সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা ও কিছু ব্যক্তিগত মতামত

আমরা জাতি হিসেবে খুবই সৌখিন।যদিও নিজেদের দরিদ্র জাতি হিসেবে দাবী করি কিন্তু আমাদের মত এত উৎসব মুখর দেশ আছে কিনা সন্দেহ।

আজ বিজয়া দশমি।প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হল হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব,শারদীয় দূর্গা পূজা।এর সাথে সাথেই আরেক সম্প্রদায় নিচ্ছে ঈদ উৎযাপনের প্রস্তুতি।আরেক সম্প্রদায় বললে ভুল হবে,আমরা মুখে মুখে ধর্ম নিয়ে তর্ক করলেও একে অপরের উৎসবে ঠিকই সামিল হই। এর প্রমাণ পাওয়া যায় প্রতিমা দর্শনে গিয়ে মন্ডপে মন্ডপে মুসলিম দের আধিক্য দেখে, আবার ঈদে ঘুরতে বের হয়ে গ্রুপে হিন্দু বন্ধুর উপস্থিতিতে।


আমরা জাতি হিসেবে খুবই সৌখিন।যদিও নিজেদের দরিদ্র জাতি হিসেবে দাবী করি কিন্তু আমাদের মত এত উৎসব মুখর দেশ আছে কিনা সন্দেহ।

আজ বিজয়া দশমি।প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হল হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব,শারদীয় দূর্গা পূজা।এর সাথে সাথেই আরেক সম্প্রদায় নিচ্ছে ঈদ উৎযাপনের প্রস্তুতি।আরেক সম্প্রদায় বললে ভুল হবে,আমরা মুখে মুখে ধর্ম নিয়ে তর্ক করলেও একে অপরের উৎসবে ঠিকই সামিল হই। এর প্রমাণ পাওয়া যায় প্রতিমা দর্শনে গিয়ে মন্ডপে মন্ডপে মুসলিম দের আধিক্য দেখে, আবার ঈদে ঘুরতে বের হয়ে গ্রুপে হিন্দু বন্ধুর উপস্থিতিতে।

ধর্ম যার যার উৎসব সবার। ব্যঙ্গ করুন আর যাই করুন না কেন , আমাদের প্রধান মন্ত্রির এই উক্তিটি কিন্তু ফেলে দেবার নয়। আমার নিজের কথাই বলি , পূজায় ঘুরতে গিয়েছি ৮ জন বন্ধু তন্মধ্যে ৫ জন মুসলিম সম্প্রদায়ের। আবার আজ পূজা শেষ না হতেই আমি আবার বন্ধুদের সাথে ঈদের পরিকল্পনা করছি।তাই তর্কের খাতিরে তর্ক করে লাভ কি? কোন ধর্ম কি তা নিয়ে এত মাথা ঘামিয়ে কি কাজ?যার যার ধর্ম তাকে পালন করতে দিন।তর্ক করে জয়ী হতে পারবেন, হয়তো কোন পুরুষ্কার পাবেন না। কিন্তু সেই মানুষ টির তীব্র ক্ষোভের অধিকারী হবেন আপনি এবং আপনার ধর্ম।তাই সুযোগ পেলেই সেও আপনার ধর্ম নিয়ে উপহাস করতে ছাড়বে না। অবশ্য এটা চলে আসছে যুগ যুগ। বিশেষ করে সংখ্যা গুরু মুসলিমরা এ উপহাসের দিকে ভাল এগিয়ে আছে । তাতে আমি দোষ দেব পরিবারকে। কারণ শিশু কাল হতে সে যদি এভাবে তার বয়োজেষ্ঠ্যদের অন্য ধর্ম নিয়ে উপহাসে আত্মহারা হতে দেখে সে এর ব্যতিক্রম হবে না।

তাই সকলকে বলছি অন্য ধর্ম নিয়ে উপহাস পরিহার করুন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রিতি বজায় রাখুন ভবিষৎ প্রজন্মও তাহলে সুশৃংখল হবে। একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা শীল হওন।
সবাইকে অগ্রিম ঈদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

১৯ thoughts on “সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা ও কিছু ব্যক্তিগত মতামত

  1. আমার মতে ধর্ম নিয়ে তর্ক করাটা
    আমার মতে ধর্ম নিয়ে তর্ক করাটা সময়ের অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয় । আর বাঙালি শুধু উৎসবটাই বোঝে, সব কিছু যদি ঠিক মতো বুঝতো তাহলে এই জাতির দরিদ্র হওয়ার কথা ছিল না ।

  2. শুধু ধর্ম কেন আমি তো কারো
    শুধু ধর্ম কেন আমি তো কারো বিশ্বাসে আঘাত করাটাই অপছন্দ করি!
    এমনকি সে যদি নাস্তিক হয় তবুও!
    একজন মানুষের কোন কিছুতে বিশ্বাস করার পেছনে তার একটা নিজস্ব লজিক থাকে। সেই লজিক কোন কারনে চেঞ্জ হয়ে গেলে বিশ্বাসটাও বদলে যাবে… জোরাজুরির তো কিছু নেই!
    প্রত্যেকে তার বিশ্বাস নিয়ে সুখি হোক… আমি বন্ধুত্বে বিশ্বাসী, আঘাতে নয়!

    আর হ্যাঁ- উৎসব আমার বরাবরই পছন্দ! আমার জীবনে বেস্ট ফ্রেন্ডের নামের তালিকায় (খুব সম্ভবত!) একদম প্রথমে যার নাম আসবে সে চক্রবর্তী পরিবারের ছেলে! এবারের পূজায় সে গেছে মুন্সিগঞ্জ, কোন এক মন্ডপের প্রধান পুজারী (কিংবা ঐ জাতীয় কিছু… মন্ডপের সর্বচ্চো মর্যাদার পদ; বিস্তারিত জয় ভালো বলতে পারবে) সে!
    ওকে কড়াকড়ি ভাবে বলে দেয়া হয়েছে- প্রসাদ নিয়ে না আসলে ঢাকায় ঢুকতে দেয়া হবে না!

    সর্বপরি জয়কেও অনেক ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা। জয়কে বাসায় দাওয়াত রইলো…
    [বিঃদ্রঃ আমদের বাসার কেউ গরু খায় না! সুতরং তুমি নিশ্চিন্তে নির্দ্বিধায় চলে আসো… আমরা ছাগল কোরবানি দিচ্ছি। তোমার জন্য এক বাটি তোলা রইলো…! 😉 ]

    1. আমাদের দাওয়াত কই? আমরা কি দোষ
      আমাদের দাওয়াত কই? আমরা কি দোষ করলাম? আমরা তো সবই খাই! এসব পারশিয়াল্টি চলবে না সফিক ভাই!

      1. আরে মিয়া! আপনেরে তো ইতি
        আরে মিয়া! আপনেরে তো ইতি পূর্বে আমার বাড়ির এড্রেস পর্যন্ত দেয়া হইছে! এতো “চুদুর বুদুর” না করে চইল্যা আসলেই তো পারেন!
        ঈদে আবার দাওয়াত লাগে নাকি? এইটা কি বৌভাতের দাওয়াত যে কার্ড পাঠাইয়া লিখিত দিতে হইবো???
        :শয়তান: :শয়তান: :শয়তান:

        1. এইটা কি বৌভাতের দাওয়াত যে

          এইটা কি বৌভাতের দাওয়াত যে কার্ড
          পাঠাইয়া লিখিত দিতে হইবো???

          ভাল কথা সফিক ভাই জি ফরজ কাজ খান সারছেন?? 🙂 😉

  3. অন্য একটা লেখার দুইটা লাইন
    অন্য একটা লেখার দুইটা লাইন দিলাম কমেন্ট হিসেবে –

    রাতে আটটার পরে আরতি। আমার বন্ধু সঞ্জীব মানে বোমবাট নাম করা প্লেয়ার ছিল আরতির। মুখের মধ্যে ধুপদানি নিয়ে সেকি উদ্দাম নাচ। আমিও কম যেতাম না। কেউ বাঁধা দিতে আসতো না। আমার মা বাবাও কোন দিন প্রশ্ন করেন নি কেন আমি পূজা মণ্ডপে গিয়ে আরতি (আমি তো নাচ মনে করতাম) দেই। আসলে আমার ছেলে বেলাটা তো হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সাথেই কেটেছে। পূজায় নতুন কাপড়ও আদায় করে নিতাম। তাছাড়া আশির দশকের বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এখনকার তুলনায় অনেক অনেক ভালো ছিল।

    কিন্তু এটা খুবই দুঃখজনক যে যতোই আমরা আধুনিক হচ্ছি ততোই আমাদের মধ্যে সাম্প্রদায়িকতা ডালপালা বিস্তার করছে। শুনলে অবাক হবেন, সেদিন এক পেইজে দেখি এডমিন সবাইকে শারদীয় শুভেচ্ছা জানিয়েছে। তো সেখানেই একজন কমেন্ট দিলো, ঐ ব্যাটা এডমিন ছাগল, তুই হিন্দু যে শুভেচ্ছা দিবি? যা মণ্ডপে মণ্ডপে গিয়ে নমঃ নমঃ কর! যার কমেন্ট সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।

    1. কিন্তু এটা খুবই দুঃখজনক যে

      কিন্তু এটা খুবই দুঃখজনক যে যতোই আমরা আধুনিক হচ্ছি ততোই আমাদের মধ্যে সাম্প্রদায়িকতা ডালপালা বিস্তার করছে।

      সহমত। আগের চেয়ে এখন আমরা অনেক বেশী সাম্প্রদায়িক হয়ে উঠছি। পরমত সহনশীলতাও অনেক কমে যাচ্ছে। কোন একটা বিষয়ে সামান্য মতের অমিল হলেই একে অন্যকে শত্রু জ্ঞ্যান করছি।

    2. উত্তর বাংলা ভাই
      উত্তর বাংলা ভাই সাম্প্রদায়িকতা যে কি ভয়ংকর ভাবে সবার মাঝে জেঁকে বসছে দেখলে নিজেরই এখন ভয় লাগে। এর পরিণাম টা ভাল না এটা স্পষ্ট দেখতে পারছি। বাংলাদেশের যেকোন ধর্মের মানুষ আগের যেকোনো সময়ের চাইতে অনেক বেশি সাম্প্রদায়িক।

  4. আমার দুই বন্ধু তন্ময় ও ঝলক।
    আমার দুই বন্ধু তন্ময় ও ঝলক। ঈদে আমাদের সাথেই ঘুরে, খায়-দায়, মজ-মাস্তি করে। ধর্মীয় শিকল কখনোই আমাদের মধ্যে পথ আটকে দেয় নি। অষ্টমীর দিন আমদের গ্রুপ বিভিন্ন পূজা মন্ডপ ঘুরে দেখলাম। আমাদের পূজা কিভাব করা হয়, এর ইতিহাস ইত্যাদি সম্পর্কে জানলাম। তাছাড়া সুন্দরী দিদিরা তো আছেই। মাইন্ড খাইয়েন না, আমরা একটু লুল আর-কি! :নৃত্য: :নৃত্য:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *