একজন নির্জনতার কবি অথবা একটি প্রবাদ “যে দেশে গুনীর কদর নেই সে দেশে গুনী জন্মায় না”

ড:মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেছেন,যে দেশে গুনীর কদর নেই সে দেশে গুনী জন্মাতে পারেনা আমরা বর্তমান কিছু ঘটনা বিশ্লেষন করলে বুঝতে পারব আমাদের দেশে গুনিদের কদর কতটুকু!
প্রাবন্ধিক আহমেদ ছফা বলেছিলেন- “তিনি রবীন্দ্রনাথের বাইরে,নজরুল ইসলামের চেয়ে দূরে”-এই রবীন্দ্র নজরুল কাব্য ভুবনের বাইরে সরূপ উদ্ঘাটন করতে গিয়ে তার সমালোচক বৃন্দও হরহামেশাই তার ললাটে সেটে এসেছেন নির্জন-সতন্ত্র-বাংলা প্রিয় বিশুদ্ব চৈতন্যের কবি উপাধি!

ড:মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেছেন,যে দেশে গুনীর কদর নেই সে দেশে গুনী জন্মাতে পারেনা আমরা বর্তমান কিছু ঘটনা বিশ্লেষন করলে বুঝতে পারব আমাদের দেশে গুনিদের কদর কতটুকু!
প্রাবন্ধিক আহমেদ ছফা বলেছিলেন- “তিনি রবীন্দ্রনাথের বাইরে,নজরুল ইসলামের চেয়ে দূরে”-এই রবীন্দ্র নজরুল কাব্য ভুবনের বাইরে সরূপ উদ্ঘাটন করতে গিয়ে তার সমালোচক বৃন্দও হরহামেশাই তার ললাটে সেটে এসেছেন নির্জন-সতন্ত্র-বাংলা প্রিয় বিশুদ্ব চৈতন্যের কবি উপাধি!
তিনি ছিলেন একাধারে সৌর জগত প্রেমী! অগনিত কবিতাই অসংখ্য বার ব্যবহিত করেছেন আকাশ,নক্ষত্র,নিহিরিকা, উল্কা,ধুমকেতু
মুলত তিনি শৈশবে আকাশ-নক্ষত্রের প্রেমে পড়েছেন,তার মনে এই নক্ষত্র প্রেম উস্কে দিয়েছিলো তারই পিতা সত্যনন্দ দাশ। এক একটি জ্যোৎস্না ধোঁয়া রাতে তিনি সন্তান মিলুকে (জীবনানন্দের ডাক নাম)
নিয়ে বসতেন পাটীপাতা উঠোনে আর দরাজ কণ্ঠে শুনাতেন আবৃতি,উপনিষদের শ্লোক!
সেই শ্লোক শুনতে শুনতে কবে যে ছোট্ট মিলুর মনে ঠায় করে নেয় সূর্য-নক্ষত্রের অমলিন জগত!
আবার তার কাব্যে কারণে-অকারণে তরু-গুল্ম-লতা-পাতা ঝোপঝাড়ের এত বর্ণনা পাওয়া যায় যে তাকে কবি না বলে একজন অকৃত্রিম বনসংরক্ষক বা ফরেষ্ট গার্ড বলে ভ্রম হতে পারে। বাংলাভাষার কোন কবির সম্ভবত এত গাছপালার নাম-ধাম জানা নেই।
জীবনানন্দ দাশ, আমার সবচেয়ে প্রিয় কবি। রবীন্দ্র, নজরুল আর সুকান্তের প্রতি মুগ্ধ আকর্ষণ থাকা সত্ত্বেও কেন জানি না বুদ্ধদেব বসু কর্তৃক অভিহিত এই নির্জন, স্বতন্ত্র কবিকেই বেশি ভালো লেগে গেলো সেই “আবার আসিব ফিরে” পড়ার পর থেকে। এরপর বনলতা সেন, আকাশলীনা, রূপসী বাংলা সহ এখান-ওখান থেকে যখনই তাঁর কোন কবিতা পেয়েছি, বিলম্ব না করে পড়ে গেছি আর মুগ্ধ হয়েছি প্রতিমূহুর্তে
পৃথিবীতে নাকি কাক আর কবির সংখ্যা সমানে সমান। কিন্তু জীবনানন্দ দাশ বলেছেন তার উল্টোটা, “সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি।” আর সেই কেউ কেউ এর মধ্যে যে তিনি বেশ ভালোভাবেই আছেন সেটা নিজে না বললেও বাঙালি কাব্যপ্রেমীরা যথার্থরূপেই উপলব্ধি করেছে তাঁর বিদায়পরবর্তী সময়ে। প্রচণ্ড নিভৃতচারী কবি দেখে যেতে পারেন নি তাঁর কবিতার তুঙ্গস্পর্শী সমাদর। তিনি জেনে যেতে পারেন নি যে, কত নবীন জীবনানন্দের জন্ম হয়েছে, হচ্ছে এই একুশ শতকেও তাঁর কবিতার আশ্রয়ে বনলতা সেনদের কাছে প্রেম নিবেদনের জন্য; কত হালভাঙ্গা নাবিক দিশা খুঁজে পেয়েছে তাঁর কবিতাতে- নারিকেল দ্বীপের মতোই।

বাংলা কবিতায় ষাটের দশকে একঝাঁক তরুণ কবি প্রচলিত ধ্যান ধারণাকে আক্রমণ নিজেদের ‘হাংরি জেনারেশন’ বলে ঘোষণা করেন, এবং জীবনানন্দকে তাদের নিজস্ব ভাবধারার পূর্বসূরী বলে দাবি করেন। হাংরি আন্দোলনের পথিকৃৎ মলয় রায় চৌধুরী তাঁর কবিতায় জীবনানন্দের কথা সরাসরি উল্লেখ করেছেন,

শিল্পের স্বাধীনতা যে চায় সে মূর্খ
আমি শিল্পীর স্বাধীনতার বিরুদ্ধে
শুধুমাত্র প্রতিষ্ঠানের কেনা চাকররাই স্বাধীন কেননা তারা শিল্পী নয়, তারা মিথ্যাবাদী চুরিবিশারদ আর মরা রোবোট
উন্মাদ সংস্কৃতিগুলোই কেবল শিল্পীকে চায়
শিল্প হল ভবিষ্যবাণী কেননা সর্বনাশের আগে দরকার অমঙ্গলের পূর্বাভাস
বিবেকী সভ্যতার জন্যে চাই লোকসংস্কৃতি যা আসলে প্রকৃতি, তা মোটেই শিল্প নয়
কোনো বিবেকী সরকারের আবির্ভাব এখনও হয়নি
কোনো শিল্পীর পক্ষে সমঝোতা করা সম্ভব নয় কেননা সে আসলে তিনি
শিল্প হল আঘাতের উপশম
আমি মানবতার আঘাতপ্রাপ্তি চাই না কেননা আমি সর্বনাশের বিরুদ্ধে
শিল্পীকে একা যুঝতে হবে কেননা সে-ই তো উপশম আনে
শিল্পীকে নিজের পথ নিজে তৈরি করতে হবে
স্বাধীনতার জন্যে সে ভিক্ষা চাইবে না বা দরদস্তুর করবে না
বাইরে থেকে স্বাধীনতা পাবার জন্যে সে দুর্বলের কান্না কাঁদবে না
মিশর বয়ে চলে গেছে নীল নদের জলে
‘লোহার দেয়াল’ ভেঙেছেন ভ্যান গঘ যা তিনি একটি চিঠিতে বলেছিলেন
কলকাতাও মিশে যাবে ধুলায়
কিন্তু জীবনানন্দ দাশ বেঁচে থাকবেন চিরকাল আমার আর তোমার ভেতর
আমি শিল্পের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে
অসুস্হ নৃশংস ব্যবস্হায় শিল্পীর অস্তিত্ব অসম্ভব
মানবতার বেদীতে শিল্প হল আত্মাহুতি
তাই আমি বলি শিল্পীর জন্যে চাই জিঞ্জির
তাকে ঘিরে উঠুক পাতালের নীলাভ বিষবাষ্প
তাকে বসাও বিদ্যুৎবাহী চেয়ারে
তার জন্যে চাই ফাঁসিকাঠ
জীবন্ত পোড়াও তাকে
তাকে পাঠাও অন্ধকার স্যাঁতসেতে ঘেমো জেলখানায়
তার জন্যে পাগলাগারদ
কেননা ফ্রাংকো আর সালাজারের কবর হয়ে উঠবে ভবিষ্যতের গোরস্হান
অবিনশ্বরতায় পাস্তেরনাকের পাশে ঘুমাবেন লোরকা আর আমিও থাকব সেখানে
আমি কারোর কাছে স্বাধীনতার গারেন্টি চাই না
আমার যেমন ইচ্ছে হবে তেমন লিখব
যেখানেই থাকি না কেন যা ভাল লাগবে তা-ই লিখব
চন্দ্রালোকের মহাপ্লাবনে ওঠা আমার রক্তের জোয়ারধ্বনি আমি শুনতে পাই
আমি কারোর কাছে আমার স্বাধীনতা দাবি করি না
অজস্র সরকার উড়ে যাবে কবিতার ফুঁয়ে
শিল্পীর সামনে তাবৎ উন্মাদ সভ্যতা হাঁটু গেড়ে গোঙাবে
সময় যার আরেক নাম কবিতা তার সুষমাকে কোনো আণবিক বিস্ফোরণ দমাতে পারবে না

(শিল্পের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে: মলয় রায়চৌধুরী)


১৯৪২ সালে প্রথম প্রকাশে ‘বনলতা সেন’-এর প্রচ্ছদ আর্টস সংস্করণের প্রচ্ছদ হিসেবে ব্যবহার করা হয় এই ছবি।জীবনানন্দের কাব্য শেষ পর্যন্ত একজন সাধারণ মানুষের সুক্ষ্ম অনুভবের তীব্র প্রকাশ, ভাষিক ব্যবধান তুচ্ছ করে পুরো পৃথিবীকে যার অনেক কিছু বলবার আছে। জনতার কোলাহল থেকে দূরে সরে থাকা এই সাদাসিধে মানুষটি বরাবরই কবি ছিলেন; তিনি বিচ্ছিন্নতার কবি।
জীবনানন্দ আজীবন নিজেকে আড়াল করে রাখতে চেয়েছেন, শনাক্ত হতে চাননি, স্বেচ্ছায় ও সচেতনভাবে প্রশ্রয় দিয়েছেন নিজের প্রসঙ্গে নানা কৌতূহলোদ্দীপক বিভ্রান্তিকে। শ্রেষ্ঠ কবিতার ভূমিকাটি এ বিষয়ে আশ্চর্য একটি দৃষ্টান্ত নির্মাণ করে। অথচ ফটোগ্রাফটি তাঁকে চিনিয়ে দেয়। একজন ভ্রাম্যমান দর্শক হিসেবে তাঁর অভিনয় ব্যর্থ হয় ও ভিড়ের মধ্যে তাঁর লুকিয়ে থাকা থমকে দাঁড়ায়।
তাকে বলা হয় রূপসী বাংলার কবি, বলা হয় নির্জনতার কবি, বাংলা সাহিত্যের শুদ্ধতম কবিও বলা হয়। তবে রূপসী বাংলার কবি নামেই তিনি বেশি পরিচিত। জীবনানন্দ দাশ , যিনি কবিতায় পঙক্তিতে উঠিয়ে এনেছেন বাংলার রূপকে।
আজ ২২ অক্টোবর কবি জীবনানন্দ দাশের ৫৯ তম মৃত্যুবার্ষিকী! ১৯৫৪ সালের ১৪ অক্টোবর কলকাতার বালিগঞ্জের কাছে ট্রাম দুর্ঘটনায় আহত হন জীবনানন্দ দাশ।। কবির স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটতে থাকে। নিউমোনিয়ায় আক্রান্তহাড়। গুরুতরভাবে আহত জীবনানন্দের চিৎকার শুনে ছুটে এসে নিকটস্থ চায়ের দোকানের মালিক চূণীলাল এবং অন্যান্যরা তাঁকে উদ্ধার করে।তাঁকে ভর্তি করা হয় শম্ভূনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে। এ সময় ডাঃ ভূমেন্দ্র গুহ-সহ অনেক তরুণ কবি জীবনানন্দের সুচিকিৎসার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করেছিলেন। কবি-সাহিত্যিক সজনীকান্ত দাস এ ব্যাপারে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তাঁর অনুরোধেই পশ্চিমবঙ্গের তদানীন্তন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ বিধানচন্দ্র রায় কবিকে দেখতে এসেছিলেন এবং আহত কবির সুচিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছিলেন যদিও এতে চিকিৎসার তেমন উন্নতি কিছু হয়নি। এ সময় স্ত্রী লাবণ্য দাশকে কদাচিৎ কাছে দেখা যায়। তিনি টালিগঞ্জে সিনেমার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। জীবনানন্দের অবস্থা ক্রমশঃ জটিল হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়েন কবি।

চিকিৎসক ও সেবিকাদের সকল প্রচেষ্টা বিফলে দিয়ে ২২শে অক্টোবর, ১৯৫৪ তারিখে রাত্রি ১১টা ৩৫ মিনিটে কলকাতার শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।
আবদুল মান্নান সৈয়দ-সহ কেউ কেউ ধারণা করেছেন হয় আত্মহত্যা স্পৃহা ছিল দুর্ঘটনার মূল কারণ জীবনানন্দ গবেষক ডাঃ ভূমেন্দ্র গুহ মনে করেন জাগতিক নিঃসহায়তা কবিকে মানসিকভাবে কাবু করেছিল এবং তাঁর জীবনস্পৃহা শূন্য করে দিয়েছিল। মৃত্যুচিন্তা কবির মাথায় দানা বেঁধেছিল। তিনি প্রায়ই ট্রাম দুর্ঘটনায় মৃত্যুর কথা ভাবতেন। গত এক শত বৎসরে ট্রাম দুর্ঘটনায় কোলকাতায় মৃত্যুর সংখ্যা মাত্র একটি। তিনি আর কেউ নন, কবি জীবনানন্দ দাশ। কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীর মতে এ সময় দুই হাতে দুই থোকা ডাব নিয়ে ট্রাম লাইন পার হচ্ছিলেন কবি। আত্মহননের সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই হাতে দুই থোকা ডাব নিয়ে গৃহে ফেরার সড়কে ওঠার জন্য ট্রাম লাইন পারি দেয়া খুব গ্রহণযোগ্য যুক্তি নয়।
কবি জীবনানন্দের জন্ম হয় বরিশালেই।
তিনি পড়াশুনা করেন এখানে। তার কর্ম জীবনের শুরুও এখানে। অথচ কোথাও নেই তার কোনো স্মৃতিস্মারক। উদ্যোগ নেওয়া হয়নি কবির স্মৃতিময় জিনিসগুলো সংরক্ষণের।

বরিশালের এই বাড়ীতে কবি ৪৬ বছর কটিয়েছেন।
১৯৪৬ সালে ব্রজমোহন কলেজ (বিএম) থেকে ছুটি নিয়ে কলকাতায় যাওয়ার আগ পর্যন্ত জীবনানন্দ দাশ বরিশালেই ছিলেন। তাঁর চিঠিপত্র আসত, জীবনানন্দ দাশ, সর্বানন্দ ভবন, বরিশাল_এই ঠিকানায়। বগুড়া সড়কের অ্যাংলিকান চার্চ অক্সফোর্ড মিশনের গা ঘেঁষে শীতলাখোলা মোড়েই ছিল জীবনানন্দ দাশের বাড়ি ‘সর্বানন্দ ভবন। ছিল অনেক রকম ফলের গাছ। তাঁদের ছিল একান্নবর্তী পরিবার। জীবনানন্দের ঠাকুর দা সর্বানন্দ দাশ ছিলেন বরিশাল কালেক্টরেটের কর্মচারী। তবে এখন আর সেই বাড়ি নেই।

মূল বাড়িটি যেখানে ছিল, সেখানে ‘ধানসিঁড়ি’ নামের নতুন বাড়ি হয়েছে।
বরিশালে জীবনানন্দের সন্ধানে এসে হতাশ হতে হয় সবাইকে। নিজের জন্ম শহরেই অবহেলিত‘নির্জনতম’ কবি জীবনানন্দ দাশ।

চিত্রঃ জীবনানন্দ দাশ সড়ক,বরিশাল!
রোদ চুমু খাচ্ছে জীবনানন্দ দাশ সড়কে।বিশাল শহরে জীবনানন্দ দাশ সড়ক নামে যে রাস্তাটি রয়েছে তার পূর্ব নাম ছিল বগুড়া রোড। এখনো সবাই এই নামেই চেনে। এই রোড ধরে হেটে যেতেই চোখে পড়ে রাস্তার পাশে সাড়ি সাড়ি দোকানের সাইন বোর্ডে ভুল বানানে লেখা ‘জীবনানন্দ দাস সড়ক’। আবার অনেকেই সাইন বোর্ডে সেই পূর্বের নাম বগুড়া রোডই বহাল রেখেছেন।
এই শহরের কোনো রিকশা চালকই ‘জীবনানন্দ সড়ক’ বললে যান না। তারা সবাই ‘বগুড়ার রোড’ বলেই চেনেন সড়কটিকে। এমনকি যদি প্রশ্ন করেন “জীবনানন্দের বাড়ি কোথায়?” উত্তরে বেশির ভাগ মানুষই শূন্য চোখে বলবে “চিনি না”।
অথচ তারা ওই বাড়ির পাশে আলিশান ক্লিনিকটিকে চেনে। এভাবেই বছরের পর বছর যুগের পর যুগ অবহেলায় পার হয়েছে জীবনানন্দের বরিশালের ‘অচেনা জীবনানন্দ দাশ’।

কবির স্মৃতি বিজড়িত ধানসিঁড়ি নদী!
জীবনান্দ দাশের অমর সৃষ্টি‘ধানসিড়ি’। ‘ধানসিড়ি আজ সমস্ত বাঙ্গালির আর একটি তীর্থভুমি এবং স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের অহংকার ও জাতীয়তাবাদের আরেকটি প্রেরনা। জাতীয় মহান নেতা শেরে বাংলা একে ফজলুল হক এই নদী পথেই জন্মস্থান মাতুলালয় সাতুরিয়া ও কলকাতা যাতায়ত করেছেন।এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭০ সালের নির্বাচনে কাঠালিয়া থেকে রাজাপুর হয়ে লঞ্চযোগে এই নদীপথেই ঝালকাঠী জেলা সফর করেছিলেন।তিনি ধানসিড়ি নদীরতিরে ইন্দ্রপাশা গ্রামে লঞ্চ থামিয়ে উপস্থিত জনতার উদ্বেশ্যে বক্তাব্য রাখেন এবং কবির স্বৃতির প্রতি শ্রদ্বা জানিয়ে কবিতাটির কয়েকটি চরন আবৃতি করেন।
বরিশালের বগুড়া রোডে অক্সফোর্ড মিশন গীর্জার পাশে সর্বানন্দ ভবনে থাকতেন জীবনানন্দ দাশ ও তার পরিবার। এখানেই বেড়ে উঠেছেন তিনি। দেশ ভাগের আগে এই শহর ছেড়ে স্বপরিবারে কলকাতা চলে যান তারা। এরপর আর ফেরেনি। হয়তোবা সাম্প্রদায়িক সমপ্রীতি বিনষ্টকারী দাঙ্গাসহ নানা প্রতিকূল কারণেই আর দেশে আসা হয়নি,সেই সর্বানন্দ ভবনের নাম এখন ‘ধানসিঁড়ি’।

অথচ আধুনিক বাংলার সাহিত্ব অন্যতম কবি জীবনান্দ দাশের স্মৃতিবিজরিত জন্মভুমি বামনকাঠীর পৈত্রিক বাড়ী নিখোঁজ অবস্থায় জঙ্গলাকীর্নসহ শরিষা ও ধানক্ষেতে পরিনত হয়েছে।আর তার অতিপ্রিয় ধানসিড়ি নদীটি ভরে যাওয়ায় ভুমিদস্যুরা অতিদরিদ্র সার্টিফিকেট তৈরি করে সরকারের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দখল করে নিচ্ছে।

এখানে থাকছে অন্য একটি পরিবার।ক্রয়সূত্রে কবির সম্পত্তির কিয়দংশের মালিক মরহুম আবদুর রাজ্জাকের তৃতীয় ছেলে জলিল ফারুক এখন এ বাড়িতে থাকেন। জীবনানন্দ দাশের বসতবাড়ির আগের রূপ এখন নেই বললেই চলে। জীবনানন্দের বাড়িটির কোনো স্মৃতিচিহ্নও এখন আর নেই। শুধু দাড়িয়ে আছে তার বাসভবনের দুটি ‘খুটি’।
বছরের পর বছর এই বাড়িটিতেই কবির শেষ চিহ্ন হিসেবে রয়ে গেছে ‘খুটি’ দুটি। কেউ সংরক্ষনের উদ্যোগও নেয়নি।
বরিশালে বর্তমানে জীবনানন্দ দাশের স্মরণে গড়ে উঠেছে শুধুমাত্র একটি পাঠাগার। আর একটি সড়কের নামকরণ করা হয়েছে তার নামে। আর কিছুই হয়নি এখানে। অথচ জীবনানন্দের অনবদ্য সব সৃষ্টিই হয়েছে এখানে। যা চর্চা এবং প্রচার না থাকায় এই শহরের বেশিরভাগ মানুষের কাছেই রয়ে গেছে অজানা। এই শহরেই যেন এখনো অনাবিস্কৃত রয়ে গেছেন এই কবি।
জীবনানন্দকে তুলে ধরতে না পারাটা এই শহরবাসীর জন্য চরম লজ্জার”।
জীবনানন্দ দাশ তার একটি কবিতায় লিখেছিলেন- “আমি কি ওদের ফেরাতে পারি! যুগ যুগ ধরে আমি যে /ওদের ভেতর দিয়েই বেঁচে থাকবো…।”
জীবনানন্দ তার সৃষ্টি দিয়েই কালের সীমানা অতিক্রম করেছেন, করবেন। প্রজন্মের শুদ্ধ চর্চায় বেঁচে থাকবেন। কিন্তু তাকে অবহেলা করে বরিশাল কি নিজস্ব লজ্জা থেকে রেহাই পাবে? প্রশ্নটি থেকেই যাবে।
কবি জীবনানন্দ দাশের মৃত্যু নেই। আজও তিনি তার কবিতার মাধ্যমে ভাস্বর। প্রতিদিনই জীবনানন্দ তার হাজার হাজার পাঠকের কাছে ফিরে আসেন এবং তাদের সত্ত্বাকে কবিতার মাধ্যমে স্পর্শ করেন যান।

কবির কবিতা তো একটু খুজলেই পাওয়া যাবে!তাই আজ কবির জন্য কবিতা!

জীবনানন্দকে মাঝে-মাঝে দেখি রাস্তায়।
বলিষ্ঠ শরীর, আধ-ময়লা পাঞ্জাবি, আধময়লা ধুতি
হাঁটুর নিচ অব্দি লেগে রয়েছে, পায়ে অস্পষ্ট স্যান্ডেল
কি মোকাসিন,
শুধু দু’চোখে তাঁর
আমার ছেলেবেলার হারিয়ে-ফেলা সবুজ প্রিজম
দু’টুকরো হ’য়ে জ্বলছে।

গ্রীন রোডের মাথায় দেখেছি একদিন,
একদিন স্টেডিয়ামের দোতলায় বইএর দোকানে
ওঠার সময় সিঁড়িতে আমার পাশ দিয়ে দ্রুত নেমে গেলেন,
একদিন দেখি লেকের ধারে হেঁটে চলেছেন গভীর আত্মনিমগ্ন,
আর-একদিন মাছের গোল বাজারে চক্কর খেতে-খেতে।

উৎসুক হ’য়ে তাঁকে দেখতে-না-দেখতে
ভিড়ের ভিতরে মিশে যান তিনি,
জনশূন্যতার ভিতরে মিশে যান।

শুধু একদিন পাশ দিয়ে যাবার সময়
আমার দিকে এক-পলক উদাসীন তাকিয়ে
যেন স্বগতোক্তির মতো উচ্চারণে
‘এতোদিন কোথায় ছিলেন?’
ব’লে, কোনো জবাবের জন্যে দেরি না-ক’রে
নির্মোহতার ভিতরে মিশে যান।
একদিন সন্ধেবেলা দেখি তাঁকে
ধরা-পড়া নক্ষত্রের মতো লজ্জিত
দাঁড়িয়ে আছেন ঢাকার সবচেয়ে নির্জন মাঠের উপরে-
আমি মাঠের পাশ দিয়ে রিকশায় যাচ্ছিলাম-
দেখি তাঁর চুলে রাত্রি থেমে আছে,
চোখের সবুজ প্রিজমের ভিতর থেকে লাফিয়ে পড়ছে ফড়িং

হেমন্তের শিশিরের সুঁই ঘিরে ধরছে তাঁর পদযুগল
কোন আদিম দেবতার কাছে নতজানু
ধূসর মানুষের মতো
দেখি তাঁর ধুতি-পাঞ্জাবি কুয়াশার সুতোয় বোনা,
দেখি তাঁর বিড়বিড় স্বগত-উচ্চারণ থেকে
বেরিয়ে আসছে সন্ধেবেলার সবগুলো তারা
দেখি তাঁর পাঞ্জাবির ঢোলা পকেটে উঁকি দিচ্ছে চাঁদ।

তারপরই জীবনানন্দ হাঁটতে শুরু করলেন
উদ্দেশ্যহীনের মতো কোনো-একদিকে
আমার জীবনবেদনা থেকে দূরে-দূরতরে
(জীবনানন্দ : আব্দুল মান্নান সৈয়দ)

২৭ thoughts on “একজন নির্জনতার কবি অথবা একটি প্রবাদ “যে দেশে গুনীর কদর নেই সে দেশে গুনী জন্মায় না”

  1. ভালো লাগলো আপনার পোস্টটি
    ভালো লাগলো আপনার পোস্টটি পড়ে।শ্রদ্ধাভরে স্বরণ করছি বাংলার এই অবহেলিত কবিকে। :salute: :salute: :salute:
    মৃত্যুর কয়েকমাস আগে স্বরাজ পত্রিকার সম্পাদক অধ্যাপক হুমায়ূন কবিরের কাছে জীবনানন্দ তিনটি চিঠি লিখেছিলেন পরপর যার উল্লেখ করলাম এখানে। যে চিঠির কোনো প্রত্যুত্তর পান নি তিনি। হুমায়ূন কবির শেষপর্যন্ত কিছুই করেন নি, বা করতে পারেন নি। অবশ্য জীবনানন্দ বেঘোরে মারে যাওয়ার পর তাকে মরণোত্তর সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কারটা পাইয়ে দিয়েছিলেন।
    —————————————————————————–

    চিঠি-১
    ১৭.৩.৫৪

    আমার প্রিয় মিস্টার কবির,
    আপনি এখন একটা খুব প্রভাবশালী জায়গায় আছেন। শিক্ষা, সাংস্কৃতিক সম্পর্ক, সাহিত্য, প্রকাশনা এবং অন্যান্য অনেক বিষয় আপনার সাক্ষাৎ তত্ত্বাবধানে আছে, যাদের মাধ্যমে আপনি আমাকে কোনও একটা উপযুক্ত চাকরিতে বসিয়ে দিতে পারেন। দয়া করে কিছু একটা করুন এক্ষুনি। আশা করে রইলাম তাড়াতাড়ি করে আপনি আমাকে কিছু জানাবেন।

    শুভেচ্ছা এবং শ্রদ্ধা নিবেদন-সহ
    আপনার জীবনানন্দ দাশ

    ————————————————————————–
    চিঠি-২

    ১৬.৪.৫৪

    আমার প্রিয় অধ্যাপক কবির,
    বিশিষ্ট বাঙালিদের ভিতর আমি পড়ি না; আমার বিশ্বাস, জীবিত মহত্তর বাঙালিদের প্রশ্রয় পাওয়ার মতনও কেউ নই আমি। কিন’ আমি সেই মানুষ, যে প্রচুর প্রতিকূলতা সত্ত্বেও প্রতিটি দ্রব্যকে সোনা বানিয়ে তুলতে চায় অথবা মহৎ কোনও কিছু – যা শেষ বিচারে একটা কোনও জিনিসের-মতন-জিনিস; – কিন্তু, ভাগ্য এমনই যে, আজ তার পেটের-ভাত জুটছে না। কিন্তু, আশা করি, একটা দিন আসবে, যখন খাঁটি মূল্যের যথার্থ ও উপযুক্ত বিচার হবে; আমার ভয় হয়, সেই ভালো দিন দেখতে আমি বেঁচে থাকব না। আপনার কথা-মতো আমি জ্যোতিবাবুর অথবা বি.সি. রায়’এর সঙ্গে এখনও দেখা করার চেষ্টা করি নি; আমার মনে হয়, আমার মতন মানুষের পক্ষে তাঁরা দূরের মানুষ। আমি যেন অনুভব করি, আপনিই আমাদের মতন লোকের জন্য এক-মাত্র মানুষ; আপনার উপর আমার গভীর আস্থা আছে। আমি সর্বদা বিশ্বাস করি যে, আপনার নিজের পরিপূর্ণ শাসনের ভিতরে আছে, এমন কোনও একটা, আমার পক্ষে মানানসই, জায়গায় আপনি আমাকে বসিয়ে দিতে পারেন; আমাকে একটা উপযুক্ত কাজ দিয়ে দেবার মতন সুযোগ-সুবিধা আপনার খুবই আছে। আমার আর্থিক অবস্থাটা এখন এতটাই শোচনীয় যে, যেকোনো একজন সকর্মক ‘অপর’ মানুষ যে-কাজ করতে পারে, কেন্দ্রীয় সরকার’এর অধীনে সে-কাজ আমারও করতে পারা উচিত। আমি মনে করি, এ-রকম একটা কাজ এক জন মানুষকে সেই সম্মানটা দিয়ে দিতে পারে, যা প্রতিটি মানুষ নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে পারলে অর্জন করে নেয়; তার বেশি আমি আর কিছু চাই না। আমার দেশ আমার অস্তিত্বের স-র-মাত্রাটার সাপেক্ষে সেই যথাযোগ্য সুযোগটা আমাকে দিক, যাতে আমি আমার ন্যূনতম জীবনযাপন নিয়ে থেকে যেতে পারি। প্রাইভেট কলেজের অধ্যাপকের কাজ ক্ষুদ্র কাজ : অধিকন্তু অন্যান্য নানা কারণেও ওই কাজটা আমি আর করতে চাই না। আমার খুবই পছন্দ তেমন কোনও একটা মানানসই কাজ, যাতে অনেকটা গবেষণা করতে হয়, লিখতে হয় এবং ভাবনা-চিন্তা করতে হয়।

    ইতি
    আপনার জীবনানন্দ দাশ

    ———————————————————————–
    চিঠি-৩

    ২৩.৪.৫৪

    প্রিয় মিস্টার কবির,
    আশা করি, ভালো আছেন। আপনি এখন খুব একটা উঁচু জায়গায় আছেন, এবং খুব সহজেই আমার জন্য কিছু-একটা করতে পারেন। আপনার নিজের ডিপার্টমেন্ট আছে। খুবই যুক্তিসঙ্গত ভাবে আপনার ডিপার্টমেন্টে কোনো এক জায়গায় আপনি আমার জন্য একটা চাকরি খুঁজে পেতে পারেন, যেমন অল-ইন্ডিয়া রেডিও আছে। আমি আপনাকে সনির্বন্ধ অনুরোধ করছি, আমাকে সাহায্য করতে এক্ষুনি আপনি যথাসাধ্য করুন, আমি খুবই অসুবিধের ভিতর আছি।

    শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ-সহ
    আপনার জীবনানন্দ দাশ

    1. ধন্যবাদ ভাই চিঠি গুলো সংগ্রহে
      ধন্যবাদ ভাই চিঠি গুলো সংগ্রহে রাখলাম!!অশেষ ধন্যবাদ ভাই :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  2. জীবনানন্দকে মাঝে-মাঝে দেখি

    জীবনানন্দকে মাঝে-মাঝে দেখি রাস্তায়।
    বলিষ্ঠ শরীর, আধ-ময়লা পাঞ্জাবি,
    আধময়লা ধুতি হাঁটুর নিচ অব্দি লেগে রয়েছে,
    পায়ে অস্পষ্ট স্যান্ডেল কি মোকাসিন,
    শুধু দু’চোখে তাঁর
    আমার ছেলেবেলার হারিয়ে-ফেলা সবুজ প্রিজম
    দু’টুকরো হ’য়ে জ্বলছে।

    শুধুই শ্রদ্ধা রইল বনলতা সেনের এই আজন্ম প্রেমিকের উদ্দেশ্যে… :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :salute:

  3. জীবনানন্দ দাস আপনি বেঁচে
    জীবনানন্দ দাস আপনি বেঁচে থাকবেন আমাদের দিন যাপনে … কবিকে স্মরন করে আপনার এই লেখাটির জন্য আপনার ধন্যবাদ প্রাপ্য – তা দিলাম ।

    1. এইবার রাহাত ভাইয়ের একটা ভুল
      এইবার রাহাত ভাইয়ের একটা ভুল পাইছি। :নৃত্য: কবির নামের টাইটেল কিন্তু দাস নয়, দাশ। দুইটার মাঝে পার্থক্য আছে।

  4. আমরা বাঙালী দাঁত থাকতে দাঁতের
    আমরা বাঙালী দাঁত থাকতে দাঁতের মর্ম বুঝি না। গুনীর কদর আমরা কখনই দেই না।

    ভাল লিখেছেন ভাই।

  5. একটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন,
    একটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন, এই আশায়
    আবার হয়তো পাড়ি জমাবে এই ধানসিঁড়িটির বাঁকে,
    কীর্তনখোলা’র পাড়ে, এই বাংলায়।

  6. চমৎকার লিখেছেন। কবির প্রয়াণ
    চমৎকার লিখেছেন। কবির প্রয়াণ দিবসে খুব করে চাচ্ছিলাম কেউ একজন লিখুক। রাতে ঢুকেই আপনার পোস্ট দেখে মন ভালো হয়ে গেলো। জীবনানন্দ দাশ আমার ওটি প্রিয় কবিদের একজন। পোস্টের জন্য ধন্যবাদ।

  7. অনবদ্য… সারাদিনে ভেঙ্গে
    অনবদ্য… সারাদিনে ভেঙ্গে ভেঙ্গে পড়া শেষ করলেও মন্তব্য করা হয়নি!!
    নিজেকে অপরাধী লাগছে! কবিতা পড়ে এমন কোন বাঙ্গালী নাই যে ‘জীবনানন্দ দাশ’এর ভক্ত না!! তিনিই একমাত্র বিশুদ্ধতম রোম্যান্টিক এবং আধুনিক কবি…

    “আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন,
    আমারে দু-দন্ড শান্তি দিয়েছিল নাটোরের বনলতা সেন ।”

    এমন কাব্যিক লাইন আর কেউ লিখবে না বাঙলায়…
    জয় জীবনানন্দ দাশ… জয় বাঙলা কবিতা…

    1. “আমি ক্লান্ত প্রাণ এক,

      “আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন, আমারে দু-দন্ড শান্তি দিয়েছিল নাটোরের বনলতা সেন ।”

      :থাম্বসআপ:

  8. অসাধারণ হয়েছে পোস্টটা,
    অসাধারণ হয়েছে পোস্টটা, ধন্যবাদ ভাই। অনেক কিছু জানা গেলো এই পোস্ট থেকে। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :গোলাপ: :গোলাপ:

  9. প্রিয় হুমায়ুন আজাদ স্যারেরও
    প্রিয় হুমায়ুন আজাদ স্যারেরও প্রিয় কবি ছিলেন ‘জীবনানন্দ দাশ’
    আসলেই তিনিই একমাত্র নির্ভেজাল প্রেমের কবি ছিলেন!!
    দেশপ্রেম, নারিপ্রেম, মানব প্রেমের কবি…
    :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: ‘জীবনানন্দ দাশ’
    আর :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: নিয়ন ভাই…

  10. ভাই লিখতে হলে অনেক কিছু লিখতে
    ভাই লিখতে হলে অনেক কিছু লিখতে হয়। কবির লেখা দুইটা লাইন লিখছি।

    যাদের হৃদয়ে প্রেম নেই, প্রীতি নেই, করুণার আলোড়ন নেই
    পৃথিবী আজ অচল তাদের সুপরামর্শ ছাড়া।

    অসাধারণ পোস্ট। :bow: :bow: :bow:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *