¤ রাত্রি,ঘুম,স্বপ্ন পঙ্কতিমালা ¤

(১)
রাতের হাত ধরে পৃথিবীতে
মৃত্যু নেমে আসে,
কেউ মৃত্যুতে সুখ খুঁজে পায়
আর কেউ দুঃস্বপ্নে ঘেমে নেয়ে উঠে।
(২)
চোখজুড়ে ঘুম এসে ভিড় জমায়
কারো ঘুম পায়,কেউবা ঘুমায় –
নিশ্চিন্ত তুলোবালিশে স্বপ্ন খুঁজে পায়,
কেউ কেউ ঘুমবালিশ খুঁজে বেড়ায়।



[উত্‍সর্গঃ নাভিদ কায়সার রায়ান]

(১)
রাতের হাত ধরে পৃথিবীতে
মৃত্যু নেমে আসে,
কেউ মৃত্যুতে সুখ খুঁজে পায়
আর কেউ দুঃস্বপ্নে ঘেমে নেয়ে উঠে।
(২)
চোখজুড়ে ঘুম এসে ভিড় জমায়
কারো ঘুম পায়,কেউবা ঘুমায় –
নিশ্চিন্ত তুলোবালিশে স্বপ্ন খুঁজে পায়,
কেউ কেউ ঘুমবালিশ খুঁজে বেড়ায়।
(৩)
প্রেমিক-প্রেমিকা রাতভর থাকে মুঠোফোনে
কারো কারো চোখ থাকে কম্পিউটারে,
ডুবে যায় তাদের প্রেম-পৃথিবীতে।
(৪)
একদল দম্পতি ঘুম কামাই দেয়
আদিম জৈবিক সুখে নিজেদের পুড়ায়।
(৫)
একদল মানুষ নিজেদের খুঁজে নেয় বইয়ের পাতায়
লোমহর্ষক জীবন-জ্ঞান আহরণে ডুবে যায়।
(৬)
কবি ব্যস্ত থাকে কবিতার খাতায়
মেতে উঠে শব্দজালের খেলায়
কেঁপে কেঁপে উঠে শিল্প-প্রসবের উন্মাদনায়।
(৭)
কারো কারো দেহ ব্যাবচ্ছেদিত হয় পেটের জ্বালায়
শোরগোলে পূর্ণ হয় গণিকালয়
অথবা নির্জন রাস্তায় কেউ দেহ বিকায়,
রাতের হাত ধরে ঘুম নয়
পিশাচ মেতে উঠে ছলকলায়।
(৮)
কিছু কীট রাতের আঁধারে কুড়ে কুড়ে খায়
সমাজ,পৃথিবী;সব নর্দমার জলে ভেসে যায়।
(৯)
কেউ স্বপ্নে ঘুরে আসে প্যারিস
কেউ যায় আমাদের দারুচিনি দ্বীপ
আর কেউ পেটপুড়ে খায় স্বপ্ন-রুটি-ভাত।
(১০)
রাত আসে রাত যায়
স্বপ্ন এসে চলে যায়
তবু ঘুম পায়
মানুষ ঘুমায়।

[পুনশ্চঃ নাভিদ ভাই,আপনি ঘুম নিয়ে একটা কবিতা লিখতে বলেছিলেন।কবিতা লিখতে পারিনি।লিখতে গিয়ে এই পঙ্কতিগুলো মাথায় এলো।রাত্রি,ঘুম,স্বপ্ন এসব নিয়ে পঙ্কতিমালা।তবু তো একটু ঘুম ঘুম ব্যাপার আছে।]

১৫ thoughts on “¤ রাত্রি,ঘুম,স্বপ্ন পঙ্কতিমালা ¤

  1. আমি কারো কবিতা পড়ে কখনও মন্দ
    আমি কারো কবিতা পড়ে কখনও মন্দ বলনি কিংবা তাকে উপদেশও দেই নি।
    কারণ, আমার কাছে মনে হয় প্রত্যেকটা কবিতা এক একটি সৃষ্টি।
    কাজেই সৃষ্টিতে ভুল হতে পারে নাহ।
    আপনার কবিতা পড়ে অনেক কিছু অনুভব করলাম।
    আপনাকে ধন্যবাদ আমাকে সুন্দর একটা অনুভব দেবার জন্য।

  2. কতদিছু ভাই , বরাবরের মতই
    কতদিছু ভাই , বরাবরের মতই ভাল্লাগছে। :থাম্বসআপ:

    আপনার নামটা অনেক বড়। এইটাকে সংক্ষিপ্ত করে নিলে হয় “কতোদিছু”।

  3. ১) একটু মন্তব্য করার জন্য এই
    ১) একটু মন্তব্য করার জন্য এই চারটা লাইন যে কতবার পড়া লাগলো!
    “কেউ মৃত্যুতে সুখ খুঁজে পায়” = কেউ মৃত্যুতে সুখ খুঁজে পাবে কেন? জীবন যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেল বলে? এখানে মৃত্যু কি আসল “মৃত্যু” নাকি “ঘুম” বোঝাতে চেয়েছেন কিনা বোঝা গেল না। কারণ পরের লাইনে বলেছেন, “আর কেউ দুঃস্বপ্নে ঘেমে নেয়ে উঠে। ঘুম তো সাময়িক – সুখও সেক্ষেত্রে সাময়িকই হবে। সাময়িক সুখের সম্ভবত আরেকটা নাম আছে। এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না। সুখ অনেক গভীর শব্দ।
    একজন কবি হয়তো বাস্তবজীবনে ব্যর্থ কিন্তু সে কবিতা লেখার সুখ অনুভব করতে পারে। “কবিতা লেখার আনন্দ” আর “কবিতা লেখার সুখ” কথাটা কি এক হল?
    বেশী গ্যাঁজায় ফেললাম মনে হয়।
    ২) দারুণ। ঘুমবালিশ শব্দটা ভালো লাগলো খুব। আমিও আজকাল দুপুরে খাওয়ার পর ঘুম বালিশে ঘুমাই। আর শুক্রবার ঘুমাই তুলোবালিশে।
    ৫) ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় সারারাতই জেগে থাকতাম আর সারাদিন ঘুমাতাম। আজকাল বারোটা একটার পর আর জেগেই থাকতে পারি না। বই পড়ারও সময় পাই না। দুই লাইনে অনেক কথা বলে ফেলেছেন। এজন্যই কবিতা ভালো লাগে।
    ৬) এই লাইনগুলো অমিত লাবণ্যর একটা কবিতায়ও পেয়েছিলাম। কবি হওয়ার কিছু যন্ত্রণা আছে। একটা “উপযুক্ত শব্দে”র জন্য একজন কবিকে যে মানসিক পরিশ্রম করতে হয় সেটা বোঝার ক্ষমতা অনেকেরই নাই।

    নন্দন ভাই! চমৎকার লিখেছেন। আপনার কাছে আমি কৃতজ্ঞ।

    রাকিব ভাই আমার মনের মতো একটা কথা বলেছেন–

    “আমি কারো কবিতা পড়ে কখনও মন্দ বলনি কিংবা তাকে উপদেশও দেই নি।
    কারণ, আমার কাছে মনে হয় প্রত্যেকটা কবিতা এক একটি সৃষ্টি।
    কাজেই সৃষ্টিতে ভুল হতে পারে নাহ।
    আপনার কবিতা পড়ে অনেক কিছু অনুভব করলাম।
    আপনাকে ধন্যবাদ আমাকে সুন্দর একটা অনুভব দেবার জন্য।”

    আমারও একই মত। অভিনন্দন আপনাকে।
    আর একটা অনুরোধ! দোয়া করে আমাকে উৎসর্গ করে লেখাটা মুছে দেবেন। আমি ব্যাপারটা নিয়ে কিঞ্চিৎ শরমিন্দার মধ্যে আছি।

    :লইজ্জালাগে:

  4. ভাই সুন্দর মন্তব্যের জন্য
    ভাই সুন্দর মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
    যে ‘মৃত্যু’ নিয়ে আপনি কথা বললেন সেইটা আসলে ঘুম বোঝাতে চেয়েছি।উপমাটা এখানে ব্যবহার করেছি কারণ আমরা ইচ্ছা করলে ঘুমিয়ে কিছুক্ষণের জন্য হলেও পৃথিবীর মানুষের থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারি।নিজেদের পৃথিবীতে চলে যেতে পারি।
    যাই হোক।উত্‍সর্গের ব্যাপারটা আমার স্বাধীন ব্যাপার ভাই।আপনার কথা জন্যই আমি এই কবিতা লিখেছি।ভেবেছি বিষয়টা নিয়ে।আপনাকে ধন্যবাদ এজন্য।আর..
    দুঃখিত উত্‍সর্গিত জিনিস ফেরতযোগ্য নহে!!

      1. আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ নাভিদ
        আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ নাভিদ ভাই।
        এইরকম মাঝেমাঝে ২/৪টা আইডিয়া দিয়েন তো!!! আমার মাথায় জীবন আর প্রেম ছাড়া কবিতা আসতেই চায় না।বুঝেন অবস্থা!!!

        1. আরে সর্বনাশ! আপনি তো একেবারে
          আরে সর্বনাশ! আপনি তো একেবারে জায়গামত এসেছেন!
          “আলো আর অন্ধকার” নিয়ে একটা কবিতা লিখেন। আলো ছাড়া অন্ধকার নাই। আবার আঁধার ছাড়া আলোর কোন গুরুত্ব নাই। একে অন্যকে ছাড়া বাঁচতে পারে না। কিন্তু একজন যেখানে আছে সেখানে আরেকজন থাকতে পারে না। কি অদ্ভুত! দিন আর রাত, আলো আর আধারির খেলা। চোখ বন্ধ করেও অন্ধকারে আমরা যে আলো দেখতে পাই, সেই আলোর রহস্য কি?

          উফ! আবারো বেশী গ্যাঁজায় ফেললাম।

          আপনার সাথে ওল্ড টেস্টামেন্টের কয়টা লাইন শেয়ার করছি। ব্যাপারটা অন্যভাবে না নিলে খুশী হবো। এই লাইনগুলো আমার খুব প্রিয়। এখানে আলো আর আঁধারের জন্মের কথা বলা হয়েছে।

          And God said, Let there be light: and there was
          light.
          And God saw the light, that [it was] good:
          And God divided the light from the darkness.
          And God called the light Day, and the darkness he called Night.
          And the evening and the morning were the first day.

          কেমন ছিল সেই প্রথম দিন অথবা সেই রাত্রিটা?

          আমার প্রিয় কবি খলিল জিবরানের একটা কবিতার কয়টা লাইনও শেয়ার করলাম–

          Your hearts know in silence the secrets of the days and the nights.
          But your ears thirst for the sound of the heart’s knowledge.
          You would know in words that which you have always known in thought.
          You would touch with your fingers the naked body of the dreams.

          খুবই গভীর কথা।

          You would know in words, that which you have always known in thought.

          ভালো থাকবেন।

          1. নাভিদ ভাই,
            ধন্যবাদ।আলো আঁধারী

            নাভিদ ভাই,
            ধন্যবাদ।আলো আঁধারী নিয়ে ভাবনার সুতা ছেড়ে দিলাম।অতি সত্ত্বর লিখার চেষ্টা করবো।
            আর আপনার দেয়া লাইনগুলো পড়েও ভালো লাগলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *