এই লাশ কেন আমাদের দেখতে হল?

ভাবতেও পারছিনা থাবা বাবা (রাজীব হায়দার) আমাদের মাঝে নাই। দীর্ঘ এগার দিনের আন্দোলনে আমাদের অর্জন কি? ব্লগার থাবা বাবা’র লাশের জন্য আমরা আন্দোলন করিনি। এই লাশ অপ্রত্যাশিত। এগার দিনের আন্দোলনে মুল দাবী ছিল সকল যুদ্ধ অপরাধীদের ফাঁসি এবং জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করা। প্রথম দাবীটি সময় সাপেক্ষে বিষয় হলেও জামায়াত-শিবিরকে রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করা সরকারের মাত্র একটি সিদ্ধান্তের ব্যাপার। কিন্তু গত এগার দিনেও সরকার এই সিদ্ধান্তটি নিতে পারলো না কেন?

বর্তমান সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার আশ্বাস দিয়ে তরুণ প্রজন্মের বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় এসেছে। তাহলে সেই একই জনগণকে আবার কেন একই সরকারের আমলে একই দাবীতে আন্দোলন করতে হবে? যে দাবী পুরণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আওয়ামীলগ সরকার গঠন করেছে, সেই দাবীতে আন্দোলন করার দায়ে কেন একজন ব্লগারকে বলি হতে হবে? আমরা ব্লগার থাবা বাবা’র লাশ উপহার পেতে আওয়ামীলীগকে ভোট দেই নাই। ভোট দিয়েছি আমাদের মানচিত্রে যে ক্ষত আছে সেটি সারিয়ে তোলার জন্য। কিন্তু পাঁচ বছরের ক্ষমতার শেষের দিকে এসে আমাদেরকে কেন শাহবাগ আন্দোলন করতে হল? আর সেই আন্দোলনের বলি কেন রাজিব হায়দারকে হতে হল? এসব প্রশ্নের উত্তর সরকার থেকে কি আমরা আশা করতে পারিনা?

আমরা ব্লগাররা রাস্তায় নেমেছি বাধ্য হয়ে। বিগত চার বছর বাংলাদেশের ব্লগাররা এই একটা দাবীতে অর্হিনিশি ব্লগিং করে আসছে। আমরা আমাদের দাবীর জন্য কি-বোর্ড যুদ্ধ করেছি। দাবী পুরন হয়নি দেখে কি-বোর্ড ছেড়ে রাস্তায় নেমেছি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানাতে। কলমের বিরুদ্ধে কেন হাতিয়ার উঁচু করা হল? কার স্বার্থে এগার দিনের আন্দোলনকে নিমিষেই সময়ের খাঁচায় বন্দি করার পাঁয়তারা করা হল? যে আন্দোলনটি গত এগারদিন ক্লান্তিহীনভাবে চলমান ছিল, সেটিকে কার ইশারায় নির্দ্দিষ্ট বিরতিতে করার ঘোষনা দেওয়া হল?

কোন দাবী পুরণ হওয়ার সম্ভবনা যেখানে দেখাই যাচ্ছিল না, সেখানে হঠাৎ করে এই ধরনের হটকারী সিদ্ধান্তের কারণে একাত্তরের পরাজিত শক্তি হরতালের মত কর্মসূচী দেওয়ার সাহস দেখাল। ব্লগার থাবা বাবা’কে প্রাণ দিতে হল। থাবা বাবা আন্দোলনের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করে বুঝিয়ে দিল দাবী পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন বন্ধ করা যাবেনা। আমরা এই মহুর্তেই জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবী জানাচ্ছি। কলমের জবাব হাতিয়ার দিয়ে যারা দিতে অভ্যস্থ তাদের সকল প্রকার প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে এই মহুর্ত থেকে নিষিদ্ধ করা হোক।

ব্লগার থাবা বাবা জীবন উৎসর্গ করে যে আন্দোলনকে আবার জীবন্ত করে দিয়ে গেল, বিরতিহীন আন্দোলনে রূপ দিয়ে গেল, সেই আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমি সকল এক্টিভিস্ট, গণজাগরণের সকল যোদ্ধাকে অনুরোধ জানাচ্ছি। আমাদের বিজয় না আসা পর্যন্ত ঘরে ফিরে আসা যাবেনা। হরতালসহ জামায়াত-শিবিরের সকল নাশকতামুলক কর্মসূচী আমরা প্রতিহত করে আমাদের দাবী পুরণ করেই আমাদের প্রতিবাদের জায়গা ছেড়ে দেব। এর আগে এক মহুর্তের জন্যও শাহবাগসহ সকল গণজাগরণ মঞ্চে আমরা আমাদের প্রতিবাদ কর্মসূচী চালিয়ে যেতে থাকব। ফিরে গেলে আমাদেরকেও থাবা বাবা’র পরিণতি বরণ করতে হবে।

২০ thoughts on “এই লাশ কেন আমাদের দেখতে হল?

    1. আমাদের মধ্যে অনেক ধরণের
      আমাদের মধ্যে অনেক ধরণের অনৈক্য দেখা দিয়েছে। এসময় ঐক্য অনেক বড় শক্তি। এদের নির্মূল করার আগ মহুর্ত পর্যন্ত আমাদের ঐক্য নষ্ট করা যাবেনা। আন্দোলনে হয়ত অনেক ভুল ত্রুটি আছে, কিন্তু সেই ভুলত্রুটি নিয়ে এখন কথা বলার সময় নয়।

  1. চমৎকার স্ট্রাটেজি জামাতি
    চমৎকার স্ট্রাটেজি জামাতি কুত্তাগুলার। তারা এমন একজনকে টার্গেট বানালো যাতে এই আন্দোলন নিয়ে খুব সহজেই বিভ্রান্তি ছড়ানো যায়। মানুষ যে খুব সহজেই বিভ্রান্ত হচ্ছে তা স্পষ্ট। জামাত সর্ব শক্তি দিয়ে এই আন্দোলনের মোড় ঘুরাতে চাচ্ছে। এখন আর ফাসি না, জবাই করার দাবী জানাই।

  2. আমার তো মনে হয় সরকার মজা
    আমার তো মনে হয় সরকার মজা দেখছে। তা না হলে আজ এগার দিন হয়ে গেল সরকারের তরফ থেকে জামায়াত, শিবিরকে নিষিদ্ধ করার মত করে কোন রকম পদক্ষেপ চোখে পরছে না। আমার তো মনে হয় এটা সরকারের একটা চাল। সরকার চাইছে ক্ষমতায় আসার পর যুদ্ধাপরাধিদের বিচার ইস্যুটা নিয়ে চার বছর কাটিয়ে দেবে এর পর জামায়াত শিবিরের নিষিদ্ধতা এবং যুদ্ধাপরাধিদের বিচার নিয়ে একটা কৌশল অবলম্বন করবে যা গণআন্দলনের সূচনা করবে এবং এই সূযোগটা কাজে লাগিয়ে তারা আগামিতে আবার ক্ষমতায় আসবে এবং নিজেরাই কর্তৃত্ব করবে। এইটা যদি আওয়ামিলিগ সরকার করে থাকে বা ভেবে থাকে তাহলে তারা সবচেয়ে বড় ভূল করবে। কারন মানুষ এখন আগের মত নাই। মানুষ এখন অনেক সচেতন। আজকের আন্দোলন দেশের জনগণের আন্দোলন, কেন একজন সাধারন মানুষকে এভাবে প্রাণ দিতে হবে। এটা তো আমরা আশা করিনি। প্রশাসন কি করতাছিল মুখের মধ্যে সাগর কলা দিয়া বইশা আছিল। :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:

    1. হরতাল প্রতিহত করার মাধ্যমে
      হরতাল প্রতিহত করার মাধ্যমে আমাদের লড়াইয়ের সাফল্য বোঝা যাবে। তাই, সবাই সোমবারের হরতাল প্রতিহত করার জন্য মাঠে নামেন।

  3. জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি
    জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবী জানিয়ে যাব যতক্ষণ আছে এ দেহে প্রান…আন্দোলন রুধিবে সরকার কি দিয়ে?

    1. আন্দোলন এখন গণভবন থেকে
      আন্দোলন এখন গণভবন থেকে পরিচালিত হচ্ছে। এই কথা এখন আমার একার না। মানুষ বলছে। এই আন্দোলনটাকে আওয়ামীলীগ ধ্বংস করে দিয়েছে। ম্রিয়মান হয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। সরকার এর খেসারত দিবে। এখন হয়ত তাধিন তাধিন করছে। একসময় বুঝবে।

    2. আন্দোলন এখন গণভবন থেকে
      আন্দোলন এখন গণভবন থেকে পরিচালিত হচ্ছে। এই কথা এখন আমার একার না। মানুষ বলছে। এই আন্দোলনটাকে আওয়ামীলীগ ধ্বংস করে দিয়েছে। ম্রিয়মান হয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। সরকার এর খেসারত দিবে। এখন হয়ত তাধিন তাধিন করছে। একসময় বুঝবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *