আনন্দবিলাস (দ্বিতীয়াংশ)

নিসার মন খারাপ। সে বসে আছে তার প্রিয় বারান্দায়। গত ছয়দিন ধরে তার রাতে ঘুম হয়না। ঘুমটা যেন কেউ কেড়ে নিয়ে গেছে। বেশিরভাগ সময় কাটে তার এই বারান্দায়। কখনো ফুল দেখে, কখনো বই পড়ে কিংবা কখনো অবাক চোখে আকাশ দেখে। নিসা একটা ভুল করেছে। মস্ত বড় একটা ভুল। সে কি করবে কিছুই বুঝতে পারছে না। কোন উপায় খুজে পাচ্ছে না। কারো সাথে যে বিষয়টা নিয়ে কথা বলবে সেটাও সম্ভব না। কারন, তার তেমন কেউ নেই যে তার সাথে সে বিষয়টা নিয়ে কথা বলবে। নিসা এই মুহূর্তে তার পেটে আলতো করে তার হাতটা রেখে বসে আছে। ঠিক সেই সময় রাত্রি বারান্দায় এলো। নিসা পেট থেকে হাতটা সরিয়ে নিলো। রাত্রি বলল, “বাবা ডাকে, চল।”

-তুই যা। আমি একটু পড়ে আসছি।

নিসার মন খারাপ। সে বসে আছে তার প্রিয় বারান্দায়। গত ছয়দিন ধরে তার রাতে ঘুম হয়না। ঘুমটা যেন কেউ কেড়ে নিয়ে গেছে। বেশিরভাগ সময় কাটে তার এই বারান্দায়। কখনো ফুল দেখে, কখনো বই পড়ে কিংবা কখনো অবাক চোখে আকাশ দেখে। নিসা একটা ভুল করেছে। মস্ত বড় একটা ভুল। সে কি করবে কিছুই বুঝতে পারছে না। কোন উপায় খুজে পাচ্ছে না। কারো সাথে যে বিষয়টা নিয়ে কথা বলবে সেটাও সম্ভব না। কারন, তার তেমন কেউ নেই যে তার সাথে সে বিষয়টা নিয়ে কথা বলবে। নিসা এই মুহূর্তে তার পেটে আলতো করে তার হাতটা রেখে বসে আছে। ঠিক সেই সময় রাত্রি বারান্দায় এলো। নিসা পেট থেকে হাতটা সরিয়ে নিলো। রাত্রি বলল, “বাবা ডাকে, চল।”

-তুই যা। আমি একটু পড়ে আসছি।
-তোর কি হয়েছে বল তো, ইদানীং দেখি তুই মন খারাপ করে বারান্দায় বসে থাকিস?
-কিছু হয়নি। আমার কি হলো না হলো এটা তোর না খেয়াল করলেও চলবে।
-রাইয়ান ভাইয়ের কি খবর? কেমন আছেন উনি?
-জানিনা।
-ওহ। না, দেখিনাতো ইদানীং তাই জিজ্ঞাসা করলাম।
-তুই যাবি?
-যাচ্ছি যাচ্ছি।

রাত্রি চলে যেতেও গেলনা। ফিরে এসে একটা অদ্ভুত প্রশ্ন করে বসলো। রাত্রি বলল, “আচ্ছা তুই পেটে হাত দিয়ে বসে থাকিস কেন? পেটে কোন সমস্যা হয়েছে? ব্যাথা?” নিসা এবার সরু চোখে রাত্রির দিকে তাকিয়ে আছে। রাত্রি বুঝে গেলো এখন আর এখানে থাকা ঠিক হবেনা। সে চলে গেলো। নিসা বসে আছে। হঠাৎ দুইটা চড়ুই পাখী এসে তার সামনে বসলো। নিসা চড়ুই পাখী দুটার দিকে একবার তাকিয়ে মাথা নিচু করে নিলো। আনমনে একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস ছেড়ে বলল, “রাইয়ান”। এতটা আস্তে বলল যে, নিসা নিজেই শুনতে পেলনা।

রাত্রি হায়দার রহমানের দরজার সামনে দাড়িয়ে ডাক দিলো, “বাবা, ভিতরে আসবো?” হায়দার রহমান বললেন, “হ্যাঁ মা, আয়। নিসা কোথায়?”

-ও বারান্দায় একা বসে আছে।
-ওর কি হয়েছে জানিস? ইদানীং দেখি মন খারাপ করে থাকে।
-না বাবা, জানিনা, জিজ্ঞেস করেছি। কিছু বলেনা।
-হুম। আচ্ছা ঠিকাছে। ওকে ওর মতো থাকতে দে। ওর এই খারাপ সময়টা ও নিজেই কাটিয়ে উঠবে। তোর পড়াশুনার কি খবর? কোন সমস্যা মনে হচ্ছে?
-না বাবা। সব ঠিক আছে। আগামী মাস থেকে পরিক্ষা শুরু হবে।
-মা শোন, বড় হচ্ছিস। একটু সাবধানে থাকিস। সাবধানে চলা ফেরা করিস। কোন সমস্যা মনে হলে আমাকে বলবি। ঠিকাছে?
-আচ্ছা ঠিকাছে, বাবা।
-তোর মা ইলিশ মাছ ভাঁজতে গেছে। গিয়ে দেখতো কতদূর হলো।
-আচ্ছা বাবা, যাচ্ছি।

নিসা হাতে মোবাইল নিয়ে বিছানায় বসে আছে। কল লিস্টে রাইয়ানের নাম। সে এই মুহূর্তে ভাবছে, রাইয়ানকে কল দেওয়া ঠিক হবে কি হবে না। সাতপাঁচ ভেবে সে কল করলো। রাইয়ান ঘুমুচ্ছিল। নিসার কল দেখে তড়িঘড়ি করে ঘুম থেকে উঠলো।

-হ্যালো রাইয়ান।
-হ্যাঁ বল। তোর খবর কি? কই ডুব দিছিলি?
-জাহান্নামে। তোকে একটু দরকার ছিল। দেখা করতে পারবি?
-বুঝছি, দরকার পড়লে আমি। কখন দেখা করতে হবে?
-বিকালে। চারটায়।
-আচ্ছা ঠিকাছে।

নিসা লাইন কেটে দিলো। রাইয়ান কিছুটা হতভম্ব হয়ে বসে আছে। প্রায় এক মাস হতে চলল, নিসা রাইয়ানের সাথে যোগাযোগ রাখেনি। নিসা এমন কখনো করেনা। এই প্রথম এমন করলো। কারন কি? কে জানে? দেখা করতে হবে। দেখি কি বলে।

বিকাল চারটা। রাইয়ান বসে আছে লেকের পাড়ে। পরনে হালকা নীল পাঞ্জাবি। নিসার পছন্দ। নিসার জন্য অপেক্ষা করছে। নিসা পাঁচটার আগে কখনই আসবেনা। রাইয়ান তা খুব ভালো করেই জানে। তবুও কেন জানি তার নিসার জন্য অপেক্ষা করতে বেশ ভালো লাগে। তবে আজ কেন জানি অপেক্ষা করতে খুব বিরক্ত লাগছে। মনে হচ্ছে সময় শেষ হচ্ছে না। অপেক্ষার সময় গুলো এমন অদ্ভুত কেন? এমন নিষ্ঠুর কেন?

ব্যাক্তিগত কিছু কথাঃ দুঃখিত। নিজের কিছু কাজে খুব ব্যাস্ত আছি। এই কারনে ইস্টিশনে তেমন একটা আসা হচ্ছে না। আরও কিছুদিন ব্যাস্ত থাকবো। তবে কথা দিচ্ছি, আবার ফিরে আসবো। যারা “আনন্দবিলাস (প্রথমাংশ)” আগে পড়েছেন তাদের জন্য “আনন্দবিলাস (দ্বিতীয়াংশ)” দিলাম। আর যারা “আনন্দবিলাস (প্রথমাংশ)” পড়েননি তাদের জন্য নিচে লিঙ্ক দিয়ে দিলাম। পার্ট বাই পার্ট লেখার অভ্যাস নেই। মনে হয়না এই লেখা গুলো খুব একটা ভালো হবে। তবুও আশা করি আপনাদের খুব একটা খারাপ লাগবে না। ধন্যবাদ।

আনন্দবিলাস (প্রথমাংশ) ; http://istishon.blog/node/4819#sthash.pLf0VTtK.dpbs

২ thoughts on “আনন্দবিলাস (দ্বিতীয়াংশ)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *