বাঁচার লড়ায়ে পোশাক শ্রমিক




দেশের উল্লেখযোগ্য দশটি শিল্প খাতের মধ্যে পোশাক শ্রমিকদের মুজরি সবচেয়ে কম অথচ পোশাক খাতই দেশের সবচেয়ে ব্যবসা সফল শিল্পখাত।এ শিল্প থেকেই দেশের ৭৮ভাগ রপ্তানি আয় হয়।বাংলাদেশ বিশ্বে পোশাক রপ্তানীতে ২য স্থানে রয়েছে।আর্ন্তজাতিক বাজারে প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় ও বাংলাদেশে পোশাক শ্রমিকদের মুজরি সবচেয়ে কম।শুধু তাই নয় এদের জীবনমান অত্যান্ত নিম্নমানের।বছরের বেশীর ভাগ সময় এদের অনেকেই অপুষ্টিতে ভোগে।দুঃখজনক হলেও সত্য দেশের ভিতরে অনেক শ্রমিকদের চেয়ে এদের বেতন অনেক কম।২০১০-১২ সালের মধ্যে গঠিত বিভিন্ন মুজরি বোর্ডে ঘোষিত মজুরী কাঠামো অনুযায়ী বর্তমানে নির্মান শিল্প ও কাঠের কাজ করেন এমন শ্রমিকের নিম্নতম মজুরি ৯৮৮২টাকা,ট্যানারি শমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ৯৩০০টাকা তেল মিলের শ্রমিকের মুজরি ৭৪২০টাকা,ব্যাক্তিমালিকানাধীন সড়ক পরিবহনে ৬৩০০টাকা,রিং-রোলিং মিলে ৬১০০টাকা ক্লোড ষ্টোরেজ ৬০৫০টাকা চাতাল শ্রমিকের ৭৪০০টাকা আর পোশাক শ্রমিকের ৩০০০টাকা।সাম্প্রতি বি.বি.সির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয় বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকদের গড়ে দৈনিক ১৯কর্মঘন্টা শ্রম দিতে হয।যা আন্তজার্তিক শ্রম সংস্থার আইন বর্হিভুত।এত কিছুর পরও যখন শ্রমিকরা বাঁচার তাগিদে তাদের নুন্যতম মজুরি ৮০০০টাকার দাবী করছে তখন মুনাফালোভি পোশাক কারখানার মালিকদের সংগঠন বি.জি.এম.ই.এ বাড়াতে চায় মাত্র ৬০০টাকা।দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা মালিকদের এমন মনোভাব দিন দিন শ্রমিক অসন্তোস বৃদ্ধি করছে যা দেশের অর্থনিতির জন্য অশুভ সংকেত।মালিকদের এমন বৈরী মনোভাবের কারনে দেশের শিল্পখাত চলে যেতে পারে অন্যদেশের কাছে যা আমাদের কারও কাম্য নয়।তাই মালিকদের অতিমুনাফার আশা ত্যাগ করে শ্রমিকদের নায্য দাবি মেনে নিয়ে কারখানায় শ্রমিক বান্ধব কর্ম পরিবেশ নিশ্চিত করে এ বৃহৎ শিল্প খাতকে টিকে রাখাটাই হবে শুভ বুদ্ধির লক্ষন।
তথ্য সুত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো

২ thoughts on “বাঁচার লড়ায়ে পোশাক শ্রমিক

  1. দাবী আদায়ে লড়াই সংগ্রামের
    দাবী আদায়ে লড়াই সংগ্রামের বিকল্প নাই। তাই দাবী করতে সংগ্রামে নামতেই হবে। কিন্তু গত কিছুদিন ধরে গার্মেন্টস সেক্টরের শ্রমিক আন্দোলনগুলো কেন জানিনা ধ্বংসাত্মক রূপ ধারণ করছে। জানিনা এর পিছনে কোন সুসংঘবদ্ধ শক্তির উস্কানী আছে কি না। ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *