“ভাল” আছি, থাকবো, থাকতেই হবে

ভাল থাকা নিয়ে বলতে চাই অনেক কিছু। কিভাবে ভাল থাকা যায় এই নিয়ে অনেক কিছু বলা যায়ও। অনেকেই শুনে বলেন যে “কোয়ান্টাম মেথড”। কিন্তু না, কোয়ান্টাম মেথড তার পথে আর আমি আমার পথে। তারা ভাবতে বলেন আর আমি বিশ্বাস করতে বলি। ভাবনা ক্ষণিকের কিন্তু বিশ্বাস সবসময়ের।


ভাল থাকা নিয়ে বলতে চাই অনেক কিছু। কিভাবে ভাল থাকা যায় এই নিয়ে অনেক কিছু বলা যায়ও। অনেকেই শুনে বলেন যে “কোয়ান্টাম মেথড”। কিন্তু না, কোয়ান্টাম মেথড তার পথে আর আমি আমার পথে। তারা ভাবতে বলেন আর আমি বিশ্বাস করতে বলি। ভাবনা ক্ষণিকের কিন্তু বিশ্বাস সবসময়ের।

আসলে ভাল থাকা মন্দ থাকা সম্পূর্ণই আমাদের নিজের উপর নির্ভরশীল। অযাচিত একটা খারাপ থাকা ভাব কেন আমাকে, আপনাকে, আমাদের সবাইকে ঘিরে থাকবে বলতে পারেন? ভাল থাকা/সুখে থাকা ছড়িয়ে দিন কিন্তু খারাপ থাকা/মন্দ থাকা গুটিয়ে নিন। এইভাবে গুটিয়ে নিতে নিতে একদিন দেখবেন খারাপ থাকা আমাদের ধারে-কাছেই ঘেঁষছেনা। কারণ খারাপ থাকাও ইতোমধ্যে জেনে গেছে; আমরা তাকে ছড়াতে দেইনা, তাকে পাত্তা দেইনা। তাই খারাপ থাকা তখন দূরেই রয়ে যাবে।

হ্যাঁ, স্বীকার করি এবং করতে বাধ্য; খারাপ থাকার উপর আমাদের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই কিন্তু ভাল থাকার উপরে তো আছে নাকি? হ্যাঁ আছে এবং খুব ভালভাবেই আছে। আমরা চাইলেই পারি নিজেদের ভাল রাখতে, আবার বলছি; আমরা চাইলেই পারি শত দুঃখ-কষ্টের মাঝেও নিজেদের ভাল রাখতে।
আচ্ছা, একটা কথা বলেন; সত্যি উত্তর দিবেন। আপনি যা করতে চান না তা কি কেউ চাইলেই আপনাকে দিয়ে করাতে পারবেন? উত্তর’টা যে না-বোধক আসবে তা আমি জানিই। তাহলে খারাপ থাকা কিভাবে পারে নিমেষেই আমাদের মনটা’কে খারাপ করে দিতে? কারণ, আমরা খারাপ থাকার জন্যে সুযোগ দেই। যদি ভাল থাকতে চান তাহলে সেই সুযোগ দেয়া যাবে না। কোনমতেই না।(Strictly Prohibited)

দুঃখিত আবার নিজেকে টেনে আনছি বলে। আমি বিশ্বাস করি, আমি যদি ভাল থাকতে চাই তবে কারও সাধ্যি নেই আমাকে খারাপ রাখবে। কারণ?? ওই যে, আমাদের ভাল থাকা/খারাপ থাকা আমাদের উপরেই।

আচ্ছা একটা অভিজ্ঞতা শেয়ার করি। তখন আমি ক্লাস সিক্সে পড়ি। আমার বাসার ঠিক পাশের মসজিদেই বিভিন্ন দেশ থেকে একদল তাবলীগ এসেছেন। সেখানে “বুদি আমান” নামের একজনের সাথে পরিচয় হয়। সে ভাল ইংরেজী বলতে পারতো বলে আমার তার সাথে কথা বলতে তেমন সমস্যা হতো না। একদিন নামাযের সময় হওয়ার আগেই আমি তার সাথে দেখা করতে যাই। জানালা দিয়ে তাকিয়ে, তার পেট মোচড়ানো দেখে আর চোখে পানি দেখেই বুঝেছি সে পেটের ব্যাথায় কষ্ট পাচ্ছে। তবুও তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, hi, how are you, Aman? তারপর যা ঘটেছে তার জন্যে আমি প্রস্তুত ছিলাম না। একলাফে উঠে দাঁড়িয়ে বললো, আলহামদুলিল্লাহ, i am fine. what’s about you?

তারপর আমি ভেবেছি যে, কেন আমরা খারাপ থাকি? আমরা কি চাইলেই পারিনা ভাল থাকতে? আমার অবচেতন মন থেকে উত্তরটা এসেছিলো, হ্যাঁ পারি। তারপর আমার পালা এসেছিলো, সচেতন মন’কে নিয়ন্ত্রণের। এবং অবিশ্বাস্য ভাবে আমি সত্যি সফল হয়েছি এবং আজও সফল। আমাকে খুব একটা মন খারাপ আঘাত করতে পারেনা। আর পারলেও আমি তো আছিই। আমি নিজেকে নিজে হাসাই। নিজের অথবা অন্য কারও হাস্যকর ঘটনা মনে করি হাসি, নিজের ভেতরে চিন্তা করি, বিশ্বাস করতে থাকি আমি ভাল আছি। ভাল আছি আমি। ব্যাস কাজ কিন্তু শেষ। আর তেমন কিছু করতেই হয়না।

এবার টিপস দেয়ার পালায় আসি। মনযোগ দিতে হবে কিন্তু।

(১) আপনার ভেতর থেকে চিন্তা করুন, বিশ্বাস করুন আপনি ভাল আছেন, ভাল থাকবেন।

(২) নিজেকে যেকোন কিছুতে কর্মব্যস্ত রাখার চেষ্টা করুন যখন মন খারাপ হয়েই যাবে। হউক তা ছোটখাটো কোন কাজ, গল্পের বই পড়া, হ্যানা-প্যানা-ত্যানা যা আসে মাথায় লিখে রাখার অথবা আড্ডাবাজি।

(৩) নিজেকে সবসময় ইতিবাচক রাখতে প্রাণান্ত চেষ্টা করুন অথবা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ রাখুন।

(৪) সর্বদা হাসিখুশি থাকুন। {আমি জানি এটা সত্যিই খুব কষ্টের। কিন্তু একটু মন থেকে চাইলেই সম্ভব। যেকোন হাসিমাখা স্মৃতি মনে করে হাসুন।}

(৫) সবসময় বিশেষ করে যেদিন মনটা খারাপ হয়ে যাবে বা হতে থাকবে সেদিন চেষ্টা করুন যতবারই আপনাকে কুশল জিজ্ঞেস করা হবে ততবারই বলতে “ভাল আছি”। এভাবে “ভাল আছি, ভাল আছি” বলতে বলতে দেখবেন একটা সময় সত্যিই আপনি ভাল আছেন। খারাপ থাকার জন্য পর্যাপ্ত স্থান, সময়, কারণ কিছুই আপনার সাথে বা সামনে নেই।

(৬) [“ধাক্কা”] আমরা সবাই একের পর এক ধাক্কা খেয়ে অভ্যস্ত। আসলে এই ধাক্কা খাওয়াটাই আমাদের জীবনের একটা অতি গুরুত্বপূর্ণ অংশ(believe it or not)। অনেকে প্রেমের সম্পর্ক ভেঙ্গে যাওয়ার পরেই এতটাই ভেঙ্গে পড়েন যে তাকে কিছু বোঝানোটাই দুঃষ্কর হয়ে যায়। কিন্তু আমরা যদি বিশ্বাস করি, এই ধাক্কা’তে ভেঙ্গে পড়লে চলবে না। এর চাইতেও আরও বড় ধাক্কা আসতেই পারে এবং এটাই স্বাভাবিক। সুতরাং নিজেকে শক্ত রাখাটাই জরুরী।

আরেকটা কথা বিশ্বাস করা একান্তই দরকার, “আমাদের চলতি পথে অনেক ইট-পাথর পড়বে; কিন্তু আমরা যদি প্রত্যেকটি ইট-পাথরই একে একে সরাতে চাই তাহলে কিন্তু আমরা আমাদের গন্তব্যে পৌছুতে পারব না।” ঠিক তেমনি আমরা মাথা তুলে দাঁড়াতে গেলে অনেক অনেক বাঁধা অনেক অনেক আঘাত আসবে। সব সয়ে চলতে পারলে তবেই আমরা সুখী থাকতে পারবো।

(৭)নিজের উপর একটা বিশ্বাস; “who am i/how am i”। এই বিশ্বাসটা রাখতেই হবে। সত্যিকার অর্থেই এই বিশ্বাসটি অমূল্য। তাহলে কারও মুখাপেক্ষী হয়ে কষ্ট পাওয়ার একটা সম্ভাবনা মুখ থুবড়ে পড়ে।

(৮) উপরের পয়েন্টেরই একটি লেজ হতে পারতো। যদি আমাদের উপর আমাদের সঠিক বিশ্বাস থাকে, তাহলে কে কি বললো এটা নিয়ে আমরা মাথা ঘামাবোইনা। আমার কাজ আমি করবো পাছে কে কি বললো তাতে খেয়াল করবার কোনই দরকার নাই।

(৯)[“Inferiority Complex”] অধিকাংশ মানুষের হতাশার অন্যতম একটা কারণ। এই হীনমন্যতায় কোনভাবেই ভোগা যাবেনা। হুম, এমন পরিস্থিতি আসবেই যে তখন মনে হবে আর কোন উপায় নেই। কিন্তু একটা উপায় আছে। “Think positive & Be positive ,,,,, Think superior & Be superior”।

(১০) কোন কাজ হউক তা বড় অথবা ছোট। সেটা শুরু করার আগে ভাবা চলবেনা যে, আমি কি এটা করতে পারবো? ভাববেন, আমি এটা পারবো এবং অবশ্যই পারবো। তাতেই কম্ম সারা। নিজে দোদুল্যমান অবস্থায় থাকা চলবেনা।

সবশেষে আবারো, নিজের ভেতর দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস রাখুন আপনি ভাল আছেন। ভাল থাকবেন। ভাল থাকতে হবে এবং হবেই।

১২ thoughts on ““ভাল” আছি, থাকবো, থাকতেই হবে

  1. আপনার optimist মনোভাব দেখে
    আপনার optimist মনোভাব দেখে খুব ভালো লাগলো। আমার মনে হয় optimist থাকতে হলে optimist বন্ধু বান্ধব , পারিবারিক পরিবেশ আর নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপনও অত্যাবশ্যকীয়!

    1. রায়ান ভাই,
      আমি কিন্তু বাস্তব

      রায়ান ভাই,
      আমি কিন্তু বাস্তব জীবনে বন্ধু-বান্ধব হীন মানুষ। এখন যারা আছে তাদের ফেসবুক থেকে পাওয়া।

      আর আমি যে খুব নিয়ম মেনে চলি তা নয়। নিজেকে কন্ট্রোল করার একটা ক্ষমতা আমি আয়ত্বে আনতে পেরেছি বলেই ভাল থাকতে পারছি।

      1. হায় হায়! আমি তো দেখি আপনার
        হায় হায়! আমি তো দেখি আপনার একেবারে বিপরীত চরিত্র! আমি বন্ধু বান্ধবের জ্বালায় অস্থির। (অবশ্য আমার বন্ধুরাও আমার জ্বালায় অস্থির!) নিজের উপর কোনই কন্ট্রোল নাই। যা মনে চায় তাই করছি। ভাল লাগলেও করছি, খারাপ লাগলেও করছি। মাঝে মাঝে এতো খারাপ লাগে যে মনে হয় আত্মহত্যা করি। কিন্তু আমি ১০০ ভাগ নিশ্চিত! আমার চাইতে সুখে আর কেউ নাই!

        1. আমিও বন্ধু-বান্ধব নিয়ে থাকি
          আমিও বন্ধু-বান্ধব নিয়ে থাকি কিন্তু সবাইকে ফেসবুকে থেকে পাওয়া তো সবাই ঢাকায় থাকে। আমি ডিসেম্বরে ঢাকায় শিফট করবো।
          তখন আমিও ওদের নিয়ে থাকবো। আমিও সুখে আছি। খুব সুখে আছি।

          1. Facebook থেকে মানুষ কিভাবে
            Facebook থেকে মানুষ কিভাবে বন্ধু খুঁজে পায় আমি ঠিক বুঝি না। অপরিচিত কাউকে তো আমি Add ই করি না!
            ভালো আছেন , ভালো থাকবেন।

  2. হুম
    কিন্তু যখন দেখবেন

    হুম :ভাঙামন:

    কিন্তু যখন দেখবেন হাজারের উপর রিকুয়েষ্ট তখন এক্সেপ্ট করতে হয়। আর যোগাযোগও হয় কতজনের সাথে। এভাবেই হয়

    1. কখনোই না শাহিন ভাই।আপনি ভাল
      কখনোই না শাহিন ভাই।আপনি ভাল থাকতে চাইলে কারো ক্ষমতা নাই আপনাকে খারাপ রাখার । আপনার শুধু ভাল থাকার ইচ্ছাটা থাকতে হবে।

  3. তায়েব ভাইয়া অনেক সুন্দর একটা
    তায়েব ভাইয়া অনেক সুন্দর একটা সাবজেক্ট নিয়ে লিখছ ।আমারো তেমন কোন বন্ধু নাই উইথ আউট ফেসবুক ।তবুও আমি অনেক ভাল আছি ।সুপার হইছে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *