আঁধারের আলোড়ন !

:দিবাস্বপ্ন:

ঐ আমি তোর হোস্টেলের নিচে আসতেছি !!!

তুই আস তাতে আমার কি ???? তুই কি আমাকে খেলনা পাইসিস ??? খুব রাগী সুরে কথাটা বলল সুহা ।

১ ঘণ্টা আগেই চয়ন ওর হোস্টেলের নিচে এসেছিল । নামতে বলল । কিন্তু সুহা যখন নামতে যাবে তখনই বলে কিনা , আমি চলে যাচ্ছি, তোর আসা লাগবে নাহ । এত মানা করলো যেতে কিন্তু শুনলো নাহ , এখন আবার আসছে ঢং করতে ।


:দিবাস্বপ্ন:

ঐ আমি তোর হোস্টেলের নিচে আসতেছি !!!

তুই আস তাতে আমার কি ???? তুই কি আমাকে খেলনা পাইসিস ??? খুব রাগী সুরে কথাটা বলল সুহা ।

১ ঘণ্টা আগেই চয়ন ওর হোস্টেলের নিচে এসেছিল । নামতে বলল । কিন্তু সুহা যখন নামতে যাবে তখনই বলে কিনা , আমি চলে যাচ্ছি, তোর আসা লাগবে নাহ । এত মানা করলো যেতে কিন্তু শুনলো নাহ , এখন আবার আসছে ঢং করতে ।

না , এখন আর রাগ করা যাবে না । একটু আগের ঘটনাতে সুহা খুব রাগ করেছে । কি করবে সে , খালি ঝগড়া হয় ২ জনের । সুহার সাথে ঝগড়া করে মন খারাপ ছিল তাই দেখতে আসলো, আবার কি মনে হল চলেও গেলো । কেন যে এমন করে ও নিজেও জানে নাহ ।কোন রিকশাই যেতে চাচ্ছে না । কিছুই করার নেই তাই হাঁটা শুরু করলো ।

“হ্যালো , তোর হোস্টেলের নীচে” খুব ঠাণ্ডা একটা গলায় সুহাকে বলল চয়ন

আমি পারমু নাহ , যাহ ভাগ ।

আমি ঠিক তোর হোস্টেলের নীচে আছি, বিশ্বাস নাহ হলে দেখ বাপ ।

আচ্ছা থাক, আমি নামতেসি ।

কিরে তুই নাহ বললি আসবি নাহ , আসলি কেন ?? বহু কষ্টে হাসি চাপিয়ে রেখে সুহাকে বলল চয়ন ।

তুই কি ভাবসিস আমি তোর সাথে দেখা করতে নামসি ??? আমি বাটার কিনতে নামসি , বুঝছিস ???

“ঐ রিকশাতে উঠ !! ” একটু গম্ভীর করে সুহা কে বলল চয়ন

রিকশা কোন দিকে যাচ্ছে ওরা জানে নাহ , চয়নের মন খারাপ দেখেই বুঝতে পারছে সুহা ।

কিরে মুখটা এমন করে আসিস কেন ??? তোর কি জিএফ ভাগসে ??? কথা বলিস নাহ কেন ??? একা একা কথা বলতে বলতে ক্লান্ত সুহা । চয়নের মুখে একটা শব্দ ও নেই , মাঝে মাঝে এই ছেলের যে কি হয় কে জানে ??? ইচ্ছা করছে রিকশা থেকে নীচে ফেলে দিতে ।

সুহা ভাবতেও পারেনি এমন কিছু হবে । এত দ্রুত হল টের পেতে ও কিছুটা সময় নিলো ও । ওর বাম হাতটা খুব শক্ত করে ধরে আছে চয়ন । চয়নের ঠিক ২ হাতের মাঝখানে এখন ওর হাত ।মাঝে মাঝে সে নিজে ও একটু ধরছে আবার ছাড়িয়ে ও নিতে চাইছে । একটা সময় হাতটা ছেড়ে দিলো চয়ন । বুঝতে পারল সুহা । তবুও না বুঝার ভান করে একটু ধরল এরপর আস্তে করে নিজের হাতটা সরিয়ে নিলো সুহা ।

চল নেমে যাই ?? কোন কথাই বলছে না চয়ন । চুপ করে আছে । নেমে নিজেই রিকশা ভাড়াটা দিয়ে দিলো সুহা । পাশে একটা রাস্তা ধরে হাঁটতে শুরু করলো ২জন । আকাশে খুব মেঘ ডাকছে , সন্ধ্যা হয়েছে সেই কখন চারপাশে আধার কিছুদূর পর পর হ্যালোজেন লাইট । জায়গাটা খুব মনে ধরলো চয়নের , পাশে একটা লেকের মত কিছু ওর মনকে আরো ভালো করে দিয়েছে । ঠাণ্ডা বাতাস আসছে , যেকোন সময়ে বৃষ্টি নামবে । হঠাৎ মনটা ভালো হয়ে গেলো চয়নের । ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি ছিল এতক্ষণ কিন্তু এখন খুব জোরে শুরু হয়েছে । একটা গাছের নীচে দাঁড়ালো ওরা । যদিও যা ভিজার ঠিক ই ভিজে যাচ্ছে ওরা । পাশে একটা টঙয়ের দোকান থেকে চা নিলো চয়ন । খুব অসাধারন হয়েছে , কিছু সময় থাকে যখন সবই ভালো লাগে আজ মনে হয় ওর জন্য এমন দিন । চা এত ভালো লাগলো যে এক সাথে ৩ কাপ খেলো ।শেষমেস হাঁটা শুরু করলো ২জন । এতক্ষণে ২জন ই পুরো নাকানিচুবানি খেয়েছে ।

ঐ তুই এত সেলফিশ কেন ??? সুহার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল চয়ন

কেন ?? কি করছি আমি ??? রাগী কণ্ঠে বলল সুহা

তোর নিজের যখন দরকার হয় তখন তুই আমার হাত ধরিস কেন ??? রোড পার হওয়া , কুকুর দেখলে, গরু দেখলে এখন সামনে পানি যখন আসছে তখন ঐ জায়গা পার হাত ধরতেছিস …………। সেলফিস !!!!

কি বলবে বুঝতে পারে না সুহা , খালি বলে ঐ কই যাস এখানে কিছু চিনিস ?? রাত হয়ে গেছে যাওয়া কি ঠিক হবে ????

চল তো । কিছু হলে দেখবো । এরা হেঁটে চলছে একটা অন্ধকার রাস্তা দিয়ে । ঠিক অন্ধকার না কিছু লাইট আছে কিন্তু ঐগুলো এত দূরে দূরে যে রাস্তা খুব একটা দেখা যায় নাহ । পিচ ঢালা রাস্তা তার ২পাশে বড় গাছ , । মাঝেমাঝে ২ একটা রিকশা আসছে । এ ছাড়া পুরো রাস্তাই খালি । হ্যালোজেন লাইটের মাঝে দু একটা সোডিয়াম লাইট ও আছে । নীচে একটু আগে হয়ে যাওয়া বৃষ্টির পানি । খুব ভালো লাগছে হাঁটতে , মনে হচ্ছে অনন্ত কাল পর্যন্ত যদি এভাবে থাকা যেত কতই নাহ ভালো হত । এই আলোতে সুহাকে দেখতে অসাধারন লাগছে । মনে হচ্ছে এক অপ্সরী , যেন এই মাত্র স্বর্গ থেকে নেমে এসেছে । হঠাৎ খুব অবাক হয় চয়ন । সুহা ওর হাত ধরে আছে , সাধারন ভাবে না খুব শক্ত করে । যেন কখনও এটা ছাড়তে চায় না ও !! সুহার দিকে বাঁকা চোখে একবার তাকিয়ে চয়ন বলল , “সারাজীবন এমনি থাকবি তো ??” সুহা কিছু বলে নাহ শুধু হাসে যে হাসির মানে চয়ন জানে নাহ ।

ওরা এগিয়ে যায় । পাশাপাশি হাঁটছে , সুহার বা হাতটা চয়নের ডান হাতের মাঝে । হেঁটে চলেছে তারা , পিছনে পুরো পৃথিবী পরে থাক , ওরা আজ হাঁটবে । আজতো তাদেরই দিন । আজ তারা হারিয়ে যাবে ঐ অন্ধকারের গহীনে লুকিয়ে থাকা কোন গ্যালাক্সিতে । পিছনে তাকানোর আর সময় নেই তাদের । হঠাৎ চয়নের মনে হয়, না বেঁচে থাকা আসলেই আনন্দের , অনেক আনন্দের !!!!!!!!!
:ভালুবাশি: :ভালুবাশি:

২ thoughts on “আঁধারের আলোড়ন !

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *