মুক্তিযুদ্ধ আমার অহংকার

এটি লিখেছিলেন মিনু রাণী দাস (কবি ও ব্যাংকার, গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা )
যেহেতু উনার সাথে আমার কোন পরিচয় নাই, তাই বিনা অনুমতিতে হুবহু লিখাটা পোস্ট করলাম॥

একাত্তর আমার অহংকার। মুক্তিযুদ্ধ আমার মায়ের অশ্রু, ভাইয়ের রক্তস্রোত, বোনের সম্রম। মুক্তিযুদ্ধ আমার স্বাধিকার, আমার পরিচয়- বাঙালি জাতিকে বীর বাঙালি হিসেবে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে আমাদের রক্ত ঝরার মহান “৭১। মুক্তিযুদ্ধ আমার চেতনার অগ্নিশিখা। আমার গর্ব হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান॥

এটি লিখেছিলেন মিনু রাণী দাস (কবি ও ব্যাংকার, গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা )
যেহেতু উনার সাথে আমার কোন পরিচয় নাই, তাই বিনা অনুমতিতে হুবহু লিখাটা পোস্ট করলাম॥

একাত্তর আমার অহংকার। মুক্তিযুদ্ধ আমার মায়ের অশ্রু, ভাইয়ের রক্তস্রোত, বোনের সম্রম। মুক্তিযুদ্ধ আমার স্বাধিকার, আমার পরিচয়- বাঙালি জাতিকে বীর বাঙালি হিসেবে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে আমাদের রক্ত ঝরার মহান “৭১। মুক্তিযুদ্ধ আমার চেতনার অগ্নিশিখা। আমার গর্ব হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান॥
১৯৬৮ সালে এস.এস.সি পাশ করে চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ভর্তি হয়ে ক্রমে ক্রমে ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ি। ছাত্রলীগের ব্যানার “অভিযাত্রিক”র পতাকা তলে সামিল হয়ে উনসত্তুর-এর গণআন্দোলনে সুলতান ভাই (সাবেক এম.পি সুলতানুল কবীর চৌধুরী ) ও নারীনেত্রী জাহানারা আঙুরের সাথে চট্টলার রাজপথে মিছিলে স্লোগানে মুখরিত ছিল আমার ছাত্রজীবন। এরপর ৭০ এ নির্বাচন। চট্টগ্রাম-৯ আসনে মরহুম জহুর আহমদ চৌধুরী সাহেবের নির্বাচনী প্রচারণায় মহিলা কর্মীদের প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে সভা-সমাবেশ করেছি। নির্বাচনে আমি জনাব চৌধুরীর প্রধান পোলিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করি॥

এই সময় চট্টগ্রামে মহিলা আ’লীগের সম্মেলেনে আসেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু। জানে আলম দোভাষের বাড়ীদে তিনি মহিলাদের নিয়ে সভা করেন। একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে আমি তাঁর কথা শুনে আপ্লুত হয়ে তাঁর পবিত্র চরণ ছুঁয়ে প্রণাম করার সৌভাগ্য অর্জন করেছি। তিনি আমাকে আশির্বাদ করে বলেছিলেন- “তোরা আমার অগ্নিকন্যা, তোরা পারবি মা”॥
১৯৭১ সালের ১ মার্চ পারিবারিক কারণে চাকরিতে যোগ দেই। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণের পর চাকরি বাদ দিয়ে আবার সিটি কলেজে মিছিল সমাবেশে ছুটে যাই। উত্তাল চট্টগ্রাম সহ সারা বাংলা। চট্টগ্রামের পাহাড়তলীর পাহাড়ী লেইন, ওয়ার্লেস কলোনী ও আমবাগানে প্রচুর অবাঙালি ও বিহারী বাস করতো। একদিন কলেজে গিয়ে শুনি বিহারীরা নিরস্ত্র বাঙালিদের উপর হামলা চালিয়ে জবাই করে হত্যা করেছে। সেখানে গিয়ে দেখি ছড়ানো ছিটানো লাশ, শিশুর দ্বিখন্ডিত লাশ, রাস্তায় রক্ত। নাথ পাড়ার নিরু বালা নাথ পাথর চেপে বারান্দায় বসে আছে, পাশে রক্তমাখা খড়গ, তার ছেলে ৬ দফা আন্দোলন করেছিল তাকে খড়গ দিয়ে ৬ টুকরা করা হয়েছে।॥
২৬ মার্চের পর মাকে গ্রামের বাড়ীতে রেখে সহযোদ্ধাদের সাথে যুক্ত হয়ে প্রশিক্ষণ শেষে বি.এল.এফ গেরিলা বাহিনীর কর্ণফুলী কোম্পানী কোম্পানীতে যোগ দিই। থানা কমান্ডার মো: নুরুল আলম মন্টু সহ সহযোদ্ধা রবিউল হোসেন কচি, সীতানাথ দাশ, মুকুল দাশ, নুরুদ্দিন চৌধুরী, কুতুবউদ্দিন, সাব্বির, শফি ও কামালকে নিয়ে আমাদের একটি দল ফিরিঙ্গিবাজার পুরোনা গীর্জায় (ব্যাপিস্ট মিশন) আস্তানা গড়ে শহর এলাকায় চোরাগোপ্তা হামলা চালাতে থাকি পাকহানাদারদের উপর॥
আমাদের ইকবালের রোডের বাসাটি নিরাপদ মনে করে ডা: মাহফুজুর রহমানের নির্দেশে কিছু অস্ত্র ও গোলাবারুদ সহ কয়েকজন আশ্রয় নিই। একদিন মধ্যরাতে গাড়ির শব্দ এবং পরপর গুলি ও আর্তনাদের শব্দ পায়। ভোরের আলো ফোটার পর নদীর পাড়ে গিয়ে, পাথরঘাটা খাল দিয়ে রক্তস্রোত কর্ণফুলিতে বয়ে যাচ্ছে। সেখান থেকে আহত কয়েকজনকে বাসায় নিয়ে চিকিত্‍সা করি। পরপরই পাল্টা হামলার প্রস্তুতি নিই। মাইন দিয়ে পাকবাহিনীর গাড়ি ধ্বংস করি। কোতায়েলী মোড়ে পাকবাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধ হয়॥

একসময় উপর থেকে নির্দেশ আসে, নির্দিষ্ট দিনে চট্টগ্রাম সময়ের সব বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার ধ্বংস করতে হবে। আমার এলাকায় অপারেশেনের দায়িত্ব পড়ে আমিসহ সীতা নাথ, শফি ও কামালের উপর। অভয়মিত্র ঘাট থেকে সাম্পান যোগে যথাসময়ে সফল অপারেশন করে ট্রান্সফরমার ধ্বংস করি॥

ঐদিন সকাল পাকবাহিনী আমার বাড়ি পুড়িয়ে দেয় এবং এলাকার নিরীহ মানুষকে ধরে ডালিম হোটেলের টর্চার সেলে নিয়ে যায়। মুক্তিযুদ্ধের বেশীরভাগ সময় আমি শার্ট প্যান্ট পড়ে পুরুষের ছদ্মবেশে থাকতাম। কখনো বা রেল পুলিশের পোশাক পড়তাম। অভয়মিত্র ঘাট থেকে সাম্পান যোগে যখন ফিশারী ঘাটে আসতাম কত লাশ ভাসত কর্ণফুলীতে। পতেঙ্গায় অনেক স্বজনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি আর শুনেছি কত নারীর ধর্ষনের খবর। কত রক্তের বিনিময়ে পেয়েছি এই মাটি। ১৬ ডিসেম্বর রাইফেল নিয়ে বিজয় মিছিল করতে করতে বাড়ি ফিরে পোড়ামাটিতে জীবনের বীজ বুনেছি। শুনেছি বোম্বাইওয়ালার লালকোটায় (দালান) বিক্ষুদ্ধ জনতা হামলা চালিয়ে অনেক বিবস্ত্র নারীকে উদ্ধার করেছে, তাদের সারা শরীরে ছিল নির্যাতনের চিহ্ন, হাতে-পায়ে শিকলের দাগ। আজো কালের স্বাক্ষী হয়ে আছে ঐ কুখ্যাত লালকোটা, যেখানে ছিল ৫টি মৃত্যুকুপ॥

পুনশ্চ:- এই লিখাটা লিখেছিলেন প্রায় দুই বছর আগে এবং তিনি যুদ্ধাপরাধীর বিচার করেছিলেন। তখন যুদ্ধাপরাধীদের দৃশ্যমান কোন বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয় নি। এখন যেহেতু বেশ কয়েকটি রায় হয়ে গেছে তাই বিচারের প্রক্রিয়া শুরু করার দাবীর কথাটা লিখি নাই॥

২ thoughts on “মুক্তিযুদ্ধ আমার অহংকার

  1. ওই জানোয়ারগুলোকে জানোয়ার বললে
    ওই জানোয়ারগুলোকে জানোয়ার বললে জানোয়ারদের অপমান করা হয়… :মাথাঠুকি: :এখানেআয়:

    ৭১রের সকল বীরদের শুধুই :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *