নবমামা

নব মামার ডান হাতে চারটা আঙ্গুল। ছোট বেলায় পটকার দোকানে কাজ করত। একদিন দুপুরে পটকা বানানোর সময় ফেটে গিয়ে তার তর্জনী টা উড়ে যায়। বছরে ২-৩ বার মামা বাড়িতে যাওয়া হত। দেখা হলেই কি সাগর কখন আইছিস বাব। মাকে বলত, ইতু জামাই আসে নাই।


নব মামার ডান হাতে চারটা আঙ্গুল। ছোট বেলায় পটকার দোকানে কাজ করত। একদিন দুপুরে পটকা বানানোর সময় ফেটে গিয়ে তার তর্জনী টা উড়ে যায়। বছরে ২-৩ বার মামা বাড়িতে যাওয়া হত। দেখা হলেই কি সাগর কখন আইছিস বাব। মাকে বলত, ইতু জামাই আসে নাই।

নব মামার তেল চিটচিটে লুঙ্গি, মাথায়ও তেলের আধিক্য। মামাদের বিশাল পরিবার। আমার পাঁচ মামার থেকে নব মামাকে আলাদা করতে পারার মত বয়স তখনও হয়নি। তবে নব মামার খেয়ালি আচরণে অবাক হতাম এই যেমন মাঝে মাঝে সে আমার দিদিমার পরিবারের কারো সাথে রান্না করে খাবে না। নিজে বাজার থেকে মাছ, সবজি কিনে এনে দিত এইটা রান্না করে দিলে খাবে। তাছাড়া বাইরে খাবে। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত নব মামা আমার মামাদের পরিবারের একজন হয়ে থাকার চেষ্টা করেছে। আমার দিদিমা মারা যাওয়ার সময় নাকি বলেছিল, ‘নব প্রীতির বিয়ে হয় নাই তুই আমার আরেক ছেলে তোর এই বোনটার বিয়ের আগে তুই এ বাড়ী ছেড়ে যাস না’। নব তার কথা রেখেছিল।

হাইস্কুলে যখন পড়ি মাকে জিজ্ঞাস করতাম মা নবমামার আসল বাড়ি কোথায়, তার কি নিজের বাবা-মা, ভাই বোন আর কেউ নাই, মামা বিয়ে করল না কেন। মা তখন বলত নব মামার জীবনের গল্প।

নব মামার আসল নাম নব দত্ত। গরীব ঘরের সন্তান ছোট বেলায় কাজ করতে গিয়ে হাতের একটা আঙ্গুল উড়ে যায়। দেশে যখন মুক্তিযুদ্ধ চলছে মামা তখন যুবক। সারা দেশের মানুষ বাস্তুহারা। গ্রামে গ্রামে খবর রটে গেছে মিলিটারিরা গ্রাম থেকে যুবতী মেয়েদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে। মামার বোনের এক ননদ ছিল নাম বাসন্তী। অবিবাহিত। মেয়ের আত্মীয় স্বজনরা বলল সময় খারাপ ছেলে যখন আছে নব’র সাথেই আমরা বাসন্তীর বিয়ে দেব। চারিদিকে যুদ্ধের ডামাডোল পালিয়ে পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা করছে মানুষ। বিপদ থেকে বাঁচার জন্য বাসন্তী কে শাঁখা সিদুর পড়িয়ে রাখত তার পরিবার। অনেকেই জানত নবর সাথে বিয়ে হয়ে গেছে বাসন্তীর।

নয় মাস দীর্ঘ যুদ্ধের পর দেশ স্বাধীন হয়। ধীরে ধীরে সবাই ঘরে ফেরে, শান্ত হয় সব কিছু। গরীব, অন্যের দোকানে কাজ করে, হাতে একটা আঙ্গুল নাই এমন কারো সাথে বাসন্তীর বিয়ে দিতে এখন আর রাজি হয়না বাসন্তীর বাবা-কাকারা। বোনের শ্বশুরবাড়ি এজন্য কিছু করেতও পারে না নব মামা।

রাগে, ক্ষোভে, দুঃখে আর নিজের কোন আত্মীয় স্বজনের কাছে ফিরে যাননি, পরিচয়ও দেননি কারো। আমার দিদিমা কান্নাকাটি করে বললেও জীবনে আর বিয়েও করেননি নব মামা।

২১ thoughts on “নবমামা

    1. ভাই লিখলাম নিজের মত করে হয়ে
      ভাই লিখলাম নিজের মত করে হয়ে গেল হুমায়ুন আহমেদের মত :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: । ভাল লাগার জন্য। :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ:

  1. চমৎকার লিখেছেন। তবে ডিটেইল
    চমৎকার লিখেছেন। তবে ডিটেইল আরেকটু বেশি দিলে বোধ হয় ভাল হত। কারণ, ব্লগপোস্ট এত ছোট হলে কেমন যেন খালি খালি লাগে… 🙂

    1. বড় পোস্ট পড়তে গেলে আমি নিজে
      বড় পোস্ট পড়তে গেলে আমি নিজে অধৈর্য হয়ে যায় তাই ভাবলাম সবাই আবার বিরক্ত না হয়। যাইহোক পরামর্শের জন্য ধন্যবাদ। :গোলাপ: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ:

  2. অবাক কাহিনী। ভালো লাগলো।
    অবাক কাহিনী। ভালো লাগলো। গল্পের প্লটের জন্য না, লেখনীর জন্য। আরেকটু ধর্য্য ধরে লিখেন। লেখা বড় বা ছোট সেটা কিন্তু কোন ব্যাপার না। কি লিখলেন, কেমন লিখলেন সেটাই আসল।

    1. রায়ান ভাই এমনি এমনি লিখে
      :খাইছে: :খাইছে: রায়ান ভাই এমনি এমনি লিখে ফেলছি :লইজ্জালাগে: । গল্প বিষয়ে আপনি এই ব্লগের কঠিনওতম বিশ্লেষক। পরামর্শের জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ। :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ:

      1. হাল্কা PUMP মারলেন বলে মনে
        হাল্কা PUMP মারলেন বলে মনে হল। :বিষয়ডাকী: ।
        নাহ! আপনার উন্নতি অবধারিত! :থাম্বসআপ:

  3. চমৎকার লেগেছে। তবে শেষে
    চমৎকার লেগেছে। :তালিয়া: :তালিয়া: তবে শেষে অতৃপ্তি নিয়ে ফিরতে হল… :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :ভাঙামন: :ভাঙামন:

    গোলাপ নেন কিরন ভাই… :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ:

    1. ডন সাহেব, সামনে ঈদ আসছে। ভালো
      ডন সাহেব, সামনে ঈদ আসছে। ভালো কিছু মুভির রিভিউ নিয়ে মাঠে নামেন। দুই ঈদের মাঝে খুব ব্যস্ততা গেছে। একটু রিফ্রসমেন্ট দরকার।

  4. প্লটটা খুব সুন্দর| লেখা বেশ
    প্লটটা খুব সুন্দর| লেখা বেশ ঝরঝরে| কিন্তু একটু বেশি সরল রৈখিক হয়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে| আরো একটু বর্ণনাময় ও ঘটনাময় হলে তৃপ্তি আরো বেশি হত| আরেকটা কথা, লেখা হুমায়ুন আহমেদের মত হয় নি, আপনার লেখা আপনার মতই হয়েছে| শুভেচ্ছা নিবেন| আরো লেখা পড়ার অপেক্ষায় রইলাম|

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *