রবীন্দ্রনাথ কেন লিখেছিলেন?

আজকে কোনো একটি কারনে রবীন্দ্রনাথের বেশ কয়েকটি গান খুঁজলাম। খুঁজে তার কিছু গানের মাঝে চমৎকার সম্পর্ক লক্ষ্য করলাম। এক ধরনের ছোটখাট গবেষনাও বলতে পারেন, দেখুন তো কেমন লাগে।

রবীন্দ্রনাথ একবার কারো জন্য অপেক্ষা করছিলেন, দিনের পর দিন তার জন্য অপেক্ষা করার পরও যখন সে এলোনা তখন তিনি লিখলেন-

সহেনা যাতনা দিবস গনিয়া গনিয়া বিরলে
নিশিদিন বসে আছি শুধু পথ পানে চেয়ে



আজকে কোনো একটি কারনে রবীন্দ্রনাথের বেশ কয়েকটি গান খুঁজলাম। খুঁজে তার কিছু গানের মাঝে চমৎকার সম্পর্ক লক্ষ্য করলাম। এক ধরনের ছোটখাট গবেষনাও বলতে পারেন, দেখুন তো কেমন লাগে।

রবীন্দ্রনাথ একবার কারো জন্য অপেক্ষা করছিলেন, দিনের পর দিন তার জন্য অপেক্ষা করার পরও যখন সে এলোনা তখন তিনি লিখলেন-

সহেনা যাতনা দিবস গনিয়া গনিয়া বিরলে
নিশিদিন বসে আছি শুধু পথ পানে চেয়ে

দীর্ঘ অপেক্ষার পর সে যখন এলো তখন তার হৃদয়ের পালে অনেক হাওয়া লাগলো। তিনি লিখলেন-

ঘরেতে ভ্রমর এল গুনগুনিয়ে।
আমারে কার কথা সে যায় শুনিয়ে।
আলোতে কোন গগনে মাধবী জাগল বনে,
এল সেই ফুল জাগানোর খবর নিয়ে।
সারাদিন সেই কথা যে যায় শুনিয়ে।

সে যখন এলো তখন রবীন্দ্রনাথ ভাবলেন এই তার হৃদয়ের বহুল আকাঙ্ক্ষিত মানুষ। সবকিছু ঠিকঠাক চলছিলো, ভালবাসায়-ভাললাগায়। তখন তিনি লিখলেন-

আমার পরান যাহা চায়
তুমি তাই তুমি তাইগো
তোমা ছাড়া আর এ জগতে
মোর কেহ নাই কিছু নাইগো

কিন্তু হঠাৎ রবীন্দ্রনাথ বুঝতে পারলেন, যে এসেছিলো সে ভুল করে এসেছিলো। তবুও তার হৃদয় সে ভুল করা কন্যার জন্য দ্বার খুলে দিয়েছিলেন ঠাই দেয়ার জন্যে। তখন তিনি আবার লিখলেন-

জানি জানি তুমি এসেছো এ পথে মনের ভুলে
তাই হোক তবে তাই হোক দ্বার দিলেম খুলে

কিন্তু শেষরক্ষা হলোনা। তিনি সেই ভুল করা কন্যাকে তার হৃদয়ে ভালবাসায় বাঁধতে পারলেন না। তখন তিনি লিখলেন-

এ মণিহার আমায় নাহি সাজে-
এরে পরতে গেলে লাগে, এরে ছিঁড়তে গেলে বাজে
কন্ঠ-যে রোধ করে, সুর তো নাহি সরে-
ওই দিকে যে মন প’ড়ে রয়, মন লাগে না কাজে।

অবশেষে ভুল করা সেই কন্যা তাঁর ভুল বুঝতে পারলো। অতঃপর সে চলে গেলো ছেড়ে। তখন রবীন্দ্রনাথ লিখলেন-

সেই ভাল সে ভালো, আমারে নাহয় না জানো।
দূরে গিয়ে নয় দুঃখ দেবে, কাছে কেন লাজে লাজানো।

খুঁজে খুঁজে এই মিলগুলো বের করেছি। বাস্তবে আদৌ হয়তো রবীন্দ্রনাথ এই পর্যায়ক্রমে বা এরকম ভেবে গানগুলি লিখেননি। এটা একান্তই আমার ব্যাক্তিগত ভাবনা। আর এই মিলগুলো খোঁজার কারন হল- ঠিক এইসব দৃশ্যের অবতারণা একই পর্যায়ক্রমে আমার জীবনে হয়েছে। সবার কেমন লেগেছে জানার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছি।

৮ thoughts on “রবীন্দ্রনাথ কেন লিখেছিলেন?

  1. চমৎকার পর্যবেক্ষণ দ্রুপদ…

    চমৎকার পর্যবেক্ষণ দ্রুপদ…
    :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :bow: :bow: :bow: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ:
    গান-কবিতা-সাহিত্য নিয়ে ব্লগে পোস্ট এমনিতেই কম, তারমধ্যে আপনার এমন
    পুলকজাগানিয়া পোস্ট বেশ সুস্বাদু লাগল… রবীন্দ্রসঙ্গীত নিয়ে এমন সুন্দর পর্যবেক্ষণ ব্লগে খুব একটা দেখা যায় না!! লিখতে থাকুন… ভাল লাগল!!
    কবিতার ক্ষেত্রেও আশাকরি এমন অনেক ছন্দ এবং তাল খুঁজে পাব একদিন…

    1. এখন নিজে আবার পড়ে দেখলাম
      এখন নিজে আবার পড়ে দেখলাম আসলেই একটা সিনেমা হয়ে গেল পুরো। 🙂
      চেষ্টা করব ভবিষ্যতেও আপনাদের ভাল লাগানোর মত পোস্ট যাতে দিতে পারি। অনেক ভালবাসা নিবেন :ফুল: :ফুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল:

  2. মানুষের মনের এমন কোন অনুভূতি
    মানুষের মনের এমন কোন অনুভূতি কি বাকী আছে যা নিয়ে রবীন্দ্রনাথ কিছু লিখে যান নাই? ভালো লাগলো পোস্ট। ধন্যবার দ্রুপদ, থুক্কু দুপুর মিত্র। 😀

  3. এ মণিহার আমায় নাহি সাজে- এরে

    এ মণিহার আমায় নাহি সাজে- এরে পরতে গেলে লাগে, এরে ছিঁড়তে গেলে বাজে কন্ঠ-যে রোধ করে, সুর তো নাহি সরে- ওই দিকে যে মন প’ড়ে রয়, মন লাগে না কাজে।

    আমার খুব খুব খুব পছন্দের কিছু শব্দমালা… :ভালুবাশি: :ভালুবাশি: :ভালুবাশি: :bow:

    লেখার ব্যাপারে যে বলার লিংকন ভাই বলে দিয়েছেন। আমি শুধু পোস্টকর্তার রবীন্দ্রগবেষনার ব্যাপারে নিখাদ বিস্ময় জানায়ে গেলাম। :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :বিস্ময়: :বিস্ময়: :বিস্ময়: আর রবিগুরুর সৃষ্টির একজন অসম্ভব গুনমুগ্ধ ভক্ত হিসেবে বলতে পারি, অভূতপূর্ব এই শব্দমালা এতো গুছিয়ে উপস্থাপন সত্যিই অসাধারন… :salute: :salute: :salute: :salute:

    পরের পোস্টের জন্য ক্ষুধা লেগে গেলো… :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :জলদিকর: :অপেক্ষায়আছি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *