ইক্ষু মিয়া ও ফেসবুক এ্যাপ

ইক্ষু মিয়া কম্পুটারের সামনে বিরসবদনে বসিয়া আছেন। তাহা দেখিয়া ঈদ উপলক্ষে বাসায় বেড়াতে আসা তাহার বন্ধুটি বলিলো – ”কি হে, মন খারাপ কেন? কি হইয়াছে?”

ইক্ষুমিয়া কোন উত্তর না দিয়া মুখ খানা আরো ভার করিয়া বসিয়া রইলেন। খানিকপর হাকঁ ছাড়িয়া গিন্নী কদলীবালাকে বলিলেন – ”বন্ধু আসিয়াছে। গরুর রেজালা দিয়া মুড়ি মাখাইয়া নিয়া আসো।” প্রায় তৎক্ষনাৎ অন্দর মহল হইলে গিন্নীর মুখ ঝামটা শোনা গেলো – ”পারুম না। নিজে লইয়া খাও।” বন্ধু বুঝিলো, ঘটনা গুরুতর।


ইক্ষু মিয়া কম্পুটারের সামনে বিরসবদনে বসিয়া আছেন। তাহা দেখিয়া ঈদ উপলক্ষে বাসায় বেড়াতে আসা তাহার বন্ধুটি বলিলো – ”কি হে, মন খারাপ কেন? কি হইয়াছে?”

ইক্ষুমিয়া কোন উত্তর না দিয়া মুখ খানা আরো ভার করিয়া বসিয়া রইলেন। খানিকপর হাকঁ ছাড়িয়া গিন্নী কদলীবালাকে বলিলেন – ”বন্ধু আসিয়াছে। গরুর রেজালা দিয়া মুড়ি মাখাইয়া নিয়া আসো।” প্রায় তৎক্ষনাৎ অন্দর মহল হইলে গিন্নীর মুখ ঝামটা শোনা গেলো – ”পারুম না। নিজে লইয়া খাও।” বন্ধু বুঝিলো, ঘটনা গুরুতর।

অনেক অনুনয় বিনয় করিয়া ঘটনা যাহা জানা গেলো তাহা হইলো, ফেসবুকের এক খানা হিন্দী কেশের এ্যাপের কারনে তাহার সংসার আজ ভাঙ্গিতে বসিয়াছে। সেদিন অফিসে বসিয়া নিতান্তই ভুলঃবশত ফেসবুকের ঐ নচ্ছাড় এ্যাপটাতে ক্লিক করিতেই যত বিপত্তির উৎপত্তি। এ্যাপখানা তাহার হইয়া তাহার স্ট্যাটাস দিয়া বসিয়াছে। উহাতে গোল বাধেঁ নাই, বাধিঁয়াছে উহার পরিসংখ্যানে। ইক্ষু মিয়া অদ্যবধি কোন কোন বালিকার সহিত কতখানা ম্যাসেজ আদান প্রদান করিয়াছে, হিন্দী কেশের এ্যাপ বালিকার নাম ধাম, লিংকসহ উহা সবিস্তারে বর্ণনা করিয়াছে। আর পড়বি তো পর মালির ঘাড়ে। গতকল্য রাত্রিতে উহা কদলী বালা দেখিয়া ফালাইয়াছেন এবং যথারীতি দেখিবামাত্র “লুলের বাচ্চা লুল” বলিয়া হুংকার ছাড়িয়া তাহাকে মারতে উদ্যত হইয়াছিলেন। কোনমতে দৌড়াইঁয়া বাসার বাহিরে যাইয়া ইক্ষু মিয়া প্রাণ বাচাইঁয়াছেন। আজ বিকেল নাগাদ চেষ্টা করিয়াও স্ত্রীর মন গলাইতে পারেন নাই।

সব শুনিয়া বন্ধুটি বলিল – ”ভাবী সাহেবার মন কেন বিক্ষিপ্ত এইবার সব বুঝে আসিলো। তবে ইক্ষু শোন, তুমি স্বস্ত্রীকে বন্ধু তালিকায় রাখিয়া একটা মস্তবড় ভুল করিয়াছো। এই ভুলের মাশুল আরো বিশালাকারে হইতে পারিতো।”

ইক্ষু মিয়া উত্তেজিত হইয়া বলিল – ”তাহাকে বন্ধু তালিকায় রাখিবো না? আমার ধরে কয়খানা মাথা, বন্ধু?”

বন্ধু বলিলো – তাহা অবশ্য ঠিক, এক খানাই মাথা। যাহা হউক, যেথায় সেথায় ক্লিক করিলে আজকাল মান সোলেমান নিয়া টানাটানি পড়িয়া যায়!

ইক্ষু মিয়া বলিলো – উপদেশ বাদ দিয়া এক্ষন বলো এই বিপদ হইতে উদ্ধার পাওয়ার উপায় কি?

বন্ধু বলিলো – যাহা হইবার হইয়াছে। আপাততঃ উক্ত ষ্ট্যাটাসখানা মুছিয়া একাউন্ট কিছু দিনের তরে ডিএকটিভেট করিয়া রাখো। পরিস্থিতি শান্ত হইলে পুনরায় ফিরিয়া আইসো।”

ইক্ষু মিয়া বিরস বদনে প্রায় কাদোঁ কাদোঁ হইয়া বলিলো – ”কি দিনকাল পড়িলো বন্ধু, জগতের গোপন কোন কিছুই আর গোপন থাকিতেছে না। ইহা কেয়ামতের আলামত।”

বন্ধু মাথা নাড়িয়া সায় দিলো।

৯ thoughts on “ইক্ষু মিয়া ও ফেসবুক এ্যাপ

  1. প্রলয় হাসান ভাই এইবার আমাদের
    প্রলয় হাসান ভাই এইবার আমাদের বাঁচান…
    আপনিতো আরেকটু হলে বাঙলা ব্লগিয় সংস্কৃতির এক বিশাল রেকর্ডের মালিক হয়ে যেতেন!
    আজ ৭;২৪ থেকে ৭;২৭ অপরাহ্নে মাত্র ৩ মিনিটে ৩টি পোস্ট প্রসব করে প্রলয়ংকরী কান্ড ঘটিয়ে ফেলেছেন! আরেকটু হলেই হ্যাট্রিকটাও করে ফেলেছিলেন!
    আপনার এমন অস্বাভাবিক কৃতিত্বের জন্য অভিনন্দন…

  2. পোস্ট গুলো আস্তে আস্তে দিলে
    পোস্ট গুলো আস্তে আস্তে দিলে ভালো হইতো না? আমরা ভাই দুর্বল পাবলিক। কম কম করে খাইতে পারি। একটু রয়ে সয়ে পোস্ট দিবেন আশা করি। ইস্টিশনে স্বাগতম। ইস্টিশন বিধিটা পড়বেন আশা করি।

  3. ভাইজান , এইবার থামেন …
    ভাইজান , এইবার থামেন :মাথাঠুকি: :মানেকি: … যেমনে ব্লগিং ট্রেন ছুটাইছেন, আপনে তো পৃথিবী ভেদ কইরা মঙ্গলে চইলা যাইবেন :এখানেআয়: … ইষ্টিশন বিধিটা একটু পড়ে নিলে ভালো হত না… :-B :চিন্তায়আছি: :আমারকুনোদোষনাই:

  4. মডারেশন প্যনেল এর কেউ কি
    মডারেশন প্যনেল এর কেউ কি ইস্টিশনে আসার সুযোগ পাচ্ছে না। একটু আগেও দেখলাম একই ব্যক্তি তিনটি পোস্ট প্রথম পাতায়।

    এই বিধির কি হল??

    ৫. প্রথম পাতায় একজন যাত্রী’র দুই’য়ের
    অধিক পোস্ট এলে ফ্লাডিং বলে গণ্য
    করা হবে। কোন যাত্রী’র প্রথম পাতায়
    দুই’য়ের অধিক পোস্ট দেখা গেলে পুর্বের
    পোস্টের গুরুত্ব বিবেচনায় যে কোন
    দুইটি রেখে অন্য পোস্টগুলো প্রথম
    পাতা হতে সরিয়ে দেয়া হবে।
    যে কোনো ধরনের স্প্যামিং,
    কোডিং মুছে দেয়া হবে।

  5. আমার মনে হয় আর কিছু বলার
    আমার মনে হয় আর কিছু বলার দরকার নেই… প্রথম প্রথম এটা একটা কমন মিসটেক যা অনেকেই করে ফেলে!

    আশাকরি প্রলয় হাসান ভাই ইস্টিশন বিধি পড়ে নেবেন এবং ভবিষ্যতে আরো সতর্ক হবেন…
    শুভ ব্লগিং… :ফুল:

    আরেকটা কথা- শুধু বিধি লংঘনের সতর্কবানী নয় আমি মনে করি পোস্টের ওপরও আলোচনা হওয়া দরকার। তাই পোস্ট পড়ে আবার মন্তব্য এডিট করতে বসলাম।

    টপিকটা ভালো ছিল। লেখাটা রম্য টাইপ, কিন্তু সে অনুযায়ি যথেষ্ট উপকরনের অভাব আছে…! আপনার লেখাটা ফেবু স্ট্যাটাস হিসেবে ঠিক আছে, কিন্তু রম্য হিসেবে ঠিক যায় না!
    সামনে আরো ভালো লেখার অপেক্ষায় রইলাম!

  6. প্রলয় হাসানের প্রথম পোস্টের
    প্রলয় হাসানের প্রথম পোস্টের সময় ও তারিখঃ
    লিখেছেনঃ প্রলয় হাসান >> সময়: মঙ্গল, 09/04/2013 – 10:29অপরাহ্ন

    আর তিনি ইস্টিশনে আছেন ২৭ সপ্তাহেরও অধিক সময় ধরে!তাই এই প্রলয়ঙ্করী কান্ডের জন্য নয়া ব্লগার বলে ছাড় দেয়ার কিছু নাই!! তিনি হয়তো আপনার ধারনার মত কপি-পেস্ট কিছু করেছেন অথবা আজাইরা পেচাইছেন…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *