সৌদির শেঠদের কাহিনী


সিরিয়ার সাম্প্রতিক সময়ে বাসার আল আসাদের সরকারি সেনাদের সঙ্গে বিদ্রোহীদের সংঘর্ষে সবচেয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে দেশটির নারী ও শিশুরা। গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত সিরিয়ার হাজার হাজার পরিবার আশ্রয় নিয়েছে প্রতিবেশী দেশগুলোতে। এসব দেশের শরণার্থী শিবিরে তাদের বেঁচে থাকার জন্য ভিন্ন ধরনের এক জীবন সংগ্রামে লিপ্ত হতে হচ্ছে। ভোগ করতে হচ্ছে অবর্ণনীয় সব দুঃখ-কষ্ট। এখানে এসেও সবচেয়ে নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছে নারীরা। বিশেষ করে উঠতি বয়সী মেয়েরা। যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে নীরবে। মেনেও নিতে হচ্ছে পরিবারের সারভাইভালের কথা বিবেচনা করে।

সিরিয়ার প্রায় ২০ লক্ষ শরণার্থীদের বিরাট একটা অংশ আছে জর্ডানের আমানে। এখানে সবচেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন সিরিয়ার নারীরা।

বিবিসির বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এসব দুর্ভোগের কিছু চিত্র। জর্ডানে সিরিয়ার শরণার্থী শিবিরের অনেক নারীই কার্যত বিক্রি হয়ে যাচ্ছেন। বাবা-মা নিজ হাতে চুক্তিনামায় সই করে কিশোরী মেয়েদের তুলে দিচ্ছেন সৌদি ব্যবসায়ীদের হাতে। তারা কনট্রাক্ট ম্যারিজ করে ৬ মাস থেকে ১ বছরের জন্য এসব মেয়েদের ব্যবহার করে শিবিরে আবার ফেরত পাঠাচ্ছেন। ইসলামে বিয়ে ও তালাক দুটোই বৈধ, কাজেই তারা ঐসব সুযোগ সন্ধানী ভণ্ড সৌদি ব্যবসায়ীরা নিজেদের প্রতারক বলে মনে করছেন না। বরং তারা এটাকে এইসব দেশত্যাগী মানুষদের জন্য ‘সহযোগিতা’ বলেই মনে করছেন। বাবা-মা মেয়েদের কন্ট্রাক্ট ম্যারেজের মাধ্যমে যে অর্থ পাচ্ছেন তা দিয়ে শিশুদের দুধ কিনছেন, তাবুর ভাড়া মেটাচ্ছেন আর নিজেরা একবেলা খাওয়ার চেষ্টা করছেন। তারা বলছেন যে বেঁচে থাকার জন্যে তাদের এক মেয়েকে ‘কুরবানি’ করেছেন। এইসব মেয়েদের চুক্তিভিত্তিক বিয়েতে আবার দালাল হিসেবে কাজ করছে বেশ কিছু ইসলামী এনজিও। সমালোচকরা এটাকে বেঁচে থাকার জন্য ‘বেশ্যাবৃত্তি’ বলে আখ্যায়িত করলে এইসব এনজিও এর পেছনে আবার চমৎকার যুক্তি খাঁড়া করছেন।

জর্ডানের রাজধানী আমানের কাছে এক শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়া এক সিরীয় কিশোরী কাজল বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “এখানে আমাদের সাথে যা করা হচ্ছে সেটাকে আপনি বলতে পারেন ধর্ষণ, বলতে পারেন পতিতাবৃত্তি।”

১৮ বছরের কাজল যখন দেশে ছিলেন তখন এক প্রতিবেশী কিশোরকে ভালোবাসতেন। স্বপ্ন দেখতেন তাকে বিয়ে করবেন। কিন্তু গৃহযুদ্ধ তার জীবনকে বিধ্বস্ত করে দিয়েছে। শরণার্থী হয়ে জর্ডানে আসার পর তাকে জোর করে এক ৫০ বছর বয়স্ক সৌদি নাগরিকের কাছে বিয়ে দেয়া হয়। ঐ লোক ৩ হাজার ১০০ মার্কিন ডলারের বিনিময়ে তাকে গ্রহণ করে। কিন্তু বিয়েটি এক সপ্তাহও টেকেনি। এর কারণ হিসেবে কাজল বলেছেন, বিয়ের পর তার সাথে চাকরানীর মতো আচরণ করা হতো। ডিভোর্স পেয়ে তিনি নিজেকে এখন সুখী মনে করছেন।

কাজল বলেন, “আমি আমার স্বামীর সাথে আমানে থাকতাম। কিন্তু আমাদের বিয়েটি সুখের ছিল না। তিনি আমার সাথে চাকরানির মতো আচরণ করতো। আমি সেখানে একজন স্ত্রীর মর্যাদা পেতাম না। তিনি আমার সাথে খুব খারাপ আচরণ করতো। ডিভোর্স পেয়ে আমি খুবই খুশি।”

বিবিসিকে তিনি আরো বলেন, “আমি আমার পরিবারকে সাহায্য করতে চাই। কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমাকে কারও কাছে বিক্রি করে দেয়া হবে। আমি টাকার জন্যে আর কাউকে বিয়ে করতে চাই না। ভবিষ্যতে আমি আমার সমবয়সী কোন সিরীয় যুবককে বিয়ে করতে চাই।”

কাজলের মতো এরকম হাজারো কিশোরী এভাবে টাকার বিনিময়ে বিক্রি হয়ে যাচ্ছেন আরবের ধনাঢ্য লোকদের কাছে। জর্ডানে নিযুক্ত জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি অ্যান্ড্রু হারপার জানান, প্রায় ৫ লক্ষ সিরীয় শরণার্থী জর্ডানে এরকম মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

হারপার বলেন, “শরণার্থীদেরকে সহায়তা দেয়ার মতো পর্যাপ্ত অর্থ আমাদের হাতে নেই। আর তাই অমানবিকতার শিকার হচ্ছেন বেশি নারী ও শিশুরা। কোনও কাজের সুযোগ বা উপার্জন না থাকায় টিকে থাকার স্বার্থে তারা এরকম জোরপূর্বক বিয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছেন।” অ্যান্ড্রু হারপার একে ‘সারভাইভাল সেক্স’ বা ‘টিকে থাকার স্বার্থে যৌনকর্ম’ বলে অবহিত করেছেন।

আর এই ‘সারভাইভাল সেক্স’ ব্যবসা করে টিকে আছেন হাজারো সিরীয় শরণার্থী কিশোরী ও নারী। সৌদি আরবসহ আরবের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ধনাঢ্য ব্যক্তিরা হচ্ছেন এসব কিশোরীদের প্রধান ক্রেতা।

আর এই ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গড়ে উঠেছে আরেকটি গোষ্ঠী। তারা ঘটকালির ভূমিকা পালন করেন। এরকই একজন মধ্যস্থতাকারী উম মাজেদ। ২৮ বছর বয়সী এই সিরীয় নারী বিবিসিকে বলেন, “এখানে সাধারণত ৫০ থেকে ৮০ বছর বয়স্ক লোকেরা আসেন। তারা খুঁজেন সাদা চামড়া ও নীল বা সবুজ চোখওয়ালা মেয়েদের। আর এসব মেয়েদের বয়স হতে হবে অবশ্যই ১৬ বছরের নিচে।”

কাজলের মা জানান, জীবন এখানে বেশ কঠিন। আমরা তেমন কোনো সহযোগিতা পাচ্ছি না। আমাদের এক শিশুসন্তান আছে। তার প্রতিদিন প্রচুর দুধ দরকার। এছাড়া আমরা ভাড়াও দিতে পারছিলাম না। কাজেই পরিবারের অন্যদেরকে বাঁচাতে আমরা কাজলকে কুরবানি দিতে বাধ্য হয়েছি।

ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্রী ২২ বছর বয়সী আয়সা জানান, আমি আমানে অনেক কাজ খোঁজার চেষ্টা করেছি। কেউ কাজ দিতে চায় না। সবাই খালি বিয়ের প্রস্তাব দেয়।

এর ফলে দেখা যাচ্ছে যে, বাল্য বিবাহের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। শরণার্থী শিবিরে সিরিয়ার পরিবারগুলো তাদের সম্মান বাঁচাতেও এই বিয়েতে পিছুপা হচ্ছে না। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশিরভাগ বিয়ের লিগাল রেজিস্ট্রেশন হয় না। কাজেই টোটাল ব্যবস্থাকে পতিতাবৃত্তি বলে মানছেন অনেকেই। কিন্তু পরিস্থিতি এমন যে এ বিষয়ে সরাসরি কেউ কোন কথা বলছে না। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থাও নীরব থাকছে। নীরব থাকছে আমানের শিক্ষিত সমাজ।

মন্তব্য : সকল ধর্মেই সম্ভবত বলা আছে “শরনাগতকে রক্ষা কর” । যারা বিনা বাক্যব্যায়ে চৌদিকে মহপবিত্র মনে করেন তাদের জন্যই এই পোস্ট।

– See more at: http://www.dhakareport24.com/world/2013/10/04/4168#sthash.bxXO3JHk.P0yqxboS.dpuf

৭ thoughts on “সৌদির শেঠদের কাহিনী

  1. কিছু ইন্টারন্যাশনাল/বিশ্বস্ত
    কিছু ইন্টারন্যাশনাল/বিশ্বস্ত রেফারেন্স দেখাতে পারলে ভালো হতো। এই ব্যাপারে আমার আগ্রহ আছে,জানবার।

  2. কী হতো বাশার আল-আসাদ সরে
    কী হতো বাশার আল-আসাদ সরে গেলে! এর চেয়েও বেশি মূল্য দেওয়া লাগত কি! আমরা তো আপস করেই বেঁচে আছি।

  3. আপনি শুধু সিরিয়ার কথা
    আপনি শুধু সিরিয়ার কথা বললেন॥
    অনেক আরব দেশে এই প্রথা চালু আছে। মাত্র ১ সপ্তাহ বা ১ মাসের জন্য কিছু টাকা দিয়ে বিয়া করা যায় এবং সেটা বৈধ॥
    আমাদের দেশ থেকে যারা মধ্যপ্রাচ্যে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতে যায়, তাদের অবস্থা আরও খারাপ॥ আরব শেঠরা এমনকি তাদের পুত্র , মেয়ের জামাই পর্যন্ত প্রতিনিয়ত ধর্ষণ করে॥

  4. ইসলামের সবচাইতে গোপন
    ইসলামের সবচাইতে গোপন ব্যাপার—চুক্তি করা বিবাহ (মুতা বিবাহ) বা ইসলামী বেশ্যাবৃত্তি।
    সৌদী শেঠদের নিয়ে কিছু বলার সাহস আমার নাই … :-$ :-$ :-$

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *