পারিবারিক সহিংসতায় পুরুষের নেপথ্য ভূমিকা

সাম্প্রতিক সময়ে পারিবারিক সহিংসতা অনেকটা চক্রাকারে আবদ্ধ হয়ে পরিবার নামক মজবুত বাধনকে নড়বর করে দিচ্ছে।আশেপাশের অনেকের কাছ থেকে এই নড়বড়ে কারণের উৎস খুজতে গিয়ে -সম্মুখে, পেছনে কিংবা মধ্যখানে পুরুষের স্পষ্ট ভুমিকা দেখতে পাই।যদিও নারীর ভুমিকাকে কিছুতেই অস্বীকারের সাহস আমার নেই।বউ -শাশুড়ি ,মা -ছেলে,ভাই-বোন ,বাবা-ছেলে,শাশুড়ি -জামাই,বেয়াইন -বেয়াইন,ননদ-ভাবী ,দেবর -ভাবী,শালী -দুলাভাই ….ইত্যাদি কেউই এই চক্রাকার থেকে বাদ পরছে না।ফলাফলসরুপ “পরিবার”নামক শব্দের করুন পরিনতি।

সাম্প্রতিক সময়ে পারিবারিক সহিংসতা অনেকটা চক্রাকারে আবদ্ধ হয়ে পরিবার নামক মজবুত বাধনকে নড়বর করে দিচ্ছে।আশেপাশের অনেকের কাছ থেকে এই নড়বড়ে কারণের উৎস খুজতে গিয়ে -সম্মুখে, পেছনে কিংবা মধ্যখানে পুরুষের স্পষ্ট ভুমিকা দেখতে পাই।যদিও নারীর ভুমিকাকে কিছুতেই অস্বীকারের সাহস আমার নেই।বউ -শাশুড়ি ,মা -ছেলে,ভাই-বোন ,বাবা-ছেলে,শাশুড়ি -জামাই,বেয়াইন -বেয়াইন,ননদ-ভাবী ,দেবর -ভাবী,শালী -দুলাভাই ….ইত্যাদি কেউই এই চক্রাকার থেকে বাদ পরছে না।ফলাফলসরুপ “পরিবার”নামক শব্দের করুন পরিনতি।
অনেকেই ইন্ডিয়ান চ্যানেল কে এর জন্য দায়ী করছে ….আমি মনে করি এসব চ্যানেল ফ্যানেল যতটা না দায়ী তার চেয়ে হাজার গুন দায়ী আমাদের পরিবারের সদস্যরা।একটু গভীর আলোচনায় যাওয়ার আগে বলে নিচ্ছি …চিরাচরিত ভাবে পরিবারের শান্তি বিনষ্টের জন্য রমনিকুলেরা দায়ী -এই বক্তব্য আমরা সবাই যেমন জানি তেমনি মানিও,কিন্তু একজন পুরুষ কিভাবে সংসারের শান্তি বিনষ্টে ভুমিকা রাখছে সেটা আলোচনা করাই এই লেখার মূল উদ্দেশ্য ……..

১/আপনি ছোট বেলা থেকেই দেখে আসছেন আপনার মার কোনো মতামত কে গুরত্ব দেয়া হয় না কিংবা তার সাথে খারাপ ব্যবহার করা হয় ……..আপনার এই অভ্যস্ততাই পরবর্তী তে আপনার স্ত্রী গুরত্বতা নিয়েও আপনাকে সংশয়ে ফেলে দিবে।

২/ধরা যাক,আপনার বউ আপনার মার সাথে কোনো কারণে খারাপ ব্যবহার করেছে কিন্তু আপনি সেটার প্রতিবাদ করা টাকে সংসারে আরো অশান্তি টেনে আনা ভেবে চুপ করে থাকলেন …..আপনার এই মৌন সম্মতি দীর্ঘমিয়াদী অশান্তির মূল কারণ।

৩/অনেক পরিবারের মহিলাদের দেখেছি ছেলে সন্তান কে আশ্রয় করে স্বামীর উপর অত্যাচার চালিয়ে যায় যুগের পর যুগ …..আর এক্ষেত্রে নেপথ্য সহযোগিতার একমাত্র নায়ক সেই পুরুষ সন্তানটি।

৪/বিপরীত চিত্রও দেখা যায় , পিতা তার উপার্জনক্ষম ছেলে কে সহযোগী করে সংসারের অন্যান্য সদস্যের উপর অহেতুক কর্তিত্ব চালিয়ে যায় ……….এ ধরনের সহযোগী মনোভব ও পারিবারিক সহিংসতার উত্পত্তির অন্যতম কারণ।

সাম্প্রতিক সময়ে কিছু অনলাইনভিত্তিক কাউন্সিলিং এর সাথে নিজের সম্পৃক্ততা,পারিবারিক অশান্তির মূলে পুরুষের ভূমিকা নির্ধারণে উপরোক্ত ৪টি কারণ কেই প্রধান হিসেবে গণ্য করতে সমর্থ্য হয়েছি।
জুনিয়র ,সিনিয়র,পরিচিত ,অপরিচিত,বন্ধু বান্ধব …………যারাই এ ধরনের সহিংসতার কবলে পরে নিজেদের শান্তি বিসর্জন দিচ্ছেন /দিচ্ছিস /দিচ্ছ তারা আমাকে ইনবক্স করতে পারেন।আমি কিংবা আমরা চেষ্টা করব আপনাদের সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিতে …….আর হ্যা আমি /আমরাই একমাত্র গোপনীয়তার ১০০%গ্যরান্টি দিচ্ছি ……

facebook inbox :https://www.facebook.com/tahmina.bappy
gmail : thbppy@gmail.com

১২ thoughts on “পারিবারিক সহিংসতায় পুরুষের নেপথ্য ভূমিকা

  1. বার্নাড শো বলছিল – বিয়ে হল
    বার্নাড শো বলছিল – বিয়ে হল স্থায়ী বেশ্যাবৃত্তি ..। ধর্মের সাথে সাথে বিয়ে প্রথা থেকে মুক্ত না হতে পারলে জীবনের মুক্তি অসম্ভব। আপ্নার এই প্রচেষ্টা অবশ্যই প্রশংসার দাবীদার। এগিয়ে যান…

    1. বার্নাড শো মনে হয় নিজেই
      বার্নাড শো মনে হয় নিজেই পারিবারিক সহিংসতার শিকার ছিলেন,সেজন্যই বিয়ে নামক সুন্দর শান্তির মাধ্যম কে অসুন্দর ভাবে চিন্তা করার প্রয়াস পেয়েছিলেন।বার্নাড শো দের মতো বিয়ে কিংবা পরিবার বিরোধীদের বিপরীত সমর্থন আদায়ই আমার লক্ষ্য।আপনাদের দোয়া আর সহযোগিতাই লক্ষ্য পূরণে যথেষ্ট ……

  2. ১/ আপনি ছোট বেলা থেকেই দেখে
    ১/ আপনি ছোট বেলা থেকেই দেখে আসছেন আপনার মার কোনো মতামত কে গুরত্ব দেয়া হয় না == কথাটা অন্তত আমার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না। বাসায় আমার বাবাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন, কিন্তু সেটা আমার আম্মার মতামতের বিপরীতে গিয়ে নয়। সত্যি কথা বলতে আমি প্রতিবেশী যাদের দেখেছি কিংবা আমার বন্ধু বান্ধবের Parent দের ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার লক্ষ্য করেছি।
    আর নিজের সহধর্মিণীর ব্যাপারে বলবো, Ask her if she is happy or not. But I’m confident enough!
    ২/ যৌথ সংসার আমার কাছে একটি ছোট খাট রাজনৈতিক মঞ্চ বলে মনে হয়। এখানে মাঝে মাঝে চুপ থাকাটাই দুর্দান্ত কাজে দেয়। কেউ কেউ এতে আপনার প্রতি বিরক্ত হবে। কিন্তু কিচ্ছু করার নাই। দুনিয়া এভাবে চলছে, এভাবেই চলবে।

    এসব সমস্যা কমিয়ে আনতে হলে আমার মতে,
    প্রথমত প্রয়োজন শিক্ষা। সেটা শুধু পাঠ্যবই থেকে অর্জিত জ্ঞান নয় বরং সেই শিক্ষা যেন একজন মানুষের মানবিকগুনাবলি বিকাশের সহায়ক হয় সেদিকেও দৃষ্টি দিতে হবে।
    দ্বিতীয়ত সামাজিক ও পারিবারিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। এটা অনেক vast সাবজেক্ট। আসলে, যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা আমাদের personal benefit কিসে হচ্ছে এই চিন্তা থেকে বের হতে না পরবো ততক্ষণ আমাদের মুক্তি নেই।

    1. শুকরিয়া নজর না লেগে যায়
      শুকরিয়া নজর না লেগে যায় …….আপনি এই দিক থেকে অনেক লাকী , আপনি আপনার বাবা মার সহাবস্থান কে হৃদয় দিয়ে উপলব্দি করতে পেরেছেন …..কিন্তু এরকম অনেক ফ্যমিলি আছে যেখানে বাবা হয়তো মা দের সাথে কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন কিন্তু সিধান্ত নেয়ার বেলায় একপেশে আচরণ করেন ,এ ধরনের ফ্যমিলির ছেলে মেয়েদের ক্ষেত্রে আপনার মত হৃদয় দিয়ে উপলব্দি করা হয় না।

      যৌথ ফ্যমিলি আসলেই একটা রাজনৈতিক মঞ্চ।তবে সে মঞ্চ সঠিক ভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজন সময়োচিত সঠিক পদক্ষেপ।মৌন সম্মতি দ্বারা অন্যায় কে প্রশ্রয় দেয়া হলে সেটাই এক সময় কালচারে পরিনত হবে।আর এ ধরনের কালচার আপনার মঞ্চের করুন পরিণতির জন্য যথেষ্ট।
      আপনার শেষ মন্তব্যের সাথে আমি পুরোপুরি দ্বিমত পোষণ করছি ……
      “যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা আমাদের personal benefit কিসে হচ্ছে এই চিন্তা থেকে বের হতে না পরবো ততক্ষণ আমাদের মুক্তি নেই।”
      একটু ঘুরিয়ে বলি …..আমরা প্রত্যেকে যদি আমাদের পার্সোনাল বেনিফিটের কথা সঠিকভাবে চিন্তা করতে শিখি তবে সেই চিন্তা টা ঘুরেফিরে একটা রুটের মধ্যে আসতে বাধ্য।মজার ব্যপার হচ্ছে আসলে আমরা জানিই না,কিসে আমাদের মুক্তি কিংবা কিভাবে আমাদের পার্সোনাল বেনিফিট ঘটবে।
      সবশেষে বলি একটা সুন্দর পরিবারতন্রের চমত্কার শিক্ষাই পারে একজন চমত্কার মানুষ উপহার দিতে।যে মানুষটি সারাজীবন পরিবারের সার্থপর আচরণ দেখেছে পরবর্তী জীবনে সে তার শিক্ষার প্রতিফলন ঘটাবেই,এটাই স্বাভাবিক।

      1. হা হা হা! আমার বউ আমার
        হা হা হা! আমার বউ আমার মন্তব্য ৫০০% দ্বিমত পোষণ করেছে এবং আমাকে সেটা লিখতে বাধ্য করেছে!

        একটা সুন্দর পরিবারতন্রের চমত্কার শিক্ষাই পারে একজন চমত্কার মানুষ উপহার দিতে।===একজন চমত্কার মানুষ কিভাবে আসে সেটা ঠিক জানি না। এমন অনেক অদ্ভুত জায়গায় অদ্ভুত সব ভালো মানুষের দেখা পেয়েছি যে আসলে আমার এ বিষয়ে ধারনাটা পাল্টে গেছে। আমার মনে হয় শুধু পরিবার না, আশেপাশের পরিবেশও এ ব্যাপারে যথেষ্ট ভূমিকা রাখে।
        একটা অভিজ্ঞতা শেয়ার করি। আমার স্কুল জীবনের এক বন্ধু নাম, পারভেজ। বাবা ডিসেন্ট সরকারি চাকরি করেন, মা পুরোপুরি বাঙালি গৃহিণী। পারভেজের সাথে পরিচিত হওয়ার পর জানতে পারলাম ওর ছোট বোন আমার ছোট বোনের সাথেই পড়ে। ফ্যামিলি স্ট্রাকচার, অর্থনৈতিক অথবা সামাজিক দিক দিয়ে দেখতে গেলে আমার ফ্যামিলির সাথে মোটামুটি একটা সাদৃশ্য পাওয়া যাবে।
        পার্থক্য হল আমার আর পারভেজের বড় হয়ে ওঠার পরিবেশ। পারভেজ যাদের ছোট বেলায় খেলার সাথি হিসেবে পেয়েছে তারা একটু বড় হয়েই এলাকার মাস্তানে পরিণত হয়েছে। এক সময় পারভেজও সেই পথে গেছে।
        গুণ্ডামি, মাস্তানি, ড্রাগস, রেপ — এমন কিছু নাই যা ও করেনি। ভাগ্য ভাল। ধরা পড়েনি কখনো। মাঝে একবার সউদি আরব চলে গেল। ওখনাও মারামারির কারণে ৩/৩.৫ বছর পর ফিরে এসেছে।

        1. আপনার বিবি কে আমার পক্ষ থেকে
          আপনার বিবি কে আমার পক্ষ থেকে একটা বিপ্লবী লাল সালাম দিয়ে দিবেন।
          জীবনের একটা সময় পর্যন্ত পরিবারের পাশাপাশি আশেপাশের পরিবেশ ও অনেক ভুমিকা পালন করে।আপনার মত আমারও এরকম হাজারও অভিজ্ঞতা আছে , তবে সে প্রসঙ্গে না হয় আরেকদিন যাবো ……

  3. পরিবার মানুষকে একমুখী ও
    পরিবার মানুষকে একমুখী ও স্বার্থপরায়ণ করে তুলছে। মা, নিজের বাচ্চা কে খুশি রাখতে বা একটু বাড়তি সুবিদার জন্য অনৈতিক কাজ যেমন ধরেন ঈদে বাচ্চা কে একটি দামী জামা দেওয়ার জন্য আগের মাসে ঘুষের মাত্রা বাড়িয়ে দিল. সমাজে বাস করে আত্নকেন্দ্রিক চিন্তাধারা শিশু পরিবার থেকেই ধারন করে ।আদিম মানুষ কৃষি ও পশুপালন যুগে এসে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পরিবারকেন্দ্রিক হয়ে উঠে, এরপর থেকে এ ধারা চলেই আসছে এবং আমরা প্রায় অভ্যস্ত হয়ে উঠেছি, এখন এ ঘন্ডির বাহিরে চিন্তাই করতে পারি না।

    1. ধন্যবাদ ভেজা খড়কুটো……
      ধন্যবাদ ভেজা খড়কুটো…… আমার মন্তব্য আর আপনার মন্তব্য একই হওয়ার কারণে সহমত পোষণ করছি.

  4. “পরিবার” বলে কোন বিষয় থাকলে
    “পরিবার” বলে কোন বিষয় থাকলে তা পাস করা হয়ত অনেক কঠিন হত এবং কেউ পাস করত কি না আমার সন্দেহ আছে। :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট:

    1. ধন্যবাদ খালেদ সাইফুল্লাহ
      ধন্যবাদ খালেদ সাইফুল্লাহ রাজ,এখানে মন্তব্য কারীদের মধ্যে একজন অলরেডি পাশ করে ফেলেছেন …তিনি হচ্ছেন নাভিদ কায়সার রায়ান
      এখনও প্রতি ৪জনের মধ্যে একজন পাশ কারী ব্যক্তি আছেন বলেইতো পরিবারতন্ত্র টিকে আছে তা না হলে কবে ……..

  5. সংখ্যাটা একটু বেশি,প্রতি
    সংখ্যাটা একটু বেশি,প্রতি চারজনে তিনজন ঈ এ সমস্যায় ভুগছেন? কবে যে আমরা পরিবারের ঘন্ডি থেকে বের হয়ে সমাজবদ্ধ হয়ে বাস করর, আল্লাই মালুম

    1. ধন্যবাদ ভেজা
      ধন্যবাদ ভেজা খড়কুটো….
      সংখ্যাটা যাতে কমিয়ে আনা যায়, সেজন্য এগিয়ে আসতে হবে আমাদের কেই ……
      আপনার আশেপাশের অনেকেই হয়ত আছেন এ ধরনের সমস্যায় পরে জীবনটাকে নিংড়ানো ভেজা কাপড় বানিয়ে ফেলেছেন ,এ ধরনের নিংড়ানো জীবনে প্রাণ সঞ্জার করার জন্যই আমাদের প্রচেষ্টা
      ……….যে কেউ আমাকে ইনবক্স করতে পারেন নীচের দুটো ঠিকানায়
      facebook inbox :https://www.facebook.com/tahmina.bappy
      gmail : thbppy@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *