সুবিধা বঞ্চিতের দুঃস্বপ্নে গড়া আমার কিছু বাস্তব স্বপ্নের উপাখ্যান !!!!!

খুব আবেগ দিয়ে হয়ত সুকান্ত লিখেছিলেন তার ছাড়পত্র…

এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান;
জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত আর ধ্বংসস্তূপ-পিঠে
চলে যেতে হবে আমাদের।
চলে যাব- তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ
প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল,
এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য ক’রে যাব আমি
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।

অনেক ঘটা করে এই কবিতাটি ছাপা হয় বইয়ের পাতায়, অনেকে আবার আবেগের শীর্ষে পৌছিয়ে দৃঢ় কণ্ঠে আবৃতি করেন এই বিখ্যাত লাইন গুলো। দুঃখের বিষয় এই যে অঙ্গিকার নামক শব্দটি বই থেকে আমাদের কণ্ঠে এসে পৌঁছিয়েছে, অন্তর টা ছুঁতে পারি নি।


খুব আবেগ দিয়ে হয়ত সুকান্ত লিখেছিলেন তার ছাড়পত্র…

এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান;
জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত আর ধ্বংসস্তূপ-পিঠে
চলে যেতে হবে আমাদের।
চলে যাব- তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ
প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল,
এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য ক’রে যাব আমি
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।

অনেক ঘটা করে এই কবিতাটি ছাপা হয় বইয়ের পাতায়, অনেকে আবার আবেগের শীর্ষে পৌছিয়ে দৃঢ় কণ্ঠে আবৃতি করেন এই বিখ্যাত লাইন গুলো। দুঃখের বিষয় এই যে অঙ্গিকার নামক শব্দটি বই থেকে আমাদের কণ্ঠে এসে পৌঁছিয়েছে, অন্তর টা ছুঁতে পারি নি।

আমরা মুখে মুখেই সব করে ফেলতে পারি, কিন্তু বাস্তবতা সে বড় পিনিকের শব্দ হে বাছা। বাস্তবতা আমাদের একটি কথায় অন্তরে ঢুকাতে সক্ষম হয়েছে তাহলো, বাছা আগে নিজে বাঁচো পরে অন্য কিছু চিন্তা কোর।

আসলে আজকে হটাৎ করে এই ছবিটা দেখে আমার মাথায় সুকান্তের এই বিখ্যাত কবিতাটি আপন মনে চক্কর দিয়ে গেল। তাই সহজাত প্রব্রিতি থেকে দুইটা লাইন লিখতে বসলাম। কত যে চিন্তা, সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের নিয়ে লিখব, সেটা ছাপা হবে ব্লগে, শত শত লাইক আর কমেন্ট পড়বে। আহা কি খ্যাতি রে ভাবতেই শরীরের প্রত্যেকটা লোম দাড়িয়ে যাচ্ছে। এইভাবে সুবিধা বঞ্চিতদের নিয়ে লিখতে লিখতে বিখ্যাত হয়ে যাব। টেলিভিশনের রঙ্গিন পর্দায় গিয়ে সেই খ্যাতির বিরাম্বনা করবো।
এরপর শুরু করব এই সকল সুবিধা বঞ্চিত দের নিয়ে গবেষণা, পাবলিকেশনের উপর পাবলিকেশন প্রকাশ হতে থাকবে। আর ও বিখ্যাত হয়ে যাব। নামের আগে ডঃ উল্লেখ থাকবে। মিডিয়াতে বিভিন্ন সামাজিক বৈষম্মের পরিপেক্ষিতে নিজের মূল্যবান বক্তব্য রাখব। টেলিভিশন, এফ এম রেডিও, সংবাদপত্রগুলো ফলাও করে প্রচার করবে আমার সেই মূল্যবান বক্তব্য। এইভাবে আমি খুব শীঘ্রই খ্যাতির শীর্ষে পৌছাতে থাকবো।
আস্তে আস্তে দেশের বুদ্ধিজীবীদের খাতায় নাম লেখাবো। হয়ে যাবো বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী, আমার নাম ছড়াতে থাকবে সারা বিশ্বে। বিশ্বের নামকরা মিডিয়া চ্যানেল গুলো আমার কভারেজ নিবে, আজ আমেরিকা, কাল ইংল্যান্ড, পরশু ইউরোপ, তারপর অস্ট্রেলিয়া। টক শো গুলা আমার অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়ার জন্য মুখিয়ে থাকবে। বিভিন্ন কনফারেঞ্চ করবো যেখানে শুধুই সুবিধা বঞ্চিতদের নিয়ে কথা বলব।

একদিন সব প্রতিক্ষার সমাপ্তি ঘটবে একটি খবরে। “This year Dr. BM Banjir Ahmmed is awarded by the Nobel in PEACE”আহা রে কি শান্তি!!!!!!!!! পুরাই পুলকিত ব্যাপার।

সমগ্র জাতি আমাকে নিয়ে গর্ব করবে, বিদেশী বন্ধুদের কাছে নিজের দেশ সম্মন্দে বলতে গিয়ে যখন দেখবে সে বাংলাদেশের সম্মন্ধে কিছুই জানে না তখনি ট্রামের কার্ডের মত বলবে আমার নাম। তখনি সেই বন্ধু পুলকিত হয়ে বলবে, “o man i know him, really he is a great person. your country is lucky!!!! ” কিন্তু সেই সুবিধা বঞ্চিতরা জানতে ও পারলনা আমার এই অর্জন, যে অর্জনের মুলে রসদ জুগিয়েছে একমাত্র তারাই।
তো আর কি বাকি থাকলো সবি তো হয়ে গেল, একে বারে শান্তিতে নোবেল প্রাইজ!!! আমার পা কিন্তু তখন আর মাটিতে নেই, আমি তখন বিভিন্ন দেশের প্রধানমন্ত্রীদের সাথে আলোচনায় ব্যস্ত থাকবো। দেশের প্রবৃদ্ধি নিয়ে কথা বলব।
একদিন হয়ত বয়সের কাছে পরাজিত হবে এই রক্তমাংসের শরীর। এভাবেই সমাপ্তি ঘটবে সেই সকল সুবিধাবঞ্চিতের দুঃস্বপ্নে গড়া আমার বাস্তবতার খ্যাতির সকল আয়োজন।

মৃত্যুর পর খুব ঘটা করে পালন করা হবে আমার জন্মদিন ও মৃত্যু দিবস। আমার সেই লেখাগুলো থেকে বাছায় করে পাঠ করা হবে হয়ত রাষ্ট্রীয় কোন সম্মেলনে। আমার এই বিক্ষিপ্ত লেখা গুলো এক সাথে করা হবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে। তারপর কোন এক জন্মদিনে প্রধানমন্ত্রী নিজে উপস্থিত থেকে আমার রচনাসমগ্রের মোড়ক উন্মোচন করবেন। সেই বই রাতা রাতি বিখ্যাত হয়ে যাবে। পৃথিবীর বিখ্যাত সব লাইব্রেরীতে সংগ্রহ করা হবে আমার রচনাসমগ্র।

মাঝখান থেকে সেই সুবিধা বঞ্চিত শিশুগুলোর কি হয়েছিল বা হবে সেটা পর্দার অন্তরালেই থেকে যাবে।
“Everything is Image, Image is Everything”


সব কিছু মিথ্যা প্রমাণ করে, রাজুর মত স্বপ্ন বেঁচে আমাদের অর্জনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখায়। 🙂 নোবেল এর মত সম্মানীয় অর্জন আজ উত্তরার ১৩ নং এ ফুটপাতে বসে থাকা রাজু পদদলিত করে দিচ্ছে… 🙂

৪ thoughts on “সুবিধা বঞ্চিতের দুঃস্বপ্নে গড়া আমার কিছু বাস্তব স্বপ্নের উপাখ্যান !!!!!

  1. নোবেল এর মত সম্মানীয় অর্জন

    নোবেল এর মত সম্মানীয় অর্জন আজ উত্তরার ১৩ নং এ ফুটপাতে বসে থাকা রাজু পদদলিত করে দিচ্ছে…

    :bow: :bow: :bow:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *