পতিতাদের সাথে কিছুক্ষণ

গতকাল করেছিলাম রিকশা ভ্রমণ। আজ করলাম নৌকা ভ্রমণ সুরমা নদীর উপরে। শরীরে জ্বর, মাথা ব্যাথা, বমির ভাব ও ছিল সারাদিন। নৌকা ভ্রমণ খারাপ লাগেনি। নৌকা ভ্রমণ শেষে যখন ঘাটে এসে নামলাম, আমি আর মিজান গল্প করছিলাম রেলিঙে হেলান দিয়ে। হঠাৎ একটা মেয়ে এসে দাড়াল ঠিক আমাদের দুইজনের মাঝখানে যে জায়গাটুকু ফাকা ছিল সেখানে।

-ভাইজানেরা কি পাকাইতে(ঘুরতে) আইছেন?
-হ্যাঁ, ঘুরতে এসেছি। কথার ভঙ্গি দেখে বুঝে ফেললাম মেয়েটা পতিতা।
-আর কিছু লাগব নাকি?
মাথা এমনিতে ব্যাথায় অস্থির, মাথা ঘুরতেসিলো আগে থেকেই, জ্বরের ঘোরে মনে হচ্ছিলো শরীর দুলছে। নিজের অজান্তেই মুখ দিয়ে বেরিয়ে এল-
“কোথাও সান্ত্বনা নেই পৃথিবীতে আজ

গতকাল করেছিলাম রিকশা ভ্রমণ। আজ করলাম নৌকা ভ্রমণ সুরমা নদীর উপরে। শরীরে জ্বর, মাথা ব্যাথা, বমির ভাব ও ছিল সারাদিন। নৌকা ভ্রমণ খারাপ লাগেনি। নৌকা ভ্রমণ শেষে যখন ঘাটে এসে নামলাম, আমি আর মিজান গল্প করছিলাম রেলিঙে হেলান দিয়ে। হঠাৎ একটা মেয়ে এসে দাড়াল ঠিক আমাদের দুইজনের মাঝখানে যে জায়গাটুকু ফাকা ছিল সেখানে।

-ভাইজানেরা কি পাকাইতে(ঘুরতে) আইছেন?
-হ্যাঁ, ঘুরতে এসেছি। কথার ভঙ্গি দেখে বুঝে ফেললাম মেয়েটা পতিতা।
-আর কিছু লাগব নাকি?
মাথা এমনিতে ব্যাথায় অস্থির, মাথা ঘুরতেসিলো আগে থেকেই, জ্বরের ঘোরে মনে হচ্ছিলো শরীর দুলছে। নিজের অজান্তেই মুখ দিয়ে বেরিয়ে এল-
“কোথাও সান্ত্বনা নেই পৃথিবীতে আজ
বহুদিন থেকে শান্তি নেই”
কবিতা শুনে বিরক্ত হয়ে মেয়েটা বলল, ভাইজান কিছু লাগলে কন।
ঝিমাইল চুপচাপ দাঁড়িয়েছিলো নদীর দিকে চেয়ে। আমি মেয়েটির কথা না বুঝার ভান করে বললাম-“কি আছে তোমার কাছে? তুমি কি দিতে পারবে?”
মেয়েটি বলল-“আছে তো অনেক কিছুই, দরকার হইলে দিমু”। বলেই মিচকা একটা হাসি দিলো। আমি জিজ্ঞেস করলাম- যেমন?
মেয়েটা তারপর আমার কথায় যারপরনাই বিরক্ত হয়ে মিজান কে বল্লো-“দোস্ত, সিগারেট টা দাও। সে সিগারেট দিয়ে দিলো। মেয়েটা সিগারেট টানতে টানতে চলে গেল।

একটু পর ৩০-৩৫ বছর বয়স্কা একটা মহিলা এল আমাদের দিকে এগিয়ে।
-বন্ধু, কিছু করবেন নাকি নাকি এমনি আইছেন?
-ঘুরতে এসেছি। আমি জবাব দিলাম।
-তাইলে একটু ওইদিকে গিয়া খাড়ান। এইদিকে পুলিশ আহে, পরে আপনাগো ঝামেলা হইব। ওইদিকে গিয়া যতক্ষন ইচ্ছা খাড়াইয়া থাকেন।
-আচ্ছা যাচ্ছি। বলে আমরা একটু দূর গিয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। আর লক্ষ্য করতে লাগলাম কি কি ঘটছে। মহিলা পিছন থেকে আবার ডাক দিয়ে বলল-“বন্ধু শরম পাইতেসেন নাকি? শরম ভাঙলে ডাক দিয়েন।

কিছুক্ষণ পর দেখলাম একটা অন্ধকার গলির ভেতর থেকে ভদ্রলোক গোছের একটা লোক বাজারের ব্যাগ হাতে বেরিয়ে আসছে। একটু পর একটা ছেলে এল সাদা শার্ট পরিহিত। ছেলেটাকে আমি এর আগেও দেখেছি। মুখ চিনি টাইপ। পাইলট স্কুলে পড়ে। কিছুক্ষণ ইতস্তত এদিক ওদিক করতেই এক মহিলা তার দিকে এগিয়ে গেল। ছেলেটা মহিলার হাত ধরে গলির ভিতর ঢুকে গেল। আবার ৫ মিনিট পর বেরিয়ে এসে ভদ্রলোকের মত হেটে হেটে চলে গেল। আরও দেখলাম কিছু মানুষ নামক নরপিশাচ এর আচরণ যারা পতিতাদের টাকা দিতে অস্বীকার করছে। ঝগড়া শুরু করেছে সামান্য ক’টা টাকা নিয়ে। কিছু বলার নাই এদের আসলে। লজ্জায় মনটা অনেক খারাপ হয়ে গেল। অতঃপর নৌকায় করে আবার ফিরে গেলাম। সবমিলিয়ে ভালোই অভিজ্ঞতা হলো চাঁদের আলোয় দুই যুবকের।

১৪ thoughts on “পতিতাদের সাথে কিছুক্ষণ

  1. পোস্ট পড়ে জাতীয় স্পিকার হয়ে
    পোস্ট পড়ে জাতীয় স্পিকার হয়ে গেলাম… :চিন্তায়আছি: :চিন্তায়আছি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :আমারকুনোদোষনাই: :আমারকুনোদোষনাই:

  2. নজরুল তার সাহিত্যের রসদ নিতে
    নজরুল তার সাহিত্যের রসদ নিতে মাঝে মাঝে গনিতা পাড়ায় বা বাঈজী পাড়ায় যেতেন।বেশ কিছু গান,ও সাহিত্যের অন্য বিভাগগুলোতে এর প্রভাব দেখা যায়। নজরুলের জীবনী গ্রন্থেও এর উল্লেখ আছে। :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ:

  3. ঢাকার আলো ঝলমলে রাস্তার পাশে
    ঢাকার আলো ঝলমলে রাস্তার পাশে গাছ অথবা বিল্ডিং এর অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি, মূল্য নিয়ে বসচা হওয়ার পর ফিরে যেতে অথবা কারে নিয়ে এসে তুলে নিয়ে যেতেও দেখেছি।

    1. ভয়াবহ না, অভিজ্ঞতা টা ভালোই
      ভয়াবহ না, অভিজ্ঞতা টা ভালোই হয়েছে বলতে পারেন। তবুও কেন জানি সবকিছু স্বাভাবিক মনে হচ্ছিলো

  4. চট্টগ্রাম ডিসি হিলে রাত ১০ টা
    চট্টগ্রাম ডিসি হিলে রাত ১০ টা কি ১১ টার দিকে আমার এই রকম একটি অভিজ্ঞতা হয়েছিলো। কিন্তু আপনার মত এত স্পষ্ট অভিজ্ঞতা নয়। আমি এখনো নিশ্চিত নই, মেয়েটি পতিতা ছিলো কিনা।

  5. চট্টগ্রামে কয়েকটা জায়গায় এমন
    চট্টগ্রামে কয়েকটা জায়গায় এমন কিছু ঘটনা প্রায় ঘটে।
    আমার ইচ্ছা আছে একদিন তাদের সাথে রাত কাটানোর । তাদের জীবনের গল্প গুলো শোনার।

  6. রাত বারোটা নাগাদ আমরা কয়েকজন
    রাত বারোটা নাগাদ আমরা কয়েকজন প্রায় সাইকেল যোগে লাভ লেইন থেকে পান নিয়ে ডিসি হিলে বসে খাই তখন এইরকম অনেক দৃশ্য,ঘটনা নজরে পড়ে……

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *