সবাইকে শুভ প্রবারনা পূর্নিমা

বৌদ্ধ পরিবারে জন্ম, তাই নামে পাশে “বড়ুয়া” জুড়ে গেলো।
তারপর শুরু হলো আমার মাঝে বৌদ্ধদের মৌলিক চরিত্রগুলো ঢুকিয়ে দেয়ার মহাযজ্ঞ।
এমন কি কিছু বোঝার আগে শিখিয়ে দেয়া হলো কিভাবে প্রার্থনার অভিনয় করতে হয়, কিভাবে বুদ্ধের মূর্তি দেখলেই হাটুগেড়ে বসে প্রণাম করতে হয়। [বোঝার বয়স হয়নি কিন্তু পরবর্তীতে দেখে অভিজ্ঞতা প্রাপ্ত]

কথা যখন শিখি তখন আমার মাঝে ঢুকিয়ে দেয়া হয় “সালাম” বলা যাবে না। “প্রণাম” বা “নমস্কার” বলতে হবে।
“বাবা-মা” বলতে হবে “আব্বা-আম্মা” নয়। এমন হাজার, হাজার বাংলা ভাষার সুইচ অন-অফ করে দেয়া হলো শব্দগুলোর মানে বোঝার আগেই।

বৌদ্ধ পরিবারে জন্ম, তাই নামে পাশে “বড়ুয়া” জুড়ে গেলো।
তারপর শুরু হলো আমার মাঝে বৌদ্ধদের মৌলিক চরিত্রগুলো ঢুকিয়ে দেয়ার মহাযজ্ঞ।
এমন কি কিছু বোঝার আগে শিখিয়ে দেয়া হলো কিভাবে প্রার্থনার অভিনয় করতে হয়, কিভাবে বুদ্ধের মূর্তি দেখলেই হাটুগেড়ে বসে প্রণাম করতে হয়। [বোঝার বয়স হয়নি কিন্তু পরবর্তীতে দেখে অভিজ্ঞতা প্রাপ্ত]

কথা যখন শিখি তখন আমার মাঝে ঢুকিয়ে দেয়া হয় “সালাম” বলা যাবে না। “প্রণাম” বা “নমস্কার” বলতে হবে।
“বাবা-মা” বলতে হবে “আব্বা-আম্মা” নয়। এমন হাজার, হাজার বাংলা ভাষার সুইচ অন-অফ করে দেয়া হলো শব্দগুলোর মানে বোঝার আগেই।
কিন্তু তাকিয়ে দেখি অবিকল আমার মতই হাত-পা ওয়ালা কিছু শিশুও আমার বিপরীত শব্দগুলোকে অফ-অন করে দিয়েছে। একেই বৈশিষ্ট্যের মানুষের মাঝে টানা হলো সূক্ষ্ম কিন্তু বিশাল এক বিভেদ রেখা।

তারপর আরেকটু বড় হলে শুরু হয় বিভিন্ন মন্দির পরিক্রমা।
শুনতে লাগলাম বিভিন্ন লৌকিক, অলৌকিক কাহিনী… এর মধ্যে আমার মনে সবচেয়ে বাজে ভাবে দাগ কেটেছে তাহলো বান্দরবানের এক নামকরা ধর্মগুরু প্রচার, প্রসার নিজের চোখে দেখে।
তখন বয়েস ছিল কম, তাও ক্লাস ৮-৯ এ পড়ি। হঠাৎ করে তাঁর আগমন। চারদিকে তখন তাঁর নামডাক। সে সময় আমার মধ্যে বৌদ্ধ ধর্ম সম্পর্কে যে ধারনাটা ছিল তা হলো- এটা একটি শান্তির ধর্ম, এখানে সকল প্রাণীর সমান অধিকার দেয়া হয়েছে (শুধু মানুষই নয়), মূল মন্ত্রগুলো হলো- জীবে প্রেম, কর্মই ধর্ম, অহিংসাই পরম ধর্ম……… আরও অনেক কিছু। তো ওনার যে জিনিসগুলো আমার খারাপ লেগেছে তা হলো – ওনার ভক্তদের মধ্যে বিভিন্ন লেভেল তৈরি করা। কিছু লেভেল এতো উপরে ছিল যে তারা এমন উচ্চতায় পৌছে গেছে যেখানে তারা কোন গাছের দিকে আঙ্গুল তুলে নির্দেশ করতে পারবে না, কারণ তাহলে সেই গাছ দেবতার অনিষ্ট হবে (ওনার এক উচ্চ পর্যায়ের ভক্ত থেকে জানা), এমন আরও অনেক কিছু। কিন্তু সবচেয়ে যে জিনিসটা আমার সবচেয়ে বেশী খারাপ লেগেছে সেটা আমি পেয়েছি তাঁর নিজ মন্দিরে গিয়ে। যে সময়ে আমি যাই তখন ওনার মন্দির তৈরির প্রক্রিয়া চলছিল। তাই তাঁকে থাকতে হলো নিজ বাসার পাশেই। আমরা গিয়ে দেখি উনি তাঁর ভক্তদের সাথে কথা বলছেন আর বাসার ভেতর থেকে ভেসে আসছে হিন্দি গানের মূর্ছনা (বেশ উচ্চ ভলিউমে) সবচেয়ে শকিংটা পেলাম তাঁর মুখ থেকে। তিনি একজন গুরু হয়ে তখনকার দিনের বৌদ্ধদের , বলতে গেলে সমগ্র বৌদ্ধ সমাজের সবচেয়ে প্রিয় ধর্মিয়গুরুর নামে গিবত করতে। তাঁর প্রতি আমার শ্রদ্ধার ফানুস চুপসে গিয়েছিল তখনি।অন্য গুরুকে শ্রদ্ধা বেশী করি বলে নয়, তাঁর মাঝে হিংসার প্রভাব দেখে। তবে তাঁর ভালো কাজের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্যটা হলো তিনি কিছু মানুষকে ধর্ম মুখি করেছেন।

যা হোক এই বয়সেই টের পেলাম বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ১% অর্থাৎ (এখনকার) মাত্র ১৬ লক্ষ বৌদ্ধদের মাঝে বিভেদ রয়েছে বেশ। বৃহৎ ভাবে এই বিভেদ দুই ভাগে বিভক্ত। তাদের মন্দির ভিন্ন এমন কি তাদের ধর্মগুরুদের নাম ভিন্ন হয়। তারা বিভিন্ন ধর্মিয় আচারগুলো একই পদ্ধতিতে ভিন্ন ভিন্ন মন্দিরে পালন করে, এক পক্ষের কাছে অন্য পক্ষের জন্য হিংসাটা খুবই প্রবল। আমার ছোট্ট মাথায় ধরে না অহিংসার ধর্ম যা একজন গৌতম বুদ্ধের মাধ্যমে প্রসার হয়েছে তার কিভাবে দুটা ভাগ থাকতে পারে। তাহলে কি এই বিভক্তি সঠিক ধর্ম পদ্ধতি নয়, আর সঠিক নাহলে কেন এর বিলুপ্ত হয় না। কেন ১৬ লক্ষ একই ধর্মের মানুষগুলো এক হতে পারে না।

উপরের আমার প্রশ্নের কিছু উত্তর পেলাম এখানে। এই দুই বিভক্তিকে কেন্দ্র করে আবার গড়ে উঠেছে কিছু বাবুদের বাবুগিরি (বৌদ্ধ পয়সাওয়ালা, গৃহী নেতাদের বলা হয় বাবু) তারা একদল আরেক দলকে সহ্য করতে পারেন না। তাদের কাজই হলো বিভিন্ন সভা সমাবেশে বক্তৃতা দেয়া। আমার জানা মতে বৌদ্ধ সমাজের উন্নতির জন্য তেমন কিছু করেছেন বলে জানা নেই। এমনি এক বাবু গত বিএনপি আমলে তাঁর ভাইকে পুড়িয়ে মারার বিচারটুকুও চাইতে পারেন নি। এবার দেশে গিয়ে শুনি এক বাবুর দাপট খাটাতে গিয়ে একজন জ্ঞানী, শিক্ষিত, সুপরিচিত ধর্মিয় গুরুর নামে কুৎসা রটিয়ে চট্টগ্রাম লাভলেইন মন্দির থেকে বিতারনের ষড়যন্ত্র করতে। এই বাবুদের সাথে কিছু তরুণ, মাঝ, ঊর্ধ্ব মাঝ বয়সীদের নিয়ে গঠিত হয়েছে বেশ কিছু ক্লাব। তাদের বেশীর ভাগেরই কাজের মধ্যে সাংস্কৃতিক কিছু অনুষ্ঠান ছাড়া গঠনমূলক কোন কাজ করতে দেখা যায় বলে জানা নেই। অকাজের মাঝে আছে কার মেয়ে ধর্ম ত্যাগ করল, কার মেয়ে অন্য ধর্মের ছেলের সাথে ভেগে গেল এইসব নিয়ে প্রচারণা চালাতে। এমন কি বেনামে লিফলেট ছাপিয়ে বিতরণ করতেও দেখেছি তাদের মাঝে। কিন্তু কখনো ভুলেও শুনিনি কোন দরিদ্র বাবার মেয়ে বিয়ের ব্যবস্থা করে দিতে। এরাই হুমায়ুন আহমেদের বইয়ে কিছু ভুল তথ্য লেখা হয়েছে বলে হুমায়ুন আহমদের মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশী ছিল। রাস্তায় নেমে পড়েছিল ধর্ম উদ্ধারে। যেন হুমায়ুন আহমেদ ভুল লিখেছেন তাই ধর্ম গেলো জাত গেলো। তাদের কাছে আমার একটাই প্রশ্ন ছিল- “কিভাবে নিজেদের অহিংসার ধর্মের অনুসারী ভাবেন তারা!!!!”

আজ বৌদ্ধদের প্রবারনা পূর্ণিমা। আমার সবচেয়ে প্রিয় ধর্মিয় অনুষ্ঠান এটি। নানান রঙ্গের ফানুসে আজ আলোকিত হবে বাংলাদেশের আকাশ। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ফানুস বানানো আর তা উড়ানোর মাঝে যে এক প্রশান্তি আছে তা লেখায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

আমার এতো প্যাঁচালের মূল কারণ হলো-
-আমি কোন বিভেদেই বিশ্বাসী নই।
-শুধু ১৬ লক্ষ নয় আমি চাই ১৬ কোটি মানুষের মাঝে কোন বিভেদ না থাকুক।
-ধর্মের নামে রক্তে কেনা বাংলা ভাষার বিভেদকে আমি ঘৃণা করি।
সর্বোপরি সর্বস্তরে (রাজাকার ও দেশ বিদ্বেষী ছাড়া) অহিংসার নীতি চালু করুণ।

সবাইকে শুভ প্রবারনা পূর্নিমা।

৮ thoughts on “সবাইকে শুভ প্রবারনা পূর্নিমা

  1. আমার ইউনিভার্সিটির রুমমেট
    আমার ইউনিভার্সিটির রুমমেট বৌদ্ধ বলে আপনাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। স্পেশালি ফানুস ওড়ানোর উৎসবটা তো সেই রকম লাগে আমার কাছে।
    বৌদ্ধ কমিউনিটিতে যে এরকম বিভেদ আছে , আগে জানতাম না।

  2. প্রায় সব ধর্মের কিছু ব্যক্তি
    প্রায় সব ধর্মের কিছু ব্যক্তি মানুষের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করে নিজেদের ফায়দা লুটতে ব্যস্ত থাকে॥

  3. কঠিন একটি সত্যকে খুব সাবলিল
    কঠিন একটি সত্যকে খুব সাবলিল ভাষায় তুলে ধরলেন।আসলে সকল ধর্মেই একই সমস্যা বিদ্যমান। এরা মনীষীদের আদর্শে নয় নিজেদের স্বার্থে ধর্মকে চাপিয়ে দিচ্ছে সমাজ তথা রাষ্ট্রের উপর।

  4. -আমি কোন বিভেদেই বিশ্বাসী নই।

    -আমি কোন বিভেদেই বিশ্বাসী নই। -শুধু ১৬ লক্ষ নয় আমি চাই ১৬ কোটি মানুষের মাঝে কোন বিভেদ না থাকুক। -ধর্মের নামে রক্তে কেনা বাংলা ভাষার বিভেদকে আমি ঘৃণা করি। সর্বোপরি সর্বস্তরে (রাজাকার ও দেশ বিদ্বেষী ছাড়া) অহিংসার নীতি চালু করুণ

    :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :বুখেআয়বাবুল:

    সবাইকে শুভ প্রবারনা পূর্ণিমা… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :ফুল: :ফুল:

  5. -আমি কোন বিভেদেই বিশ্বাসী নই
    -আমি কোন বিভেদেই বিশ্বাসী নই :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  6. ধর্ম কিছুতেই বিভেদ সৃষ্টি
    ধর্ম কিছুতেই বিভেদ সৃষ্টি করার কোনো ইস্যু নয়। বিভেদ ধ্বংস হোক। সাম্যবাদ মুক্তি পাক। জয় সাম্যবাদ।

    গাহি সাম্যের গান,
    যেখানে এসে এক হয়েছে,
    জ্বীন পরী ইনসান।
    লিখি সাম্যের চিঠি,
    যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে,
    বাঙালি ষোল কোটি।

  7. এটা একটা কালেক্ট করা পোষ্ট।
    এটা একটা কালেক্ট করা পোষ্ট। লেখাটা আমার খুব ভাল লেগেছে বিশেষ করে আপনারা সবাই যেটাকে প্রাধান্য দিয়েছেন ঐ বিষয় টি ঃ আমি কোন বিভেদেই বিশ্বাসী নই। -শুধু ১৬ লক্ষ নয় আমি চাই ১৬ কোটি মানুষের মাঝে কোন বিভেদ না থাকুক। -ধর্মের নামে রক্তে কেনা বাংলা ভাষার বিভেদকে আমি ঘৃণা করি। সর্বোপরি সর্বস্তরে (রাজাকার ও দেশ বিদ্বেষী ছাড়া) অহিংসার নীতি চালু করুণ।
    সবাইকে ধন্যবাদ পোষ্টি পড়ার জন্য। আর আশা করি আর কোন সংগৃহিত পোষ্ট দিবা না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *