হটকারী বিএনপি,আগ্রাসী আওয়ামীগ এবং আমাদের আন্দোলন।

গতকাল দেখলাম প্রগতিশীলদের নিয়ে আওয়ামীলীগের একটা দল কুমিল্লায় ক্যাবল নেটওয়ার্কে গিয়ে দিগন্ত টিভি বন্ধ করে দিয়েছে। এই আন্দোলন স্বতঃস্ফূর্ত অতএব কাউকে প্রেসার করে আওয়ামী পদ্ধতিতে এটা বন্ধ করাটা মোটেও ভাল লাগে নাই। টাঙ্গাইলে দিগন্ত টিভি ১৫ ঘন্টা বন্ধ রাখার পর আবার খুলে দেয়া হলো। এই খবরটা দেখেই মেজাজটা আবার খারাপ হলো।


গতকাল দেখলাম প্রগতিশীলদের নিয়ে আওয়ামীলীগের একটা দল কুমিল্লায় ক্যাবল নেটওয়ার্কে গিয়ে দিগন্ত টিভি বন্ধ করে দিয়েছে। এই আন্দোলন স্বতঃস্ফূর্ত অতএব কাউকে প্রেসার করে আওয়ামী পদ্ধতিতে এটা বন্ধ করাটা মোটেও ভাল লাগে নাই। টাঙ্গাইলে দিগন্ত টিভি ১৫ ঘন্টা বন্ধ রাখার পর আবার খুলে দেয়া হলো। এই খবরটা দেখেই মেজাজটা আবার খারাপ হলো।

গত কয়েক দিন ধরে কাজ শেষ করে স্থানীয় আন্দোলনে শরিক হই। তাদের সাথে স্লোগান মিলাই, তালি দেই। কিন্তু এই কয়দিনে একটা ব্যপার খুব হতাশ করেছে। এই উত্তাল মুহূর্তেও আওয়ামীলীগ তার আচরন পরিবর্তন করতে পারেনি। সামনে জনতা আর মাইক দেখলে তারা উন্মাদ হয়ে উঠে। একবার শুরু করলে শেষ করার কথা ভুলে যায়। এমনকি মাইকের দখল পাওয়ার জন্য তারা ধাকাধাক্কি করতে ছাড়ে না। ঢোক,স্লোগান দিয়ে চিৎকার করে তাদের থামাতে হয়। মিনিমাম যে টুকু লজ্জা থাকা দরকার তাও এই লোকদের মাঝে দেখি না। তারা পর দিন আবার আসে আবার জোর করে মাইক দখল নেয়।স্বতঃস্ফূর্ত এই আন্দোলনকে তারা কব্জায় নেবার জন্য প্রথম থেকেই চেষ্টা করছে।

তাদের এই স্থুল কথা যে মানুষ শুনতে চায়না তারা তাও বুঝে না। আওয়ামীলীগ অথবা কোন রাজনৈতিক দলের ব্যানারে এই আন্দোলন হতো? এই সহজ কথাটা তারা কেন বুঝতে পারে না? যদি চ্যালেঞ্জ করতে চায় তো করে দেখাতে পারে। তারা চেষ্টা করুক আওয়ামীলীগের ব্যানারে জেলায় কোন একটা স্বতন্ত্র ভ্যেনুতে একটা দীর্ঘ মেয়াদী বিক্ষোভ করে দেখাতে পারবে না। তাদের ভোট দেয় মন্দের ভাল হিসেবে কিন্তু লোকজন তাদের যে পছন্দ করে না তা এই আন্দোলন ই তো প্রমাণ। তাদের নিজেদের ভেতরে মারামারি করে একদিনেই আন্দোলন বাতিল করতে হবে।

এই আন্দোলন নিয়ে আমি এই পর্যন্ত বিএনপি কে কিছু বলি নাই। আশা করেছিলাম তারা হয়তো এক সময় উপলব্ধি করতে পারবে। সাদেক হোসেন খোকা,ফকরুলের কথা শুনে কিছু আশ্বস্তও হয়েছিলাম। পরিবর্তন তাহলে আসছে। কিন্তু গতকাল হান্নান শাহ ,আজ জয়নাল আবেদীন ফারুকের অশ্লীল কথা শুনে হতাশ হলাম। এই দলকে নিয়ে আসলেই আর আশা করার কিছু নাই। যত দিন যাবে ততই তাদের এই আন্দোলনে শরীক হওয়াও সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে যাচ্ছে।আন্দোলন সম্পর্কে তারাও ক্রমে অশ্লীল মন্তব্য দিয়ে যাচ্ছে ।

অথচ এই আন্দোলনের কল্যাণে তাদের অতীতের ভুল কিছুটা মুছে ফেলার একটা সুযোগ ছিল। কিন্তু তারা জামাতকে ছাড়ার কোন সম্ভাবনা দেখছিনা। তার মানে গাধাকে পেটালেও মানুষ হয় না। তারাও হবে না। এই আন্দোলন যদি আওয়ামীলীগের আন্দোলন হয় (বিএনপি যা মনে করছে) তবে এর দায় কি তাদের উপর নাই? তারা খুব ধুরন্ধর কিন্তু মানুষ এখন আর বোকা নেই। প্রথম কয়েক দিন চুপ করে থেকে ভাল মানুষি দেখাতে চেষ্টা করেছে। কিন্তু মুখোশের রং মুছতে খুব সময় লাগে নাই।

এই আন্দোলনের বিরোধিতা করে অথবা গ্রাস করতে চেয়ে দুই দলই ভুল করছে। তারা এখনো বুঝতে পারছে না যে গায়ের জোরই সব নয়। এই আন্দোলন গায়ের জোর হয় নাই এটা এই মাথা মোটা নেতারা বুঝতে পারছে না।

জামাত শিবির এজেন্টদের নিয়ে কিছু বলার নাই। কিন্তু যারা এই আন্দোলনকে সমর্থন করেন। তারা নিজেদের মাঝে ছোট খাট দুষে গুলো যদি হাইলাইট না করেন তবেই ভাল। ব্যক্তি কেন্দ্রিক কিছু ঝামেলা থাকতেই পারে।এই সব ঝামেলা ,মিটাইবার সুযোগ আমরা অনেক পাব। অনেকের পিঠের ছাল তুলার সুযোগ পাব। অনেকে শাহবাগে নেংটা করার সুযোগ পাব। কিন্তু এই আন্দোলন আর পাব না। আমাদের এই দাবী পুরন না হলে আমাদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে। তাই যে কোন মূল্যেই আমরা আমাদের দাবীকে বাস্তবায়িত করতে চাই।

তবু আমি আশাবাদী,ছোট খাট বিরোধ নিয়ে আমি থাকি নিশ্চুপ। এত বড় একটা আন্দোলনে কিছু ভুল ত্রুটি তো থাকতেই পারে। বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের কিছু ছাড় তো দিতেই হবে। দয়া করে নিজেদের ভেতরের ছোট খাট ব্যপার গুলো বড় করে দেখবেন না। আর হতাশা জনক খবর গুলো শেয়ার দেয়া থেকে বিরত থাকবেন। অপপ্রচারের বিরুদ্ধে অবশ্যই সোচ্চার থাকতে হবে।

জয় বাংলা।
রাজাকারের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না।
জামাত শিবিরের রাজনীতি ,বন্ধ কর করতে হবে।

৮ thoughts on “হটকারী বিএনপি,আগ্রাসী আওয়ামীগ এবং আমাদের আন্দোলন।

  1. কিন্তু যারা এই আন্দোলনকে

    কিন্তু যারা এই আন্দোলনকে সমর্থন করেন। তারা নিজেদের মাঝে ছোট খাট দুষে গুলো যদি হাইলাইট না করেন তবেই ভাল। ব্যক্তি কেন্দ্রিক কিছু ঝামেলা থাকতেই পারে।এই সব ঝামেলা ,মিটাইবার সুযোগ আমরা অনেক পাব। অনেকের পিঠের ছাল তুলার সুযোগ পাব। অনেকে শাহবাগে নেংটা করার সুযোগ পাব। কিন্তু এই আন্দোলন আর পাব না। আমাদের এই দাবী পুরন না হলে আমাদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে। তাই যে কোন মূল্যেই আমরা আমাদের দাবীকে বাস্তবায়িত করতে চাই।

    তবু আমি আশাবাদী,ছোট খাট বিরোধ নিয়ে আমি থাকি নিশ্চুপ। এত বড় একটা আন্দোলনে কিছু ভুল ত্রুটি তো থাকতেই পারে। বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের কিছু ছাড় তো দিতেই হবে। দয়া করে নিজেদের ভেতরের ছোট খাট ব্যপার গুলো বড় করে দেখবেন না। আর হতাশা জনক খবর গুলো শেয়ার দেয়া থেকে বিরত থাকবেন। অপপ্রচারের বিরুদ্ধে অবশ্যই সোচ্চার থাকতে হবে।

    জয় বাংলা।
    রাজাকারের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না।
    জামাত শিবিরের রাজনীতি ,বন্ধ কর করতে হবে।

    মূল কথা এইটাই। নিজেদের মতভেদ ভুলে যেতে হবে আন্দোলনের স্বার্থে।

    আওয়ামী লীগ সুযোগ চাইবেই এখান থেকে কিছুটা বা পুরো লাভের গুঁড় চেটে খেতে। রাজনীতিবিদদের এটাই স্বভাব। তবে মনে হয় না এবার পারবে। আর বিএনপির কবর বিএনপি নিপুন দক্ষতায় খুঁড়ে চলেছে।

    1. যত কিছুই হোক আমরা কোন ভাবেই
      যত কিছুই হোক আমরা কোন ভাবেই এই সুযোগ তাদের দিব না। শাহবাগ আমাদের প্রেরণা। কিন্তু সারা দেশের আন্দোলন এক কেন্দ্রিক নয়। তাই এই আন্দোলন গ্রাস করা সহজ নয়। অসম্ভব বলা চলে।

        1. লাভ হলে পিঁপড়াকে খাওয়াতে

          লাভ হলে পিঁপড়াকে খাওয়াতে আপত্তি নাই। কিন্তু তারা এ্ই সুযোগ দিচ্ছে কই।

          :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:
          এরা লাভ করে খাওয়ার চেয়েও বসে বসে আসল খেতে অভ্যস্থ। আশাকরি আওয়ামীলীগের সুমতি হবে এবার। আর যদি এই আন্দোলন থেকে জনগণের দাবীকে পাত্তা না দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করে পুটে যেতে চায়, তাহলে বর্তমান বিএনপি’র চেয়েও করুন দশা হবে। আর বিএনপিকে আমি এখন কোন দল মনে করিনা। এই একটি মাত্র ইস্যুতে বিএনপির নিঃস্বার্থ সমর্থকগন ইতিমধ্যে নিরপেক্ষ জনগন হয়ে গিয়েছে। তরুন প্রজন্ম আর নিরপেক্ষ জনগণের সংখ্যা কিন্তু কম না। আশাকরি আওয়ামীলীগ এসব সুদকষা হিসাব করেই চলবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *