ভালবাসার নীলপ্রহর (১ম পর্ব)

-রিয়া…এই রিয়া…
অনেকক্ষন ধরে রিয়ার নাম ধরে ডাকছেন শরিফুল হক। অর্ধ প্যারালাইসড হয়ে বিছানায় পড়ে আছেন। এক সড়ক দূর্ঘটনায় স্ত্রী কে হারিয়েছেন, আহত হয়ে নিজেও প্যারালাইসড। পায়ের নিচের অংশ সাড়া দেয় না, হুইল চেয়ারই একমাত্র সম্বল। ঘরের সব কাজ মেয়ে রিয়াই করে।মেয়ের উপর জীবন সম্পূর্ণই নির্ভরশীল হয়ে গেছে।

তিনি আবার ডাকলেন।এবার গলার স্বরটা আর একটু উচু করে বললেন, বলি ঘরে আছিস নাকি মরে গেছিস হ্যাঁ!এতক্ষন ধরে ডাকছি কোন সারাশব্দ নাই কেন?



-রিয়া…এই রিয়া…
অনেকক্ষন ধরে রিয়ার নাম ধরে ডাকছেন শরিফুল হক। অর্ধ প্যারালাইসড হয়ে বিছানায় পড়ে আছেন। এক সড়ক দূর্ঘটনায় স্ত্রী কে হারিয়েছেন, আহত হয়ে নিজেও প্যারালাইসড। পায়ের নিচের অংশ সাড়া দেয় না, হুইল চেয়ারই একমাত্র সম্বল। ঘরের সব কাজ মেয়ে রিয়াই করে।মেয়ের উপর জীবন সম্পূর্ণই নির্ভরশীল হয়ে গেছে।

তিনি আবার ডাকলেন।এবার গলার স্বরটা আর একটু উচু করে বললেন, বলি ঘরে আছিস নাকি মরে গেছিস হ্যাঁ!এতক্ষন ধরে ডাকছি কোন সারাশব্দ নাই কেন?

-কি বাবা ডাকছো?
-না ডাকছিনা।কান নাই তোর?
-বাবা কাজ করছিলাম।
-কাজ করার সময় কান কি হাতে নিয়ে রাখোস,এতক্ষন ধরে ডাকছি কানে যায় না?
-ভাতের মাড় করছিলাম।হঠাত
ঐটা রেখে কিভাবে আসবো বলো?
-বাহ মুখের উপর তো ভাল তর্ক করত
-তর্ক কোথায় করলাম?
-চুপ কর বেয়াদব আবার মুখে মুখে কথা
বাবার ধমকে চুপ করে আছে রিয়া,
“কয়টা বাজে খেয়াল আছে?”
-সাড়ে ১১টা
-ফাহিমকে স্কুল
থেকে আনতি যাবি না নাকি এটাও ভুলে গেছোস?
-যাবো তো।রিক্সা দিয়ে গেলে মাএ দশ মিনিট লাগবে।
-উইহ এতটুকু পথ হাটা যায় না?আবার
রিক্সা লাগবে কেন,টাকা কি গাঙের
জলে ভাইসা আসে।এখন থেকে হেঁটে য
হেঁটে আসবি।এতো আরামের দরকার নাই।

ঝাউতলা সরকারী প্রাইমারি স্কুলের
মিনিট ধরে দাড়িয়ে আছে রিয়া। আজ
ফাহিম দেরি করছে। দাঁড়িয়ে থাকা এতোটা সমস্যার নয়।সমস্যা আশেপাশের ছেছড়া ছেলেদের ক্ষুদার্থ দৃষ্টি থেকে নিজেকে আড়াল করে রাখা।
এজন্যই সে রিক্সা দিয়ে ঠিক স্কুল ছুটির
আগে আসে যাতে এসব ছেলেদের চোঁখে না পড়ে।
বাবাকে তো আর একথা বলা যায় না।
বললে উল্টো হাজার টা কথা শুনতে হবে।

-“আরে রিয়া এখানে কি কর?”হঠাত পিছন থেকে ডাক দিলো মামুন ভাই।উনি লাকার বড় ভাই। বাবা ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী রাজনীতিবীদ। উনার ক্ষমতার ব্যবহার করে চলেন।
-কি করি মনে হচ্ছে?
-কিছুই তো করছো না
-তাহলে প্রশ্ন করেন কেন?
-ফাহিমের জন্য ওয়েট করছো?
-হ্যা
-চাচার শরীর এখন কেমন?
-আগের মত
-ও আচ্ছা।কিছু খাবা?আইসক্রিম, ঝালমুড়ি?
-না
-কি গরম পড়ছে।আইসক্রিম খাও
-আমি খাব না।আপনার খেতে ইচ্ছে হলে খান।
-না থাক তোমাকে রেখে একা কি করে
-আপনাকে আমি ধরে রাখি নি।
-তাও সামাজিকতা বলতে একটা ব্যাপার আছে না।
-আপনার এখানে কোন কাজ আছে?
-তেমন কোন কাজ নেই।এদিকেই যাচ্ছ
তোমাকে দেখে থামলাম।ভাবলাম এক
করে আসি।
-আজাইরা ঘোরাঘুরি করছেন।কাজকর্
করতে পারেন না?
-এই বয়সে তো একটু আধটু ঘোরা লাগে।শরীর ঠিকঠাক রাখতে ঘুরতে হয়।
-চুপ থাকেন।বাবার টাকায় সারাদিন
উড়ানতো তাই তো বুঝেন না অভাব কি।
-বিয়েটা করি তারপর নাহয় কাজ-বাজ করবো।কি বলো?
-এই প্ল্যান থাকলে বউএর ঝাটার বাড়ি একটাও মাটিতে পড়বে না।
-হাহা তুমি ভালো ফান করো
-ফান না।বাস্তবতা বললাম।
-তোমার কখনো কোন কাজে সাহায্য
লাগলে আমাকে নিঃশঙ্কচে বলবা ঠিক আছে…তুমি মেয়েটা ভাল,চাচা চিকিত্‍সার জন্য কোন হেল্প লাগলেও বলবা।কোন ভয় নেই!
-ঠিক আছে বলবো।এখোন বিদেয় হোন
-আচ্ছা গেলাম।ভালো থাকো।

মামুন চোঁখে সানগ্লাসটা লাগিয়ে হাঁটতে হাঁটতে চলে যাচ্চে।ছেলেটাকে একটু ভালো লাগে না রিয়ার
এই এলাকা সেই এলাকা টো টো করে ঘুরে বেড়ায় সাথে কিছু সাঙ্গপাঙ্গ ও আছে, এলাকাতে দাদাগিরি করে আর বাবার টাকা উড়ায়। কোন
এক বিশেষ কারণে রিয়ার প্রতি সে দুর্বল। মেয়েদের এক অদ্ভুত গুন হচ্ছে, তাদের প্রতি কোন ছেলে দুর্বলতা তারা সহজেই বুঝতে পারে। সৃষ্টিকর্তা মেয়েদের এই ক্ষমতা দিয়ে দিছেন। এরকম
দুর্বলতা রিয়ার ভালো লাগে না। ছন্নছাড়া,ভবঘুরেদের
দুর্বলতা আরও প্রকট রকমের শক্তিশালী হয়।
ছেছড়া ছেলেগুলো এখনো তাকিয়ে আছে।
অস্বস্তির পরিমানও প্রতিমুহূর্তে বাড়ছে।
ইচ্ছা করছে দৌড়ে গিয়ে ওদের গালে একটা কষে চড় মেরে আসতে। কিন্তু রিয়ার সাহস খুব কম।
মেয়েরা অনেক কিছু করতে চাইলেও করতে পারেনা। কিছু মেয়েদের
অন্যের উপর নির্ভর করত হয়।
রিয়া ঐরকম একজন নির্ভরশীল মেয়ে। মনের সব চাওয়া তার পূরণ হয় না।

২ thoughts on “ভালবাসার নীলপ্রহর (১ম পর্ব)

Leave a Reply to নাহিদ রুদ্রনীল Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *