মহান মুক্তিযুদ্ধে বামপন্থীদের অবদানঃ বামপন্থী চেতনায় মুক্তিযুদ্ধ

বামপন্থীদের সাথে মুক্তিযুদ্ধের সম্পর্ক নিয়ে অনেক জলঘোলা হচ্ছে বর্তমানে। ইন্টারনেট এবং বই ঘেঁটে আমি খুঁজে বের করতে চেয়েছি সত্য ইতিহাস। সেই ইতিহাস গুলোই এই পোস্টে একে একে তুলে ধরবো। কথা না বাড়িয়ে আসল কাজে আসি।

প্রথমে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কিছু কথাঃ স্বপক্ষের শক্তি’ দাবিদারদের অনেকেই বিচ্যুত হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা থেকে। তারই প্রমাণ আমরা পাই সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে, যেখানে মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে রেখে দেয়া হয়েছে

বামপন্থীদের সাথে মুক্তিযুদ্ধের সম্পর্ক নিয়ে অনেক জলঘোলা হচ্ছে বর্তমানে। ইন্টারনেট এবং বই ঘেঁটে আমি খুঁজে বের করতে চেয়েছি সত্য ইতিহাস। সেই ইতিহাস গুলোই এই পোস্টে একে একে তুলে ধরবো। কথা না বাড়িয়ে আসল কাজে আসি।

প্রথমে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কিছু কথাঃ স্বপক্ষের শক্তি’ দাবিদারদের অনেকেই বিচ্যুত হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা থেকে। তারই প্রমাণ আমরা পাই সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে, যেখানে মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে রেখে দেয়া হয়েছে
‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ এবং রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম।
এ সময়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় যারাই পালাক্রমে আসছে, তারা তাদের শাসন-শোষণ কাঠামো টিকিয়ে রাখতে, গোষ্ঠীস্বার্থ হাসিল করতে মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা থেকে বিচ্যুত হচ্ছে, এবং তার ফলশ্রুতিতে দেখা যাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের নানামুখী বিকৃতি ও খন্ডিত উপস্থাপন। আর তাই, এদেশের তরুণ প্রজন্ম মুক্তিসংগ্রামের সঠিক, নির্মোহ , বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের সংস্পর্শে না আসতে পারায় গৌরবময় সেই ইতিহাসের উত্তরাধিকার ও দায় বহন করা থেকে অনেকটাই বঞ্চিত হচ্ছে।

নেতৃত্বে কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, মেহনতী মানুষ, প্রগতিশীল মধ্যবিত্তের ধারাবাহিক রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ইতিহাসকে বাদ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস রচনা করা সম্ভব নয়। অথচ মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসে বামপন্থীদের ভূমিকা নিয়ে নানা বিতর্ক, ধূর্মজাল সৃষ্টি করা হয়েছে। তাদের অবদানকে কোথাও কোথাও খন্ডিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, কোথাও একেবারেই ধামাচাপা দেবার চেষ্টা করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি সৃষ্টিতে, মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতিপর্বে এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে ছাত্র ইউনিয়নের প্রগতিশীল অগ্রগামী ভূমিকাকেও নতুন প্রজন্মের কাছ থেকে দৃষ্টির আড়ালে রেখে দেওয়ার প্রচেষ্টাও চলেছে। আর তাই, এ সময়কালে মুক্তিযুদ্ধে ছাত্র ইউনিয়ন সহ বামপন্থী, কমিউনিস্টদের ভূমিকা সম্পর্কিত বিস্তারিত আলোচনা প্রয়োজন। মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনাকে উপলব্ধিতে এনে, দেশকে মুক্তিযুদ্ধের ধারায় পরিচালিত করতে গেলে মুক্তিযুদ্ধে ছাত্র ইউনিয়নসহ এদেশের বামপন্থী, কমিউনিস্টদের অবদানের ইতিহাসকে সামনে তুলে আনার কোন বিকল্প নেই।

ছাত্র ইউনিয়ন ও কিছু ফফ্লাশব্যাক: দেশ ভাগের অব্যবহিত পরেই উপমহাদেশের কমিউনিস্টদের কন্ঠে সর্বপ্রথম আওয়াজ ওঠে, ‘ইয়ে আজাদি ঝুটা হ্যায়, লাখো ইনসান ভুখা হ্যায়’। পূর্ব বাংলার কমিউনিস্টরাও এই স্লোগান নিয়ে মানুষের কাছে যেতে থাকেন। সেসময় এই
আওয়াজ হঠকারী ছিল কীনা সে প্রসঙ্গ এড়িয়েও এ কথা বলা যায় যে, কমিউনিস্টরাই সর্বপ্রথম ১৯৪৭ সালের সেই তথাকথিত স্বাধীনতাকে মিথ্যে বলে চিহ্নিত করেন। সেই মিথ্যে স্বাধীনতাকে প্রত্যাখ্যান করেই সামাজিক, রাজনৈ তিক, অর্থনৈতিক মুক্তির মহান লক্ষ্যে ১৯৭১ সালে সংঘটিত হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ। যদিও, প্রতিক্রিয়াশীল প্রতিবিপ্লবীদের
দখলে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা চলে যাওয়ায়
আমরা আজো সেই মুক্তির প্রকৃত স্বাদ আস্বাদনকরতে পারি নি, এখনো কোটি মানুষ অনাহারে, অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। কমিউনিস্টদের উপর পাকিস্তান জন্মের পর থেকেই নেমে আসে ফ্যাসিস্ট আক্রমণ, নির্যাতন, জুলুম। তার মাঝেই নাচোলের রাণীকমরেড ইলা মিত্রের নেতৃত্বে তেভাগা আন্দোলন, কমরেড মণি সিংহের
নেতৃত্বে টঙ্ক আন্দোলন, অজয় ভট্টাচার্য-বারীন দত্তের নেতৃত্বে নানকার বিদ্রোহ গড়ে ওঠে। শাসকশ্রেণীর হিংস্রতায় খাপড়া ওয়ার্ডে এ দেশের প্রথম জেল হত্যাকান্ডে শহীদ হন কমিউনিস্ট বিপ্লবীরা।
কমিউনিস্টদের সংগ্রামে অর্থনৈতিক মুক্তির প্রশ্নের সাথে সাথে গণতন্ত্র এবং বাঙালি জাতির অধিকারের প্রসঙ্গও ক্রমশ সামনে আসতে থাকে। পূর্ব বাংলার নিপীড়িত মানুষও সচেতন হয়ে ওঠে তাদের অধিকার সম্পর্কে।
১৯৪৮ সাল থেকেই বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার
দাবিতে মহান ভাষা আন্দোলনের সূচনা হয়। সূচনালগ্ন থেকেই প্রগতিশীল, বামপন্থী কমিউনিস্টরা এই আন্দোলনকে সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। জিন্নাহ যখন কার্জন হলে এসে ঘোষণা করেন উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা, তখন ছাত্ররা সমস্বরে ‘না, না’ বলে চিৎকার করে ওঠে। ছাত্ররাও সংগঠিত হতে থাকে ভাষা আন্দোলনে। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বামপন্থী, কমিউনিস্টদের সংস্পর্শে এসে ছাত্রদের মধ্যে প্রগতিশীল চিন্তন-মননের ধারা বিকশিত হতে শুরু করে। ১৯৫২ সালের মহান ২১শে ফেব্রুয়ারীতে শহীদদের আত্মদান এ
আন্দোলনকে এনে দেয় অপ্রতিরোধ্য গতি।
এ ঐতিহাসিক বাস্তবতায় ছাত্রদের মাঝে যে প্রগতিশীল, অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, সাম্রারাজ্যবাদবিরোধী চেতনার উন্মেষ ঘটে, তার উপর ভিত্তি করে ১৯৫২ সালের ২৬শে এপ্রিল প্রতিষ্ঠা লাভ করে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন।

মুক্তিযুদ্ধের মহীরুহ স্থাপনে বামদের কৃতিত্ব: জাতীয়তাবাদী চেতনা বিকাশে কোন শ্রেণী বা কোন রাজনৈতিক দল বা নেতার কি ধরণের ভূমিকা ছিল সেটাও জানা দরকার। আমার মতে, প্রথম পর্যায়ে এখানে বামপন্থীদেরই ছিল প্রধান ভূমিকা এবং মওলানা ভাসানী ও কমিউনিস্টদের। বস্তুত পাকিস্তান পর্বে মজলুম জননেতা ভাসানীই ছিলেন গোটা বামপন্থী (এমন কি বলা চলে সমগ্র প্রগতিশীল আন্দোলনেরও) শিবির ও
আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব। ষাটের দশকের
দ্বিতীয়ার্ধে শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনাকে প্রবল ও প্রচণ্ড রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করেছিলেন, যা যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিল। বাস্তবে দেশের অভ্যন্তরে মাঠ পর্যায়ে যারা যুদ্ধ করেছিলেন তাদের মধ্যে অগ্রণী ভূমিকা ছিল বাম কমিউনিস্টদের। অনেকগুলো বাম ও কমিউনিস্ট সংগঠন বিচ্ছিন্নভাবে যুদ্ধ করেছিল। তাদের মধ্যে ‘কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের পূর্ব বাংলা সমন্বয় কমিটি’র সবচেয়ে বেশি যুদ্ধ করার রেকর্ড
রয়েছে।

পাকিস্তান সৃষ্টির প্রথম ধাপ: পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার প্রথম পর্বে এই যে জাতীয় চেতনার বিকাশ, তার সূত্রপাত আমরা ধরতে পারি ভাষা আন্দোলন থেকে। তারও আগে, ১৯৪৭ সালেই পূর্ব পাকিস্তান আইন পরিষদে মওলানা ভাসানী কেন্দ্রীয় শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ডাক দিলেন। বললেন, ‘‘বৃটিশের শাসন মানি নাই, কেন্দ্রের শাসনও মানিব না।’’মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে প্রথম যে কার্যকরি বিরোধী দল আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়েছিল, তার ঘোষণাপত্রে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি গুরুত্বসহকারে স্থান পেয়েছিল। ১৯৪৮ সালেই জিন্নাহ যখন উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা রূপে ঘোষণা দিলেন, তখন তার সামনে দাঁড়িয়েই প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলা রাষ্ট্র ভাষার পক্ষে স্লোগান দেয়ার ঘটনা নবজাগ্রত জাতীয় চেতনার সাক্ষ্য বহন করে।

মনন জগতে কতো দ্রুত পাল্টে গেল দৃশ্যপট। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন ছিল আরেক ধাপ অগ্রগতি। ভাষা আন্দোলন এবং পাকিস্তান পর্বের প্রথম যুগে জাতীয় চেতনার বিকাশ ও জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন মওলানা ভাসানী ও আত্মগোপনকারী কমিউনিস্ট পার্টি। ভাষা আন্দোলনের মূল নেতারা – আবদুল মতিন, গাজীউল হক, মহম্মদ তোয়াহা, অলি আহাদ, মহম্মদ সুলতান প্রমুখ সকলেই ছিলেন কমিউনিস্ট অথবা বামপন্থী।

১৯৫৪ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগের ভরাডুবি প্রমাণ করে যে, বাংলার জনগণ চল্লিশের বিভ্রান্তি থেকে খুব দ্রুতই বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছিল। ১৯৫৫ সালে তদানীন্তন প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী মুসলিম লীগের নাম থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দেয়ার প্রস্তাব করলেন দলের সভাপতি মওলানা ভাসানী। সমর্থন পেলেন সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমানের। প্রথমদিকে, সোহরাওয়ার্দী আপত্তি করলেও পরে মেনে নিয়েছিলেন। এখানে উল্লেখ্য যে, সোহরাওয়ার্দীর ভূমিকা সব সময়ই ছিল প্রতিক্রিয়াশীল। প্রথমদিকে, তিনি বাংলা রাষ্ট্র ভাষারও বিরোধিতা করেছিলেন। তখন তিনি করাচীতে অবস্থান করছিলেন এবং জিন্নাহ মুসলিম লীগ নামক একটি ক্ষুদ্র দলের নেতা ছিলেন।

বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও জাতীয় চেতনার বিকাশের ধারা বেশ কিছু বাক এবং মোড় নিয়ে অগ্রসর হয়েছিল। ১৯৫৬ সালে মাত্র ১৩ জন দলীয় সংসদ সদস্যকে নিয়ে প্রেসিডেন্ট ইসকান্দার মির্জার সঙ্গে গোপনে আঁতাত করে সোহরাওয়ার্দী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হয়ে বসলেন। প্রধানমন্ত্রী হয়েই তিনি আওয়ামী লীগের ঘোষিত কর্মসূচিকে অস্বীকার করে (১) পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবি অস্বীকার করলেন, বললেন, ১৯৫৬-এর শাসনতন্ত্রে ৯৮ শতাংশ স্বায়ত্তশাসন ইতিমধ্যেই অর্জিত হয়েছে এবং (২) পাক-মার্কিন সামরিক চুক্তি, সামরিক জোট সিয়াটো-সেন্টো (তখন নাম ছিল বাগদাদ প্যাক্ট) এর পক্ষে সমর্থন জ্ঞাপন করলেন, বস্তুত পুরোদস্তর মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের নির্লজ্জ দালালি শুরু করলেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, তখন সোহরাওয়ার্দীর এই মতের পক্ষে দাঁড়ালেন আওয়ামী লীগের তদানীন্তন সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান।

একদিকে, সোহরাওয়ার্দী-মুজিব এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিক্রিয়াশীল অবস্থান, অপরদিকে মওলানা ভাসানী ও কমিউনিস্টরা এবং তাদের বাঙালি জাতীয়তাবাদী, সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী প্রগতিশীল অবস্থান। সেদিন যদি শেখ মুজিবুর রহমান সোহরাওয়ার্দীর পক্ষ না নিয়ে মওলানা ভাসানীকে সমর্থন করতেন এবং প্রাদেশিক স্বায়ত্ত্বশাসনের পক্ষে থাকতেন (যে অবস্থান তিনি অনেক জোরালোভাবে এক দশক পরে নিয়েছিলেন) তাহলে হয়তো এই দেশের ইতিহাস অন্যরকম হতো এবং প্রগতির ধারা জোরদার হতো।

সোহরাওয়ার্দী-মুজিবের বিরোধিতার মুখে দাঁড়িয়েই ১৯৫৭ সালে কাগমারী সম্মেলনে মওলানা ভাসানী উচ্চারণ করেছিলেন, তার সেই বিখ্যাত উক্তি, ‘পশ্চিম পাকিস্তানকে আসসালামুওয়ালাইকুম।’ অর্থাৎ বিচ্ছিন্নতার হুমকি। বাংলাদেশের জাতীয় আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ক্ষেত্রে এটি ছিল এক বিরাট মাইলফলক।

অস্ত্র উঁচিয়ে প্রথম শপথ নেয় বামপন্থী গেরিলারা: মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রত্যক্ষ সশস্ত্র লড়াইকে এগিয়ে নিতে কমিউনিস্ট পার্টি, ন্যাপ ও ছাত্র ইউনিয়ন সমম্বিতভাবে বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করে। < strong>অস্থায়ী বিপ্লবী সরকারের উপদেষ্টামন্ডলীতে আওয়ামী লীগ নেতারা ছাড়াও কমিউনিস্ট পার্টির কমরেড মণি সিংহ , ন্যাপের অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ ও মাওলানা ভাসানী এবং কংগ্রেসের মনোরঞ্জন ধর অন্তর্ভুক্ত হন। এছাড়া রাশেদ খান মেনন ও হায়দার আকবর খান রণোর নেতৃত্বাধীন বামপন্থী শক্তির সাথে সেতুবন্ধন গড়ে তোলার জন্যও চেষ্টা করা হয়। অক্টোবর মাসের দিকে এফএফ, বিএলএফ , বিশেষ গেরিলা বাহিনী প্রভৃতি পৃথক পৃথক গেরিলা যোদ্ধাদের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলার জন্য যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়-
তার পেছনে একটা প্রধান উদ্যোগ ছিল কমিউনিস্ট পার্টি, ন্যাপ ও ছাত্র ইউনিয়নের।
ন্যাপ, কমিউনিস্ট পার্টি ও ছাত্র ইউনিয়নের অনেক তরুণ কর্মী বিভিন্ন সেক্টর কমান্ডারের অধীনে গঠিত এফএফ বাহিনীতে যোগ দিয়ে বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করে। ঢাকার
ক্র্যাক প্লাটুনসহ বিভিন্ন এলাকার ঐতিহাসিক
সাহসী অপারেশনগুলোতে বামপন্থী তরুণরা তাদের দেশপ্রেম, সাহস ও নিষ্ঠার প্রমাণ রেখেছে। মে মাসে ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের ‘বিশেষ গেরিলা বাহিনী’ গঠনের কাজ শুরু হয়। জুন মাসের মধ্যে ৬ সপ্তাহের বিশেষ ট্রেনিংপ্রাপ্ত এই বাহিনীর প্রথম দল প্রশিক্ষণ শেষ করে। একে একে ৪টি ব্যাচের প্রশিক্ষণ শেষ হতে হতে এসে পড়ে নভেম্বর মাস। তখন ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠে যে, হানাদর বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদী রূপ নাও নিতে পারে। নভেম্বরের মাঝামাঝির পর যুদ্ধের কায়দা বদল করে ‘সরাসরি মোকাবিলা’ কৌশল গ্রহণ করা হয়। কিন্তু এই সিদ্ধান্তে উত্তরণের প্রক্রিয়া চলাকালেই ১১ নভেম্বর বেতিয়ারায় ঘটে যায় হানাদারদের সাথে সম্মুখ সমরে যুদ্ধ। এতে শহীদ হন আজাদ, মুনীর , রশিদ, দুদু মিয়া , শহীদসহ ৯ জন বীর গেরিলা। গেরিলাদের এক বিরাট বাহিনী ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে পৌঁছে যায় ঢাকার উপকণ্ঠে। গজারিয়া , কেরানীগঞ্জ , নবাবগঞ্জ, দোহার
প্রভৃতি এলাকা দিয়ে দক্ষিণ দিক থেকে গেরিলা দলগুলো অস্ত্রসজ্জিত হয়ে ও সমর সম্ভার নিয়ে ঢাকার দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এই এগিয়ে যাওয়া পথেই ১৬ ডিসেম্বর দুপুরের পরে ঘোষণা আসে হানাদার পাক বাহিনীর আত্মসমর্পণের। রাত ভোর হতেই গেরিলা দল রাজধানী অভিমুখে মার্চ শুরু করে দেয় এবং সকালের মধ্যে পৌঁছে যায় ঢাকা শহরে। বিধ্বস্ত শহীদ মিনারে অস্ত্র উচিয়ে মুক্তিযোদ্ধারের প্রথম
যে দলটি শপথ নেয় তা ছিল ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের ‘বিশেষ গেরিলা বাহিনী’র।

এইবার আরো কিছু ফ্লাশব্যাক:

যুদ্ধ চলাকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্ব দিয়েছিলেন প্রধানত তাজউদ্দিন আহমদ। কিন্তু বাস্তবে দেশের অভ্যন্তরে মাঠ পর্যায়ে যারা যুদ্ধ করেছিলেন তাদের মধ্যে অগ্রণী ভূমিকা ছিল বাম কমিউনিস্টদের। অনেকগুলো বাম ও কমিউনিস্ট সংগঠন বিচ্ছিন্নভাবে যুদ্ধ করেছিল। তাদের মধ্যে ‘কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের পূর্ব বাংলা সমন্বয় কমিটি’র সবচেয়ে বেশি যুদ্ধ করার রেকর্ড রয়েছে।

মওলানা ভাসানী নিজ হাতে গড়া দল আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হলেন এবং গঠন করলেন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি বা ন্যাপ। পাকিস্তান আমলের সবচেয়ে প্রগতিশীল, সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ও জাতীয়তাবাদী দল (কমিউনিস্ট পার্টি তখন আত্মগোপনে ছিল)। বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা তৈরির ক্ষেত্রে ন্যাপের ছিল বড় ভূমিকা। ন্যাপের নেতৃত্বে ছিলেন মূলত আত্মপরিচয় গোপনকারী কমিউনিস্টরা। মওলানা ভাসানী বিশাল বটবৃক্ষের মতো কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের আশ্রয় দিতেন।

বামরা কেন অপ্রত্যাশিতভাবে ছিঁটকে পড়লো মুক্তিযুদ্ধ থেকে:
১৯৬৮ সালের ৬-৮ ডিসেম্বর মওলানা ভাসানী এক নতুন গণআন্দোলনের উদ্বোধন ঘটালেন – যা ১৯৬৮-৬৯ সালে মহা অভ্যুত্থানে রূপ নিয়েছিল। ১৯৬৯-এর জানুয়ারি মাসে ছাত্ররা ১১ দফা পেশ করলেন, যার মধ্যে একটি দফার মধ্যে ছিল ছয় দফা। এক অর্থে ছয় দফা সম্প্রসারিত হলো, যার মধ্যে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী উপাদান এবং শ্রমিক কৃষকের দাবি, পাট শিল্প জাতীয়করণের দাবি ইত্যাদি সংশ্লিষ্ট হলো। ইতোপূর্বে ঘোষিত ন্যাপের ১৪ দফা সাড়া জাগাতে না পারলেও ১১ দফা দারুণভাবে সারা জাগিয়েছিল। একই সঙ্গে এটাও বলা দরকার যে, শুধু ছয় দফা যা পারতো, ১১ দফা তার চেয়ে অনেক বেশি আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। উপরন্তু আওয়ামী লীগ ও বাম শক্তির ঐক্য (ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নের দুই গ্রুপ) জনমনে ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছিল। প্রবল আন্দোলনের মুখে আগরতলা মামলা প্রত্যাহার এবং শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দিতে বাধ্য হলো সরকার। শেখ মুজিবুর রহমান তখনই হয়ে উঠলেন বাঙালি জাতির অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতা।

এরপরের ইতিহাসও সকলের জানা। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমান ও তার দল সমগ্র পাকিস্তানেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেন। ৩০০ আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন লাভ করল। তিনি হয়ে উঠলেন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের একক প্রতিনিধি।

এই সময় মওলানা ভাসানী ও বামপন্থীরা একটা বিরাট ভুল করেছিলেন। তারা নির্বাচন বর্জন করেছিলেন। নির্বাচন বর্জনের পেছনে নকশাল আন্দোলনের তাত্ত্বিক ভ্রান্তি কাজ করেছিল। ভাসানীও দাবি তুললেন, ‘ভোটের আগে ভাত চাই।’ রণকৌশলগত স্লোগান হিসাবে খুবই ভুল ছিল ওই স্লোগান। এই ভাবে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন – যার সূত্রপাত ঘটিয়েছিল বামপন্থীরা, তারাই এই আন্দোলনের নেতৃত্ব থেকে ছিটকে পড়ল।

তবে ইতিহাসকে যদি সঠিকভাবে পাঠ করতে হয়, তাহলে বলতেই হবে, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে বাম ও কমিউনিস্টদের অবদান ছিল বিশাল, যা বুর্জোয়া সংবাদ মাধ্যমে উপেক্ষা করে অথবা খাটো করে দেখাতে চায়। মাঠ পর্যায়ে বাম -কমিউনিস্টদের সাহসী যুদ্ধ ও জীবনদানের ঘটনা অনেক বেশি। যদিও সামগ্রিকভাবে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ছিল কলকাতা কেন্দ্রীয় প্রবাসী সরকার ও আওয়ামী লীগের হাতে।

এইবার আমার কথা বলি:
কম্যুনিস্ট পার্টির অবদান উল্লেখ করে ২০১০ সালের ১৮ই নভেম্বর দ্য ডেইলী ইন্ডিপেন্ডেন্টে লিখা হয়,

The Party played a vital role in the 1969 uprising and also during the nationwide upheaval that followed it including the non co operation movement of 1971. The CPB also actively participated in the nine months long armed struggle for independence of Bangladesh in 1971. A ‘Special Guerilla Force’ under the direct command of CPB- NAP -BSU fought against the Pakistani army. Communists were also took part in the
other segments of the armed resistance fighters including the
Freedom Fighters and the new Bangladesh Army.

এখন একটা জিনিস লক্ষ্য করা যায়যে, ইতিহাস সবসময় বিজয়ীদের মহান করে তুলে। পরস্পরকে ধাক্কা দিয়ে দৌড়ে যে এগিয়ে যাবে তাকেই দেয়া হবে মুকুট আর বাকিরা থেকে যাবে অন্ধকারে। হিটলার যদি রাশিয়ার কাছে পরাজিত না হত তবে ইতিহাস হিটলারকে মহামানব বলেই দাবী করে বসতো। কিন্তু চাক্ষুস ইতিহাস অগ্রাহ্য করার ক্ষমতা কোনো সময়ের নেই। তেমনি নানা কারণে বামপন্থীরা আজ কূট আলোচনার গঞ্জনা সইতে হচ্ছে। কিন্তু অন্তত যারা মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে একটুকু জ্ঞান রাখেন তারা বলতে পারবেন, বামপন্থীদের কি ভূমিকা ছিলো যুদ্ধে। অত্যধিক চেতনা তাই পরিত্যাজ্য। সর্বোপরি, উই হ্যাভ টু রেস্পেক্ট দ্য রিয়েল হিস্টোরি অব আওয়ার গ্লোরিয়াস ফ্রিডম ওয়্যার। অ্যান্ড অল ইন্ডিভিজ্যুয়াল শ্যুড কাম ফরোয়ার্ড টু হ্যাং দ্য ওয়্যার ক্রিমিনাল।

তথ্যসূত্র:
♣ http://rnews24.com/open-pen/ (মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, ২০ মার্চ ২০১৩) [বিশেষ কৃতজ্ঞতা]
♣ http://bsu1952.org/history
♣ http://bangarashtra.net/ (শামসুজ্জোহা চৌধুরি, ২৭ জুলাই, ২০১৩)
♣ http://weeklysonarbangla.net/
♣ হায়দার আকবর খান, আমাদের বুধবার, ২৭ মার্চ ,২০১৩ (বিশেষ কৃতজ্ঞতা)
♣ বামপন্থী রাজনীতি ও বাংলাদেশের অভ্যুদয়, তালুকদার মনিরুজ্জামান রচিত, জানুয়ারি ২০০৭, বাংলা একাডেমি
♣ http://socialismtoday.org/154/bangladesh.html
♣ http://mongabay.com/history/bangladesh/bangladesh-the_liberation_war.html
♣ http://internationalviewpoint.org/spip.php?article2372
♣ www.secularvoiceofbangladesh.org/bangladesh_govt_politics_body.htm

৫৮ thoughts on “মহান মুক্তিযুদ্ধে বামপন্থীদের অবদানঃ বামপন্থী চেতনায় মুক্তিযুদ্ধ

    1. সম্প্রতি ফেইসবুকে সবাই অহেতুক
      সম্প্রতি ফেইসবুকে সবাই অহেতুক বামদের যেভাবে স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি বলে আসছে সেটা কি তাদের অজ্ঞতা নাকি ইচ্ছাকৃত অন্যায় সেটা বুঝাই যায় তাদের আচরনে। ধন্যবাদ।

        1. অনলাইনে এধরনের অশ্লীলতা অনেক
          অনলাইনে এধরনের অশ্লীলতা অনেক আগে থেকেই চলতেছে। বিশেষ করে ছিপি গ্যাং তো মাত্রা ছাড়াইছে। যেন মুক্তিযুদ্ধটা কোনো এক দল কিনে রাখছে এই অবস্থা। অথচ মুক্তিযুদ্ধের নয়মাস ভিন্ন দল মতাদর্শের সবাই কাঁধে কাঁধ রেখে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন স্টেনগান হাতে। এই কথা অস্বীকার করে তারা কিভাবে নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ভেবে নিয়ে একলা মজা লুটতে পারে জানিনা। সত্যের জয় হোক।

  1. আপনার শেষ কথাগুলোর সাথে সহমত
    আপনার শেষ কথাগুলোর সাথে সহমত পোষণ করে বলতে চাই, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে বাম ও কমিউনিস্টদের অবদান যারা অস্বীকার করে তারা মুলত মুক্তিযুদ্ধকেই অস্বীকার করতে চায় ।
    আদর্শগত দিক থেকে সে সময়কালে আওয়ামীলীগ ও কমিউনিস্টদের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য দেখা গেলেও সবারই চাওয়া ছিল একটাই, মুক্তি কিংবা একটা স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন।

    1. শাহীন ভাই, এই বিষয়ে আপনি একমত
      শাহীন ভাই, এই বিষয়ে আপনি একমত হয়েছেন দেখে আসলেই খুব ভালো লাগলো। কারো অবদানই অস্বীকার করা সভ্য জাতির নিদর্শন নয়।

    2. সরি, নেট লাইনের সমস্যার কারণে
      সরি, নেট লাইনের সমস্যার কারণে আমার এখানকার কমেন্ট উপর নীচ হয়ে গেছে। এখানে আইজু, পিয়াল ভাই, রাসেলের নাম আসাটা অপ্রাসঙ্গিক নয় কোন অর্থেই। যেহেতু অনলাইনে হচ্ছে আলোচনাটা তাই তাদের প্রসঙ্গ আসতেই পারে। ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজের কথা বলতে পারি, বাস্তবে একজন আইজু, পিয়াল ভাই বা রাসেল সম্পর্কে আমার সামান্যতম মাথাব্যাথা নাই। কিন্তু অনলাইনে যেহেতু তারা একটা ইস্যু সৃষ্টি করেছে এবং সেটাকে প্রায় প্রতিষ্ঠিতই করে ফেলেছে, তাঁর প্রতিউত্তর দিতে গেলে তো ঐ প্রসঙ্গ আসবেই।

      আর একটা কথা, জামাতিরা যখন ঐক্য বদ্ধ আমরা তখন এসব করছি, তস এটা কি সাধে করছি? আমি বাম ধারার সমর্থক না। কিন্তু অনলাইনে বামদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার এতোটাই উলঙ্গ রূপ ধারণ করেছিল (এখনও তেমনই আছে) যে, একজন রাজনীতি সচেতন (নিজেকে তেমনই ভাবি, হতে পারছি কিনা জানা নাই)মানুষ হিসেবে একটা প্রতিবাদ নিজের ভিতর থেকেই বের হয়ে আসে। আমি মন থেকে বলছি, এই যে বামদের বিরুদ্ধে অনলাইনে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে যে অবস্থান তা স্বতঃস্ফূর্ত। কাহাতক চুপচাপ শুনে যাওয়া যায়?

      আর বামদের পক্ষে তো অবস্থান নেইনি। অবস্থান নিয়েছি সত্যের ও সঠিক ইতিহাসের পক্ষে। তারমানে এই নয় যে আমার মূল রাজনৈতিক যে চেতনা তার থেকে আমি বিচ্যূত হয়েছি। আজকে ঈদের দিনেও আমার বেশ কিছুটা সময় কেটেছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে সক্ষম আমার পছন্দের সরকারকে আবারও নির্বাচিত করার মিশনে। মূল কাজের জায়গাটা কিন্তু থেমে নেই। থ্যাংস।

  2. শাহিন ভাইয়ের সাথে একমত পোষণ
    শাহিন ভাইয়ের সাথে একমত পোষণ করলাম,সেই সাথে ইলেক্ট্রন ভাইকে ধন্যবাদ তথ্যবহুল একটি পোস্ট দেয়ার জন্য। :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ:

  3. অসাধারণ! স্যালুট আপনাকে ….
    অসাধারণ! স্যালুট আপনাকে …. :salute:

    এই প্রজন্মের গালিবাজ আম্বাদের প্রতি জিজ্ঞাসা- “তোমরা মুক্তিযুদ্ধে বামপন্থীদের আর কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে”?

    ইতিহাস বিকৃতির অবসান হোক। পোস্টটি স্টিকি করার জন্য জোর দাবী জানাচ্ছি।

    1. আপনাকে বিশেষ ধন্যবাদ দুলাল
      আপনাকে বিশেষ ধন্যবাদ দুলাল ভাই। অনলাইন গুন্ডাদের মিথ্যাচার সহ্যের মাত্রা ছাড়িয়েছে। পারভেজ আলম ভাইয়ের একই টপিকে পোস্ট দেখে আমারও কিছু খুঁজতে ইচ্ছা হল। তাই খুঁজে নিলাম। আবারও ধন্যবাদ।

    2. “তোমরা মুক্তিযুদ্ধে
      “তোমরা মুক্তিযুদ্ধে বামপন্থীদের আর কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে”?

      চমৎকার তিরস্কার!! :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :গোলাপ: :গোলাপ:

  4. অনলাইনে যে সব অতি লীগার
    অনলাইনে যে সব অতি লীগার বামদের স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি বলে প্রচারণা চালাচ্ছেন, আমার ধারণা তারা সবাই লীগের প্রকৃত শোভাকাঙ্খী নয় কিংবা লীগের শোভাকাঙ্খী হলেও ক্ষোভবশত অতিবামদের(যার বঙ্গবন্ধু বিরুধী) বিরুধীতা করতে গিয়ে এমনটি করতেছেন।আমি এও মনে করি যারা এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে তারা সেসময়কার পরিস্থিতি বা প্রেক্ষাপট সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণাহীন ।
    কেননা সেসময় অনেক জাতীয় নেতা বা তুখোড় রাজনীতিবিদও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ।উদাহরন স্বরুপঃ শেখ মুজিবুর রহমানের সোহরাওয়ার্দীর পক্ষ নেয়া কিংবা ভাসানীর ‘ভোটের আগে ভাত চাই।’ দাবী তোলা ইত্যাদি।আসলে এসব সিদ্ধান্ত তারা কেন নিয়েছিলেন তা জানতে সে সময়কার রাজনৈতিক পরিস্থিতিকেও জানার প্রয়োজন। হয়তো বা এমন ও হয়েছিল যে, পরিস্থিতিই তাদেরকে এ ধরনের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছিল যেমনটি বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাআকশাল গঠন করতে বাধ্য হয়েছিলেন ।
    যাইহোক, সত্য উন্মোচনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সবার অবদান স্বীকৃত হোক ।
    জয় হোক ইতিহাসের ।
    জয় বাংলা ।
    জয় বঙ্গবন্ধু ।

  5. ভীষন কষ্ট লাগে যখন শুনতে হয়,
    ভীষন কষ্ট লাগে যখন শুনতে হয়, ৭১ এ অস্থিত্বহীন একটি দল (বিএনপি) স্বাধীনতার নেতৃত্ব দানকারী দল কিংবা স্বাধীনতার পক্ষ শক্তি!
    >কষ্ট লাগে যখন শুনি মেজর জিয়া স্বাধীনতার ঘোষক!
    >কষ্ট লাগে যখন শুনি বঙ্গবন্ধু পালিয়ে গিয়ে পাকিস্থানের কারাগারে আশ্রয় নিয়েছেন!
    >কষ্ট লাগে যখন দেখতে হয় স্বাধীনতার ঘোষনাকারী কে তা আদালতকে নির্ধারণ করে দিতে হয়!
    >কষ্ট লাগে যখন দেখি বুদ্ধিজীবি নামের কিছু কিছু মুর্খরাও এসব বিকৃত ইতিহাস সত্য বলে প্রচার করে!
    >কষ্ট লাগে…

    তরুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত সত্য ইতিহাস তুলে ধরার দায়িত্ব আমাদেরই ।সেই দায়িত্বের প্রতি সম্মান জানিয়ে ভুমিকা পালনের জন্য ইলেকট্রন ভাইকে স্যালুট জানাইলাম।

    1. সত্যের মাধ্যমে মিথ্যা কে দূর
      সত্যের মাধ্যমে মিথ্যা কে দূর করতে হবে। এই পোস্টের খাঁটি সমালোচনা করার জন্য তারিক ভাইকে আমন্ত্রন জানাচ্ছি। দেখি, পারস্পরিক তর্ক বিতর্কের মাধ্যমে এই বিষয়টা নিয়ে কতদূর আগানো যায়।

      1. অফুরন্ত ধন্যবাদ… আমি খাঁটি
        অফুরন্ত ধন্যবাদ… আমি খাঁটি সমালোচনা করব যখন এইখানে দেখি কোন সঠিক ইতিহাসের চর্চাকে আতিক ভাই-দুলাল ভাই-উত্তর বাঙলারা পিয়াল-রাসেল-আইজুর বিরুদ্ধে দাড় করাতে যাচ্ছে! মুক্তিযুদ্ধের বামদের অবদান নিয়ে কথা বলার কি আছে? ১৯৭৫ এর আগে কে অস্বীকার করত? মূল শত্রু কে? আমরা যদি তার বিশ্লেষণই ভুল করি তবে যুদ্ধটা কি বিফলে যাবে না? আমি আপনার পোস্টের গঠনমুলক সমালোচনা সহ আরও কিছু তথ্য নিয়ে কমেন্ট করছি একটু পর…
        ধন্যবাদ ইলেকট্রন ভাই :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ: :ফুল: :ফুল: :ফুল: :ফুল:

  6. মুক্তিযুদ্ধে কম বেশি অনেকের
    মুক্তিযুদ্ধে কম বেশি অনেকের অবদান ছিল…সেটা শিকার করতে হবে…কিন্তু যে যখন ক্ষমতায় আসে…এমন ভাবে প্রচার করেন যেন তারা একাই দেশ স্বাধীন করেছেন…
    ধন্যবাদ জানাই ভাই, অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের জন্যে…

  7. গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সমৃদ্ধ
    গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সমৃদ্ধ অগোছালো লেখা !!! তথ্যগুলো সম্পর্কে ১০০ ভাগ সহমত ।
    লেখার হারমনি বিষয়ে ইলেকট্রন কে ভাবতে অনুরোধ করে গেলাম ।

    1. পোস্ট অতিরিক্ত বড় হয়ে যাওয়াতে
      পোস্ট অতিরিক্ত বড় হয়ে যাওয়াতে নিজেই মাথা ঠিক রাখতে পারিনি। কি আর করবো? কম্পিউটার নাই। কোনোরকমে অ্যান্ড্রয়েড দিয়ে চালিয়ে নিই। চেষ্টা করে দেখছি, পোস্ট টা আরেকটু গোছানো যায় কিনা। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ রাহাত ভাই।

        1. পোস্ট রেডি করতে আমার চার/পাঁচ
          পোস্ট রেডি করতে আমার চার/পাঁচ দিন সময় লাগে। আর কমেন্ট করতে মিনিমাম আধা ঘন্টা!

    2. হারমনি মাস্টার রাহাত ভাইকে
      হারমনি মাস্টার রাহাত ভাইকে ইস্টিশনে আবার পেয়ে ধইন্যা!!
      ভাই আপনাদের মত লিখকেরা না লিখলে আমরা যারা নব্য ব্লগার তারা হারমনি শিখব কিভাবে? আশাকরি আপনি আবার ব্লগে নিয়মিত হবেন… :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি:

      1. বাঁশ দিলেন না যাত্রাবাড়ি –
        বাঁশ দিলেন না যাত্রাবাড়ি – গুলিস্তান ফ্লাই ওভার দিলেন বুঝবার পারতাছি না ( এখানে একটা লজ্জার ইমো হবে )

        1. আমরা আপনার শুভাকাঙ্ক্ষী…
          :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :কানতেছি: :কানতেছি: :কানতেছি: :কানতেছি:
          আমরা আপনার শুভাকাঙ্ক্ষী… আপনার পোস্ট থেকে অনেক কিছুই শিখার আছে!! আমি ভাই এখনও বানানই ভুল করি, শব্দ চয়নও অতটা কাব্যিক বা ব্যাকরণসিদ্ধ না… লিখার মানও যথেষ্ট নিচুমানের! হয়তো কন্টেন্ট আর কীর্তিমানদের জীবনী দিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছি… সত্যিই অনেকদিন আপনার বিশুদ্ধতম ব্লগপোস্ট পড়ার সুযোগ হয় নি বলে অপেক্ষায় আছি… :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :মানেকি: :মানেকি: :মানেকি: :মানেকি: :আমারকুনোদোষনাই: :আমারকুনোদোষনাই: :আমারকুনোদোষনাই: :আমারকুনোদোষনাই: :আমারকুনোদোষনাই:

          1. পটিয়ে লাভ নেই … আমার বয়স ২৩
            পটিয়ে লাভ নেই … আমার বয়স ২৩ না !!!
            ইস্টিশন রে ২ তালাক দিয়েছি আর একটা বাকী আছে । ৩ তালাক যেদিন দেবো সেদিন আর ফিরবো না । ইস্টিশনের কী দায় পড়ছে বলেন আমার মতো আবাল ব্লগাররে কাউন্ট করার ?

          2. রাহাত ভাই, কেন আপনে ব্যাপারটা
            রাহাত ভাই, কেন আপনে ব্যাপারটা এতো সিরিয়াসলি উল্টা বুঝতেছেন ,সেইটা আমার অতি ক্ষুদ্র মস্তিস্কে এখনও ঢুকল না… :ভাবতেছি: :কানতেছি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: আমরা এইখানে একটা পরিবার। পরিবারে মনমালিন্য হতেই পারে। কিন্তু তাই বলে কেউ যদি সামান্য কারণে কিংবা যে কারনেই হোক সেই পরিবার ছেড়ে চলে যেতে চান, তবে তাকে আটকানো আমাদের দায়িত্ব… :ভাবতেছি: আপনি ইষ্টিশনেরে তালাক দিবেন কোন দুঃখে ভাই… :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: সব তো মাথার উপ্রে দিয়ে যাইতেছে… :মনখারাপ: :মনখারাপ:

  8. ইতিহাস বিকৃতির দায় এতদিন
    ইতিহাস বিকৃতির দায় এতদিন বিএনপির একচেটিয়া ছিল। কিছু অনলাইন অতি আওয়ামী লীগারের কল্যানে এখন আওয়ামী লীগের ঘরেও সেই সাফল্যের (?) মেডেল ঝুলছে। মন্দ কি?
    গত কিছুদিন একটা ভিডিও চিত্র অনলাইনে খুব শেয়ার হচ্ছে দেখলাম। আওয়ামী লীগের নির্বাচনি প্রচারণার অংশ সম্ভবত। “জয় বাংলা” নামক সেই ভিডিও চিত্রটি দেখতে ভালোই লাগলো। ব্যাপার সেটা না। ব্যাপার হচ্ছে বিগত কয়েক মাস যাবত কিছু অনলাইন আওয়ামী মাশায়েখ ফতওয়া দিয়ে বেড়াচ্ছেন “জয় বাংলা” বলার পর “জয় বঙ্গবন্ধু” না বললে নাকি তার দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। অনেকেই উৎসাহের আতিসহ্যে তাদেরকে রাজাকার উপাধিও বিলিয়ে বেড়ালেন। এখন তো দেখি খোদ আওয়ামী লীগের বানানো ভিডিও চিত্রেই জয় বঙ্গবন্ধু বলে নাই। তাইলে কি আওয়ামী লীগও…

    1. জয় বঙ্গবন্ধু বলাতে আমি কোনো
      জয় বঙ্গবন্ধু বলাতে আমি কোনো সমস্যা দেখিন বঙ্গবন্ধু সারা বাংলাদেশের সম্পত্তি।

      1. জয় বঙ্গবন্ধু বলাতে আমিও তো
        জয় বঙ্গবন্ধু বলাতে আমিও তো কোন সমস্যা দেখি নাই। কিন্তু কনফ্লিক্ট তো অতি আওয়ামীরাই লাগাচ্ছে। একদিকে বলছে জয় বাংলা বলার পর জয় বঙ্গবন্ধু না বললে গুনা হবে। আবার নিজেদের দলের অফিশিয়াল ভিডিও চিত্রেই সেটা বলা হচ্ছে না। ক্যামনেকি? :মাথানষ্ট:

        1. ভিডিওটা দেখা হয়নি। তবে অনলাইন
          ভিডিওটা দেখা হয়নি। তবে অনলাইন গুন্ডাদের কথায় কিছু আসে যায়না। স্বার্থবাদী গুন্ডারা নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার জন্য লীগ নিয়ে লাফাচ্ছে বলে মনে হয়। তব্র লীগ যদি জয় বঙ্গবন্ধু শ্লোগান ব্যবহার না করে তবে এই নিয়ে আমার কিছু জানা নেই। এটা তো লীগের প্রতীকি শ্লোগান!

        2. ভিডিওটা দেখা হয়নি। তবে অনলাইন
          ভিডিওটা দেখা হয়নি। তবে অনলাইন গুন্ডাদের কথায় কিছু আসে যায়না। স্বার্থবাদী গুন্ডারা নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার জন্য লীগ নিয়ে লাফাচ্ছে বলে মনে হয়। তব্র লীগ যদি জয় বঙ্গবন্ধু শ্লোগান ব্যবহার না করে তবে এই নিয়ে আমার কিছু জানা নেই। এটা তো লীগের প্রতীকি শ্লোগান!

        3. আতিক ভাই… এই প্রথম
          আতিক ভাই… এই প্রথম আওয়ামীলীগের একটা ভিডিও থেকে আমরা বিষয়টি পরিষ্কার হলাম। জয়ের ফেসবুক পেজ থেকেও জয় বঙ্গবন্ধু ছাড়া শুধু জয় বাঙলা স্লোগানের এই অসামান্য গানটি!! তাহলে কি বুঝলেন? আপনারা-আমরা যাদের আওয়ামী মাশায়েখ বলে আসছি/আসছেন তাদের ধারনাই ভুল তারা শুধুমাত্র নিজেদের ব্যক্তি পছন্দে তাড়িত হয়ে কাজ ক্রে যাচ্ছেন! ইমরান বলে না তো পিয়াল বলে, এতে কিছুই যায় আসে না!!! আমরা দেশের জন্য মানুষের জন্য লিখছে কোন গ্রুপ বা ব্যক্তির জন্য না… কে কি বলেছে এইটা নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে কি বলা উচিৎ আপনি আপনার মত করে বলেন…
          মূল উদ্দেশ্য এক হলেই বুঝতে পারবেন আমরা দেশের জন্য-মুক্তিযুদ্ধের চেতনার জন্য; কোন ব্যক্তির বা গোষ্ঠীর সাথে ব্যক্তিত্বের দ্বন্দ্বে রাষ্ট্রস্বার্থ জলাঞ্জলি দেয়ার মত স্বেচ্ছাচারিতা বা হঠকারিতা আর কিছুই হতে পারে না…

          জয় বাঙলা… জয় বঙ্গবন্ধু…

    2. এই কথা যারা বলবে তাদের সরাসরি
      এই কথা যারা বলবে তাদের সরাসরি বলবেন আওয়ামীলীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের কমপক্ষে তিন জন মন্ত্রী (জিএম কাদের, ইনু, দিলীপ বড়ূয়া) জয় বাংলাও বলেন না জয় বঙ্গবন্ধুও বলেন না। তাহলে তারা কি? তারা যদি রাজাকার হন তাহলে তাদেরকে মন্ত্রিত্ব দেয়া প্রধানমন্ত্রী তো রাজাকারের কমান্ডার হন হিসেব অনুযায়ী। …………………… এছাড়াও এই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ইস্যুটা শুরুই হ্যেছেইল শহীদ জননীর নেতৃত্বে সেই শহীদ জননী তাঁর কোন বক্তৃতায় ঐ শ্লোগান বলেন নি তাহলে তিনিও কি …………।। ………………… তারা বলেন চিংকু বাম মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে, তাদেরকে পাল্টা প্রশ্ন হবে শহীদ রুমী যে কিনা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে গেরিলা যোদ্ধার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হন, তিনি কি ছিলেন? তাঁর রাজনৈতিক দর্শন কি ছিল? তিনি কিন্তু বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য ছিলেন এবং ঐ ছাত্র সংগঠনটি ছিল চায়না বা মাওবাদী। তাহলে ???? ……………… আতীক ভাই, এই সব খোঁড়া যুক্তি আইজু, রাসেল, পিয়াল ভাইদের মতো লোকদের পক্ষেই দেয়া সম্ভব এবং তারাই এই ধারণা স্টাবলিশ করেছেন অনলাইনে তাদের বিশাল ভক্তদের মাধ্যমে। এছাড়া এই কথার পিছনে মিনিমাম যুক্তি নাই, তথ্য প্রমাণ নাই।

      1. এইটাই আসল চেতনা… এতে কিছুই
        এইটাই আসল চেতনা… এতে কিছুই যায় আসে না! আদর্শিক দিক থেকে খুব বেশী পার্থক্য না থাকলেও দেশের জন্য কাজ করতে চাইলে এইভাবেই কাজ করা উচিৎ…
        মেন্ডেলা তাঁর সরকারে/মন্ত্রণালয়ে যাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন তাদেরও স্থান দিয়েছিলেন তার অর্থ এইনা যে আমাকে শফি হুজুর কে নিয়ে সরকার গঠন করতে হবে…. আমাদের প্রাইম টাস্ক কি নির্ধারণ করতে হবে তারপর সে উদ্দেশ্যেই ন্যায়সঙ্গত আচরন করতে হবে!
        ভাই মাওবাদীরাও নাকি দুই ভাগে বিভক্ত ছিল! আমি বলি সভ্যতার এই পটভূমিতে যেমন আর্কিমিডিস/নিউটনের মত স্বশিক্ষিত বৈজ্ঞানিকের জন্ম হবে না একই সাথে এই জমানায় এই সর্বহারা বিপ্লব বা মাওবাদী অতিবিপ্লব সমর্থনযোগ্য না…
        কি বলতে চাইছি আশাকরি বুঝতে পারছেন!

  9. অস্ত্র উঁচিয়ে প্রথম শপথ নেয়

    অস্ত্র উঁচিয়ে প্রথম শপথ নেয় বামপন্থী গেরিলারা:

    প্রথমেই অনেক অনেক ধন্যবাদ এমন একটা পোষ্টের জন্য। এবারে উপরের লাইনটার কথা বলি, আপনি ঐ লাইনটাকে একটা পয়েন্ট হিসেবে উল্লেখ করেছেন, কিন্তু ঐ পয়েন্টের ভিতরে সুনির্দিষ্ট কোন তারিখ বা স্থানের কথা উল্লেখ নেই যেখানে সর্ব প্রথম অস্ত্র উচিয়ে শপথ নেন বাম গেরিলারা। এটা একটু জানার অপেক্ষায় থাকলাম, এই লাইনটাতে আসলে কি বুঝাতে চাইছেন। পরে অন্য একটা প্যারায় গিয়ে কিছুটা আইডিয়া করে নিচ্ছি, আপনি হয়তো আফটার ১৬ ডিসেম্বর প্রথম অস্ত্র উচিয়ে শপথ গ্রহণ করাটাকে বুঝিয়েছেন। কিন্তু উপরের প্যারাতে এবং পয়েন্ট আকারে লেখাটা পড়লে যে কারো ধারণা হতে পারে প্রথম শপথ নিয়েই যুদ্ধে ময়দানে নেমেছিলেন বামপন্ত্রী গেরিলারা। আমি অন্তত তেমনই বুঝেছি।

    গেরিলাদের এক বিরাট বাহিনী ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে পৌঁছে যায় ঢাকার উপকণ্ঠে। গজারিয়া , কেরানীগঞ্জ , নবাবগঞ্জ, দোহার প্রভৃতি এলাকা দিয়ে দক্ষিণ দিক থেকে গেরিলা দলগুলো অস্ত্রসজ্জিত হয়ে ও সমর সম্ভার নিয়ে ঢাকার দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এই এগিয়ে যাওয়া পথেই ১৬ ডিসেম্বর দুপুরের পরে ঘোষণা আসে হানাদার পাক বাহিনীর আত্মসমর্পণের। রাত ভোর হতেই গেরিলা দল রাজধানী অভিমুখে মার্চ শুরু করে দেয় এবং সকালের মধ্যে পৌঁছে যায় ঢাকা শহরে। বিধ্বস্ত শহীদ মিনারে অস্ত্র উচিয়ে মুক্তিযোদ্ধারের প্রথম যে দলটি শপথ নেয় তা ছিল ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের ‘বিশেষ গেরিলা বাহিনী’র।

    এখানে একটু বলতে চাই, ১৫ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে আমিন বাজার পর্যন্ত এসে পৌছেন বাঙ্গালী মুক্তিযোদ্ধা (মূলত কাদেরীয়া বাহিনী) ও মিত্রবাহিনী। তারা যখন মিরপুর ব্রীজের আমিন বাজার প্রান্তে অবস্থান নিয়ে একটি পেট্রোল কার ব্রিজ অতিক্রম করতে পাঠান তা মুহূর্তেই নিশ্চিহ্ন করে দেয় ব্রীজের মিরপুর প্রান্তে থাকা পাক বাহিনী। এতে করে জেনারেল নাগরার নির্দেশে মিত্র বাহিনী ও কাদেরীয়া বাহিনীর যোদ্ধারা আমিন বাজার প্রান্তেই অবস্থান করতে থাকেন। তখন ঘড়ির কাটায় সময় ১৬ ডিসেম্বর ভোর রাত আড়াইটা।

    একই সময়ে মিত্র বাহিনীর ৩১১ মাউন্টেন ব্রিগেড নরসিংদি ডেমরা রোড দিয়ে অগ্রসর হয়ে ১১ ডিসেম্বর নরসিংদি মুক্ত করেন এবং ১৪ ডিসেম্বর ডেমরায় এসে অবস্থান নেন। এখানে তারা পাকিস্তানী ট্যাংক বাহিনীর পাল্টা আক্রমনের সামনে পড়েন এবং তাদের ঢাকায় প্রবেশের গতি শ্লথ হয়ে যায়। কিন্তু ঐ সময়েই দুই নম্বর সেক্টরের ক্যাপ্টেন এটিএম হায়দারের নেতৃত্বে মুক্তিবাহিনীর একটা গেরিলা দল বিকল্প পথে বিভক্ত হয়ে ঢাকার মুগদা, কমলাপুর এলাকায় প্রবেশ করতে সক্ষম হয়। হায়দারের নেতৃত্বাধীন এই দলটিই ১৬ ডিসেম্বর ঢাকা বেতার কেন্দ্র দখল করে।

    1. উত্তর বাংলা ভাই, অস্ত্র
      উত্তর বাংলা ভাই, অস্ত্র উঁচিয়ে প্রথম শপথ নেয় বামপন্থী গেরিলারা এই পয়েন্টের ব্যাখ্যা কিন্তু আমি পয়েন্টের শেষে ক্লিয়ার করে দিয়েছি। কেউ যদি শুধু পয়েন্ট পড়ে চলে যায় তাহলে আমার আর কি করা?

      রাত ভোর হতেই গেরিলা দল রাজধানী অভিমুখে মার্চ শুরু করে দেয় এবং সকালের মধ্যে পৌঁছে যায় ঢাকা শহরে। বিধ্বস্ত শহীদ মিনারে অস্ত্র উচিয়ে মুক্তিযোদ্ধারের প্রথম যে দলটি শপথ নেয় তা ছিল ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের ‘বিশেষ গেরিলা বাহিনী’র।

      আর আপনার প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। এই ঘটনাটি আমার জানা ছিলো না যে বিকল্প পথে ঢাকা দখল করা হয়েছে।

      1. না না আমি শুধু পয়েন্ট পড়েই
        না না আমি শুধু পয়েন্ট পড়েই কমেন্ট দেই নাই, দিলে তো পরের ব্যাখ্যা দিতে পারতাম না। আমার কাছে কনফিউশন মনে হয়েছে তাই বলেছি এবং সম্ভাব্য একটা সমাধান নিজেই উল্লেখ করেছি। যাই হোক, শহীদ মিনারে শপথ গ্রহণের ঘটনাটা ১৭ ডিসেম্বরের। অবশ্য আপনার লেখাতে তেমনই ইঙ্গিত আছে, তাও তারিখটা উল্লেখ করে দিলে সুবিধা হতো। ধণ্যবাদ ইলেকট্রন ভাই। :গোলাপ: :গোলাপ: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

  10. ইতিহাসের স্মৃতিচারণে আপনার
    ইতিহাসের স্মৃতিচারণে আপনার পোস্টের কোন দুর্বলতা (তেমন বড়ধরনের…) নেই। তবে ব্যাখ্যায় অনেক আপত্তি আছে ইলেকট্রন ভাই-
    ক)

    “স্বপক্ষের শক্তি’ দাবিদারদের অনেকেই বিচ্যুত হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা থেকে। তারই প্রমাণ আমরা পাই সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে, যেখানে মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে রেখে দেয়া হয়েছে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ এবং রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম”…

    — সংবিধানে প্রথমটির সংযুক্তি করে জেনারেল জিয়া, দ্বিতীয়টি লেঃ জেনারেল এরশাদ। তারপর এই বিষবৃক্ষটির লালন পালন হয়েছে ২১ বছর! এখন আমরা ঐ বিষবৃক্ষের গোঁড়ায় পানি ঢেলে যদি আগায় ডাল কাটায় মন দেয় ব্যাপারটা কেমন হবে? আমি মনে করি সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে, ৩৮ বছর পর আচানক এমন সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী হত। সরকারকে কৌশলী হতে হবে, এবং সেই অর্থে আমার মত শুরুতেই বেশী আগ্রাসী না হয়ে ধিরে ধিরে ১৯৭২-এর সংবিধানে ফিরার কৌশল অপেক্ষাকৃত বেশী সময়োপযুগী… তাই বিশ্বাসঘাতকতা শব্দটা অবিবেচনাপ্রসূত। আমার এই ব্যাপারে কয়েকটি পোস্ট আছে ঐখানেই প্রচুর তর্ক হয়েছে পড়ে দেখবেন-
    i)৭২-এর সংবিধানের প্রস্তাবনা ও জিয়া-সায়েমের সামরিকোচিত দূষণ
    ii)শেষ নক্ষত্রের পতন আর বাংলার অন্ধকার যুগের উত্থান এবং সমসাময়িক বাংলাদেশ
    iii) ‘কৃষক ও শ্রমিকের মুক্তি’ আর ‘গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান’

    যে রাজনৈতিক দলটি ক্ষমতায় থেকে বা যার দিকনির্দেশনায় ১৯৭২ সালের সংবিধান রচিত হয়েছে তার সাথে বা তার দলের সাথে বামদের বিরোধ নিয়ে তর্ক করা কতটা যৌক্তিক? বঙ্গবন্ধুর দল এবং আদর্শের সাথে কখনই বামদের বড়ধরণের কোন বিরোধ ছিল না। ১৯৭৫ পরবর্তীতে সাধের সমাজতন্ত্রও যখন চাষার সমস্ত স্বপ্ন আস্তাকুড়ে ছুড়ে নষ্টদের অধিকারে যায় তখন হুমায়ুন আজাদ স্যারেরাও হতাশ হয়। একটা প্রশ্ন কেন কোন ঘটনার প্রেক্ষিতে আজ আমার-আপনার স্বপ্নের সমাজতন্ত্র ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে দলের সংখ্যায় হাফ সেঞ্চুরি করতে চলেছে বলতে পারবেন? কি নিয়ে গর্ব করব? জামাতি-হেফাজতি-বিএনপির এমন দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের পরও যখন তেনারা এক হতে পারেন না, তখন কিসের আশায় তাদের নিয়ে গর্ব করি বলেন? কোন আক্রোশ বা ক্ষোভ নয় দুঃখের সাথে বলছি স্যারের মত…

    খ)

    “সেদিন যদি শেখ মুজিবুর রহমান সোহরাওয়ার্দীর পক্ষ না নিয়ে মওলানা ভাসানীকে সমর্থন করতেন এবং প্রাদেশিক স্বায়ত্ত্বশাসনের পক্ষে থাকতেন (যে অবস্থান তিনি অনেক জোরালোভাবে এক দশক পরে নিয়েছিলেন) তাহলে হয়তো এই দেশের ইতিহাস অন্যরকম হতো এবং প্রগতির ধারা জোরদার হতো”।

    — এই কথাটা কার? বা কার বিশ্লেষণ? যাহোক- এইখানে সমস্যা কি বলি, সেদিন বঙ্গবন্ধু কি করলে কি হত সেই বিতর্কে যাব না। তবে এইটা স্পষ্ট যে সেইদিন তাঁরা ‘মওলানা ভাসানীকে সমর্থন করতেন এবং প্রাদেশিক স্বায়ত্ত্বশাসনের পক্ষে থাকতেন’ তবে আপনিই বলেন তো বাঙলাদেশ স্বাধীন হওয়ার সুযোগ থাকত কিনা? ১৯৫৬ সালের বঙ্গবন্ধুর কথা বলছেন তবে ৭-ই মার্চের পর যখন ভাসানি বলেন এই শেখের ব্যাটায় দেশ স্বাধীন করতে পারবে তার রেফারেন্সটাও দেয়া উচিৎ ছিল। যেইসব কারণে সোহরাওয়ার্দী (দুর্বল রাজনৈতিক…) আর ভাসানী (অতি রাজনৈতিক…) দুজনেই ব্যর্থ সেই সব দিক থেকে বঙ্গবন্ধু অনন্য এবং পরিণামদর্শী ছিলেন বলেই তিনি বাঙলার স্বাধীনতা আনতে পেরেছিলেন। ঐযে ভাই আমি একটা কথা প্রায় বলি শিশুকে প্রাপ্ত বয়সের চিকিৎসা দেয়া ভাল চিকিৎসকের কাজ না…
    গ)

    “যুদ্ধ চলাকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্ব দিয়েছিলেন প্রধানত তাজউদ্দিন আহমদ। কিন্তু বাস্তবে দেশের অভ্যন্তরে মাঠ পর্যায়ে যারা যুদ্ধ করেছিলেন তাদের মধ্যে অগ্রণী ভূমিকা ছিল বাম কমিউনিস্টদের। অনেকগুলো বাম ও কমিউনিস্ট সংগঠন বিচ্ছিন্নভাবে যুদ্ধ করেছিল”…

    এবং কয়েকদিন আগের আরেক পোস্টে দেখেছিলাম বঙ্গ তাজ ছিলেন বাম ঘরনার আওয়ামীলীগ। আরে ভাই এতই প্যাঁচানোর কি আছে? কে কখন বলেছে আওয়ামীলীগই মুক্তিযুদ্ধের সব? তবে বঙ্গবন্ধুই সব এতে কোন সন্দেহ নাই। মজার ও দুঃখের বিষয় কি জানেন যে একাত্তরে আওয়ামীলীগ-বাম-সাধারণ বাঙ্গালী সবাই কাঁধে কাধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছে সেই মিল এবং সম্মিলিত যুদ্ধ এখনও দরকার কিন্তু আমরা এখন জামাত-হেফাজতি-বিএনপি জোটের ফাঁদে পা দিয়ে নিজেরাই মারামারি করছি! আরে যদি সবারই সমান অবদান থাকে তবে এখন এই মুহূর্তে আমাদের প্রধান শত্রু কে বলেন তো? পিয়াল-রাসেল-আইজু নাকি জামাত-বিএনপি-হেফাজতি জোট? বাঙলাদেশ থেকে ‘পিয়াল-রাসেল-আইজু’ বড় হলে কিছুই বলার নাই আর যদি বাঙলাদেশ আর ৭১-এর চেতনা বড় হয় তবে বলুন স্পেচিফিক কোথায় সমস্যা? এইসব পরিষ্কার করা কখন দরকার জানেন? যখন ১৯৭৩ সালের মত নির্বাচনী পরিবেশ হবে অর্থাৎ দেখুন ৭৩ এর ফলাফল

    আমিও স্বপ্ন দেখি দেশের নির্বাচনের ফলাফল হবে এমন! যেখানে আমিও আওয়ামীলীগের ব্যর্থতায় হতাশ হয়ে একটা ভাল মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের অসাম্প্রদায়িক শক্তিকে বেছে নিতে পারব!! কিন্তু যদি বারবার এইভাবে বিএনপি-জামাত জোট আরেকবার আওয়ামীলীগের জোট ক্ষমতায় আসে তবে আগামী ১০০ বছরেও বাম কোন রাজনৈতিক দলের একা ক্ষমতায় আশার সুযোগ আছে বলে মনে হয় না!! তবে এইবার যদি আবারও ৫ বছর আওয়ামীলীগ বা মহাজোট ক্ষমতায় আসে অথবা ১৯৭১ এর মত সকল প্রগতিশীল জোট এরশাদকে বাদ দিয়ে ক্ষমতায় আসে তবে আদর্শিক রাজনীতির ভবিষ্যৎ খুবই আশাবাদী হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে… অতি রাজনৈতিক কখনই সমাধান দিবে না ৭১ এর আগে পরেও পারে নি এখনও পারবে না!! শুধু পিয়াল-আইজু-রাসেলদের সাথে তর্কে বা ব্যক্তিত্বের দ্বন্দ্বে জয়ের উদ্দেশ্য ব্লগ কাঁপাতে চাইলে পাছে ২০১৪-তে দেশটাই কাঁপানোর সুযোগ পাবে জামাত-বিএনপি-হেফাজত জোট, খেয়াল কইরেন সবাই…
    ধন্যবাদ… তবে বাঙলা পরীক্ষা এখনও শেষ হয়নাই খেয়াল রাইখেন!!

    1. পিয়াল-রাসেল-আইজুর বাম নিয়ে
      পিয়াল-রাসেল-আইজুর বাম নিয়ে ফাইজলামির কারনেই কিন্তু এই পোস্টের জন্ম। পিয়াল-রাসেল-আইজু তো অনলাইনে মোটামুটি প্রতিষ্ঠাই করে ফেলছিল যে, বামরা আসলে একাত্তরে রাজাকার ছিল। আমরা যদি চোখ কান খোলা রেখে নিজের বিবেচনা কাজে লাগিয়েই চিন্তা করতে শিখতাম তাহলে এতো কথা বলার প্রয়োজন পড়ত না। কিন্তু আমরা তো আবার পীর সাহেব কি বললেন সেটা দেখেই জী হুজুর করতে অভ্যস্ত। তাই পীরদের ভণ্ডামি থামানোর খাতিরে হলেও মুখ খুলতে হয়।

      1. আতিক ভাইয়ের এই মন্তব্যের সাথে
        আতিক ভাইয়ের এই মন্তব্যের সাথে ১০০% সহমত। অনলাইনে আইজূ-পিয়াল-ড়াসেল রা যেভাবে বামদের গালাগালি দেয় সেটার পাল্টা জবাবেই এই পোস্ট। আইজূর একটা পোস্টে আমি বামদের ডিফেন্ড করে একটা কমেন্ট করছিলাম। আইজূ আমাকে ব্লক মারছিলো। ব্লক মারার আগে একটা মেসেজ পাঠাইছিলো। আমি সেই মেসেজটা কপি করতেছি।

        বামদের ওরা তো গালি দিসে আমি হইলে পুটকিতে বাশ দিতাম-আরেকটা ফালতু কমেনট করলে হোগার মধ্যে বাশ দিয়া লাথি দিবো!

        ——————————
        The comment:
        কাজী রায়হান রাহী (22 September 2013): সিপি বন্দনা? সিপি হয়তো বা লিগের জন্য এসব করে যাচ্ছে কিন্তু সিপির ফলে লীগের অপপ্রচারও কিছু কম হচ্ছেনা। সিপি গ্যাং এর সৃষ্টি ছাগু পোন্দানোর জন্য, কিন্তু এরা কি সুন্দরভাবে বামদের পিছে লেগে গেল!! ভার্চুয়ালি হেরেসমেন্ট করে আর যাই পাওয়া যাক না কেন, বাহবা পাওয়ার অনেক দেরী থাকে। গালি একটা রিকশা ওয়ালাও দিতে পারে। গালি দিয়ে যদি কিছু হইতো, তাহলে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানিদের গালি দিয়ে দেশ স্বাধীন করে ফেলতো। হিয়ার আই কান্ট সি অ্যা ফেয়ার ওয়ে অ্যাট অল।

        Content URL: https://www.facebook.com/Amarblog/posts/282996105165899

        1. ইলেকট্রন ব্রাদার, ‘যেখানে
          ইলেকট্রন ব্রাদার, ‘যেখানে যুক্তি শেষ সেখানেই ব্লকের সূচনা।’ এটা এখন অনলাইনে প্রবাদ বাক্য মনে হয় আমার কাছে।

    2. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন দাবী
      প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন দাবী করলে বাংলাদেশ স্বাধীন হত না কেন বুঝলাম না। স্বায়ত্তশাসনের দাবীই তো স্বাধীনতার চেতনা জাগিয়ে তুলেছিলো সর্বপ্রথম। প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন তিনটি নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত। সেগুলো হল-
      ১) সংবিধান অনুযায়ী প্রাদেশিক সরকারের উপর ন্যাস্ত বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ থাকবেনা।
      ২) প্রদেশগুলোতে দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।
      ৩) অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে প্রত্যেক প্রদেশ আত্মনির্ভরশীল হবে।

      এখানেই তো নিহিত ছিল স্বাধীনতার বীজ। ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট আইন পরিষদের মোট ৩০৯ টি আসনের মাঝে একক ভাবে ২২৩ টি আসন লাভ করেছলো। অন্যান্য আসন গুলোর মাঝে মুসলিম লীগ ৯ টি, নির্দলীয় সদস্যরা ৪ টি, খেলাফতে রাব্বানি ১ টি আসন পায়। সংরক্ষিত ৭২ টি আসন ছিলো অমুসলিমদের জন্য।
      তো, এখানে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের মাঝে আপনি জাতীয়তাবোধের চেতনা দেখতে পাচ্ছেন না? ইস্কান্দার মির্জা ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। একই মাসে ফজলুল হক পূর্ব বাংলার গভর্নর নিযুক্ত হন। ১৯৫৬ সালের ৭ই সেপ্টেম্বর কেন্দ্রে মুসলিম লীগ কোয়ালিশন সরকারের পতন ঘটে। ১৯৫৬ সালের ১২ই সেপ্টেম্বর সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে রিপাবলিকান আওয়ামীলীগ কোয়ালিশন গঠিত হয়। এ সরকার পূর্ব পাকিস্তানের জন্য যুক্ত নির্বাচন আর পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য পৃথক নির্বাচন পদ্ধতি গ্রহন করে যা ছিলো স্বায়ত্তশাসন নীতির পরিপন্থী। ১৯৫৭ সালের ১৬ই অক্টোবর এই সরকারের পতন হয়।
      পূর্ব পাকিস্তানে হক সাহেবের নেতৃত্বে গঠিত প্রাদেশিক মন্ত্রীসভাকে পদচ্যুত করে পূর্ব পাকিস্তানে স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা বাতিল করে কেন্দ্রীয় শাসন জারি করা হয়। ১৯৫৬ সালের শাসন ব্যবস্থা বাতিল করে ১৯৫৮ সালে সামরিক শাসন জারি করা হয়।

      সুতরাং, দেখাই যাচ্ছে স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা স্বাধীনতার বিরোধী ছিলোনা। বরং এঈ স্বায়ত্তশাসনই এদেশের মানুষের মনে স্বাধীনতার বীজ রোপন করে দিয়েছিলো।

      1. খুবই সহজ ছিল এই ষড়যন্ত্র…
        খুবই সহজ ছিল এই ষড়যন্ত্র… ইলেকট্রন ভাই- ওইসব নিয়ে তর্ক করা বা প্যাঁচানোর কোন ইচ্ছায় নাই আরও ভাল করে ডিটেইলসে পড়লেই আপনি খুজে পাবেন প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের মূলা ছিল স্বাধীনতাকে রুখে দেয়া বা বিলম্বিত করার কৌশল মাত্র… স্বাধীনতার এই মেকী উপস্থাপনা আমাদেরকে বড় জোর ভারতের সেভেন সিস্টারের দশা উপহার দিত…

        আর সবচে দুঃখের বিষয় কি জানেন? আজ অনেক বিবেদ থাকতেও জামাত-বিএনপি-হেফাজত কঠিন জোট ঘটন করে দিব্যি একসাথে আছে…
        অনেক যায়গায় নিজেদের মধ্যে বিশালাকারে কোন্দল এমনকি মারামারি হলেও অনলাইনে তাদের মধ্যে কোন রেষারেষি হয় নাই… ওইটাকে নিছকেই দুর্ঘটনা ধরে জোট ঠিক রাখছে… আর আজ আমরা ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা করে ১৭ দিন এক সাথে আন্দোলন করেও গুটিকয়েক মানুষের দ্বন্দ্বে নিজেদের মাঝে কি ঘৃণ্য একটা সম্পর্ক গড়ে তুলেছি? একবার ভাবলেই শিক্ষিত ও আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন মানুষ হিসেবে নিজেদের ভাবতে কষ্ট হয় অথচ শিক্ষা-জ্ঞান সকলদিক থেকেই হায়েনাদের থেকে আমাদের জোটের শক্তি বেশী…

        এই আফসোসের পিছনে একটাই কারণঃ
        “আমাদের সমষ্টি ব্যক্তি কেন্দ্রিক আর ব্যক্তি সমষ্টি রহিত…”
        শুভ কামনা সবার জন্য… আশাকরি আমাদের সবার শুভ বুদ্ধির উদয় হবে এবং আমরা দা-কুড়াল না নিজেদের গ্রেনেড সহ জামাত-বিএনপই-হেফাজতের সকল প্রকার জঙ্গি আগ্রাসন থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারব…

        জয় বাঙলা… জয় সাম্যবাদ… জয় বঙ্গবন্ধু…

        1. স্বায়ত্তশাসন কিভাবে
          স্বায়ত্তশাসন কিভাবে স্বাধীনতার পরিপন্থী ছিলো বুঝলাম না। এমনকি ভারত ছাড় আন্দোলনের আগে ফজলুল হকের লাহোর প্রস্তাবের অন্যতম অংশ ছিলো এই স্বায়ত্তশাসন। স্বায়ত্তশাসনের ভিত প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৩৫ সালে। তাছাড়া, ভাসানী স্বায়ত্তশাসনের পক্ষ অবলম্বন করেছিলেন। এমনকি বঙ্গবন্ধু ও সোহরাওয়ার্দী প্রথমে স্বায়ত্তশাসনের বিরোধীতা করলেও বঙ্গবন্ধু কিন্তু তার ঠিক এক দশক পরে বঙ্গবন্ধু নিজেই স্বায়ত্তশাসনের দাবীতে অটল ছিলেন, আমি পোস্টে উল্লেখ করেছি। এক্ষেত্রে স্বায়ত্তশাসনকে কিভাবে স্বাধীনতার পরিপন্থী বলা যায় বুঝলাম না।

          1. খুবই সহজ যখন সর্বভারতীয়
            খুবই সহজ যখন সর্বভারতীয় রাষ্ট্রের কথা ভাবা/চিন্তা করা হয়েছিল তখন প্রাদেশিক শাসন ব্যবস্থার কথা একটা ভাল সমাধান ছিল আর যখন ১৯৪৭ উত্তর রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা ভাববেন তখন প্রাদেশিক শাসন ব্যবস্থা হচ্ছে পূর্ব-পাকিস্থানের স্বাধীনতার বিকল্প একটি রাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থা…

            কে কি কখন কেন কিভাবে করেছেন সবই বিবেচনা না করলে প্রাসঙ্গিকতা বিচারে আমরা ভুল করব… ধন্যবাদ ইলেকট্রন ভাই…

          2. খুবই সহজ যখন সর্বভারতীয়

            খুবই সহজ যখন সর্বভারতীয় রাষ্ট্রের কথা ভাবা/চিন্তা করা হয়েছিল তখন প্রাদেশিক শাসন ব্যবস্থার কথা একটা ভাল সমাধান ছিল আর যখন ১৯৪৭ উত্তর রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা ভাববেন তখন প্রাদেশিক শাসন ব্যবস্থা হচ্ছে পূর্ব-পাকিস্থানের স্বাধীনতার বিকল্প একটি রাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থা…

            লিংকন ভাই, আমার মনে হচ্ছে কোথাও একটা ভুল হচ্ছে। আপনার উপরের কথা অনুযায়ী দেশ বিভাগের পূর্বের বাস্তবতায় স্বায়ত্তশাসন ভালো ছিল কিন্তু দেশ বিভাগের পরে তা স্বাধীনতার বিকল্প একটা শাসন ব্যবস্থা।

            একটা ব্যাসিক কথা বলি, যখন ধর্মের ভিত্তিতে ভারত ভাগ হয়ে দুইটি রাষ্ট্র হলো তখন আমরা যারা পূর্ব পাকিস্তানী ছিলাম, আমারা কি ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট থেকেই স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলাম? নিশ্চয়ই না। কারণ, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের মূল চালিকা শক্তি কিন্তু আমরাই ছিলাম। তো আমরা পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা করে কেন পাকিস্তান ভাঙতে যাবো? হ্যাঁ, ভাঙ্গতে বাধ্য হবো যখন ভাষার উপরে আঘাত আসবে, নির্বাচনে জয়ী হয়েও ক্ষমতায় বসতে পারবো না, যখন অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে যাবো পশ্চিম পাকিস্তানের থেকে, যখন পরিষ্কারভাবে আমাদের শোষণ করে আমাদের উপার্জিত অর্থে পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়ন দেখবো, তখন। এবং ঠিক এটাই হয়েছে। আমরা কিন্তু এক দিনেই স্বাধীনতার দাবী সামনে আনি নাই। একটার পর একটা ঘটনা আমাদেরকে বাধ্য করেছে স্বাধীনতার স্বপ্নে বিভোর হতে।

            এখন একটু দেখে নেয়া যাক ১৯৫৪ সালের ঐতিহাসিক যুক্ত ফ্রন্ট নির্বাচনের একুশ দফার ১৯ নম্বর দফা কি বলে। সেখানে পরিষ্কারভাবে বলা আছে –

            লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব বঙ্গকে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত ও সার্ভভৌমকরণ এবং দেশ রক্ষা, পররাষ্ট্রনীতি ও মুদ্রা ব্যাতিত অন্যান্য সমস্ত বিষয় পূর্ববঙ্গের হাতে আনয়ন। দেশ রক্ষা বিভাগের স্থল বাহিনী সদর দফতর পশ্চিম পাকিস্তানে এবং নৌবাহিনীর সদর দফতর পূর্ব পাকিস্তানে স্থাপন এবং পূর্ব পাকিস্তানকে আত্মরক্ষায় স্বয়ংসম্পূর্ণ করার জন্য পূর্ব পাকিস্তানে অস্ত্র কারখানা স্থাপন। বর্তমান আনসার বাহিনীকে সশস্ত্র বাহিনীতে পরিণত করণ।

            তো দুই বছরের মাথায় স্বায়ত্তশাসন প্রশ্নে কোন কাজটা সম্পন্ন করা হয়েছিল যে সোহরাওয়ার্দি সাহেব দাবী করলেন “১৯৫৬-এর শাসনতন্ত্রে ৯৮ শতাংশ স্বায়ত্তশাসন ইতিমধ্যেই অর্জিত হয়েছে”। বস্তুত পাঁচ ভাগ স্বায়ত্তশাসনও দেয়া হয়নি। উপরন্তু পাক-মার্কিন সামরিক চুক্তি, সামরিক জোট সিয়াটো-সেন্টো এর পক্ষে সমর্থন জ্ঞাপন করলেন। এর পক্ষে যুক্তি হিসেবে উপস্থাপন করলেন,
            “পাকিস্তানের অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই নাজুক, দুর্ভিক্ষ দেশকে গ্রাস করেছে। সেই সাথে সম্প্রসারণবাদী ভারত চাইছে পাকিস্তানের উপর প্রভুত্ব ফলাতে। সেই কারণেই আমাদের আমেরিকার সাথে সামরিক চুক্তি তথা বন্ধুত্ব প্রয়োজন। বহিঃশত্রুর মোকাবেলায় আমাদের অস্ত্র প্রয়োজন এবং মার্কিনীরা পাকিস্তানকে প্রচুর অস্ত্র সরবরাহ করবে। ভারত একটা বড় রাষ্ট্র এবং সেখানকার মানুষের মন মানসিকতা পাকিস্তানীদের অনুকূলে নয়। তাই ভবিষ্যতে যে কোন ধরণের সম্প্রসারণবাদী থাবা থেকে রক্ষা পাওয়া তথা আত্মরক্ষার তাগিদেই পাক-মার্কিন সামরিক চুক্তি, সামরিক জোট সিয়াটো-সেন্টো পাকিস্তানের পক্ষে কল্যাণকর হবে। (কাগমারি সম্মেলনের বক্তব্য)।

            পক্ষান্তরে ভাসানী তাঁর বক্তব্যে বললেন,

            ক্ষুদ্র রাষ্ট্র গুলিকে মার্কিনীরা তাদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করবে যদি সাম্রাজ্যবাদী শক্তির সাথে সামরিক চুক্তি করা হয়। ২য় বিশ্বযুদ্ধের পরে মার্কিনীরা তথাকথিত মুক্ত বিশ্বের মোড়ল সেজে বসেছে। এশিয়া, আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকার যেখানেই মার্কিনীদের তাবেদার সরকার আছে সেসব দেশে গণতন্ত্রের নাম নিশানাই নাই। দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ধ্বংস হয়েছে এবং দেশগুলি পরিণত হয়েছে আমেরিকার অস্ত্র বিক্রির বাজারে। তিনি সরাসরি মঞ্চে উপস্থিত সোহরাওয়ার্দি সাহেবের ৯৮ শতাংশ স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে দৃঢ়তার সাথেই বলেন পূর্ব পাকিস্তানে স্বায়ত্তশাসন দেয়া হয়নি। তিনি সরকারকে (সরকার প্রধান মঞ্চে উপবিষ্ট) হুঁশিয়ার করে দিয়ে করেন তাঁর সেই বিখ্যাত উক্তি। তিনি বলেন, যদি পূর্ব পাকিস্তানে স্বায়ত্তশাসন না দেওয়া হয় তাহলে আমরা পশ্চিম পাকিস্তানকে আচ্ছালমো আলাইকুম দিবো।

            সেই সম্মেলনে সোহরাওয়ার্দি সাহেবের অনুসৃত পররাষ্ট্রনীতির পরাজয় ঘটলো কিন্তু সরকার প্রধানের সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা কাজে লাগালেন। প্রচার মাধ্যম, দুই অংশের পত্রিকাগুলো যা প্রায় সবই সরকার নিয়ন্ত্রিত, সম্মেলনের পরে ফলাও করে যে নিউজ প্রকাশ করলো তাতে দেশ বিদেশের পাঠকরা জানলো সোহরাওয়ার্দি সাহেবের অনুসৃত পররাষ্ট্রনীতি গৃহীত হয়েছে জনগণ কর্তৃক।

            পরে একই বছরের জুন মাসে পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আলোচনার জন্য ঢাকার আরমানিটোলাস্থ শাবিস্তান সিনেমা হলে আওয়ামীলীগের একটা সভা আহ্বান করলেন। সেই সভায় সভাপতিত্ব করেন মাওলানা ভাসানী। সেই সম্মেলনে প্রবেশের জন্য পাশের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এবং পাশ ম্যানেজ করা ছিল খুব কঠিন। ভাসানী সমর্থকদের একটা বড় অংশকে পাশ দেয়া হলো না। ফলে বিক্ষুব্ধ ভাসানী সমর্থকরা পুলিশী বেষ্টনী ভেদ করে হলে প্রবেশ করতে চাইলে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। কিন্তু রাষ্ট্র প্রধানের সম্মেলনের কারণে পুলিশ তৎপরতা ছিল জোরদার। ফলে কিছুক্ষণের মধ্যেই বিশৃঙ্খলা থেমে গেলো। সেদিনের সভায় ঐ পররাষ্ট্রনীতি পাশ না হলেও পরদিন পত্র পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলো সোহরাওয়ার্দি সাহেবের প্রস্তাব বিপুল ভোটাধিক্যে পাশ হয়েছে। ভাসানী এই ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন ডেকে পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন প্রস্তাব পাশ হয়নি।

            কয়েকদিন পরে আবারও গুলিস্তান সিনেমা হলে আলীগের সম্মেলন ডাকা হলো। এবারে পুলিশের কড়াকড়ি এতো কঠোর যে পাশ ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারলো না। সংগঠনের নেতা কর্মীরা নন পুলিশই হয়ে উঠলো সেই সম্মেলনের প্রধান হর্তাকর্তা। এপ্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধুর ছাত্রজীবনের (কোলকাতার) রাজনৈতিক সহকর্মী, স্বাধীনতাপূর্ব পাকিস্তান মুশলিমলীগের হাশিমগ্রুপ কর্মী এবং রংপুর জেলা আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কাজী মোহাম্মদ এহিয়ার প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় তাঁর একটি গ্রন্থে। সেখানে তিনি আক্ষেপ করে বলেছেন,

            “এমন অনেকেই পাশ পেয়ে হলে প্রবেশ করলেন যাদের কোন দিন আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে কোন সম্পর্ক ছিল না। কিন্তু দলীয় অনেক সিনিয়র নেতাই সেই সম্মেলনে প্রবেশ করতে পারলেন না। আমরা চেয়ে চেয়ে দেখলাম, আমাদের সামনে দিয়ে সোহরাওয়ার্দি সাহেব তাঁর অনুসারীদের নিয়ে হলে প্রবেশ করলেন। আমি মনে মনে একটা বৈষ্ণব কবিতার পংতি আওড়ালাম – ‘আমারি বঁধুয়া আনবাড়ি যায়, আমারি আঙিনা দিয়া’। আফসোস হলো, মুশলিমলীগের সঙ্গে আজীবন সংগ্রাম করে আমরা জেল জুলুম সহ্য করলাম, আওয়ামীলীগ প্রতিষ্ঠা করলাম কিন্তু আমরা সেই দলের সম্মেলনে প্রবেশ করতে পারলাম না, আমাদেরই চোখের সামনে দিয়ে পকেটে পাশ নিয়ে হলে প্রবেশ করলো সুবিধাভোগী বংশবদের দল।”

            এবার কোন সমস্যা ছাড়াই বিপুল ভোটে পাশ হয়ে গেলো পররাষ্ট্রনীতি। এই ঘটনার পরেই মাওলানা ভাসানী আওয়ামীলীগের সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

            এটা রাজনৈতিক শিষ্টাচার হতে পারে না। কিন্তু মার্কিনী যুদ্ধ জোটে যাওয়ার জন্য এমন ন্যক্কার জনক ঘটনার জন্ম দেয়া হলো সরকার প্রধানের পক্ষ থেকে। এবং সেটাকে সমর্থন করে গেলেন বাঙ্গালীর অবিসংবাদিত নেতা তৎকালীন মন্ত্রী (সম্ভবত) শেখ মুজিবুর রহমান।

            সেদিন যদি শেখ মুজিবুর রহমান সোহরাওয়ার্দীর পক্ষ না নিয়ে মওলানা ভাসানীকে সমর্থন করতেন এবং প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে থাকতেন (যে অবস্থান তিনি অনেক জোরালো ভাবে এক দশক পরে নিয়েছিলেন) তাহলে হয়তো এই দেশের ইতিহাস অন্যরকম হতো এবং প্রগতির ধারা জোরদার হতো।

            এখন মূল কথা হচ্ছে যুক্তফ্রন্টের ১৯ নম্বর দফাটি (যা উপরে বলেছি) যদি বাস্তবায়ন করা হতো তাহলে কেন ঘূর্ণায়মান ভাইয়ের এই কথাগুলো চূড়ান্ত বাস্তব বলে গণ্য হবে না? অবশ্যই ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হতো। আপনি জানতে চেয়েছেন, এই কথাটা কার? বা কার বিশ্লেষণ? আমি জানিনা উনি কারো কথা বা বিশ্লেষণ উল্লেখ করেছেন কি না। কিন্তু আমি নিজ জ্ঞানে তো এটাই বুঝি যে আসলেই ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হতো। সেটা আমাদের জন্য নেগেটিভ হতো না পজেটিভ তা পরের কথা। বঙ্গবন্ধু নিজেই তো মাত্র ১০ বছরের ব্যবধানে এই বিষয়টা উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন।

          3. চমৎকার জবাব উত্তর বাংলা ভাই।
            চমৎকার জবাব উত্তর বাংলা ভাই। আমরা কেউ কেউ বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালোবাসা দেখাতে গিয়ে কখন যে উনাকে নবী রাসুলের মতো জায়গায় বসিয়ে ফেলি নিজেরাই জানিনা। যেন বঙ্গবন্ধু কোন ভুল করতে পারেন না। বা করলেও যা করছেন তাই ঠিক।

          4. দোষ গুণ মিলিয়েই মানুষ।
            দোষ গুণ মিলিয়েই মানুষ। বঙ্গবন্ধুরও ভুল ত্রুটি থাকা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু আমরা সেটা মানতে চাইনা। আর একটা ব্যাপার, স্বাধীনতার পূর্বের বঙ্গবন্ধু আর পরের বঙ্গবন্ধুর মধ্যে যে আসমান জমিন ফারাক সৃষ্টি হয়েছিল এটাও আমরা মানতে চাইনা। ব্যক্তিগতভাবে স্বাধীনতার প্রশ্নে বঙ্গবন্ধুর প্রতি আজীবন শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাতে একটু কুন্ঠা বোধ করবো না। কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর সাড়ে তিন বছরের শাসনামলকে বিবেচনায় আনলে বলতেই হবে যে সেসময় তিনি অনেক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেটা জেনে হোক, বুঝে হোক বা চাটুকারদের দবারা প্রভাবিত হয়েই হোক।

  11. অতি রাজনৈতিক কখনই সমাধান দিবে
    অতি রাজনৈতিক কখনই সমাধান দিবে না ৭১ এর আগে পরেও পারে নি এখনও পারবে না!! শুধু পিয়াল-আইজু-রাসেলদের সাথে তর্কে বা ব্যক্তিত্বের দ্বন্দ্বে জয়ের উদ্দেশ্য ব্লগ কাঁপাতে চাইলে পাছে ২০১৪-তে দেশটাই কাঁপানোর সুযোগ পাবে জামাত-বিএনপি-হেফাজত জোট, খেয়াল কইরেন সবাই…
    – সহমত ।

    মনের কথাগুলো গুছিয়ে বলার জন্য লিংকন ভাইকে অজস্র ধন্যবাদ ।

  12. আসলে বামেরাই সিরিয়াস
    আসলে বামেরাই সিরিয়াস রাজনীতিবিদ । গণতন্ত্র মূলত সমাজের প্রভাবশালীদের ক্ষমতায় যাবার পথ সুগম করে মাত্র, এতে সাধারণ মানুষের কোনো স্বার্থ নেই । শুধু সমাজতন্ত্রই সাধাররণ মানুষকে প্রোটেকশন দিতে পারে, হয়তো এই কারণেই বঙ্গবন্ধুর মতো মতা জ্ঞানী নেতাও সমাজতন্ত্রের প্রতি ঝুকে পড়েছিলেন ।

  13. ভালো প্রচেষ্টা… তবে খাপছাড়া
    ভালো প্রচেষ্টা… তবে খাপছাড়া আর ধারাবাহিক মনে হয়নি। জদিও কাজটি কঠিন তবু যদি চেষতা করেন ধারাবাহিক পোষ্ট করার কাজটি অনেকাংষে সফল হবে এবং এটা সময়সাপেক্ষ জানি। ধন্যবাদ আপনার প্রচেষ্টাকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *