জানোয়ার !!!!!

বাইরে বেশ জোরেশোরেই ব্ ষ্টি পড়ছে।কোন কুক্ষণে যে আজকে বের হতে গিয়েছিলো শোয়েব।সব দোষ নিশাতের।সকাল থেকেই গুড়ি গুড়ি ব্ ষ্টি পড়ছে।তার উপর দুপুরের দিকে কালো মেঘের গুড়ুম গুড়ুম বেড়ে গিয়েছিলো।ভেবেছিলো আপার খালি বাসাটাতে সারাটাদিন ঘুমিয়ে আর সিনেমা দেখেই কাটিয়ে দিবে ও।না!তা আর হলো কই?
দুপুরের খাবার পর একটা মুভি চালিয়ে মাত্র বিছানায় পিঠটা ছোয়ালো এমন সময়ই ফোনটা বেজে ওঠলো।ডিসপ্লেতে নিশাতের নাম দেখে তাড়াতাড়ি রিসিভ করলো শোয়েব।

এই শোন,বিকেলবেলা কি তোর কোন কাজ আছে?

না,নেই।আর থাকলেও তোর জ্বালায় কি আর কাজ করা সম্ভব।এখন বল কি করতে হবে?


বাইরে বেশ জোরেশোরেই ব্ ষ্টি পড়ছে।কোন কুক্ষণে যে আজকে বের হতে গিয়েছিলো শোয়েব।সব দোষ নিশাতের।সকাল থেকেই গুড়ি গুড়ি ব্ ষ্টি পড়ছে।তার উপর দুপুরের দিকে কালো মেঘের গুড়ুম গুড়ুম বেড়ে গিয়েছিলো।ভেবেছিলো আপার খালি বাসাটাতে সারাটাদিন ঘুমিয়ে আর সিনেমা দেখেই কাটিয়ে দিবে ও।না!তা আর হলো কই?
দুপুরের খাবার পর একটা মুভি চালিয়ে মাত্র বিছানায় পিঠটা ছোয়ালো এমন সময়ই ফোনটা বেজে ওঠলো।ডিসপ্লেতে নিশাতের নাম দেখে তাড়াতাড়ি রিসিভ করলো শোয়েব।

এই শোন,বিকেলবেলা কি তোর কোন কাজ আছে?

না,নেই।আর থাকলেও তোর জ্বালায় কি আর কাজ করা সম্ভব।এখন বল কি করতে হবে?

রিকশায় ঘুরতে ইচ্ছা করছে খুব।বিকেলে একটা রিকশা নিয়ে আমার বাসার সামনে এসে পড়িস।

আমি রিকশা আনতে পারবো না।টাকা নাই।রিকশা ভাড়া তুই দিলে আনতে পারি।

এহ।এমনভাবে বললি যেনো আমি রিকশাভাড়া দেই না।ক্যাম্পাস থেকে তোর বাসায় যাওয়ার ভাড়া কে দেয়?

আচ্ছা আচ্ছা ।ঠিক আছে।এখন অফ যা।বিকেল কয়টায় আসতে হবে?

চারটা সাড়ে চারটার দিকে এসে পড়িস।

ওকে।আসবো।

বিকেলে ওর বাসার সামনে রিকশা নিয়ে যাওয়ার পর শোয়েব ফোন দেয়ার সাথে সাথেই হুড়মুড় করে নিচে নেমে এলো নিশাত।শোয়েব বুঝলো বাইরে যাওয়ার জন্য ম্যাডাম খুব উৎসুক আজ।রিকশায় ওঠেই শোয়েবকে একপাশে ঠেলে দিয়ে বললো ও,যা সর।ভালো করে বসতে দে।

শোয়েব রিকশার কোণায় গুটিসুটি মেরে বসে রইলো।নিশাতের এলাকার মোড়ের চায়ের দোকানে রাশেদ ভাই ওর সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে বসে আছে।রাশেদ ভাই নিশাতকে খুব পছন্দ করে।শোয়েবকে এ নিয়ে কয়েকবার বলেছেনও তিনি।শোয়েবের দিকে তেরছাভাবে তাকিয়ে থাকায় ভাইয়ের মন রক্ষার্থে বেশ উচুস্বরেই সালাম দিলো ও।শোয়েব যতো উচুস্বরে সালাম দিলো ভাই তার চেয়ে নিচু স্বরে সালাম নিলো।

ঘন্টাদুয়েক ঘুরাঘুরির পর আবার ব্ ষ্টির উৎপাত।রিকশার সামনে পলিথিনের কাগজ থাকা সত্ত্বেও ভিজে জবজবে হয়ে যাচ্ছে ওরা।এর মাঝে নিশাতের আরেক পাগলামি।রিকশার হুড ফেলে দিয়ে ঝুম ব্ ষ্টিতে ভিজতে লাগলো।হুড ফেলে দেয়ার সাথে সাথেই ঝপ করে পুরো ভিজে গেলো শোয়েব।রিকশা চলছে বেশ জোরেশোরেই তার উপর ঠান্ডা বাতাস তার উপর ভেজা শরীর ।শোয়েব বুঝতে পারলো এখনই ড্রেস চেন্জ্ঞ না করলে জ্বর নিশ্চিত।ঐদিকে নিশাত বেশ আনন্দের সাথেই
ব্ ষ্টিস্নান করছে।শোয়েব তাকাতেই ওর দিকে হাসিমুখ করে বললো,কি রে কেমন লাগছে?

তুই মর শালী।

রিকশা নিয়ে তাড়াতাড়ি শোয়েব তার আপার ফ্ল্যাটের নিচে আসলো।ওর এখনই ড্রেস চেন্জ্ঞ করতে হবে।জ্বর আসলে আর উপায় নাই।

আপার ফ্ল্যাটে ঢুকেই তাড়াতাড়ি শাওয়ারের নিচে দাড়িয়ে পড়লো ও।বাথরুম থেকে বেরিয়ে দেখে আপার শাড়িগুলোর দিকে অপলক চোখে তাকিয়ে আছে নিশাত।ওকে দেখেই বললো,এই আমি আজকে আপার একটা শাড়ি পড়বো।

আচ্ছা পড়িস ।এখন যা ড্রেস চেন্জ্ঞ কর।

কীভাবে চেন্জ্ঞ করবো?আমি কি এক্সটা ড্রেস এনেছি নাকি?

আচ্ছা যা।আপার একটা শাড়িই পর।

নিশাত বেশ খুশি হলো।তাড়াতাড়ি বাথরুমে ঢুকে ড্রেস চেন্জ্ঞ করতে লাগলো।ড্রেস চেন্জ্ঞ করে বাইরে আসতেই পেট ফেটে হাসি আসতে লাগলো শোয়েবের।অগোছালোভাবে গায়ের উপর শাড়িটা ফেলে রেখেছে নিশাত।

তুই শাড়ি পড়তে জানিস না,আগে বলবি তো!হাঃহাঃহাঃ

হাসবি না,চুপ।এখন কীভাবে শাড়ি পড়বো বল।

দাড়া আমি পড়িয়ে দিচ্ছি।

এই বলে নিশাতের পাশে গিয়ে দাড়ালো ও।শ্যাম্পু করা চুলের ঘ্রাণ ধাক্কা মারলো নাকে।শাড়ীর ভাঁজ কোমরে রাখতে গিয়ে মস্ ণ সাদা পেট দেখে আর ঠিক থাকতে পারলো না শোয়েব।কি এক জানোয়ার ভর করলো ওর মাঝে।এক নিমিষেই নিশাতকে ঝটকা মেরে বিছানায় ফেলে দিলো ও।কি ঘটছে বুঝতে পেরে নিশাত শুধু বললো,না শোয়েব না।

শোয়েব তখন পশুতে পরিণত হয়েছে।পনের মিনিটের এক ঝড়ে সব এলোমেলো হয়ে গেলো।নিশাত দুহাতে মুখ ঢেকে ডুকরে ডুকরে কাঁদছে।শোয়েব ওর পাশে গিয়ে বসতেই ঘ্ ণাভরা কন্ঠে নিশাত শুধু একটা কথাই বললো,
জানোয়ার!!!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *