¤ ইতিবিহীন চিঠি ¤

সুস্মিতা,
অনেকদিন হল তোমার সাথে কথা হয় না।তুমি হয়তো অভিমান করে আছ।হয়তো জানতে চাইবে কেন আমি তোমার সাথে কোনো যোগাযোগ করছি না?জানতে চাইলেও আমি উত্তর দিতে পারবো না।কারণটা আমি নিজেই জানিনা।আমি চিঠি লিখতে জানিনা।তবু আজ কেন যেন লিখতে মন চাইলো।মুঠোফোনে কথা বলতে বলতে আজকাল কেমন যেন লাগে!যান্ত্রিক জীবন।হয়তো চিঠিটা কখনো পাঠানো হবে না।তাই কী?লিখতে তো কেউ মানা করেনি।তুমি চিঠিটা নাহয় নাই পড়লে।নাইবা জানলে চিঠির কথা।চিঠিতে অনেক না বলা কথা লিখা যায়।আর চিঠিতে লেখা প্রতিটি শব্দের থাকে একটি করে গল্প।

সুস্মিতা,

সুস্মিতা,
অনেকদিন হল তোমার সাথে কথা হয় না।তুমি হয়তো অভিমান করে আছ।হয়তো জানতে চাইবে কেন আমি তোমার সাথে কোনো যোগাযোগ করছি না?জানতে চাইলেও আমি উত্তর দিতে পারবো না।কারণটা আমি নিজেই জানিনা।আমি চিঠি লিখতে জানিনা।তবু আজ কেন যেন লিখতে মন চাইলো।মুঠোফোনে কথা বলতে বলতে আজকাল কেমন যেন লাগে!যান্ত্রিক জীবন।হয়তো চিঠিটা কখনো পাঠানো হবে না।তাই কী?লিখতে তো কেউ মানা করেনি।তুমি চিঠিটা নাহয় নাই পড়লে।নাইবা জানলে চিঠির কথা।চিঠিতে অনেক না বলা কথা লিখা যায়।আর চিঠিতে লেখা প্রতিটি শব্দের থাকে একটি করে গল্প।

সুস্মিতা,
জানি তুমি ভালো নেই।তাই প্রথমেই ঐ অযৌক্তিক প্রশ্নটা এড়িয়ে গেছি।আমি কেমন আছি সেইটা তুমিই ভেবে নিও।বলতে ইচ্ছে করছে না।আচ্ছা এসব বাদ থাক।কী যে লিখবো বুঝে উঠতে পারছি না।ভেবেছিলাম চিঠিতে কোনো প্রশ্নই লিখবো না।তবু নিজেকে আটকে রাখতে পারলাম না।প্রতিদিনের মতো এখনো কি তোমার আমার কথা মনে পড়ে?ধোঁয়া উঠা গরম চা হাতে নিতে নিতে?বোকার মত প্রশ্ন করে ফেললাম তাই না?চায়ের কাপে আমাদের কত স্মৃতিমিশ্রিত আছে মনে আছে তোমার?তোমার হয়তো হাসি পাচ্ছে।কী করবো বল?লিখতে পারিনা যে!আবেগগুলোকে কথা কিংবা শব্দে অথবা খাতায় আবদ্ধ করতে পারিনা যে!

সুস্মিতা,
তোমায় আমি বহুবার বলেছি ভালোবাসি।তোমার তাতে মন ভরেনি।তুমি প্রতিবার জানতে চেয়েছ কতটা ভালোবাসি?আমি বলতে পারিনি।তুমি অভিমান করেছ।কেন আমি বলতে পারবো না কতটা ভালোবাসি এই জন্য।এসবই ছিল তোমার কাছে মজার কৌতুক।কিন্তু আমার কাছে তা ছিল মহকাব্যের মতন।আজ তোমায় আবার বললাম ভালোবাসি।জানতে চেয়ো না কতটা।কারণ আজও আমি বলতে পারবো না।তুমি হয়তো ভাবছো কতটা পাগল আমি!কী করবো বল?আমি এরকমই।চিঠি যখন থেকে লিখছি তখন থেকেই মনে হচ্ছে লিখে কী হবে?চিঠিটা তো আর পাঠানো হবে না।তবু লিখছি।তুমি চিঠি না পেলেও আমার কাছে তো থাকবে আজীবন।হয়তো কোনো এক শীতের সকালে প্রতিদিনের অভ্যাসবসত ঘুম থেকে উঠেই সিগারেট ধরিয়েছি বেলকোনিতে।সাথে রোদ পোহানো।হঠাত্‍ ঐসময় কলিংবেলে রিনরিন।দরজা খুলে ওপাশে তুমি।হাতে অর্কিড আর রজনীগন্ধা।আমি বিষ্ময় এবং জিজ্ঞাসু চোখে তাকিয়ে আছি।তুমি জানতে চাইবে ঐ দিনটার কথা আমার মনে আছে কিনা?আমি বোকার মত তাকিয়ে থাকবো।কারণ আমি জানিনা কোন দিনটার কথা তুমি বলছো।তখন তুমি জানাবে যে,আজকে সেই বিশেষ দিন যেদিন আমরা দুজনে বন্ধু হয়েছিলাম।আমার জীবনে তেমন কোনো বিশেষ দিন আছে কিনা আমি জানিনা।তখন হয়তো আমরা দুজনই ৫০উর্ধ্ব।তুমি একটু রাগত সুরে বলবে,’কি ভিতরে ঢুকতে দিবে না?’ আমি দরজা থেকে সরে দাঁড়াবো।তুমি বকতে বকতে যাবে,’এখনো সেই বদঅভ্যাসটি আছেই?বিছানা থেকে নেমেই সিগারেট?’ আমি কিছুই বলবো না।বেলকোনিতে গিয়ে বসবো।তুমি কিচেনে গিয়ে দু কাপ চা করে আনবে।সাথে বুক শেলফ থেকে জীবনানন্দ দাশ।যেন এটা তোমারই বাড়ি।চা দিতে দিতে বইটা টি টেবিলে রেখে যে কোনো একটি কবিতা পাঠ করতে বলবে আমায়।বইটা থেকে হঠাত্‍ কিছু পাতা নিচে পড়ে যাবে।তুমি তুলে নিবে কাগজগুলো।ততদিনে হয়তো আমি ভুলে যাব কাগজগুলোর কথা।কাগজগুলো প্রতি আমার কোনো কৌতুহল থাকবে না।ঐ একগুচ্ছ বিচিত্র রঙের কাগজগুলোকে উপেক্ষা করে আমি ‘বনলতা সেন’ পড়বো।আর তুমি অখাদ্য বিচিত্র কাগজগুলো।কবিতা পাঠ শেষে হয়তো তাকিয়ে দেখবো তোমার কপালে ভাঁজ,ভ্রু কোচকানো।আমি জিজ্ঞাসু চোখে তাকিয়ে থাকবো তোমার দিকে।আর তুমি বলবে,’এই চিঠি কবে লিখেছিলে?’
ধ্যাত্ এসব কী ছাই লিখছি?আচ্ছা আর লিখবো না।চিঠি আসলে আমার দ্বারা লিখা সম্ভব না।সুন্দর করে গুছিয়ে কিছুই লিখতে পারিনা।
ভালো থেকো কেমন?
ইতিবিহীন চিঠি লিখলাম।
তোমার মনে চাইলে ইতি জায়গায় যেকোনো কিছু বসিয়ে নিও।
ইতি না দেওয়ার একটি কারণ অবশ্য আছে।আমি যে সমাপ্তি ঘটাতে চাইনা।

৭ thoughts on “¤ ইতিবিহীন চিঠি ¤

  1. অনেক আবেগী লিখেছো ভাই। চমৎকার
    অনেক আবেগী লিখেছো ভাই। চমৎকার লেগেছে। তবে এই ধরনের কথাকাব্যে এমন এমন কিছু দর্শন তুলে ধরতে হয় যাতে লেখার মান অনেকাংশে বেড়ে যায়। আরও অনেক অনেক সুন্দর উপমা ব্যবহার করতে হবে। কারন কথাকাব্য টাইপের চিঠিগুলো মানুষ তেমন পড়েনা, তবে অনেকেই লিখে। তোমাকে এমন কিছু লিখতে হবে যাতে পুরোটা পপড়ার ধৈর্য নয়, পুরটা পড়তে বাধ্য কর পাঠক কে। অনেক শুভকামনা রইলো।

    আমি কিছুই বলবো না।বেলকোনিতে গিয়ে বসবো।তুমি কিচেনে গিয়ে দু কাপ চা করে আনবে।সাথে বুক শেলফ থেকে জীবনানন্দ দাশ।যেন এটা তোমারই বাড়ি।চা দিতে দিতে বইটা টি টেবিলে রেখে যে কোনো একটি কবিতা পাঠ করতে বলবে আমায়।বইটা থেকে হঠাত্‍ কিছু পাতা নিচে পড়ে যাবে।তুমি তুলে নিবে কাগজগুলো।ততদিনে হয়তো আমি ভুলে যাব কাগজগুলোর কথা।কাগজগুলো প্রতি আমার কোনো কৌতুহল থাকবে না।ঐ একগুচ্ছ বিচিত্র রঙের কাগজগুলোকে উপেক্ষা করে আমি ‘বনলতা সেন’ পড়বো। –

    :ফুল: :ফুল: :ফুল: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  2. সমুদ্রের গভিরতার তাও পরিমাপ
    সমুদ্রের গভিরতার তাও পরিমাপ করা সম্ভব,মনের গভিরতার কোনো স্কেল এখনো তৈরি হয়নি।আপনার সেই গভিরতার কিঞ্চিৎ প্রকাশ করলেন।চিঠির আবেগ আমাকেও ছুঁয়ে গেলো।

  3. হায়রে আমার চিঠিটা তো কেউ
    হায়রে আমার চিঠিটা তো কেউ পইড়াও দেখলো না।জীবনে চিঠি লিখি নাই।এতদিন পর অন্য কোনো পোস্ট না দিয়া খালি একটা চিঠি দিলাম কিন্তু কেউ আমার আবেগটারেই বুঝলো না??!!আমার বন্ধুরা ঠিকই কয় আমার সত্যিই আবেগের বড়ই অভাব! :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *