বাংলাদেশ রুখে দাঁড়াও, জাতীয় কনভেনশন : সদলবলে যোগ দিন ( বিশেষ পোস্ট )


” বাংলাদেশ রুখে দাঁড়াও ”
জাতীয় কনভেনশন
আগামীকাল ৫ অক্টোবর, সকাল দশটা
সোহরাওয়ার্দি উদ্যান, ঢাকা ।

রেজিস্ট্রেশন করতে লগ ইন করুণ
http://www.rdbd.net/registration/create

৫ দফা দাবী সম্বলিত ঘোষণা নিচে দেওয়া হলো –

প্রিয় দেশবাসী,
আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি আজ গভীর সংকটে, মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী বাংলাদেশ পরাজিত শক্তি দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে।



” বাংলাদেশ রুখে দাঁড়াও ”
জাতীয় কনভেনশন
আগামীকাল ৫ অক্টোবর, সকাল দশটা
সোহরাওয়ার্দি উদ্যান, ঢাকা ।

রেজিস্ট্রেশন করতে লগ ইন করুণ
http://www.rdbd.net/registration/create

৫ দফা দাবী সম্বলিত ঘোষণা নিচে দেওয়া হলো –

প্রিয় দেশবাসী,
আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি আজ গভীর সংকটে, মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী বাংলাদেশ পরাজিত শক্তি দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে।

যুদ্ধাপরাধের বিচারের রায়কে কেন্দ্র করে একাত্তরের মতো জামাত-শিবির ও অন্যান্য ধর্মান্ধ শক্তির লক্ষ্যবস্ত্ততে পরিণত হয়েছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তি, নারীসমাজ ও মুক্তিযুদ্ধের ভাবাদর্শ। জামাত-শিবিরচক্র সারাদেশে সন্ত্রাসী নাশকতামূলক কার্যকলাপ চালাচ্ছে। প্রায় একশত মন্দির-বিগ্রহ ও শহীদ মিনার ভাংচুর এবং জাতীয় পতাকা ছিন্নবিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। তারা রেললাইন উপড়ে ফেলেছে, যাতায়াত ব্যবস্থা বিপর্যস্ত করে ফেলেছে। ধর্মের নামে বিভ্রান্তি চালানোর জন্য মসজিদসমূহকে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, শিক্ষা ব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য তথা জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। চরম উৎকন্ঠা ও অনিশ্চয়তায় কালাতিপাত করছে ষোল কোটি মানুষ। অথচ এই অপশক্তির সাথে জোটবদ্ধভাবে আন্দোলন করছে প্রধান বিরোধীদল। সম্প্রতি ধর্মান্ধ উগ্রবাদীরা দেশকে মধ্যযুগে প্রত্যাবর্তনের দাবী উত্থাপন করেছে। তারা নারীর অধিকার ধূলিস্যাৎ করতে এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামোর মুক্তচিন্তার পথকে রুদ্ধ করতে উদ্যত হয়েছে।

এই অপতৎপরতার বিরুদ্ধে শাহবাগ ও দেশের সর্বত্র গণজাগরণ মঞ্চের তরুণেরা মুক্তিযুদ্ধের ভাবাদর্শকে শান্তিপূর্ণ পথে সমুন্নত রাখছে। তার সাথে যুক্ত হয়েছে নানা ধারার নাগরিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ। আজকের এই জাতীয় সম্মেলন এ ধরনের সকল উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছে।

অনুরূপ পরিস্থিতিতে আমরা নিম্নবর্ণিত পাঁচ দফা দাবীতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি।
১ . জামাত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ কর :

আমরা মনে করি বর্তমানে বিচারাধীন জামায়াতে ইসলামের নিবন্ধন বাতিলের পক্ষে রায় হলে, তারা নির্বাচনের জন্য অযোগ্য ঘোষিত হবে কিন্তু তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধ হবে না। আমরা মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী, কিন্তু জামাত-শিবির তার কার্যকলাপের মধ্য দিয়ে প্রমাণ করেছে যে তারা ধর্মের অপব্যবহারকারী, সংবিধানবিরোধী সন্ত্রাসী সংগঠন। সুতরাং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯ এর অধীনে তাদের অবিলম্বে নিষিদ্ধ করা উচিত।

২ . যুদ্ধাপরাধের বিচার ত্বরান্বিত কর :

আমরা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, বিচারহীনতার সংস্কৃতি নিরসন করার জন্য ও মুক্তিযুদ্ধের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার জন্য বর্তমানে বিচারাধীন সকল শীর্ষস্থানীয় যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকাজ ত্বরান্বিত করে বর্তমান সরকারের মেয়াদকালে রায় ঘোষণা ও রায় কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট ট্রাইবুন্যালকে অনুরোধ জানাচ্ছি।

৩ . সাম্প্রদায়িক সহিংসতা প্রতিহত কর, আক্রান্তদের পাশে দাড়াও :

বাংলাদেশ আবহমানকাল থেকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। অথচ, গত কয়েক মাসে সংখ্যালঘু নির্যাতনের সময় অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রশাসন নিষ্ক্রিয় রয়েছে, পাশে দাড়ায়নি জনপ্রতিনিধিরা। নিরাপত্তাহীনতায় আতংকিত রয়েছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, তাদের সংখ্যা আশংকাজনকভাবে কমে এসেছে। মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতার মূল উৎপাটন করতে হবে। তাদের নিরাপত্তা বিধান করতে হবে, সকল মন্দির-বিগ্রহ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। আমরা মনে করি, এ কাজ কেবল সরকারের নয়, সমগ্র সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। তদুপরি এজন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশের ধর্মীয় শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ণ এবং এক্ষেত্রে বাঙালি সংস্কৃতির প্রসার অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

৪ . মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে এগিয়ে নাও, মুক্তচিন্তার পথ খোলা রাখ :

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাহাত্তরের সংবিধানের মূলনীতিতে প্রতিফলিত হয়েছে। এই ভাবাদর্শকে সমাজে প্রতিষ্ঠা ছাড়া আধুনিক বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়। আমরা মনে করি সর্বজনের ধর্মানূভুতিকে রক্ষা করুন, কিন্তু মুক্তচিন্তার পথ রুদ্ধ করবেন না।

৫ . তালেবানি রাষ্ট্র বানানোর পাঁয়তার প্রতিহত কর, নারীর অধিকার সমুন্নত রাখ

সম্প্রতি ধর্মান্ধ শক্তি তাদের ১৩ দফা দাবীর মাধ্যমে দেশকে মধ্যযুগে প্রত্যাবর্তন করাতে উদ্যত হয়েছে। এক্ষেত্রে আমরা এ বিষয়ে বিবিসিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎকার ও আইন মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যাকে স্বাগত জানাই। বাংলাদেশের বিষ্ময়কর অর্জনের কেন্দ্রে রয়েছে নারী-পুরুষের সমবেত উদ্যোগ। এক্ষেত্রে নারীশিক্ষা ও তাদের কর্মজীবন বিপুল ভূমিকা রয়েছে। সকল রক্ষণশীলতাকে অতিক্রম করে নারীর ক্ষমতায়ন ও সমঅধিকার মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নের আধুনিক যুক্তিবাদী বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গড়ার রক্ষাকবচ। সুতরাং ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে বাংলাদেশকে তালেবানি রাষ্ট্র বানানোর সকল পাঁয়তারা রুখে দাঁড়াতে হবে। এই অপশক্তিকে রাজনৈতিক কৌশলের কারণে তুষ্ট কিংবা লালন করার সকল প্রয়াস রুখে দাঁড়াতে হবে।

আমরা মনে করি, দেশের এই সংকটকালে প্রয়োজন একাত্তরের মতো মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সর্বসাধারণের জাতীয় ঐক্য যা এই অপশক্তিকে রুখে দাঁড়াবে। রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ।

২৯ thoughts on “বাংলাদেশ রুখে দাঁড়াও, জাতীয় কনভেনশন : সদলবলে যোগ দিন ( বিশেষ পোস্ট )

    1. আপনাকে কে বললো শুধু ঢাকায় এই
      আপনাকে কে বললো শুধু ঢাকায় এই প্রোগ্রাম হয়েছে । আপনার চট্টগ্রামে ও যে এই গ্রুপের মতবিনিময় হয়েছে সেই তথ্য সম্ভবত আপনার কাছে নেই । আর এটা কোন স্বপ্ন নয়, রুঢ় বাস্তবতা । ইচ্ছে হলে অন লাইন, অফ লাইনে ক্যাম্পেইন করুণ । সেটা অনেক কাজে আসবে ।

      1. চট্টগ্রামে হলেও সম্ভবত তা
        চট্টগ্রামে হলেও সম্ভবত তা প্রচারনায় আসে নি। আর এই সব উগ্রপন্থীদের বিরুদ্ধে অনেক আগে থেকেই কাজ করতেছি গোপনে।
        বিশেষ করে, এই সব কাজ গ্রামে করা উচিত।

    1. ভাই হতেই পারে,
      আজ ছিল ”

      ভাই হতেই পারে,
      আজ ছিল ” বাংলাদেশ রুখে দাঁড়াও ” এর জাতীয় কনভেনশন । খুলনা বিভাগ থেকেও অনেকে এসেছিলো । খুলনাতে ইতোমধ্যে সমাবেশ হয়ে গেছে । পরবর্তীতে জানানো হবে । আমার ফেইস বুকে খোঁজ নিতে পারেন । আর আপনার বাড়ি কি খুলনায় ? আমি খালিশপুরে বড় হয়েছি ।

  1. ঢাকার থেকে দেশের অন্যান্য
    ঢাকার থেকে দেশের অন্যান্য জেলার মানুষগুলোকে সচেতন করা বেশি জরুরি। কেননা ঐখানে জ্ঞানের অভাব,মানুষের সচেতনতা দুটোর প্রচুর অভাব আছে।

  2. খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা পোস্ট
    খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা পোস্ট দিয়েছেন রাহাত ভাই। ইস্টিশন মাস্টারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যদি সম্ভব হয় তাহলে পোস্টটা স্টিকি করার অনুরোধ জানাচ্ছি। :bow: :bow: :bow:

      1. ব্রহ্মপুত্র,
        আপনার হাসিটি

        ব্রহ্মপুত্র,
        আপনার হাসিটি সাম্প্রদায়িক – মৌলবাদী চক্রের মনে হচ্ছে !!!
        সেই অর্থে জামাত – শিবিরের ।
        কিরন শেখর পোস্টটি স্টিকি করতে বলায় আপনার হাসি পাচ্ছে । পোস্টটি যেহেতু সাময়িক ( কাল ১০ টা – দুপুর ১ টার মধ্যে প্রোগ্রাম শেষ হবে ) এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তাই এটি স্টিকি হলে অনেকের নজরে আসতে পারতো । ইমো ‘র ব্যবহারে সতর্ক হবার জন্য আপনাকে অনুরোধ করছি । তা না হলে আপনার পক্ষ সম্পর্কে বিভ্রান্তি তৈরি হতেই পারে ।

          1. নিজেকে জানবো তার আগে আপনার
            নিজেকে জানবো তার আগে আপনার অবস্থান পরিষ্কার করুন …
            আমাকে মোটামুটি এই ব্লগের সবাই জানে এবং আমিও কিছুটা জানি আমার সম্পর্কে এবং আমার ফেইস বুক আইডি টাও দেওয়া আছে । যে কেউ ইচ্ছে করলেই আমার সম্পর্কে জেনে আসতে পারে । কিন্তু আপনার সম্পর্কে আমরা খুব কমই জানি । ছদ্ম নিক নিয়ে আছেন । প্রকাশ্যে আসুন …

          1. আমি ইস্টিশন মাস্টার কে সুযোগ
            আমি ইস্টিশন মাস্টার কে সুযোগ থাকলে সেই প্রেক্ষিতে বিনীত ভাবে অনুরোধ করেছি। একজন ব্লগার হিসাবে বিষয়ের গুরুত্ব অনুসারে এই অনুরোধ করতেই পারি।

          2. ‘ত্যাঁদড়ামি’কথাটা ভাল লাগে
            ‘ত্যাঁদড়ামি’কথাটা ভাল লাগে নাই…
            আপনার ভাল লাগবে না এমন কিছু আমিও বলতে পারি…
            সো ত্যাঁদড়ামি কইরেন না…

  3. কাল আসার ইচ্ছে ছিল খুব বেশি।
    কাল আসার ইচ্ছে ছিল খুব বেশি। কিন্তু, কাল কলেজে না গেলে অ্যাটেন্ডেন্স ৭৫% এর নিচে চলে যাবে। অ্যাটেন্ডেন্স ৭৫% এর নিচে থাকলে কলেজে পরীক্ষা দিতে দেয় না। তাই আসতে পারলাম না। 🙁 তবে মন থেকে সাথে আছি…

    1. ক্লান্ত কালবৈশাখি,
      হুম …

      ক্লান্ত কালবৈশাখি,
      হুম … আপনার আটেন্ডেন্স ১০০ % হোক । যাতে ৭৫ % এর টেনশনে না পড়তে হয় !!!

  4. কনভেনশন সফল হোক …
    কনভেনশন সফল হোক :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: … আব্বু অসুস্থ না থাকলে আসতাম :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: … কিন্তু না আসতে পারলেও অন্তর থেকে সাথে আছি… :bow: :bow: :bow:

Leave a Reply to নাগরিক চট্টগ্রাম Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *