3g নিয়ে কিছু কথা

প্রাসঙ্গিক কিছু ঘটনাঃ

বাংলাদেশ বনাম নিউজিলান্ড এর প্রথম টেস্ট ম্যাচ দেখছিলাম টিভি তে। বলার অপেক্ষা রাখে না বাংলাদেশ ভালো খেলেছে। “সাবাস, বাংলাদেশ।” তবে খেলার মাঝে মাঝে ১টা অ্যাড বেশ বারবারই দেওয়া হচ্ছিল, আর তা হল গ্রামীনফোন 3G। আমাদের দেশে বেশ কিছু দিন ধরেই 3G নিয়ে বেশ মাতামাতি চলছে। দেশে সবপ্রথম 3G সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানটির নাম টেলিটক। যা আমাদের সবারই কম বেশি জানা। বেসরকারি মোবাইল কম্পানিগুলো 3G নিয়ে বর্তমানে বেশ কিছু অ্যাডও দিয়ে যাচ্ছে। অনেকের মনে ১টাই প্রশ্ন, এই 3G টা আবার কি? এতে কি আমাদের লাভ হচ্ছে না লস? আসুন দেখি, 3g আসলে কি?

3g আসলে কি?


প্রাসঙ্গিক কিছু ঘটনাঃ

বাংলাদেশ বনাম নিউজিলান্ড এর প্রথম টেস্ট ম্যাচ দেখছিলাম টিভি তে। বলার অপেক্ষা রাখে না বাংলাদেশ ভালো খেলেছে। “সাবাস, বাংলাদেশ।” তবে খেলার মাঝে মাঝে ১টা অ্যাড বেশ বারবারই দেওয়া হচ্ছিল, আর তা হল গ্রামীনফোন 3G। আমাদের দেশে বেশ কিছু দিন ধরেই 3G নিয়ে বেশ মাতামাতি চলছে। দেশে সবপ্রথম 3G সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানটির নাম টেলিটক। যা আমাদের সবারই কম বেশি জানা। বেসরকারি মোবাইল কম্পানিগুলো 3G নিয়ে বর্তমানে বেশ কিছু অ্যাডও দিয়ে যাচ্ছে। অনেকের মনে ১টাই প্রশ্ন, এই 3G টা আবার কি? এতে কি আমাদের লাভ হচ্ছে না লস? আসুন দেখি, 3g আসলে কি?

3g আসলে কি?

3G এর পূর্ণরূপ হল “Third-generation mobile networks or 3G” এই প্রজুক্তির সরবপ্রথম ব্যাবহার করা হয় আমেরিকাতে ২০০৩ সালে। 3G এর আগেও 1G এবং 2G ছিল। সেল ফোন এবং ডিজিটাল ফোনকে যথাক্রমে 1G এবং 2G বলা হত। বর্তমান এ 3g এর সংজ্ঞা অনেকটা এ রকম, “With minimum consistent Internet speeds of 144Kbps, they were supposed to bring mobile broadband.” অর্থাৎ যে সকল মোবাইল নেটওয়ার্ক এ সর্বনিম্ন ১৪৪ কেবি/সেকেন্ড সবসময় থাকে তাদের 3g নেটওয়ার্ক বলা হয়। কারো কারো মতে এটি ২০০ কেবি/সেকেন্ড। তাহলে একটি প্রশ্ন থেকে যায়, এর সর্বচ্চ স্পিড কত? এর সর্বচ্চ স্পিড হল ৪০০*১০ কেবি/সেকেন্ড। এককথায় দ্রুত গতি সম্পন্ন মোবাইল নেটওয়ার্ক কেই বলা হয় 3g.

4g একটি নতুন নামঃ

আমার ধারনা, অনেকেই আমরা বুঝে গেছি, 3g কি? তবে আমরা অনেক সময় 4g এর কথাও শুনে থাকি। এখন প্রশ্ন আসতেই পারে। 4g কি? 4g আসলে 3g এর উন্নত রূপ। 4G এর পূর্ণরূপ হল “Fourth-generation mobile networks or 4G.” 3g এবং 4g এর মধ্যে এ ছাড়াও আরও কিছু পার্থক্য আছে। যেমনঃ 4g এর বেলায় বলা যায়, “4G technologies include HSPA+ 21/42, WiMAX, and LTE”। 3g এর বেলায়, “3G technologies include HSPA+ 10/12, WiMAX, and LTE”। HSPA হল মোবাইল নেটওয়ার্ক এর একটি রূপ। আরও অনেক কথা বাদ থেকে যায় তবে সব বলতে গেলে ব্লগ আর শেষ হবে না।

কেন এই প্রসঙ্গ?

অনেকের মনে হতে পারে, বাংলাদেশে এত সমস্যা থাকতে হঠাৎ এই প্রসঙ্গ কেন? একটি দেশ কত দ্রুত উন্নতি করতে পারবে তা নির্ভর করে প্রথমত, দেশের শাসন ব্যাবস্থা। দ্বিতীয়ত, দেশের শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যাবস্থা এর উপর। বর্তমান যুগকে বলা হয় তথ্য ও প্রজুক্তির যুগ। তথ্য ও প্রজুক্তি যে দেশের যত উন্নত, সে দেশ তত বেশি উন্নত। এককথায় দেশের উন্নতির জন্য তথ্য ও প্রজুক্তি আবশ্যিক। আমাদের দেশ তথ্য ও প্রজুক্তিতে যেমন দ্রুত উন্নত হচ্ছে তত এর বাজে দিকও ধরা পরছে। তবে ওই দিকে আজ যাব না। আজ 3g নিয়েই কথা বলব। বেশ কিছুদিন আগে ২০১২ সালে ইংল্যান্ড এ একটি আন্দোলন হয়। ওই আন্দোলন এর বিষয় ছিল এই যে, তারা অনন্যা উন্নত দেশের মত ইন্টারনেট স্পিড চায় ২০ মেগা বাইট/ সেকেন্ড! অর্থাৎ তারা তখন 4g সুযোগ সুবিধা চায়। আর তার প্রায় ৬মাস পর আমাদের দেশ এ 3g সেবা চালু হয়। আরও ভালো করে বললে বলতে হয় তাদের থেকে আমরা প্রায় ১০ বসর পিছিয়ে আসি (যেহেতু 3g প্রথম চালু হয় ২০০৩ সালে)।

কিছু প্রশ্নঃ

আমাদের দেশে অনেক মেধাবী ছেলেমেয়ে আছে। তার প্রমান মিলে ২০১০-১১ সালের ইন্দিয়ার সাথে সাইবার যুদ্ধে। ভারতের প্রায় ১৫০টির মত ওয়েবসাইড বিলীন হওয়ার হুমকির মুখে ছিল। বাংলাদেশিদের মেধার কথা বলে শেষ করা যাবে না। তবে মনের গভীরে কিছু প্রশ্ন থেকে যায়। আসলেই কি আমরা 3g সুবিধা পাচ্ছি? আমি নিজে একজন 3g গ্রাহক। আমি কোন সময় এর জন্যই ২০০ কেবি/সেকেন্ড constant পাই নাই। জানিনা অনন্যা মোবাইল কোম্পানিগুলো তা দিবে কিনা? তবে হ্যাঁ, টেলিটক কোম্পানি আমাদের দেশের। অতএব, আমার মতে এই কম্পানিকে আরও কিছু দিন এককভাবে ব্যাবসা করতে দেওয়া উচিত ছিল।

পরিশেষেঃ

আমাদের দেশ আজ বিজয় এর প্রায় ৪২ বছর দেখসে। আমরা কি পারতাম না এই দেশটাকে আরও ভালো কিছু দিতে? আমাদের পরে স্বাধীনতা লাভ করে বিশ্বের বুকে অনেক দেশ আসে যারা এখন ভালো পজিশন এ আসে। আমরা কি পারতাম না এই সুবিধাগুলো আরও আগে দিতে? হুম, পারতাম। কেন পারি না তা আর না বললেও চলবে আশা করি। আমিও ইস্টিসন এর মত বলতে চাই, রাজনৈতিক দুরব্রিত্তায়ন থেকে মুক্তি চাই।

৮ thoughts on “3g নিয়ে কিছু কথা

  1. ভালো জিনিস শেয়ার করেছেন। আমি
    ভালো জিনিস শেয়ার করেছেন। আমি নিজেও টেলিটক থ্রিজি ইউজ করি। তবে আরেকটা জিনিস আমি জানিয়ে দিই।
    তা হল এখন সব অপারেটর একটা প্রতিযোগীতায় নেমে গেছে 3.5G আর 3.9G নিয়ে! ব্যাপারটা এমন যেন, ইশ!অল্পের জন্য 4G দিতে পারে নাই! আসলে কিন্তু ব্যাপার এইটা না। যেমন আমি নিজেই আমার এলাকায় টেলিটকের 3.5G সার্ভিস পাই। কিভাবে বুঝবেন আপনি কি সার্ভিস পাচ্ছেন?

    খেয়াল করলেই দেখবেন মোবাইলে সিমের আইকনের উপর সবসময় ইন্টারনেট সংযোগ হলে E লিখা উঠে। E মানে EDGE । কিন্তু আপনি যদি থ্রিজি সিম লাগান, তারপর যদি দেখেন উপরে 3G লিখা উঠেছে, তাহলে বুঝে নিবেন আপনি থ্রিজি এলাকায় আছেন। যদি আইকনের উপর H লিখা উঠে তাহলে বুঝবেন আপনি 3.25G বা 3.5G তে আছেন। H মানে HSDPA (High speed downlink packet access) । আর যদি আইকনের উপর H+ লিখা উঠে তার মানে আপনি 3.75G বা 3.9G নেটওয়ার্কে আছেন। H+ হল HSPA (High speed packet access)।

    তারমানে নেটওয়ার্ক আসলে গোড়া থেকেই দেয়া হয়। মানে থ্রিজি। কিন্তু গ্রামীন আর রবি যেটা করতেছে সেটা হল শুবঙ্করের ফাঁকি। বুঝলাম, তাদের নেটওয়ার্ক হয়তো সবসময় HSDPA/HSPA+ থাকবে;উঠানামা করবে না। কিন্তু এটা তাদের উদ্দেশ্য না। তাদের উদ্দেশ্য হল সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দেয়া। কারণ, মানুষ যখন শুনবে টেলিটক থ্রিজি দিচ্ছে কিন্তু গ্রামীন আর রবি টেলিটকের চেয়ে বেশি ‘জি’ দিচ্ছে, তাহলে তারা সহজেই ধরে নেবে গ্রামীন আর রবি ভালা সার্ভিস দিচ্ছে। কিন্তু গলাকাটা দাম দিয়ে এই ভিনদেশি বেনিয়া অপারেটর গুলো আমাদের গায়ের চামড়া তুলে নিচ্ছে। টেলিটক যেখানে 1gb দিচ্ছে ২৫০ টাকায়, সেখানে গ্রামীনে ৩৫০ টাকা! ভানুমতির খেল হিসেবে তারা বলছে এই এক জিবি পাওয়া যাবে 1mbps স্পিডে! এই না হলে ব্যবসা? আসলে এইসব জাস্ট কিছুই না। গ্রামীনের থ্রিজি চালু হোক। তারপর দেখবেন, এরা সেই HSDPA নেটওয়ার্কই দিচ্ছে। এইসব পুঁজিবাদি অপারেটরকে থাবড়া মেরে দেশ থেকে বাইর করে দেয়া উচিত। শুধু একটা বাক্যই এদের চরিত্রের জন্য যথেষ্ট-“হালা ডাকাইত!”

    1. আপনার কথার সাথে আমি একমত।
      :bow: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :bow: :bow:
      আপনার কথার সাথে আমি একমত। গ্রামীনফোনকে দেশ থেকে বাইর কইরা দয়া উচিত………

  2. ধন্যবাদ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
    ধন্যবাদ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গুলোর জন্যে… :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: :খুশি: :খুশি: :খুশি: :খুশি: :খুশি: :খুশি: :খুশি: :খুশি: :খুশি:

  3. শাহিন ভাই এর মত আমিও দু জন
    শাহিন ভাই এর মত আমিও দু জন কেই ধন্যবাদ দিচ্ছি।

    ‘ তার প্রমান
    মিলে ২০১০-১১ সালের ইন্দিয়ার সাথে সাইবার
    যুদ্ধে। ভারতের প্রায় ১৫০টির মত ওয়েবসাইড
    বিলীন হওয়ার হুমকির মুখে ছিল।’

    আমিও আমাদের সাইবার আর্মির সাথে DDOS এটাকে অংশ গ্রহণ করেছিলাম। যদিও কিছু বুঝি না।

Leave a Reply to নাগরিক চট্টগ্রাম Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *