হাঁস খেলা

হাঁস খেলা

বাঙালি সমাজে খেলা ধুলার মাধ্যমে আনন্দ লাভ করার বিভিন্ন পদ্ধতি সেই প্রাচীন কাল হতেই চলে আসছে। বাঙালিরা নিজেদের উদ্ভাবিত বিভিন্ন খেলার মাধ্যমে নিজেদের বিনোদনের ব্যবস্থা করে নিজেদের সংস্কৃতির বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে, এ কথা যেমন সত্য , তেমনি তাদের উদ্ভাবিত বিভিন্ন খেলা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে দেশের সীমানা ছেড়ে বিদেশেও পাড়ি জমিয়েছে।
প্রাচীন কাল হতে বাঙালিদের গ্রামীণ সমাজে একটি খেলা যা মানুষকে এর শুরু হতে আজও বিনোদন দান করে চলছে, আর এই খেলাটির নাম হাঁস খেলা।


হাঁস খেলা

বাঙালি সমাজে খেলা ধুলার মাধ্যমে আনন্দ লাভ করার বিভিন্ন পদ্ধতি সেই প্রাচীন কাল হতেই চলে আসছে। বাঙালিরা নিজেদের উদ্ভাবিত বিভিন্ন খেলার মাধ্যমে নিজেদের বিনোদনের ব্যবস্থা করে নিজেদের সংস্কৃতির বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে, এ কথা যেমন সত্য , তেমনি তাদের উদ্ভাবিত বিভিন্ন খেলা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে দেশের সীমানা ছেড়ে বিদেশেও পাড়ি জমিয়েছে।
প্রাচীন কাল হতে বাঙালিদের গ্রামীণ সমাজে একটি খেলা যা মানুষকে এর শুরু হতে আজও বিনোদন দান করে চলছে, আর এই খেলাটির নাম হাঁস খেলা।

@@ খেলার নিয়ম: খেলার নিয়মানুযায়ী একটি পুকুরের মাঝখানে পানিতে একটি/ একাধিক হাঁস ছেড়ে দেওয়া হবে। নির্বাচিত প্রতিযোগিরা সেই হাঁস যে আগে ধরবে সেই এর মালিক বা বিজয়ী।

@@ খেলার বর্ণনা: আয়জোগরা আগেই খেলার জন্য গ্রামে গ্রামে ঢোল দিয়ে দেয়(মাইকিং করে)। অমুক পুকুর বা দিঘীতে হাঁস খেলা অমুক দিন অনুষ্ঠিত হবে। এ জন্য প্রথমে বড় দেখে( আন্ত গ্রাম খেলা হলে)/ ছোট দেখে( এক গ্রামের মধ্যে খেলা হলে) পুকুর বা দিঘী নির্বাচন করা হয়। এর পর পুকুরের সমস্ত বাঁশ(আগালি বা গোঁজা, মাছ যেন কেও না মারতে পারে এই জন্য পুকুরে দেওয়া হয়) তুলে নেওয়া হয়। পাড়ে বা পানি ঘেঁষে কোন আগাছা জাতীয় উদ্ভিদ থাকলে তাও পরিষ্কার করা হয়। এভাবে পুকুরকে খেলার জন্য তৈরি করা হয়।
নির্দিষ্ট দিনে বিভিন্ন গ্রামের সেরা সাঁতারুরা বা যে কেও( তবে পুকুরের আয়তন অনুসারে কতজন প্রতিযোগী হবে টা নির্ধারণ করা হয়, অনেক সময় বেশি প্রতিযোগী হলে লটারির মাধ্যমে প্রতিযোগী নির্বাচন করা হয়) এই খেলায় অংশগ্রহণ করতে পারে। আয়জোক কমিটির নির্দিষ্ট লোক মাঝ পুকুরে হাঁস নিয়ে অপেক্ষা করে। প্রতিযোগীরা পুকুরের বিভিন্ন অংশে পজিশন নেয়। নির্দিষ্ট বাঁশির সাথে সাথে মাঝে থাকা লোকটির হাতে থাকা বাঁধা হাঁস গুলি ছেড়ে দেওয়ার মাধ্যমে খেলা শুরু হয়। এর পর প্রতিযোগীরা হাঁস ধরার জন্য হাঁসের দিকে ধাবিত হয়। কেও ডূব সাতার দিয়ে হাঁসের কাছে পৌছতে চায়, কেও বা সরাসরি পৌছতে চায়। এভাবে যার ভাগ্য ভাল তার হাতে ধরা পড়ে হাঁপিয়ে যাওয়া হাঁস। আর সেই হয় বিজয়ী বা হাঁসের মালিক।
@@ সমাগমঃহাঁসের এ খেলা দেখতে শত শত মানুষ এসে ভিড় জমায় পুকুরের চারপাশে। কি নারী, কি পুরুষ—— সকলে উপস্থিত হয় মজা নিতে। একটু বিনোদনের আসায় সকলে আসে এই খেলা দেখতে।

১ thought on “হাঁস খেলা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *