জীবনে সুখী হওয়ার ১০টি শ্রেষ্ঠ উপায়

আমরা সবাই সুখী হতে চাই। কিন্তু কীভাবে? সুখী হওয়া কতগুলো সহজ পন্থা আছে; যা কেউ অনুসরণ করলে সে সুখী হতে পারেন নিসন্দেহে। মাত্র কয়েকটি বিষয়ে যদি আমরা মনোযোগী হই তাহলে সুখ নামক বস্তুটি আমরা হাতের নাগালেই পেতে পারি। আসুন আমরা জেনে নিই, কীভাবে সুখী হওয়া যায়।

১) অন্যের কাজে নাক গলাবেন না :

আমরা সবাই সুখী হতে চাই। কিন্তু কীভাবে? সুখী হওয়া কতগুলো সহজ পন্থা আছে; যা কেউ অনুসরণ করলে সে সুখী হতে পারেন নিসন্দেহে। মাত্র কয়েকটি বিষয়ে যদি আমরা মনোযোগী হই তাহলে সুখ নামক বস্তুটি আমরা হাতের নাগালেই পেতে পারি। আসুন আমরা জেনে নিই, কীভাবে সুখী হওয়া যায়।

১) অন্যের কাজে নাক গলাবেন না :
জীবনে সুখী হওয়ার অন্যতম শর্ত হচ্ছে- অন্যের কাজে নাক না গলানো। আমরা জীবনের বেশিরভাগ সমস্যাই সৃষ্টি করি অন্যের কাজে অহেতুক হস্তক্ষেপ করে। অন্যের চলার পথকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টাই হচ্ছে অসুখী বা চিন্তা যুক্ত হওয়ার অন্যতম কারণ। তাই যতদুর সম্ভব এরকম চেষ্টা না করাই ভালো। কেননা, আল্লাহ প্রত্যেকটি মানুষকে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে, ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। অতএব অন্যের কাজ-কর্ম, চিন্তা-চেতনায়, মতামতে বাধা সৃষ্টি করবেন না।

২) ক্ষমা করে ভুলে যান
ক্ষমা মহৎ মানুষের লক্ষণ। কিন্তু সেটা ততক্ষণ মহৎ থাকে যতক্ষণ সেটা করে আত্মতৃপ্তিতে ভুগে তা বলে না বেড়ান। যদি আপনি সেটা সবার মাঝে বলে বেড়ান তাহলে আর সেটা মহৎ কাজ থাকে না। এমন কাজে নষ্ট করার মতো যথেষ্ট সময় জীবনে নেই। ক্ষমা করে, ভুলে গিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে চলুন। এতেই কল্যাণ নিহিত।

৩) স্বীকৃতি পাওয়ার কামনা ত্যাগ করুন
কাজ করুন নিজের মঙ্গলের জন্য। অন্যের প্রশংসা পাওয়ার জন্য কাজ করবেন না। এই পৃথিবী স্বার্থপর মানুষে পরিপূর্ণ। আজ আপনার প্রশংসা করে আপনার ক্ষমতা আছে বলে, কাল যখন ক্ষমতা থাকবে না তখন ছুড়ে ফেলতেও দ্বিধা করবে না। আপনার সকল অর্জন-ত্যাগ ভুলে যাবে। কিন্তু শুধু স্বীকৃতির জন্য আপনার ভিতরের মানুষটাকে ধ্বংস করবেন কেন? আপনার কাজ আপনি যথাযথ ভাবেই করে যান। এতে আপনি সুখী হবেন নিসন্দেহে।

৪) হিংসা-বিদ্বেষ-লোভ কে মাটি চাপা দিন
দুনিয়াটা অর্জনের জায়গা। যে ভাবে পারে, যা পারে অর্জন করুক; তাতে আপনার ক্ষতি নেই। তাই কারো অর্জনে কখনো হিংসা করবেন না। হিংসা মানুষের অর্জনগুলো মাটি চাপা দিয়ে দেয়। এটা আমাদের মানসিক প্রশান্তি নষ্টেরও বড় ধরণের একটা কারণ। নিজে অর্জন করুন, অন্যের অর্জনের প্রতি লোভ পরিত্যাগ করুন। অন্যের অর্জনে হিংসে করে নয় বরং আপনার যা করার ক্ষমতা আছে আপনি তাই চেষ্টা করুন।

৫) নিজেকে বদলান
মানুষ অন্যের পরিবর্তন চায়, কিন্তু নিজে পরিবর্তন হতে চায় না। আপনি যদি আপনার চারপাশ পরিবর্তন করে দিতে চান, তাহলে সেটা বেশ কষ্টসাধ্য ও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার হয়ে দাড়াতে পারে এবং বেশিরভাগ সময় ই আপনি এতে বিফল হবেন। তাই চারপাশের পরিবেশের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিন। তারপর সবাইকে নিয়েই পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে যান। এতে সফলতার সম্ভাবন রয়েছে।

৬) যা অবধারিত তা সহ্য করুন
প্রতিদিন আমরা এমন সব সমস্যার সম্মুখীন হই যা আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এ সমস্যাগুলো নিয়ে অহেতুক ভেবে আমরা কোন সমাধানে পৌঁছতে পারি না, কিন্তু মাঝে দিয়ে অনেক গুলো সময় নষ্ট হয়। আমাদের এ ছোট ছোট সমস্যাগুলোকে নিজেদের মানসিক প্রশান্তির জন্যই সহ্য করে নিতে হবে। এতেই মঙ্গল নিহিত।

৭) সাধ্যাতীত কাজ এড়িয়ে চলুন
নির্ভেজাল শান্তির জন্য সাধ্যাতীত কাজ এড়িয়ে চলা অপরিহার্য্। আমরা অনেকেই আমাদের সাধ্যের বাহিরেও কাজের দায়িত্ব নিয়ে থাকি। অনেক সময় আত্মমর্যাদা থেকে অহেতুক কাজের ভার বাড়িয়ে নেই। যেটা আমার সুখ কেড়ে নেয়, অহেতুক দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দেয়। আরামকে হারাম করে দেয়। আমাদের উচিত আমার যা সাধ্য আছে সেটাকেই গ্রহণ করা।

৮) আল্লাহকে স্মরণ করুন
সকল কাজে সব সময় আল্লাহকে স্মরণ রাখুন । তার অনুগ্রহ প্রার্থনা করুন। এটা আপনার কাজের গতি বাড়িয়ে দিবে এবং কম সময়ে বেশি কাজ করতে সহায়তা করবে। কাজে আল্লাহর সহায়তা পাচ্ছেন – এমন ভেবে কাজ করলে মনের সতেজতা অনেক গুণ বৃদ্ধি পায়।

৯) মনকে কাজ দিন
প্রবাদ আছে- “অলস মস্তিষ্ক শতানের কারখানা”। তাই মনকে কাজের মধ্যে রাখুন। মনকে কখনো ফাকা রাখবেন না। যখনি সুযোগ পাবেন নিজেকে কোন না কোন কাজে ব্যস্ত রাখবেন।

১০) অতীত ভুলে সামনে আগান
অতীত ভেবে কষ্ট পাওয়া বা খুশী হওয়ার কিছু নেই। অতীত ভুলে সামনে আগান। পিছনে জয়-পরাজয় যাই থাকুক না কেন, তা থেকে হয়তো শিক্ষা নিয়ে অথবা অতীতের সফলতাকে স্বরণ করে তা থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে সামনে চলতে পারেন। কিন্তু অতীত আঁকড়ে ধরে থাকলে কখনোই সামনে এগুবার পথ খুঁজে পাবেন না। যা অতীত তা আর ফিরে আসবে না। তাই সেটা নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই।

(লেখাটি ভাল লাগলো তাই কপি করলাম।)
যে লিংক থেকে কপি করলাম তা দেখতে ক্লিক করুন

১৯ thoughts on “জীবনে সুখী হওয়ার ১০টি শ্রেষ্ঠ উপায়

    1. জীবনে সুখী কেউ না, তবে এই কথা
      জীবনে সুখী কেউ না, তবে এই কথা গুলো মেনে চললে অন্তত কিছুটা শান্তিতে থাকা যায়…আমার বিশ্বাস

  1. বাহ! সত্যিই যদি কেউ ভালো
    বাহ! সত্যিই যদি কেউ ভালো থাকতে চায় তাহলে উপদেশগুলো কাজে লাগবে। কিন্তু আমি যে কষ্ট পেতে ভালবাসি…

    1. আমি কষ্ট পেতে ভালোবাসি
      তাই

      আমি কষ্ট পেতে ভালোবাসি
      তাই তোমার কাছে ফিরে আসি… :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে:

  2. ১) অন্যের কাজে নাক গলাবেন
    ১) অন্যের কাজে নাক গলাবেন না
    এইটা কোন কথা হইল? তাহলে সন্ত্রাস-দুর্নীতি থামাইব ক্যামনে?
    ২) ক্ষমা করে ভুলে যান
    তাহলে তো অপরাধী বারবার ভুল/অন্যায় করবে!!
    ৩) স্বীকৃতি পাওয়ার কামনা ত্যাগ করুন,
    আর, ৮) আল্লাহকে স্মরণ করুন;
    — পরস্পর বিরোধী!! কেননা মানুষ বা বিশ্বাসীরা আল্লাহকে স্মরণ করে/ করবে একমাত্র স্বীকৃতির জন্য! যদি স্বর্গের লোভ / নরকের ভয় না থাকত তবে মানুষ পরকালে বিশ্বাস করত না (যারা বিশ্বাসী তাদের জন্য…)… স্বীকৃতির কামনা না থাকলে পড়াশুনা, আবিস্কার, গবেষণা, শিল্প কিছুই সৃষ্টি হত না!! এই গুন/দোষটি একটি মানবীয় ব্যাপার!!

    ৪) হিংসা-বিদ্বেষ-লোভ কে মাটি চাপা দিন—
    Se7en মুভিটি দেখবেন ঐখানে লোভ-হিংসা-ঘৃণা-ক্রোধ-অতিভোজন-অলসতা-কাম এই সাতটি পাপের কথা বলা আছে; মূলত জেনেসিস থেকে এমন মরণঘাতী অন্যায়গুলোর শ্রেণীবিন্যাস! যদিও জেনেসিস বা বাইবেলও পূর্ববর্তী দার্শনিকদের দর্শন এবং নীতিশাস্ত্র ধারা প্রভাবিত…
    আদি নীতিশাস্ত্রের এই ৭ টি চিহ্নিত অন্যায়কে ত্যাগ করলে আশাকরি কিছুটা পরিত্রাণ পাওয়া যাবে… এইটাও ৮ নম্বরের সাথে বিরুদ্ধাচারণ করে!!

    ৫) নিজেকে বদলান— এইটাই মূল কথা! মানুষের সবচে অসাধারণ স্বকীয় গুন হল দ্রুত খাপখেয়েও নেয়ার যোগ্যতা বা Adaptation… উন্নয়নশীল এবং অনুন্নত দেশগুলোর অধিবাসীদের শিক্ষার জোর অতটা সুশিক্ষা নির্ভর না হওয়ায়; আমাদের বেশীর ভাগ মানুষই পিছুটান ছেড়ে ন্যায়সঙ্গত এবং বিবেকবান আচরন করতে অক্ষম তাই নিজেকে বদলানোর আগে মানুষকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে; মনে রাখা উচিৎ ‘শিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত…’!! এমনটাই হাওয়ার কথা ছিল!!
    ৬) যা অবধারিত তা সহ্য করুন—
    এমনটা হলে বিজ্ঞান থমকে থাকত!!
    ৭) সাধ্যাতীত কাজ এড়িয়ে চলুন-–ম Nothing is impossible বা, Impossible is nothing… আর কিছুই বলার নেই!!
    ৮)– আগে দুবার এই প্রসঙ্গ এসেছে!! এইটা মূলত অপেক্ষিক ব্যাপার!!
    ৯) মনকে কাজ দিন— এইটাই অন্যতম আসল কথা!! ‘নিজেকে জানো…’ / ‘Know thyself”…
    ১০) অতীত ভুলে সামনে আগান— এইটা পুরাপুরি আবর্জনা! এইটা রাইনের স্কাৎজোফ্রেনিয়া‘র মত হয়ে গেল!!

    শেষকথাঃ স্কাৎজোফ্রেনিয়া আক্রান্ত কিনা তা নির্ন​য় করার লক্ষন হল​- ১.এমন জিনিসে বিশ্বাস যা বাস্তব না।
    অর্থাৎ, বাস্তব সম্মত ব্যাপার-স্যাপার বিশ্বাস করতে শুরু করুন দেখবেন সুখ আপনার পিছনে ছুটবে!! অযথা মরীচিকার পিছনে ছুটলে সুখ কখনই পাওয়া সম্ভব না!!

    1. পোস্ট পড়ে আমারও ঠিক এই
      পোস্ট পড়ে আমারও ঠিক এই কথাগুলোই মনে হচ্ছিলো। আপনিই আগে বলে দিলেন তারিক ভাই :খুশি:

      রাজ ভাইয়া, আপনার ভালো লেগেছে বলে শেয়ার করেছেন। আমি আপনার অনুভূতিতে কোনো আঘাত দিতে চাই না। কিন্তু আমার অভিজ্ঞতা থেকে আমি পয়েন্টগুলো নিয়ে কিছু বলতে চাই।

      ১) অন্যের খারাপ কাজে নাক গলানো দরকার। চোখের সামনে খারাপ কাজ ঘটতে দেখলে চুপ করে থাকা যায় না।

      ২) ক্ষমা করে ভুলে যাওয়া কোনো কাজের কথা নয়। এতে অপরপক্ষ লাই পেয়ে মাথায় উঠবে। তাই বলে সারাক্ষণ এমন ভাব নিয়েও থাকা উচিৎ নয় যে, বারবার ওর মনে অনুতাপ কাজ করবে। কিন্তু ক্ষেত্র বিশেষে আপনার ক্ষমা করে দেওয়ার বিষয়টা মনে করিয়ে দেওয়া জরুরী।

      ৩) স্বীকৃতি না পেলে কাজে এগিয়ে যাবো কীভাবে? নতুন কিছু করা বা নিত্যনৈমিত্তিক কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্যেও স্বীকৃতির দরকার।

      ৪)প্রতিযোগিতার মনোভাব না থাকলে নিজের ক্ষমতার সবটুকু ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। তাই অন্যের অর্জন দেখে নিজের মোটিভেটেড হওয়াটাকে দোষের কিছু দেখছি না।

      ৫) চারপাশের পরিবেশ খারাপ, অসুস্থ, বিকৃত হলেও মানিয়ে নেবো?
      নিজেকে অবশ্যই বদলাবো। ভালোর দিকে বদলাবো। এজন্য পরিবেশের বিপরীতে যেতে হলে তাই যাওয়া উচিৎ। অন্যরা খারাপ হলে ওদের সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য আমিও খারাপ হয়ে যেতে পারি না।

      ৬) এবং ৭) তারিক ভাইয়ের মতোই মন্তব্য।

      8) এটা ভালো থাকার জন্য একটা পৃথক পয়েন্ট হতে পারে না।

      ৯) এই একটা পয়েন্টে আমি সম্পূর্ণ একমত।

      ১০) অতীত ভুলে সামনে আগানো সম্ভব না।
      কল্পবিজ্ঞানে সম্ভব হতে পারে।

      উপসংহারঃ এই পোস্টের উপায়গুলো আবেগীয়। বাস্তবসম্মত নয় :মনখারাপ:

      1. (No subject)
        :নৃত্য: :নৃত্য: :নৃত্য: :নৃত্য: :নৃত্য: :নৃত্য: :নৃত্য: :পার্টি: :পার্টি: :পার্টি: :পার্টি: :পার্টি: :পার্টি: :পার্টি: :পার্টি: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :গোলাপ: :গোলাপ: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ফুল: :ফুল:

  3. প্রতিটা কথার অনেক রকম
    প্রতিটা কথার অনেক রকম দৃষ্টিকোণ থাকে…মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ সবাইকে…যদিও বুঝতে একটু দ্বিধায় আছি…কোথায় আমি…বাসায় না বাঁশ বাগানে… :ভাবতেছি: :ভেংচি:

    1. আপনি বাঁশ বাগানেই আছেন।
      এখানে

      আপনি বাঁশ বাগানেই আছেন।
      এখানে অনেক কেই দেখছি বাঁশ হাতে নিয়ে রেডি।
      তাদের বলি জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় যান ।আপনাদের মত যুক্তি খন্ডনকারীদের ওইখানে দরকার… এইখানে না।
      যত্তসব! যুক্তি ভেঙে কুযুক্তি বানায়। :মাথাঠুকি:

  4. মুল কথা হচ্ছে সুখী হয়ার লোভে
    মুল কথা হচ্ছে সুখী হয়ার লোভে যে জীবন যাপন করে সে কখনই সুখী হতে পারে না…
    মানুষের জীবন সংগ্রামের, সংগ্রামের মধ্যেই সুখ খুঁজে নিতে হবে কেননা আপনি যখন বঞ্চিত আর লাঞ্চিত মানবতার কথা বা দীর্ঘশ্বাস শুনবেন বা পড়বেন অথবা জানবেন তখন কোন মানুষেরই আর স্বার্থপর সুখের পিছনে ছোটার কথা না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *