দেশের চেয়ে দল বড়

ঈদ পরবর্তী দিনগুলো বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনদের বাসায় বেড়াতে বেড়াতে পার করলাম। যারা আমাকে বেক্তিগতভাবে চিনেন এবং যারা আমার কাছের বন্ধু তারাতো ভালোভাবেই জানে যে আমার আত্মীয়-স্বজন, জ্ঞাতি-গোষ্ঠী সবাই বিম্পি করে, এবং এদের বেশির ভাগই মেইন স্ট্রীম বিম্পি রাজনীতির সাথে জড়িত, আমার মেজো মামাতো স্বয়ং আমাদের সদর থানার যুব দলের সাধারন সম্পাদক। এ কথাগুলোর উদ্দেশ্য হল আপনাদের বোঝানো যে আমার এই কয়েকটা দিন সম্পূর্ণই বিম্পিময় পরিবেশে বিম্পি সাপোর্টারদের সাথেই কেটেছে এবং ফাইটিং এর মাধ্যমেই কেটেছে।

এই কদিনে আমি যে দুটি বিশেষ জিনিস শিখলাম তা হল-


ঈদ পরবর্তী দিনগুলো বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনদের বাসায় বেড়াতে বেড়াতে পার করলাম। যারা আমাকে বেক্তিগতভাবে চিনেন এবং যারা আমার কাছের বন্ধু তারাতো ভালোভাবেই জানে যে আমার আত্মীয়-স্বজন, জ্ঞাতি-গোষ্ঠী সবাই বিম্পি করে, এবং এদের বেশির ভাগই মেইন স্ট্রীম বিম্পি রাজনীতির সাথে জড়িত, আমার মেজো মামাতো স্বয়ং আমাদের সদর থানার যুব দলের সাধারন সম্পাদক। এ কথাগুলোর উদ্দেশ্য হল আপনাদের বোঝানো যে আমার এই কয়েকটা দিন সম্পূর্ণই বিম্পিময় পরিবেশে বিম্পি সাপোর্টারদের সাথেই কেটেছে এবং ফাইটিং এর মাধ্যমেই কেটেছে।

এই কদিনে আমি যে দুটি বিশেষ জিনিস শিখলাম তা হল-

একঃ তারা মনে মনে সবাইই বিশ্বাস করে যে আওয়ামীলীগ দেশের ব্যাপক উন্নয়ন করেছে। কিন্তু তাঁদের চাপার জোরকে সমুন্নত রাখার জন্য তারা তাঁদের বিবেকের সাথে বাটপারি করে আওয়ামীলীগের বদনাম করে।

দুইঃ আমরা যেমন বিম্পির খারাপ কাজগুলোর কঠোর সমালোচনা করি এবং তার বিপরীতে আওয়ামীলীগ কি কি ভালো কাজ করেছে সেটা বলি কিন্তু তাদের মুখে শুধু আওয়ামীলীগের সমালোচনাই শুনি কিন্তু তার প্রেক্ষিতে বিম্পি কি কি ভালো কাজ করেছে তার একটা উদাহরণও তাদের মুখে শুনতে পাওয়া যায়নি এই কয়দিনে। এবং এবার ক্ষমতায় আসতে পারলে যে আওয়ামীলীগের চেয়ে বেশি উন্নয়ন করবে সেটাও বলে না।

দুই নম্বরের ক্ষেত্রে বলা যায় বিম্পি তো সুনাম করার মত কিছু করেনি আজ অবদি, সো তাদের সাপোর্টাররা তো আর রূপকথা থেকে গল্প উপমা বানাবে না। আর এবার ক্ষমতায় গেলে যে তারা আওয়ামীলীগের চেয়ে বেশি দূরে থাক সমানও উন্নয়ন করতে পারবেনা সে ব্যাপারে তাদের দলের উপর তাদের বিশ্বাস আছে

আর এক নম্বরের ব্যাপারটা একটু ব্যাখ্যা করি-
ঈদের তৃতীয় দিন দুপুরে খাওয়ার সময় প্রথম রাজনৈতিক পেঁচাল শুরু করে আমার এক দুঃসম্পর্কের দুলাভাই। তার প্রথম কথা ছিল সুষ্ঠু নির্বাচন হইলে আওয়ামীলীগ একটা সিটও পাইবনা। তার সাথে সায় দিলো এক নানা, আর এক কাজিন বড় ভাই। তাদের এই কথার প্রেক্ষিতে আমি শুধু একটা কথাই বলছিলাম “কেন একটা সিট পাওয়ার মত কি আওয়ামীলীগ কিছুই করে নাই? দুর্নীতিতে ৫ বছরে ৫ বার চ্যাম্পিয়ন বানানোর পরেও বিম্পি ৩০ টা আসন পাইছে, দিনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৬ ঘণ্টা লোড শেডিং দিয়াও বিম্পি ৩০ টা আসন পাইছে, দেশে একদিনে ৬৩ জেলায় একযোগে ৫০০ বোমা হামলা চালাইয়াও বিম্পি ৩০ টা আসন পাইছে তাইলে আওয়ামীলীগ কেন দুর্নীতিতে বাংলাদেশের স্থান পিছনে নিয়া একটা আসনও পাইব না? আওয়ামীলীগ কেন লোড শেডিং ১৬ ঘণ্টার থেইকা কমাইয়া ৪ ঘণ্টা আনার পরও একটা আসনও পাইব না? দেশের ভিতর জঙ্গি হামলা দমন কইরাও আওয়ামীলীগ কেন একটা সিটও পাইব না?” আমার এই কথায়ই তাদের পেট খারাপ অবস্থা। দুলাভাই আর কাজিন কোন কথা কয় না। নানা কয়, দেশের কৃষকদের অবস্থা তো খারাপ বানাইয়া ফেলছে। আলুর দাম নাই কিছু নাই। আমি কইলাম দেশের মানুষ তো খালি আলুই চাষ করে না। কৃষক বলতে খালি আলুর চাষিই বুঝায় না, এইবার ফলন বেশি তাই দাম কম, গতবারই না বিশাল অংকে লাভ করলা? নানা ভুইলা গেলা আগের কথা? বিম্পির আমলে তুমিই না ১২০০ টাঁকার ইউরিয়া সার ২২০০ টাকায়, ৮০০ টাঁকার এমওপি সার ১৫০০ টাকায়, ১৪০০ টাঁকার টিএসপি সার ৩০০০ টাকায় কিনতে ফজরের নামাজ পইড়া সিরিয়াল ধইরা সারাদিন পরেও সার না পাইয়া বাড়িতে আইসা এশা নামাজ পড়ছিলা? আর এখন টিএসপি ১০৫০ টাকায়, ইউরিয়া ৮০০ টাকায়, এমওপি ৬৫০ টাকায় কিনতে পাইরাও শুকরিয়া আসে না মনে? আর এমওপির সরকারী রেট ৬৫০ টাকা হইলেও যোগান বেশি হওয়ায় ৬০০-৬২০ টাকায় কিনতে পারো। আর কও দেশের কৃষকদের অবস্থা খারাপ। তোমার বিম্পি সরকারের আমলে ডাবল দাম দিয়াও কৃষক সার কিনতে পায় নাই, সারের দাবিতে মিছিল করছিলো বইলা তোমার বিম্পি সরকার মিছিলে গুলি কইরা ১৮ কৃষকের লাশ ফালাইয়া দিছিল রাজপথে, তোমার বিম্পি সরকারের আমলে কৃষক বিদ্যুতের অভাবে ক্ষেতে সেচ দিতে না পাইরা বিদ্যুতের দাবিতে কৃষক মিছিল করছিলো দেইখা তোমার বিম্পি সরকার মিছিলে গুলি কইরা ১৪ কৃষকের লাশ ফালাইয়া দিছিল রাজপথে। কই এখনতো সার কিনতে তোমার ফজরের নামাজ পইড়া সিরিয়াল ধরতে হয় না, কোন কৃষকের রাজপথে মিছিলও করতে হয় না সার আর সেচের জন্য বিদ্যুতের দাবিতে। আর তুমি কও কৃষকের অবস্থা খারাপ। নানার মুখে এইবার কুলুপ। দুলাভাই কইল হ আওয়ামীলীগ দেশের উন্নতি একেবারে খারাপ করে নাই। বিশ্ব ব্যাংকে বানলাদেশের অনেক ডলারও জমাইছে (বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের কথা বুঝাইছে) আওয়ামীলীগ এইবার অনেক কাজ করছে এইডা ঠিক। এর মধ্যে ওই কাজিন বড় ভাইটা কইল হ আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নতি হইব এইডা ঠিক কিন্তু বিএনপি তো পুরা ধ্বংস হইয়া যাইব। তার মানে বিম্পি পুরা ধ্বংস হইয়া যাইব দেইখা আওয়ামীলীগরে ভোট দেওয়া যাইব না। দেশের উন্নতির চেয়ে তাদের বিম্পি বড়। দেশের চেয়ে দল বড় এই হইলো তাদের নীতি।

আওয়ামীলীগ সরকারের সাফল্যগাঁথা প্রচার করার জন্য আমাদের জয় সাহেবের অনেক কর্মসূচী আছে কিন্তু বিম্পির এই বিবেকহীন মানুষগুলোকে ‘দলের চেয়ে দেশ বড়’ এই সূত্র বুঝানোর জন্য কোন কর্মসূচী আছে কি? নাকি তাদের আর শত বুঝিয়েও কোন লাভ হবে না?

২ thoughts on “দেশের চেয়ে দল বড়

  1. চমৎকার উপলব্ধির জন্য আপানাকে
    চমৎকার উপলব্ধির জন্য আপানাকে অজস্র গোলাপ বাকের ভাই… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: আপনি যে আপনার পরিবারের আর সবার চিন্তাভাবনার অসারতা থেকে বেরিয়ে এসে স্বচ্ছ ও পরিস্কার চিন্তা করতে পারছেন, সেজন্য আপনাকে লাল সালাম… :salute: :salute: :salute: :salute:

    কিন্তু আফসোস দলের অন্ধভক্ত এই মানুষগুলো কখনও দেশের অন্ধ ভক্ত হতে পারল না… :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :এখানেআয়: :এখানেআয়:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *