সাম্প্রদায়িকতার কারণ আমাদের বিচ্ছিন্নতা; আসুন এই ছুটিতেই সেটা কমানো শুরু করি।

ঘটনা ১
বাড়িতে এসেছি, ছোটা খাটো ভাইবোনগুলো সব সময় ঘিরে থাকে আসেপাশে, তাই ফেসবুক ব্যবহারও মাঝে মাঝেই সবাই কে নিয়েই করতে হয়। এমন একটি পরিস্থিতিতে নিউজ ফিড দেখছি, এক দাদার দেয়া দুর্গা প্রতিমার ছবিতে লাইক দিয়েছি, অমনি ক্লাশ ত্রিতে অধ্যয়নরত মামাতো ছোট বোন প্রশ্ন করে উঠল কেন আমি এই ছবিতে লাইক দিলাম? এমন প্রশ্নের জন্য মোটেই প্রস্তুত ছিলাম না, তাই পালটা প্রশ্ন করে বসলাম , কেন আপু কি হইল ? সে উত্তর দিল এটা তো পোলিয়া দের মুর্তির ছবি… !!! হাসলাম শুধু। তাৎক্ষণিক কি ধরণের প্রতিক্রিয়া করা উচিৎ ছিল বুঝে উঠতে পারি নি। তাই হাসলাম একটু।
ঘটনা ২

ঘটনা ১
বাড়িতে এসেছি, ছোটা খাটো ভাইবোনগুলো সব সময় ঘিরে থাকে আসেপাশে, তাই ফেসবুক ব্যবহারও মাঝে মাঝেই সবাই কে নিয়েই করতে হয়। এমন একটি পরিস্থিতিতে নিউজ ফিড দেখছি, এক দাদার দেয়া দুর্গা প্রতিমার ছবিতে লাইক দিয়েছি, অমনি ক্লাশ ত্রিতে অধ্যয়নরত মামাতো ছোট বোন প্রশ্ন করে উঠল কেন আমি এই ছবিতে লাইক দিলাম? এমন প্রশ্নের জন্য মোটেই প্রস্তুত ছিলাম না, তাই পালটা প্রশ্ন করে বসলাম , কেন আপু কি হইল ? সে উত্তর দিল এটা তো পোলিয়া দের মুর্তির ছবি… !!! হাসলাম শুধু। তাৎক্ষণিক কি ধরণের প্রতিক্রিয়া করা উচিৎ ছিল বুঝে উঠতে পারি নি। তাই হাসলাম একটু।
ঘটনা ২
বাহিরে থেকে এসে ড্রয়িং রুমে ঢুকলাম, দেখি সবাই মিলে মগ্ন হয়ে একটা ইন্ডিয়ান চ্যানেলে কি একটা নাটক দেখছে, তার দৃশ্যে দেখা যাচ্ছে পূজোর মণ্ডপের দৃশ্য, তাতে দেবতাদের আশীর্বাদে নায়িকা কি একটা সমস্যা থেকে উদ্ধার পাচ্ছে। আর সে ঘটনায় সবার চেহারায় সন্তুষ্টির ছাপ।
ঘটনা ৩
মেঘদলের দ্রোহের মন্ত্রে ভালোবাসা এ্যালবামের “ওম!” গানটা শুনছি। সাউন্ডবক্সে। গানটা যখন মাঝ বরাবর অবস্থান করছে তখন ঘরে ঢুকলেন মামী। গানে তখন আল্লাহুম্মা লাব্যায়েক লাইনটা চলছিল, তা শুনে মামী একটু খুশিই হলেন, কিন্তু কিচ্ছুক্ষণ অবস্থান করে যখন গানের বাকী অংশটা শুনতে পেলেন তখন বিরক্ত হয়ে বলতে লাগলেন, তোমার আব্বু আম্মু এবার হজে গেছেন আর তুমি এ ধরণের গান শুনছো, নাস্তিক হয়ে গেছ তুমি! এর আগে ছোট বোনকে তো কিছু বলিনি ভাবলাম মামীকেই বুঝাই, তাই কিছু একটা বলা শুরু করার আগেই তিনি আমাকে থামিয়ে বলতে লাগলেন তোমাদের এই সমস্যা, দু-কলম বেশি পড়েই পণ্ডিত হয়ে গেছো, পোলিয়া পণ্ডিত,। একবার নাস্তিক, তার পর পোলিয়া পন্ডিত, বুঝলাম এদের দুজনের মাঝে পার্থক্য করার মত মানসিকতাও তার নেই।

এখন আসুন আমরা অসাম্প্রদায়িকতার কথা বলি, আসুন আমরা ব্লগে অনলাইনে নতুন প্রজন্মের অসাম্প্রদায়িকতার চর্চা করি। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে, চায়ের কাপে, বইয়ের পাতায়, দৈনিকের সম্পাদকীয় তে ঝড় তুলি। কিন্তু আমাদের উৎপত্তি স্থল যা এ সকল কাজের মাঝে আমাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পরছে সেখানে যখন ছুটিতে আমরা ফেরত আসি তখন আমরা চুপ করে যাই। চুপ করে যাওয়া ছাড়া আর কি করার থাকে! এ ক্ষেত্রে বুদ্ধিবৃত্তি চর্চার জন্য আমরা বলে বসব- আসলে তাদের নির্মানের একটা ধাঁরা আছে যার কারণে তাদের এ ধরণের ব্যবহার আমাদের সহ্য/বুঝে নিতে হবে। আবার যারা বাম ধারার রাজনীতি করেন তাদের জন্য তো এ সকল সমস্যা আরো গভীর, মাঝে মাঝেই তাদের একটা প্রশ্নের অথবা বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয় যে তারা আজো জনগণের কাছে যেতে পারেনি, তাদের চোখে উপরোক্ত ঘটনাগুলোকেও তো দূরে থাকার ফলাফলই বলা যায়।
ব্যাপারটাকে বলা যায় বিচ্ছিন্নতা, আমাদের পরিবার আমাদের ধারণাগুলোকে বলছেন দু-কলম বেশি পড়াশুনা, তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে তারা কি আমাদের পড়াশুনার কারণে হীনমন্যতায় ভুগছেন? কিন্তু আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যখন কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মোটামুটি ভালো একটা বিভাগ(যার কিছুটা বাজার দর আছে) বিভিন্ন স্থানেই তাদের গর্ব করে এটা প্রচার করতে শোনা যায়। তাহলে এই হীনমন্যতা সাধারণ ভাবে দেখলে চলবে না, এটা হতে পারে আমাদের নিজেদের মাঝে যে প্রগতিশীল হবার একটা অসচেতন বড়াই কাজ করে তার সচেতন প্রভাব। কারণ আমরা যখন ছুটিতে বাসায় আসছি দেখা যাচ্ছে আমরা বেশির ভাগ সময় পরে থাকছি আমাদের ল্যাপটপ/ট্যাব/ফোন নিয়ে। আমরা ব্যস্ত থাকছি আমাদের আসেপাশের আমরা কি দেখছি সেগুলো নিয়ে সমালোচনামূলক স্ট্যাটাস, ব্লগ কিংবা একে অন্যকে জানাতে… (যেমনটা আমি নিজেও এখন করছি)। ফলত আমাদের সাথে তাদের একটা সাভাবিক দূরত্ব তৈরী হচ্ছে, যেটাকে বলা যায় বিচ্ছিন্নতা, এটা মাঝে মাঝে নিজেকে প্রকাশ করে বুদ্ধিবৃত্তিক বিচ্ছিন্নতা/হীনমন্যতা/প্রতিক্রিয়া আকারে। কারণ আমরা যখন বাসায় পরিবারের মাঝে অবস্থান করছি সেখানে আমাদের যা করা দরকার ছিল তা করছিনা মোটেই। এতদিন তো আমরা এখানেই ছিলাম, একটা স্থানে গিয়ে কিছু পরিবেশের মাঝে আমাদের পরিবর্তন এসেছে, গুণগত পরিবর্তন, যার কারণে বাসার সাথে আমাদের একটা বোঝাপড়ার দূরত্ব চলে এসেছে, আমাদের উচিৎ এই সকল গিট্টুকে একে একে করে তাদের সময় দিয়ে বুঝিয়ে শুনিয়ে ঠিক করা, কারণ নতুন জিনিসগুলো বুঝতে তো আমাদেরও কিছুটা সময় লেগেছিল, আর এখানের পরিবেশ পরিস্থিতি তো একেবারেই আলাদা। আপনাকে এই কাজটা করতেই হবে আর এখনই এটা করার সঠিক সময়, কারণ এই ছুটিতে শুরু না করলে পরের ছুটিতে এসে আরো ঝামেলায় পড়বেন। যখন পড়াশুনা শেষ করে বাসায় ফিরবেন আবার তখন দুটো ঘটনা ঘটবে, এক, সবার সাথে কিছুতেই থাকতে পারবেন না; দুই, আবার আগে যেমন ছিলেন এখন সবাই যেমন আছে তাদের মত হয়ে যাবেন, মাঝখানের সব শিক্ষা একটা ফ্যাশন ছিল ভেবে ভাসিয়ে দিবেন জলে। ভাবার কোন অবকাশ নেই যে এমনটা কিছু হবে না, কারণ এমন ভুরিভুরি উদাহরণ পরে আছে আমাদের আসেপাশেই। এখানে আমার যে মামা এক সময় আমি যেই বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন পড়ি সেখানেই পড়তেন, গণশীল্পী ও ছাত্র মৈত্রী করতেন আজ তিনিও আমাকে বলেন রাজনীতির ধারে কাছে ভিড়বে না, এতো দিন ধরে পূজা করার কি দরকার? অথচ নিজে কত আয়োজন করে ঈদ পালন করছেন…!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *