ওদের মারার সময় তো বয়স বিবেচনা করা হয়নি তাহলে আজ রাজাকারদের বিচারের বেলায় কেন বিবেচনা করা হচ্ছে ?

রাস্তায় কারফিউ জারি হয়েছে । পুলিশ সব সতর্কতার সাথে পাহাড়া দিচ্ছে । সাথে মিলিটারিরা । দেখা মাত্র গুলি করার নির্দেশ । সারা শহর তটস্ত । রাস্তাঘাট নীরব । মাঝে মাঝে মিলিটারি গাড়ির আওয়াজ ও বাতাসের ভাপসা একটা শব্দ শোনা যাচ্ছে । নীস্তব্দ এলাকা । শহরটা কেমন যেন ভূতুরে এলাকায় পরিণত হয়েছে । কোথাও হতে এক বুড়ো দিশাহীন ভাবে হাটছিল । হয়ত পথ হারিয়ে ফেলেছে । হঠাত্ মিলিটারির চোখে পড়ল । কোনো কথা নেই । কয়েকটা বিকট শব্দ হল । ব্যাস দেহটা মাটিতে লুটিয়ে পড়ল প্রানশূন্য হয়ে । বয়স হয়ত আশি হবে । কিচ্ছু করার নেই সরকারের হুকুম তামিল করতে হবে । রাস্তায় কারফিউ জানা সত্ত্বেও অপূর্ব বের হয়েছে । ওর মার খুব অসুখ । ডাক্তার গতকাল এসে কিছু ঐষধ দিয়ে গেছে । ঐষধগুলো বাসায় নেই । কারফিউয়ের কারনে রাস্তার দোকান পাট সব বন্ধ । বেশ কিছু কিমি দূরে দুই একটা দোকান হয়ত খোলা ছিল । মার অবস্থা বেশ খারাপ যে করে হোক ওষুধগুলো নিয়ে তাকে মার কাছে পৌছতে হবে । রাস্তাঘাট নীরব । রাস্তায় যাতায়াত করে যাবার মতো কোনো রিক্সা ছিল না । থাকলেও লাভ নেই । রিক্সায় চড়ে বাড়ি ফিরার মতো টাকা অপূর্বর নেই । পুরো রাস্তাটা অপূর্বর হেটেই যেতে হবে । অপূর্বর বাবা অনেক ছোট বেলায় মারা গেছেন । পরিবার বলতে তার মা আর তার বোন । অপূর্বর মা সেলাইয়ের কাজ করে । অপূর্বও বাইরে কাজ করে । বাবা না থাকা দারিদ্রতার কারনে অপূর্ব পড়ালেখা করার তেমন সুযোগ পায় নি । বয়স তার এই তের গিয়ে চৌদ্দ পড়ল কি । ওরা খুব গরীব । বোনটার বয়স এই সাত কি আট হবে । অপূর্বও তার মার উপার্জনের উপর পরিবারটা নির্ভরশীল । আজ অপূর্বর মার বড়ই অসুখ । অবস্থা তেমন একটা ভাল নয় । ওষুধের দোকানে গিয়ে অপূর্ব ওষুধ কিনল । রাত্রি বেলা । চারদিকটা অন্ধকার । অপূর্ব বাড়ি ফিরছে । সাথে কেউ নেই । একা একা । রাস্তার আশেপাশের দোকানগুলোও বন্ধ । মিলিটারিরা টহল দিচ্ছে । খুব সাবধানে গা বাচিয়ে এগিয়ে চলছে অপূর্ব । যেভাবেই হোক বাসায় থাকে ফিরতে হবে । রাত অনেক হয়েছে । মা হয়ত অসুস্থ শরীলে তার ফিরার চিন্তা করছে । নিশ্চিন্তে নেই আদুরের বোনটিও । রাস্তা টা আকাবাকা সাপের মত । সেই সাপের মতো রাস্তা আর ঘন অন্ধকারে একটা হালকা আলোর টর্চ নিয়ে এগিয়ে চলছে অপূর্ব । রাস্তাটা সামনের দিকে একটু বাকা । আরেকটি রাস্তা এসে মিশেছে সেদিকে । হঠাত্ সামনের রাস্তা থেকে সাইরেন বেজে উঠল । মিলিটারির গাড়ি । টর্চলাইট জ্বালানো থাকায় তাকে নির্দিষ্ট করতে মিলিটারি বাহিনীর সময় লাগল না । গাড়ির হেডলাইট অপূর্বর চোখে এসে পড়েছে । কি করবে বুজছে না অপূর্ব । গাড়ি থেকে নেমে একটা লোক তার পিট চাপড়ে ধরল । ধরে বলল
:নাম কেয়া হে তুমারা ?
-অপূর্ব রায় ।
:কেয়া তুম হিন্দু হো ?
অপূর্ব মাথা নাড়ল । বিপদ বুজতে পেরেছে অপূর্ব । এরা মিলেটারী । অতি বিকট শব্দে সে চিত্কার করে উঠল জয় বাংলা বলে । ব্যাস এইটুকুই । আবার চলল বন্দুকের সেই বিকট আওয়াজ । লুটিয়ে পড়ল অপূর্বর দেহ । টর্চটা মাটিতে পড়ে গেল । সাথে ওষূধের ব্যাগটাও । ওষুধ গুলো ছিকটে এদিক সেদিক পড়ল । মার কাছে ওষুধ নিয়ে ফিরতে পারল না অপূর্ব ।
ঠিক এইভাবেই একাত্তরে বয়সের কোনো বিবেচনা না করে মারা হয়েছিল অনেক লোক । আর এগুলোর জন্য রাজাকারেরা কম দায়ী ছিল না । তবে আজ যখন রাজাকারের বিচার হল তখন বয়স কেন বিবেচনা করা হল ? জানতে চাই আমি ।

৮ thoughts on “ওদের মারার সময় তো বয়স বিবেচনা করা হয়নি তাহলে আজ রাজাকারদের বিচারের বেলায় কেন বিবেচনা করা হচ্ছে ?

  1. কে জবাব দেবে আপনার প্রশ্নের
    কে জবাব দেবে আপনার প্রশ্নের ,কার দায় আছে কিংবা মাথা ব্যথা?! সবাইতো যার যার আখের গোছাতে ব্যস্ত ….আপনি আবার মাঝপথে এসব অমূলক প্রশ্ন তুলে সরকারকে বিভ্রান্তিতে ফেলতে চাইছেন কেন …….নিজের আখের গোছাতে নিজেকে নীয়োজিত করুন ,কাজে দিবে..

  2. বিপদ বুঝতে পেরেছে অপূর্ব ।
    বিপদ বুঝতে পেরেছে অপূর্ব । এরা মিলেটারী । অতি বিকট শব্দে সে চিৎকার করে উঠল জয় বাংলা বলে । ব্যাস এইটুকুই । আবার চলল বন্দুকের সেই বিকট আওয়াজ । লুটিয়ে পড়ল অপূর্বর দেহ । টর্চটা মাটিতে পড়ে গেল । সাথে ওষুধের ব্যাগটাও । ওষুধ গুলো ছিটকে এদিক সেদিক পড়ল । মার কাছে ওষুধ নিয়ে ফিরতে পারল না অপূর্ব ।

  3. অপূর্ব মাথা নাড়ল । বিপদ বুজতে

    অপূর্ব মাথা নাড়ল । বিপদ বুজতে পেরেছে অপূর্ব । এরা মিলেটারী । অতি বিকট শব্দে সে চিত্কার করে উঠল জয় বাংলা বলে । ব্যাস এইটুকুই । আবার চলল বন্দুকের সেই বিকট আওয়াজ । লুটিয়ে পড়ল অপূর্বর দেহ । টর্চটা মাটিতে পড়ে গেল । সাথে ওষূধের ব্যাগটাও । ওষুধ গুলো ছিকটে এদিক সেদিক পড়ল । মার কাছে ওষুধ নিয়ে ফিরতে পারল না অপূর্ব । ঠিক এইভাবেই একাত্তরে বয়সের কোনো বিবেচনা না করে মারা হয়েছিল অনেক লোক । আর এগুলোর জন্য রাজাকারেরা কম দায়ী ছিল না । তবে আজ যখন রাজাকারের বিচার হল তখন বয়স কেন বিবেচনা করা হল?

    — আমরা সবাই জানতে চাই! চেতনার প্রশ্ন…

  4. যে মানবতা ত্রিশ লক্ষ শহীদের
    যে মানবতা ত্রিশ লক্ষ শহীদের সাথে বেঈমানি করে, দুই লক্ষ মা বোনের ধর্ষিত ইজ্জতকে পুনঃরায় ধর্ষন করে, সেই মানবতাকে আমার পক্ষ থেকে কোটি কোটি মিডল ফিঙ্গার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *