ভুবন ডাঙার হাসি


“এক্সকিউজ মি! একটু হেল্প করবেন?” পিছন থেকে ভেসে আসা কিন্নর কন্ঠের ডাক শুনে ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনে তাকায় অমিত। দেখে, মিস্টি মত একটা মেয়ে দু হাতে দু’টো ব্যাগ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মিস্টি হেসে বলে অমিত-
“আমাকে বলছেন?
-হ্যাঁ আপনাকেই। আমাকে একটু হেল্প করতে পারবেন?
-আপনাকে কি হেল্প করতে পারি?
-ভুবন ডাঙা এখান থেকে কতদুর, জানেন?
-এখান থেকে প্রায় ১২ কিলো হবে। আপনি কি ওই গ্রামে যাবেন?
-হ্যাঁ, আমার এক আত্মীয় থাকেন ওখানে। তাদের বাড়ি বেড়াতে যাচ্ছি। আচ্ছা, এখান থেকে যাওয়ার ব্যাবস্থা কি?


“এক্সকিউজ মি! একটু হেল্প করবেন?” পিছন থেকে ভেসে আসা কিন্নর কন্ঠের ডাক শুনে ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনে তাকায় অমিত। দেখে, মিস্টি মত একটা মেয়ে দু হাতে দু’টো ব্যাগ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মিস্টি হেসে বলে অমিত-
“আমাকে বলছেন?
-হ্যাঁ আপনাকেই। আমাকে একটু হেল্প করতে পারবেন?
-আপনাকে কি হেল্প করতে পারি?
-ভুবন ডাঙা এখান থেকে কতদুর, জানেন?
-এখান থেকে প্রায় ১২ কিলো হবে। আপনি কি ওই গ্রামে যাবেন?
-হ্যাঁ, আমার এক আত্মীয় থাকেন ওখানে। তাদের বাড়ি বেড়াতে যাচ্ছি। আচ্ছা, এখান থেকে যাওয়ার ব্যাবস্থা কি?
-এখান থেকে, ভ্যান পাওয়া যায়। রাস্তা কাচা, তাই মোটর গাড়ি চলেনা খুব একটা।
ভ্যান এ করে ১২ কিলো যেতে হবে শুনে আকাশ থেকে পড়লো সে।সামলে নিয়ে বলল-“আমাকে কি একটা ভ্যান ভাড়া করে দিতে পারেন, আমার খুব উপকার হয়।”
-ঠিক আছে চলুন আমার সাথে।

ভ্যানগাড়ি স্ট্যান্ড এর দিকে হাটতে হাঁটতে পরস্পর পরিচিত হয়ে নেয় ওরা। মেয়েটার নাম লাবণ্য। জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি তে বাংলা সাহিত্যে অনার্স করছে। এক ভাই, এক বোন ওরা। বাবা রিটায়ার্ড
সরকারী কর্মকর্তা। বর্তমানে ব্যাবসা করছেন। আর অমিত বিবিএ কমপ্লিট করেছে গত মাসে, চিটাগাং ইউনিভার্সিটি থেকে। অমিত এর বাবা মারা গেছেন দুই বছর হল। এইসব কথা হতে হতে স্ট্যান্ড এ পৌঁছে গেলো ওরা। কৃষ্ণ বর্ণ আধ-পাকা চুলের জোয়ান গোছের এক ভ্যান চালককে জিজ্ঞেস করলো অমিত-“ভুবন ডাঙ্গা যাবে?”
-যামু, তয় ২০০ টাকা লাগবে।
-ঠিক আছে চলো, আমি আন্দিউরা নেমে যাবো।

ব্যাগ গুলো তুলে দু’জনে চেপে বসলো ভ্যানে। ভ্যান চলতে শুরু করলো। দুপাশে বিশাল বিস্তৃত মাঠ, সবুজ আর সবুজ…কিছুক্ষণ পরপর আমের বাগান এসে পড়ছে। এর মাঝে দু’জনের মাঝে জড়তা অনেকখানি কেটে গেছে…তাদের নাঝে অনেক কথা হয়, সমাজ নিয়ে, দেশ নিয়ে, ভালবাসা নিয়ে, ভাল লাগা নিয়ে। এভাবেই, একসময় আন্দিউরা এসে যায়। নেমে পড়ে অমিত। ভাড়া মিটিয়ে দেয় সে লাবণ্যর নিষেধ সত্ত্বেও। ব্যাগ নিয়ে যখন গায়ের পথে ঢুকতে যাবে, তখন ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠলো ওর, পিছন ফিরে তাকালো সে…দেখতে পেলো লাবণ্যর মুখে ভুবন ডাঙার হাসি। হাত নেড়ে বিদায় জানালো সে অমিত কে..

২৩ thoughts on “ভুবন ডাঙার হাসি

    1. বেশিই হল, প্রেম টেমে একটু
      বেশিই হল, প্রেম টেমে একটু বেশিই হয়ে থাকে :চোখমারা: :চোখমারা: :পার্টি: :পার্টি: :পার্টি:

  1. আহারে অমিত, কোথায় গেলো
    আহারে অমিত, কোথায় গেলো ছেলেটা… :চিন্তায়আছি: :দাঁড়াফোনাইয়ালই: :দাঁড়াফোনাইয়ালই:

    গল্পটা পচা, অমিতের কথা মনে করায় দিল… :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :কানতেছি: :মনখারাপ: :মনখারাপ:

    1. ইশ! আগে যদি তোমার নাম্বার
      ইশ! আগে যদি তোমার নাম্বার জানতাম তাইলে গল্পে এড করে দিতাম :মাথাঠুকি: :খুশি: :গোলাপ: :গোলাপ: :বুখেআয়বাবুল:

  2. এটা কি করলেন ভাই? হুট করে শেষ
    এটা কি করলেন ভাই? হুট করে শেষ করে দিলেন! সবে জমে উঠছিল। আরেকটা পর্ব করুন দয়া করে। আপনার লেখার ভঙ্গি খুব সাবলীল। পড়তে ভালো লাগে। আপনার কবিতার ক্ষেত্রেও সেটা প্রযোজ্য। লিখতে থাকুন। শুভেচ্ছা রইলো।

    1. ইকরাম ভাই, ছোট গল্পের রীতিই
      ইকরাম ভাই, ছোট গল্পের রীতিই তো এটা। শেষ হয়েও হইলোনা শেষ। আচ্ছা আপনার কথা আমি মাথায় রাখলাম। ভালবাসা নিবেন :ফুল: :ফুল: :ফুল: :গোলাপ: :গোলাপ:

      1. এইটা কিন্তু ভুল কথা! ছোট গল্প
        এইটা কিন্তু ভুল কথা! ছোট গল্প মানেই যে “শেষ হইয়াও হইলো না শেষ” এটা রিতিমত ভয়াবহ ভুল বুঝাবুঝি! রবী ঠাকুর কখনোই এটা ছোট গল্পের সজ্ঞা হিসেবে বলেননি… “বর্ষা যাপন” শুধুই একটা কবিতা আর সেখানে কবি একটা বিশেষ গল্পের কথা বলেছেন; সামগ্রিক ভাবে সকল ছোট গল্পের বৈশিষ্ট বর্ণনা করেননি মোটেও…

        যাকগে- আরেক পর্ব লেখার আশ্বাস দিয়েছেন বলে আজকের মত পান্ডিত্য জাহির করা বন্ধ করলাম। নইলে আঁতলেমী কাকে বলে, কত প্রকার ও কী কী তা আজ দেখিয়ে দিতাম… হুঁহ হুঁ! 😛

  3. 200 টাকার এই নিদারুণ অপচয়
    200 টাকার এই নিদারুণ অপচয় সহ্য করতে পারতেছি না। :'(

    এই টাকা দিয়া আমারে কিউবির কার্ড কিনে দিলেও হইত… :/

Leave a Reply to দ্রুপদ রঞ্জন মিত্র Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *