প্রতিবাদী বাঙ্গালী, প্রতারক বাঙ্গালী… আবেগী বাঙালী

বাঙালী কেমন জাতি? আবেগী? বোকা? প্রতারক? স্বার্থপর? পরোপকারী? প্রতিবাদী? সাম্প্রদায়িক? স্বার্থপর? নাকি ভন্ড? প্রশ্নটিই আসলে ঠিক না। জাতির কোনো “বিশেষন” থাকতে পারেনা।“বিশেষন” থাকে মানুষের। যেহেতু একই বৈশিষ্ট্যপূর্ন কিছু মানুষ নিয়েই একটি জাতিসত্ত্বা গঠিত হয় তাই আমরা প্রতিটি জাতিকেই একটি বিশেষন দিয়ে দিই। যেমন চায়নারা “বুদ্ধিমান টেকিচোর” ; জাপানিরা কর্মঠ, জার্মানরা মেশিন, পাকিস্তনীরা লুইচ্চা(গুগল এর পর্নো সাইট ব্রাউজের র‍্যাংকিং এ প্রথম)। আমরা কি? আমরা কেমন? উত্তর দেয়ার আগে আমার মনে যেটি আসে তা হচ্ছে আমরা কি বা কেমন সেটার আগে বলতে হবে “বাঙালীরা নির্যাতিত”। সহস্র বছর ধরে এই বাঙালীরা নির্যাতিত হয়েছে, হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরো বেশি হবে। বর্তমান ডিজিটাল সরকার বলেন, উন্নয়নের জোয়ারে ভাসিয়ে দেয়া চারদলীয় ঐক্যজোট বলেন অথবা হ্যান্ডসাম হুমো এরশাদই বলেন সকল আমলেই বাঙালী নির্যাতিত হয়েছে। পাকিস্তান, ইংরেজ থেকে শুরু করে করে ঐ রাজা-বাদশাহদের আমলেও বাঙালী শুধু নির্যাতিত হয়ে গিয়েছে। ইংরেজ আমলে কোলকাতাকে বিশেষ প্রাধান্য দিলেও তাতে অল্প সংখ্যক বাঙ্গালী-ই ইংরেজদের কাছ থেকে সুবিধা আদায় করতে পেরেছে। বাকিদের ঐ নির্যাতনেরই শিকার হতে হয়েছে। এর সবচাইতে বড় দুটি কারন আমার কাছে মনে হয়… বাঙ্গালীরা বোকা, আবেগপ্রবন এবং লোভী। বোকা বাংলীদের এই আবেগকে বারবার ব্যবহার করা হয়েছে শাসক গোষ্ঠির স্বার্থে। আর অবশিষ্ট “লোভী” বাংগালীদের লোভ দেখিয়ে তাদেরকে বানিয়েছে “মীরজাফর”।

ইংরেজ এবং তৎকালীন কুলীন হিন্দু সমাজ দ্বারা নির্যাতনের শিকার হয়ে “আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে” ভুগতে থাকা বাঙ্গাগালীরা যোগ দিলো পাকিস্তানীদের সাথে। ধর্ম যে মানুষের সংস্কৃতি,ঐতিহ্য,আচার,দর্শনে পরিবর্তন আনতে পারেনা সেটি বুঝতে বেশি সময় লাগেনি আমাদের। ১৯৫২তেই আমরা তা বুঝতে পেরেছিলাম যখন তারা আমাদের ভাষার উপর আক্রমন করে। একটি জাতির সংস্কৃতির ভিত্তিই হচ্ছে “ভাষা”।. আর ঐ ভাষার উপর হাত দিয়ে তারা বুঝিয়ে দিলো যে তোমরা আমাদের ভাই না…আমরা শাসক তোমরা প্রজা।সেই যে হাঁড়ি ভাংগল সেই হাঁড়ি আর জোরা লাগেনি। এরপর একের পর এক দ্বন্দ চলতেই থাকল। আসল ১৯৭১।. কিন্তু আবারো বোকা বাংগালী সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত (এখানে আমি নেতৃত্বের কথা বলছি) নেয়ার অভাবে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ফায়দা লুট করে নিলো ইন্ডিয়া। এখনো আমাদের রাজনীতি ঐ ইন্ডিয়া আর পাকিস্তান(পড়ুন সৌদিয়ারব কেন্দ্রিক ইসলামিক গোষ্ঠি) তে বিভক্ত। আবেগী বাঙালী ঠিকই ঝাপিয়ে পরেছিলো মাতৃভুমিকে বাঁচাতে। কিন্তু বুকে বল থাকলেই ত চলবেনা। হাতে অস্ত্রও ত থাকতে হবে। বনের পাখির মতো গুলি করে মেরেছে বাঙালীদের তারা। কিন্তু সেই সময়ের নেতৃত্ব যদি আরো সাহসী সিদ্ধান্ত নিতো তাহলে এইরকম একটি গণহত্যার মাঝ দিয়ে আমাদের নাও যেতে হতো। এরপরের ইতিহাস সবারই জানা। দেশ পরিচালনায় সরকারের ব্যার্থতা, মুজিব হত্যা…জিয়ার আগমন। খাল কাটার নাটক দেখিয়ে আসলে আনল কুমির। দেশবিরোধী রাজাকার জামাত শিবিরদের করে দিলো রাজনীতি করার সুযোগ। বোকা বাঙালী ভুলে গেলো।

এরপর এরশাদ। আসল ৯০ এর গন অভ্যুত্থান। সবাই বুকে আশার প্রদীপ জ্বালালো, “এইবার হবে”। .হলো। শাহবুদ্দিন সাহেবের তত্ত্বাবধানে একটি ভালো নির্বাচন পেলাম আমরা। নির্বাচনের আগেই মন্ত্রীসভা করে ফেলা আওয়ামীলীগকে বর্জন করে মানুষ খালেদা জিয়ার উপর আস্থা স্থাপন করল।কিন্তু আমাদের প্রধান দু’টি রাজনৈতিক দল একজন আরেকজনের উপর আস্থা রাখতে পারলোনা। সেই অনাস্থা থেকেই উদ্ভাবিত হলো “তত্ত্বাবধায়ক সরকার” নামক আজব এক মডেলের। এই সরকারের কাজ শুধু নির্বাচন করা। কিন্তু একটি অনির্বাচিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের “রিস্ক ফ্যাক্টরগুলো” নিয়ে আমাদের রাজনৈতিক নেতারা ভাবলেন না। তাদের প্রধান সমস্যা একের প্রতি অপরের অবিশ্বাস। প্রয়োজনে তারা দেশবিরোধী শক্তির সহায়তা নিবে কিন্তু নিজেদের মধ্যে বিশ্বাসের সেতু তৈরি করবেনা। ভাবতেও অবাক লাগে, বংবন্ধুর কন্যা হয়েও শেখ হাসিনা জামাতের সাথেও একসময় বন্ধুত্ব স্থাপন করেছিলো,হওক তা সাময়ীক সময়ের জন্য কিন্তু করেছিলো ত! যাই হওক বিএনপি অনেকটা সারপ্রাইজিংলি-ই নির্বাচিত হলো এবং জনগনের আস্থা ভাংতে তারা খুব বেশি সময় নিলোনা। নামে আমরা একক ব্যাক্তির শাসন ব্যবস্থা বা “একনায়কতন্ত্র” থেকে “সংসদীয়” ব্যবস্থায় ফিরে গেলাম বটে কিন্তু ক্ষমতাখানি কিন্তু ঐ একক ব্যাক্তি (খালেদা জিয়া) র হাতেই রয়ে গেলো। “ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরন” ছাড়া রাষ্ট্রের কোনোরূপ উন্নতি যে সম্ভব না সেটি তারা জেনেও ক্ষমতার লোভ ত্যাগ করতে পারলোনা। এরপরের কাহিনী সবার জানা। প্রয়াত তৎকালীন মেয়র হানিফের এর তৈরি করা “জনতার মঞ্চে” জনতার ঢল নামল। বিএনপি বাধ্য হলো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে।নির্বাচন হলো। এইবার জনগন মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল অর্থাৎ আওয়ামীলীগকেই গদিতে বসাল। কিন্তু আমরা কি পেলাম? ঐ কদু আর লাউ।

‘৯০ আন্দোলনের ফল আমরা পেলামনা বিএনপির ক্ষমতার লোভ আর নিজ দলের লোকদের সুবিধা দেয়ার উদ্দেশ্য হাসিল করার কারনে। ‘৯৬ এর আরেক আন্দোলনের ফলও আমরা পেলাম না আওয়ামীলীগের দেশকে বাপ-দাদার সম্পত্তি মনে করার কারনে। দেশ কারো সুবিধা আদায়ের জন্য নয়,বাপ-দাদার সম্পত্তি বানানোর জন্যও নয়। দেশ জনগনের জন্য। একটি সিগারেট থেকে একটি সুই কেনা, নামাজের টুপি পরা থেকে বাথরুমের স্যান্ডেল কেনা, বান্ধবির সাথে ফোনালাপ থেকে বিবাহিতদের কনডম কেনা সব জায়গাতেই আমরা সরকারকে টাকা দেই। সেই টাকা দিয়ে সরকার দেশের জনগনের জন্য কাজ করবে এই জন্য। নিজের দলের আখের গোছাবার জন্য নয়।

আমরা বারবার গর্জে উঠেছি আর ভেবেছি , “এইবার বুঝি হবে” আর বারবার প্রতারিত হয়েছি এই দেশেরই রাজনৈতিক নেতাদের দ্বারা। বুয়েটের সনি হত্যা,শামসুন্নাহার হলে পুলিশের আক্রমন, জাহাঙ্গির নগরে “সেঞ্চুরি মানিক” …কতবার আমরা গর্জে উঠেছি। কতবার আমরা নিজেদের দাবি নিয়ে দাঁড়িয়েছি সরকারের সামনে। পেয়েছি শুধু আশার বানী আর “হবে” “হবে” “হবে” এই কথা। কিন্তু কি হয়েছে?

এইবার আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পিছনে অন্যতম কারন ছিলো রাজাকারদের বিচার করা কিন্তু চার চারটি বছর গেলো পেলাম মাত্র দুটি রায়। আর এর মাঝেই শুরু হয়ে গেলো রায় নিয়ে রাজনৈতিক হিসাব নিকাশ। আমি আইনের ছাত্র না। ট্রাইবুনাল-বাইবুনাল আমি বুঝিনা।বুঝতে চাইওনা, আমি বুঝি সরকার যদি চায় তাইলে চাইরদিনে সবকয়টা রাজাকারের বাচ্চারে শাহবাগের মোড়ে লাইন ধরায়ে ফাঁসি দিতে পারে।

আমরা দেশের নাগরিক হয়েও কোনো নাগরিক সুবিধা পাইনা। কৃষক কষ্ট করে ধান ফলায়…সরকার বুক ফুলিয়ে বলে, “আমাদের আমলে খাদ্যের ঘাটতি নেই”।. কিন্তু শরীরের রক্ত পানি করে ফলানো ধানের দাম পায়না কৃষক…চলে যায় মধ্যসত্ত্বভোগীদের পেটে। হাসপাতালে যে আমাদের ওষুধ দেয়া সরকারের দায়িত্ব এটি আমাদের কাছে কৌতুকের মতো একটি কথা, রেশনের চাল দেয়া হয় কিন্তু তাতে চাল থাকে কম কাকর থাকে বেশি।সকাল ৯টার ট্রেন রাত ৯টায় ছাড়ে আর সরকার আমাদের ইলেক্ট্রিক ট্রেনের স্বপ্ন দেখায়। বাসা থেকে বেড়িয়ে নাক চাপা দিয়ে হাঁটি যেনো ডাস্টবিনের গন্ধ নাকে না আসে আর সরকার আমাদের ঢাকাকে সিংগাপুর বানানোর মডেল দেখায়। আমরা দেখি আর ভাবি একদিন..

আমরা ইলেক্ট্রিক ট্রেন চাইনা,সিংগাপুর হতে চাইনা,সব রাজাকারের বিচার করবেন এই অবাস্তব কথাও বিশ্বাস করতে চাইনা। দয়া করে আমাদের ভাংগা ট্রেনটা টাইম মতো চালান, ডাস্টবিনটা পরিষ্কার রাখেন, পুরাতন যানবাহনগুলাকে জব্দ করে কয়েকটা দিন বেশি বাঁচতে দেন। যে রাজাকারগুলারে ধরছেন সেগুলারে লটকায়ে দেখান।

আমরা বারবার প্রতিবাদ করেছি…বারবার প্রতারিত হয়েছি। কিন্তু সবকিছুর যেমন শুরু থাকে তেমন সবকিছুর শেষও থাকে। এই প্রতারনারও শেষ আছে। শাহবাগের এই প্রতিবাদও যদি প্রতারনা দিয়েই শেষ হয় তবে অপেক্ষা করেন। পিপল আর ওয়েটিং উইথ দেয়ার থাম্বস।

২৯ thoughts on “প্রতিবাদী বাঙ্গালী, প্রতারক বাঙ্গালী… আবেগী বাঙালী

  1. আগে স্টিকি করা হোক। তারপর
    আগে স্টিকি করা হোক। তারপর আলোচনা করব। ইস্টিশন মাষ্টার কই? এক্সপ্রেস ট্রেনের জন্য কম্পার্টমেন্ট খালি করেন।

  2. অনেকদিন পর আপনার লেখা পেলাম
    অনেকদিন পর আপনার লেখা পেলাম এবং যথারীতি গোগ্রাসে গিললাম। আশা করছি এবারের শাহবাগের আন্দোলন থেকে সবাই একটা শিক্ষা নেবে। পাবলিক ক্ষেপলে মাইর যে একটাও মাটিত পড়ত না সেইটা আশা করি বুঝছে।

    1. অন্তত জামাত-শিবির একটা শিক্ষা
      অন্তত জামাত-শিবির একটা শিক্ষা ত পেলো। এই দেশের সাধারন মানুষ যে তাদের সাথে নেই সেটি প্রমান করা দরকার ছিলো। এই আন্দোলনের অন্য কোনো পপজিটীভ সাইড না পেলেও এইটার রেশ থেকে যাবেই। মাত্রই দেখে আসলাম রাস্তায় বাচ্চা ছেলেরা স্কুল থেকে ব্যানার নিয়ে স্লোগান দিতে দিতে শাহবাগ যাচ্ছে। এই ছেলেগুলো জামাতের তোড়জোড় দেখে জামাতের দিকে ঘেসে যেতে পারত। তাই আন্দোলনটি খুবই দরকার ছিলো। ওদের বুঝিয়ে দিলাম যে, আমরা তোদের দিকে পিঠ ফিরে দাঁড়িয়ে আছি।

  3. স্যার সব তো লিখে দিলেন
    স্যার সব তো লিখে দিলেন আম্লীগ,বিম্পি,জামাত সবাইরেই দিয়ে দিলেন কিন্তু মাঝে বাম নামে দলটি কই গেলো? নাকি এই দেশে বাম নামে দলটির কথা জানেন না? নাকি হারিয়ে গেছে সেটি?

    সবাই খুব খ্রাফ,কিন্তু ৭২ এর পরবর্তী ল্যাংটা একটা দেশে (যে দেশের সব কিছুই ঐ পাকিস্তানিরা শেষ করে দিয়েছিলো) কারা উন্নয়ন করার নামে বিপ্লব ঘটাতে চেয়েছিল? কারা ঐ পাটের গুদামে আগুন দিয়েছিল?

    আম্লীগ,বিম্পি,জামাত এরা যতই খারাপ হউক এরা কিন্তু কাউরে বাধ্য করে না তুমি পড়ালেখা কইরা ক্ষেতে কামলা দিবা কিনবা ইন্ডাস্ট্রিতে শ্রমিক হইবা যা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হয়,যদিও সমাজতন্ত্রের কথা বলে তারা নিজেরাই কৃষক বা শ্রমিক হয় না কিন্তু অন্যদের বানায়া দেয় আর প্রতিবিপ্লবী হইলে তো কথাই নাই সোজা ঢিশিয়াও :আমারকুনোদোষনাই: :আমারকুনোদোষনাই: :আমারকুনোদোষনাই: :আমারকুনোদোষনাই:

    1. বামরা ত ক্ষমতাতে যায় নায়,
      বামরা ত ক্ষমতাতে যায় নায়, নাকি গেছে? এইখানে ডাইন বাম কইথাইকা আইল? কালকে সকালে অফিস আছে, এখন ঘুমাইতে হবে। আলোচনা চলবে আশা করি।

      1. এই দেশে বাম ক্ষেমতাত আইসবে
        এই দেশে বাম ক্ষেমতাত আইসবে সেটা একতা স্বপ্নদোষের মতো।
        ডাইন বাম না কম্যুনিস্ট,ইউনিয়ন,ফেডারেশন এইসব মিলায়া বাম কইলাম :হাসি:

        1. আগে আপনার সমস্যা বলেন। আমি না
          আগে আপনার সমস্যা বলেন। আমি না আমার লেখা নাকি বাংগালীর প্রতারিত হওয়া নাকি আমার নিকের পাশে বামপন্থী লেখা আছে সেটি। অত লাফাচ্ছেন যে আন্দোলন নিয়া সে আন্দোনলনের শুরুটা কারা করেছে? আর আপনার সাথে ডান-বাম নিয়ে তর্কে আমি যাবোনা কারন তর্কে তার সাথেই যাওয়া যায় যে তর্কের মতো যুক্তি দিয়ে কথা বলে।যে খাউজাইতে আসে তার সাথে তর্ক করার ইচ্ছা নাই। ভালো না লাগলে আজাইরা কমেন্ট করে মেজাজ খারাপ করবেন না। লেখার কোনো পয়েন্টে দোষ পাইছেন? কোনো ভুল কথা পাইছেন?পাইলে আসেন কথা বলি। এখন আপনার যদি আমার পায়ে পারা মাইরা ঝগড়া করার ইচ্ছা থাকে তাহলে আমি পারাপারিতে নাই।

          1. আমার সমস্যা একটাই আপনি সব
            আমার সমস্যা একটাই আপনি সব রাজনৈতিক দলকে বেঈমান হিসাবে দেখাইলেন কিন্তু ৭২ এর পর বিপ্লবের নামে এই ভাঙ্গা দেশে কারা তান্ডব চালাইয়া আমাদের ধসাইয়া দিলো তাদের নিয়া কইলেন না এটা মানতে একটু নারাজ।

            অত লাফাচ্ছেন যে আন্দোলন নিয়া সে আন্দোনলনের শুরুটা কারা করেছে?

            কে শুরু করেছে? মগাচিপ? ফারুক ওয়াছিপ? বাকী বিল্লাহ? মাহবুব রশীদ? দেখি আপনি বলেন কে শুরু করেছে…আমি তো জানি কে শুরু করেছে এবং প্রমান সহ তুলে দেবো।
            ইংরেজ আমল থেকে শুরু করলেন কিন্তু ৭২ এ বিপ্লবের নামে সিরাজ ভাই কয়ডা বিয়া কইরা কতজন বাঙ্গালীরে ঠগাইছে হেইডা না কওয়াতে মাইন্ড খাইলাম।

          2. সুমিত ভাইতো দেহি এ প্রজন্মের
            সুমিত ভাইতো দেহি এ প্রজন্মের বাতিঘর হইয়া গেছেন। লাইন ভালো।
            নামের সাজে বিশিষ্ঠ বা গ্যানের আধার এইগুলান কি লাগাই কেউ। না লাগাইলে খুব খ্রাপ কথা

          3. কে শুরু করছে এইটা আমাকে আপনার
            কে শুরু করছে এইটা আমাকে আপনার জানাইতে হবেনা। আপনার চাইতে আমার বাল কম বড় না। আর বেঈমানরে বেঈমান কইছি সেই বেঈমানীরে জায়েয করতে চাইতেছেন কেন? কন যে বেঈমানী করছিলাম। এখনও ঈমান আনতে সমস্যা হইতেছে বইলা ফাঁসি দিতে পারতেছিনা।

            ৭১ এর পরের বিতর্কে যাইতে চাইতেছিনা। দয়া করে এই সময়ে ঐসকল কথা তুইলা নিজেদের ক্ষতি কইরেন না। আমি কোনো দলের প্রতিনিধি না। আমি কোনো দলের কথা বলতে আসি নাই। আমি বলতে এসেছি আমাদের প্রতারিত হবার কথা। এই প্রতারিতদের দলে আপনিও আছেন। হয়ত এখন কোনো ব্যাক্তিগত স্বার্থে সেটি স্বীকার করছেন না। এইটাই আমাদের মূল সমস্যা।

          4. আমি উপরে কি একবারের জন্যও
            আমি উপরে কি একবারের জন্যও লেখছি যে আপনার লেখা মানি না?
            আমি কইলাম ইংরেজ আমল থেকে যখন শুরু করলেন তাইলে মাঝে ঐসময়টা কেন বাদ গেলো?

            ৭১ এর পরের বিতর্কে যাইতে চাইতেছিনা। দয়া করে এই সময়ে ঐসকল কথা তুইলা নিজেদের ক্ষতি কইরেন না।

            কি ক্ষতি হইব? আপনেরা কি ভাবতেছেন এই আন্দোলনে সব বামের? তাইলে এইটা কইলাম স্বপ্নদোষ।আবারো কইতাসি এই আন্দোলন নির্দলীয় আর কেউ যদি এইটারে লইয়া বাণিজ্য করে তারাই অবাঞ্চিত হইবে (ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম থেকে অবাঞ্চিত করছি একটারে)
            এরপরে কইলেন প্রতারিত হইবার কথা,ভালোকথা, তুলছেন যখন সবারগুলাই তোলা উচিত তাই না।শুধু একটারে বাদ দিয়া সব যখন খ্রাফ তাইলে ঐটারে আপনি ভাল বইলা রায় দিয়া দিলেন ইন্ডাইরেক্টলি।তাই নয় কি?
            শুধু একটা দলরে প্রতারক কইতেন তাইলে সেটা ভিন্ন কথা।
            আর অনলাইনের যারাই আমাকে চিনে তাদের সকলেই জানে আমি সৎস্বীকারোক্তি দিতে ভীষণ পছন্দ করি,তাতে করে সুবিধা বেশি।
            জয় বাংলা

          5. সবকিছু শুরু করছে ছাত্রলীগ।এই
            সবকিছু শুরু করছে ছাত্রলীগ।এই আন্দোলনের সব ছাত্রলীগ করতেছে। কিছু ফাজিল পোলাপান আম্লীগ নেতাদের দিকে ফুল দিয়ে ঢিল দিছে। ঐটা ভুল করে হয়ে গেছে।

    2. এসে গেছে সহজ পদ্ধতিতে
      এসে গেছে সহজ পদ্ধতিতে সমাজতন্ত্র বোঝার থুক্কু বুঝিয়ে দেবার ইউনিক থিওরি। :জ্ঞান: :জ্ঞান: :জ্ঞান:
      ঠিক কতা পড়া লিকা শিখে কামলা হবে ক্যান, ডিজিটাল হবে

  4. আমি আগে থেকেই আশংকা করছিলাম,
    আমি আগে থেকেই আশংকা করছিলাম, এই আন্দোলনের উপর প্রথম আঘাতটা আসবে ছাত্রলীগের হাত ধরে। সেটা আসলো অবশেষে। আমরা আসলে কিছু অর্জন করার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছি। এখন আবার অনেক সুশীল বলবেন, আন্দোলনের স্বার্থে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে এসব বলা যাবেনা। বললেই বলবে আমি জামায়াত-শিবিরের পারপাস সার্ভ করছি। ETV-র এই ভিডিও ক্লিপসটি কি মিথ্যে???

    1. দুলাল ভাই আপনি অনেক কিছু
      দুলাল ভাই আপনি অনেক কিছু জানার পরেও যখন মুখ খুললেন তখন আমিই বা কেন চুপ থাকি।
      আমি বলছিলাম না ল্যাংটা হইতে চাইতেসিনা,কিন্তু যদি হওয়া ধরি তাইলে পুরা উলঙ্গ হইয়া যামু।
      চট্টগ্রামের এই আন্দোলন শুরু করেছিলো প্রথমে কে আপনি নিশ্চয়ই জানেন,কিন্তু সেখানে ছাত্র ইউনিয়ন,ফ্রন্ট এরা ঢুকলো কেমনে? ঢুকলো ভালো কথা কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের এই আন্দোলনে মুক্তিযুদ্ধের শ্লোগান জয় বাংলা দিতে তাদের চুলকানি কেন? কেন তারা শুধু “প্রীতিলতা/সুর্যসেনের বাংলায়” এইটা বলে? প্রীতিলতা বা সূর্যসেনের সময়ের হত্যার জন্য এই বিচার হইতছে? কতজন সর্বহারা জনতা,কতজন কৃষক,কতজন শ্রমিক জনতা এই আন্দোলনে আসছে? একটু বলবেন?
      চট্টগ্রামে ইনু,দিলীপ,বাদল এরা বক্তিমা দিতে গেলে কোন বাধা নাই অথচ মহিউদ্দীন আসলে রব উঠায় কারা? কারা উদীচীর গায়ে হাত তুলসে? ছাত্রলীগ? (বাধ্য কইরেন না ভিডিও ক্লিপসগুলা ছাড়তে এখনই)
      লাকির উপর হামলা হইছে চাইসিলাম সেটা নিয়া অহেতুক কথা না কইতে,কিন্তু ডাক্তারী রিপোর্টে কি আসছে আপনারা জানেন? সেখানে কি আসছে সে কিছু দ্বারা আঘাত প্রাপ্ত হইছে নাকি সে পানিশুন্যতায় ভুগতাছে?

      1. জয়বাংলা বললে সমস্যা আছে এটা
        জয়বাংলা বললে সমস্যা আছে এটা কিন্তু সরাসরি কেউ বলে নাই। তবে জয়বাংলা বলতে কেউ কেউ অস্বস্থি ফিল করতে পারে। এটা তাদের দলীয় হিনমন্যতা। তাই বলে কি জয়বাংলা বলা বন্ধ হয়ে গেছে? এখনও যেই শ্লোগানটিতে চট্টগ্রাম ও ঢাকায় সবাই একসাথে কন্ঠ মিলায়, যেই শ্লোগানটি বললে একাত্তরের মত শক্তি এসে যায়, সেটি হচ্ছে জয়বাংলা। আমি বলব, এই আন্দোলন থেকে জয়বাংলা আবার আওয়ামী সিন্দুক থেকে মুক্তি পেয়েছে। এটা এখন বাঙালীর শ্লোগান। লাকীর উপর হামলা নিয়ে টিভি মিডিয়া আমাদেরকে কনফিউজড করেছে। সেটা আবার একমাত্র দিগন্ত টিভি নয়। এটা কিন্তু ভাবা উচিত। তবে ঘটনা যাই ঘটুক, লাকী এই আন্দোলনকে নষ্ট হতে দেয়নি। এজন্য লাকীকে স্যালুট। আন্দোলনকে টিকিয়ে রাখার জন্য বড় সংগঠন এবং সরকারের সহযোগী হিসাবে ছাত্রলীগকেই একটু বেশী ছাড় দিতে হবে। বড় বলে কথা। আর জনগণের একতা যদি মজবুত থাকে, দুই/একটা বাম মেউ মেউ করে আর কোন বালই বা ছিড়তে পারবে? আমি বলব, আন্দোলনের স্বার্থে ছাত্রলীগকে বেশী বেশী সহনশীল হতে হবে। বাকি কিছু আন্দোলনের স্বার্থেই বললাম না। চট্টগ্রামের সাথে আমি প্রত্যক্ষভাবেই জড়িত আছি। প্রয়োজনে সময়মত আমিই সব বলব।

      2. আমি আর কিছু কইলাম না। আমি ওই
        আমি আর কিছু কইলাম না। আমি ওই ভিড়ে ছিলাম না। নাজমুল যা করছে আমি দেখি নাই। কিসের বাড়ি খাইয়া কেমনে লাকি পইড়া গেছে কিছু দেহি নাই। বারডেমে আন্দোলন বাচাইতে যে ঐক্য হইছে তা আমি দেহি নাই। মিডিয়া কেনো আসল ঘটনা চেপে গেছে তা দেহি নাই। কে ধাতানি খাইছে তাও দেহি নাই।
        দেহন লাগবোনারে ভাই, সারা দেশে ডাক্তারি রিপোর্ট পৌছাইয়া গেছে

  5. ঠিক আছে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকেই
    ঠিক আছে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকেই আন্দোলনের উপর আঘাত আসছে।কিন্তু উসকানির বিষয়ে কি বলবেন?এর আগে আওয়ামীলীগের দুইজন নেতা লাঞ্ছিত হয়েছেন।এটা নিয়ে টিভি চ্যানেল ও পত্রপত্রিকায় ব্যাপক আওয়ামীবিরোধী সেন্টিমেন্ট তৈরি করে আন্দোলনকে আরাজনৈতিক করার চেষ্টা করা হয়।লাকি একটা ছাত্র সংগঠনের নেত্রী।তাদের একটা পারপাস আছে এই আন্দোলনে থাকার।প্রত্যেকটা রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন শাহবাগের মাঠে থেকে পাবলিসিটি ও দলীয় পারপাজ নিয়ে আছে।যেখানে সেলিম ভাই বক্তব্য দিতে পারেন নির্বিঘ্নে সেখানে তোফায়েল আহমেদ বক্তব্য দিলে কেন তাকে লাঞ্ছিত করা হবে।লাকিকে এতদিন আগ্নিকণ্যা জানতাম,কিন্তু এখন দেখলাম সেও ব্যবহৃত হচ্ছে দলীয় পারপাজে অথবা নিজে সচেতনভাবে উস্কানি দিয়েছে।আমাদের সংগঠনগুলোর সমস্যা হলো অবিশ্বাস।অন্তত এই একটা ইস্যুতে আমরা দলবাজীর উর্ধে আসতে পারিনা।জানি এই আন্দোলন কেউ গিলে খাবেনা,কিন্তু পিছন থেকে ছুরি মারবে।

    1. আওয়ামীলীগ এই আন্দোলনের
      আওয়ামীলীগ এই আন্দোলনের ক্রেডিট নিতে মত্ত আর বাম দলগুলো আছে নিজেদের প্রচারের কাজে ব্যাস্ত। এইটা বাস্তব সত্য যে দল করলে প্রচারের চেষ্টা করবেই মানুষ। কিন্তু সেটা যদি আন্দোলদনের উর্ধে চলে যায় সেখানেই সমস্যা বাধে। আমরা ঐ কাজটিই করি মাঝে মধ্যে। ভাবে এত বড় প্লাটফর্ম পাইছি কিছু ফায়দা লুইটা লই।

      কিন্তু পোস্টের উদ্দেশ্য হচ্ছে এই আন্দোলনের ফল ঘরে উঠবে ত? নাকি এইটাও যুক্ত হবে বাকিগুলোর সাথে?

  6. আমি আইনের ছাত্র না।

    আমি আইনের ছাত্র না। ট্রাইবুনাল-বাইবুনাল আমি বুঝিনা।বুঝতে চাইওনা, আমি বুঝি সরকার যদি চায় তাইলে চাইরদিনে সবকয়টা রাজাকারের বাচ্চারে শাহবাগের মোড়ে লাইন ধরায়ে ফাঁসি দিতে পারে।

    :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল:
    অস্থির পোস্ট। জায়গামত হাত দিছেন বস। আপনে থাকেন কোনায় মিয়া?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *