ঘরে-বাইরে শিশুর উপর যৌন নির্যাতনঃ পরিবার থেকে যার শুরু

কেইস ১
নির্ভানা। আট বছরের এক বালিকা। দেহে মেয়েসুলভ কোনো বৈশিষ্ট্যই ফুটে উঠে নি। তাতে কি? ওর বড় পরিচয় ও একটা মেয়ে। মেঝো চাচা তাই সময় পেলেই কোলে তুলে নেন নির্ভানাকে। নির্ভানার ছোটো ভাইটির চেয়েও চাচা ওকেই কোলে নিয়ে আদর করতে ভালোবাসেন বেশী।
নির্ভানা একটুও থাকতে চায় না চাচার কোলে। ছটফট করতে থাকে। বাধ্য হয়ে চাচা নামিয়ে দেন ভাস্তিকে। কিন্তু তার আগেই স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দেন ইচ্ছামতো। সবার চোখের আড়ালে, বিশাল এক থাবা নেমে আসে নির্ভানার বুকে।
প্রতিবারই।

কেইস ২

কেইস ১
নির্ভানা। আট বছরের এক বালিকা। দেহে মেয়েসুলভ কোনো বৈশিষ্ট্যই ফুটে উঠে নি। তাতে কি? ওর বড় পরিচয় ও একটা মেয়ে। মেঝো চাচা তাই সময় পেলেই কোলে তুলে নেন নির্ভানাকে। নির্ভানার ছোটো ভাইটির চেয়েও চাচা ওকেই কোলে নিয়ে আদর করতে ভালোবাসেন বেশী।
নির্ভানা একটুও থাকতে চায় না চাচার কোলে। ছটফট করতে থাকে। বাধ্য হয়ে চাচা নামিয়ে দেন ভাস্তিকে। কিন্তু তার আগেই স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দেন ইচ্ছামতো। সবার চোখের আড়ালে, বিশাল এক থাবা নেমে আসে নির্ভানার বুকে।
প্রতিবারই।

কেইস ২
ভার্সিটি পড়ুয়া মামাতো ভাই রিপন বেড়াতে এসেছে অসিনদের বাসায়। অসিন, নয় বছরের বালিকা, পড়ে ক্লাস থ্রিতে।
ভাইয়াটা খুব মজার। গল্প বলে মাতিয়ে রাখে অসিন আর তার এক বছরের বড় ভাই অমিতকে।
এর মধ্যে অসিনের বাবা-মা একদিনের জন্য ঢাকার বাইরে গেলেন। গার্ডিয়ান হিসেবে রেখে গেলেন রিপনকে। রিপন খুব দায়িত্ববানের মতো দুই ভাইবোনকে স্নান করিয়ে, ভাত খাইয়ে দিলো। তারপর ওদের সাথে লুকোচুরি খেলতে আরম্ভ করলো। অমিত খুঁজে বের করবে বাকী দুইজনকে।
রিপন লুকানোর নাম করে অসিনকে নিয়ে বেডরুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলো।
হতভম্ব অমিত ডাকাডাকি শুরু করলো, “দরজা খুলো। দরজা বন্ধ রাখলে খুঁজবো কীভাবে?”
কিন্তু ভেতরে রিপনের সাথে ধস্তাধস্তি চলছে অসিনের।
এক পর্যায়ে অর্ধনগ্ন অসিন কোনোমতে দরজা খুলে এক ছুটে নিজেদের রুমে গিয়ে দরজা আটকে দিলো।
অমিতের ছোটো মস্তিস্কে এই ব্যাপারটা ঢুকলো না, কেন অসিনের গায়ে সব জামাকাপড় নেই!

কেইস ৩
বড় মামার বাসায় বেড়াতে এসেছে তুলতুলরা। বড় মামা রাশভারী লোক। কিন্তু মামী খুব মজার। মামাতো ভাই-বোনগুলোও সমবয়সী হওয়ায় তুলতুলের পোয়া বারো।
কিন্তু একটা কারণেই তুলতুলের এখানে আসতে ইচ্ছা করে না। মামা হঠাৎ হঠাৎ কেমন যেনো করেন। তুলতুলকে নিয়ে শুয়ে শুয়ে গল্প করেন। সবার চোখে নির্দোষ আচরণ। সবাই ভাবে, মামাতে-ভাগ্নিতে কতো না ভালোবাসা! কিন্তু তুলতুল জানে, মামা তখন ওর হাত নিয়ে নিজের নিম্নাঙ্গ দলাদলি করেন।

এবারও নিঝুম দুপুরে মামা ডাক দিলেন তুলতুলকে। মামাতো বোনের সাথে ও লুডু খেলছিলো। মামার ডাকে আতংকিত তুলতুল শক্ত হয়ে বসে রইলো। মামা দ্বিতীয়বার ডাক দিলেন। এই বজ্রগম্ভীর কণ্ঠ অমান্য করার সাহস কারো নেই। কিন্তু তুলতুল আজ সমস্ত শক্তি দিয়ে চেঁচিয়ে উঠলো, “আমি যাবো না!”

কেইস ৪
মালতী কিছুতেই তার বাচ্চা মেয়েটিকে মুরুব্বীর কোলে বসার জন্য রাজী করাতে পারছেন না। বাসের ভীড়ে নিজে দাঁড়িয়ে আছেন, ঠিক আছে। কিন্তু আট-নয় বছরের মেয়েও দাঁড়িয়ে থাকবে, তা কি হয়? কিন্তু মেয়ে কিছুতেই পাশের সিটে বসা মুরুব্বীর কোলে বসবে না।
কেনো বসবে না? কারণ জানার জন্য আমাদের তাকাতে হবে আরও কয়েকমাস পূর্বের এক ঘটনায়। সেদিনও এমন ভীড়ের মধ্যে মালতী দাঁড়িয়ে ছিলেন আর মেয়েকে বসিয়ে দিয়েছিলেন এক মধ্যবয়স্ক লোকের কোলে।
নানান কথা জিজ্ঞেস করে ভাব জমানোর তালে তালে লোকটা কি করছিলো, সেটা নিশ্চয় বুঝে গেছেন? বাস ভর্তি মানুষের সামনে, এমনকি মেয়েটির মায়ের সামনেই নিখুঁত দক্ষতায় লোকটা নিজের পাশবিক চাহিদা পূরণ করে নিচ্ছিলো। মালতী খেয়াল করেন নি। কারণ তিনি কল্পনাও করেন নি এমন কিছু ঘটতে পারে।

উপরের প্রতিটা ঘটনাই সত্য। এখানে মাত্র চারটি ঘটনা উল্লেখ করেছি। যৌন নিপীড়নের আরও অনেক কায়দা আছে। আরও অনেকভাবে এই বিকৃত মানসিকতা শিশুদের সহ্য করতে হয়। তবে সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয়টা হলো, এগুলোর বেশীরভাগই শুরু হয় পরিবার থেকে। ৯৮% ক্ষেত্রে একটা শিশু প্রথম যৌন নির্যাতনের শিকার হয় তার আপনজনদের কাছ থেকে। এটা শুধু আমাদের দেশের জন্য প্রযোজ্য, তা নয়। পৃথিবীর সব দেশেই এটি একটি নিয়মিত ঘটনা। বিখ্যাত অভিনেত্রী মেরিলিন মনরো তাঁর জীবনীতে নিজের সৎ বাবার দ্বারা রেপড হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।

যেহেতু শিশুরা (বিশেষতঃ মেয়ে শিশুরা) ঘরের বাইরে বেশ কমই বের হয়, তাই বাইরের মানুষের দ্বারা নির্যাতিত হওয়াটা এতোখানি কমন কেইস নয়। কিন্তু বাবা-মা-ভাই-বোন ব্যতীত পরিবারের অন্য সদস্যদের দ্বারা (এর মধ্যে মামা, খালু, চাচা, দাদু, কাজিন অন্তর্গত) নিভৃতে নিপীড়নের শিকার হওয়াটা খুবই কমন ব্যাপার। এরপর আসে প্রতিবেশী এবং গণ্ডীর বাইরের মানুষ। এখন অবশ্য বিকৃতির সর্বোচ্চ পর্যায় হিসেবে বাবার দ্বারা মেয়ের রেপড হওয়ার ঘটনা ঘটতে দেখা যায়।

আমাদের বাবা-মায়েরা কতোটুকু অসচেতন কিংবা উদাসীন হলে এইসব ব্যাপার নিয়ে মাথা ঘামান নাই, অবাক লাগে! আমি আজকালকার বাবা-মায়েদের দেখেছি (প্রধানতঃ মায়েদের, কারণ ছোটবেলায় তারাই ছিলেন মূল ভুক্তভোগী), তারা সন্তানকে অন্যের হেফাজতে রেখে যাওয়াটাকে নিরাপদ মনে করছেন না। একান্তই রেখে যেতে হলে কোনো মহিলার কাছে রেখে যাচ্ছেন, পুরুষের কাছে নয়। কারণ, বিকৃত পুরুষের কাছে শিশু/প্রাপ্তবয়স্ক কোনো ব্যাপার নয়। আর কোন পুরুষটা বিকৃত মানসিকতার, সেটা জানা সহজ নয়। তাই না রাখাই শ্রেয়।

একটা শিশু যখন এই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যায়, প্রথমে সে বুঝতে পারে না, কী ঘটছে। কারণ এই বয়সে যৌনতা সম্পর্কে তাদের ধারণা থাকাটা কমন বিষয় নয়। কিন্তু কিছুদিন পর ওরা ঠিকই বুঝে, ব্যাপারটা যাই হোক, উচিৎ কিছু নয়।
একটু জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই নিজের জেনিটাল সম্পর্কে সব শিশুর কম বেশী ধারণা হয়ে যায়। এটাও বোঝা হয় যে, এগুলো গোপন জিনিস। ঢেকে রাখার জিনিস। কাউকে দেখানোর মতো তো নয়ই, ধরতে দেওয়ারও নয়। তাই যখন কেউ এসব জায়গায় স্পর্শ করে, শিশুটি বুঝে ফেলে কাজটা ঠিক নয়। ফলে তার মনে আতংকের সৃষ্টি হয়। বারবার একই পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে যেতে থাকলে এক পর্যায়ে ভয়, লজ্জা আর ঘৃণা জন্ম নেয়। ঐ মানুষগুলোর প্রতি তো বটেই… নিজের প্রতিও। কখনো কখনো এই ঘৃণা স্থায়ী হয় সারাজীবন।

এখনকার মনোবিজ্ঞান বলে, শিশুদের মন অনেক জটিল। যদিও আমরা ভাবি, ওরা অনেক কিছুই বোঝে না। কিন্তু সঠিক তথ্য হচ্ছে, ওরা অনেক কিছু বোঝে। সেই সূত্রে এসব ব্যাপারও শিশুদের মনে বিরাট ছাপ ফেলে যার প্রভাব লক্ষ্য করা যায় পরবর্তীতে। কেইস ৩ আর ৪ এর মতো শিশুরা মানুষদের এড়িয়ে চলতে শেখে। কারো কারো মনে এতো দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়ে যে, তারা জীবনের অধিকাংশ সময়ই ছোটবেলার স্মৃতি নিয়ে পার করে দেয়। পুরুষ জাতির উপর থেকে বিশ্বাস উঠে যায়। সব পুরুষকেই মনে হতে থাকে বিকৃত রুচির। এই ধরণের ভুক্তভোগীরা, পুরুষ আছে এমন কোথাও গিয়ে শান্তি পায় না।

অনেককে দেখেছি যারা এসবের শিকার হয়ে সবসময় নিজেকেই দুষেছে, “কেনো মেয়ে হয়ে জন্মালাম?” ছোটবেলার স্মৃতিগুলো দগদগে ঘা হয়ে জ্বলতে থাকে ওদের মনে। কাউকে বলতে শুনেছি, “ঐ পশুগুলো আমাকে অপবিত্র করে দিয়েছে” কিংবা “আমাকে ব্যবহার করেছে”। সবচেয়ে কষ্টের ব্যাপার হলো, যখন ঐ মানুষগুলোকে চোখের সামনে ঘুরতে দেখা যায়। বেশীরভাগ পুরুষই হয়তো মনে করে, “ছোটবেলার কাহিনী। এখনো কি মনে আছে নাকি ওর?” কিন্তু যেটা সত্যি সেটা হলো, এসব ব্যাপার কখনো ভোলা যায় না।

সবশেষে এটাই বলতে চাই, এখন আমরা অনেক সচেতন। কীভাবে একটি শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়, কাদের দ্বারা এসব ঘটে কিংবা কোন পরিস্থিতিতে এসব ঘটতে পারে – আমরা জানি। তাই নিজেদের সন্তানকে বাঁচানোর দায়িত্ব নিতে হবে আমাদেরই।
আমাদের সন্তানরা যেনো কখনো তাদের জীবনে যৌন নিপীড়নের মতো দগদগে ঘা তৈরীর ব্যাপারে আমাদের অজ্ঞতা, গাফিলতি কিংবা অবহেলাকে দোষ দিতে না পারে।

[আমি মূলত মেয়ে শিশুদের নিয়ে লিখেছি। কারণ ছেলে শিশুদের যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়া বিষয়ে আমার পরিষ্কার ধারণা নেই। আশা করি সবাই ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন]

৩০ thoughts on “ঘরে-বাইরে শিশুর উপর যৌন নির্যাতনঃ পরিবার থেকে যার শুরু

  1. কিছু ব্যাপার নিয়ে আমরা কখনো
    কিছু ব্যাপার নিয়ে আমরা কখনো আলোচনা করতে চাই না, অনেকটা গোপন সমস্যার মত গোপন রাখতে চেষ্টা করি, যার ফলাফল হল, সমস্যাটা ক্রমশ বৃদ্ধি পায়। শিশু যৌন নির্যাতনও তেমনি একটা ব্যাপার। একটি শিশুর মনোজগৎ কে এমন একটি ঘটনা কতখানি প্রভাবিত করতে পারে এবং তার ভবিষ্যতের জন্য সেটা কতখানি ভয়াবহ হতে পারে, সেটা সবাইকে উপলব্ধি করতে হবে। বাবা-মা এর সচেতনতা বৃদ্ধি এক্ষেত্রে অনেক সহায়ক হতে পারে। যারা এধরনের ঘটনা ঘটায় তাদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত শাস্তি’র ব্যাবস্থা করতে হবে। শিশুদের জন্য কাউন্সেলিং এর ব্যাবস্থাও করা উচিত, যাতে করে এ ধরনের ঘটনা থেকে নিজেকে সুরক্ষা করতে পারে। লেখিকাকে ধন্যবাদ, বিষয়টিকে তার সুচিন্তিত মতামতসহ তুলে ধরার জন্য।

  2. হাতে গোনা কয়েকজনকে পাওয়া যাবে
    হাতে গোনা কয়েকজনকে পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ যারা এমন পরিস্থিত্র শিকার হয় নি । এবং যখনই কোন শিশু এমন অবস্থায় পড়ে সেটা আমরা অনুমানও করতে পারি না কী বীভৎস মানসিক অশান্তির মধ্যে দিয়ে সে যায়। তার নিষ্পাপ কোমল মনের উপর ভয়ংকর চাপ পড়ে। যা যৌনতা বা শিরিরিক বিষয় সম্পর্কে ঘৃণার জন্ম দেয়। বড় হলে এই ঘৃণা কেটে যায়। কিন্তু আজীবন স্মৃতিতে এই দুঃস্বপ্ন থেকে যায়।
    আর এই নির্যাতন রোধে সবচেয়ে বেশি দরকার পরিবারের সহযোগিতা। এমন অনেক বা অধিকাংশ পরিবার আছে যারা এমন ঘটনাকে আমলে আনতে চায় না। বা দোষ দেয় মেয়েটিকেই। “কেন সে গেলো, কেন তুমি মিশ্লা তার সাথে , তুমি মেয়ে তোমাকে , সাবধানে চলতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি অযৌক্তিক প্রশ্নে মেয়েটিকে অপরাধী বানিয়ে দেয়। শেষ মেষ মেয়েটি অপরাধ বোধে আক্রান্ত হয়। হয় নিজেকে দোষী ভাবে নয় নিজের দোষ কোথায় ছিল এই চিন্তা করতে থেকে অহর্নিশি।
    এ সমস্ত ঘটনাকে কোনভাবেই এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। বাবা মাকে সন্তানের এক মাত্র নির্ভরযোগ্য আশ্রয় হতে হবে। সন্তান যাতে মনে না করে যে আমি বাবা মা কে বললে আমাকেই হয়তো বকা দিবে বা বিশ্বাস করবে না। এমন চিন্তা যাতে সন্তানরা না করে সেজন্য বাবা মা’দের উদ্যোগী হতে হবে। সন্তানদের বিশ্বাস দেওয়াতে হবে যে “তুমি যখন যা মনে করো, আমাকে সবই নির্দ্বিধায় বলতে পার, আমি বিশ্বাস করবো” এই বিশ্বাস জন্ম নইলে সন্তান তার সমস্যার কথা বলতে ভয় পাবে না।
    আর বাবা মা’দের উচিত এমন অভিযোগ আসলে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। লোকচক্ষুর ভয়ে চুপ করে থাকা মানেই হচ্ছে অপরাধীদের আরও সাহসী করে দেওয়া। সে যেই হোক তাকে এর জবাবদিহিতা করতেই হবে।
    আচ্ছা এবার শেষ করি আপনাকে ধন্যবাদ দিয়ে…।

    1. “সন্তান যাতে মনে না করে যে
      “সন্তান যাতে মনে না করে যে আমি বাবা মা কে বললে আমাকেই হয়তো বকা দিবে বা বিশ্বাস করবে না।… বাবা মা’দের উচিত এমন অভিযোগ আসলে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। লোকচক্ষুর ভয়ে চুপ করে থাকা মানেই হচ্ছে অপরাধীদের আরও সাহসী করে দেওয়া। সে যেই হোক তাকে এর জবাবদিহিতা করতেই হবে।”

      একদম একমত আপনার সাথে।

  3. অনেক ক্ষেত্রে শিশুরা এইসব
    অনেক ক্ষেত্রে শিশুরা এইসব ব্যাপারে অভিযোগ করেনা…তাদের অভিযোগ করার মনমানসিকতা তৈরি করা দরকার…না হলে এভাবে সবার অগোচরে অনেক কিছু ঘটে যায়

    1. সন্তানের অভিযোগ না করার
      সন্তানের অভিযোগ না করার ব্যাপারে কিছু কারণ হলো – ছোটবেলা থেকেই যৌন বিষয়ে লজ্জা পাওয়ার শিক্ষা দেওয়া, এইসব বিষয়ে কথা বলাকে অসভ্যতা মনে করা, বাবা-মায়ের বন্ধুসুলভ আচরণ না করা ইত্যাদি।
      বাবা-মাকেই এগিয়ে আসতে হবে সন্তানদের সচেতন করার জন্য। এ বিষয়ে অবাস্তব স্বপ্নচারী যা বলেছেন, আমি তার সাথে একমত।

      1. আপনি ঠিক বলেছেন…আর এই জন্যই
        আপনি ঠিক বলেছেন…আর এই জন্যই আমাদের দেশের শিশু’রা অনেক বেশি হীনমন্যতা নিয়ে বড় হয়ে ওঠে… :মনখারাপ:

  4. খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে
    খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে নিয়ে এসেছেন। আমিও কিছু জিনিস যুক্ত করে দিতে চাই এখানে।

    শিশুদের যৌন নির্যাতন: গত পাঁচ বছরে যত ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, তার প্রায় ৬০ শতাংশের শিকার হয়েছে শিশুরা। নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে সরকারের মাল্টি সেক্টরাল প্রোগ্রামের তথ্য হলো, গত ১০ বছরে ধর্ষণসহ যত নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে, তার ৬০ শতাংশ ক্ষেত্রে মামলা হয়নি। বিচারের হার এক শতাংশেরও কম।ব্র্যাকের হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড লিগাল এইড সার্ভিসেসের পরিচালক ফস্টিনা পেরেরা প্রথম আলোকে বলেন, ‘শিশুদের জন্য পরিবেশ এখন আগের চেয়েও বেশি অনিরাপদ। শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সমাজের। কিন্তু সমাজ এগিয়ে আসছে না।’জাতীয় সংসদের স্পিকার ও সাবেক নারী ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শিরীন শারমিন চৌধুরী গত ২৪ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে বলেন, ‘ধর্ষণের ঘটনায় শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার হার উদ্বেগজনক। সরকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ সংশোধনের চেষ্টা করছে।’

    কন্যাশিশুর উপর নির্যাতনের একটি পরিসংখ্যান: মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের হিউম্যান রাইটস মনিটরিং রিপোর্ট অনুযায়ী ২০০৮ সালে ৪৫৪ জন ধর্ষণের শিকার হয়। এদের মধ্যে ২০২ জন নারী ও ২৫২ জন শিশু। ২০০৯ সালে ধর্ষণের শিকার ৪৫৬ জনের মধ্যে ২১৩ জন ছিল নারী ও ২৪৩ জন শিশু। ২০১২ সালে ধর্ষণের শিকার নারীর সংখ্যা ছিল ২৯৯ জন ও শিশু ৪৭৩ জন।

    আইন ও সালিশ কেন্দ্র বলছে, শুধু ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে নয়জন নারী ও ২৭ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। তাদের মধ্যে আটটি শিশু গণধর্ষণের শিকার হয়।

    বিচারের কি অগ্রগতি: মানবাধিকারকর্মী ও সমাজ বিশ্লেষকেরা মনে করেন, বিচার হয় না বলেই ধর্ষণের ঘটনা কমে না। ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার থেকে যারা সহযোগিতা পেয়েছে, তাদের মামলাগুলোর কী অবস্থা, জানতে চাইলে মাল্টি সেক্টরাল প্রোগ্রামের প্রকল্প পরিচালক আবুল হোসেন বলেন, গত ১০ বছরে ঢাকায় ধর্ষণসহ নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে তিন হাজার ৯৮০টি। মামলা হয়েছে এক হাজার ৫৫৬টি। শাস্তি হয়েছে ৪০টি ঘটনায়।

    নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য হলো, রাজশাহীতে ধর্ষণসহ নারী নির্যাতনের চার হাজার ১৬৯টি ঘটনায় মামলা হয়েছে ৪১৪টি, শাস্তি হয়েছে ২৫ জনের। চট্টগ্রামে দুই হাজার ৩৭টি ঘটনায় মামলা হয়েছে ৪৯৯টি, শাস্তি হয়েছে পাঁচজনের। সিলেটে দুই হাজার ২১৯টি ঘটনায় মামলা ৩৮৬টি, শাস্তি হয়েছে দুটিতে। খুলনায় দুই হাজার ৩১টি ঘটনার মধ্যে ২৯৩টি মামলা হয়েছে, শাস্তি হয়েছে দুটিতে। বরিশালে এক হাজার ২০০টি ঘটনায় মামলা হয় ৩৫৩টি, শাস্তি হয়েছে চারটিতে।

    শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে এমন কিছু পরিবার বলেছে, এ ক্ষেত্রে ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বছরের পর বছর মামলা ঝুলতে থাকে। ২০১০ সালে ঢাকার কাছে আড়াই বছরের একটি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়। শিশুটির পরিবার উত্তরাঞ্চলের একটি জেলা থেকে সে বছরই রাজধানীতে আসে। মেয়েটির বাবা প্রথম আলোকে বলেন, ‘তিন বছর ধরে মামলা চলছে। কবে মামলা শেষ হবে, তা কেউ কচ্ছেও না।’

    নির্যাতনের কিরূপ সাজা হচ্ছে: ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে কর্মরত আইনজীবী ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘দেখা গেছে, সাধারণভাবে ১০ বছরের নিচে শিশুরা ধর্ষণের শিকার হলে বাবা-মা টাকার বিনিময়ে মীমাংসা করে ফেলেন। ১০ বছরের ওপরে মেয়েদের সঙ্গে ধর্ষকের বিয়ের ঘটনা ঘটে অহরহ। ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট কেরানীগঞ্জে এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়। পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার করে এবং যথাসময়ে অভিযোগপত্রও দেয়। কিন্তু কিছুদিন পরই আক্রান্ত পরিবারটি মামলা তুলে নিতে চায়। পরে আমরা জানতে পারি, ধর্ষকের সঙ্গে ওই কিশোরীর বিয়ে হয়েছে।’

    কিভাবে যৌন নির্যাতনের ইতিহাসে শিশুরা যুক্ত হল: যিশু (জেসাস ক্রাইস্ট) এর বিরুদ্ধে রক্ত অপবিত্র করার অভিযোগ হলো ঐতিহাসিকভাবে নৈতিক আতঙ্ক সৃষ্টির পূর্ব সূচনা। এই থেকেই এসেছে শয়তানের উপাসনা নামক একটা বিকৃত চিন্তার। জেসাস শয়তানের রক্ত অপবিত্র করে দিয়েছে কুমারী মেরীর গর্ভে জন্মলাভ করে। তাই শয়তানের উপাসকরা কুমারী শিশুদের উপর যৌন নির্যাতন চালিয়ে শয়তানের রক্ত পবিত্র করার উৎসব করতো। ঠিক কখন থেকে কন্যাশিশুদের উপর এই নির্যাতনের উদ্ভব তা আজও অজানা রয়ে গেছে। তবে এটা মানুষ জানতে পারে সর্বপ্রথম আশির দশকে। ড্যান ব্রাউন তার বিখ্যাত দ্য ভিঞ্চি কোড বইতেও এর উল্লেখ করেছেন। শয়তানী ধর্মীয় নির্যাতন মানে একধরনের নৈতিক আতঙ্ক জাগানো মানুষের মাঝে যা ৮০-এর দশকের দিকে আমেরিকা তে শুরু হয়, পরে তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং পর্যায়ক্রমে সারা বিশ্বে । তবে ৯০-এর দশকের শেষের দিকে তা একেবারে কমে যায়। শয়তানী ধর্মীয় নির্যাতন জাতীয় কর্মকান্ডে একজন মানুষকে শারীরিকভাবে এবং যৌন হয়রানি করা হয়
    গুপ্তবিদ্যা বা শয়তানের উপাসনার নামে।

    ১৯৮৭ সালে একটি সূচকের তালিকা প্রকাশিত হয় ক্যাথেরিন গোল্ড যেখানে তিনি বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরেন যে কিভাবে শয়তানী ধর্মীয় নির্যাতন করা হয়েছে ছোট বাচ্চাদের সাথে।

    ♪ ১৯৮৬ সালে সবচেয়ে বড় শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটে অস্ট্রেলিয়া তে যেখানে শয়তানী ধর্মীয় নির্যাতন করা হয়।
    ♪১৯৮৭ সালে ইংল্যান্ডে এ জাতীয় অনেক ঘটনা ঘটে ।
    ♪১৯৮৯ সালে স্যান্ডি গ্যালান্ড নামের একজন পুলিশ ডিটেক্টিভ এব্যাপারে সাক্ষাৎকার দেন এবং প্রায় একই সময়ে অনেক থেরাপিস্ট সারা ইংল্যান্ড ভ্রমণ করেন শয়তানী ধর্মীয় নির্যাতন সম্পর্কে তাদের মন্তব্য তুলে ধরতে।
    ♪১৯৯২ সালে মার্টেন্সভাইল্লির শয়তানী যৌন গুজবের ভিত্তিতে একটা মামলা হয় , কিন্তু শিশুদের সাক্ষাৎকারে অনেক তারতম্য থাকার কারণে এই মামলা প্রমাণে অভাবে ১৯৯৫ সালে স্তিমিত হয়ে যায়।
    ♪শয়তানী ধর্মীয় নির্যাতনের একটা ঢেউ আছড়ে পড়ে নিউজিল্যান্ডে ১৯৯১ সালে।

    শেষ কোথায়: যুক্তরাজ্যে ১০ হাজারেরও বেশি শিশু সংঘবদ্ধ অপরাধীদের (গ্যাং) হাতে ভয়াবহ রকমের যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এমনকি প্রতিদিন অনেক শিশু এমন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। দেশটির শিশু বিষয়ক উপ-কমিশনার সিউ বেরেলোইজ এ কথা বলেন। এ বিষয়ে একটি তদন্তও শুরু করেছেন তিনি।
    সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ১০ হাজারেরও বেশি শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকতে পারে। তবে আশঙ্কার কথা হলো, প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। সিউ বেরেলোইজ জানান, ‘এই মুহূর্তেই হাজার হাজার শিশু সংঘবদ্ধ অপরাধীদের (গ্যাং) হাতে ভয়াবহ রকমের যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।’ তিনি এই নির্যাতনের মাত্রা এবং ব্যাপ্তি জানতে দুই বছর মেয়াদি তদন্ত কাজ শুরু করেছেন। বৃটিশ শিশু বিষয়ক কমিশনার
    ম্যাগি অ্যাটকিনসন এই তদন্তকে বর্ণনা করেন, ‘আমাদের সবার জন্য জেগে ওঠার আহবান’ বলে। যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়া এই শিশুদের বয়স ১১ বছরেরও নিচে। এদের টার্গেট করে পুরুষদের দ্বারা গঠিত গ্রুপ অথবা গ্যাং। বিভিন্ন উপহার দিয়ে ভুলিয়ে ধরে নিয়ে এদের বিক্রি অথবা পাচার
    করে দেয়া হয়। বেরেলোইজ জানান, বৃটেনে সব জাতি-গোষ্ঠীর শিশুরাই এই ধরনের নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। ১৪৪টি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে ৩৩টির পরিচালিত সংক্ষিপ্ত এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র এক
    দিনেই এক হাজারেও বেশি শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

    শিশু বিষয়ক কমিশনের বিশ্বাস, সংঘবদ্ধ গ্রুপের দ্বারা সংঘটিত যৌন নির্যাতন দেশের সব অঞ্চলের জন্যই হুমকি। শিশু যৌন নির্যাতনের বিষয়ে গঠিত তদন্ত দলটি পুলিশ, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং স্বাস্থ্য ও কিশোর অপরাধ বিষয়ক কর্মীদের কাছ থেকে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করবে। এই তথ্য সংগ্রহ কাজ চলেছে এই বছরের প্রথম পর্যন্ত এবং ওই বছর জুলাইয়ে তারা একটি মধ্যবর্তী প্রতিবেদন দেবে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে। এদিকে বৃটিশ সরকার শিশু নির্যাতনের সমস্যা মোকাবেলায় প্রণীত একটি কৌশলপত্র ২০১২ নবেম্বরে প্রকাশ করবে বলে জানা গেছে। এই প্রতিবেদনে এশিয়াতে শিশু নির্যাতনের ভয়ানক তথ্য উঠে এসেছে।

    এইবার আমার কথা: আমেরিকাতে প্রতি ছয়টি ছেলেশিশুর একজন ১৬ বছর বয়সের আগেই সেক্সুয়াল এবিউসের শিকার হয়। আর আমাদের পাশের দেশ ভারতে সেক্সুয়াল এবিউসের শিকার হওয়া শিশুর সংখ্যা প্রায় ৫৩.২২%। অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশী। ভাবছেন আমরা খুব ভালো আছি ধর্মীয় রক্ষা কবচের আড়ালে। আমরা ভালো নেই। উপমহাদেশে বিশেষ করে বাংলাদেশে নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান পাওয়া খুব কঠিন। যার কারণ নির্যাতিতদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি এবং নির্মম নিঃস্পৃহতা। আর পাঁচটা ঘটনার মত শিশু নির্যাতনের ঘটনা গুলো আমাদের কাছে অতি স্বাভাবিক। এসব নিয়ে সমাজ আলোচনা করতে ভালোবাসে না। সেক্স শব্দটি আমাদের সমাজে এখনো একটি ট্যাবু ওয়ার্ড। তাই বাংলাদেশের তৃতীয় বিশ্বের দরিদ্র শিশুদের রক্ত ও অশ্রু মিশ্রিত চিৎকার গুলি এই বিরামহীন নিস্তব্ধতার বেষ্টনী পেড়িয়ে কখনোই আমাদের কর্ণ কুহরে সাড়া জাগায় না।

    WHO এর হিসেব মতে প্রতি বছর পৃথিবীতে প্রায় ৪০ মিলিয়ন শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। বাংলাদেশে এই সংখ্যাটি কত তার কোন পূর্নাঙ্গ পরিসংখ্যান আমি পাইনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিকাল সাইকোলজি বিভাগের শিক্ষক ফারাহ দীবার করা সম্প্রতি এক সমীক্ষায় দেখা যায় স্কুলপড়ুয়া ছেলেদের প্রায় ৭ শতাংশ এবং মেয়েদের ১৬ শতাংশ যৌন হয়রানির শিকার হয়। ইউনিসেফের রিপোর্টটিতে যে ৬৯টি কেস স্টাডি আছে ওতে ডাটা কালেকশনের সময় কোয়ান্টিটির চেয়ে কোয়ালিটিকে অধিক প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। সরকারীভাবে কোন সমীক্ষা চালানো হয় নাই যেটা কিনা ভারতে হয়েছে।

    ভারতে সরকারীভাবে Ministry of Women and Child Development এর অধীনে ১৩ টি রাজ্যে চালানো এই সমীক্ষায় দেখা যায় প্রায় ৫২.৯৪% ছেলেশিশু আর ৪৭.০৬% মেয়েশিশু যৌন নির্যাতনের শিকার। ফারাহ দীবার করা সমীক্ষাটি স্বল্প পরিসরে একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে। আর ইউনিসেফের রিপোর্টটিকে আদেও
    কোন সমীক্ষা বলা চলে না। তবে ধারণা করা যায় পুরো চিত্রটি বুঝি আরও বীভৎস, ভয়ংকর। এটি এমন এক প্লেগ যা বাংলাদেশের সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়েছে। তাই
    এদেশে নির্যাতিত শিশুদের মোট সংখ্যাটি ভারতের কাছাকাছি হবে বলেই মনে হয়।

    অতএব, বলা যায় ঘটনা লাগাম ছাড়াচ্ছে। এটা ভালো সংকেত নয়। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কোনো যথাপোযুক্ত শাস্তি ব্যবস্থার মাধ্যমে শিশু নির্যাতন নির্মূল করতে হবে। বিকৃত রুচির নির্যাতকদের নপুংসক করে দেয়া হোক। বিকৃত যৌনাচার বন্ধে সবার সম্মিলিত হস্তক্ষেপ কামনা করি। দেয়ার শ্যুড বি নো অ্যালিবাই ফর দ্য সেক্সুয়াল সাপ্রেসর্স। লেট আস থ্রো অ্যাওয়ে দিজ গারবেজ অ্যান্ড ক্লিন দ্য সোসাইটি।

    1. ইলেকট্রন ভাই, আপনার মন্তব্য
      ইলেকট্রন ভাই, আপনার মন্তব্য পড়ে আমার শরীর আতংকে রি রি করে উঠলো! এতো বীভৎস অবস্থা আমাদের সমাজের, জানা ছিলো না।
      এইসব বিষয়ের অনেক বেশী প্রচারণা পাওয়া দরকার। প্রচারেই প্রসারের মতো মানুষের ভিতরে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য এই ভয়ংকর সত্যগুলো প্রতিনিয়ত মিডিয়ায় আসা উচিৎ!

      আপনাকে অনেক ধন্যবাদ মূল্যবান তথ্যগুলো শেয়ার করার জন্য :খুশি:

    2. ১৬%?? না ১৬% ন​য়, ১০০% ভাই
      ১৬%?? না ১৬% ন​য়, ১০০% ভাই ১০০%। এই আর্তনাদটা সব মেয়েদের পক্ষ হতে শুনে নেন। মেয়ে ভ​য়ে কষ্টে বলে না। রাস্তায় সব বাঙালি মেয়েই এক বার না একবার নিগ্রহের শিকার হয়ই। ভাগ্য খারাপ হলে আরো ভ​য়াবহ ঘটনা ঘটে যায়্। আমরা মেয়ে, আমরা শত উন্নতিতেও হতভাগী। এগুলা স্ট্যাটিস্টিকস এর পাতায় স্থান পায়না।

  5. হঠাৎ পাশের ফ্লাটে চেঁচামেচি।
    হঠাৎ পাশের ফ্লাটে চেঁচামেচি। রাতের হট্টগোল গুলোতে আসলে যাওয়া হয়না।কিন্তু হট্টগোল এতটাই মারাত্বক আকার নিল যে,মনে হল কে যেন কাউকে মেরে ফেলার চেস্টা করছে।সাহস করে দরজায় নক করলাম,মহিলা দরজা খুলে দিল। দেখি মহিলার মাথা বেয়ে তখনও রক্ত ঝড়ছে এবং পুরুষটি অগ্নিমূর্তি। এর মধ্যে বাড়ীওয়ালাও এসে গেল।পরে জানতে পারলাম,মহিলার আগের ঘরের ১১ বছরের মেয়েকে প্রায় রাতেই পুরুষটি উত্যক্ত করতো।মহিলা ঘুমিয়ে গেলেই লোকটি চলে যেত তার সৎ মেয়ের ঘরে।বাড়ীওয়ালা সেদিন সকালেই তাদের বাড়ী থেকে বের করে দেয়।কিন্তু এটাইকি সমাধান ছিল,আমাদের করণীয় কি আর কিছু ছিলনা?আসলে এসব ক্ষেত্রে দেখা যায় সেই মহিলাই আগ্রহী হবেনা।মার খাবে,নির্যাতন সইবে,নিজের মেয়েকে উপাদান বানাবে কিন্তু লম্পট স্বামীর সংসার ছাড়বেনা।

    1. “কিন্তু এটাইকি সমাধান
      “কিন্তু এটাইকি সমাধান ছিল,আমাদের করণীয় কি আর কিছু ছিলনা?” – এই প্রশ্নের উত্তর জানা সত্ত্বেও আমরা ওই পথ মাড়াই না। ঝামেলা বাড়াই না।
      কারণ? আমাদের সমাজে এখনো যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে শক্ত কোনো আইনের প্রয়োগ দেখা যায় না। এখনো মানুষ লোকলজ্জার ভয়ে বিষয়গুলো নিয়ে সামনে আসে না। ইলেকট্রন ভাইয়ের মন্তব্যে “মেয়েটির বাবা প্রথম আলোকে বলেন, ‘তিন বছর ধরে মামলা চলছে। কবে মামলা শেষ হবে, তা কেউ কচ্ছেও না।’
      এতো দীর্ঘস্থায়ী পন্থার জন্য মামলা করাটা আমজনতার কাছে পৌছাতে পারছে না। একে তো শিশুটি নির্যাতনের শিকার, তার উপর মামলা যদি আরেকটি নির্যাতন হিসেবে দেখা দেয়, কীভাবে মানুষের ইচ্ছা জাগবে মামলা করার?
      আমাদের আরও যা করার আছে তা হলো, এই বিষয়গুলো সম্পর্কে প্রচুর প্রচারণা চালানো। লজ্জাকর বিষয় হিসেবে এড়িয়ে না যাওয়া। নিজের এবং আশেপাশের মানুষের মনোভাব পরিবর্তন করা।

  6. খুব ভালো লিখেছেন…
    আমার মনে

    খুব ভালো লিখেছেন…
    আমার মনে হয়,আপনার এই লিখায় সব শিশু’র জীবনের(বিশেষ করে মেয়েশিশুদের জীবনে)ঘটা নিদারুণ কষ্টের কিছু চিত্র আপনি দক্ষভাবে তুলে আনতে পেরেছেন।
    আমাদের শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ আমাদেরকেই নিশ্চিত করতে হবে…
    এই বিষয়ে আমাদের সচেতনতা খুব বেশি প্রয়োজন।
    সব শেষে আপনার এই পোস্টের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ… :ধইন্যাপাতা: :থাম্বসআপ:

    1. “আমাদের শিশুদের জন্য নিরাপদ
      “আমাদের শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ আমাদেরকেই নিশ্চিত করতে হবে… এই বিষয়ে আমাদের সচেতনতা খুব বেশি প্রয়োজন।”

      একমত।

      ধন্যবাদ আপনাকে :ফুল:

  7. অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়
    অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় নিয়ে আপনি ধারাবাহিকভাবে লিখে যাচ্ছেন…
    আমাদের সমাজের এমন অন্তঃসারশূন্যতার মুখোশ উন্মোচনে আপনাদের মত অনলাইন এক্টিভিস্টরা এগিয়ে আসলে সমাজের মাতা-পিতারা বুঝবে তার/তাদের সন্তানেরা কোথায় নিরাপদ! আর আমাদের মা-বাবারা তাদের সন্তানদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক না গড়ে তোলার কারনে এমন অবস্থার সুযোগ আরও বেশী সৃষ্টি হচ্ছে…
    অন্যদিকে কো-এডুকেশনের ছাত্রদের থেকে বিশেষায়িত বিদ্যালয়ের ছাত্ররা এমন কাজে বেশী ঝুঁকে পরে। কোন ছেলের ছোট বেলা থেকে মেয়েদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠলে তারা এমন হওয়ার কথা না… এমন একটা রিপোর্টও পেয়েছিলাম তবে ব্যস্ততার কারণে এখন লিংক দিতে পারছি না! অন্যদিকে মাদ্রাসার ছাত্ররা ছেলে শিশু এবং মেয়ে শিশু উভয়কেই নিপীড়ন করে থাকে… ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং নারীকে বন্ধী করে শোপিস করে রাখার সমাজিক মনোবৃত্তি একাকীত্বে ভোগা পুরুষ তৈরি করে যারা নিজেদের সাইকো-সেক্সুয়াল মানসিক পরিপূর্ণ বৃদ্ধি না হওয়ার/করতে পারার কারণে এমন আগ্রাসী এবং বিবেকশুন্য হয়ে পরে…

    এমন সমস্যার সাবলীল উপস্থাপনা খুবই দরকার তার থেকে বেশী দরকার নিজ নিজ অবস্থান থেকে উত্তরণের পথ বের করা!
    ইলেকট্রন এবং নির্ঝর-কে আবারও অশেষ ধন্যবাদ :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ: :ফুল: :ফুল:

    1. আমি শিশুদের উপর যৌন
      আমি শিশুদের উপর যৌন নির্যাতনের কারণ বুঝি না।
      প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে বা মেয়ে তাদের শারীরিক বৈশিষ্ট্য দিয়ে বিপরীত লিঙ্গকে আকৃষ্ট করতে পারে, বুঝি। কিন্তু একটা শিশু কীভাবে কারো যৌন আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তোলে? (প্রশ্নটা কী অদ্ভুত হয়ে গেলো?)

      মূল্যবান মতামতের জন্য আপনাকেও ধন্যবাদ তারিক ভাইয়া :গোলাপ:

      1. সাইকো-সেক্সুয়াল ডিসঅর্ডারে
        সাইকো-সেক্সুয়াল ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত ব্যক্তির আচরণের ক্ষেত্রে আপনি দেখবেন অপরাধী সবসময় এমন শিকার বেছে নেই যেখানে সে প্রতিবাদের আশংকা কম দেখে… একই কথা যেমনি সন্ত্রাসীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য তেমনি এমন বিকৃত মানসিকতার বিকারগ্রস্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রেও!! শিশুদের উপর তারা এমন নির্যাতন বেশী করে তার একমাত্র কারণ আমার কাছে মনে হয় শিশুর ব্যাপারটা বুঝতে না পারা এবং প্রতিবাদ করার সম্ভাবনা না থাকা…
        আপনাকেও ধইন্যা :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :ফুল:

        1. বাংলাদেশ জাতীয় শিশু নীতি ২০১১
          বাংলাদেশ জাতীয় শিশু নীতি ২০১১ অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচে সকল ব্যক্তিই শিশু। কোনো কোনো দেশে অবশ্য এই সীমা ১৫ বছরের নিচেও ধরা হয়। কিন্তু ক্লাস ৬-৮ এ পড়া একটা মেয়ে মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে শিশু থাকে না। তার মানসিক পরিপক্বতা হয় ৮-৯ বছরের শিশুর চেয়ে উচ্চ পর্যায়ের।

          1. আপনি বলেই দিলেন হ্যাঁ এখনকার
            আপনি বলেই দিলেন হ্যাঁ এখনকার ক্লাস ৬-৮ এ পড়া ছেলে মেয়ে গুলো অনেক এডভান্স। তারা কি কি যে করে তা বলতে লজ্জা পাব।

  8. আমাদের দেশে মেয়েদের চাইতে
    আমাদের দেশে মেয়েদের চাইতে মেয়েশিশুরা বেশি নিগৃহীত হ​য়। এই পোস্টে ব্যাপারটাকে সত্যিকারভাবে তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ।

  9. সবাই প্রায় সব কিছুই বলে
    সবাই প্রায় সব কিছুই বলে ফেলেছে… আমার কিংবা হয়তো আমাদের আর কিছু বলার নেই।

    ভালো ভালো কথাগুলো সব বলা হয়ে গেছে…
    ভালো ভালো কাজগুলো করা বাকি রয়ে গেছে…!

    আমাদের এখন দরকার করনীয়গুলোর দিকে নজর দেয়া।
    নির্ঝর দিদিকে ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করবো না… শারদীয় ও ঈদের শুভেচ্ছার সাথে অনেক অনেক শুভ কামনা রইলো…
    :ফুল: :ফুল: :ফুল:

    1. “ভালো ভালো কাজগুলো করা বাকি
      “ভালো ভালো কাজগুলো করা বাকি রয়ে গেছে…! আমাদের এখন দরকার করনীয়গুলোর দিকে নজর দেয়া।”

      ভালো বলেছেন। তাহলে আজ থেকেই শুরু হোক পথচলা :খুশি:

      আর আমি এতো বড় হই নি যে ধন্যবাদ পেলে ছোটো হয়ে যাবো :ভেংচি:
      শুভেচ্ছা রইলো আপনার প্রতিও :ফুল:

  10. আপনি খুবই সুন্দরভাবে সমাজের
    আপনি খুবই সুন্দরভাবে সমাজের বাস্তব চিত্রটি তুলে ধরতেছেন ।এই পর্যন্ত ইস্টিশনে পোস্টিং দেয়া আপনার দুটো পোস্টই বিশেষ গুরুত্বের দাবী রাখে ।ধন্যবাদ আপনাকে ।

    আসলে শিশু ও নারী নির্যাতন বন্ধে একক কোন পদ্ধতি প্রয়োগে পূর্ণ সফলতা আশা করা যায় না ।এ ক্ষেত্রে পারিবারিক সচেতনতা এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের পাশাপাশি কঠোর আইনি প্রয়োগেরও প্রয়োজন ।বিশেষ করে বিচারের দীর্ঘসুত্রিতা বন্ধে পদক্ষেপ নেয়াটা ভীষণ জরুরী ।

    1. “এ ক্ষেত্রে পারিবারিক সচেতনতা
      “এ ক্ষেত্রে পারিবারিক সচেতনতা এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের পাশাপাশি কঠোর আইনি প্রয়োগেরও প্রয়োজন। বিশেষ করে বিচারের দীর্ঘসুত্রিতা বন্ধে পদক্ষেপ নেয়াটা ভীষণ জরুরী।”

      :থাম্বসআপ:

  11. আপনার গত পোস্ট নারী পুরুষ
    আপনার গত পোস্ট নারী পুরুষ বৈষম্য। আজকের এই বিক্রিত মানসিকতা কি উক্ত বৈষম্যের একটি কারন নয়?

    হ্যা হয়তো বা এমনই হচ্ছে। মেয়েরা লাঞ্ছিত হচ্ছে শৈশব হতেই আমাদের এই পুরুষ জাতি দ্বারা!!!!!

  12. আমরা পুরুষরা এই কাজ করার সময়
    আমরা পুরুষরা এই কাজ করার সময় যদি ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করতাম তাহলে আমাদের দ্বারা এই কাজ কখনো সম্ভব হত না॥
    কারণ আমরা যদি কারও মেয়ে বা বোনের সাথে এমন কাজ করি, তাহলে ভবিষ্যতে অন্য কেউ আমার মা-বোন বা মেয়ের সাথে একই কাজ করতে পারে॥

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *