সেই সব বালিকাদের প্রতি (একগুচ্ছ কবিতা)

বাসের হ্যান্ডেল ধরে ঝুলতে ঝুলতে
তোমায় দেখেছি ।
প্রেমিকা নাই বললাম ,
একবার প্রেয়সী বলতে পারি কি ?
সে অধিকার কি আমায় দিবে ?
তোমার বুকে হাত দিবোনা , হাতে হাত রাখবোনা
শুধু একবার মন খুলে প্রেয়সী ডাকবো ।



লোকাল বাসের সেই মেয়েটি

বাসের হ্যান্ডেল ধরে ঝুলতে ঝুলতে
তোমায় দেখেছি ।
প্রেমিকা নাই বললাম ,
একবার প্রেয়সী বলতে পারি কি ?
সে অধিকার কি আমায় দিবে ?
তোমার বুকে হাত দিবোনা , হাতে হাত রাখবোনা
শুধু একবার মন খুলে প্রেয়সী ডাকবো ।

তোমায় আড়চোখে দেখেছি কয়েকবার
চোখাচোখিও হয়তো হয়েছিল বার দুয়েক ।
তুমি হেসে হেসে কথা বলছিলে তোমার বন্ধুদের সঙ্গে
বাসের সিট থেকে দাঁড়িয়ে , উল্টো দিকে মুখ করে
যতক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলাম ।
ইশারায় বলতে চেয়েছিলে কি কিছু ?
সিট যখন ফাঁকা হয়েছিল , বসেছিলাম তোমার পিছনের সিটেই ।
কিছু বলোনি তো তখন !
নাকি ভান করেছিলে ?
এখনো কি মনে রেখেছো আমায় ? বালিকা
তোমার মিষ্টি হাসির কথা ভুলি নাই এখনো ।
সেদিনের কথা মনে পড়লে বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে ওঠে ।
বাস থেকে নামার সময়ও বারবার ফিরে দেখছিলাম তোমাকে ?
খেয়াল করেছিলে কি তখন ?

ডেমু ট্রেনের সেই বালিকার প্রতি

নতুন ট্রেন চালু হয়েছিল তখন
পার্বতীপুর থেকে লালমনিরহাট
দুই বন্ধু উঠেছিলাম কাউনিয়ার উদ্দেশ্যে
রংপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ।
সিট ফাঁকা ছিল কয়েকটি
দুইজন মিলে তিনজনের জায়গা দখল করেছিলাম ।
অনেকেই বসতে চেয়েছিল ফাঁকা সিট দেখে
বলেছিলাম , হবেনা , লোক আছে
তখনও জানিনা , কার জন্য এত আয়োজন ?
তোমার ছোট ভাই ট্রেনে ভ্রমণ করবে বলে
পুরো পরিবার এসেছিলে সেদিন ।
জায়গা ছিল না এতগুলো ,
তিনজনের জায়গায় চারজন বসেছিলাম গাদাগাদি করে
তোমার বোন ছিল পাশেই
দুই ভাইকে কোলে নিয়ে বসে পড়েছিলে ।
তোমাদের সমস্যা হচ্ছিল দেখে একজনকে কোলে নিয়েছিলাম ।
আমার দেখাদেখি অপরজনকে কোলে নিয়েছিল বন্ধুটি ।
একটুখানি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিলে হয়তো ।
মনের অজান্তেই ।

লালমনিরহাট যাবে শুনে কাউনিয়ায় আর নামিনি
বন্ধুটি ক্ষেপেছিল আমার উপর !
তখনও কিছু বলেনি ।
কথা হয়েছিল দীর্ঘক্ষণ
কোথায় পড়াশোনা ? বাসা কোথায় ?
পুরো পরিবারের খোঁজ নেওয়া হয়েছিল ।
তোমার মা হয়তো রেগে ছিল
পরের স্টেশনে ট্রেন ফাঁকা হওয়ামাত্রই অন্য সিটে নিয়ে গিয়েছিল তোমাকে
তবুও কথা থামেনি ,
ট্রেনের গতির মতই কথার গতি চলছিলো ;
তোমার বড় বোনের হাতের কোল্ড ড্রিংকসের স্বাদ মনে হয়
এখনো মুখে লেগে আছে !

লালমনিরহাটে যাওয়ার পর তোমরা নামতে চাইছিলে না
ওই ট্রেনেই ব্যাক হয়ে যেতে চেয়েছিলে !
তোমার মাকে অনেক বলার পর ট্রেন থেকে নেমেছিলে
তবু স্টেশন ছাড়া অন্য কোথাও যাওনি !
খারাপ লেগেছিল সেদিন ।
তবুও নাছোড়বান্দা ছিলাম
একসঙ্গে ঘুরবো লালমনিরহাট শহর ।

কিন্তু হয়নি
বন্ধুটি রাগ হয়েছিল প্রচন্ড
তার কাছে হার না মানা ছাড়া কোন উপায় ছিলোনা !
তারে আমি নিজের জীবনের চেয়ে প্রচন্ড ভালোবাসি ।
বলেছিল , শহরে গেলে নাকি তোমার চেয়ে আরো ভালো ভালো মেয়ে দেখাবে !
বলেছি , থাক , দরকার নেই
তুমি বন্ধু থাকলেই যথেষ্ট ।
তবুও ঘুরে ঘুরে দেখছিলাম তোমাকে
কিন্তু কিছুই করার ছিল না !
স্টেশন থেকে কিছুদূর আসার পর ট্রেন ছেড়ে দিয়েছিল !
দৌড়ে গিয়ে উঠবো তারও কোন উপায় ছিলোনা ,
দরজা ছিল অটো লক সিস্টেম !
দুঃসহ যন্ত্রণা ঘিরে ধরেছিল তখন ।

বালিকা , তুমি কি জানো , তোমার ছোট ভাই আমাকে কি বলে ডাকে ?
দুলাভাই !
বন্ধুটি মানা করেছিল । বলেছিল , ভাই বলতে ।
কিন্তু সে শোনেনি ।
হয়তো এখনো সে ট্রেনে কোন এক অপরিচিত দুলাভাইকে খুঁজে ফেরে !

১৫ thoughts on “সেই সব বালিকাদের প্রতি (একগুচ্ছ কবিতা)

    1. পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ।
      পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ । কিন্তু কোন লাইনটাতে খটকা লেগেছে সেটা বললে খুব উপকার হত ।

  1. পুরো বাস্তব অভিজ্ঞতা…
    পুরো বাস্তব অভিজ্ঞতা… :ভেংচি: :তালিয়া: :তালিয়া:

    মোটামুটি ভালোই হয়েছে… চালিয়ে যান ভাই… :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :ধইন্যাপাতা:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *