শৌখিন ভালবাসা

মিনতি :আচ্ছা প্রায় প্রায় তুমি হঠাত করে এমন হয়ে যাও কেন ?
-কেমন হয়ে যাই ?
মিনতি :এইযে এখন যেমন তেমন হয়ে যাও
-এখন কেমন ?
মিনতি :আমি যে একটা মানুষ, তোমার পাশে বসে এতক্ষণ ধরে বসে কথা বলে যাচ্ছি …..
তুমি শুনতে পাচ্ছ কি পাচ্ছ না সেটাও বুঝতে পারছি না ……
একটু পর যদি উঠে যাই আমার মনে হয় তাতেও তোমার কোনো ভাবান্তর হবে না …..
-বাদ দেও তো এসব পেচাল ,ওই দুরের সীমানাহীন বিস্তৃত আকাশ দেখো আর ভাবো …..
মিনতি :কি ভাববো ?
-ভাবো তোমার যা ইচ্ছে ,যোক্তিক অযোক্তিক ,স্বার্থ নি:স্বার্থ,সুবিধা অসুবিধা যা মনে আসে সব, সব ভাবো …..
মিনতি :তুমি কি কখনোই সিরিয়াস হবে না
-আমি সিরিয়াস

মিনতি :আচ্ছা প্রায় প্রায় তুমি হঠাত করে এমন হয়ে যাও কেন ?
-কেমন হয়ে যাই ?
মিনতি :এইযে এখন যেমন তেমন হয়ে যাও
-এখন কেমন ?
মিনতি :আমি যে একটা মানুষ, তোমার পাশে বসে এতক্ষণ ধরে বসে কথা বলে যাচ্ছি …..
তুমি শুনতে পাচ্ছ কি পাচ্ছ না সেটাও বুঝতে পারছি না ……
একটু পর যদি উঠে যাই আমার মনে হয় তাতেও তোমার কোনো ভাবান্তর হবে না …..
-বাদ দেও তো এসব পেচাল ,ওই দুরের সীমানাহীন বিস্তৃত আকাশ দেখো আর ভাবো …..
মিনতি :কি ভাববো ?
-ভাবো তোমার যা ইচ্ছে ,যোক্তিক অযোক্তিক ,স্বার্থ নি:স্বার্থ,সুবিধা অসুবিধা যা মনে আসে সব, সব ভাবো …..
মিনতি :তুমি কি কখনোই সিরিয়াস হবে না
-আমি সিরিয়াস
মিনতি :তাইতো দেখতে পাচ্ছি………..
একদিন হঠাত সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে দেখবে তোমার সব সমস্যা সমাধান হয়ে গেছে কিংবা হঠাত করে তুমি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছো …এটাই তোমার সিরিয়াস হওয়া ……
-আচ্ছা তোমরা মেয়েরা সব সময় মশার মত পো পো কর কেন নাকি কয়েলের গন্ধ ছাড়া তোমাদের ভালো লাগে না।
মিনতি :পো পো করি বলেই তো দুনিয়াটা এতো সুমধুর
-সুমধুর নাকি কয়েল এর উত্পাদন বাড়ানোর কৌশল
মিনতি :হ্যা হ্যা যদি মনে কর তবে তাই,তা না হলে কোটি কোটি টাকার স্বপ্ন দেখবে কিভাবে
-তোমাকে আমি আগেও বলেছি এখনো বলছি ধূমায়িত করে আমি কোটি কোটি টাকার স্বপ্ন দেখতে চাই না
মিনতি :তুমি জানো আমাদের প্রেমের বয়স কত ?
-জানি
মিনতি :বলোতো শুনি কতো ?
-যাচাই করতে চাচ্ছ কেন ?বললামতো জানি
মিনতি :আর কতকাল এভাবে প্রেম করবে ?
-যতকাল এ দেহে প্রাণ আছে
মিনতি :তুমি কিভাবে ভাবলে আমি তোমার অনন্ত কালের প্রেমের সঙ্গী হবো
-সে তোমার ইচ্ছে ,আমিতো তোমাকে বেধে রাখিনি
মিনতি :তুমি মনে করছ তুমি রাখনি ,আমি নিজেই জড়িয়ে গেছি
-বুঝেছি আজ তোমার কৌতুক শোনার দিন
একটা কৌতুক শোনো :একবার এক ভদ্রলোক যাত্রা পথের বিরতিকালে এক জায়গায় গেল প্রাকৃতিক কার্য সারতে ,
সেখানে একটা সাইন বোর্ডে লেখা দেখতে পেলো ,ঈদ উপলক্ষে পস্রাব ৩টাকা আর পায়খানা ৫টাকা।তো ভদ্রলোক পায়খানার ওখানে ঢুকে কিছুক্ষণ পর বের হয়ে এসে কাউন্টার এ যে বসা ছিলো তাকে জিগ্যেস করলো: ভাই পায়খানা করতে যেয়ে পস্রাব ও বাইর হয়া গেছে ,এখন কি ৮ টাকা দেওন লাগবো !!!!!
মিনতি :শোন তোমার এসব পুরোনো কৌতুক বার বার শোনার টাইম নাই
-তাহলে পুরা বই নাও …হ্যা হ্যা হ্যা
মিনতি :বাবা তোমাকে দেখা করতে বলেছে
-তোমার বাবা কে বলে দাও ,আমি একটু ব্যস্ত আছি ,আগামী এক মাস আমি বুকিং ,একদম টাইম নাই
মিনতি :কি নিয়ে ব্যস্ত তুমি শুনি
-একটু বিজি কাজ নিয়ে ইজি আছি
মিনতি :প্লিস তুমি আমার বেপারে সিরিয়াস হও তা না হলে আমাকে মুক্তি দাও
-এই নাও তোমার হাত টা ছেড়ে দিলাম ……
মিনতি :বাবা গতকাল হজ্জের জন্য পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন
-ভালো
মিনতি :বাবা যাওয়ার আগে আমাকে বিয়ে দিতে চান সেটাও তুমি জানো
-জানি ,আঙ্কেল কে বলো আমার কাছে ভালো পাত্র আছে তবে মাস্টার্স পাশ ঘটক হিসেবে আমার চাহিদা বেশি না ,একটা ছাতা ,গ্যস লাইট আর এক পেকেট বেনসন ছিগেরেট হলেই চলবে.
মিনতি :বাবা তোমার জন্য গতবারও হজ্জে যেতে পারে নি
-তুমি আমাকে বার বার দোষারোপ করছ কেন ,আমি কি উনাকে যেতে নিষেধ করেছি নাকি
মিনতি :আমার তুমি ছাড়া আর কেউ নেই যার কাছে রেখে যাবে
-ঠিক আছে তুমি আঙ্কেল কে বলে দাও এই এক মাস আমি তোমার দায়িত্ব নিলাম
মিনতি :তোমাকে বাবা কেন দায়িত্ব দিবে
-কারণ আমি তোমার চিরদিনের শত্রু তাই
মিনতি :শোন বাবা বলেছে ,আমাদের কোম্পানির সমস্ত দায় দায়িত্ত তোমাকে বুঝিয়ে দিয়ে বাবা হজ্জে যেতে চায়.
-মিনতি তোমাকে আগেও বলেছি এখনো বলছি ,শশুর আব্বার কোটি কোটি টাকার ধূমায়িত স্বপ্ন আমি কখনো ও দেখিনি দেখবো ও না
মিনতি: রাতুল তোমার মনে পড়ে প্রথমদিনের কথা ,খালাতো ভাই হিসেবে তোমাকে ছোট বেলা থেকেই চিনতাম ,সে চেনার মধ্যে ছিলো
যোজন যোজন দুরত্ব,সে চেনার মধ্যে কোনো ভালবাসা ছিল না, ছিল শ্রদ্ধা ….
তোমার মনে পরে সেই শ্রদ্ধা কিভাবে ভালবাসায় পরিনত হলো ….!!!

রাতুল : কেন এসব পুরনো ইতিহাস টানছ
মিনতি:ইতিহাস …!!! চমত্কার তোমার আমার সম্পর্কের সূচনা তাহলে এখন ইতিহাস
রাতুল ;শোন গতকাল আমি রাগ করে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় কারো উপর রাগ ঝাড়তে না পেরে যে নেড়ি কুত্তা তাকে লাথি দিয়েছিলাম ,সেটাও এখন ইতিহাস …..আর তোমার আমার প্রেমের সূচনার ঘটনাতো ৮বছর আগের কাহিনী
মিনতি :আমার এখনো স্পষ্ট মনে আছে
কলেজে পড়ার সময়, আচমকা একদিন তুমি আমাদের দোতলা কলেজের বারান্দার সামনের রাস্তা থেকে ঝালমুরী ওয়ালা দের মত একটা চোঙ্গা মুখে দিয়ে চিত্কার করে বলছিলে ………………
এই মনুস্য প্রেম যতকাল বহমান যতকাল অধীর
মিনতি জোড় হাত করে বলছি আমার প্রেম ততটাই গভীর
যতকাল রবে পদ্মা মেঘনা যমুনা
আমি ততকাল পর্যন্ত হব নমুনা
হে বাদামী মিনতি তবু একটিবার কাছে আসি
করুনা করে হলেও বলো ভালবাসি

রাতুল:তোমার সহপাঠীরা সেদিন তোমাকে নিয়ে বেশ হাসাহাসি করছিল ,তুমি ওদের টিপ্পনি সইতে না পেরে একদৌড়ে নিচে এসে বলেছিলে-
তাড়াতাড়ি এখান থেকে পালাও নইলে খালার কাছে আজকে রাতে নালিশ করবো কিন্তু…..
হা হা হা হা হা হা হা
মিনতি :তোমার তো ঢের মনে আছে
রাতুল:তোমার কি মনে হয় এরি মধ্যে আমি আলঝেইমার বাধিয়ে ফেলেছি
মিনতি :কি জানি হয়তো বাধাওনি কিন্তু আপনা থেকে মাঝে মাঝে ভর করে
রাতুল:তুমিতো সবই জানো ,ইদানিং আমার মন মেজাজ টা একদম ভালো যাচ্ছে না
মাস্টার্স পাশ করলাম ২ বছর হলো ,কত কষ্ট করে তিল তিল করে টাকা জোগার করে আমি ব্যবসা টা দাড় করানোর চেষ্টা করেছিলাম ,এক রাতের মধ্যে সব লুটপাট ………..
মিনতি :আমি সবই জানি ,তুমি না হয় আমার বাবার বিজনেস দিয়ে আবার শুরু কর ,এই তোমার কাছে হাত জোড় করে মিনতি মিনতি করছে ….
রাতুল:আমি আমার আত্মসম্মান ,বিবেকবোধ ,আমার স্বপ্ন সব ধুলায় মিশিয়ে দিয়ে তোমার বাবার বিজনেসের হাল ধরে যদি এখন তোমাকে বিয়ে করি তবে বেপারটা কেমন হবে জানো ?
সেই ইদুর আর বেড়ালের কাহিনীর মত হবে
একবাড়িতে এক সুন্দরী ইদুর আর মরদ বেড়াল থাকতো ,বেড়াল প্রায় প্রতিদিনই চেষ্টা করত কিভাবে ইদুর কে বাগে আনা যায় ,কিন্তু বেড়ালের দিনও ফুরায় না আর বাগে আনার দিনও আসে না ……….অবশেষে একদিন বেড়ালের সেই কাঙ্ক্ষিত দিন আসলো ,বেড়াল সে রাতে খপ করে ইদুর কে ধরল আর খুশিতে লাফাতে লাগলো ,উপায়ান্তর না দেখে সুন্দরী ইদুর বললো ….ছেড়ে দে শয়তান ছেড়ে দে ,তুই আমার দেহ পেলেও মন পাবি না।
আমি যদি আমার সমস্ত কিছু বিসর্জন দিয়ে তোমাকে বিয়ে করি তবে আমার আত্মসত্তা পরে রইবে আমার স্বপ্নের কাছে আর দেহটা তোমার বাবার সেই শিমুল তুলার নরম বিছানায় ……..
তুমি নিশ্চয় সেই ধেড়ে বিড়ালের মত বলবে না ,দেহ পেলেই চলবে ,মনটা তুই রাখ ……হা হা হা হা হা
মিনতি:মাকে গতকাল স্বপ্ন দেখলাম ,মা আমাকে খুব করে বকছিলেন …..
রাতুল:এইরে দিলেতো আমার মনটার বারোটা বাজিয়ে ,তোমাকে না কত বার বলেছি আমাদের কথার মাঝখানে খালাম্মা কে টানবে না
মিনতি :তুমি কখনও কোনদিন আমার মন বোঝোনি ,কখনও কোনদিন আমি তোমাকে আমার বিপদের সময় পাইনি …..
মা যেদিন মারা গেলো ,সেদিনও তুমি আমাদের বাসায় আসনি,লাশ দেখতে তোমার ভালো লাগে না এই উছিল্লায় অথচ গত ৮ বছর,প্রতিটি সময় আমি তোমার পাশে ছিলাম ………
রাতুল:এই মুহর্তে তোমাকে বিয়ে করলেই কি সমস্ত ঋণ পরিশোধ হয়ে যাবে ???
মিনতি :আমি আর বাবা কে বোঝাতে পারবো না ,আমার খুব কষ্ট হয়
রাতুল;কষ্ট কি আমার হয় না তোমাকে কষ্টি পাথরের মত অনুরোধ করতে
মিনতি :না তোমার কোনো কষ্ট হয় না ,তুমি অনুভতিহীন ,কষ্টি পাথরের চেয়েও শক্ত ,তোমার ভেতরে দানব বসবাস করে ,তুমি মানুসরুপী দানব ,
ফিরিয়ে দাও আমার ৮ বছর ,ফিরিয়ে দাও আমার সমস্ত অনুভতি ,ওসবের কোনো কিছুরই তুমি যোগ্য নও ,তুমি একটা রাস্তার নেড়ি কুকুর ,তোমার চেয়ে ওই কুকুরও ভালো ,তুমি অকৃতজ্ঞ
……………………………………………………………………….
মিনতি তোমার মনে পরে …..যেদিন প্রথম তোমার হাত আমার হাতের ৫ আঙ্গুলের মধ্যে মিলিয়ে রেখেছিলাম ,প্রতিটা আঙ্গুল যখন বিপরীত আঙ্গুল গুলোকে ভাই ভাইয়ের মত জড়িয়ে ধরে রেখেছিল ,আমি সেদিন তোমাকে আবৃতি করে শুনিয়েছিলাম ………………………

কত অজানারে জানালে সিন্ধু
দূরকে করিলে নিকট, বন্ধু,
পরকে করিলে ভাই।
পুরনো আবাস ছেড়ে যাই যবে
মনে ভেবে মরি কী জানি কী হবে,
নূতনের মাঝে তুমি পুরাতন
সে কথা যে ভুলে যাই।
দূরকে করিলে নিকট, বন্ধু,
পরকে করিলে ভাই।

তুমি সেদিন আমার চোখের দিকে অপলক নয়নে তাকিয়ে ছিলে ,তোমার সে চোখের ভাষা আমি ঠিকই বুঝেছিলাম কিন্তু আমি চাইছিলাম তুমি আমাকে জিগেস কর ………………তুমি জিগেস করনি ….নীরব ছিলে …..সেদিন পুরোটা সময়ই হু হা ছাড়া কোনো কথা বলনি।
সেদিনের প্রতিটা সেকেন্ডের কথা আমার বেশ মনে আছে
আমার মনে আছে ১৭ মিনিট ধরে আমি তোমার হাত আমার হাতের ভেতর পুরে রেখেছিলাম ,তুমি একটিবারও আমাকে জিগেস করনি ,আমি তোমাকে কেন এই অবৃতিটা শোনালাম ,আমি অধীর অপেক্ষায় বসে ছিলাম তুমি কখন আমাকে জিগেস করবে?তুমি করনি ……
তুমি কি আজ ও জানতে চাইবে না ……………………..!!! (চলবে )

৮ thoughts on “শৌখিন ভালবাসা

    1. ধন্যবাদ ভাইয়া .. চেষ্টা করছি
      ধন্যবাদ ভাইয়া .. চেষ্টা করছি একটা রূপ দার করাতে ,জানি না সেটা কোন রূপে দাড়াবে -গল্প না উপন্যাস

  1. সত্যি ভালো হয়েছে …!!!!এ
    সত্যি ভালো হয়েছে …!!!!এ পর্যন্ত আতিক ভাই আর আপনার উত্সাহ ছাড়া আর কারো প্রশংসা পেলাম না তাই চালিয়ে যাব কিনা সে ব্যপারে সত্যি দ্বিধায় ছিলাম …..তবে আপনার সাফ কথা শুনে ভালো লাগলো

  2. আমার চোখ এড়ায়ে গেছিল…
    আমার চোখ এড়ায়ে গেছিল… :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :কানতেছি: :আমারকুনোদোষনাই: :আমারকুনোদোষনাই:

    আগ্রহ জাগিয়ে তুলতে পেরেছেন, এইটাই সবচেয়ে বড়। :তালিয়া: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: চমৎকার শুরু… :বুখেআয়বাবুল: পরের পর্বের জন্য অপেক্ষায় রইলাম… :ফুল: :ফুল: :জলদিকর: :অপেক্ষায়আছি:

  3. মাইকেল সাব …কেন যেন লেখাটা
    মাইকেল সাব …কেন যেন লেখাটা লিখে তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে পারলাম না ….সীমাবদ্ধতার মধ্যে যতটুকু সম্ভব চেষ্টা করলে তৃপ্তির ঢেকুর তোলা যায় কেন জানো সে ঢেকুর টা আসছে না …..তাই কথাও দিতে পারছি না তবে আমি আপনাদের মত আরো ভালো লেখা লিখতে চাই …..মানে আমার ভালো লিখুক হইতে মুন চাই

  4. ভালো লাগলো। তবে কিছু কিছু
    ভালো লাগলো। তবে কিছু কিছু বানান ঠিক করে নিয়েন। আর কয়েকটি শব্দ পর পর ব্যবহার করেছেন। এটা কি ইচ্ছাকৃত নাকি ভুলে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *