বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্যে (৫ম পর্ব)

বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্যে- শিরোনামে সর্বশেষ চতুর্থ পর্বটি লিখেছিলাম আগস্ট 20, 2013 তে।অর্থাৎ বহুদিন লেখাটি বন্ধ ছিল।এই লেখাটি সবাই দারুন ভাবে গ্রহন করেছিল যা আমাকে উৎসাহি করেছে এর বিষয় বস্তু আরো তথ্য বহুল করার জন্য।আজকের আলোচনা শুরু করার আগে স্বাভাবিক ভাবে দেরি করার কারণ পাঠকদের জানাতে বাধ্য।


বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্যে- শিরোনামে সর্বশেষ চতুর্থ পর্বটি লিখেছিলাম আগস্ট 20, 2013 তে।অর্থাৎ বহুদিন লেখাটি বন্ধ ছিল।এই লেখাটি সবাই দারুন ভাবে গ্রহন করেছিল যা আমাকে উৎসাহি করেছে এর বিষয় বস্তু আরো তথ্য বহুল করার জন্য।আজকের আলোচনা শুরু করার আগে স্বাভাবিক ভাবে দেরি করার কারণ পাঠকদের জানাতে বাধ্য।

আগেই বলেছি সবাই এই সিরিজ টি দারুন ভাবে গ্রহন করেছিল এবং লেখাটি চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আরো নানা রকম তথ্য দিয়ে সাহায্য করছিল।অনেকে অনেক বই এর নাম বলেছে যেগুলো এ বিষয়ে আরো জানতে সাহায্য করবে।আমি মূলত আব্দুল গাফফার চৌধুরির “ইতিহাসের রক্তপলাশ পনেরই আগস্ট পচাত্তর”-এই বইটি অনুসরণ করে এই সিরিজ টি শুরু করেছিলাম।তবে বিষয়টি এতটাই গুরুত্ব পূর্ণ যে আরো তথ্যের প্রয়োজন বোধ করি।যে আমাকে যে বইএর নাম বলেছে আমি সেটা যোগাড় করে পড়ার চেষ্টা করেছি।এ ব্যাপারে আমার বন্ধু ও পরিচিতরা বই যোগাড় করে দিয়ে সাহায্য করেছে।সেসব তথ্য যোগাড় করতে আর কিছু ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে এই বিলম্ব।এ জন্য সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থী।এই নতুন নতুন তথ্য আমাকে আরো নতুন কিছু বিষয়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে যা নিয়ে পরে আমি হাজির হব আপনাদের কাছে।আমাদের এই সিরিজটির অর্থাৎ বঙ্গবন্ধুর হত্যার নেপথ্যের কারণ নিয়ে আর খুব বেশি কিছু বলার নেই।গত লেখায় আমি জিয়াউর রহমানের কতটুকু ভূমিকা ছিল মুজিব হত্যার পিছনে-সেটা দেখাতে চেয়েছি।বলেছিলাম এর পরের পর্বটি হবে এই ঘটনায় বিদেশি শক্তি বা অপশক্তির কী ভূমিকা ছিল সেটা নিয়ে।আজ সেটা নিয়েই কথা বলব আপনাদের সাথে।আর আগামি পর্বেই আমরা ইতি টানব এই সিরিজের।তবে আসুন শুরু করা যাক।শুরু করার আগে যারা আগের লেখা গুলো পড়েন নি তাদের জন্য-

http://istishon.blog/node/4162

http://istishon.blog/node/4182

http://istishon.blog/node/4202

http://istishon.blog/node/4238

মুজিব হত্যার প্রেক্ষাপটে যে কয়টি বিদেশি শক্তি দৃশ্যপটে এসেছে তার মধ্যে পাকিস্তান,ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ।পরাজিত শক্তি পাকিস্তান যে প্রতিশোধ নিতে চাইবে এটা তো নিশ্চিত।আর সব থেকে বড় ভূমিকা যে দেশ টির সেটা হল মার্কিন যুক্ত্রাষ্ট্র।বাংলাদেশের জয় তাদের জন্য অপমান জনক ছিল।কেননা বিশ্বের অন্যতম শক্তিধর দেশ হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা ও পাকিস্তানীদের কে প্রত্যক্ষ সহযোগিতার পরও বাংলাদেশ জয় লাভ করে।তার প্রতিশোধও তারা নিতে চাইবে এটাই স্বাভাবিক।বিষয়টি আরো পরিষ্কার হয় সম্প্রতি প্রথমা থেকে প্রকাশিত মিজানুর রহমান খান রচিত ‘মার্কিন দলিলে মুজিব হত্যাকান্ড’ বইটি থেকে।বইটিতে লেখক বিভিন্ন সময়ে ফাস হওয়া দলিল থেকে আমাদেরকে মার্কিন সম্পৃক্ততা দেখিয়েছেন।

আবার ফিরে আসি আব্দুল গাফফার চৌধুরির কাছে।তিনি আমাদের কে জানাচ্ছেন,মুজিব হত্যার প্রধান ব্যক্তিবর্গ -মোশতাক সহ অনান্যদের সাথে মার্কিনি যোগসাজশ ছিল সেই মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই।ভারতে অবস্থিত অস্থায়ি বাংলাদেশের সরকারের দপ্তরে মোশ্তাকের সাথে দেখা করতে আসতেন মার্কিন কর্মকর্তারা।আমেরিকা এক দিকে অস্ত্র দিয়ে পাকিস্তানিদের সাহায্য করছে অন্যদিকে ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য পাঠাচ্ছে নানা রকম ত্রান সামগ্রি!কলকাতার সার্কাস এভিনিউতে ছিল মোশতাকের অফিস।মোশতাক তখন মার্কিনি পরামর্শে যুদ্ধ থামিয়ে আলোচনা করার জন্য জোড় প্রচার চালাচ্ছিলেন,সেই সাথে অস্থায়ি সরকারকে বিতর্কিত করার ষঢ়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন।

লেখক বলেছেন-

আমেরিকা দুদিকেই থাকবে।তার সমর্থন যদিও পাকিস্তানের ক্ষুদে পেন্টাগনের দিকে তবু বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামেও তারা ‘সেল’ তৈরি করে রাখবে ভবিষ্যতে কাজে লাগাবার আশায়।

বলাই বাহুল্য কথাটি পরবর্তীতে সত্যতে পরিণত হয়।লেখক আরো বলেছেন-

মুজিব হত্যার পর দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সূত্র থেকে যেসব তথ্য পাওয়া যায় তা থেকে অনুমান করা সম্ভবত অসংগত নয় যে ৭১ সালেই মেজর জিয়া সিআইএ এর খপ্পরে পড়ে যান।সম্ভবত গোড়ার দিকে তারা মেজর জলিলের উপর ভরসা করতে চেয়েছিল।পাকিস্তান সেনা বাহিনীতে সিআইএ এর অনুপ্রবেশ ১৯৬৫ সালেই।মুজিব হত্যার বীজও রোপিত হয় তখন থেকেই।

আর এখন উইকিলিকস থেকে ফাস হওয়া দলিলের মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত ভাবেই ব্যাপার গুলো জানি,আমাদের আর লেখকের মত ‘সম্ভবত’ বলা খাটেনা।

এবার আমরা সরাসরি ‘ইতিহাসের রক্ত পলাশ’ বইটি থেকে কিছু অংশ দেখে আসব।

তৃতীয় বিশ্বের যেসব দেশে মার্কিনি পেন্টাগন জাতীয়িতাবাদি ও বৈধ সরকারকে উচ্ছেদ করতে চায় সেসব দেশে তারা একটা নীতি সাধারন ভাবে মেনে চলে।তা হল,একই তাবেদার কে তারা দুবার ব্যবহার করেনা।প্রয়োজন ফুরালে কমলার খোসার মতন তাদের ফেলে দেয়,হত্যা করতেও দ্বিধা করেনা।সুতরাং বাংলাদেশে মুজিব হত্যা চক্রান্ত সফল হওয়ার পর দেশিয় তাবেদাররা পরিত্যক্ত হবে,খুনী সামরিক অফিসারদের দেশ ছাড়া হতে হবে এটাই তাদের স্বাভাবিক পরিণতি।অদূর ভবিষ্যতে যদি কারো অস্বাভাবিক মৃত্যু হয় তাতেও আশ্চর্য হওয়ার কিছু নাই।চক্রান্তের মূল নায়ক মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকেও বেশিদিন ক্ষমতায় রাখা হবেনা।”

আমেরিকার দ্বৈর নীতির একটি উদাহরণ মুক্তিযুদ্ধের আগেই দেখা গিয়েছিল।২৩ মার্চ,১৯৭১।দেশের সর্বত্র উড়লো নতুন জাতিয় পতাকা।সবুজের মধ্যে রক্তিম সূর্য।সূর্যের মাঝে হলুদ রঙের বাংলাদেশের মানচিত্র।দোকান,বাড়িতে এমন কি সরকারি অফিসে পর্যন্ত নতুন এই পতাকা।স্বাভাবিক ভাবেই বিদেশি দূতাবাস গুলোর দিকে সবার নজর।বৃটিশ ডেপুটি হাই কমিশনে দেখা গেল বাংলাদেশের পতাকা উড়ছে।ফরাসি ও চিনা দূতাবাসে পাকিস্তানি পতাকা উড়ছিল।বিক্ষুব্ধ জনতা সেই পতাকা নামিয়ে আগুন ধরিয়ে দিল।আর মার্কিন দূতাবাসে কেবল দেখা গেল তারা শুধু নিজেদের পতাকাই উড়িয়েছে,বাংলাদেশ কিংবা পাকিস্তান কারো পতাকাই উড়ায়নি!

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার এবং পাকিস্তানের ভুট্টো যে বঙ্গবন্ধু হত্যা ষড়যন্ত্রে জড়িত, এর প্রমাণও রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো প্রবল প্রতাপশালী দেশের বিরোধিতা সত্ত্বেও মাত্র ৯ মাসের যুদ্ধে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে যায়। কিসিঞ্জারের সাবেক স্টাফ অ্যাসিস্ট্যান্ট রজার মরিস এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের নেতা শেখ মুজিবের প্রতি তার (কিসিঞ্জার) ঘৃণার কথা স্বীকার করেছেন। মরিস জানান, ‘শেখ মুজিবের নেতৃত্বে বাংলাদেশের অভ্যুদয়কে কিসিঞ্জার তার ব্যক্তিগত পরাজয় বলে মনে করতেন। কিসিঞ্জারের বিদেশি শত্রুর তালিকার সবচেয়ে ঘৃণিত ব্যক্তিরা হচ্ছেন আলন্দে, থিউ ও মুজিব। এ তিনজন তার বিভিন্ন পরিকল্পনা ভ-ুল করে দেন। মুজিব ক্ষমতায় আসেন সবকিছু অগ্রাহ্য করে। আমেরিকা ও তার অনুগ্রহভাজন পাকিস্তানকে সত্যিকারভাবে পরাজিত করে এবং মুজিবের বিজয় ছিল আমেরিকার শাসকবর্গের পক্ষে অত্যন্ত বিব্রতকর।’ (বাংলাদেশ : দি আনফিনিশড রেভলিউশন, লরেঞ্জ লিফসুলজ পৃ. ১৩৬-১৩৮)

মুজিব হত্যার পরপর ই এই মার্কিনি সংশ্লিষ্টতার খবর ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হতে থাকে।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার খবর প্রকাশ বন্ধে ভারতের সংবাদমাধ্যমের ওপর জরুরি ভিত্তিতে বিধিনিষেধ আরোপে দেশটির সরকারের প্রতি চাপ দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকরা।

১৯৭৫ সালে সামারিক অভ্যুত্থানে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রেসিডেন্টের মৃত্যু পরের মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তারবার্তায় বিষয়টি উঠে আসে।গোপন এক তারাবার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার দিল্লিতে তার দূত মারফত ভারত সরকারকে জানান, ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে আমরা আশা করি।

’১৯৭৫ সালের জুন মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্ধিরা গান্ধী জরুরি অবস্থা জারি করেন এবং সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয় এমন সংবাদ প্রকাশে শহরের সব ধরনের পত্রিকা ও সংবাদ সংস্থার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।সোমবার উইকিলিকস প্রকাশিত ১৯৭৩-৭৬ সালের যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রায় ১৭ লাখ তারবার্তার মধ্যে এ সংক্রান্ত কিছু তারবার্তায় এই তথ্য উঠে আসে। যদিও এগুলোকে ওই সময় গোপনীয় বলা হয়েছে, এখন সেগুলো উন্মুক্ত করা হয়েছে।

শেখ মুজিবকে হত্যার চার দিন পর ১৯৭৫ সালের ১৯ আগস্ট দিল্লিতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম স্যাক্সবে’র প্রতিবেদনে বলা হয়, দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত উপ-প্রধান ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিবের কাছে কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার একটি প্রতিবেদনের সমালোচনা করেছেন।স্যাক্সবে তারবার্তায় লিখেন, ‘তার সহকর্মী যুগ্ম সচিবকে বলেছেন- বাংলাদেশের সামরিক অভ্যুত্থানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারকে জড়িয়ে ভারতের গণমাধ্যমে অব্যাহত অভিযোগের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থান নেব। এ ধরনের অভিযোগ অবমাননাকর ও ভারত সরকারের নিজস্ব বিধিনিষেধের লঙ্ঘন, এবং এটি যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করবে।’তারবার্তায় বলা হয়, ‘এধরনের অভিযোগ সংবাদ আকারে প্রকাশ বন্ধ করতে নিজস্ব বিধিবিধান প্রয়োগের পদক্ষেপ নিতে ভারত সরকার কেন প্রস্তুত নয় তা আমাদের বোধগম্য নয়। বাংলাদেশের ব্যাপারে লেখালেখির ক্ষেত্রে বিদেশি প্রতিনিধিদের সতর্ক করেছে ভারত সরকার। সুতরাং দূতাবাস আশা করে, নিজেদের সংবাদকর্মীদের বিষয়েও অন্তত তারা একই কাজটি করবে।’এরও দুদিন পর ২১ আগস্ট স্যাক্সবে আরও একটি তারবার্তা পাঠান। এতে ভারতের ব্লিটজ ম্যাগাজিনে মুজিব হত্যার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা- সিআইএ’র সংশ্লিষ্টার অভিযোগ এনে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সমালোচনা করা হয়।এতে তিনি বলেন, ‘সন্ধ্যায় মিসেস গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকে প্রতিবেদনটি আলোচনায় আনার পরিকল্পনা করেছেন সিনেটর ইয়াগলেটন।’এ সময় সিনেটর ইয়াগলেটনকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেয়ার ঘটনাকে অবিশ্বাস রকমের মানসিক রোগ বলে ভারত সরকারের সমালোচনা করেন রাষ্ট্রদূত, কারণ তখনও ব্লিটজের মতো অবমাননাকর এবং সম্ভব্য ভয়ঙ্কর ধরনের অপপ্রচারকে প্রশ্রয় দেয়া হচ্ছিল।

এর তিন মাস পর কলকাতার দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ দূতাবাসের ১৮ নভেম্বরের একটি তারবার্তায় রাষ্ট্রদূত বোস্টারকে ১৫ আগস্টে মুজিবের পতনের জন্য দায়ী করা হয়। ‘একটি বন্ধুভাবাপন্ন হিসেবে স্বীকৃত দেশের সরকারি দলের নিয়ন্ত্রিত পত্রিকায় এ ধরনের আক্রমণ হজম করা কঠিন’ তারবার্তায় বলা হয়।এর জবাবে দুদিনের মধ্যে দিল্লি দূতাবাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই তারবার্তা পাঠান। ২০ নভেম্বরের তারবার্তায় হেনরি কিসিঞ্জার লিখেন, উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাবস ওয়াশিংটনে ভারতীয় মিশনের উপ-প্রধানকে জানান, ‘রাষ্ট্রদূত বোস্টারের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক অভিযোগ দায়িত্বজ্ঞানহীন ও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ এবং তার উচিত নয়াদিল্লিকে জানানো- ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আগে থেকেই পদেক্ষপ নেয়া হবে আমরা এমনটাই আশা করছি।’ ‘তোমারও উচিত একই উদ্যোগ নেয়া’- একথা বলে তারবার্তাটি শেষ করেন কিসিঞ্জার।যুক্তরাষ্ট্র শহরটির (কলকাতা) ‘অধিকাংশ কুৎসিত আলোচনার’ বিষয়বস্তু- রাষ্ট্রদূত এমন ধরনের একটি তারবার্তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর দুই সপ্তাহ পর যুগান্তরের প্রতিবেদনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস।

৬ নভেম্বর লেখা তারবার্তায় ডেভিস ইউগিন বোস্টার বলেন, ’১৫ আগস্টের সামরিক অভ্যুত্থানে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল এমন ধারণা ওই ঘটনার পর ব্যাপক প্রচার পায়। মোশতাক আহমেদের পশ্চিমাপন্থী এবং সোভিয়েত ও ভারত বিরোধী পরিচিতি রয়েছে।এছাড়া সব বড় ঘটনায় অদৃশ্য (বিদেশিদের) হাত খোঁজার বিষয়ে বাঙালিদের মধ্যে তীব্র প্রবণতা দেখা যায় এবং মনে করা হয়, যেকোনোভাবে বা উপায়ে মুজিবকে উৎখাতে যুক্তরাষ্ট্র ভূমিকা রেখেছে।’এরপর তিনি বর্ণনা করেন, সোভিয়েত রাষ্ট্রদূত ফোমিন থেকে উৎসাহ নিয়ে পরিচিতি পাওয়ায় বুলগেরিয়ার রাষ্ট্রদূত নিকোলাই বোয়াদজিভ কিভাবে একজন কূটনীতিককে বলেন, ‘মুজিবের মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া আর কোন দেশের কোনো লাভ হয়েছে?’ এবং তিনি অভিযোগ করেন, ‘চিলির ঘটনার সময়ও রাষ্ট্রদূত বোস্টার সেখানে ছিলেন।’আরেকটি তারবার্তায় বোস্টারকে তার সহকর্মীদের বলতে দেখা যায়, ‘১৯৬৩ সালে তিনি একটা সময় চিলিতে তিন দিন ছিলেন। তবে তাকে সেখানে নিয়োগ দেয়া হয়নি।’২০০৬ সালে বোস্টারের মৃত্যুর পরপরই সাংবাদিক লরেন্স লিফসুজ রাষ্ট্রদূত নিজেই তার ‘দ্য আনফিনিশড রেভ্যুলেশন’ বইয়ের সোর্স ছিলেন বলে দাবি করেন। এতে অভিযোগ করা হয়, যারা মুজিবকে হত্যা করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের বিভিন্ন পর্যায়ে তাদের যোগাযোগ ছিল।

বিদেশিদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু হত্যায় সবচেয়ে বেশি উল্লসিত হন পাকিস্তানের ভুট্টো। ১৫ আগস্ট মুজিব হত্যার অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই পাকিস্তান বাংলাদেশের খুনি সরকারকে স্বীকৃতি দেয়। বঙ্গবন্ধু হত্যায় খুশিতে ডগমগ ভুট্টো তাৎক্ষণিকভাবে মীরজাফর মোশতাক সরকারকে ২ কোটি ডলার মূল্যের ৫০ হাজার টন চাল ও দেড় কোটি গজ কাপড় দেয়ার কথা ঘোষণা করে। কিন্তু কিসিঞ্জার-ভুট্টোরা বাংলাদেশের খুনিদের দিয়েই হত্যাকান্ডটি ঘটায়।

দেশিয় পরাজিত শক্তির সাথে বিদেশি এই অপশক্তি গুলো মুজিব হত্যার মাধ্যমে দেশকে ডুবিয়ে দেয় শত বছরের অন্ধকারে,আমরা সরে যাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে বহুদূরে।

আজ আর নয়।এর পরবর্তী পর্বে আমরা পুরো বিষয়টি সামগ্রিক ভাবে দেখার চেষ্টা করব এবং বর্তমান বাংলাদেশে এর কিরূপ ভূমিকা আছে সেটা বোঝার চেষ্টা করব।

জয় বাংলা,জয় বঙ্গবন্ধু…

৭ thoughts on “বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্যে (৫ম পর্ব)

  1. চমৎকার তথ্যসমৃদ্ধ পোস্ট।
    চমৎকার তথ্যসমৃদ্ধ পোস্ট। আপনার এই সিরিজটি ইস্টিশনের গর্বিত সম্পদ হয়ে থাকবে। পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।

  2. আসলেই ইস্টিশনের অসামান্য দলীল
    আসলেই ইস্টিশনের অসামান্য দলীল হয়ে থাকবে আপনার এই সিরিজটি… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :bow: :bow: :bow:
    টুকটাক বানানগত ভুল ঠিক করে দিয়েন সময় করে! অনেক নতুন তথ্য জানতে পারলাম!
    সরাসরি প্রিয়তে নিয়ে রাখলাম, সময় করে সবগুলো পর্ব আরেকবার পড়তে হবে তাড়াতাড়ি শেষ করেন… :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি:

  3. অনেক অজানা তথ্য জানতে পারলাম।
    অনেক অজানা তথ্য জানতে পারলাম। আগের পর্বগুলো মিস করেছি, ধীরে ধীরে সেগুলাও পড়ছি। ধন্যবাদ দারুণ এই পোস্ট এবং সিরিজের জন্য। :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  4. বিকৃত ইতিহাসের ভিড়ে ইস্টিসন
    বিকৃত ইতিহাসের ভিড়ে ইস্টিসন হোক সত্যের দলিল…ধন্যবাদ অসংখ্য আপনাকে ভাই… :বুখেআয়বাবুল: :তালিয়া: :বুখেআয়বাবুল: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  5. সবগুলো পড়ব প্রিয়তে নিয়ে রেখে
    সবগুলো পড়ব প্রিয়তে নিয়ে রেখে দিলাম। পরে সময় করে পড়ে জানাব। :আমারকুনোদোষনাই: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: আপাতত একটা চমৎকার কাজ করার জন্য অজস্র গোলাপের শুভেচ্ছা রইল… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :বুখেআয়বাবুল:

  6. সবাইকে অনেক ধন্যবাদ।আপনাদের
    সবাইকে অনেক ধন্যবাদ।আপনাদের এইসব মতামত আমাকে আরো ভাল কিছু লিখতে উৎসাহি করবে।আমি গর্বিত ইস্টিশন পরিবারের সদস্য হয়ে।ঈদ জনিত ব্যস্ততার জন্য বাকিটা লেখা হয়নি।আশা করি খুব শীগ্রই লিখতে পারব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *