীয়দের পাশাপাশি দেশী ব্যবসায়ীরাও এ নিয়ে ব্যবসা করতেন। সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, সে আমলে ঢাকা আর বাংলাদেশ থেকে রপ্তানীর জন্য কেনা হয়েছিল প্রায় ঊনত্রিশ কোটি টাকার মসলিন
    পরবর্তীতে মসলিন রপ্তানীর ব্যবসা প্রায় পুরোটাই করায়ত্ত করে নেয় ইংরেজ কোম্পানি। তাদের রপ্তানী হত মূলত ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে। পলাশীর যুদ্ধের আগ পর্যন্ত দালালরা বিভিন্ন জায়গা থেকে দামি মসলিন সংগ্রহ করে কোম্পানিতে সরবরাহ করতো।

    পলাশীর যুদ্ধের পর মসলিন সংগ্রহের জন্য গোমস্তা নিয়োগ করা হয়, যারা ছিল কোম্পানির বেতনভুক্ত কর্মচারী। এই গোমস্তারা মসলিন সংগ্রহের জন্য হয়ে উঠে নিষ্ঠুর, চালাতে থাকে অমানুষিক অত্যাচার। মসলিন তাঁতীরা দিশেহারা হয়ে উঠে এই গোমাস্তাদের অত্যাচারে। এখানে লক্ষণীয় যে, দেশীয় গোমাস্তারাই হয়ে উঠেছিলো দেশের মানুষের শত্রু।

    কিন্তু মসলিনের সাথে জড়িত আমাদের দেশের প্রতিটি কৃষক, শ্রমিক, তাঁতীকে নানাভাবে ঠকানো হত, নির্যাতন করা হত।
    গরীব চাষিকে টাকা ধার দিয়ে তার কাছ হতে খুব কম দামে কার্পাস নিয়ে যেত একশ্রেনীর দেশী মানুষ। দেশী মানুষরা যারা দালাল-পাইকার হিসেবে কাজ করতো তারাও তাঁতীদেরকে ঠকাতো নানা ভাবে। গোমস্তারাতো রীতিমত অত্যাচার করতো তাঁতীদেরকে। হিসেবে দেখা যায়, আনুমানিক ১৭৪০ সালের দিকে এক টাকায় পাওয়া যেত প্রায় একমণ চাল। আর একজন তাঁতী মসলিনেরকাজ করে পেত মাসে দুই টাকা, অর্থাৎ দুই মণ চালের দাম!
    যাতে তার পরিবারের খাবারই ঠিকমত চলতো না, সুখ- স্বাচ্ছন্দ্যতো অনেক দূরের কথা।

    কি ভীষন ট্রাজেডি, যারা তৈরি করতেন বাংলার গর্ব-যাদের তৈরি কাপড় গায়ে উঠতো সম্রাটের, রপ্তানী হত বিদেশে, তাঁর গায়েই থাকতো না কাপড়, পেটে পড়ত না ঠিক মত
    খাবার। আর সবচেয়ে দুঃখজনক বোধহয় এটাই যে-এই অবিচারের পিছে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছিলো এ দেশেরই দালার, পাইকার আর গোমস্তারাই।
    প্রচলিত আছে যে- ইংরেজরা নাকি মসলিন তাঁতীদের আঙুল কেটে ফেলতো। আবার এও শোনা যায় যে- তাঁতীরা নিজেরাই নাকি নিজেদের আঙুল কেটে ফেলতো, যাতে করে এই অমানুষিক পরিশ্রম আর কম পারিশ্রমিকের
    কাজে তাদের বাধ্য না করা হয়। তবে আঙুল
    কেটে ফেলা ঘটনার কোন ঐতিহাসিক সত্যতা প্রমানিত না হলেও কার্পাস কৃষক আর তাঁতীদের উপর কোম্পানী, ব্যবসায়ী, গোমস্তা আর পাইকাররা যে অমানুষিক অত্যাচার
    চালাত সেটি জাজ্বল্যমান সত্যি। আমাদের গর্বের এই মসলিনের সঙ্গে কালিমার মত লেপ্টে আছে এই রূঢ় সত্যটাও। আর এসবের জন্যই ধীরে ধীরে বাংলার মসলিনের সোনালী অধ্যায়ের যবনিকাপাত হতে থাকে।

    আমার উপসংহারঃ মসলিন ও জামদানী আমাদের ঐতিহ্য। আর ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখা আমাদের কর্তব্য। আমরা দেখতেই পাচ্ছি কেমন পরিস্থিতিতে মসলিন বিলুপ্ত হয়ে গেছে বাংলার বুক থেকে। আমরা চাইনা জামদানীরও একই দশা হোক। বাংলাদেশ স্বাধীনতা পাবার পরে ঢাকার ডেমরায় জামদানি পল্লীর তাঁতিদের আর্থিক সাহায্য দেয়া হয়। তবে মেধা ও পারিশ্রমিকের অভাবের কারণে তাঁতীরা আর এ পেশায় আসতে চাইছেন না। কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার অচল তাঁতগুলো প্রাচীন গৌরবগাঁথার নীরব সাক্ষী হয়ে রয়েছে। কিশোরগঞ্জের জঙ্গলবাড়িরও একই দশা। বর্তমানে ঢাকার মিরপুরে জামদানি পল্লী স্থাপিত হয়েছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে জামদানির চাহিদা এখনও রয়েছে। বর্তমান বাজারে জামদানির উচ্চমূল্য ও বিপুল চাহিদার কারণে বাংলাদেশের এই শিল্পে নতুন গতি সঞ্চার হয়েছে। দেশী পণ্য, কিনে হই ধন্য। আমাদের ঐতিহ্যের জয় হোক, বাঙালির জয় হোক।

    1. মসলিন ও জামদানী আমাদের

      মসলিন ও জামদানী আমাদের ঐতিহ্য। আর ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখা আমাদের কর্তব্য। আমরা দেখতেই পাচ্ছি কেমন পরিস্থিতিতে মসলিন বিলুপ্ত হয়ে গেছে বাংলার বুক থেকে। আমরা চাইনা জামদানীরও একই দশা হোক। বাংলাদেশ স্বাধীনতা পাবার পরে ঢাকার ডেমরায় জামদানি পল্লীর তাঁতিদের আর্থিক সাহায্য দেয়া হয়। তবে মেধা ও পারিশ্রমিকের অভাবের কারণে তাঁতীরা আর এ পেশায় আসতে চাইছেন না। কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার অচল তাঁতগুলো প্রাচীন গৌরবগাঁথার নীরব সাক্ষী হয়ে রয়েছে। কিশোরগঞ্জের জঙ্গলবাড়িরও একই দশা। বর্তমানে ঢাকার মিরপুরে জামদানি পল্লী স্থাপিত হয়েছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে জামদানির চাহিদা এখনও রয়েছে। বর্তমান বাজারে জামদানির উচ্চমূল্য ও বিপুল চাহিদার কারণে বাংলাদেশের এই শিল্পে নতুন গতি সঞ্চার হয়েছে। দেশী পণ্য, কিনে হই ধন্য। আমাদের ঐতিহ্যের জয় হোক, বাঙালির জয় হোক

      :তালিয়া: :তালিয়া: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :bow: :bow: :থাম্বসআপ: :বুখেআয়বাবুল:

      ইলেকট্রনের বিরুদ্ধে মামলা করা দরকার… :চশমুদ্দিন: :চশমুদ্দিন: :আমারকুনোদোষনাই: এইভাবে পোস্টের চেয়ে মন্তব্য যদি বেশী অচাম হয়, তাইলে তো সবাই পোস্ট করা বাদ দিয়া মন্তব্য করা শুরু করবো :চিন্তায়আছি: :চিন্তায়আছি: :আমারকুনোদোষনাই: … তবে মন্তব্যে কেউ আপনারে পিছনে ফেলতে পারবে বলে মনে হয় না… :ভেংচি: :বুখেআয়বাবুল: পোস্টটা সূচনা ছিল কিন্তু সেইটার পরিপূর্ণতা পেল আপনার অসম্ভব চমৎকার এই মন্তব্যে :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: … অভী ভাই কেউ অশেষ ধইন্না পাতা এতো গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় নিয়ে লেখার জন্য… :ফুল: :ফুল: :ফুল: :ফুল: :ফুল: :ফুল: :ফুল: :ফুল:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *