খেলনা পিস্তল

রাত ১২টা বেজে ১৮ মিনিট। রাত পোহালেই ঈদ। দীপ্তি বারান্দায় বসে আছে। সে আকাশের চাঁদটা দেখছে। আজকের চাঁদটা বেশ সুন্দর, মেঘে আর
চাঁদে আকর্ষনীয় পরিবেশ। বাসায় মা এখনো টুকটাক কাজ করে যাচ্ছেন। দীপ্তি বাসার খুব একটা কাজ করে না, বাবার কড়া নির্দেশ ঘরের কাজে দীপ্তি যাতে কখনো হাত না দেয়। এতোটুকু
মেয়ের আবার ঘরের কাজ কিসের। দীপ্তির মা এব্যাপারে দ্বিমত। উনার মতে মেয়েকে শ্বশুর বাড়িতে তো পাঠাতে হবেই। তাই এখনই ঘরের কাজকর্ম, রান্নাবান্না শিখে রাখা ভালো। এ

রাত ১২টা বেজে ১৮ মিনিট। রাত পোহালেই ঈদ। দীপ্তি বারান্দায় বসে আছে। সে আকাশের চাঁদটা দেখছে। আজকের চাঁদটা বেশ সুন্দর, মেঘে আর
চাঁদে আকর্ষনীয় পরিবেশ। বাসায় মা এখনো টুকটাক কাজ করে যাচ্ছেন। দীপ্তি বাসার খুব একটা কাজ করে না, বাবার কড়া নির্দেশ ঘরের কাজে দীপ্তি যাতে কখনো হাত না দেয়। এতোটুকু
মেয়ের আবার ঘরের কাজ কিসের। দীপ্তির মা এব্যাপারে দ্বিমত। উনার মতে মেয়েকে শ্বশুর বাড়িতে তো পাঠাতে হবেই। তাই এখনই ঘরের কাজকর্ম, রান্নাবান্না শিখে রাখা ভালো। এ
নিয়ে সবসময় মা-বাবার মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। কেউ কাউকে ছাড় দিতে চায় না। দুজনের ঝগড়ার মাঝে পড়ে অসহায় হয়ে যায় দীপ্তি। সে অপেক্ষা করতে থাকে কখন ঝগড়ার মিটমাট হবে, বেশিক্ষন অপেক্ষা করতে হয় না। পাঁচ মিনিট, দশ মিনিট নাহয় বড়জোর এক ঘন্টা। এর চেয়ে বেশি সময় ধরে ঝগড়া টিকে না।

দীপ্তি বারন্দা থেকে উঠে নিজের রুমে আসলো। ইমন ঘুমিয়ে পড়েছে। ইমন দীপ্তির ছোট ভাই। সবে ক্লাস
থ্রীতে উঠেছে। সারাদিন দৌড়াদৌড়ি আর বোনের সাথে ঝগড়া করা ছাড়া ওর কোন বিশেষ কাজ নেই।
ইমনের ঘুমানোর ভঙ্গি হাস্যকর।
সারা বিছানা গড়াগড়ি খায়, মাথা চলে যায় পায়ের জায়গায়, পা আসে মাথার,তাছাড়া ঘুমের ভিতর
কিলঘুষি আর কেরাতে তো আছেই। ইমনের হাতে খেলনা পিস্তল। এতে গুলি করলেই গান গায়। দীপ্তিদের এবারের কুরবানীর গরুটা লাল। খুব শান্ত
প্রকৃতির, এতোই শান্ত যে দীপ্তি আদর
করতে পেরেছে। একটুও ভয় লাগেনি। ইমন গরুকে নিয়ে মহা আনন্দে ছিল। তার প্রিয় লাল রঙের গরু এসেছে।এর থেকেও খুশির আর কি হতে পারে।
সারাদিন গরুর পিছনে ছুটোছুটি। কালকে কুরবানীর গরু জবাই করা হবে। কুরবানী আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় করা হয়। ইমনের ছোট মন এতো কিছু বোঝে না। কুরবানীর কথা শুনে কতক্ষন ভ্যা করে কাদলো। সে সাফ জানিয়ে দিয়েছে তার লালুকে কুরবানী করতে দিবে না। দীপ্তি কান্না থামাতে হাতে পিস্তল ধরিয়ে দিয়েছে।
মাথায় বুদ্ধি দিলো যেই লালুকে ধরবে তাকেই সে যেন গুলি করে। ইমনের প্ল্যানটা পছন্দ হয়েছে। সে পিস্তল হাতে নিয়েই লালুর দেখাশুনা করবে। যেই
লালুকে ধরবে তাকেই একটা গুলি করে দেবে। পিস্তলের গুলিতে কাজ করবে কি না এটা সে জানে ন। জানার
প্রয়োজনও বোধ করে না। পৃথিবীতে ছোটদের মাঝে মাঝেই কিছু সুন্দর মিথ্যার আড়ালে রাখতে হয়।
ইমন এরকম সুন্দর মিথ্যার আড়ালে আটকে আছে।

৮ thoughts on “খেলনা পিস্তল

  1. মজা পাইলাম
    মজা পাইলাম :বুখেআয়বাবুল: :নৃত্য: :নৃত্য: :নৃত্য: :নৃত্য: :নৃত্য: :নৃত্য: :পার্টি: :পার্টি: :পার্টি: :পার্টি:

  2. হুমায়ুন স্যারের লেখা পড়তে
    হুমায়ুন স্যারের লেখা পড়তে পড়তে উনার লেখা মাথায় ঢুকে গেছে।এর প্রভাব হয়তো একটুখানি পড়তেও পারে।

    ধন্যবাদ আপু :ফেরেশতা:

  3. ঝরঝরে লেখাতো!
    ইমেনর সাথে

    ঝরঝরে লেখাতো!
    ইমেনর সাথে লালুর সখ্যতার কিছু কিছু দৃশ্যপট দেখানো গেলে, গল্পটি অন্য মাত্রা পেতে পারে বলে মনে হল। অনুগল্পটি তখন দারুণ একটি ছোট গল্প হয়ে যেতে পারে।

    1. নব্য লেখক। অল্প করে লিখছি,
      নব্য লেখক। অল্প করে লিখছি, অনেক কিছু শিখছি। আপনার কমেন্টের জন্য অনেক ধন্যবাদ নাসির ভাই। ভবিষ্যতে এই দিকটা খেয়াল রাখবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *