মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি…লালন।


১৭৭৪ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি অধিকৃত ভারতবর্ষের রাজধানী হয় কলকাতা। ঠিক একই বছরে স্যার জোসেফ প্রিস্টলি নামের এক ধর্ম যাজক অক্সিজেন আবিস্কার করে পৃথিবীকে চমকে দেন। অধিকাংশ লালন গবেষকদের মতে এই বছরেই (১৭ অক্টোবর ১৭৭৪) তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার (বর্তমান বাংলাদেশের) যশোর জেলার ঝিনাইদহ মহকুমার হরিশপুর গ্রামে জন্ম হয় এক নবজাতক শিশুর। এই শিশুটিই পরবর্তীকালে হয়ে উঠেন আধ্যাত্মিক বাউল সাধক, মানবতাবাদী, সমাজ সংস্কারক, দার্শনিক এবং অসংখ্য অসাধারণ গানের গীতিকার,সুরকার ও গায়ক। যার নাম ফকির লালন,লালন সাঁই,বা লালন শাহ (জন্ম ১৭৭৪- মৃত্যু অক্টোবর ১৭, ১৮৯০)।আজ তার ১২৩ তম মৃত্যু বার্ষিকী।

ফকির লালন শাহ এর জন্মতারিখ নিয়ে বিভিন্ন জনের বিভিন্ন মতভেদ রয়েছে।তার জন্ম তারিখ নিয়ে এযাবতকালে সঠিক কোন তথ্যও পাওয়া যায়নি।কেউ কেউ মনে করেন লালন সাঁইয়ের জন্ম ১৭৭২ সালের ১৪ অক্টোবর। তবে অধিকাংশ গবেষকগণ মনে করেন ১৭৭৪ সালের ১৭ অক্টোবর এই মরমী কবি সাধক ফকির লালন শাহের জন্ম হয়।লালনের জন্ম আসলে কোথায় তা নিয়েও রয়েছে বিতর্ক । অনেক গবেষক মনে করেন লালন কুষ্টিয়ার কুমারখালি থানার চাপড়া ইউনিয়নের ভাড়ারা গ্রামে জন্মেছিলেন। আবার এ মতের ভিন্নতা আনেন অনেকেই। তাদের মতে ছেউরিয়া থেকে ২০ কি.মি. দুরের একটা গ্রাম থেকে ১৫/১৬ বছরের একটা ছেলে হারিয়ে যায় আর তাঁর জীবদ্দশায় তাঁকে তাঁর আত্মীয় স্বজন বা পরিচিতরা কেউ চিনতে পারে না, একথা বিস্ময়করভাবে অযৌক্তিক। আবার লালন সাই এর অন্যতম প্রবীণ ভক্ত পাঞ্জুশাহের ছেলে রফিউদ্দিন তার ভাবসঙ্গীত নামের গ্রন্থে লালন ফকিরের জন্ম সম্পর্কে বলতে গিয়ে যশোর জেলার হরিণাকুন্ড থানার হরিশপুর গ্রামে বলে জানান। এছাড়া ১৩৪৮ সালের মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকার আষাঢ় সংখ্যায় লালনের জন্ম যশোর জেলার ফুলবাড়ি গ্রামের একটি মুসলিম পরিবারে বলে উল্লেখ করা হয়। লালন হিন্দু না মুসলমান এনিয়ে বিস্তর মতভেদ। কারো মতে লালন কায়স্ত পরিবারের সন্তান যার পিতা মাধব এবং মাতা পদ্মাবতী। পরে লালন ধর্ম পরিবর্তন করেন। গবেষকদের একাংশ মনে করেন লালন মুসলিম তন্তুবায় পরিবারের সন্তান। পিতা দরিবুল্লাহ দেওয়ান, মাতার নাম আমিনা খাতুন। মূলত লালনকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করে গবেষকরা নানান সময়ে হিন্দু বা মুসলমান বানানোর চেষ্টা করেছেন। লালনের জন্ম সম্পর্কে আজো পর্যন্ত কোন সঠিক সিদ্ধান্তে পৌছানো সম্ভব হয়নি।

লালনের জীবন জিজ্ঞাসা-

মানুষে মানুষে ভেদাভেদ বুঝাতে গিয়ে লালন সমগ্র মানুষকে অখন্ড জ্ঞান করেছেন। জাত পাতের তোয়াক্কাহীন লালনের কাছে সব মানুষই সমান। জন্মের কারণে কেঊ হিন্দু, কেউ মুসলমান সকলই একই সৃষ্টার মানুষজীব। নদীর জলের যেমন কোন আলাদা জাত নেই। ব্রাহ্মণ চন্ডাল চামার মুচি সকলেই তো এক জলেতেই শুচি হয়। জলতো কাউকে ভেদাভেদ করে না।

ফকির লালন জীবনভর সন্ধান করেছেন অচিন পাখিকে। এই অনুসন্ধান করতে গিয়ে তিনি দার্শনিকের মতো পদে পদে প্রশ্ন করেছেন। এ পর্যন্ত সংগৃহীত গানগুলোকে সংখ্যাগত দিক থেকে বিবেচনা করলে দেখা যায় গড়ে পাঁচ গানের মধ্যে কমপক্ষে একটি প্রশ্ন সংবলিত গান আছে। কি-কেন-কোথায়-কে বোঝে-কি আইন-কিরূপ-কি আজব-কি কালাম, কে বোঝে-কি সন্ধান-কোন দেশে-কোন সাধনে-কে ভাষায়-কোন রসে-কার ভাবে-কমনে-কতদিন করি-কি বলিসগো তোরা-কোন কলে-ইত্যাদি নানা কায়দায় ঘুরে ঘুরে লালন সংখ্যাতীত প্রশ্ন তুলেছেন। যার ফলে লালনের গানগুলো পড়তে গেলে এক ধরনের ধন্ধে পড়তে হয়। তাছাড়া প্রশ্ন করার পাশাপাশি তিনি নিজেও সে প্রশ্নের উত্তর করেননি বা কি করতে হবে তাঁর বিস্তারিত ব্যাখ্যা বা নির্দেশনা দেননি। লালনের গানের এই প্রশ্ন বিষয়ে ফকির সারাফাত শাহের বক্তব্য হলো- ‘লালনের গানতো গান নয়, এটা হলো জ্ঞান-আদ্যকথা। আর আদ্যকথা মানে অর্ধেক কথা-সব বোঝা যাবে না, বুঝে নিতি হবি’। শর্টহ্যান্ড না জানলে শর্টকথা বোঝা যাবে না’।

ফলে লালনের গানকে একনাগাড়ে বিশ্লেষণ করতে গেলে বহুমাত্রিক মনোভাব নেমে আসে। নানাবিধ ধর্মমত, প্রেম প্রার্থনা এবং বিশ্বাস বৈচিত্র্যের সিঁড়ি বেয়ে বেয়ে তাঁর গান নেমে এসেছে মানবতার ধারায়। বহুবিধ গানে অন্তত এর কমিপ্রমাণ মেলে। যেমন ইসলামি ভাবাদর্শের গানের কথাই ধরা যাক:

এলাহি আল মিনগো আল্লাহ বাদশা আলামপানা তুমি
তুমি ডুবাইয়ে ভাসাইতে পারো, ভাসাইয়ে কিনার দাও কারো
তাইতে তোমায় ডাকি আমি, বাদশা আলমপানা তুমি।

আল্লাহ বিশ্বাসের গানগুলোর পাশাপাশি নবীতত্ত্বের গানগুলোকে বিচার করলে লালনকে প্রাথমিকভাবে একজন ধর্মপ্রাণ মানুষ বলেই মনে হয়।

রাসূল রাসূল বলে ডাকি
রাসূল নাম নিলে বড় সুখে থাকি ।।

কোথাও আবার স্রষ্টার দয়া পেতে তিনি নুহুনবী এবং নিজাম আউলিয়ার উপমা এনে মিনতি করেছেন ‘আমায় দয়া করো স্বামী’। তারপর পরপারের অনিশ্চিত জীবন নিয়ে ভাবতে গিয়ে তিনি আতংকিত হয়ে পড়েছেন:

নবী না মানে যারা, মোয়াহেদ কাফের তারা
আবার তারা খালাস পাবে, লালন বলে মোর কি হয় জানি।

ইসলাম ধর্মের পাশাপাশি লালন সনাতন হিন্দুধর্মের বিভিন্ন চরিত্র ও গুণাগুণ বিশ্লেষণ করেও নানাবিধ গান রচনা করেছেন। তাঁর গানে উঠে এসেছে নিমাই কানাই গৌরচাঁদ গৌরপ্রেম রাধাকৃষ্ণ ভারতি গোসাইসহ নানাজন। বৈষ্ণব সহজিয়া তথা চৈতন্যদেবের সাধনার পথ ধরে তিনি বেঁধেছেন গোষ্ঠলীলা, কৃষ্ণলীলাঃ

অনাদির আদি শ্রীকৃষ্ণনিধি
তার কি আছে কভু গোষ্ঠখেলা

কলিজীবের মুক্তির জন্য তিনি দয়াল নিতাইয়ের করুণা পেতে চেয়েছেন এবং সেই দয়ালচাঁদকে স্মরণে রেখে হরিনাম তরণি নিয়ে ভবতুফান পাড়ি দিতে বলেছেন:

হরিনাম তরণি লয়ে
ফিরছে নিতাই নেয়ে হয়ে
এমন দয়ালচাঁদকে পেয়ে
স্মরণ কেনে নিলেনা।

পক্ষান্তরে ধর্ম বিশ্বাসের নিগূঢ়তত্ত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে লালন আবার সংশয়বাদীর মতো প্রশ্নও তুলেছেন। একযুগে অবতীর্ণ কেতাব কেন অন্যযুগে হারাম হয়ে যায়। প্রশ্নবাণে লালন জর্জরিত হয়ে যান:

কী কালাম পাঠালেন আমার সাঁই দয়াময়
একেক দেশে একেক ভাষা
কয় খোদা পাঠায়।।

জীবের গতি মুক্তি কে করে, জীব মরে যায় কোন শহরে। রাম নারায়ণ কিংবা গৌর হরি সকলেইতো গর্ভজাত। গর্ভধারিত হয়ে যারা ভবে এসে তৎকালীন সমাজ কর্তৃক অবতাররূপে আরোপিত হয়েছেন তাদের কথা ভাবতে ভাবতে গৌরপ্রেমে মুগ্ধ লালন অনিশ্চিত হয়ে পড়েন। কাকে ঈশ্বর গণ্য করবেন তিনি, কার হাতে লালন তুলে দেবেন তাঁর জীবনভার-

রাম নারায়ণ গৌর হরি
ঈশ্বর যদি গণ্য করি
তারাও সব গর্ভধারী
জীবের ভার দিই কারে।।

মানুষই মাটি দিয়ে পুতুল বানিয়ে নাচায় এবং মানুষই সেই পুতুলকে মারে, বাঁচায়। এরকম নশ্বর পুতুলকেই আবার মানুষ ঈশ্বর জ্ঞানে আরাধনা করে। রূপক মাটির পুতুলকে উপস্থাপন করে যারা স্বরূপে স্বয়ং হতে চান তাদের এহেন মনোভাবকে লালন মিছে কর্ম বলে মন্তব্য করেন:

মাটির পুতুল গড়ে নাচায়
আপনি মারে আপনি বাঁচায়
তাই জেনে স্বয়ং হতে চায়
লালন কয় তাঁর সকল মিছে।।

ভবে এসে লালন ভাবতে বসেছেন। ধর্মমতের বারোতালের মধ্যে পড়ে এলোমেলো হয়ে যায় তাঁর ভাবনাগুলো। কোন দিকে যাবেন, কার কথা শুনবেন! পথের খোঁজে লালন দিশেহারা হয়ে যান-

ভবে এসে ভাবছি বসে
হারা হলাম বুদ্ধি বল
বারো তার উদয় হলো
আমি নাচি কোন তাল।।

গানগুলোকে ঢালাওভাবে সাজাতে গেলেও শ্রেণীগত ফাঁপরের পাশাপাশি নানানভাবে ধর্মমতের সংকটে পড়তে হয়। কলির ঘোরে ঘুরে ঘুরে লালনও এক সময় অনিশ্চিত হয়ে পড়েন:

না হলো শরিয়তি
না হলো মারফতি
লালন বলে কলিকালে
হতে হবে খোতনার হাল।।

কবি আব্দুল কাদির ‘সূফি ও বাউল পদাবলী’ গ্রন্থে সেকারণেই হয়তো সিরাজ সাঁই, ফকির লালন কিংবা দুদ্দুশাহের মতো মরমিয়াপন্থীদেরকে দ্বৈত্যবাদী বলে আখ্যা দিয়েছেন। বাউল গবেষক প্রফেসর এনামুল হকের মতো কেউ কেউ আবার মিশ্রিতভাবে না গিয়ে বাউল এবং তাদের সাধনাকে শুধুই সূফিমানদণ্ডে বিচার করেছেন। কারো মতে বাউলসাধনায় সূফিবাদ এবং বৈষ্ণববাদের মিশ্রণ ঘটায় ধারাটি স্বতন্ত্র হয়ে পরিচিত হতে পারেনি। গবেষণার তারতম্যে নানা মতামত বেরিয়ে আসলেও মুসলমান সাধকেরা আল্লাকেই সঙ্গী হিসেবে বেছে নেন। তাঁর সান্নিধ্য লাভই তাদের একমাত্র বাসনা আর মোহাম্মদ (সঃ) তাদের কাছে শ্রেষ্ঠ পুরুষ। অন্যদিকে হিন্দু শিষ্যরা রাধা-কৃষ্ণের প্রেমকে অবলম্বন করে ভগবানের আরাধনা করেন এবং চৈতন্যদেবকে তাদের আদি গুরু মনে করেন।

প্রত্যেক ধর্মে যেমন ধর্মানুসারীদের জন্য পূর্ণাঙ্গ জীবনাচার প্রক্রিয়া থাকে, লালনের সাধনধর্মে তেমনটা লক্ষ্য করা যায় না। বাউলবাদে জীবনধারা সুনির্দিষ্ট নয়। তাছাড়া গুরুভেদে শিষ্যদের করণকার্যেরও পার্থক্য আছে। ফলে অনুসারীদের সৎকার প্রক্রিয়া, প্রার্থনারীতি, জীবনপথকে স্বতন্ত্রভাবে একটা ঐক্যতানে আনা যায় না। লালনদর্শনের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হিসেবে অনেকেই যে বিষয়টিকে বেশি করে টেনে আনতে চান তাহলো-জন্মান্তরবাদ।

পিতার জন্মে পুত্রের সৃজন
তাইতে পিতার পূণর্জনম।

লালন তথা বাউলরা বিশ্বাস করেন জন্মই জীবাত্মাকে পৃথিবীতে আটকে রাখে। ফলে আত্মা পৃথিবীতেই রয়ে যায়। আত্মার মুক্তি হয় না। শুক্রকেই সাধুরা গুরুবস্তু জ্ঞান করেন এবং অনেকে এও মনে করেন যে রতি থেকে রুহু সৃষ্টি হয় আর রুহুই জান। বাউলদের বিশ্বাস পিতার বীজের মাধ্যমে সন্তান উৎপাদিত হলে পিতার আত্মা সন্তানে প্রবাহিত হয়ে দ্বিখন্ডিত হয়ে যায়। দ্বিখন্ডিত আত্মা নিয়ে যেহেতেু খোদার নৈকট্য লাভ করা যায় না সেকারণে বাউলরা সন্তান উৎপাদন থেকে বিরত থাকেন। জন্ম কারবারে যাতে যেতে নাহয় সেজন্য তাঁরা বিশেষ কায়দায় স্ত্রী আচার করেন। তাদের মধ্যে বিবাহপ্রথা নেই বরং আছে মালাবদলের প্রক্রিয়া। সাধুর সঙ্গিনীরা তাই স্ত্রী হয় না; হয় সেবাদাসী। সেবাদাসী রতির ব্যবহার এবং নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে বলেই তার এই নামকরণ। সে যাই হোক, লালন নিজে যেমন নিঃসন্তান ছিলেন তেমনি তাঁর ডাইরেক্ট ভক্ত শিষ্যদের দু’একজন বাদে প্রায় সকলেই নিঃসন্তান ছিলেন।

যদিও বাউলধর্মে আসার পর কেউ কেউ অনিচ্ছায় সন্তান গ্রহণ করে থাকেন বটে কিন্তু খেলাফত নেবার পর আর সন্তান নেয় না। যেমন মিরপুর থানার বয়স্ক মোছাব ফকির তো আলাপকালে তাঁর স্ত্রী এবং সেবাদাসীর সামনেই আফসোস করে উঠলেন-আগে জানতে পারলে বিয়েই করতাম না। জন্মান্তরবাদের এরকম ধ্যানজ্ঞান সম্পর্কে সাধারণ মানুষতো বটেই, একান্ত লালন ভক্তরাও যুক্তি মেনে বিতর্ক তোলেন। তাদের বক্তব্যে একধরনের অভিমানের সুর ওঠে ‘জন্মকে বাদ দেয়া মানেতো নিজের জন্মকেই অস্বীকার করা। লালন নিজের জন্মটাকে মেনে নিলেন কিন্তু পরের জেনারেশনটা মানছেন না কেন? কিংবা একযোগে বাউলসমাজের সকলেই যদি জন্মকারবারে না যায় তাহলেতো একসময় কোন বাউলই আর থাকবে না। তাছাড়া প্রকৃতিগতভাবে জন্মকে অস্বীকার করার কোন কায়দা নাই। জন্ম বন্ধ হলেতো মানুষ বন্ধ হয়ে যাবে। মানুষ বন্ধ হলেতো আর কিছু থাকে নাণ্ড ইত্যাদি নানা উপমা দিয়ে তর্ক ওঠে। আসলে লালনকে নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন এবং রহস্যের শেষ নেই।

লালনগানের মধ্যে প্রকাশিত বিশ্বাসের বহুমাত্রিকতা এবং অনুসারীদের আচারগত পথ পদ্ধতির আপাত ভিন্নতা থাকলেও লালন মূলতঃ মানুষকে অবলম্বন করেই মানুষের সৃষ্টিকর্তার প্রতি প্রার্থনায় ঋজু হতে বলেছেন যা লালনের পরম ঈশ্বরবাদী মনোভাবকেই প্রকাশ করেছে।

খোদার অপার দুনিয়ায় কেউ আলাদা নয়। সুন্নত দিয়ে পুরুষ মুসলমানদের বোঝা গেলেও নারীলোকের ক্ষেত্রে বোঝার উপায় কি? অন্যদিকে হিন্দুধর্মে ব্রাহ্মণদের যেমন পৈতা দিয়ে চেনা যায় কিন্তু ব্রাহ্মণী চেনার কোন কায়দা নাই!

যখন তুমি ভবে এলে
তখন তুমি কি জাত ছিলে
কি জাত হবা যাবার কালে
সেই কথা কেন বলোনা।।

সেকারণে জাতের পরিচয় বিলুপ্ত করে লালন মানুষ নামের কাতারে দাঁড়াতে চেয়েছেন:

যেজন গুরুর দ্বারে জাত বিকিয়েছে।
তার কি আর জাতের ভয় আছে।।

লালন বারে বারে মানুষকে ভজতে বলেছেন। মানুষের সাথে গাঁথা আছে মানুষ। মানুষকে ভক্তি ভালোবাসা না দিলে কোন সাধনই সিদ্ধ হয় না। সহজ মানুষের মধ্যেই বসবাস করেন দয়াময়:

মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি।
মানুষ ছাড়া ক্ষ্যাপারে তুই মূল হারাবি।।

কোথায় আছে মনের মানুষ? মনের মানুষের খোঁজে নিঃসঙ্গ লালন হেঁটে যায়। মিলনের গানে জ্বলে ওঠে আত্মার আগুন। সে আগুনে পুড়ে পুড়ে মুগ্ধ লালন মজে যায় অপার প্রেমে:

আছে যার মনের মানুষ তোলা
অতি নির্জনে বসে সে করছে খেলা।।

এতো ভিড়ের মধ্যে থেকেও মানুষ বড়ো একা। একাকী মানুষের মনের মানুষ এই দয়াময়। লালন বুঝি জানতেন সেই একাকী মানুষের মনের বেদনা:

কেন খুঁজিস মনের মানুষ
বলে সদায়।
এবার নিজ আত্মা যেরূপ আছে
দেখ সেই রূপেতে দীন দয়াময়।।

যিনি পরমাত্মা তিনিই ঈশ্বর তিনিই আল্লাহ। যে নামেই ডাকা হোক না কেন তিনি একজন। সেই একজন মানুষের মধ্যেই বিরাজ করেন। তাই মানুষ ভজলেই অটল রূপের মনের মানুষের সন্ধান মেলে। মানুষকে নিয়েই লালনের যত গান। লালনের বিশ্বাস মানুষকে ভালোবাসলে স্রষ্টাকে ভালোবাসা হয়। তদ্রূপ মানুষকে ভজনা করলে স্রষ্টাকেই ভজনা করা হয়। সেকারণে তিনি সর্বপ্রকার সাধনসিদ্ধির জন্য মানুষগুরু’র প্রতি নিষ্ঠাবান হতে বলেছেন:

সহজমানুষ ভজে দেখনারে মন দিব্যজ্ঞানে
পাবিরে অমূল্য নিধি বর্তমানে।।
ভজ মানুষের চরণ দু’টি
নিত্য বস্তু পাবি খাঁটি।।

শুধুমাত্র জন্ম, জন্মস্থান, জন্মবর্ণ এবং জন্মকালের কারণে একটা মানুষ থেকে আরেকটা মানুষ আলাদা হতে পারে না বরং যেখানে যখন যে বর্ণেই একটা মানুষজীব জন্মলাভ করে তাঁর একজন সৃষ্টিকর্তা থাকেন-যিনি আমার আপনার সকলের।

সেসব কথা ভাবলে লালন কিংবা তাঁর ধর্মদর্শনকে এক ঈশ্বরবাদী মিশ্র প্রকৃতির মানবতাবাদী লোকদর্শন বলেই মনে হয়।

লালনের ধর্মবিশ্বাস সম্পর্কে উপন্যাসিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বলেছেন,

‘‘লালন ধার্মিক ছিলেন, কিন্তু কোনোও বিশেষ ধর্মের রীতিনীতি পালনে আগ্রহী ছিলেন না। সব ধর্মের বন্ধন ছিন্ন করে মানবতাকে সর্বোচ্চ স্থান দিয়েছিলেন জীবনে।

লালনের পরিচয় দিতে গিয়ে সুধীর চক্রবর্তী লিখেছেন,

‘‘কাঙাল হরিনাথ তাঁকে জানতেন, মীর মশাররফ চিনতেন, ঠাকুরদের হাউসবোটে যাতায়াত ছিল, লেখক জলধর সেন বা অক্ষয় কুমার মৈত্রেয় তাঁকে সামনাসামনি দেখেছেন কতবার, গান শুনেছেন, তবু জানতে পারেননি লালনের জাতপরিচয়, বংশধারা বা ধর্ম।

হিতকরী পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ নিবন্ধে বলা হয়েছে , লালন তরুন বয়সে একবার তীর্থভ্রমণে বের হয়ে পথিমধ্যে গুটিবসন্ত রোগে আক্রান্ত হন। তখন তার সাথীরা তাকে মৃত ভেবে পরিত্যাগ করে যার যার গন্তব্যে চলে যায়। কালিগঙ্গা নদীতে ভেসে আসা মুমূর্ষু লালনকে উদ্ধার করেন মলম শাহ। মলম শাহ ও তার স্ত্রী মতিজান তাকে বাড়িতে নিয়ে সেবা-শুশ্রষা দিয়ে সুস্থ করে তোলেন। এরপর লালন তার কাছে দীক্ষিত হন এবং কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়াতে স্ত্রী ও শিষ্যসহ বসবাস শুরু করেন। গুটিবসন্ত রোগে একটি চোখ হারান লালন।ছেঊরিয়াতে তিনি দার্শনিক গায়ক সিরাজ সাঁইয়ের সাক্ষাতে আসেন এবং তার দ্বারা প্রভাবিত হন।এছাড়া লালন সংসারী ছিলেন বলে জানা যায়। তার সামান্য কিছু জমি ও ঘরবাড়ি ছিল। লালন অশ্বারোহনে দক্ষ ছিলেন এবং বৃদ্ধ বয়সে অশ্বারোহনের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে যেতেন।

কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের অনেকের সঙ্গে লালনের পরিচয় ছিল বলে বিভিন্ন সুত্রে পাওয়া যায়। বিরাহিমপুর পরগনায় ঠাকুর পরিবারের জমিদারিতে ছিল তাঁর বসবাস এবং ঠাকুর-জমিদারদের প্রজা ছিলেন তিনি। ঊনিশ শতকের শিক্ষিত সমাজে তার প্রচার ও গ্রহণযোগ্যতার পেছনে ঠাকুর পরিবার বড় ভূমিকা রাখেন।

কিন্তু এই ঠাকুরদের সঙ্গে লালনের একবার সংঘর্ষ ঘটে। তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের কুষ্টিয়ার কুমারখালির কাঙাল হরিনাথ মজুমদার গ্রামবার্তা প্রকাশিকা নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করতেন। এরই একটি সংখ্যায় ঠাকুর-জমিদারদের প্রজাপীড়নের সংবাদ ও তথ্য প্রকাশের সূত্র ধরে উচ্চপদস্থ ইংরেজ কর্মকর্তারা বিষয়টির তদন্তে প্রত্যক্ষ অনুসন্ধানে আসেন। এতে করে কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের ওপর বেজায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ঠাকুর-জমিদারেরা। তাঁকে শায়েস্তা করার উদ্দেশ্যে লাঠিয়াল পাঠালে শিষ্যদের নিয়ে লালন সশস্ত্রভাবে জমিদারের লাঠিয়ালদের মোকাবিলা করেন এবং লাঠিয়াল বাহিনী পালিয়ে যায়। এর পর থেকে কাঙাল হরিনাথকে বিভিন্নভাবে রক্ষা করেছেন লালন।

লালনের জীবদ্দশায় তার একমাত্র স্কেচটি তৈরী করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রাতা জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর। লালনের মৃত্যুর বছরখানেক আগে ৫ মে ১৮৮৯ সালে পদ্মায় তাঁর বোটে বসিয়ে তিনি এই পেন্সিল স্কেচটি করেন- যা ভারতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। যদিও অনেকের দাবী এই স্কেচটিতে লালনের আসল চেহারা ফুটে ওঠেনি।

লালনের গানে মানুষ ও তার সমাজই ছিল মুখ্য। লালন বিশ্বাস করতেন সকল মানুষের মাঝে বাস করে এক মনের মানুষ। তিনি সবকিছুর উর্ধ্বে মানবতাবাদকে সর্বোচ্চ স্থান দিয়েছিলেন। তার বহু গানে এই মনের মানুষের প্রসঙ্গ উল্লেখিত হয়েছে। তিনি বিশ্বাস করতেন মনের মানুষের কোন ধর্ম, জাত, বর্ন, লিঙ্গ, কূল নেই। মানুষের দৃশ্যমান শরীর এবং অদৃশ্য মনের মানুষ পরস্পর বিচ্ছিন্ন। সকল মানুষের মনে ঈশ্বর বাস করেন। লালনের এই দর্শনকে কোন ধর্মীয় আদর্শের অন্তর্গত করা যায় না। লালন, মানব আত্নাকে বিবেচনা করেছেন রহস্যময়, অজানা এবং অস্পৃশ্য এক সত্ত্বা রূপে। খাচার ভিতর অচিন পাখি গানে তিনি মনের অভ্যন্তরের সত্ত্বাকে তুলনা করেছেন এমন এক পাখির সাথে, যা সহজেই খাঁচা রূপী দেহের মাঝে আসা যাওয়া করে কিন্তু তবুও একে বন্দি করে রাখা যায় না।

লালনের সময়কালে যাবতীয় নিপীড়ন, মানুষের প্রতিবাদহীনতা, ধর্মীয় গোঁড়ামি-কুসংস্কার, লোভ, আত্মকেন্দ্রিকতা সেদিনের সমাজ ও সমাজ বিকাশের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সমাজের নানান কুসংস্কারকে তিনি তার গানের মাধ্যমে করেছেন প্রশ্নবিদ্ধ। আর সে কারণেই লালনের সেই সংগ্রামে আকৃষ্ট হয়েছিলেন বহু শিষ্ট ভূস্বামী, ঐতিহাসিক, সম্পাদক, বুদ্ধিজীবী, লেখক এমনকি গ্রামের নিরক্ষর সাধারণ মানুষও। আধ্যাত্মিক ভাবধারায় তিনি প্রায় দুই হাজার গান রচনা করেছিলেন। তার সহজ-সরল শব্দময় এই গানে মানবজীবনের রহস্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে। লালনের বেশ কিছু রচনা থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে তিনি ধর্ম-গোত্র-বর্ণ-সম্প্রদায় সম্পর্কে অতীব সংবেদনশীল ছিলেন। ব্রিটিশ আমলে যখন হিন্দু ও মুসলিম মধ্যে জাতিগত বিভেদ-সংঘাত বাড়ছিল তখন লালন ছিলেন এর বিরূদ্ধে প্রতিবাদী কন্ঠস্বর।তিনি মানুষে-মানুষে কোনও ভেদাভেদে বিশ্বাস করতেন না। মানবতাবাদী লালন দর্শনের মূল কথা হচ্ছে মানুষ। আর এই দর্শন প্রচারের জন্য তিনি শিল্পকে বেছে নিয়েছিলেন। লালনকে অনেকে পরিচয় করিয়ে দেবার চেষ্টা করেছেন সাম্প্রদায়িক পরিচয় দিয়ে। কেউ তাকে হিন্দু, কেউ মুসলমান হিসেবে পরিচয় করাবার চেষ্টা করেছেন। লালনের প্রতিটি গানে তিনি নিজেকে ফকির ( আরবি “সাধু”) হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।

লালন সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেনঃ

“লালন ফকির নামে একজন বাউল সাধক হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, জৈন ধর্মের সমন্বয় করে কী যেন একটা বলতে চেয়েছেন – আমাদের সবারই সেদিকে মনোযোগ দেওয়া উচিৎ।

যদিও তিনি একবার লালন ‘ফকির’ বলেছেন, এরপরই তাকে আবার ‘বাউল’ বলেছেন, যেখানে বাউল এবং ফকিরের অর্থ পারস্পরিক সংঘর্ষপ্রবণ।

বাউল একটি বিশেষ লোকাচার ও ধর্মমত। লালনকে বাউল মত এবং গানের একজন অগ্রদূত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাউল মত সতেরো শতকে জন্ম নিলেও লালনের গানের জন্য ঊনিশ শতকে বাউল গান জনপ্রিয়তা অর্জন করে। বাউল গান যেমন মানুষের জীবন দর্শন সম্পৃক্ত বিশেষ সুর সমৃদ্ধ। বাউলরা সাদামাটা জীবনযাপন করেন এবং একতারা বাজিয়ে গান গেয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়ানোই তাদের অভ্যাস। বাংলা লোকসাহিত্যের একটি বিশেষ অংশ। ২০০৫ সালে ইউনেস্কো বাউল গানকে বিশ্বের মৌখিক এবং দৃশ্যমান ঐতিহ্যসমূহের মাঝে অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্পদ হিসেবে ঘোষনা করে।

বাউলেরা উদার ও অসাম্প্রদায়িক ধর্মসাধক। তারা মানবতার বাণী প্রচার করেন। বাউল মতবাদের মাঝে বৈষ্ণবধর্ম এবং সূফীবাদের প্রভাব লক্ষ করা যায়। বাউলরা সবচেয়ে গুরুত্ব দেয় আত্মাকে। তাদের মতে আত্মাকে জানলেই পরমাত্মা বা সৃষ্টিকর্তাকে জানা যায়। আত্মা দেহে বাস করে তাই তারা দেহকে পবিত্র জ্ঞান করেন। সাধারণত অশিক্ষিত হলেও বাউলরা জীবনদর্শন সম্পর্কে অনেক গভীর কথা বলেছেন। বাউলরা তাদের দর্শন ও মতামত বাউল গানের মধ্য দিয়ে প্রকাশ করে থাকেন।

উপন্যাস

রণজিৎ কুমার লালন সম্পর্কে সেনবাউল রাজা নামে একটি উপন্যাস রচনা করেন। পরেশ ভট্টাচার্য রচনা করেন বাউল রাজার প্রেম নামে একটি উপন্যাস। ভারতের বিখ্যাত কথা সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় লালনের জীবনী নিয়ে রচনা করেন মনের মানুষ উপন্যাস। এই উপন্যাসে কোন নির্ভরযূগ্য সূত্র ব্যতরেকেই লালনকে হিন্দু কায়স্থ হিসাবে চিহ্নিত করা হরা হয়েছ, নাম দেয়া হয়েছে লালন চন্দ্র কর। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত উপন্যাস ‘গোরা’ শুরু হয়েছে লালনের গান ‘‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়’’ দিয়ে।

ছোট গল্প

১৯৩৬ খ্রীস্টাব্দে সুনির্মল বসু লালন ফকিরের ভিটে নামে একটি ছোট গল্প রচনা করেন। শওকত ওসমান ১৯৬৪ খ্রীস্টাব্দে রচনা করেন দুই মুসাফির নামের একটি ছোটগল্প।

চলচ্চিত্র-
তানভীর মোকাম্মেল এর ডকুমেন্টারি ফিল্ম অচিন পাখি।

তানভীর মোকাম্মেল পরিচালিত ও রাইসুল ইসলাম আসাদ অভিনীত চলচ্চিত্র-লালন।

মনের মানুষ চলচ্চিত্রে লালন চরিত্রে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়

লালনকে নিয়ে কয়েকটি চলচিত্র ও তথ্যচিত্র নির্মিত হয়েছে। ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে সৈয়দ হাসান ইমাম পরিচালনা করেন লালন ফকির চলচিত্রটি। শক্তি চট্টোপাধ্যায় ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে একই নামে একটি চলচিত্র নির্মাণ করেন। ম. হামিদ ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দে পরিচালনা করেন তথ্যচিত্র দ্যাখে কয়জনা যা বাংলাদেশে টেলিভিশনে প্রদর্শিত হয়। তানভীর মোকাম্মেল ১৯৯৬ সালে পরিচালনা করেন তথ্যচিত্রঃ অচিন পাখি। ২০০৪ সালে তানভির মোকাম্মেলের পরিচালনায় লালন নামে একটি চলচিত্র নির্মাণ করা হয়। এছাড়া ২০১০ এ সূনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে গৌতম ঘোষ মনের মানুষ নামে একটি চলচিত্র নির্মাণ করে যা ২০১০ খ্রিস্টাব্দে ৪১তম ভারত ফিল্ম- ফ্যস্টিভ্যালে সেরা চলচ্চিত্রর পুরষ্কার লাভ করে। উল্লেখ্য যে এই চলচ্চিত্রে লালনকে কোন উল্যেখযোগ্য সূত্র ছাড়াই হিন্দু হিসাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই চলচ্চিত্রটি অনেক সমালোচনার মুখোমুখী হয়।

কবিতা

আমেরিকান কবি এলেন গিন্সবার্গ লালনের দর্শনে প্রভাবিত হন এবং তার রচনাবলীতেও লালনের রচনাশৈলীর অনুকরন দেখা যায়। তিনি After Lalon নামে একটি কবিতাও রচনা করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেন তিনি লালনের আছে যার মনের মানুষ সে মনে এই গানে উল্লেখিত মনের মানুষ কে তা আবিস্কার করতে পেরেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি একটি কবিতাও রচনা করেন। যার কথা ছিল আমার প্রাণের মানুষ আছে প্রানে, তাই হেরি তায় সকলখানে..…

লালন সম্পর্কিত সকল সাহিত্যকর্ম, চিত্রকর্ম, নাটক, চলচিত্র ও প্রকাশনার তালিকা তুলে ধরছি ।

বইঃ
১. বসন্তকুমার পাল: মহাত্মা লালন ফকির। বঙ্গীয় পুরাণ পরিষদ, শান্তিপুর-নদীয়া, ১৩৬২।
২. শক্তিনাথ ঝাঃ লালন সাঁই এর গান। কবিতা প্রকাশ। কলকাতা ২০০৫
৩. ক্ষিতিমোহন সেন: বাংলার বাউল। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, কলকাতা, ১৯৫৪।
৪.ওয়াকিল আহমেদঃ লালনগীতি সমগ্র। গতিধারা। ঢাকা। ফেব্রুয়ারি ২০০৪
৫. উপেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য: বাংলার বাউল ও বাউল গান। ওরিয়েন্ট বুক কোম্পানী, কলকাতা, ১৩৬৪।
৬. আহমদ হোসাইন: বাউল-তত্ত্ব। কুষ্টিয়া, ১৯৬১।
৭. জাহিদ হাসানঃ লালন-অন্বেষণ। পারিজাত প্রকাশনী। ঢাকা। ফেব্রুয়ারি ২০১২
৮. ওয়াকিল আহমেদঃ লালনগীতি সমগ্র। গতিধারা। ঢাকা। ফেব্রুয়ারি ২০০৪
৯. আজাদউর রহমানঃ লালন মত লালন পথ। অন্নেষা। ঢাকা। ফেব্রুয়ারি। ২০১০
১০. ইন্দিরা দেবী: বাংলার সাধক বাউল। কলকাতা, ১৯৬২।
১১. Samir Dasgupta : Songs Of Lalon. Shahitya prakash. Dhaka. November 2007
১২. রবিশঙ্কর মৈত্রীঃ লালন শব্দকোষ। র্যাtমন পাবলিশার্স। একুশে বইমেলা ২০০৯
১৩. আনোয়ারুল করীম: বাউল কবি লালন শাহ। কুষ্টিয়া মে, ১৯৬৩। দ্বি-স: কুষ্টিয়া, জুলাই ১৯৬৬।
১৪. সোমেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়: বাংলার বাউল: কাব্য ও দর্শন। কলকাতা, ১৯৬৪।
১৫. অনুপম হীরা মন্ডলঃ ফকির লালন সাঁই। অবসর। ঢাকা।মার্চ ২০১২
১৬. মুহম্মদ আবু তালিব: লালন শাহ ও লালনগীতিকা। ১ম খন্ড। বাংলা একাডেমী, ঢাকা, আগষ্ট ১৯৬৮
১৭. মুহম্মদ আবূ তালিব: লালন শাহ ও লালনগীতিকা। ২য় খন্ড। বাংলা একাডেমী, ঢাকা, আগষ্ট ১৯৬৮
১৮. মুন্সী আব্দুল মান্নানঃ লালন শাহ্‌- বিবেচনা পুনঃবিবেচনা। গতিধারা। ঢাকা। ডিসেম্বর ১৯৯৬
১৯. আবুল আহসান চৌধুরীঃ কালান্তরের পথিক লালন। মুক্তধারা। ঢাকা। ফেব্রুয়ারি ২০১২
২০. মুহম্মদ আবূ তালিব: লালন পরিচিতি। ঢাকা, সেপ্টেম্বর ১৯৬৮।
২১. আবু ইমরা হোছাইন: জওয়াবে ইবলিস। কুষ্টিয়া, ১৯৬৮।
২২. সাইমন জাকারিয়াঃ কে তাহারে চিনতে পারে। এডর্ন পাবলিকেশন।। ঢাকা।
২৩. Dr. Harunuzzaman: Songs Of Lalon. Oitijhya. Dhaka. February 2006
২৪. ডঃ আবুল হোসেন চৌধুরীঃ লালন সাঁই- প্রসঙ্গ ও অনুষঙ্গ। সূচিপত্র। ঢাকা। ডিসেম্বর ২০০৮
২৫. ডঃ আবুল হোসেন চৌধুরীঃ লালন সাঁই। সূচিপত্র। ঢাকা। জুলাই ২০০৮
২৬. এ.এইচ.এম. ইমামউদ্দীন: বাউল মতবাদ ও ইসলাম। কুষ্টিয়া, ১৯৬৯।
২৭. খোন্দকার রিয়াজুল হক: লালন শাহের পূণ্যভূমি: হরিশপুর। যশোর, ১ কার্তিক ১৩৭৯।
২৮. ড. নুরুল ইসলামঃ লালন পদ : আমার দৃষ্টি ভঙ্গি। র্যাশমন পাবলিশার্স। ঢাকা।
২৯. আহমদ শরীফ: বাউলতত্ত্ব। বাংলা একাডেমী, ঢাকা, ফাল্গুণ ১৩৭৯ (ফেব্রুয়ারি ১৯৭৩)।
৩০. হারুনুজ্জামানঃ লালন। এডর্ন পাবলিকেশন। জানুয়ারি ২০০৭
৩১. Rabindranath Thakur: Songs of Lalon. University Press. February, 1987
৩২. ম. মনিরুজ্জামানঃ লালনবিক্ষন জীবন পত্র ও গানে। অন্নেষা। ঢাকা। ফেব্রুয়ারি ২০১২
৩৩. আবুল আহসান চৌধুরী: কুষ্টিয়ার বাউলসাধক। কুষ্টিয়া, পৌষ ১৩৮০ (জানুয়ারি ১৯৭৪)।
৩৪. ফকির জুলফিকার নিউটনঃ বাংলার বাউল ফকির। নবরাগ প্রকাশনী। ঢাকা। ফেব্রুয়ারি ২০১২
৩৫. আবুল আহসান চৌধুরী সম্পাদিত: লালন স্মারকগ্রন্থ। বাংলাদেশ জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র, ঢাকা, (মার্চ ১৯৭৪)।
৩৬. সুবোধ চক্রবর্তী: বাঙলার বাউল লালন ফকির। আদিত্য প্রকাশলয়, কলকাতা, শ্রাবণ ১৩৯৩।
৩৭. বলন কাঁইজি: লালন আধ্যাত্মিক অভিধান। সমাচার। ঢাকা। ফেব্রুয়ারি ২০১২
৩৮. ড. ফজলুল হক সৈকতঃ লালন সাঁই এর জীবন ও গান। নবরাগ প্রকাশনী। ঢাকা। ফেব্রুয়ারি ২০১২
৩৯. খোন্দকার রিয়াজুল হক সম্পাদিত: লালন সাহিত্য ও দর্শন। মুক্তধারা, ঢাকা, আগষ্ট ১৯৭৬।
৪০. তুষার চট্ট্রোপাধ্যায় সম্পাদিত: লালন স্মরণিকা। চাকদহ কলেজ, চাকদহ-নদীয়া, ১৯৭৬।
৪১. আবু ইসহাক হোসেনঃ লালনের পথ ও মত। স্কাই পাবলিশার্স। ঢাকা। ফেব্রুয়ারি ২০১২
৪২. শ্রী অনুদাসঃ লালনের সাঁইজী। র্যা মন পাবলিশার্স। ঢাকা। ফেব্রুয়ারি ২০১২
৪৩. আনোয়ারুল করীম: ফকির লালন শাহ। লালন একাডেমী, কুষ্টিয়া, ফাল্গুণ ১৩৮২ (মার্চ ১৯৭৬)।
৪৪. সৈয়দ মনসুর আহমদ: যুক্তবঙ্গে বাউল ও লালনবিষয়ক প্রবন্ধ ও তথ্যসংকলন। জাতীয় সাহিত্য প্রকাশ, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২০০৮
৪৫. ড. মোঃ আখতার হোসেনঃ লালন সঙ্গীতে আধ্যাত্মিক চেতনা। সূচয়নী। ঢাকা। জুন ২০১১
৪৬ রইসউদ্দিন আরিফঃ বাংলার ভাবান্দোলন। পাঠক সমাবেশ। ঢাকা। ফেব্রুয়ারি ২০১২
৪৭. অন্নদাশঙ্কর রায়: লালন ও তার গান। শৈব্যা পুস্তকালয়, কলকাতা, বুদ্ধপুর্ণিমা ১৩৮৫। দ্বি-মু: ফেব্রুয়ারি ১৩৮৭।
৪৮. মনিরউজ্জামান: লালনজীবনী ও সমস্যা। কুষ্টিয়া, অক্টোবর ১৯৭৮ (কার্তিক ১৩৮৫)।
৪৯. আবুল আহসান চৌধুরীঃ লালন সাঁই ও উত্তরসুরী। রোদেলা প্রকাশনী। ঢাকা। ফেব্রুয়ারি ২০১১
৫০. মুহম্মদ আবদুল বাতেন: বাছাই গান চেনা অচেনা লালন। বিশ্বসাহিত্য ভবন। ঢাকা।
৫১. মোঃ সোলায়মান আলী সরকার: বাউলদর্শন। রাজশাহী, ডিসেম্বর ১৯৮৬ (অগ্রহায়ণ ১৩৯৬)।
৫২. আবদেল মাননানঃ লালন দর্শন। রোদেলা প্রকাশনী। ঢাকা। ফেব্রুয়ারি ২০০৯
৫৩. নীলাঞ্জন রায়ঃ ফকির লালনের গান ১ম খণ্ড। সদর প্রকাশনী। ঢাকা। ফেব্রুয়ারি ২০১১
৫৪. Abu Ishahaq Hossain: Lalon Shah : The Great Poet. Palal prakashoni. Dhaka. 2009
৫৫. দিলীপ বিশ্বাস: লালন সংগীত [অখণ্ড]।মম প্রকাশ। ঢাকা।
৫৬. সনৎকুমার মিত্র: লালন ফকির : কবি ও কাব্য। সাহিত্য প্রকাশ, কলকাতা, ঝুলনযাত্রা ১৩৯৬।
৫৭. ড. মোঃ আবদুল করিম মিঞাঃ বাউল-লালন পরিভাষা। নবযুগ প্রকাশনী। ঢাকা।
৫৮. মোমেন চৌধুরীঃ লালন বিষয়ক রচনাপঞ্জি। বাংলা একাডেমী।
৫৯. Anwarul Karim: The Bauls of Bangladesh. Lalon Academy, Kushtia, January 1980.
৬০. মুহম্মদ আবদুল হাই: লালন শাহ ফকির। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ঢাকা, মে ১৯৮০ (জ্যৈষ্ঠ ১৩৮৭)।
৬১. শারমিন খানঃ লালন গীতি সমগ্র। বর্ণবিচিত্রা। ঢাকা।
৬২. এস.এম. লুৎফর রহমান: লালন শাহ্ঃ : জীবন ও গান। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী নভেম্বর ১৯৮৩ (
৬৩. আনোয়ারউল করিম: লালনের গান। লালন একাডেমী, কুষ্টিয়া, ১৯৮৪।
৬৪. ইমাম আহমেদঃ লালনের গান: আধ্যাত্মিকতার স্বরূপ। সদর প্রকাশনী। ঢাকা।
৬৫. শান্তিময় ঘোষাল: লালন ফকির। কলকাতা, ২৫ বৈশাখ ১৩১১ (৮মে ১৯৮৪)।
৬৬. খসরু পারভেজঃ আমাদের বাউল কবি ফকির লালন শাহ। বাংলাপ্রকাশ। ঢাকা।
৬৭. Haroonuzzaman: Lalon /লালন Enlarged(Selected Lalon Songs Tran. into English)। অ্যাডর্ন পাবলিকেশন্স। ঢাকা।
৬৮. লুতফর রহমানঃ লালন জিজ্ঞাসা। সেপ্টেম্বর ১৯৮৪
৬৯. আব্দেল মান্নানঃ লালন ভাষা অনুসন্ধান ১। রোদেলা। ঢাকা। ফেব্রুয়ারি ২০০৮
৭০. আব্দেল মান্নানঃ লালন ভাষা অনুসন্ধান ১। রোদেলা। ঢাকা। মার্চ ২০০৯
৭১.Charles Capwell: The Music of the Bauls of Bengal. Kent State University Press, U.S.A. 1986.
৭২. নিগূরানন্দঃ লালন ফকিরের আয়না। সাহিত্যম। কলকাতা।
৭৩. ড. তপন বাগচীঃ প্রসঙ্গ: হাছন, লালন, রাধারমন
৭৪. চন্দন চৌধুরীঃ লালন। কথা প্রকাশ। ঢাকা।
৭৫. Pranab Bandyopadhyay: Bauls of Bengla. Firma KLM Pvt. Ltd., Calcutta, 1989.
৭৬. Abu Ishaq: Lalon Shah: The great poet. Palal prokashoni. Dhaka
৭৭. Alamgir Jalil: Mystic songs of Lalon. Sadar prokashoni. Dhaka.
৭৮. June Medaniel: The Madness of the Saints. Chicago, 1989.
৭৯. R.M. Sarkar: Bauls of Bengal. New Delhi, 1990.
৮০. আবদেল মান্নানঃ অখণ্ড লালনসঙ্গীত। রোদেলা। ঢাকা। ফেব্রুয়ারি ২০০৯। ২য় সঃ ২০১০। ৩য় সঃ এর কাজ চলছে।
৮১. নলিনীরঞ্জন পন্ডিত: বাঙ্গালার বাউল সম্প্রদায়। (কলকাতা, ১৩২৮)
৮২. সুলতানা আফরোজা জাতিভেদ প্রথা ও বাংলাদেশের বাউলসমাজ। ফোকলোর রিসার্চ ইন্সটিটিউট, কুষ্টিয়া, ১৯৮৮
৮৩. সুধীর চক্রবর্তী: গভীর নির্জন পথে। আনন্দ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা, জুলাই ১৯৮৯।
৮৪. মতিন রায়হানঃ লালন শাহ্‌। বিজ্ঞান একাডেমী। ঢাকা।
৮৫. ড. এস. এম. লুৎফর রহমানঃ লালন জিজ্ঞাসা। কাশবন প্রকাশন। ঢাকা।
৮৬. আবুল আহসান চৌধুরী: লালন শাহ। বাংলা একাডেমী, ঢাকা, মাঘ ১৩৯৬ (ফেব্রুয়ারি ১৯৯০)
৮৭. Tripti Brahma: Lalon: His Melodies. Calcutta, 15 August 1990. .
৮৮. ওয়ালিউল বারী চৌধুরী সম্পাদিত: লালন মৃত্যুশতবর্ষ স্মারকপত্র। কুষ্টিয়া, কার্তিক ১৩৯৭ (অক্টোবর ১৯৯০)।
৮৯ .সুশান্ত হালদার সম্পাদিত: লালন-প্রয়াণ শতবর্ষ স্মারকগ্রন্থ। নদীয়া, ১ কার্তিক ১৩৯৭ (১৯ অক্টোবর ১৯৯০)।
৯০. মনজুরে মওলাঃ রবীন্দ্রনাথ ও লালন। মূর্ধণ্য। ঢাকা।
৯১. হায়াৎ মামুদ: লালন সাঁই। বাংলাদেশ শিশু একাডেমী, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ১৯৯১।
৯২. খোন্দকার রফিউদ্দিনঃ ভাবসঙ্গীত। র্যাবমন। ঢাকা। জানুয়ারি ১৯৬৫। ৩য় সঃ ২০০৬
৯৩. ফকির আনোয়ার হোসেনঃ লালন সঙ্গীত [তিন খণ্ড] । কাশবন প্রকাশন। ঢাকা।
৯৪. সুধীর চক্রবর্তী: ব্রাত্য লোকায়ত লালন। পুস্ত্মক বিপণী, কলকাতা, ডিসেম্বর ১৯৯২।
৯৫. Ann-Helene Trottier: Fakir (La Quete d’un Baul Musulman). L’Harmattan, Paris, France, 2000.
৯৬. আবুল আহসান চৌধুরী: মনের মানুষের সন্ধানে। ঢাকা, ফাল্গুন ১৪০১ (ফেব্রুয়ারি ১৯৯৫)।
৯৭. মোবারক হোসেন খানঃ লালন সমগ্র। জনতা প্রকাশ। ঢাকা।
৯৮. কুমার প্রীতীশ বলঃ বাউল কবি লালন সাঁই। ন্যাশনাল পাবলিকেশন। ঢাকা।
৯৯. মিজানুর রহমান ফকিরঃ লালন সংগীতে আধ্যাত্মিক দর্শন। বিশ্বসাহিত্য ভবন। ঢাকা।
১০০. আবুল আহসান চৌধুরী: সমাজ সমকাল ও লালন সাঁই। সূচনা কালচারাল সেন্টার, কলকাতা, কার্তিক ১৪০৩ (অক্টোবর ১৯৯৬)।
১০১. জসীমউদ্‌দীন: বাউল। পলাশ প্রকাশনী, ঢাকা, ১৯৯৯।
১০২. আবুল কাশেম মুরাদঃ নির্বাচিত লালন সঙ্গীত (১০০)।সদর প্রকাশনী। ঢাকা।
১০৩. পদ্মনাভ অধিকারীঃ মহর্ষি লালন সাঁই। বিভাস। ঢাকা।
১০৪. অনুদাস (স্বপন বিশ্বাস): লালনের সাঁইজী। লোকনাথ বুক ডিস্ট্রিবিউটর, হাওড়া, (সেপ্টেম্বর ১৯৯২)।
১০৫. মুহাম্মদ, সিরাজ উদ্দিন: লালনতত্ত্বের ভূমিকা। প্রথম খন্ড। আল-ইকরা প্রকাশনী, কুষ্টিয়া, ১৯৯৭ (১৪০৪)।
১০৬. মোহাম্মদ এন্তাজ উদ্দিনঃ লালন সঙ্গীতে আত্মদর্শন। লেখকের নিজ প্রকাশনা। ঢাকা। জানুয়ারি ১৯৯৯
১০৭. ফরহাদ মজহার: সাঁইজীর দৈন্য গান। চিন্তা প্রকাশনা, ঢাকা, ফাল্গুন ১৪০৬ (ফেব্রুয়ারি ২০০০)।
১০৮. মোহাম্মদ এন্তাজ উদ্দিনঃ লালন সঙ্গীতে আত্মদর্শন। লেখকের নিজ প্রকাশনা। ঢাকা। জানুয়ারি ১৯৯৯
১০৯ . সুধীর চক্রবর্তী: বাউলফকির কথা। লোকসংস্কৃতি ও আদিবাসী সংস্কৃতি কেন্দ্র, কলকাতা, মার্চ ২০০১।
১১০. শামীম চৌধুরী শ্যামলঃ শ্রেষ্ঠ লালন সঙ্গীত। নূর-কাশেম পাবলিশার্স। ঢাকা।
১১১. শক্তিনাথ ঝা: ফকির লালন সাঁই: দেশকাল এবং শিল্প। সংবাদ, কলকাতা, ফেব্রুয়ারি ১৯৯৫।
১১২. হামিদুল ইসলামঃ নির্বাচিত লালন-গীতি। বিউটি বুক হাউস। ঢাকা।
১১৩. মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনঃ বাউল সম্রাট লালন শাহ। জনতা প্রকাশ। ঢাকা।
১১৪. কান্তি গুপ্ত ও অন্যান্য সম্পাদিত। মরমিয়া লালন। নিখিল ভারত বঙ্গসাহিত্য সম্মেলন। কলকাতা, এপ্রিল ১৯৯২
১১৫. Surathchandra Chakraborty: Bauls the Spiritul Vikings. Firma KLM Ltd. Catcutta, 1980.
১১৬. Z.A. Tofayell: Lalon Shah and the Lyrics of Padma. Dhaka, 1968. .
১১৭. তপন বাগচীঃ লালন মতুয়া লোকসংগীত অন্বেষা। কথামেলা প্রকাশন। ঢাকা।
১১৮. আবু রুশ্‌দ্ঃ লালন শাহের গান। গতিধারা। ঢাকা।
১১৯. মোমেন চৌধুরী: লালনবিষয়ক রচনাপঞ্জি। বাংলা একাডেমী, ঢাকা, আষাঢ় ১৪০২ (জুন ১৯৯৫)।
১২০. কুমারেশ ব্রহ্ম সংকলিত (তৃপ্তি ব্রহ্ম সম্পাদিত): মরমি ব্যক্তিত্ব লালন ফকির। সন্দীপ, কলকাতা, আগষ্ট ১৯৯৪।
১২১. সৈয়দা রাশিদা বারীঃ ছোটদের বাউল কবি লালন শাহ্।আফসার ব্রাদার্স। ঢাকা।
১২২. ড. আবদুল ওয়াহাবঃ লালন-হাসন : জীবন-কর্ম-সমাজ। বাংলা একাডেমী। ঢাকা।
১২৩. সুধীর চক্রবর্তী: লালন। প্যাপিরাস, কলকাতা, শ্রাবণ ১৪০৫ (আগষ্ট ১৯৯৮)।
১২৪. এস এম লুৎফর রহমান: লালন শাহ: জীবন ও গান। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী। ঢাকা।
১২৫. তৃপ্তি ব্রহ্ম: লালন পরিক্রমা। ফার্মা কে. এল. এম. প্রা. লি., কলিকাতা, প্রথম খন্ড-শিব চতুর্দশী ১৩৯৩/দ্বিতীয় খন্ড-দোলপূর্ণিমা ১৪০০ (মার্চ ১৯৯৪)/তৃতীয় খন্ড-মহালয়া ১৪০১ (অক্টোবর ১৯৯৪)/চতুর্থ খন্ড-জন্মাষ্মী ১৪০১ (আগষ্ট ১৯৯৪)।
১২৬. শফিকুর রহমান চৌধুরী সম্পাদিত: বাংলা একাডেমী সংকলন:
১২৭ মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানঃ সাধক কবি লালন : কালে উত্তরকালে। বাংলা একাডেমী। ঢাকা।
১২৮. ড. এস. এম. লুৎফর রহমানঃ লালন গীতি চয়ন (দুই খন্ড)। কাশবন প্রকাশন। ঢাকা।
১২৯. (লালন-তত্ত্ব)। বাংলা একাডেমী, ঢাকা, আষাঢ় ১৪০১ (জুন ১৯৯৪)।
১৩০. মতিন রায়হান: লালন শাহ। হাতেখড়ি, ঢাকা, জানুয়ারি ২০০২।
১৩১. খোন্দকার রিয়াজুল হক সম্পাদিত: লালন মৃত্যুশতবার্ষিকী স্মারকগ্রন্থ। লালন পরিষদ কেন্দ্রীয় সংসদ, ঢাকা, শ্রাবণ ১৩৯৯ (জুলাই ১৯৯২)।
১৩২. ডঃ ফজলুল হক সৈকতঃ লালন: চিন্তা ও কর্ম। নবরাগ। ঢাকা। ফেব্রুয়ারি ২০১২
১৩৩. ফরহাদ মজহারঃ ভাবান্দোলন। মাওলা ব্রাদার্স। ঢাকা। ফেব্রুয়ারি ২০০৮
১৩৪. আবুল আহসান চৌধুরী: লালন সাঁই: প্রসঙ্গ ও অনুষঙ্গ। সূচীপত্র, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২০০৪।
১৩৫. মানিক সরকার: লালন ফকির: তাঁর গান ও মেলা। লোককৃতি প্রকাশন, কলকাতা, কার্তিক ১৩৯৮ (১৯ অক্টোবর ১৯৯১)।
১৩৬. আবদেল মান্নানঃ গোষ্ঠে চলো হরি মুরারি। (গীতিনৃত্যনাট্যায়ন)। জিনিয়াস পাবলিশার্স। ঢাকা। ফেব্রুয়ারি ২০১২
১৩৭. সুধীর চক্রবর্তী সম্পাদিত: বাংলার বাউলফকির। পুস্তক বিপণী, কলকাতা, ডিসেম্বর ১৯৯৯।
১৩৮. মৃদুল কান্তি চক্রবর্তীঃ বাউল কবি লালন ও তার গান। শিখা প্রকাশনী। ঢাকা
১৩৯. সনৎকুমার মিত্র সম্পাদিত: বাউল লালন রবীন্দ্রনাথ। লোকসংস্কৃতি গবেষণা পরিষদ, কলকাতা। ফেব্রুয়ারি ১৯৯৫।
১৪০. R.M. Sarkar: Bauls of Bengal: In the Quest of Man of the Heart. Gian Publishing House, New Delhi, 1990. .১৪১. সোলায়মান আলী সরকার: বাংলার বাউলদর্শন। বাংলা একাডেমী, ঢাকা, পৌষ ১৩৯৯ (ডিসেম্বর ১৯৯২)।
১৪২. সোলায়মান আলী সরকার: লালন শাহের মরমি দর্শন। বাংলা একাডেমী, ঢাকা, আষাঢ় ১৪০১ (জুন ১৯৯৪)।
১৪৩. Sudhansumohan Bandyopadhyay: Baul Songs of Bengal. United Writers, calcutta. 1976.
১৪৪. নুরল ইসলাম: লালন পদ: আমার দৃষ্টিভঙ্গি। র্যাcমন পাবলিশার্স, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২০০৬।
১৪৫. শক্তিনাথ ঝা: বাউল-ফকির ধ্বংসের আন্দোলনের ইতিবৃত্ত। সুবর্ণরেখা, কলকাতা, ১৪০৮।
১৪৬. খোন্দকার রিয়াজুল হক: মরমী কবি লালন শাহ: জীবন ও সঙ্গীত। বাংরা একাডেমী, ঢাকা, আষাঢ় ১৪০৬ (জুন ১৯৯৯)।
১৪৭. বিকাশ চক্রবর্তী: বাউলজীবনের সমাজতত্ত্ব। প্রগ্রেসিভ পাবলিশার্স, কলকাতা, ফেব্রুয়ারি ২০০৩।
১৪৮. শক্তিনাথ ঝা: বস্তুবাদী বাউল। লোকসংস্কৃতি ও আদিবাসী সংস্কৃতি কেন্দ্র, কলকাতা, ১৯৯৯।
১৪৯. সুনীতিকুমার পাঠক: বাউল খোঁজে মনের মানুষ। অর্পিতা প্রকাশনী, কলকাতা, ১৯৯৭।
১৫০. করুণাপ্রসাদ দে: বাউল পদ্মার বাঁকে বাঁকে। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য লালন মেলা সমিতি, নদীয়া, বৈশাখ ১৪১৩ (মে ২০০৬)।
১৫১. পরেশ কর্মকার: লালন গান ও মানবতাবাদ। জাতীয় সাহিত্য প্রকাশন ট্রাষ্ট, কলকাতা, ২০০৪।
১৫২. আবুল আহসান চৌধুরী: লালন সাঁইয়ের সন্ধানে। পলল প্রকাশনী, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২০০৭।
১৫৩. ড. ফজলুল হক সৈকতঃ লালন সাঁই এর জীবন ও গান। নবরাগ প্রকাশনী। ঢাকা। ফেব্রুয়ারি ২০১২
১৫৪. মোস্তাক আহমাদঃ লালন ভেদের গোপন। সালমা বুক ডিপো। ঢাকা। ফেব্রুয়ারি ২০১১
১৫৫. নিগূঢ়ানন্দ: লালন ফকিরের আয়না। সাহিত্যম, কলকাতা, মহালয়া ১৪১৪।
১৫৬. হামিদুল ইসলামঃ লালন-গীতি সমগ্র। বিউটি বুক হাউস। ঢাকা।
১৫৭. সৈয়দ মনসুর আহমদ: যুক্তবঙ্গে লালনচর্চার ক্রমবিকাশ। জাতীয় সাহিত্য প্রকাশ, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২০০৮।
১৫৮. অধ্যাপক হারুনুজ্জামানঃ লালন (বাংলা বাউল সিরিজ-১)। অ্যাডর্ন পাবলিকেশন। ঢাকা। ফেব্রুয়ারি ২০১১

জীবনী ভিত্তিক উপন্যাস
১. রণজিৎ কুমারঃ সেনবাউল রাজা। মোহন লাইব্রেরী, কলকাতা, ১০ শ্রাবণ ১৩৭৩।
২. পরেশ ভট্টাচার্যঃ বাউলরাজার প্রেম। নিউ বেঙ্গল প্রেস প্রাঃ লিঃ, কলকাতা, ২৩ জানুয়ারি ১৯৮৬।
৩. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ঃ মনের মানুষ। আনন্দ পাবলিশার্স প্রাঃ লি. কলকাতা, ডিসেম্বর ২০০৮।

জীবনী ভিত্তিক নাটক-

১. আসকার ইবনে শাইখঃ লালন ফকির। সাতরং প্রকাশনী, ঢাকা, ১৯৬৯।
২. মন্মথ রায়ঃ লালন ফকির। সংহতি:কলকাতা, শারদীয়া ১৩৭৮ (৩৮ বর্ষ ৬ সংখ্যা)।
৩. দেবেন্দ্রনাথ নাথঃ সাঁই সিরাজ বা লালন ফকির। ডায়মন্ড লাইব্রেরী, কলিকাতা, ১৩৭৯।
লালন ফকির নামে বাংলাদেশে প্রকাশিত, দ্বি-স: ১৯৭৩
৪. পান্থ শাহরিয়ারঃ বারামখানা। নির্দেশনাঃ ত্রপা মজুমদার। ঢাকা। ২০১০ (অপ্রকাশিত)
৫. রণজিৎকুমার সেনঃ বাউলরাজা। চিত্রিতা: কলকাতা, ১৩৭৫ (২৬ বর্ষ, সেপ্টেম্বর ১৯৬৮)।
নাট্যরূপ: বলাই সেন ও সুধীরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়।
৬. তৃপ্তি ব্রহ্মঃ অধীন লালন বলে…। সোদপুর, উত্তর ২৪ পরগণা, আগষ্ট ১৯৯৪।
৭. চিত্তরঞ্জন পালঃ লালন ফকির। রচনা: মানিকগঞ্জ, ১৯৮৬। বহুল মঞ্চস্থ যাত্রাপালা (অপ্রকাশিত)
৮. কল্যাণ মিত্রঃ লালন ফকির। মুক্তধারা, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ১৯৭৭। দ্বি-স: ঢাকা, সেপ্টেম্বর ১৯৮৩।

চলচিত্রে লালন
১. সৈয়দ হাসান ইমাম পরিচালিতঃ লালন ফকির। রচনা আসকার ইবনে শাইখ। ঢাকা, ১৯৭২
সংলাপ, চিত্রনাট্য, পরিচালনা ও প্রযোজনা সৈয়দ হাসান ইমাম
অভিনয় করেন চিত্রনায়ক উজ্জল, সহঅভিনেত্রী ছিলেন কবরী, আনোয়ার হোসেন।
গান গেয়েছেন আবদুল আলীম, নীনা হামিদ প্রমুখ।
২. শক্তি চট্টোপাধ্যায় পরিচালিতঃ লালন ফকির। কলিকাতা, ১৯৮৬।
৩. ম. হামিদ পরিচালিত তথ্যচিত্রঃ দ্যাখে কয়জনা। বাংলাদেশে টেলিভিশন, ১৯৮৮।
৪. গৌতম ঘোষ পরিচালিতঃ মনের মানুষ। ঢাকা, কলকাতা- ২০১০
৫. তানভীর মোকাম্মেল পরিচালিতঃ লালন। ঢাকা, ২০০৪।
৬. তানভীর মোকাম্মেল পরিচালিত তথ্যচিত্রঃ অচিন পাখি। ঢাকা, ১৯৯৬।

ছোটগল্প
১. সুনির্মল বসুঃ লালন ফকিরের ভিটে। কলকাতা, ১৯৩৬।
২. শওকত ওসমানঃ দুই মুসাফির। প্রস্তর ফলক। এ.বি. পাবলিকেশন্স, ঢাকা, আগষ্ট ১৯৬৪।

লালন সম্পর্কিত কবিতা
১. বসন্তকুমার পাল[লালন ফকির] রচনাকাল: চৈত্র ১৩২১।
মহাত্মা লালন ফকির। শান্ত্মিপুর-নদীয়া, ১৩৬২।
২. সৈয়দউদ্দীনঃ লালন। মাসিক সওগাত: আশ্বিন ১৩৩৫।
৩. শামসুর রাহমানঃ লালনের গান। রৌদ্র করোটিতে। ঢাকা, আষাঢ় ১৩৭০ (জুলাই ১৯৬৩)।
৪. আহমদ রফিকঃ লালনের সমাধি-তে। বাউল মাটিতে মন। ঢাকা, ফাল্গুন ১৩৭৭।
৫. Allen Ginsberg: After Lalon. March. 1992
৬. আল মাহমুদঃ সোনালী কাবিন (৬ষ্ঠ স্ত্মবক)। সোনালি কাবিন, ঢাকা, অক্টোবর ১৯৭৩ (আশ্বিন ১৩৮০)।
৭. মহাদেব সাহাঃ লালন থেকে ফিরে এসে। হুলিয়া (সংকলন): কুষ্টিয়া, জুন-জুলাই ১৯৮৪।
৮. আসাদ চৌধুরীঃ বিস্ময় নেই প্রতীক্ষায়। বিত্ত নাই বেসাত নাই। মুক্তধারা, ঢাকা, অগ্রহায়ণ ১৩৮৩ (নভেম্বর ১৯৭৬)।
৯. ফরহাদ মজহারঃ খোকন-প্রতিখোকন/পুরম্নষ-প্রতিপুরম্নষ কিম্বা। খোকন এবং তার প্রতিপুরম্নষ। ঢাকা, কার্তিক ১৩৭৯।
১০. মুহম্মদ নুরল হুদাঃ লালনের একতারা। জাতিসত্তার কবিতা। ঢাকা, ফাল্গুন ১৩৯৮ (ফেব্রুয়ারি ১৯৯২)।
১১. তৃপ্তি ব্রহ্ম সম্পাদিত লালন শতাব্দীর ফুল। সন্দীপ প্রকাশনী, দক্ষিণ ২৪ পরগণা, শ্রাবণ ১৩৯৯ (জুলাই ১৯৯২)।
১২. শামসুর রহমানঃ লালনের টানে। সুবর্ণরেখার আলপনা। আবুল আহসান চৌধুরী পঞ্চাশ বছর পূর্তি সংবর্ধন-গ্রন্থ। সম্পাদনা: শামসুজ্জামান খান। ঢাকা, ১৩, জানুয়ারি ২০০৩ (৩০ পৌষ ১৪০৯)।
১৩. আবুল আহসান চৌধুরীঃ লালন ফকির। স্বদেশ আমার বাঙলা। কবিকন্ঠ প্রকাশনী, কলিকাতা, ডিসেম্বর ১৯৭১।

প্রতিকৃতি ও চিত্রকর্ম-

১. জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরঃ লালন ফকীর। শিলাইদহ বোট: ২৩ বৈশাখ ১২৯৫ (৫ মে ১৮৮৯)।
২. নন্দলাল বসুঃ লালন। ১৯১৬।
৩. শহিদ কবিরঃ অসীমের সন্ধানে লালন। দৈনিক সংবাদ: ১২ মার্চ ১৯৭৮ (২৮ ফাল্গুন ১৩৮৪)।
৪. স্বপন বিশ্বাসঃ লালন ফকির। জলরং, ১২”x৬”। ১৯৭৬।

২০”। ১৯৮২।৫. স্বপন বিশ্বাসঃ আলোর দিশারী লালন। জলরং, ৩০’x
৬. স্বপন বিশ্বাসঃ লালন-মূর্তি।: মাধ্যম: কাঁঠাল কাঠ, ২০”। ১৯৮৮।
৭. লালমোহন গুড়িয়ালালন। মাধ্যম কাঁঠাল কাঠ, ২৪”। ১৯৯৭।
৮. লালমোহন গুড়িয়ালালন: আমার ঘরখানায় কে বিরাজ করে। মাধ্যম: মেহগিনি কাঠ, ৪০”।

লালনগীতির গ্রামোফোন রেকর্ড
১. মকসেদ আলী সাঁইঃ হিন্দুস্থান রেকর্ড। কলকাতা, ১৯৭১ দুটি গান।
২. মঞ্জু দাসঃ হিজ মাস্টার্স ভয়েস। কলিকাতা, ১৯৭১ । দুটি গান: একটি লালনের, অপরটি গগন হরকরার।
৩. প্রহলাদ ব্রহ্মচারী ও অমর পালঃ হিজ মাস্টার্স ভয়েস কলম্বিয়া। কলিকাতা, ১৩৮১। দুটি গান।
৪. পূর্ণদাস বাউল, আরতি মুখোপাধ্যায়, নির্মলেন্দু চৌধুরী, প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রহাদ ব্রহ্মচারী, অরুন্ধতী হোম চৌধুরী ও সবিতাব্রত দত্ত।
অবিস্মরণীয় লালন: লং প্লে রেকর্ড। রেকর্ড-কভারের পরিচিতি: অন্নদাশঙ্কর রায়। হিজ মাষ্টার্স ভয়েজ। কলিকাতা, ১৩৮২।
৫. দিনেন্দ্র চৌধুরী, পূর্ণদাস বাউল, ছবি বন্দ্যোপাধ্যায়, অনুপ ঘোষাল, মঞ্জু দাস প্রমুখ। লালন ফকিরের গান: লং প্লে রেকর্ড।
রেকর্ড-কভারের পরিচিতি: অন্নদাশঙ্কর রায়। গ্রামোফোন কোং লিঃ (হিজ মাস্টার্স ভয়েস)। কলিকাতা, ১৯৮৩।
৬. ফরিদা পারভীন। বাংলাদেশ গ্রামোফোন কোম্পানি লিমিটেড। ঢাকা, জানুয়ারি ১৯৮০। চারটি গান।
৭. ফরিদা পারভীনঃ মনের মানুষ যেখানে-লালনের গান: দীর্ঘ বাদন। শ্রোতার আসর: ঢাকা, সেপ্টেম্বর ১৯৮৪। বারোটি গান।

লালনের গান লালগীতি বা লালন সংগীত হিসেবে পরিচিত। লালন তার সমকালীন সমাজের নানান কুসংস্কার, সাম্প্রদায়িকতা, সামাজিক বিভেদ ইত্যাদির বিরুদ্ধে তার রচিত গানে তিনি একই সাথে প্রশ্ন ও উত্তর করার একটি বিশেষ শৈলি অনুসরন করেছেন। এছাড়া তার অনেক গানে তিনি রুপকের আড়ালেও তার নানান দর্শন উপস্থাপন করেছেন।

মহান মরমী সাধক লালন শাহ্‌কে মহাত্মা গান্ধীর ২৫ বছর আগেই মহাত্মা লালন উপাধি দেয়া হয়, যদিও তিনি মহাত্মা লালন নামে কম পরিচিত!!
তাঁর ১০,০০০ + গান ও কবিতা তাঁকে বাঙলার মরমী সাধনা এবং বাউল ধারার এক কিংবদন্তী করে রাখবে যতদিন বাঙলা ভাষা না এই বিশ্ব টিকে থাকবে… আমরা দেখিছি সম্প্রতি তাঁকে নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক গবেষণা হচ্ছে! তিনি কেবলই একজন বাউল নন তিনি একজন অনন্য দার্শনিকও বটে…(তারিক লিংকন ভাইয়ের মন্তব্য থেকে নতুন সংযোজন)

সমগ্র বিশ্বে, বিশেষ করে বাংলাদেশসহ সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশে লালনের গান বেশ জনপ্রিয়। স্রোতার পছন্দ অনুসারে বিবিসি বাংলার করা সর্বকালের সেরা ২০টি বাংলা গানের তালিকায় লালনের খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায় গানটির অবস্থান ১৪তম। আত্মতত্ত্ব, দেহতত্ত্ব, গুরু বা মুর্শিদতত্ত্ব, প্রেম-ভক্তিতত্ত্ব, সাধনতত্ত্ব, মানুষ-পরমতত্ত্ব, আল্লা-নবীতত্ত্ব, কৃষ্ণ-গৌরতত্ত্ব এবং আরও বিভিন্ন বিষয়ে লালনের গান রয়েছে।
লালনের গানে লালন দর্শনের সেই সকল দিক গুলোই বার বার প্রতিফলিত হয়।ভাব সুধায় মহাত্মা লালন তাইতো গেয়ে উঠেন-

মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি ।
মানুষ ছাড়া খ্যাপা রে তুই মূল হারাবি ।।

এই মানুষে মানুষ গাঁথা
গাছে যেমন আলেক-লতা
জেনে শুনে মুড়াও মাথা
ও মন যাতে তরবি ।।

দ্বিদলের মৃণালে
সোনার মানুষ উজলে
মানুষগুরু নিষ্ঠা হলে
তবে জানতে পাবি ।।

এই মানুষ ছাড়া মন আমার
পড়বি রে তুই শূন্যাকার
লালন বলে মানুষ আকার
ভজলে তারে পাবি ।।
************************
বেদ বিধির পর শাস্ত্র কানা
আর এক কানা মন আমার।
এসব দেখি কানার হাট বাজার।

পণ্ডিত কানা অহংকারে
মাতবর কানা চোগলখোরে
সাধু কানা অন বিচারে
আন্দাজে এক খুঁটি গেড়ে
চেনে না সীমানা কার।

এক কানা কয় আর এক কানারে
চল এবার ভবপারে
নিজে কানা পথ চেনে না
পরকে ডাকে বারে বার।

কানায় কানায় উলামিলা
বোবাতে খায় রসগোল্লা
লালন তেমনি মদনা কানা
ঘুমের ঘোরে দেয় বাহার।
***********************
খাঁচার ভিতর অচিন পাখি
কেমনে আসে যায়
আমি ধরতে পারলে মন বেড়ি
দিতাম পাখির পায়

আট কুঠরীর ওই দরজাটা
মধ্যে মধ্যে ঝরকা কাটা
তার উপরে সদর কোঠা
আয়না মহল তায়

কপালের খেল নইলে কি আর
পাখিটির এমন ব্যবহার
খাচা ভেঙ্গে পাখি আমার
কোনখানে পালায়

মন তুই রইলি খাচার আশে
খাঁচা যে তোর কাঁচা বাশে
কোনদিন খাচা পড়বে খশে
ফকির লালন কেঁদে কয়।
***********************
সহজ মানুষ ভজে দেখনারে মন দিব্যজ্ঞানে
পাবিরে অমূল্য নিধি বর্তমানে
ভজ মানুষের চরণ দুটি
নিত্য বস্তু হবে খাঁটি
মরিলে সব হবে মাটি
ত্বরায় এই ভেদ লও জেনে
শুনি ম’লে পাবো বেহেস্তখানা
তা শুনে তো মন মানে না
বাকির লোভে নগদ পাওনা
কে ছাড়ে এই ভুবনে
আচ্ছালাতুল মেরাজুল মোমেনীনা
জানতে হয় নামাজের বেনা
বিশ্বাসীদের দেখাশুনা
লালন কয় এই ভুবনে
*********************
জাত গেল জাত গেল বলে
একি আজব কারখানা
সত্য কাজে কেউ নয় রাজি
সবই দেখি তা না না না….
আসবার কালে কি জাত ছিলে
এসে তুমি কি জাত নিলে
কি জাত হবে যাবার কালে
সে কথা ভেবে বলো না…
ব্রাহ্মণ চন্ডাল চামার মুচি
একি জলেই সব হয় গো সুচি
দেখে শুনে হয় না রুচি
যমে তো কাউকে ছাড়বে না…
গোপনে যে বেশ্যার ভাত খায়
তাতে ধর্মের কি ক্ষতি হয়
লালন বলে জাত কারে কয়
সে ঘোরও তো গেল না…
জাত গেল জাত গেল বলে
একি আজব কারখানা…….
**************************
ধন্য ধন্য বলি তারে
বেঁধেছে এমন ঘর শূন্যের উপর পোস্তা করে

সবে মাত্র একটি খুঁটি
খুঁটির গোড়ায় নাইকো মাটি
কিসে ঘর রবে খাঁটি
ঝড়ি তুফান এলে পরে

মূলাধার কুঠুরি নয়টা
তার উপরে চিলেকোঠা
তাহে এক পাগলা বেটা
বসে একা একেশ্বরে

উপর নিচে সারি সারি
সাড়ে নয় দরজা তারি
লালন কয় যেতে পারি
কোন দরজা খুলে ঘরে

ধন্য ধন্য বলি তারে……
***************************
(আমার) বাড়ীর কাছে আর্শী নগর
সেথায় এক পড়শী বসত করে।
আমি একদিনও না দেখিলাম তারে।।
কি ব’লব সে পড়শীর কথা
(তার) হস্ত পদ স্কন্ধ মাথা
নাইরে—
সে যে ক্ষণেক থাকে শূন্যের উপর
ক্ষণেক ভাসে নীরে।।
গিরাম বেড়ে অগাধ পানি
(তার) নাই খেয়া ভাই নাই তরণী
পারে—
আমার মনের বাঞ্ছা দেখব তারে
ক্যামনে যাই ওপারে।।
পড়শী যদি আমায় ছুঁতো
(আমার) যম-যাতনা সকল….

ফরিদা পারভিন উপমহাদেশের সেরা লালন সঙ্গীত শিল্পিদের একজন। আনুশেহ আনাদিল, অরূপ রাহী, লালন ব্যান্ডের সূমী, ক্লোজ-আপ তারকা রিংকু দেশে অত্যন্ত জনপ্রিয় লালন সঙ্গীত শিল্পি। লালনের মাজারে অসংখ্য বাউল শিল্পি একতারা বাজিয়ে লালন গানের চর্চা করে থাকেন।
গানের সংগ্রহ

লালনের গান “লালনগীতি” বা কখনও “লালন সংগীত” হিসেবে প্রসিদ্ধ। লালন মুখে মুখে গান রচনা করতেন এবং সুর করে পরিবেশন করতেন। এ ভাবেই তার বিশাল গান রচনার ভান্ডার গড়ে উঠে। তিনি সহস্রাধিক গান রচনা করেছেন বলে ধারনা করা হয়। তবে তিনি নিজে তা লিপি বদ্ধ করেন নি। তার শিষ্যরা গান মনে রাখতো আর পরবর্তিতে লিপিকার তা লিপিবদ্ধ করতেন। আর এতে করে তার অনেক গানই লিপিবদ্ধ করা হয়নি বলে ধারনা করা হয়।
বাউলদের জন্য তিনি যেসব গান রচনা করেন, তা কালে-কালে এত জনপ্রিয়তা লাভ করে যে মানুষ এর মুখে মুখে তা পুরো বাংলায় ছড়িয়ে পড়ে। কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লালনের গানে প্রভাবিত হয়ে, প্রবাসী পত্রিকার ‘হারামনি’ বিভাগে লালনের কুড়িটি গান প্রকাশ করেন। মুহম্মদ মনসুরউদ্দিন একাই তিন শতাধিক লালন গীতি সংগ্রহ করেছেন যা তাঁর হারামণি গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। এ ছাড়াও তাঁর অন্য দুটি গ্রন্থের শিরোনাম যথাক্রমে ‘লালন ফকিরের গান’ এবং ‘লালন গীতিকা’ যাতে বহু লালন গীতি সংকলিত হয়েছে। জ্যোতিরিন্দ্রিনাথ ঠাকুর সম্পাদিত ‘বীণা’, ‘বাদিনী’ পত্রিকায় ৭ম সংখ্যা ২ ভাগ (মাঘ) ১৩০৫-এ ‘পারমার্থিক গান’ শিরোনামে লালনের ‘ক্ষম অপরাধ ও দীননাথ’ গানটি স্বরলিপিসহ প্রকাশিত হয়। এ পত্রিকায় ৮ম সংখ্যা ২ ভাগ (ফাগুন) ১৩০৫-এ প্রকাশিত আরেকটি লালনগীতি ‘কথা কয় কাছে দেখা যায় না’ দুটি গানেরই স্বরলিপি করেন ইন্দিরা দেবী। প্রেমদাস বৈরাগী গীত এ লালন গীতি সংগ্রহ করেছিলেন মুহাম্মাদ মনসুরউদ্দীন এবং তা মাসিক প্রবাসী পত্রিকার হারামণি অংশে প্রকাশিত হয়েছিল।
লালনের গানের কথা, সুর ও দর্শনকে বিভিন্ন গবেষক বিভিন্নভাবে উল্লেখ করেছেন। লালন গবেষক আবুল আহসান চৌধুরী বলেন, অনেক গান যাতে লালন বলে কথাটির উল্লেখ আছে তার সবই প্রকৃতপক্ষে লালনের নয়। মন্টু শাহ নামের একজন বাউল, তিন খন্ডের একটি বই প্রকাশ করেছেন যাতে তিনি মনিরুদ্দিন শাহ নামক লালনের সরাসরি শিষ্যের সংগৃহীত লালন সংগীতগুলো প্রকাশ করেছেন

লালনের আখড়া

লালন কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলার ছেঁউড়িয়াতে একটি আখড়া তৈরি করেন, যেখানে তিনি তাঁর শিষ্যদের নীতি ও আধ্যাত্মিক শিক্ষা দিতেন। তার শিষ্যরা তাকে “সাঞ’’ বলে সম্বোধন করতেন। তিনি প্রতি শীতকালে আখড়ায় একটি ভান্ডারা (মহোৎসব) আয়োজন করতেন। যেখানে সহস্রাধিক শিষ্য ও সম্প্রদায়ের লোক একত্রিত হতেন এবং সেখানে সংগীত ও আলোচনা হত। চট্টগ্রাম, রঙপুর, যশোর এবং পশ্চিমে অনেক দূর পর্য্যন্ত বাংলার ভিন্ন ভিন্ন স্থানে বহুসংখ্যক লোক লালন ফকীরের শিষ্য ছিলেন; শোনা যায় তার শিষ্যের সংখ্যা প্রায় দশ হাজারের বেশি ছিল।

মৃত্যু

১৮৯০ সালের ১৭ই অক্টোবর লালন ১১৬ বছর বয়সে কুষ্টিয়ার কুমারখালির ছেউড়িয়াতে নিজ আখড়ায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর প্রায় একমাস পূর্ব থেতে তিনি পেটের সমস্যা ও হাত পায়ের গ্রন্থির সমস্যায় ভুগছিলেন। অসুস্থ অবস্থায় দুধ ছাড়া অন্য কিছু খেতেন না। এসময় তিনি মাছ খেতে চাইতেন। মৃত্যুরদিন ভোর ৫টা পর্যন্ত তিনি গানবাজনা করেন এবং এক সময় তার শিষ্যদের কে বলেনঃ “আমি চলিলাম’’ এবং এর কিছু সময় পরই তার মৃত্যু হয়। তার নির্দেশ বা ইচ্ছা না থাকায় তার মৃত্যুর পর হিন্দু বা মুসলমান কোন ধরনের ধর্মীয় রীতি নীতিই পালন করা হয় নি। তারই উপদেশ অনুসারে ছেউড়িয়ায় তার আখড়ার মধ্যে একটি ঘরের ভিতর তার সমাধি করা হয়। আজও সারা দেশ থেকে বাউলেরা অক্টোবর মাসে ছেউড়িয়ায় মিলিত হয়ে লালনের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা নিবেদন করে। তাঁর মৃত্যুর ১২ দিন পর তৎকালীন পাক্ষিক পত্রিকা মীর মশাররফ হোসেন সম্পাদিত হিতকরীতে প্রকাশিত একটি রচনায় সর্বপ্রথম তাঁকে “মহাত্মা” হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। রচনার লেখকের নাম রাইচরণ।

লালনকে নিয়ে ১২ অক্টোবর ২০১২ দৈনিক কালের কন্ঠে প্রকাশিত একটি চমৎকার প্রতিবেদন এখানে হুবহু তুলে ধরা হল।
এই প্রতিবেদনটি অনেক অজানাকে জানার মতো করেই তৈরি করা বলেই আমার বিশ্বাস।
সকলের জন্যই এখানে প্রতিবেদনটি দেয়া হল।-

মর্মস্পর্শী মৃত্যুদৃশ্যের মধ্যে দিয়ে লালন পরলোকে গমন করেছিলেন। শিষ্যপরম্পরায় অন্তত সে রকম বর্ণনাই পাওয়া যায়- শায়িত লালন কপালের চাদর সরিয়ে শিষ্যদের শেষবার দেখে নিলেন। বললেন, ‘তোমাদের আমি শেষ গান শোনাব।’ গান ধরলেন-
পার করো হে দয়াল চাঁদ আমারে
ক্ষম হে অপরাধ আমার
এই ভব কারাগারে…
নীরবতার মধ্যেই গান থেমে গেল। কাতর কণ্ঠ তুলে তিনি কেবল উচ্চারণ করতে পারলেন- ‘আমি চললাম।’ গুটিয়ে নেওয়া চাদরের তলে চিরতরে নিথর হয়ে গেলেন মরমি সাধক। মৃত্যুদিনটি ছিল ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দের পয়লা কার্তিক। জন্ম বার জানা যায়নি। বেঁচেছিলেন ১১৬ বছর। সেই হিসাবে জন্ম সাল দাঁড়ায় ১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দ।
জীবদ্দশায় খুব বেশি প্রচার পাননি তিনি। ধর্মাধর্মের নানা ফেরে পড়ে গোপনেই চলেছে তাঁর ভজন-সাধন। প্রচলিত ধ্যানজ্ঞানের বাইরে এসে অখণ্ড মানবসমাজের কথা যাঁদের নিয়ে তিনি বলতে চেয়েছিলেন, তাঁরাও উঁচুদরের কেউ ছিলেন না। ফলে তাঁর জন্ম-বাস্তু, জাতপাত ইত্যাদি ভালো করে কিছুই জানা যায়নি। নিজেও প্রচার বৈরী ছিলেন। তা ছাড়া এমন অজপাড়াগাঁয়ে বসবাস ও কার্যকরণ ছিল যে সমকালীন লোকসমাজ কোনো দিনই তাঁর মেধাময় দিকটি খুঁজে পায়নি। মোটাদাগে বলতে গেলে রবীন্দ্রনাথই প্রথম লালনগানকে প্রাজ্ঞসমাজে এনে উপস্থিত করান। রবীন্দ্রনাথের লালনপ্রীতি ও বাউলিয়ানায় শিক্ষিত সমাজ যত দিনে লালনকে সন্ধান করতে মনোযোগী হতে শুরু করল, তত দিনে আর তিনি বেঁচে নেই।
বসন্তগ্রস্ত লালনকে পালক মা মতিজান জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘বাবা, তোমার নাম কী?’ অচেনা যুবক উত্তর দিয়েছিলেন, ‘ফকির লালন।’ জীবনভর বহুবারই এ প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। কিন্তু উত্তর একটাই- ফকির লালন। জাত-জন্মের ব্যাপারে বরাবর অভিন্ন থেকেছেন তিনি-
সব লোকে কয় লালন কী জাত সংসারে
লালন কয় জাতের কী রূপ
দেখলাম না এই নজরে
প্রকৃতপক্ষে লালন আপনিতেই পরিচয় দিতে চাননি, আমরাই বরং বারবার ধরনা দিয়েছি তাঁর কাছে। অথচ নিজ বর্ণ-পরিচয় বোঝাতে তিনি পদে পদে মূলত এক কথাই বলতে চেয়েছিলেন-
সবে বলে লালন ফকির কোন জাতের ছেলে।
কারে বা কী বলি আমি
দিশে না মেলে
প্রথম লালন জীবনীকার বসন্ত কুমার পালও ‘মহাত্মা লালন’ নিবন্ধে সে রকমই বলেছেন- ‘সাঁইজি হিন্দু কি মুসলমান, এ কথা আমিও স্থির বলিতে অক্ষম।’ কিছু কিছু মুসলমান সাধক-ফকির অবশ্য আরেক রকম যুক্তি তোলেন। তাঁদের মতে, আল্লাহর পথে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন বলেই লালন তাঁর গানে নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে ফকির লালন, অধম লালন, দরবেশ কিংবা সাঁই লালন ইত্যাদি উপাধি যোগ করেছিলেন। তবে হিন্দু সাধকরা ফকির পদের পাশাপাশি সাঁই-গোসাই ইত্যাদি পদেও তাঁকে ডেকে থাকেন। জাত উদ্ধারে যত তর্কই থাকুক না কেন, জাতবিষয়ক গানগুলো বিচার করলে যে বিষয়টি পরিষ্কার হতে থাকে তা হলো, লালন সচেতনভাবেই জাত-বর্ণ গোপন রাখতে চেয়েছিলেন। শুধু তা-ই নয়, তাঁর সহধর্মিণী বিশখা কিংবা পরিচিতজনরাও কেউ তাঁর প্রকৃত পরিচয় দিতে পারেননি। যিনি জাতের আগল ভাঙতে এসেছেন, তিনি তো লুকিয়েই রাখতে চাইবেন তাঁর জাত-কুল, লোকপরিচয়। গবেষকরাও হন্যে হয়ে অগত্যা বিবিধ মত-দ্বিমত দিয়েছেন। ফলে অচিন গাঁয়ের অচেনা লালন আমাদের কাছে আজও রহস্যময় এক সাধক পুরুষের নাম।
সমকালের হাততালি, হর্ষধ্বনি কিংবা বাহবা পেতে কাঙালের মতো হাত পেতে থাকেননি তিনি; বরং মনের আনন্দে গান ধরেছেন। সম্ভবত সে কারণেই তিনি গতানুগতিক পার্থিব মোহমুক্তি লাভ করতে সমর্থ হয়েছিলেন। তাঁর মতো করে জীবনের গভীর কথা সহজভাবে আর কেউ এ বাংলায় বলতে পারেননি। রবীন্দ্রনাথ থেকে শুরু করে আজ অবধি প্রাজ্ঞজনরা তাই বুঝি বারবার আবিষ্ট হচ্ছেন লালনে। লালন কী বিশ্বাস করতেন, কী তাঁর ধর্মমত, জীবনপ্রণালী- সব কিছুই তাঁর গানের অন্তর্গত দিব্যকথার মধ্যে বিরাজ করে।
খাঁচার ভিতর অচিনপাখি
কেমনে আসে যায়
আমি একদিনও না দেখিলাম তারে।
লালন মুখে মুখেই পদ রচনা করতেন। মনে নতুন গান উদয় হলে শিষ্যদের ডেকে বলতেন-
‘পোনা মাছের ঝাঁক এসেছে।’ তারপর গেয়ে শোনাতেন। ফকির মানিক ও মনিরুদ্দিন শাহ্ বাঁধা গান লিখে নিতেন। লিখতে গেলে তিনি হৈ হৈ করে উঠতেন- ‘লিখিস না, ছিনায় রাখ্। এসব গান লোকে জানলে সারা বিশ্বে হৈচৈ হবে। কেউ বুঝবে কেউ বুঝবে না।’ মনিরুদ্দিন শাহ্ লিখে রাখতেন। মনিরুদ্দিন নিজ হাতে কয়টা গানের খাতা লিখেছিলেন তার বিস্তারিত তথ্য সঠিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে বছর পাঁচেক আগে একটি খাতা কারিকরপাড়ার ফকির আনোয়ার হোসেন ওরফে মন্টু শাহের বাড়িতে পেয়েছিলাম। অরিজিনাল খাতাটিতে পর পর ৫৯৭টি গান আছে। মনিরুদ্দিনের হাতের লেখা পরিচ্ছন্ন। এত বড় খাতায় কোথাও তেমন কাটাকুটি হয়নি। পাণ্ডুলিপির শেষভাগে আদ্যক্ষরের বরাতে সাজানো আছে ঝকঝকে সূচিপত্র। কিছু পাতায় অবশ্য উঁই লেগেছিল; কিন্তু মন্টু খুব যত্ন করে পুরো খাতার পাতাগুলোকে লেমিনেটিং করে নিয়েছেন। খাতা দেখাতে দেখাতে মন্টু একটু হতাশ হন। তারপর বলেন, ‘খাতাটা সরকারে চাইলে কোনো যাদুঘরে দিয়ে দেব। আমি মারা গেলে তো এই খাতাও এক সময় হারাইয়া যাবে।’ মন্টু শাহের আশঙ্কাই ঠিক হলো। বছর দুয়েক আগে মন্টু শাহ দেহত্যাগ করেছেন। জানি না খাতাটা এখন কার হেফাজতে আছে। হাতখাতাটা যে লোকসাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। হ্যান্ডনোটের আদলে লেখা অরিজিনাল এ পাণ্ডুলিপিটি বাঁচিয়ে রাখতে এখনই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
শিষ্যদের ধারণা, গানের সংখ্যা ১০ হাজারেরও বেশি। প্রকৃতপক্ষে এত বিপুল সংখ্যক গান পাওয়া যায় না। শোনা যায়, কোনো কোনো শিষ্যের মৃত্যুর পর অছিয়ত মোতাবেক গানের খাতা তাঁদের কবরে পুঁতে দেওয়া হয়েছিল। শুধু কী তাই! সমসময়ে অনেক ভক্তই গানের খাতা নিয়ে গিয়ে আর ফেরত দেননি। সে যাই হোক, ব্যক্তি লালনকে খুঁজতে অগত্যা গানের কাছেই যেতে হয়। গানের মধ্যেই পুরোমাত্রায় বিদ্যমান থাকেন তিনি। সাধুদের কাছে লালনগান তাই শুধুই গান নয়, বরং গান হলো জ্ঞান; তাঁদের সাধনসংগীত। গানগত পদ-পদাবলিকে তাঁরা কালামতুল্য ভাবেন। সে কারণে সুরের চেয়ে পদাবলির অন্তর্জালে বিরাজিত সার কথাই বাউল সাধনার পরম বস্তু। বাউলরা কেবল গানের আধ্যাত্মিক মানে নিয়েই ক্ষান্ত থাকেন না বরং গানের দেহকেন্দ্রিক নির্দেশনা জেনে গুহ্য সাধনাও করেন।
অনেকেই মনে করেন, প্রত্যেক লালন গানে আধ্যাত্মিক, রাজনৈতিক, জৈবিক- এই তিন ধরনের ব্যাখ্যা থাকে। গান প্রতি তিন রকম ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে কি না তা জানতে বিস্তারিত গবেষণা ও মতামত প্রয়োজন হবে। তবে এ পর্যন্ত সংগৃহীত ৭০০-৮০০ গানকে ক্রমাগত অনুধাবন করতে গেলে বেশ কিছু গানে, বিশেষ করে ত্রিবেণীতত্ত্বের গানগুলোতে দুটো ধারা খুব স্পষ্ট হয়ে ওঠে; যার মধ্যে একটি আধ্যাত্মিক ও অপরটি জৈবিকভাবের। সহজ করে বলতে গেলে প্রত্যেক গানের ব্যাখ্যা বর্ণনার ভেতরেই কম-বেশি আধ্যাত্মিক এবং জৈবিক বা মিথুনাত্মক নির্দেশনা আছে। লালনের সবচেয়ে প্রচলিত ও জনপ্রিয় একটি গানের কথাই ধরা যাক- মিলন হবে কত দিনে, আমার মনের মানুষের সনে। কে এই মনের মানুষ? ‘মনের মানুষ’ নিয়ে কয়েক রকমের ব্যাখ্যা আছে। উঠতি বয়সের বেশির ভাগ তরুণ-তরুণী ‘মনের মানুষ’ বলতে প্রেমিক-প্রেমিকার যুগল মিলন বোঝে। আধ্যাত্মিকভাবে যে ব্যাখ্যাটি অনিবার্য হয়ে ওঠে তা হলো, স্রষ্টার সঙ্গে সৃষ্টির মিলন। অধিকাংশ প্রাজ্ঞ লালনভক্ত মূলত তাই মনে করেন। কিন্তু সাধনলাইনে সাধু-ফকিরদের কাছে ‘মনের মানুষ’ অন্য জিনিস। সাধুরা মনের মানুষ বলতে যা বোঝান, তা দেহকেন্দ্রিক, নারীর ঋতুকালের সঙ্গে এর যথেষ্টই যোগ আছে। এই মনের মানুষকে লালন নানা জায়গায় বিভিন্ন রূপকে ক্ষণে ক্ষণে উপস্থাপন করেছেন। যেমন সহজ মানুষ, অধরচাঁদ, রসের মানুষ, ভাবের মানুষ, অটল মানুষ, অচিন পাখি, অজানা মানুষ ইত্যাদি। সবই আসলে লালনের ‘মনের মানুষ’ বটে; একেক জায়গায় একেকভাবে এসেছে। রূপক এসব মনের মানুষের যেমন আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা আছে, তেমনই মিথুনাত্মক ব্যাখ্যাও আছে। যারা রসপন্থী তাঁরাই নেহাজ করে মনের মানুষকে ধরতে পারেন। ত্রিবেণীর ধারা বুঝে, মর্ম জেনে অপেক্ষা করতে হয় তাঁকে ধরার জন্য। আরো একটি উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। ধর চোর হাওয়ার ঘরে ফাঁদ পেতে/সে কি সামান্য চোরা ধরবি কোনা-কানচিতে। কে এই চোর? যাকে হাওয়ার ঘরে ফাঁদ পেতে ধরতে হয়। সে তো সামান্য চোরা নয়, সে থাকে কোনা-কানচিতে। অনেকেই হাওয়ার ঘর বলতে বুকের খাঁচা মনে করেন এবং চোর বলতে
মনচোরা অর্থাৎ আত্মা বা সৃষ্টিকর্তাকে বুঝে থাকেন। কিন্তু সাধনার ভাষায় চোরের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ অন্য রকম।
চোর মানে সেই- যে মনের মানুষ- যাকে ধরার জন্য সাধু আকাঙ্ক্ষা করেন। মনের মানুষের মতোই চোর মীনরূপে দেহেই বিদ্যমান থাকে।
অস্থি চর্ম স্বর্ণরূপ
তাতে মহারসের কূপ
বেগে ঢেউ খেলে
ও তার এক বিন্দু অপার সিন্ধু
হয়রে ভূমণ্ডলে
লালনের জীবনাচার, তত্ত্বগানের বহুমাত্রিক মনোভাব ও গুহ্য বিষয়বৃত্তান্ত স্বাভাবিকভাবে আমাদের কাছে তাঁকে আরো রহস্যময় করে তোলে। সে যাই হোক, সাধনজগতের এসব গোপনীয় বিষয় বাউলদের কাছে এক অমূল্য সম্পদ। ফলে এই যে অনেকখানি গুহ্য এবং না বলা গোপনীয় ব্যাপার বিদ্যমান, তা কেবল এই গুরু-শিষ্য পরম্পরায় বয়ে যেতে থাকে। বিশেষ গোপনীয়তার কারণে ইঙ্গিতবাহী এসব আলোচনাও কেবল বাউলদের সঙ্গেই করা যায়। যেখানে অন্যদের প্রবেশাধিকার থাকে না বললেই চলে।
লালনের ধর্মটা যেহেতু গুরুবাদী, সে কারণে ভাবশিষ্যদের জীবনাচার বাউল ধর্মের অনেকখানি মৌলিক বিষয়। ১২৩ বছর আগে দেহত্যাগী লালনের একজোড়া গুরু-শিষ্যকে ধরে নেমে আসলেই এখনো জীবিত বাউলের দেখা মেলে। গুরু-শিষ্যের সরেজমিন কথোপকথন, জীবন, যৌনাচার- সব কিছুর বিশ্লেষণ করলেই কেবল পাওয়া যেতে পারে সম্যক লালন ও তাঁর দর্শনকে।
কিন্তু ক্রমেই তৃতীয় সিঁড়ির শিষ্যদের সংখ্যা কমে আসছে। তা ছাড়া যুগের আধুনিক হাওয়া এসে লাগতে শুরু করেছে এ প্রজন্মের বাউলদের গায়ে। গ্রাম্য বাউলকে শহরে এনে বাণিজ্যিকীকরণও চলছে সমান তালে। একতারা, মালা, বালা, খিলকা- এসবের সঙ্গে যোগ হচ্ছে প্যান্ট-শার্টের মতো আধুনিক লেবাস। ঘটিবাটি-করঙ্গের পরিবর্তে তরুণ বাউলদের সঙ্গী এখন মোবাইল ফোন। জনপ্রিয়তার নামে সাধক-বাউলের চেয়ে বাড়ছে শিল্পী-বাউলের সংখ্যা। ‘আমি কে’ তা চেনার চেয়ে ‘আমি কে’ তা দেখানোর একটা প্রতিযোগিতা যেন নীরবেই এগিয়ে আসছে বাউলদের সামনে। আকাশ-সংস্কৃতির বাহুল্যতায় ইদানীং আদি সুর-লয়ের তোয়াক্কা না করেই নানা সুরে ও মিশ্রণে গাওয়া হচ্ছে লালন গান। ফলে মূল সুর থেকে আমরা যেমন সরে যাচ্ছি, তেমনি হারাতে বসেছি আমাদের বাউল সংস্কৃতি ও সাহিত্য। বাউলভূমি কুষ্টিয়া-মেহেরপুরসহ সারা দেশেই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে পুরনো বাউল, যাঁরা আজও আদি সুরে গেয়ে চলেছেন লালন গান। নিভৃতচারী এসব বাউলের সহায়তায় লালন গানের একটা স্বতন্ত্র স্বরলিপি তৈরি করা দরকার। পুরনো বাউলরা বেঁচে থাকতে থাকতেই জানতে হবে সাধনমার্গের আদ্যকথা। তবেই একদিকে যেমন বাউলসংগীতকে বাঁচানো যাবে তার দুর্দশা থেকে; তেমনি জানা যাবে লালন ও তাঁর সম্যক দর্শনকে।
লালন গীতির বেশ কিছু জনপ্রিয় গান এখান থেকে ডাউনলোড করে নিতে পারেন।
তথ্য সূত্রঃ
১। বাংলা উইকিপিডিয়া।
২।দৈনিক প্রথম আলো।
৩।আনন্দ বাজার পত্রিকা।
৪।দৈনিক ইত্তেফাক।
৫।দৈনিক কালের কন্ঠ।
৬।এবং দেশী-বিদেশী বিভিন্ন ওয়েবপেইজ।

বিশেষ কৃতজ্ঞতায়-
তারিক লিংকন ভাই

৪৮ thoughts on “মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি…লালন।

  1. পুরো লেখা পড়তে পারিনি। সময়
    পুরো লেখা পড়তে পারিনি। সময় নিয়ে পড়ব। চলচ্চিত্র অংশে “মনের মানুষ” উল্লেখ করেছেন। কিন্তু লালনকে নিয়ে এরচেয়ে সুন্দর এবং সঠিক ইতিহাস নির্ভর চলচ্চিত্র তৈরি করেছেন আমাদের তানভীর মোকাম্মেল। “লালন” চলচ্চিত্রের পোস্টার যোগ করলে ভালো হতো না?

    1. ধন্যবাদ আতিক ভাই।আপনার কথা
      ধন্যবাদ আতিক ভাই।আপনার কথা রাখলাম।আসলে লালনের উপরে এত এত গবেষণা যা লিখে শেষ করা খুব কঠিন।

  2. পড়লাম মাত্র। আপনার পোস্ট এবং
    পড়লাম মাত্র। আপনার পোস্ট এবং রইয়ান ভাই এর পোস্টে কিছু লাইন সরাসরি মিলে যায়।

    সেটা আপনার পোস্টের সারসংক্ষেপ হিসেবে ধরে নেয়া যায়। দুজনেই ভাল কাজ করেছেন।

    পোস্টটি স্টিক করার জন্য মডারেশন প্যনেলকে ধন্যবাদ। আর পোস্টের জন্য আপনাকে ,রাইয়ান ভাইকে ও তারিক ভাইকে।

    1. ধন্যবাদ জয় দা। সম্ভবত বাংলা
      ধন্যবাদ জয় দা। সম্ভবত বাংলা উইকিপিডিয়ার তথ্যগুলোর মিল আছে।উনিও ভালো লিখেছেন। :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ:

    1. মহান মরমী সাধক লালন শাহ্‌কে
      মহান মরমী সাধক লালন শাহ্‌কে মহাত্মা গান্ধীর ২৫ বছর আগেই মহাত্মা গান্ধী উপাধি দেয়া হয়, যদিও তিনি মহাত্মা লালন নামে কম পরিচিত!!
      তাঁর ১০,০০০ + গান ও কবিতা তাঁকে বাঙলার মরমী সাধনা এবং বাউল ধারার এক কিংবদন্তী করে রাখবে যতদিন বাঙলা ভাষা না এই বিশ্ব টিকে থাকবে… আমরা দেখিছি সম্প্রতি তাঁকে নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক গবেষণা হচ্ছে! তিনি কেবলই একজন বাউল নন তিনি একজন অনন্য দার্শনিকও বটে…

      শঙ্খনীল কারাগার ভাইকে অফুরন্ত ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল:

      আমি ৪/৫ দিনের জন্য নেটের বাইরে যাওয়ার আগে ঈদের দিন সন্ধ্যায় রাইয়ান ভাই এবং শঙ্খনীল ভাইকে অনূরোধ করে যায় যেন লালনের মহা প্রয়ান দিবসকে উৎসর্গ করে ইস্টিশনে পোস্ট দেন!! গতরাতে ঢাকায় ফিরলাম, আজ অফিসে এসে দেখি দুজনেই চমৎকার দুটি পোস্ট দিয়েছেন এবং পোস্টের শেষে আমার নামটি জুড়ে দিয়েছেন!! ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করব না তবে যে কাজটি আপনি করেছেন আমি নিজেও তা করতে পারি নি…প্রায় সকল তথ্যই আপনি এক যায়গায় আনতে সমর্থ হয়েছেন বাঙলা ব্লগে লালনকে নিয়ে একটি পোস্টে এত তথ্য আগে কেউ আনতে পেরেছেন কিনা আমার জানা নেই!! অসামান্য পরিশ্রমলব্ধ একটি পোস্ট আপনি দিয়েছেন আর নিজ গুনেই পোস্টটি এক্সপ্রেসে স্থান করে নিয়েছে… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ভালুবাশি: :ভালুবাশি: :salute: :salute:

      লালন শাহ্‌ এর আরও গানের লিরিক্স পাবেনঃ এইখানে এবং এইখানে
      এই বাঙলার অন্যতম এই প্রধান দার্শনিক এবং মরমী সাধককে বিনম্র শ্রদ্ধা :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute:

      1. ধন্যবাদ তারিক লিংকন ভাই,আপনার
        ধন্যবাদ তারিক লিংকন ভাই,আপনার মূল্যবান মন্তব্যটিতে আরো একটি তথ্য পেয়ে গেলাম যা আমার মূল পোস্ট টিতে সংযোজন করে দিয়েছি।এবং দার্শনিক ও মরমী সাধক মহাত্মা লালন সাঁইকে বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি। :salute: :salute: :salute:

        1. ভাই একটা ভুল হয়ে গেছে!!
          ভাই একটা ভুল হয়ে গেছে!! মহাত্মা গান্ধী না, মহাত্মা লালন হবে…
          আর এই উপাধি লালন শাহ্‌-ই প্রথম পেয়েছিলেন!!
          তথ্যসুত্রঃ
          ক) বাঙলা, উইকিপিডিয়াঃ লালন
          খ) মহাত্মা লালন ফকিরের ফেসবুক পেজ, এবং
          গ) পড়ুয়া ডট কম

          এডিট করে দিয়েন!! ধন্যবাদ…

          1. ঠিক করে দেয়া হল।তথ্যটি সম্ভবত
            ঠিক করে দেয়া হল।তথ্যটি সম্ভবত আমার পোস্টে পুর্বে ছিল।বহুবার সংস্কার করার সময় হয়তো অসতর্কতাবশত রিমুভ হয়ে যায়।একটি মজার তথ্য দেই,পোস্ট টিতে আমি একাই বোধ হয় ১০০বারের অধিক ঢুকি।এবং যখনি ঢুকি তখনি ১/২টা কারেকশন করি।মানে বানান। :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ:

  3. গত সপ্তাহে মনের মানুষ ছবিটা
    গত সপ্তাহে মনের মানুষ ছবিটা দেখার পর থেকে আমার মাথা নষ্ট হয়ে ছিল আর মনের মধ্যে ছিল লালন সম্পর্কে জানার পিপাসা । ঠিক এই সময়েই আপনার লেখাটি পেলাম ।ভাই অনেক ধন্যবাদ আপনাকে ।আপনার কারনে অনেক কিছু জানলাম লালন সম্পর্কে । @শঙ্খনীল কারাগার

    1. ধন্যবাদ আপনাকেও। তবে তানভীর
      ধন্যবাদ আপনাকেও। তবে তানভীর মোকাম্মেল এর লালন আরো বাস্তবসম্মত মনে হয় আমার কাছে।সময় করে ছবিটা দেখার অনুরোধ রইলো।

  4. লালন কে নিয়ে পড়া সবচাইতে
    লালন কে নিয়ে পড়া সবচাইতে তথ্যবহুল লেখা এটি। অনেক সুন্দর কাজ করেছেন। ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করব না। :bow: :bow: :bow:

    1. আপনাদের ভালোবাসাই আমার
      আপনাদের ভালোবাসাই আমার প্রেরণা। লিংকন ভাইয়ের অনুপ্রেরণাতেই আমি লালন সন্ধানে আগ্রহী হয়ে উঠি।

  5. বেশকিছু লালনগীতির ডাউনলোড
    বেশকিছু লালনগীতির ডাউনলোড লিঙ্ক নিচে নতুন করে সংযোজন করা হল।আর ইস্টিশনকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমার পোস্টটি স্টিকি করার জন্য। :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ:

  6. অসাধারণ তথ্যপূর্ণ পোস্ট।
    অসাধারণ তথ্যপূর্ণ পোস্ট। শিরোনাম দেখে ভাবছিলাম এই পোস্টে একটা বিশেষ কমেন্ট করবো। কিন্তু সব আপনি পোস্টেই বলে দিয়েছেন। তার আর দরকার নেই। বিনম্র শ্রদ্ধা এই আধ্যাত্মিক সাধকের প্রতি। :স্যালুট:

    1. আপনাকে ধন্যবাদ ইলেক্ট্রন
      আপনাকে ধন্যবাদ ইলেক্ট্রন ভাই।তারিক লিংকন ভাই তার মন্তব্যে একটি তথ্য দিয়েছেন যা হুবহু আমার মূল পোস্টে সংযোজন করে দিয়েছি।আপনাদের সহযোগিতাঈ আমাকে প্রেরণা দেয়।আবারও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি মরমী সাধক লালন সাঁইকে। :salute: :salute: :salute:

  7. এই পোস্ট আর রাইয়ান ভাইয়ের
    এই পোস্ট আর রাইয়ান ভাইয়ের পোস্টটা এতটা চমৎকার হয়েছে যে ঈদের পরের দিন থেকে শুরু করে আজ প্রায় ৪দিন প্রতিদিন একবার করে এই পোস্টটা পড়েছি। চমৎকার বললে খুব কম বলা হয়ে যায়… :তালিয়া: :তালিয়া: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :bow: :bow: :bow:

    মহামতি মহাগুরু লালন নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নাই… যা বলার অন্য সবাই তাদের অতি চমৎকার মূল্যবান বক্তব্যে বলে দিয়েছেন… বরং বলা যায় মন্তব্যগুলো এই পোস্টটাকে করেছে আরও পরিপূর্ণ ও মনোমুগ্ধকর… তাই মন্তব্যদাতাদের জন্যও রইল একরাশ ফুলেল শুভেচ্ছা… :ফুল: :ফুল: :ফুল: :ফুল:

    পরিশেষে দর্শন জগতের অন্যতম দিকপাল ও মহামতি সাধক লালনকে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে অসীম শ্রদ্ধা ও বিনয়াবনত স্যালুট… :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute:

    1. মাটির পুতুল গড়ে নাচায়
      আপনি

      মাটির পুতুল গড়ে নাচায়
      আপনি মারে আপনি বাঁচায়
      তাই জেনে স্বয়ং হতে চায়
      লালন কয় তাঁর সকল মিছে।।

      আমরা আজ যা ভাবছি লালন তাই ১৮ শতকে বলে গেছে।
      ধন্যবাদ ডন ভাই আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য। :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ:

  8. অনেক দেরী করে পড়লাম। অসাধারণ
    অনেক দেরী করে পড়লাম। অসাধারণ হয়েছে পোস্ট। ধন্যবাদ। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

        1. আবার বাঙলা ভাইয়ের আগমন…
          আবার বাঙলা ভাইয়ের আগমন… :খাইছে: :মাথানষ্ট: :দেখুমনা: কারাগার ভাই দেখি আমার মতই ভুল করল… :ভেংচি: :হাহাপগে: 😀

  9. অতি ছোটবেলায় লালন গীতির
    অতি ছোটবেলায় লালন গীতির মাধ্যমে লালন শাহের সাথে পরিচয়। এরপর তাঁর দার্শনিক পরিচয়ের সাথে মোলাকাত। এরপর থেকে শুধুই মুগ্ধতা আর শ্রদ্ধা।
    মেগা পোস্ট, মেগা ভালোলাগা :গোলাপ:

    1. মেগা পোস্ট, মেগা ভালোলাগা…
      মেগা পোস্ট, মেগা ভালোলাগা… :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :bow: :bow: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

    2. পার করো হে দয়াল চাঁদ

      পার করো হে দয়াল চাঁদ আমারে
      ক্ষম হে অপরাধ আমার
      এই ভব কারাগারে…

      :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

  10. লেখালেখি আমি করিনা।করতে
    লেখালেখি আমি করিনা।করতে পারিনা।বিভিন্ন ফেসবুক পেজ
    আর ব্লগে ঘুরেই আজাইরা সময় কাটাই।একজনের শেয়ার থেকে
    আপনার এই পোস্ট টা দেখলাম। ব্লগ টাও মনে হয় নতুন।লালন
    সম্পর্কে অনেক পোস্ট দেখেছি ভাই।আপনার মত এত বিশদ ভাবে
    আর কেউ লিখেছে কিনা আমার সন্দেহ। শুধু মাত্র আপনার এই পোস্টে
    কমেন্টস করবো বলে ইস্টিশনে রেজিস্ট্রেশন করেছি।এটা এক্টা বিশাল
    কাজ ভাই।যা জানতে চেয়েছি তাই পেয়েছি। ভাই কিছু মনে না করলে
    শুধু জানার জন্য বলছি,লালনের এটাকি ১১৩ তম নাকি ১২৩ তম
    মৃত্যু বার্ষিকী?

    1. ইস্টিশনে আপনাকে স্বাগতম
      ইস্টিশনে আপনাকে স্বাগতম স্বপ্ন শিকারি ভাই।আর জেনে খুশি হলাম আপনি আমার পোস্টে কমেন্টস করার জন্য ইস্টিশন নিবন্ধন করেছেন।আপনি খুব সূক্ষ একটি ভূল তুলে ধরেছেন যা আমার চোখ এড়িয়ে ছিলো।আসলে এটাকে স্পেলিং ভূল বলতে পারেন।যেটা আপনার মন্তব্যের পর ঠিক করে দেয়া হল।আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আশা করি ইস্টিশনে আপনি নিয়মিত হবেন।এখানে অনেক ভালো ভালো ব্লগার আছেন যাদের লেখা পড়ে আপনার আরো বেশী ভালো লাগবে।আমিতো চুনোপুঁটি বলতে পারেন।তারিক লিংকন ভাই, ডাঃ আতিক ভাই, রাহাত মুস্তাফিজ ভাই, অঘূর্নায়মান ইলেকট্রন ভাই, ডন মাইকেল কর্লিওনি ভাই, দ্রুপদ রঞ্জন মিত্র ভাই,ছন্নছাড়া রাইয়ান ভাই, নাম বলতে বলতে হাপিয়ে যাবো। ইস্টিশনের সাথেই থাকুন।

      1. শঙ্খনীল ভাই, এতো বিনয় কই
        শঙ্খনীল ভাই, এতো বিনয় কই রাখেন :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: … জানতে পারলে খুব খুশি হইতাম :মাথাঠুকি: 😀 :-B … একলাই সব বিনয় দেখায়া ফেললে আর সবাই কি করবো… :চিন্তায়আছি: :চিন্তায়আছি: :আমারকুনোদোষনাই:

        1. সত্য কথার ভাত নাই।
          সত্য কথার ভাত নাই। :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:

    1. (No subject)
      :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

  11. অসাধারণ এই দার্শনিক নিয়ে
    অসাধারণ এই দার্শনিক নিয়ে আসলেই একখান অসাধারণ পোস্ট হয়েছে।।
    লালন নিজেও ছিলেন দীর্ঘজীবী, ১১৬ বছর বেঁচেছেন, ের থেকে বড় বর্ণাঢ্য পোস্ট হলেও কম হত…
    মেগা পোস্ট… মেগা ভাল লাগা… :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :bow: :bow: :bow: :bow:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *