চিপস বিক্রি করা পিচ্চি

অনেকক্ষণ ধরে ছেলেটাকে দেখছিলাম।৭-৮ বছর বয়স হবে। হাতে একটা বড় পলিথিন নিয়ে ছুটছে।পেটের দায়ে। আর বলে যাচ্ছে,
” এই রিং চিপস, পপ কর্ণ, আলুর চিপস। এই বিট লবণ দেয়া চিপস।”

অনেকক্ষণ ধরে ছেলেটাকে দেখছিলাম।৭-৮ বছর বয়স হবে। হাতে একটা বড় পলিথিন নিয়ে ছুটছে।পেটের দায়ে। আর বলে যাচ্ছে,
” এই রিং চিপস, পপ কর্ণ, আলুর চিপস। এই বিট লবণ দেয়া চিপস।”
খুবই স্বাভাবিক দৃশ্য ঢাকা শহরে। জ্যামের সময়টাতে। আমিও জ্যামে বসেছিলাম। বনানীতে। কানে হেডফোন লাগিয়ে, ফুল ভলিয়মে গান শুনছি। R…Rajkumar মুভির Gandi Baat. জ্যামের সময়টা গানের তালে তালে ভালই কাটছে। আমার পাশের সিটে ১০-১২ বছরের এক পিচ্চি মেয়ে। আমার কানের দিকে হা করে তাকিয়ে আছে। হেডফোন দেখছে খুব আগ্রহ নিয়ে।আমার গানের সাথে সাথে, চিপস বিক্রি করা ছেলেটার দিকে চোখ আছেই। কি কারণে জানিনা। আমি ঐ ছেলেকে দেখছি। জ্যামে গাড়ি আটকা। নড়াচড়া একদম নেই। ছেলেটা একা প্রাইভেট কারের দিকে হাত উঁচু করল। দুই গাড়ির মাঝ দিয়ে আমাদের বাসের দিকে আসবে। তাই পিছনের কারটাকেই হাত উঁচু করে থামতে বলল। জ্যামে এমনিতেও আগাবে না। তবুও। কিন্তু ছেলেটা কারের সামনে আসতেই, কারটা হালকা একটু টান দিল।কারের হালকা ধাক্কায়, ছেলেটা রাস্তায় পড়ে গেল। পিচের রাস্তা। পড়ার সাথে সাথেই নানা দিকে চিপস গুলো ছড়িয়ে গেল। ছেলেটা আস্তে করে উঠে দাঁড়াবার চেষ্টা করছে। ব্যথা বোধহয় একটু বেশিই পেয়েছে। হাতের কনুই ছিলে গেছে। রক্ত পড়ছে। ছেলেটা তা দেখছে। হাত দিয়ে রক্ত মুছছে। আর প্রাইভেট কারের ড্রাইভার হোক আর মালিক হোক, গ্লাস নামিয়ে ছেলেটাকে কয়েকটা ধমক দিল।দোষ কিন্তু ছেলেটার ছিল না। তবুও ধমক হজম করল। ছেলেটা উঠতে না উঠতেই, কোথা থেকে যেন এক খোঁড়া লোক হাজির। এক পা নেই। স্ট্রেচারে ভর করে হাঁটছে। হয়ত বাসে বাসে, গাড়িতে গাড়িতে ভিক্ষা করে। এসে ছেলেটাকে সাহায্য করছে ওঠার জন্য। চিপস খুঁজে দিচ্ছে।গাড়ির নিচ থেকে স্ট্রেচার দিয়ে চিপস বের করে দিচ্ছে। সব চিপস ব্যাগে ভরে, ছেলেটা আবার দৌড় লাগাল। পেটের দায়ে, চিপস বেচতে।
” এই রিং চিপস, পপ কর্ণ, আলুর চিপস। এই বিট লবণ দেয়া চিপস।”
আর খোঁড়া ব্যক্তি , খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে প্রাইভেট কারে কারে হাত পাতছে। ভিক্ষার জন্য।
আমি কানে হেডফোন লাগিয়ে gandi baat শুনে যাচ্ছি। ফুল ভলিয়মে।আমার পাশের পিচ্চি মেয়ে তাকিয়ে আমার হেডফোন দেখছে আগ্রহ নিয়ে। আর প্রাইভেট কারের মালিক বা ড্রাইভার ছেলেটাকে বকা দিয়ে যাচ্ছে। সব আগের মতই আছে। কিন্তু মাঝখান দিয়ে একটা ঘটনা ঘটে গেল। ছেলেটা পড়ে যাবার পর। আমরা কেউ ই যাই নি তুলতে। চিপস খুঁজে দিতে। গেল একজন ভিক্ষুক। পা খোঁড়া ভিক্ষুক।যে যার কষ্ট বুঝে আর কি। ভিক্ষুকের ঐ ছেলের কষ্টে মততা এসেছে। আমাদের আসেনি। আমরা আমাদের নিয়ে অনেক ব্যস্ত। চারপাশের মানুষের কষ্ট দেখার সময় কই? অনুভব করার মত শক্তি আমাদের নেই।মানুষের কষ্ট অনুভব করার শক্তি।

– রিয়াদুল ইসলাম ( শেষ রাতের আঁধার )

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *