পরিপূর্ণ বিপ্লবীর জীবনাবসান অতঃপর চিরস্থায়ী বিপ্লবী চেতনার উত্থান

চে সম্পর্কে জ্যা পল সারত্রের উক্তিটি দিয়েই এই মহাবিপ্লবীকে স্মরণ করছি। “Che was the most complete human being of our age.”


চে সম্পর্কে জ্যা পল সারত্রের উক্তিটি দিয়েই এই মহাবিপ্লবীকে স্মরণ করছি। “Che was the most complete human being of our age.”

চে গুয়েভারা ছিলেন একজন আর্জেন্টিনীয় তাত্ত্বিক মার্ক্সবাদী ও বিপ্লবী, চিকিত্সক, লেখক, চিত্রগ্রাহক, বুদ্ধিজীবী, গেরিলা নেতা, কূটনীতিবিদ, সামরিক তত্ত্ববিদ ও কিউবার এবং পরবর্তীতে সমগ্র ল্যাটিন আমেরিকার বিপ্লবের প্রধান ব্যক্তিত্ব। তাঁর প্রকৃত নাম এর্নেস্তো গুয়েভারা দে লা সের্না (স্পেনীয়: Ernesto Guevara de la Serna)। তবে তিনি সারা বিশ্বে ‘চে’ নামেই পরিচিত। চে গুয়েভারার (অথবা গেভারা) জন্ম ১৯২৮ সালের ১৪ জুন আর আগামীকাল এই মহান বিপ্লবীর ৪৬ তম মৃত্যু বার্ষিকী; এই অমর চেতনার কিছু বিরল ছবিসহ জীবন সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরব।


১৯৫১ সালে ২২ বছর বয়সী চে

ছোটবেলা থেকে এজমায় আক্রান্ত ছিলেন বলে তিনি হয়ে পড়েন ঘরকুনো আর প্রচণ্ড বই পাগল একজন মানুষ। ১২ বছর বয়সে দাবা খেলা শেখেন তার বাবার কাছে এবং স্থানীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে শুরু করেন। বয়ঃসন্ধি থেকে শুরু করে সারাটা জীবন তিনি কবিতার প্রতি আসক্ত ছিলেন বিশেষ করে পেবলো নেরুদা,জন কিটস, এন্টনিও মারকাদো, ফেদেরিকো গারসিয়া লরকা, গ্যাব্রিয়ল মিনস্ট্রাল এবং ওয়াল্ট হুয়িটম্যান, তিনি ভালো কবিতা আবৃত্তি করতে পারতেন। গুয়েভারা পরিবারে ছিল ৩০০০ এরও বেশি বই যা গুয়েভারাকে করে তোলে একজন জ্ঞান পিপাসু ও অক্লান্ত পাঠক; যার মধ্যে কার্ল মার্ক্স, উইলিয়াম ফকনার, এমিলিও সলগারির বই পাশাপাশি জওহরলাল নেহেরু, আলবার্ট ক্যামাস, লেনিন, রবার্ট ফ্রস্ট এর বইও তিনি পড়তেন।

বিপ্লবী চে

চে গুয়েভারা ১৯৪৮ সালে বুয়েনস এয়ারস বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিত্সা বিষয়ে লেখাপড়ার জন্য ভর্তি হন। ১৯৫১ সালে লেখাপড়ায় এক বছর বিরতি দিয়ে আলবার্টো গ্রানাডো নমক এক বন্ধুকে সাথে করে সেই ঘরকুনো ‘চে’ আদর্শের টানে মোটর সাইকেলে দক্ষিণ আমেরিকা ভ্রমনে বেরিয়ে পড়েন যার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল পেরুর সান পেবলোর লেপার কলোনিতে (কুষ্ঠ রোগী দের জন্য বিশেষ কলোনি) স্বেচ্ছা সেবক হিসেবে কয়েক সপ্তাহ কাজ করা| মাচুপিচ্চুর যাওয়ার পথে তিনি প্রত্যন্ত অঞ্চলের দারিদ্র কৃষকদের চরম দারিদ্রতা দেখে মর্মাহত হন। এ কৃষকরা ধনী মহাজনদের অধীনে থেকে ছোট ছোট জমিতে কাজ করত। তাঁর ভ্রমণের পরবর্তী সময়ে তিনি লেপার কলোনিতে বসবাসকারী মানুষের মাঝের ভ্রাতৃত্ব ও সাহচর্য দেখে অভিভূত হন। এই অভিজ্ঞতা থেকে তাঁর ডায়েরীতে (The Motorcycle Diaries,) তিনি লিখেছেন, ‘মানব সত্ত্বার ঐক্য ও সংহতির সর্বোচ্চ রূপটি এসকল একাকী ও বেপরোয়া মানুষদের মাঝে জেগে উঠেছে’; তার এই দিনলিপি নিউয়র্ক টাইমস এর বেস্ট সেলার এবং পরে একই নামে (The Motorcycle Diaries) চলচ্চিত্রও বের হয়।

এই ভ্রমণ তাকে নিয়ে যায় আর্জেন্টিনা, চিলি, পেরু, ইকুয়েডর, কলম্বিয়া, ভেনিজুয়েলা, পানামা ও মিয়ামির মধ্য দিয়ে বুয়েন্স আয়রেস এর দিকে। ভ্রমণের শেষ দিকে তিনি এই মত পোষণ করেন যে দক্ষিণ আমেরিকা আলাদা আলাদা দেশের সমষ্টি নয় বরং এক অভিন্ন অস্তিত্ব যার প্রয়জন মহাদেশ ব্যাপী স্বাধীনতার জাগরণ ও স্বাধীনতার পরিকল্পনা। পরবর্তিতে তাঁর নানা বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে এই একক, সীমানাবিহীন আমেরিকার চেতনা ফিরে আসে বার বার|

প্রিয় সিগার মুখে ‘চে’

১৯৫৪ সালের শুরুর দিকে গেভারা মেক্সিকো শহরে পৌঁছান এবং সদর হাসপাতালে এলার্জি বিভাগে চাকুরি করেন। পাশাপাশি ন্যাশনাল অটোনোমাস ইউনিভির্সিটি অব মেক্সিকোতেমেডিসিন বিষয়ে প্রভাষক এবং লাতিনা সংবাদ সংস্থার চিত্রগ্রাহক হিসেবে কাজ করেন। ১৯৫৫ সালের জুন মাসে তার বন্ধু নিকো লোপেজ রাউল কাস্ত্রোর সাথে তার পরিচয় করান এবং পরে তার বড় ভাই ফিদেল কাস্ত্রোর সাথে পরিচিত হন। কাস্ত্রোর সাথে তার প্রথম সাক্ষাতে দীর্ঘ আলাপচারিতা হয় এবং চে বলেন যে কিউবার সমস্যা নিয়ে তিনি চিন্তিত। তারপর তিনি ২৬শে জুলাই আন্দোলন দলের সদস্য হন। সেই সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাম্রাজ্যবাদের ঘোর বিরোধী ছিলেন এবং তিনি বিশ্বাস করতেন এই আগ্রাসী তত্পরতার আশু সমাপ্তি প্রয়োজন।

১৯৫৩ থেকে ৫৬ তে বিপ্লবী ‘চে’র ভ্রমণ পথ (নীল লাইন দিয়ে চিহ্নিত) নির্দেশ করছে এই ম্যাপটি

বিপ্লবের পরিকল্পনায় কাস্ত্রের প্রথম পদক্ষেপ ছিল মেক্সিকো হতে কিউবায় আক্রমণ চালান। ১৯৫৬ সালের ২৫শে নভেম্বর তারা কিউবার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। পৌছানোর সাথে সাথেই বাতিস্তার সেনাবাহিনী কর্তৃক আক্রান্ত হন। তার ৮২ জন সহচরী মারা যান অথবা কারাবন্দী হয়, মাত্র ২২জন এ যাত্রায় বেঁচে যায়। গুয়েভারা লিখেছিলেন সেটা ছিল সেই রক্তক্ষয়ী মুখোমুখি সংঘর্ষের সময় যখন তিনি তার চিকিত্সা সামগ্রীর সাথে একজন কমরেডের ফেলে যাওয়া এক বাক্স গোলাবারুদ নিয়েছিলেন, যা তাকে পরিশেষে চিকিত্সক থেকে বিপ্লবীতে পরিণত করে তাঁকে।


কাস্ত্রোর সাথে ‘চে’

যুদ্ধচলাকালীন ‘চে’ বিদ্রোহী সেনাবাহিনীর অখণ্ড অংশ হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি ফিদেল কাস্ত্রোকে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, কূটনীতি এবং অধ্যবসায়ের কথা জানিয়ে ছিলেন। গুয়েভারা গ্রেনেড তৈরির কারখানা, রুটি সেঁকানোর জন্য চুল্লী প্রস্তুত এবং নিরক্ষর সঙ্গীদের লেখাপড়ার জন্য পাঠশালা তৈরি করেন তাছাড়াও তিনি একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, সামরিক প্রশিক্ষণের কর্মশালা আয়োজন এবং তথ্য সরবরাহের জন্য পত্রিকা প্রচার করতেন। বিখ্যাত টাইম ম্যাগাজিন তিন বছর পর তাকে “কাস্ত্রোর মস্তিষ্ক” বলে অ্যাখ্যায়িত করেছিল। তারপর তিনি বিদ্রোহী বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে পদোন্নতি পান।


১৯৬০ সালে সস্ত্রীক ‘চে’ হাভানার রাজপথে

১৯৬১ থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত চে কিউবার শিল্প বিষয়ক মন্ত্রী ছিলেন। এসময় তিনি কিউবার কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। এসময় কিউবান নোটগুলোতে তার স্বাক্ষরে শুধু “চে” লেখা থাকতো। ১৯৬৫ সালে আলজিয়ার্স সফরকালে সোভিয়েত সরকারকে সাম্রাজ্যবাদের দোসর আখ্যা দেয়ার ফলে দেশে ফেরার সাথে সাথে তার মন্ত্রীত্ব বাতিল হয়, এরপর তিনি বিপ্লবের পথে নিজেকে নিবেদিত করতে নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান।


১৯৫২ সালে সহযোদ্ধা আলবার্তো গ্রানাডোর সাথে মৎস্য শিকারে আমাজন নদীতে ‘চে’

১৯৬৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে গেভারা বিশ্বের বিপ্লবীদের কূটনীতিক হিসেবে পরিচিতি পান। তাই তিনি কিউবার প্রতিনিধি হয়ে জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগদান করার জন্য নিউইয়র্ক শহরে যান। ১১ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ১৯তম অধিবেশনে আবেগ অভিভূত বক্তৃতায় তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার জাতিগত বৈষম্যের কঠোরনীতি দমনে জাতিসংঘের দুর্বলতার কথা বলেন। এটাকে বন্ধ করার জন্য জাতিসংঘের কোন পদক্ষেপ আছে কি না জানতে চেয়ে প্রশ্ন তোলেন।


কঙ্গো ক্রাইসিসের সময় আফ্রো-কঙ্গো সৈনিকের সাথে ‘চে’, ১৯৬৫ সালে

গুয়েভারা তখন নিগ্রো জনগণের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রেরর নীতির কঠোর নিন্দা জ্ঞাপন করেন। ক্রোধান্বিত গুয়েভারা ‘সেকেন্ড ডিক্লেরেশন অব হ্যাভানা’ নামক একটি আবেগপূর্ণ ঘোষণার উল্লেখ করে তার বক্তৃতা শেষ করেন। তিনি বলেন যে তার এই ঘোষণার জন্ম হয়েছে ক্ষুধার্ত জনগণ, ভূমিহীন কৃষক, বঞ্চিত শ্রমিক ও প্রগতিশীল মানুষের দ্বারা । বক্তব্যের শেষ করতে গিয়ে তিনি আরো বলেন, সারা বিশ্বের শোষিত জনগোষ্ঠীর একমাত্র চিত্কার এখন, হয় স্বদেশ অথবা মৃত্যু।



মস্কোর রেড স্কয়ারে , নভেম্বর ১৯৬৪ সালে

১৯৬৫ সালে গেভারা আফ্রিকায় যাবার সিদ্ধান্ত নেন এবং কঙ্গোয় চলমান যুদ্ধে তার অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান কাজে লাগাবার প্রস্তাব দেন। আলজেরিয়ার রাষ্ট্রপতি আহমেদ বিন বেল্লার মতে, গুয়েভারা আফ্রিকাকে রাজতন্ত্রের দুর্বল ঘাটি ভেবেছিলেন। তাই সেখানে বিপ্লবের প্রচুর সম্ভাবনা তিনি দেখেছিলেন। মিশরের রাষ্ট্রপতি গামাল আব্দেল নাসের, ১৯৫৯ সালের সাক্ষাতের পর যার সাথে চে এর ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। তিনি কঙ্গো আক্রমণের পরিকল্পনাকে বোকামি হিসেবে দেখেছিলেন। এই সতর্কতা সত্ত্বেও গুয়েভারা মার্কসবাদীদের সহায়তায় আক্রমণ চালিয়ে যাবার জন্য তৈরি হন। ১৯৬৫ সালের ২৪ এপ্রিল তিনি, তার সেকেন্ড কমান্ড ভিক্টর বার্ক এবং ১২ জন সহচরী নিয়ে কঙ্গোয় পৌছান। তার কিছু দিনের মধ্যে প্রায় ১০০ জন আফ্রো-কিউবান তাদের সাথে যোগ দেন। এখানে তিনি কঙ্গোর গৃহযুদ্ধে অংশ নেয়া লুমুম্বা ব্যাটেলিয়ন সংগঠনের দায়িত্ব নেন।


বিটলসের জন লেননের সাথে গীটার হাতে ‘চে’

গুয়েভারা অবস্থান সম্পর্কে তখন লোকজন জানত না। ১৯৬৬ সালের শেষের দিকে অথবা ১৯৬৭ এর শুরুর দিকে জমবিক স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতিনিধির সাথে ডার এস্ সালাম নামক স্থানে দেখা হয়। সেখানে গেভারা তাদের বিপ্লবী কর্মকান্ডে সাহায্য করতে চেয়েছিলেন। ১৯৬৭ সালে হাভানায় আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে পদযাত্রায় এক মন্ত্রী বলেন যে ‘চে’ লাতিন আমেরিকার কোন জায়গায় বিপ্লব চালিয়ে যাচ্ছেন। তার পর প্রমানিত হয় যে তিনি বলিভিয়ায় গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনা করছেন। কাস্ত্রোর আদেশে তিনি মন্টেন ড্রাই ফরেস্ট নামক দুর্গম এলাকায় প্রশিক্ষন চালান যেখানে বলিভিয়ার স্থানীয় সমাজতান্ত্রিকরা তাকে সাহায্য করেছিল।


মৃত্যুর পর সিআইএ’র গুপ্তচরদের হাতে ‘চে’র মৃতদেহ

বলিভিয়ার সেনাবাহিনীর ভাষ্যমতে তারা গুয়েভারাকে ৭ অক্টোবর গ্রেফতার করে এবং তার মৃত্যু হয় ৯ অক্টোবর ১৯৬৭ সাল বেলা ১.১০ টায়; মৃত্যুর এ সময়কাল এবং ধরণ নিয়ে মতভেদ এবং রহস্য এখনো আছে। ধারণা করা হয় ১৯৬৭ সালের এই দিনটিতে লা হিগুয়েরা নামক স্থানে নিরস্ত্র অবস্থায় নয়টি গুলি করে হত্যা করা হয় বন্দী চে গুয়েভারাকে। পরে বলিভিয়ার সেনাবাহিনী ঘোষণা করে যে বন্দী অবস্থায় নয়টি গুলি চালিয়ে সেই আর্জেন্টাইন ‘সন্ত্রাসবাদী’-কে মেরে ফেলতে পেরেছে এক মদ্যপ সৈনিক। তবে আরেকটি মতামত হচ্ছে এই দিন যুদ্ধে বন্দী হলেও তাকে এবং তার সহযোদ্ধাদের হত্যা করা হয় কিছুদিন পর। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার বিভিন্ন প্রতিবেদনে পরবর্তীতে এইসব দাবির স্বপক্ষে কিছু প্রমাণ পাওয়া যায়।


১৯৬৭, এই মহান বিপ্লবীর মৃত্যুর কিছুদিন আগের ছবি

এ সম্পর্কে নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকা সে সময় লিখেছিল,‘একজন মানুষের সঙ্গে সঙ্গে একটি রূপকথাও চিরতরে বিশ্রামে চলে গেল।’ পরে ১৯৯৭ সালে ভ্যালেগ্রান্দের একটি গণ-কবরে চে ও তাঁর সহযোদ্ধাদের দেহাবশেষ আবিষ্কৃত হয়। চে গেভারা মৃত্যুর আগে কিউবান ভাষায় লিখেছেন প্রায় ৭০টি নিবন্ধ, ধারণা করা হয় ছদ্মনামে কিংবা নামহীন অবস্থায় লিখেছেন আরও ২৫টি। এছাড়া তিনি লিখে দিয়েছেন পাঁচটি বইয়ের ভূমিকা। ১৯৫৮ থেকে ১৯৬৫ পর্যন্ত ভাষণ আর সাক্ষাতকার দিয়েছেন প্রায় ২৫০-এর কাছাকাছি। বিভিন্ন ব্যক্তিত্বকে লেখা তার অসংখ্য চিঠির মধ্যে সংগৃহীত আছে ৭০টির মতো। তার লেখালেখি নিয়ে এখন পর্যন্ত বের হয়েছে নয় খণ্ড রচনাবলি।


১৯৬০ সালের মার্চ মাসে অস্তিত্ববাদী দার্শনিক Jean-Paul SartreSimone de Beauvoir এর সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে চে গুয়েভারা

চে এমন এক অসামান্য বিপ্লবীর নাম যার জীবনে এতটুকু পোস্টে লিখা অসম্ভব। আবার বিপ্লবের ও বিপ্লবীর মৃত্যু নাই, তাই ‘চে’ হয়ে থাকবেন তাবৎ দুনিয়ার শোষণ মুক্তির সংগ্রামী মানুষের প্রেরণা আর তাদের সংগ্রামের মাঝেই চে’র চেতনা ও বিপ্লব অমরত্ব লাভ করেছে- করবে। চে’র সবচে বিখ্যাত উক্তিটিও তাই এমন চেতনা ধারন করে-
“Hasta La Victoria Siempre!” অর্থাৎ, “সংগ্রাম বিজয় অব্দি !”

আর, মৃত্যুর ঠিক আগ মুহূর্তে চে বলেছিলেন “I know you are here to kill me. Shoot, coward, you are only going to kill a man” আসলেই তাই এই মানব সভ্যতা যতদিন টিকে আছে ততদিন সংগ্রামী মানুষের মনে বেঁচে থাকবেন এই মহান বিপ্লবী এবং তার চেতনা। সময়ের এই পরিপূর্ণ মানুষটির বিপ্লব চিরস্থায়ী হোক “Hasta La Victoria Siempre!”

তথ্যসুত্রঃ
১) উইকিপিডিয়া
২) মাইক্রোসফট এনকারটা ২০০৯
[নোট: লিখাটি পূর্বে প্রজন্ম ব্লগে চে’র জন্মদিনে ভিন্ন আংগিকে প্রকাশিত]

৩৯ thoughts on “পরিপূর্ণ বিপ্লবীর জীবনাবসান অতঃপর চিরস্থায়ী বিপ্লবী চেতনার উত্থান

  1. চে তো বিপ্লব ছড়িয়ে দেওয়ার
    চে তো বিপ্লব ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দিয়ছিলেন।
    আর বলিভিয়ার লোকজন তাঁকে প্রথমে বিশ্বাস করেন নি। পরে তারা বিশ্বাস করে তার সাথে যোগ দিয়ছিলেন।

    1. ১৯৬১ থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত চে
      ১৯৬১ থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত চে কিউবার শিল্প বিষয়ক মন্ত্রী ছিলেন। এসময় তিনি “কিউবার কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। এসময় কিউবান নোটগুলোতে তার স্বাক্ষরে শুধু “চে” লেখা থাকতো। ১৯৬৫ সালে আলজিয়ার্স সফরকালে সোভিয়েত সরকারকে সাম্রাজ্যবাদের দোসর আখ্যা দেয়ার ফলে দেশে ফেরার সাথে সাথে তার মন্ত্রীত্ব বাতিল হয়, এরপর তিনি বিপ্লবের পথে নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান।”–
      ঘটনা এমনটাই জানতাম… আন্দোলনের-সংগ্রামের জন্য তিনি মন্ত্রিত্ব হারিয়েছেন! ছেড়ে জান নি… যদিও মূল উপজীব্য একই!!

  2. তথ্যগুলোর জন্য
    চে

    তথ্যগুলোর জন্য :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:
    চে গুয়েভারার “মৃত্যু মুখোশ” বা তাঁর মুখ ও হাতের প্লাষ্টার সম্পর্কিত কোন তথ্য পেতে পারি? কোন এক বছর তাঁর মৃত্যুদিনে “প্রথম আলো”তে এ ব্যাপারে একটা আর্টিকেল চোখে পড়েছিল। :কনফিউজড: কিন্তু পড়া হয়নি ঠিকমতো। :মনখারাপ: তাই আপনি এ ব্যাপারে কিছু জেনে থাকলে জানানোর অনুরোধ করছি।

    1. অনেক অনেক ধন্যবাদ…
      অনেক অনেক ধন্যবাদ… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ:
      চেষ্টা করব! এমন এমন ইঙ্কয়েরি / প্রশ্নই মহান বিপ্লব সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দেয়!

  3. অসাধারণ এক বিপ্লবীর অসাধারণ
    অসাধারণ এক বিপ্লবীর অসাধারণ জীবনী,তাঁর চেতনা ছড়িয়ে যাক লাতিন আমেরিকা থেকে প্রত্যেক দেশে.
    তারিক ভাইকে ধন্যবাদ কিছু সুন্দর অদেখা ছবি পোস্ট করার জন্য :ফেরেশতা:

    1. আপনাকেও অফুরন্ত ধইন্যা…
      আপনাকেও অফুরন্ত ধইন্যা… :গোলাপ: :গোলাপ: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ফুল: :ফুল:
      বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক… সংগ্রাম হোক বিজয় অব্দি…
      জয় মানবতা… জয় ‘চে’র বিপ্লব…

  4. “Hasta La Victoria Siempre!”

    “Hasta La Victoria Siempre!” অর্থাৎ,
    “সংগ্রাম বিজয় অব্দি !”

    :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow:

    মহান বিপ্লবীর জন্মদিনে তাকে সস্রদ্ধ অভিবাদন… :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute:

    আর এই মহান বিপ্লবশিল্পীকে নিয়ে চমৎকার তথ্যবহুল পোস্টটার জন্য লিংকন ভাইকে অজস্র গোলাপ… :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :ধইন্যাপাতা: 😀 :বুখেআয়বাবুল:

  5. আজকের দিনে মহান এই বিপ্লবীকে
    আজকের দিনে মহান এই বিপ্লবীকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরন করছি ।

    অসাধারণ পোস্ট ।অতি সংক্ষেপে ইতিহাসের এক মহান বিপ্লবী সম্পর্কে পুর্ণ ধারণা পেলাম ।ধন্যবাদ লিংকন ভাই ।

    1. স্মরণ করে নয় চেতনা ধারন করে
      স্মরণ করে নয় চেতনা ধারন করে চে’র বিপ্লব ও ত্যাগের দীর্ঘস্থায়ী বিজয়ের পথের দিকে নিয়ে যেতে হবে…
      সংগ্রাম হোক বিজয় অব্দি… জয় মানবতা… জয় ‘চে’র সংগ্রাম…

    1. (No subject)
      :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ফুল: :ফুল: :ফুল: :ফুল:

  6. অনেক ভাল লিখেছেন তারিক ভাই।
    অনেক ভাল লিখেছেন তারিক ভাই। জীবনী হয়ত অনেকেই জানেন। তবে ওনার চিন্তাধারার ব্যাখ্যা খুব বিশদ ভাবে লেখায় পাইনা। আপনি থিওরির ভাল ব্যাখ্যা করেন আশা করি পরবর্তীতে ‘চে’ এর চিন্তা ধারার উপর আপনার লেখা পাবো।

    1. ধন্যবাদ অফুরন্ত…
      ধন্যবাদ অফুরন্ত… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ: :ফুল: :ফুল: :ফুল:
      আবার কাজ দিয়া দিলেন! আপনার প্রতি সম্মান রেখেই একটা পোস্ট দিব আশাকরি…
      আপনাদের ভালবাসায় সবচে বড়!! :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল:

  7. আমার এক বন্ধু আছে একটি বাম
    আমার এক বন্ধু আছে একটি বাম ছাত্র সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ওর কথা অনুসারে ‘চে’ বাংলাদেশে না আসলেও কোলকাতাতে এসেছিল। এই বাংলা ভূখণ্ডে ‘চে’ এসেছিল শুনে খুব ভাল লেগেছে।

    1. অফুরন্ত ধন্যবাদ জয়…
      অফুরন্ত ধন্যবাদ জয়… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ:
      স্যালুট ‘চে’… :salute: :salute: :salute: :salute:

  8. পরিশ্রমী ব্লগপোস্ট
    ধন্যবাদ

    পরিশ্রমী ব্লগপোস্ট
    ধন্যবাদ

    চে এর উপর কিছু অসাধারণ মুভি আছে । যেমন মোটরসাইকেল ডায়েরী

  9. চিকিৎসক থেকে বিপ্লবী হয়ে ওঠার
    চিকিৎসক থেকে বিপ্লবী হয়ে ওঠার জন্য তিনি যে শক্তি অর্জন করেছিলেন তার উৎস ছিল দেখা এবং পড়া। আর এর চেয়েও বড় শক্তির উৎস ছিল মানুষের জন্য ভালোবাসা। মানুষকে ভালোবাসতে পেরেছিলেন বলেই তিনি আজ পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে যাচ্ছেন আরও বেশি।

    1. চিকিৎসক থেকে বিপ্লবী হয়ে ওঠার

      চিকিৎসক থেকে বিপ্লবী হয়ে ওঠার জন্য তিনি যে শক্তি অর্জন করেছিলেন তার উৎস ছিল দেখা এবং পড়া। আর এর চেয়েও বড় শক্তির উৎস ছিল মানুষের জন্য ভালোবাসা। মানুষকে ভালোবাসতে পেরেছিলেন বলেই তিনি আজ পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে যাচ্ছেন আরও বেশি।

      — :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ: :ফুল: :ফুল: :ফুল: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :bow: :bow:

  10. চে’কে আমি প্রথম চিনেছিলাম
    চে’কে আমি প্রথম চিনেছিলাম অসাধারণ রূপবান একজন মানুষ হিসেবে। তখনো উনার বিপ্লবী কর্মকাণ্ড বুঝার বয়স হয় নি। এরপর যতো সময় গিয়েছে, ততো জেনেছি মানুষটা সম্পর্কে আর ততোই অবাক হয়েছি।
    লেখার সাথে যে ছবিগুলো দিয়েছেন, সেগুলোর জন্য বাড়তি ধন্যবাদ তারিক ভাই :ফুল:

    1. ‘চে’ অসাধারণ প্রাণচাঞ্চল্যে
      ‘চে’ অসাধারণ প্রাণচাঞ্চল্যে ভরা একজন সুদর্শন বিপ্লবী তাতে কোন সন্দেহ নেই!! তবে তার চীরতারুণ্যে ভরা রূপ হচ্ছে তাঁর বিপ্লবী চেতনা এবং সংগ্রামী জীবন… “Hasta La Victoria Siempre!” অর্থাৎ, “সংগ্রাম বিজয় অব্দি!”…
      আপনাকেও অফুরন্ত ধন্যবাদ :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :ফুল:

      1. ‘চে’ অসাধারণ প্রাণচাঞ্চল্যে

        ‘চে’ অসাধারণ প্রাণচাঞ্চল্যে ভরা একজন সুদর্শন বিপ্লবী তাতে কোন সন্দেহ নেই!! তবে তার চীরতারুণ্যে ভরা রূপ হচ্ছে তাঁর বিপ্লবী চেতনা এবং সংগ্রামী জীবন… “Hasta La Victoria Siempre!” অর্থাৎ, “সংগ্রাম বিজয় অব্দি!”.. f

        একজন মহান বিপ্লবী সম্পর্কে এর চেয়ে ভালভাবে আর বলা যেত না… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :bow: :bow: :bow:

  11. তারিক ভাই আপনি একাই পোস্টে
    তারিক ভাই আপনি একাই পোস্টে কমেন্টে সব বলে দিয়েছেন। এখানে আমি আলাদা ভাবে কমেন্ট করার মত কিছুই পাচ্ছিনা। আর স্বীকার করতে লজ্জা নেই, চে কে নিয়ে আমার জানাশোনা খুবই কম। আপনার পোস্ট থেকে প্রায় নতুন ৯০% তথ্য জেনেনিলাম। তাও চেষ্টা করছি যদি আরো কিছু তথ্য সংগ্রহ করতে পারি তাহলে মন্তব্যে জানিয়ে দেবো। :থাম্বসআপ:

    1. আপনার মন্তব্যের অপেক্ষায়
      আপনার মন্তব্যের অপেক্ষায় থাকলাম! ইস্টিশনে বর্তমানে আপনার মত পরিশ্রমী পোস্টকর্তা এবং মন্তব্যকর্তার খুব অভাব!! আপনার মন্তব্য আমার না যেকোন পোস্টের মান,পরিপূর্ণতা এবং গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়ে দেয়!! আপনার মন্তব্যের জন্য অপেক্ষায় থাকলাম… :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি:

  12. দাদা অনেক অনেক বেশি ধন্যবাদ।
    দাদা অনেক অনেক বেশি ধন্যবাদ। ‘চে’ সম্পর্কে জানার আগ্রহ ছিল। অবশ্য খানিকটা কষ্টও লেগেছে পড়ে

    1. “I know you are here to kill
      “I know you are here to kill me. Shoot, coward, you are only going to kill a man” —Che

      আপনাকেও অফুরন্ত ধন্যবাদ… কষ্টকে শক্তিতে পরিণীত করে জীবনকে তাঁর আদর্শে গড়ে তুলুন এইটাই হবে তাঁর প্রতি তাঁর আদর্শের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা প্রদর্শন! :গোলাপ: :গোলাপ: :ফুল: :ফুল: :ধইন্যাপাতা:

  13. দারুন, দারুন, দারুন। অনেক
    দারুন, দারুন, দারুন। অনেক নতুন কিছু জানলাম, অনেক ভুলে যাওয়া তথ্য মনে পরে গেল। :ফুল: :ফুল: সুন্দর পোস্টের জন্য ধন্যবাদ।

    1. আপনাকেও অফুরন্ত ধইন্যা ইকরাম
      আপনাকেও অফুরন্ত ধইন্যা ইকরাম ভাই… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ: :ফুল: :ফুল:
      এমন চেতনার অবসান হয় না, ক্রমাগত উত্থান হয়…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *