রামপাল বিতর্ক ও আমাদের করনীয়- প্রথম পর্ব

প্রথমে আমরা একটু দেখে নিই বাঙলাদেশের জীব বৈচিত্র্য রক্ষায় এ পর্যন্ত নেয়া সকল সরকারী উদ্যোগ। বর্তমানে তিন শ্রেণীতে বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত প্রচলিত আইন রহিতপূর্বক দেশের জীববৈচিত্র্য, বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধানকল্পে প্রণীত আইন প্রয়োগের নিমিত্তে সরক্ষিত বন বা উদ্যান সংরক্ষিত আছে, সেগুলো হল- ক) জাতীয় উদ্যান, খ) অভয়ারণ্য এবং গ) বিশেষ সংরক্ষিত এলাকা।

ক) জাতীয় উদ্যানঃ
সংখ্যা মোট ১৭টি, নিম্নে উদ্যানগুলোর আয়তন এবং সংরক্ষনের আওয়তায় অন্তর্ভুক্তির সময়

১. ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান

প্রথমে আমরা একটু দেখে নিই বাঙলাদেশের জীব বৈচিত্র্য রক্ষায় এ পর্যন্ত নেয়া সকল সরকারী উদ্যোগ। বর্তমানে তিন শ্রেণীতে বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত প্রচলিত আইন রহিতপূর্বক দেশের জীববৈচিত্র্য, বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধানকল্পে প্রণীত আইন প্রয়োগের নিমিত্তে সরক্ষিত বন বা উদ্যান সংরক্ষিত আছে, সেগুলো হল- ক) জাতীয় উদ্যান, খ) অভয়ারণ্য এবং গ) বিশেষ সংরক্ষিত এলাকা।

ক) জাতীয় উদ্যানঃ
সংখ্যা মোট ১৭টি, নিম্নে উদ্যানগুলোর আয়তন এবং সংরক্ষনের আওয়তায় অন্তর্ভুক্তির সময়

১. ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান
অবস্থান:গাজীপুর, ঘোষণার তারিখ: ১১.৫. ১৯৮২, মোট আয়তন: ৫০২২ হেক্টর

২. মধুপুর
অবস্থান: টাঙ্গাইল/ময়মনসিংহ, ঘোষণার বছর: ২৪.০২. ১৯৮২, মোট আয়তন: ৮৪৬৩ হেক্টর

৩. রামসাগর
অবস্থান: দিনাজপুর, ঘোষণার বছর: ৩০.০৪.২০০১, মোট আয়তন: ২৭.৭৫ হেক্টর

৪. হিমছড়ি
অবস্থান: কক্সবাজার, ষণার বছর: ১৫.০২.১৯৮০, মোট আয়তন: ১৭২৯ হেক্টর

৫. লাউয়াছড়া
অবস্থান: শ্রীমঙ্গল/ মৌলভীবাজার, ঘোষণার বছর: ০৭.০৭.১৯৯৬, মোট আয়তন: ১২৫০ হেকটর
৬. কাপ্তাই
অবস্থান: রাঙামাটি (পার্বত্য চট্টগ্রাম), ঘোষণার বছর: ০৯.০৯.১৯৯৯, মোট আয়তন: ৫৪৬৪ হেক্টর

৭. নিঝুম দ্বীপ
অবস্থান: নোয়াখালি, ঘোষণার বছর: ০৮.০৪.২০০১, মোট আয়তন: ১৬৩৫৩ হেক্টর

৮. মেধা কচ্ছপিয়া

অবস্থান: কক্সবাজার, ঘোষণার বছর: ০৮.০৮.২০০৮, মোট আয়তন: ৩৯৬ হেক্টর

৯. সাতছড়ি
অবস্থান: হবিগঞ্জ, ঘোষণার বছর: ১৫.১০. ২০০৫, মোট আয়তন: ২৪৩ হেক্টর

১০. খাদিমনগর
অবস্থান: সিলেট, ঘোষণার বছর: ০৬.০৪.২০১০, মোট আয়তন: ৬৭৯ হেক্টর

১১. বারৈয়াঢালা
অবস্থান: চ্ট্টগ্রাম, ঘোষণার বছর: ০৬.০৪.২০১০, মোট আয়তন: ২৯৩৪ হেক্টর

১২. কুয়াকাটা
অবস্থান: পটুয়াখালি, ঘোষণার বছর: ২৪.১০.২০১০, মোট আয়তন: ১৬১৩ হেক্টর

১৩. নবাবগঞ্জ
অবস্থান: দিনাজপুর, ঘোষণার বছর: ২৪.১০.২০১০, মোট আয়তন: ৫১৮ হেক্টর
১৪. সিঙড়া
অবস্থান: দিনাজপুর, ঘোষণার বছর: ২৪.১০.২০১০, মোট আয়তন: ৩০৬ হেক্টর
১৫. কাদিগড়
অবস্থান: ময়মনসিংহ, ঘোষণার বছর: ২৪.১০.২০১০, মোট আয়তন: ৩৪৪ হেক্টর
১৬. আলতাদিঘী
অবস্থান: নওগাঁ, ঘোষণার বছর: ২৪.১২.২০১১, মোট আয়তন: ২৬৪ হেক্টর
১৭. বীরগঞ্জ
অবস্থান: দিনাজপুর, ঘোষণার বছর: ২৪.১২. ২০১১, মোট আয়তন: ১৬৯ হেক্টর

এই ১৭ টি জাতীয় উদ্যানের ১২ টিই আওয়ামীলীগের আমলে (যেসব ঘোষণার তারিখ বোল্ড এবং আণ্ডারলাইন করা আছে…) ঘোষণা করা হয়েছে।

খ) বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যঃ
সংখ্যা ১৭টি, আয়তন এবং সংরক্ষনের আওয়তায় অন্তর্ভুক্তির সময় ডেট সহকারে দেয়া হল-

১. রেমা কালেঙ্গা
অবস্থান: হরিগঞ্জ, ঘোষণার বছর: ০৭.০৭.১৯৯৬, মোট আয়তন: ১৭৯৬ হেক্টর

২. চর কুকরি মুকরি
অবস্থান: ভোলা, ঘোষণার বছর: ১৯.১২.১৯৮১, মোট আয়তন: ৪০ হেক্টর

৩. সুন্দরবন (পূর্ব)
অবস্থান: বাগেরহাট, ঘোষণার বছর: ০৬.০৪.১৯৯৬, মোট আয়তন: ৩১২২৭ হেক্টর

৪. সুন্দরবন (পশ্চিম)
অবস্থান: সাতক্ষীরা, ঘোষণার বছর: ০৬.০৪.১৯৯৬, মোট আয়তন: ৭১৫০২ হেক্টর

৫. সুন্দরবন (দক্ষিণ)
অবস্থান: খুলনা, ঘোষণার বছর: ০৬.০৪.১৯৯৬, মোট আয়তন: ৩৬৯৭০ হেক্টর

৬. পাবলাখালি
অবস্থান: পার্বত্য চট্টগ্রাম (রাঙামাটি), ঘোষণার বছর: ২০.০৯.১৯৮৩, মোট আয়তন: ৪২০৮৭ হেক্টর

৭. চুনাতি
অবস্থান: চট্টগ্রাম, ঘোষণার বছর: ১৮.০৩.১৯৮৬, মোট আয়তন: ৭৭৬৪ হেক্টর

৮. ফাসিয়াখালি
অবস্থান: কক্সবাজার, ঘোষণার বছর: ১১.০৪.২০০৭, মোট আয়তন: ১৩০২ হেক্টর

৯. দুধপুকুরিয়া-ধোপাছড়ি
অবস্থান: চট্টগ্রাম, ঘোষণার বছর: ০৬.০৪.২০১০, মোট আয়তন: ৪৭১৭ হেক্টর

১০. হাজারিখিল
অবস্থান: চট্টগ্রাম, ঘোষণার বছর: ০৬.০৪.২০১০, মোট আয়তন: ১১৭৮ হেক্টর

১১. সাঙ্গু
অবস্থান: বান্দরবান, ঘোষণার বছর: ০৬.০৪.২০১০, মোট আয়তন: ২৩৩২ হেক্টর

১২. টেকনাফ

অবস্থান: কক্সবাজার, ঘোষণার বছর: ২৪.০৩.২০১০, মোট আয়তন: ১১৬১৫ হেক্টর

১৩. টেংরাগিরি
অবস্থান: বরগুণা, ঘোষণার বছর: ২৪.১০.২০১০, মোট আয়তন: ৪০৪৯ হেক্টর

১৪. দুধমুখি
অবস্থান: বাগেরহাট, ঘোষণার বছর: ২৯.০১.২০১২, মোট আয়তন: ১৭০ হেক্টর

১৫. চাঁদপাই
অবস্থান:বাগেরহাট, ঘোষণার বছর: ২৯.০১.২০১২, মোট আয়তন: ৫৬০ হেক্টর

১৬. ঢাংমারি
অবস্থান: বাগেরহাট, ঘোষণার বছর: ২৯.০১.২০১২, মোট আয়তন: ৩৪০ হেক্টর

১৭. সোনার চর
অবস্থান: পটুয়াখালি, ঘোষণার বছর: ২৪.১২.২০১১, মোট আয়তন: ২০২৬ হেক্টর

এই ১৭ টি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের ১০ টিরই ঘোষণা এসেছে আওয়ামীলীগের আমলে।

গ) বিশেষ সংরক্ষিত এলাকাঃ
এছাড়া আরো ৫টি সংরক্ষিত এলাকা রয়েছে-

১. জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান
অবস্থান: ঢাকা, ঘোষণার বছর: ১৯৬১, মোট আয়তন: ৮৪ হেক্টর

২. বলধা গার্ডেন
অবস্থান: ঢাকা, স্থাপিত: ১৯০৯, মোট আয়তন: ১.৫ হেক্টর

৩. মাধবকুন্ড ইকোপার্ক
অবস্থান: মৌলভীবাজার, ঘোষণার বছর: ২০০১, মোট আয়তন: ২৬৬ হেক্টর

৪. সীতাকুন্ড উদ্ধিদ উদ্যান ও ইকোপার্ক
অবস্থান: চট্টগ্রাম, ঘোষণার বছর: ১৯৯৮, মোট আয়তন:৮০৮ হেক্টর

৫. ডুলাহাজরা সাফারি পার্ক

অবস্থান: কক্সবাজার, ঘোষণার বছর: ১৯৯৯, মোট আয়তন: ৬০০ হেক্টর
অর্থাৎ ৫ টি বিশেষ সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ৩ টিই আওয়ামীলীগের আমলে সংরক্ষণ করার উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। এইসব তথ্য থেকে আমরা পাই দেশের মোট সংরক্ষিত জাতীয় উদ্যান, অভয়ারণ্য বা সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ১৭+১৭+৫=৩৯ টির মধ্যে ২৫ টিবা, ৬৪.১০% -ই আওয়ামীলীগের শাসনামলে সংরক্ষন করা হয়েছে অথচ বাঙলাদেশের স্বাধীনতা উত্তর সময়ের ৪২ বছরের মাত্র ১৩ বছর ৬ মাস সময় তারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিল। যার অর্থ দাঁড়ায় রাষ্ট্র ক্ষমতার ৩২.১৫% সময় শাসন করে জীব বৈচিত্র্য রক্ষার সরকারী উদ্যোগের ৬৪.১০% কাজই এই দলটি করেছে। এদিকে ২ টি বা ৫.১৩% বনাঞ্চলের সরক্ষন ঘোষণা এসেছে ব্রিটিশ বা পাকিস্তান আমলে অর্থাৎ রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকা সামরিক বা ছদ্ম সামরিক অথবা তাদের রাজনৈতিক দলদের শাসন আমলের ৬৭.৮৫% সময়ে জীব বৈচিত্র্য রক্ষায় তারা কাজ করে ৩০.৭৭% কাজ

বঙ্গবন্ধুর আমলে করা জাতীয় বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) (সংশোধন) আদেশ ১৯৭৪-এর ২নং অনুচ্ছেদের ‘জ’ ধারা অনুযায়ী বোঝানো হয় মনোরম ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যবিশিষ্ট অপেক্ষাকৃত বৃহত্তর এলাকা, যার মুখ্য উদ্দেশ্য প্রাকৃতিকভাবে সুন্দর চিত্রানুগ দৃশ্য, উদ্ভিদকুল রক্ষা এবং সংরক্ষণ করা ও যেখানে বিনোদন, শিক্ষা এবং গবেষণার জন্য জনসাধারণের প্রবেশ অনুমতি দেওয়ার ব্যবস্থা থাকে। মূলত এই আইনের উপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে জীব বৈচিত্র্য রক্ষায় এবং মানবকল্যাণে এসবের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের উপর জোর দেয়া হয়। সেই ধারাবাহিকতায় ২০১২ সালে আসে পূর্ণাঙ্গ বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন।

বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২
(২০১২ সনের ৩০ নং আইন ) ১০ জুলাই, ২০১২

বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত প্রচলিত আইন রহিতপূর্বক দেশের
জীববৈচিত্র্য, বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধানকল্পে প্রণীত আইন
[বিস্তারিতঃ এইখানে…]

যে রাজনৈতিক দলের শাসন আমলের সরকারী কার্যাবলীর একটি প্রধান কাজ হিসেবে সবসময় বিবেচিত হয়ে এসেছে দেশের জীববৈচিত্র্য, বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ; তাদের একটা উন্নয়নমুলক কাজের যখন বিরোধিতা করতে যাব জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের অভিযোগে তখন কি আমাদের গঠমূলক সমালোচনা করা উচিৎ নয়?

৭৩ thoughts on “রামপাল বিতর্ক ও আমাদের করনীয়- প্রথম পর্ব

  1. প্রথম কথা, আমি অনেকগুলা
    প্রথম কথা, আমি অনেকগুলা দুঃস্থ মেয়েরে হেল্প করছি বইলা একটা মেয়েরে রেইপ করার সার্টিফিকেট পেয়ে যাই না। (এরচেয়ে ভদ্রস্থ উদাহরণ আর পাইলাম না, স্যরি)।
    দ্বিতীয় কথা, গঠনমূলক সমালোচনা কেমন হওয়া উচিৎ?
    তৃতীয় কথা, এইটা যে একটা আত্মধ্বংসী প্রকল্প সেটা বুঝার জন্য একটা বিষয়ই যথেষ্ট নয় কি? একইরকম প্রকল্প ভারত কেন নিজ দেশে বাতিল করেছে? যেখানে সুন্দরবনের চেয়েও অনেক বিশাল বিশাল সংরক্ষিত বনভূমি ভারতের আছে। এক সুন্দরবন গেলেও তাদের কিছুই যায় আসে না। অথচ আমাদের দেশে সুন্দরবনের মতো এরকম একটাই আছে। দলীয় বিবেচনা ছাড়া আর কোন এঙ্গেল নাই এটাকে জাস্টিফাই করার। সিম্পল।

    1. প্রথমত, যথেষ্ট ভদ্রস্থ হয়েছে
      প্রথমত, যথেষ্ট ভদ্রস্থ হয়েছে আতিক ভাই!! তবে আমি নিজে খুঁজে দেখতে চাই আসলেই আওয়ামী সরকার সকল অসুন্দর নারীকে/দুঃস্থ নারীকে হেল্প করে ছলেবলে সুন্দরীতম ঐশ্বরিয়াকে লাঞ্ছিত করছে কিনা…
      দ্বিতীয়ত, পোস্টটা শেষ করতে দেন!! এইটাতো মাত্র প্রথম পর্ব!! দুপক্ষের কথায় আমি বলব… আমি আগেই কারও পক্ষ নিতে চাই না! তবে আপনি আমাকে আসামির পূর্ববর্তী কাজের প্রশংসা করতে দেখে ট্যাগ দিয়েন না!
      তৃতীয়ত, “এইটা যে একটা আত্মধ্বংসী প্রকল্প সেটা বুঝার জন্য একটা বিষয়ই যথেষ্ট নয় কি? একইরকম প্রকল্প ভারত কেন নিজ দেশে বাতিল করেছে?” এই কথা আমি ১০০% মেনে নিতাম যদি ভারতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র না থাকত!! আপনি এই ব্লগটি দেখুন বিশ্বজুড়ে কয়লা ভিত্তিক কিছু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছবি দেখতে পাবেন!! আর ভারতের সাতপুরে এমন বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিদ্যমান…


      শেষকথা,
      দেখি ‘দলীয় বিবেচনা ছাড়া আর কোন এঙ্গেল নাই এটাকে জাস্টিফাই করার’ সঠিক কিনা। তাহলে আমি আপনাকে সিদ্ধান্ত জানাবো…

      ধন্যবাদ আতিক ভাই, আপনার সুন্দর ভদ্রস্থ এবং গঠনমূলক মন্তব্যের জন্য… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

      1. আপনার সাতপুর কয়লা বিদ্যুৎ
        আপনার সাতপুর কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছবি দেখানোর স্টাইল দেখে হাসি পেলো। আমি কি কোথাও বলেছি কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ভারতের কোথাও নেই? অনেক আছে। এখানে গেলেই আপনি পুরো লিস্ট পেয়ে যাবেন। কিন্তু সাতপুরেরটা কয়লা নয়, ন্যাচারাল গ্যাস ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। গুগলে সার্চ দিলেই পেয়ে যাবেন। আমার প্রশ্ন ছিল ভারত যেখানে নিজ দেশে সুন্দরবনে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করতে গিয়ে পিছিয়ে এসেছে সেখানে আমাদের আগ্রহ এতো বেশী কেন? আমার আরেকটা কথা এড়িয়ে গেলেন। ভারতের এইরকম বনভূমি কতগুলো আছে। আর আমাদের কতগুলো আছে? এতো ক্ষুদ্র একটি দেশে যেখানে বনভূমির সংকটে আবহাওয়ায় বিরূপ প্রভার অলরেডি পড়তে শুরু হয়ে গেছে। সেখানে দেশের বৃহত্তম একটি বনভূমি ধ্বংস হওয়ার বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা থাকতে পারে এমন কোন প্রকল্পে আমি সমর্থন দিতে রাজী নই। অর্ফিয়াস যেই ফটোব্লগ দিয়েছেন, সেখানে যেসব দেশের বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছবি আছে সেইসব দেশ কি বাংলাদেশের মতো এতো ক্ষুদ্র, অথচ জনবহুল দেশ? সেখানে কি এই একটিই সবেধন নীলমণি বৃহৎ বনভূমি আছে? একটা উদাহরণ দেওয়ার আগে আগেপিছে সাত পাঁচ ভেবে দেওয়া কি উচিৎ না?
        একটা উদাহরণ দেই। ফুলবাড়িতে ওপেন পিট মাইন করার পক্ষে যুক্তি দেওয়ার জন্য সরকারী বিশেষজ্ঞ উদাহরণ টেনে জার্মানির একটি ওপেন পিট মাইনের কথা বলেছিলেন। এখন জার্মানির যেই স্থানে ওপেন পিট মাইন আছে সেখানে কোন জনবসতি ছিলোনা, তাই ঐ জায়গায় ওপেন পিট মাইন করলে সমস্যা নেই তাই তারা করেছে সর্বোচ্চ লাভের জন্য। কিন্তু বাংলাদেশে যেই ফুলবাড়িতে এটা করার জন্য পরিকল্পনা করা হচ্ছে সেখানে বাংলাদেশের ধান উৎপাদনের একটি প্রধান অঞ্চল। খনিটিও তিনটি উপজেলা সদরকে কেদ্র করে রয়েছে। এবং মূল কথা ওপেন পিট খনি হলে পুরো দিনাজপুর জেলার ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তরের উপর প্রভাব পড়বে। তাই জার্মানীর উদাহরণ টেনে এটাকে জায়েজ কররা কোন সুযোগ নেই। এটাকে বলে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা।
        আপনার পরের পর্বগুলর অপেক্ষাই রইলাম।

        1. >সচেতন বা অসচেতন কোন ভাবেই
          >সচেতন বা অসচেতন কোন ভাবেই আপনার কোন প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার কোন প্ল্যান বা মনোবাসনা আমার নেই…
          >> “আমার প্রশ্ন ছিল ভারত যেখানে নিজ দেশে সুন্দরবনে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করতে গিয়ে পিছিয়ে এসেছে সেখানে আমাদের আগ্রহ এতো বেশী কেন?”– এইটা একটু রেফারেন্স দিয়ে দিয়েন আতিক ভাই… আমি সত্য জানতে সিরিজটা শুরু করেছি! শুরুতেই কারও পক্ষ নিয়ে বা বিপক্ষ নিতে চাচ্ছি না!
          >>> এইটা অনেকটাই একচেটিয়া না পুরোপুরি যথেচ্ছাচার হয়ে গেল আতিক ভাই… “এতো ক্ষুদ্র একটি দেশে যেখানে বনভূমির সংকটে আবহাওয়ায় বিরূপ প্রভার অলরেডি পড়তে শুরু হয়ে গেছে। সেখানে দেশের বৃহত্তম একটি বনভূমি ধ্বংস হওয়ার বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা থাকতে পারে এমন কোন প্রকল্পে আমি সমর্থন দিতে রাজী নই।”! খুবই অতিসরলীকরণ হয়ে গেল!! ঐ যে বললাম বিশ্বের ৭৫% দূষণের জন্য দায়ী পশ্চিমা বিশ্বের দূষণের প্রভাব আমাদের এইখানেই বেশী পরবে!! তাই তাবৎ দুনিয়ার দূষণের দশমিকের ঘরের দূষণের বিরোধিতা করা কতটা যৌক্তিক? আর বর্তমানে দূষণ নিয়ে সাড়া বিশ্বে অন্যতম শক্তিশালী কণ্ঠই হচ্ছে বাংলাদেশ তথা আওয়ামী সরকার…
          >>>> অরফিয়াসের ফটোব্লগের সমালোচনায় যা বলেছেন তার উত্তরে বলছি আপনি আমার একটা ভাল সুযোগ দিয়ে দিলেন! ‘সেইসব দেশ কি বাংলাদেশের মতো এতো ক্ষুদ্র, অথচ জনবহুল দেশ? সেখানে কি এই একটিই সবেধন নীলমণি বৃহৎ বনভূমি আছে? একটা উদাহরণ দেওয়ার আগে আগেপিছে সাত পাঁচ ভেবে দেওয়া কি উচিৎ না?”
          অবশ্যই উচিৎ… আর উচিতের কথায় আসলে এখনও বাম-ডান সবাইকে এক সাথে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রনের কঠোর নীতিমালার জন্য আন্দোলন করা উচিৎ… কেননা স্বল্প রিসোর্স এবং সীমিত গণ্ডির এই ভূখণ্ডে যখন ২০৫০ সালে ২৫-৩০ কোটি মানুষের বসতি ঘরতে হবে তখন এমনিতেই সকল বনভূমি উজাড় হয়ে যাবে…

          আমার প্রথম পোস্টটি অভিযুক্ত দলটির পূর্ব ইতিহাস নিয়ে এই জন্যেই… অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আমার দরকার এই বিষয়ে কাজ করার জন্য!! ধন্যবাদ আতিক ভাই!! দেখি ধারাবাহিকটি কই যায়…

    2. আমি অনেকগুলা দুঃস্থ মেয়েরে

      আমি অনেকগুলা দুঃস্থ মেয়েরে হেল্প করছি বইলা একটা মেয়েরে রেইপ করার সার্টিফিকেট পেয়ে যাই না।

      :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

      1. লিংকন ভাইয়ের কথাটাই বলি
        লিংকন ভাইয়ের কথাটাই বলি ‘খুঁজে দেখতে চাই আসলেই আওয়ামী সরকার সকল অসুন্দর নারীকে/দুঃস্থ নারীকে হেল্প করে ছলেবলে সুন্দরীতম ঐশ্বরিয়াকে লাঞ্ছিত করছে কিনা..’!! কারণ আমার সিদ্ধান্ত আগে নেয়া না!! আগে জেনে নিই, তারপর বলি আসলেই কি সে সুন্দরীটাকে ধর্ষণ করছে? নাকি মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে? অথবা, আসলেই যদি ধর্ষণের প্ল্যান করে থাকে তবে উদ্ধারের উপায় কি?
        দেখি লিংকন ভাইয়ের ধারাবাহিকটি থেকে কি পাওয়া যায়…

  2. লিংকন ভাই, অনেক তথ্য সংগ্রহ
    লিংকন ভাই, অনেক তথ্য সংগ্রহ করে পোস্ট লিখেছেন। পরের পর্বে হয়তো আরও অনেক তথ্য পাবো আমরা। কিন্তু এটা বুঝতে পারছি না ঠিক কি কারণে আপনি এই প্রজেক্টকে সাপোর্ট করতেছেন। দেশে তো আরও অনেক জায়গা আছে রামপাল বাদে। সেখানে করা যেতো। সরকার কেন রামপালকে বেঁছে নিয়েছে সেই হিসাবটা খুব একটা কঠিন না। ভারত চাইতেছে রামপালেই হোক। আমাদের বিদ্যুৎ ঘাটতি আছে এবং আমাদের দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রয়োজন, তাই বলে সব কিছু জলাঞ্জলি দিয়ে?

    1. উত্তর বাঙলা ভাই,
      আমি / আমরা

      উত্তর বাঙলা ভাই,
      আমি / আমরা জনগণ কিসের যায়গায় আছি? সরকারের কাজের বিচারকের ভুমিকায়?
      তাহলে আপনি খালি বাদী পক্ষের কথা শুনবেন? নাকি বিবাদীর ভাষ্যও শুনার দরকার?
      তাহলে, এইবার সবার কথায় বলি- মাত্রতো পর্ব শুরু? আমি জাস্ট এইটা বলতে চাইছি যে যখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় একটা সরকার থাকে তখন সেই সরকারই জনসাধরনের কথা বলে,
      যদি সরকার ভুল করে থাকে তাহলে রুখে দেয়ার দায়িত্বও আমাদের জনগণের…
      কিন্তু তাই বলে কি আমি পূর্বআরোপিত সিদ্ধান্তের বশবর্তী হয়ে মন্তব্য করব নাকি বিচারকের জায়গা থেকে বিচার করব? আমি সবসময় সরকারের (যে কোন…) কাজের গঠনমূলক সমালোচনার পক্ষপাতী,কেননা বাঙলাদেশ ক্রিকেট টিমের মত এই সরকার হারা মানে আমিও হারা… আর যখন আমি এইটা ভাবব তখন আমার সমালোচনা থেকে পরামর্শ দেয়ার আগ্রহ বেশী হবে!!

      দেখি কোন কিছু বের করে আনতে পারি কিনা!! তবে না বুঝে না পড়ে আরেকদলের কথা শুনে ঝাঁপিয়ে পরতে রাজি নই আমি, নিজের ঘাড়ের উপরের কিছু মস্তিষ্কের অবমাননা ঠিক করতে পারি না আমি… আমি সব সময় কাউকে কোন কাজ করতে না করতে তার সঠিক পথটাও বাতলায় দিতে পছন্দ করি… ধন্যবাদ পড়ার জন্য…

      1. রামপালে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র
        রামপালে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে যেটুকু জেনেছি তাতে আমার কাছে মনে হয়েছে এটা স্থাপনের জন্য রামপাল কোন ভাবেই আদর্শ স্থান হতে পারে না। তারপরেও যে রামপালেই হচ্ছে, এটার পিছনে মূল অনুঘটকের ভুমিকায় রয়েছে আমাদের নতজানু পররাষ্ট্রনীতি। আপনি চালিয়ে যান। পরের পর্বে হয়তো আরও অনেক কিছুই জানা যাবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমার অবস্থান এটার বিপক্ষেই থাকলো। আপনাকেও ধন্যবাদ।

  3. এত কিছু বুঝি না রামপালের
    এত কিছু বুঝি না রামপালের বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প নিজেদের স্বার্থেই বাতিল হওয়া বাঞ্ছনীয়। একবার মুক্তিযুদ্ধ করলে পরে দেশ বিরোধী কাজ করলে যেমন সে আর মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদা পায় না তেমনই,একবার আইন করে গেছে বলে এখন সেটা ধ্বংস করা হবে এটা মেনে নেয়া যায় না।
    এখানে পতিপক্ষ আওয়ামিলীগ এটা না দেখে দেখুন ধ্বংস হতে যাচ্ছে সুন্দরবন। যেটা আমাদের জাতীয় সম্পদ। বিস্ববাসীর কাছে আমাদের পরিচিত করে এটা।

    পরিশেষে একটা কথাই বলব তারিক ভাই আজকের আওয়ামিলীগের অবস্থানের বিপরীতে বিএনপি থাকলে কি পোস্ট টা এমন হত? রাম পালের বিরোধিতা আরোও কঠোর হত না আপনার দ্বারা??

    1. বিএনপি’র মত আদর্শহীন একটা দল
      বিএনপি’র মত আদর্শহীন একটা দল দেশের মৌলিক সমস্যা নিয়ে কোন কাজ করে নাই…
      অনেক কিছুই স্বার্থবিরোধী কাজ করতে চেয়েছিল আওয়ামীলীগ বামদের নিয়েই প্রতিহত করেছে!
      একমাত্র সাইফুর রহমানের করনীতি ছাড়া জিয়া-খালেদার ১৫.৫ বছর বা ৩৬.৯% সময় রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকা কালে তেমন কোন উল্লেখযোগ্য কাজই করে নাই…
      রামপাল বিরোধিতা আরও কঠোর হত আমার ধারা এইটা একটা ধারনাগত তর্কের হাতিয়ার ছাড়া আর কিছুই নয়…
      আর আমার পোস্টতো এখনও শেষ হয়ে যায় নাই! দেখ কি বলতে চাই…
      আমাদের একটা মূল সমস্যা আমরা প্রশংসা করি সিংহের আর বসবাস করি বিড়ালের সাথে…

  4. লিংকন ভাই আমি বুজতাছিনা কেন
    লিংকন ভাই আমি বুজতাছিনা কেন আপনি এই প্রজেক্টে সাপোর্ট করতাছেন ।সুন্দরবন গেলে কিন্তু আমাদের দেশ আর টিকে থাকবেনা ।

    1. আমিও বুঝতেছিনা কেন প্রথম স্লগ
      আমিও বুঝতেছিনা কেন প্রথম স্লগ ওভারে বাঙলাদেশের স্কোর ৫৬/৪ (১০ ওভার) হলেও আমরা আশাবাদী থাকি… যে রাজনৈতিক দলটি ৪২ বছরের মধ্যে কাজ করার সুযোগ পাইছে মাত্র ১৩.৫ বছর এবং দেশের মোট মৌলিক কাজের বেশীর ভাগই করেছে এইসময়ে তাদের প্রতি আমার আস্থা এবং বিশ্বাস একটু বেশিই আছে, হয়তো জয় বাঙলার দালাল বলে…
      (ট্যাগিং কিন্তু শুরু হয়েছে অনেক অনেক আগে থেকেই…)
      দেখি কেন এই প্রজেক্ট আমি/আমরা সাপোর্ট করব অথবা বিরোধিতা করব?
      ফ্যাশন হিসেবে বিরোধিতা করা মানুষ হিসেবে আমি মানতে পারি না…

      1. লিংকন ভাই, ট্যাগিং এর বিষয়টা
        লিংকন ভাই, ট্যাগিং এর বিষয়টা জাস্ট ঝেড়ে ফেলে দেন। আপনি যখন একটা কাজ করবেন তখন আপনার সমালোচনা হবেই। কেউ করবে পজেটিভ কেউ বা নেগেটিভ।

        1. চেষ্টা করছি!!! ধন্যবাদ… ভাল
          চেষ্টা করছি!!! ধন্যবাদ… ভাল থাকবেন!! :গোলাপ: :গোলাপ: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ফুল: :ফুল:

    1. দৌড়া দৌড়ি কি আজও শেষ হয়
      দৌড়া দৌড়ি কি আজও শেষ হয় নাই… মন্তব্যের অপেক্ষায় রইলাম!!
      কিছু প্রশ্ন চাই… প্রশ্নই অনেক সমস্যার সমাধান করে দিতে পারে অনেক সময়…
      অপেক্ষায় আছি :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি:

  5. [“রাষ্ট্র ক্ষমতার৩২.১৫% সময়
    [“রাষ্ট্র ক্ষমতার৩২.১৫% সময় শাসন করে জীব বৈচিত্র্য রক্ষার সরকারী উদ্যোগের ৬৪.১০% কাজই এই দলটি করেছে”।]

    চমৎকার তথ্যবহুল একটি পোস্ট ।ধন্যবাদ লিংকন ভাই ।

  6. রামপালের বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি
    রামপালের বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি সুন্দরবন থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থিত (১৪ কিলোমিটার) এবং ইউনেস্কো স্বীকৃত ন্যাশনাল হ্যারিটেজ সাইট থেকে ৭২ কিলোমিটার দূরে। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি একটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সুপার ক্রিটিক্যাল টেকনোলজি ও উন্নতমানের আমদানি নির্ভর কয়লা ব্যবহারের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। এতে কার্বন, সালফার, ও অন্যান্য বায়ুদূষণের পরিমাণ ন্যূনতম পর্যায়ে থাকবে যা পরিবেশের উপর কোনরূপ বিরূপ প্রভাব ফেলবে না।
    সুতরাং সুন্দরবন ধ্বংশের অভিযোগটি সম্পুর্ণ উদ্দেশ্যমুলক, ভিত্তিহীন ও অযৌক্তিক।

    1. শাহিন ভাই বিরোধীদের তথ্য সবাই
      শাহিন ভাই বিরোধীদের তথ্য সবাই দেয় কিছু ভাল তথ্য আমার ফেসবুক ইনবক্সে দিন পরবর্তী পোস্টে কাজে লাগবে এমনিতে আরেকটা পোস্টে আপনার মন্তব্য পড়ে দারুণ উৎসাহবোধ করেছিলাম!! অনেক ঝামেলার মাঝেও গতরাতে পোস্টটার শুরু করলাম…
      পাশে থাকবেন আশাকরি… আর অর্থ লঘ্নি করার % এবং মালিকানা নিয়ে যে তর্ক তার সম্পর্কে তথ্যদিন!! ভাল থাকবেন… ধন্যবাদ :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ:

  7. তারিক ভাই, সুন্দর তথ্যের জন্য
    তারিক ভাই, সুন্দর তথ্যের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। এই গুলো মানুষের জানা উচিৎ। তাছাড়া অনেকের ধারণা হবে সরকার খালি বন ধ্বংসই করে, সংরক্ষণের জন্য কোন উদ্যোগ নেয় না। কিন্তু আমার এখানে কিছু কথা আছে আমি মনে করি সরকার রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে অপরিপক্কতার প্রমাণ দিয়েছে এটা নিয়ে মুক্ত আলোচনা হতে পারত। বিভিন্ন সেমিনার করে তারপর সিদ্ধান্ত নিতে পারত।
    আর তেল গ্যাস রক্ষা কমিটি যতনা আন্দোলন নিয়ে ব্যস্ত তার রামপাল এর বাইরে বিকল্প কি হতে সেটা নিয়ে আওয়াজ ততটাই কম। ইদানিং অবশ্য দেখলাম বিকল্প ব্যবস্থা কথা বলা হয়েছে কিন্তু সেটাও খুব সীমিত ভাবে। আমি টুক টাক যে কয়টা আলোচনা বা মিটিং এ গেছি সেখানও একই অবস্থা।
    মনেকরি না সরকারের এক ঘুয়েমির দরকার আছে আলোচনা হোক, রামপালে না হলে কোথায়। সেখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা, জমি অধিগ্রহন, পরিবেশ-প্রতিবেশ, পর্যাপ্ত ভূমি আছে কিনা, টাইম ফ্রেম, অন্যান্য সুবিধাদি নিয়ে আলোচনা হোক।

    সংবাদ পত্রের মত প্রথম পৃষ্ঠায় লংমার্চ এর খবর শেষ পৃষ্ঠায় অসহনীয় লোডশেডিং করা বা এই জাতীয় কথা বলা যত সহজ এই দুইয়ের মাঝে সিদ্ধান্ত নেয়া সে পরিমাণ কঠিন।

    1. এখানে কিছু কথা আছে আমি মনে

      এখানে কিছু কথা আছে আমি মনে করি সরকার রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে অপরিপক্কতার প্রমাণ দিয়েছে এটা নিয়ে মুক্ত আলোচনা হতে পারত। বিভিন্ন সেমিনার করে তারপর সিদ্ধান্ত নিতে পারত…

      এইটাই আমার মূল আফসোস।। যদি সত্যিই দেশের ভাল চান তো বসে খোলামেলা আলোচনা করুন। এই সরকার কার সাথে বসে নাই? আকরাম খান থেকে ইলিয়াস আলির বউ, গনজাগরন মঞ্চের সাথে শুরু করে সাগর-রুনি ইস্যু নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সংবাদ সংস্থার সাথেও সরকার কথা বলেছে… তাহলে সরকারের কোন মহলের সাথে কোন প্রকার ভদ্রস্থ আলোচনায় না গিয়ে সরাসরি রাস্তায় নেমে পরাটা কি স্বদিচ্ছার প্রমাণ দেয় না…

  8. ” ডোন্ট ডিস্টার্ব আইউব ” এর
    ” ডোন্ট ডিস্টার্ব আইউব ” এর মতো এখন আওয়ামী অন লাইন পণ্ডিতেরা ” ডোন্ট ডিস্টার্ব হাসিনা ” প্রকল্প নিয়ে হাজির হয়েছে । উপরে জয়ের কথার সূত্র ধরে বলতে চাই এই ইনারাই বিএনপির আমলে এই ধরণের কাজের তীব্র বিরোধিতা করে অন লাইন ভাসিয়ে ফেলবে । এসব দলকানা মানুষ থেকে দেশ দলীয় স্বার্থ হাসিল করা ছাড়া আর কি পেতে পারে ?

    1. “ডোন্ট ডিস্টার্ব
      “ডোন্ট ডিস্টার্ব রাষ্ট্রস্বার্থ” এইটাই আমার নীতি!! দেখিনি সিদ্ধান্ত কে নিয়েছে দেখতে চেয়েছি কি নিয়েছে আর এই সুন্দরবন ধ্বংসের অভিযোগে অভিযুক্ত আসামী ষড়যন্ত্রকারী সরকারটির আগের ইতিহাস!! আপনি আইনের লোক, আসামী কি পেশাদার খুনি এইটার জন্য আপনি পূর্ব ইতিহাস দেখবেন না? “এইটা নিছকই রাষ্ট্রস্বার্থ রক্ষার্থের সম্ভব সেরা সিদ্ধান্ত” অথবা “এইটা দেশের স্বার্থ বিরোধী ষড়যন্ত্র” সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলবেন বাচ বিচার ছাড়া?
      এর থেকে সেরা সমাধান যদি দেশের দেশপ্রেমিক বুদ্ধিজীবীদের কাছে থাকে তবে সরকারকে দিক… অযথা বিতর্কের সৃষ্টি কি থামাতে পারবে এই কাজকে? নাকি তা তারা চাই না, তারা চাই সরকারের আরেকটা কাজকে ব্যর্থতা বলে চালায়তে?
      আর রাহাত ভাই যুক্তি ছাড়া এমন নগ্ন আক্রমন আপনাকে মানায় না!!
      এইটা একটা ধারাবাহিক পোস্টের প্রথম পর্ব, আমি দেখতে চাইছি আসামীর পূর্ব ইতিহাস! আগামীতে দেখব কোন প্রেক্ষিতে সে এমন অভিযোগে অভিযুক্ত আর কিই বা সে অভিযোগ! আমি “ডোন্ট ডিস্টার্ব উন্নয়ন” এর কথা বলতে চাই…

      সহজ হিসেব আপনি কাউকে দিয়ে ভাল কাজ করাতে চান তবে তার কাজের স্বীকৃতি দিন এবং গঠনমূলক সমালোচনা করুণ, আর যদি তাকে ধ্বংস করতে চান তবে কোন পথ বাতলায় না দিয়েই ক্রমাগত বিরোধিতা করুন…
      এখন পছন্দ আপনার-

    2. ” ডোন্ট ডিস্টার্ব হাসিনা

      ” ডোন্ট ডিস্টার্ব হাসিনা ”

      তামাশা করে বলেন আর যাই বলেন বাংলাদেশের জন্য এটাই ঠিক। এখনও বাংলাদেশে হাসিনাই আশা ভরসার প্রতীক, আস্থার জায়গা। সেটা তিনি প্রমাণ করেছেন এবং করে যাচ্ছেন। এজন্য বলি ওনাকে সাহায্য করুন দেশ টা আরও সুন্দর হয়ে উঠবে। আওয়াজ যে যত দিক না একমাত্র শক্তিশালী অবস্থান থেকে তিনিই নিজেকে প্রমাণ করতে পেরেছেন।

      1. তামাশা করে বলেন আর যাই বলেন

        তামাশা করে বলেন আর যাই বলেন বাংলাদেশের জন্য এটাই ঠিক। এখনও বাংলাদেশে হাসিনাই আশা ভরসার প্রতীক, আস্থার জায়গা। সেটা তিনি প্রমাণ করেছেন এবং করে যাচ্ছেন। এজন্য বলি ওনাকে সাহায্য করুন দেশ টা আরও সুন্দর হয়ে উঠবে। আওয়াজ যে যত দিক না একমাত্র শক্তিশালী অবস্থান থেকে তিনিই নিজেকে প্রমাণ করতে পেরেছেন। /blockquote>

        সত্যকথনের জন্য কিরন ভাইরে :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :বুখেআয়বাবুল: …

  9. রাহাত সাবের মন্তব্য দেখে বুঝা
    রাহাত সাবের মন্তব্য দেখে বুঝা যায় আওয়ামীলীগ সমর্থন করে আমরা মহা অপরাধ করেছি ।উনার ভাষায় রাজনৈতিক দল সমর্থন একটা মারাত্মক অপরাধ!

    শোনেন ভাই, এভাবে তেড়ে আসবেন না ।আমরা যেভাবে যুক্তি প্রমাণ দিয়ে বুঝানোর চেষ্টা করতেছি আপনারাও সেভাবে করুন ।দেশে বিদেশে এমন কোন বিদ্যুৎ কেন্দ্র দেখাতে পারবেন যেটা পরিবেশের বিন্দুমাত্র কোন ক্ষতি সাধিত করছে না?
    দয়া করে আক্রমন করে কথা বলে মেকি জঙ্গলপ্রেম আর মেকি দেশপ্রেম দেখাতে আসবেন না ।বাংলাদেশে বসবাস করে মাওসেতুং এর আদর্শগ্রহণকারীদের দেশপ্রেমের সীমানা কতটুকু তা আমাদের জানা আছে ।
    ধন্যবাদ ।

    1. কুকুরের কাজ কুকুর করেছে কামড়
      কুকুরের কাজ কুকুর করেছে কামড় দিয়েছে পায়,
      তাই বলে কি কুকুরের পায়ে কামড়ানো মানুষের শোভা পায়?

      শাহিন ভাই আমি কামড়া কামড়িতে বিশ্বাসী না…
      তাই আপনার শেষ লাইনদ্বয়ের মত করে আশাকরি কখনই আক্রমন করবেন না।। 😉
      আমি কোন দলবাজি করছি না, দেশের প্রয়োজনে যা ভাল মনে হবে তাই সমর্থন করব…
      তার পক্ষে বলব!! ভাল থাকবেন… ধন্যবাদ!!

      1. লিংকন,
        আমার চোখকে বিশ্বাস

        লিংকন,
        আমার চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিনা

        কুকুরের কাজ কুকুর করেছে কামড় দিয়েছে পায়,
        তাই বলে কি কুকুরের পায়ে কামড়ানো মানুষের শোভা পায়? – See more at: http://www.istishon.com/node/4924#sthash.UCZ13JoX.dpuf

        – এই কথা গুলো আপনি লিখেছেন আমার উদ্দেশে । এক ধাক্কায় কুকুর বানিয়ে দিলেন ? এমন শব্দ বা বাক্য আমার চরম শত্রু’ র প্রতি বর্ষণ করার আগে আমাকে বেশ কয়েকবার ভাবতে হবে । যাকগে, ভালো থাকবেন । আপনার জন্য শুভ কামনা রইলো !

        1. রাহাত ভাই ভুল বুঝতেছেন!!
          রাহাত ভাই ভুল বুঝতেছেন!! আপনার উদ্দেশ্যে এই লাইনদ্বয় নয়!!
          :খাইছে: :খাইছে: :খাইছে: :খাইছে: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :খাইছে: :খাইছে: :খাইছে: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :আমারকুনোদোষনাই: :আমারকুনোদোষনাই: :আমারকুনোদোষনাই: :আমারকুনোদোষনাই:

    2. মিঃ শাহিন ( টাই )
      হুম …

      মিঃ শাহিন ( টাই )
      হুম … আওয়ামীলীগারদের ধৈর্যের বাঁধ এতো ঠুনকো !!! মানছি কমেন্টটা কিছুটা ঝাঁঝালো হয়েছে । আপনার মতামত আপনি দেবেন ভালো কথা কিন্তু আপনি আমাকে দয়া করে বলুন রামপাল লং মার্চের সাথে মাওবাদের বা মাওবাদীদের সংশ্লিষ্টতা থাকলে কি সমস্যা ? মুজিববাদিদের অংশ নিতে তেল, গ্যাস,বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি নিষেধ করেছে নাকি ? অহেতুক দেশ প্রেম নিয়ে খোঁচা মারছেন কেন ?

  10. আমিও কাউকে আক্রমন করে কথা বলা
    আমিও কাউকে আক্রমন করে কথা বলা পছন্দ করি না ।কিন্তু অনেক সময় ধৈর্য্যের বাধ আটকানো অসম্ভব ঠেকে ।

    যাইহোক, আপনার আপত্তি সাদরে গ্রহণ করে বলছি, এমন মন্তব্যের পুনরাবৃত্তি যাহাতে আর না ঘটে তার জন্য প্রাণপন চেষ্টা করবো ।
    ধন্যবাদ আপনাকে ।

  11. আমি অপেক্ষায় আছি। রামপালের
    আমি অপেক্ষায় আছি। রামপালের পক্ষে যারা তারা এক ধরনের যুক্তি এবং বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রদর্শন করছেন, আবার রামপাল প্রকল্পের বিপক্ষে যারা তারা আরেক ধরনের যুক্তি প্রদর্শন করছেন। আমি অপেক্ষায় আছি সত্যের জন্য। তবে এখনো পর্যন্ত এটা মনে হচ্ছে যে রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প সুন্দরবনের জন্য কিছু না কিছু হলেও হুমকী স্বরূপ। ধন্যবাদ তারিক লিংকন পোস্টের জন্য। আশা করি পরবর্তী সিকুয়েন্স গুলোতে আরো ভাল ভাল কিছু তথ্য পাব। :ভাবতেছি: :ভাবতেছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি:

    1. দ্রুপদ ভাই,
      আপনাকেও অফুরন্ত

      দ্রুপদ ভাই,
      আপনাকেও অফুরন্ত ধইন্যা!! আর ‘তবে এখনো পর্যন্ত এটা মনে হচ্ছে যে রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প সুন্দরবনের জন্য কিছু না কিছু হলেও হুমকী স্বরূপ’– লাইনটা আমাদের সকলের পরিবেশ প্রেমের সরল বহিঃপ্রকাশ… যা দেশ ও বিশ্বের জন্য খুবই ভাল একটা ব্যাপার!!

  12. “এখনো পর্যন্ত এটা মনে হচ্ছে
    “এখনো পর্যন্ত এটা মনে হচ্ছে যে রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প সুন্দরবনের জন্য কিছু না কিছু হলেও হুমকী স্বরূপ”।
    – মানি বা বিশ্বাস করি ।একেবারে ক্ষতি যে হবে না তা বলা যেমনি অনুচিত তেমনি সুন্দরবন একেবারে ধ্বংশ হয়ে যাবে এমন অভিযোগ তোলাও অযৌক্তিক ।

    1. মানি বা বিশ্বাস করি ।একেবারে
      মানি বা বিশ্বাস করি ।একেবারে ক্ষতি যে হবে না তা বলা যেমনি অনুচিত তেমনি সুন্দরবন একেবারে ধ্বংশ হয়ে যাবে এমন অভিযোগ তোলাও অযৌক্তিক…

      এমন ক্ষতি অ্যাটল্যান্টিকের পারের পাশ্চাত্যে হলেও এন্টারটিকার বরফ গলে বাঙলাদেশের ৩ কোটি মানুষ প্লাবিত হওয়ার আশংকা থাকে… আর এই নিয়ে দেশ হিসেবে এবং দলগতভাবে আওয়ামী সরকারই বিশ্বে অন্যতম বলিষ্ঠ কণ্ঠ… তাই আমি আওয়ামীলীগকে সুন্দরবনের রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র করার আগে আরও একবার ভেবে নেয়ার অনুরোধ করব হয়তো!!
      তবে এর জন্যে দাবীর শুরুতেই কমিশনখোর বলে কথা শুরু করা কখনই ভদ্রস্থ কোন আন্দোলনের ভাষা হিসেবে আমি মেনে নিতে পারি না… কেননা এই ভাষা কর্তৃপক্ষকে জিদ চাপায় দিবে এবং তাই হবে!

      “পরিবেশ পরিবেশ স্বেচ্ছাচারী সমাবেশ
      বৃক্ষ-জলরাশি-পাহাড় নীল আকাশ নত
      জগদীশের প্রিয় প্রাণের তৃণরাজি
      মানুষেই আহত

      মানুষ-সভ্যতা-টেকসই অর্থনীতি-
      বেগবান বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
      সূচক ঊর্ধ্বগামী আর? -পরিবেশ নিঃস্ব;
      প্রাণী কূল তৃণমূল বৃক্ষ
      সভ্যরা এগিয়ে যায় পিছনে রেখে বিশ্ব…”

    2. উনাদের কথা শুনে মনে হচ্ছে,
      উনাদের কথা শুনে মনে হচ্ছে, বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে সুন্দরবনের চিহ্নও থাকবে না। কিন্তু কেন এরকম অদ্ভুত চিন্তাভাবনা, সে বিষয়ে ভালো মন্দ কোন কথাবার্তা নাই। আছে শুধু একচোখা তর্ক… এখানে অর্ফিয়াস ভাইয়ের একটা কথা খুব প্রযোজ্য…

      বাঘ আর বিদ্যুত দুইটাই আমাদের দরকার

      তবে তার চেয়েও বেশী দরকার বোধহয় পজেটিভ-নেগেটিভ সম্ভাব্য সবকিছু নিয়ে বিশদ আলোচনা :জলদিকর: :অপেক্ষায়আছি: … একচোখা কথাবার্তা শুধু বিতর্কই বাড়িয়ে যায়… :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:

  13. রাহাত সাহেব, আমি খোচা মারিনি,
    রাহাত সাহেব, আমি খোচা মারিনি, আপনার খোচার জবাব দিয়েছি মাত্র।
    আপনি যদি ভুক্তভোগী হতেন তবে বুঝতে পারতেন বিদ্যুৎ বেশি প্রয়োজন নাকি বনের সৌন্দর্য্য বেশি প্রয়োজন ।
    আমি মনে করি, আমরা যেমন অন্ধভাবে (আপনাদের ভাষায়)রামপালকে সমর্থন দিচ্ছি তেমনি আপনারা তার চাইতেও বেশি অন্ধভাবে এর বিরুধীতা করতেছেন।

    1. আমরা যেমন অন্ধভাবে (আপনাদের

      আমরা যেমন অন্ধভাবে (আপনাদের ভাষায়)রামপালকে সমর্থন দিচ্ছি তেমনি আপনারা তার চাইতেও বেশি অন্ধভাবে এর বিরুধীতা করতেছেন।

      এইটা যতটাই সমর্থনযোগ্য প্রথম লাইন ‘আপনি যদি ভুক্তভোগী হতেন তবে বুঝতে পারতেন বিদ্যুৎ বেশি প্রয়োজন নাকি বনের সৌন্দর্য্য বেশি প্রয়োজন…’ ততটাই হাস্যকর হয়েছে!! আমাদের সুন্দরবনও প্রয়োজন সাথে সাথে বিদ্যুৎ ও…

    2. আমি মনে করি, আমরা

      আমি মনে করি, আমরা যেমন
      অন্ধভাবে (আপনাদের
      ভাষায়)রামপালকে সমর্থন
      দিচ্ছি তেমনি আপনারা তার চাইতেও
      বেশি অন্ধভাবে এর বিরুধীতা করতেছেন।

      ভাই হ্যা আমরা অন্ধ এই ক্ষেত্রে আমরা দেখছি না আমাদের পতিপক্ষ এখানে লীগ আমাদের একমাত্র লক্ষ্য সুন্দর বন রক্ষা। আর আপনি অন্ধ এখানে আপনি দেখছেন না এখানে সুন্দরবন হুমকীর মধ্যে আপনি দেখছে এখানে লীগ আছে। এবং তাকে সাপোর্ট দিতে হবেই।

  14. অন্য একজনের একটি লেখা এখানে
    অন্য একজনের একটি লেখা এখানে শেয়ার করছি। সত্য মিথ্যা যাচাইয়ের ভার পাঠকের হাতে।

    ভারতের এনটিপিসি কোম্পানি সেই দেশের ছত্তিশগড়ে একই প্রকল্প অর্থাৎ একটি ১৩২০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লাভিত্তিক তাপ-বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছিল। সেই দেশের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের গ্রিন প্যানেলের ইআইএ রিপোর্ট প্রকল্পটিকে পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি বলে প্রতিবেদন দাখিল করায় ভারত সরকার সেই প্রকল্পটি বাতিল করেছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে, যে প্রকল্পটি তার জন্মভূমি ভারতে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র পেতে ব্যর্থ হলো সেটি আমাদের দেশে পরিবেশগত ছাড়পত্র পেল কীভাবে? পরিবেশগত ছাড়পত্র দেয়ার জন্য যে ইআইএ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছিল, তার মধ্যে বেশ কিছু মোটা দাগের অসঙ্গতি রয়েছে। ছত্তিশগড়ে বাতিল হয়ে যাওয়া একই প্রকল্পের জন্য ভারতীয় ইআইএ প্রতিবেদনের সঙ্গে বাংলাদেশের ইআইএ প্রতিবেদনের তুলনা করলে বিষয়টি পরিষ্কার বোঝা যায়। এই অসঙ্গতিগুলো হচ্ছে- সুন্দরবন হতে স্বল্প সঙ্কট দূরত্ব: ইআইএ প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রস্তাবিত রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পটি সুন্দরবন থেকে মাত্র ১৪ কিমি দূরে এবং সরকার নির্ধারিত সুন্দরবনের চারপাশের ১০ কিলোমিটার ইনভায়রনমেন্টালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া (ইসিএ) থেকে ৪ কিমি বাইরে বলে নিরাপদ হিসেবে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু জিআইএস সফটওয়্যার দিয়ে মেপে দেখা যায়, এই দূরত্ব সর্বনিম্ন ৯ কিলোমিটার হতে সর্বোচ্চ ১৩ কিলোমিটার। এনটিপিসি নামে যে ভারতীয় কোম্পানিটি সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের পাশে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে যাচ্ছে সেই ভারতেরই ‘ওয়াইল্ড লাইফ প্রটেকশন অ্যাক্ট ১৯৭২’ অনুযায়ী, বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১৫ কিমি ব্যাসার্ধের মধ্যে কোনো বাঘ বা হাতি সংরক্ষণ অঞ্চল, জীববৈচিত্র্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চল, জাতীয় উদ্যান, বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য কিংবা অন্য কোনো সংরক্ষিত বনাঞ্চল থাকা চলবে না। অর্থাৎ ভারতীয় কোম্পানি এনটিপিসিকে বাংলাদেশে সুন্দরবনের যত কাছে পরিবেশ ধ্বংসকারী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে দেয়া হচ্ছে, নিজ দেশ ভারতে হলে সেটা তারা করতে পারত না। শুধু তা-ই নয়, আন্তর্জাতিক কোনো মানদণ্ডেই সংরক্ষিত বনাঞ্চলের এত স্বল্প সঙ্কট দূরত্বে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। আমাদের দেশে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কোনো আইন না থাকায় এনটিপিসি ও পিডিবি এই ১০ কিলোমিটারের সুযোগটা নিয়েছে। প্রকল্প এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জনবসতি, ফসল ও মৎস্য সম্পদের ক্ষতি : রামপালে প্রতিষ্ঠিতব্য এই ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ভারতে প্রতিষ্ঠার জন্য ৭৯২ একর একফসলি কিংবা অনুর্বর পতিত জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল অথচ বাংলাদেশে সেই একই প্রকল্পের জন্য ১৮৩৪ একর কৃষি, মৎস্য চাষ ও আবাসিক এলাকার জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে, যার ৯৫ শতাংশই তিনফসলি কৃষি জমি, যেখানে বছরে ১২৮৫ টন ধান ও ৫৬৯ দশমিক ৪১ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হয়। এই ধান-মাছ উৎপাদন বন্ধের সঙ্গে সঙ্গে এখন প্রায় ৮ হাজার পরিবার উচ্ছেদ হবে, যার মধ্যে উদ্বাস্তু এবং কর্মহীন হয়ে যাবে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ পরিবার। বাংলাদেশের ইআইএ প্রতিবেদন অনুসারেই প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকার ১০ কিমি ব্যাসার্ধের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় রয়েছে ৭৫ শতাংশ কৃষি জমি, যেখানে বছরে ৬২ হাজার ৩৫৩ টন ধান এবং ১ লাখ ৪০ হাজার ৪৬১ টন অন্যান্য শস্য উৎপাদিত হয়। গরান (ম্যানগ্রোভ) বনের সঙ্গে এই এলাকার নদী ও খালের সংযোগ থাকায় এখানে বছরে ৫,২১৮ দশমিক ৬৬ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হয়। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাস্তবায়ন করতে গেলে প্রকল্প এলাকার ফসল ও মৎস্য সম্পদ উৎপাদন বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হবেসবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে, ইআইএ প্রতিবেদনে পানি পরিশোধনের কথা বলা হলেও ‘শূন্য নির্গমন’-এর (জিরো ডিসচার্জ) বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। এটা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত যে, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে পানি নির্গমন হলে তাতে বিভিন্ন মাত্রায় দূষণকারী উপাদান থাকে। যে কারণে পৃথিবীর সব দেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রে ‘শূন্য নির্গমন’ নীতি অবলম্বন করা হয়। এমনকি এনটিপিসি রামপালে ‘শূন্য নির্গমন’ নীতি অনুসরণ না করে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে যাচ্ছে, সেই এনটিপিসিই যখন ভারতের ছত্তিশগড়ে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করার প্রস্তাব দিয়েছিল, তখন ‘শূন্য নির্গমন’ নীতি অনুসরণ করার বাধ্যবাধকতার বিষয়টি ভারতের ইআইএ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল। সর্বোপরি এই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নির্গত ঘণ্টায় ৫১৫০ ঘনমিটার পানি পশুর নদীর জলজ পরিবেশের তাপমাত্রা, পানি নির্গমনের গতি, পানিতে দ্রবীভূত নানান উপাদান বিভিন্ন মাত্রায় পরিবর্তন করবে, যা সংশ্লিষ্ট পুরো সুন্দরবন এলাকার পরিবেশের জন্য ধ্বংসকারী প্রভাব সৃষ্টি করবে।

  15. তারিক ভাই, আপনি এখনো হয়তো
    তারিক ভাই, আপনি এখনো হয়তো সিদ্ধান্ত নেননি যে আপনি কোন দিকে যাবেন। তবে, এক্ষেত্রে আমার কিছু কথা আছে। প্রথমেই বকে রাখি, আমি সরাসরিভাবেই রামপালে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে। এইবার কিছু তথ্য উপস্থাপন করি।

    প্রথমেই জেনে নিই কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে কিছু বেসিক কথা:
    কয়লা বিদ্যুৎ বর্তমানের বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্যতম মাধ্যম। সারা বিশ্বে বিদ্যুতের ৪৭% কয়লা বিদ্যুৎ। প্রথমেই দেখে নিন কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র কোন দেশে কি পরিমান পাওয়ার সাপ্লাই দিচ্ছে। সাউথ আফ্রিকা ৯৩%, পোল্যান্ড ৮৭%, চীন ৭৯%, অস্ট্রেলিয়া ৭৮%,
    কাজাকাস্তান ৭৫%, ভারত ৬৮%, ইসরাঈল ৫৮%, মরক্কো ৫১%, গ্রিস ৫৪%, আমেরিকা ৪৫%, জার্মানি ৪১%। ওয়ার্ল্ড কয়েল অ্যাসোসিয়েশান কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেকানিজমের উন্নতি সম্পর্কে নিম্মোক্ত বিবৃতি দেয় যা আসলেই ইমপ্রেসিভ এবং কয়লা বিদ্যুতের প্রতি আগ্রহ তৈরী করে:

    Efficiency improvements include the most cost-effective and shortest lead time actions for reducing emissions from coal- fired power generation. This is particularly the case in developing countries where existing power plant efficiencies are generally lower and coal use in electricity generation is increasing. Not only do higher efficiency coal-fired power plants emit less carbon dioxide per megawatt (MW), they are also more suited to retrofitting with CO2 capture systems.

    এইবার বলি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষতি সম্পর্কিত কিছু কথা:
    প্রথমেই এই লিঙ্কটা ঘুরে আসুন। খুব সুন্দর ভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে সবকিছু। http://ucsusa.org/clean_energy/coalvswind/c02c.html

    কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র মারাত্মক পরিবেশ দূষণ ঘটায় বলে সাধারণত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংরক্ষিত বনভূমি ও বসতির ১৫ থেকে ২০ কিমি এর মধ্যে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের অনুমোদন দেয়া হয়না। ইআইএ রিপোর্ট অনুসারে প্রস্তাবিত ১৩২০ মেগাওয়াট রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পটি সুন্দর বন থেকে মাত্র ১৪ কিমি দূরে যা সরকার নির্ধারিত সুন্দরবনের চারপাশের ১০ কিমি এনভাইরনমেন্টালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া(ইসিএ) থেকে ৪ কিমি বাইরে বলে নিরাপদ হিসেবে দাবী করা হয়েছে। অথচ যে ভারতীয় এনটিপিসি বাংলাদেশে সুন্দরবনের পাশে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ করতে যাচ্ছে সেই ভারতেরই ওয়াইল্ড লাইফ প্রটেকশান অ্যাক্ট ১৯৭২ অনুযায়ী, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১৫ কিমি ব্যাসার্ধের মধ্যে কোন বাঘ/হাতি সংরক্ষণ অঞ্চল, জৈব বৈচিত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চল, জাতীয় উদ্যান, বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য কিংবা অন্যকোন সংরক্ষিত বনাঞ্চল থাকা চলবে না। অর্থাৎ ভারতীয় কোম্পানি এনটিপিসিকে বাংলাদেশে সুন্দরবনের যত কাছে পরিবেশ ধ্বংস কারী কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করতে দেয়া হচ্ছে, তার নিজ দেশ ভারতে হলে সেটা করতে পারতো না! আবার সুন্দরবন থেকে দূরত্ব আসলেই ১৪ কিমি কিনা সেটা নিয়েও বিতর্ক আছে, অনেকেই বলছেন সুন্দরবন থেকে আসলে দূরত্ব ৯ কিমি। খোদ ইআইএ রিপোর্টের এক জায়গায় বলা হয়েছে প্রকল্পের স্থানটি একসময় একেবারে সুন্দরবনেরই অংশ ছিল, সেটলার
    বা বসতি স্থাপনকারীরা বন কেটে আবাসভূমি তৈরী করেছে:

    “The area is about 14 km northeastwards from the Nalian Range
    of Sundarbans. Once it was a part of Sundarbans but had been evacuated by the settlers.”(ইআইএ, পৃষ্ঠা ২০৮)

    রামপাল নিয়ে আরো কিছু কথা: রামপালে ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ১৮৩৪ একর কৃষি, মৎস চাষ ও আবাসিক এলাকার জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে যদিও ভারতে একই আকারের একটি প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে ৭৯২ একর যার বেশির ভাগটাই এক ফসলি কিংবা অনুর্বর পতিত জমি। (রায়গড় ইআইএ, এক্সিকিউটিভ সামারি, পৃষ্ঠা ১)। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইআইএ রিপোর্ট
    অনুসারে প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকার(১৮৩৪ একর) ৯৫ শতাংশই কৃষি জমি ও চারপাশের ১০ কিমি ব্যাসার্ধের এলাকার (স্টাডি এলাকা) ৭৫ শতাংশ কৃষি জমি যেখানে নিম্নোক্ত হারে চিংড়ি অথবা ধান সহ অন্যান্য ফসল উৎপাদন করা হয় (পৃষ্ঠা ১৩৫, ১৯৪, ১৯৭, ১৯৮, ২০৪) :
    ★ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১০ ব্যাসার্ধের মধ্যে বছরে ৬২,৩৫৩ টন এবং প্রকল্প এলাকায় ১২৮৫ টন ধান উৎপাদিত হয়;
    ★ ধান ছাড়াও বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১০ ব্যাসার্ধের মধ্যে বছরে ১,৪০,৪৬১ টন অন্যান্য শস্য উৎপাদিত হয়;
    ★ প্রতি বাড়িতে গড়ে ৩/৪টি গরু, ২/৩টি মহিষ, ৪টি ছাগল, ১টি ভেড়া, ৫টি হাস, ৬/৭টি করে মুরগী পালন করা হয়;
    ★ ম্যানগ্রোভ বনের সাথে এলাকার নদী ও খালের সংযোগ থাকায় এলাকাটি স্বাদু ও লোনা পানির মাছের সমৃদ্ধ ভান্ডার। জালের মতো ছড়িয়ে থাকা খাল ও নদীর নেটওয়ার্ক জৈব বৈচিত্র ও ভারসাম্য রক্ষা করে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১০ কিমি ব্যাসার্ধের মধ্যে বছরে ৫২১৮.৬৬ মেট্রিক টন এবং প্রকল্প এলাকায় (১৮৩৪ একর) ৫৬৯.৪১ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হয়।

    এইবার আরেকটু গভীরে যাই:

    ক্ষতিকর সালফার ও নাইট্রোজেন গ্যাস:

    ইআইএ রিপোর্ট অনুসারে ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৪২ টন বিষাক্ত সালফার ডাইঅক্সাইড (SO2) ও ৮৫ টন বিষাক্ত নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড(NO2)
    নির্গত হবে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই এই বিপুল পরিমাণ বিষাক্ত গ্যাস সুন্দরবনের বাতাসে SO2 ও NO2 এর ঘনত্ব বর্তমান ঘনত্বের তুলনায় কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়ে গোটা সুন্দরবন ধ্বংস করবে।

    ★ কার্বন ডাই অক্সাইড এর প্রভাব: প্রস্তাবিত কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি ব্যাবহারে ঢাক ঢোল পেটানো হচ্ছে। রিপোর্ট অনুসারে এই প্রযুক্তি ব্যাবহারের ফলে সাধারণ কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তুলনায় মাত্র ১০ শতাংশ কার্বন ডাই অক্সাইড কর্ম নির্গত হবে। ৮০% লোড ফ্যাক্টর ধরে প্রতিবছর কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমণের পরিমাণ হবে ৭৯ লক্ষ টন। সুন্দরবনের পরিবেশের উপর যে কোনো প্রভাব পড়বে না তা নিশ্চিত হব কিভাবে??

    ★ ৪) পানি দূষণ: যতই পরিশোধনের কথা বলা হউক, কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে পানি নির্গমন হলে তাতে বিভিন্ন মাত্রায় দূষণকারী উপাদান থাকবেই যে কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বেলায় ‘শূণ্য নির্গমণ’ বা ‘জিরো ডিসচার্জ’ নীতি অবলম্বন করা হয়। যে এনটিপিস রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করতে যাচ্ছে, সেই এনটিপিসি যখন ভারতে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করে তখন ‘জিরো ডিসচার্জ’ নীতি অনুসরণ করে যেমন: ভারতের ছত্তিশগড়ের রায়গড়ের কাছে ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইআইএ রিপোর্টে বলা হয়েছে :

    “Zero Discharge concepts will be followed”. (রায়গড় ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইআইএ, এক্সিকিউটিভ সামারি, পৃষ্ঠা ই-১২ ).

    অথচ রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইআইএ রিপোর্টে বলা হয়েছে:

    “After treatment, effluent shall be discharged to the Passur River
    at a rate of 100 m3/hr. Effluent quality shall be monitored at different stage of discharge and intake.”

    অর্থাৎ “পরিশোধন করার পর তরল বর্জ্য বা ইফ্লুয়েন্ট ঘন্টায় ১০০ ঘনমিটার হারে পশুর নদীতে নির্গত করা হবে। পানি নির্গমন ও গ্রহণ করার প্রতিটা স্তরেই ইফ্লুয়েন্টের গুনাগুনের উপর নজর রাখা হবে।“

    আবার অন্যত্র বলা হয়েছে:

    “To meet the water demand for plant operation, domestic water, environmental management 9,150 m3/hr (equivalent to 2.54 m3/s) surface water will be withdrawn from the Passur river and after treatment water shall be discharged back to the Passur river at the rate of 5,150m3/hr.”

    অর্থাৎ “প্ল্যান্ট পরিচালনা, ঘরোয়া ব্যাবহার, পরিবেশগত ব্যাবস্থাপনা ইত্যাদি কাজে পশুর নদী থেকে ঘন্টায় ৯১৫০ ঘনমিটার পানি সংগ্রহ করা হবে এবং পরিশোধন করার পর পানি পশুর নদীতে ঘন্টায় ৫১৫০ ঘনমিটার হারে নির্গমন করা হবে।“
    ঘন্টায় ১০০ ঘনমিটার বা ৫১৫০ ঘনমিটার যাই হোক, কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে পানি নির্গমন করা হলে নির্গত পানির তাপমাত্রা, পানি নির্গমণের গতি, পানিতে দ্রবীভূতি নানান উপাদান বিভিন্ন মাত্রায় পানি দূষণ ঘটাবে যা গোটা সুন্দরবন এলাকার পরিবেশ ধ্বংস করবে।

    ভারতে অনুমোদন করা হয়নি এই প্রকল্প:

    প্রস্তাবিত রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইআইএ রিপোর্টের এই সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা থেকে স্পষ্ট যে, ইআইএ রিপোর্টে ভুল মানদন্ড ব্যাবহার, ক্ষতিকর প্রভাব কমিয়ে দেখানো, কোন কোন ক্ষেত্রে ক্ষতির মাত্রার কোন পর্যালোচানাই না করা, ‘হতে পারে’, ‘না হওয়া সম্ভাবনাই বেশি’, ‘সুযোগ কম’ জাতীয় বিশেষণ ব্যাবহার করে ক্ষতির মাত্রাকে হালকা ভাবে উপস্থান ইত্যাদির মাধ্যমে সুন্দরবনের পাশে ১৩২০ মেগাওয়াটের এই কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে জায়েজ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা স্বত্ত্বেও, এরপরও খোদ ইআইএ রিপোর্টে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, পরিচালানা ও কয়লা পরিবহনের ফলে সুন্দরবনের উপর সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে এমন সব তথ্য বেরিয়ে এসেছে যা প্রস্তাবিত কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পকে পরিবেশগত বিবেচনায় অগ্রহণযোগ্য বিবেচনা করার জন্য যথেষ্ট।

    বস্তুত, এর চেয়ে আরো সামান্য কারণে খোদ এনটিপিসিরই ১৩২০ মেগাওয়াটের একটি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিবেশগত অনুমোদন দেয় নি ভারতের কেন্দ্রীয় গ্রীণ প্যানেল। গত ৮ অক্টোবর ২০১০ তারিখে ভারতের দ্যা হিন্দু পত্রিকায় প্রকাশিত NTPC’s coal-based project in MP turned down বা ‘মধ্যপ্রদেশে এনটিপিসির কয়লা ভিত্তিক প্রকল্প বাতিল’ শীর্ষক খবরে বলা হয়: জনবসতি সম্পন্ন এলাকায় কৃষিজমির উপর তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্রহনযোগ্য হতে পারে না বলে ভারতের কেন্দ্রীয় গ্রীন প্যানেল মধ্যপ্রদেশে ন্যাশনাল থারমাল পাওয়ার করপোরেশন(এনটিপিসি) এর ১৩২০ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের অনুমোদন দেয়নি। অথচ বাংলাদেশে সেই এনটিপিসিকে ১৩২০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের সুযোগ দেয়া হচ্ছে সুন্দরবনের মতো সংরক্ষিত একটি বনাঞ্চল, কৃষি জমি, স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকার উপর সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাবগুলো তোয়াক্কা না করেই।

    এইবার আমার কথা: প্রথমেই বলে রাখি, কয়লা বিদ্যুৎ নির্মানের আরো বিকল্প আছে কিন্তু সুন্দরবনের বিকল্প আর নেই। হ্যাঁ, বিদ্যুৎ আমাদের অবশ্যই প্রয়োজন। আমাদের এখনো অনেক বিশাল জনগোষ্ঠী বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করতে পারেনি, কিন্তু কিছুতেই এত সুন্দর একটা পরিবেশকে ধ্বংস করে নয়। সুন্দরবনে বাংলাদেশের বৃহত্তম ইকোসিস্টেম রয়েছে। আমি একদমই মানতে পারছিনা যে রামপালের কোনো প্রভাব সুন্দর বনের উপর পড়বে না। সুদূর পাশ্চাত্যের কার্বন নিঃসরণ যদি অ্যান্টার্টিকার বরফ গলিয়ে দিতে পারে, তবে রামপালের কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র যে মাত্র ১৪ কিলোমিটার দূরে সুন্দরবনের সতীত্ব নষ্ট করবেনা এইটা মানি না।
    দিজ ইজনট মাই কান্ট্রি অর ইয়োর! দিজ ইজ আওয়ার কান্ট্রি। উই হ্যাভ টু প্রটেক্ট ইট ফ্রম অল ক্রিটিকাল সার্কামেসটেন্সেস। ইট ইজ আওয়ার রেসপনসিবিলিটি টু আওয়ার কান্ট্রি।

    1. অঘূর্ণায়মান ইলেকট্রন ভাই
      অঘূর্ণায়মান ইলেকট্রন ভাই আপনাকে অফুরন্ত ধইন্যা… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :গোলাপ: :গোলাপ: :ফুল: :ফুল:
      আপনার মন্তব্য যেকোন পোস্টের থেকে বেশী শক্তিশালী…
      আশাকরি পরবর্তী পর্বে এইসব তথ্যের অনেক দরকার হবে!! ভাল থাকবেন…

  16. আমার ব্লগপোস্টে বিষয়টা অনেক
    আমার ব্লগপোস্টে বিষয়টা অনেক প্রকট ভাবেই তুলে ধরেছি ইলেকট্রন ভাই ।

    এবং প্রথাগত তথ্য উপাত্ত না দিয়ে ছবি ব্যবহার করেছি । চাক্ষুষ প্রমাণ । সেখানে ভারতের সাতপুর কয়লা বিদ্যুতকেন্দ্রের ছবিটা দেখার আমন্ত্রণ রইলো ।

    বন বাচাও ।
    মানুষ বাচাও ।
    বাঘ আর বিদ্যুত দুইটাই আমাদের দরকার

    1. আপনি ভারতের সাতপুরের বিদ্যুৎ
      আপনি ভারতের সাতপুরের বিদ্যুৎ প্রকল্পের ছবি দিয়ে কি প্রমাণ করলেন? সাতপুরে কি সুন্দরবনের মতো কোন বনভূমি আছে? এর চেয়েও বড় কথা সাতপুরে তো কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র না, ন্যাচারাল গ্যাস পাওয়ার প্ল্যান্ট আছে দেখলাম।

      1. এইখানে আমার কাছে পোস্টকর্তা
        এইখানে আমার কাছে পোস্টকর্তা যে পর্যবেক্ষণ উপস্থাপন করতে চেয়েছেন তা এমনই মনে হয়েছে, আর তা হল: কোন বনাঞ্চলের মূল বন থেকে ৭৫ কিমি দূরে বা বনের বহিরাবরণ থেকে ১৪ কিমি দূরে একটা কয়লা ভিত্তিক আসলেই কি কোন ক্ষতিকর কারণ হবে কিনা?
        সে দৃশ্যমান সকল উপমা থেকে বুঝাতে চেয়েছে যে আসলেই কয়লাভিত্তিক কোন বিশাল বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের সকল পরিবেশগত ঝুঁকি যথার্থভাবে নিয়ন্ত্রণ এবং পরিচালনা করলে সুন্দরবনের কোন প্রকার ক্ষতি ছাড়াই বিশ্বের বাকি কেন্দ্রগুলোর মত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব…

  17. তারিক লিংকন, আপনি যেহেতু
    তারিক লিংকন, আপনি যেহেতু পোস্টটি সিরিজ আকারেই লিখবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। সুতরাং সিরিজে এই প্রকল্পের খরচের কতো % কে বহন করবে, আর লাভের অংশ কে কতো পাবে সেটা নিয়েও লিখবেন বলে আশা করছি। এতো বড় বনভূমি স্যাক্রিফাইস করে আসলেই আমরা কি পেতে যাচ্ছি সেটা জানা দরকার না?

    1. যে দুটি মৌলিক সমস্যা মনে
      যে দুটি মৌলিক সমস্যা মনে হয়েছে তা হলঃ
      ক) আর্থিক বিনিয়োগে দুদেশের অংশগ্রহন এবং মালিকানার বিষয়টি,
      খ) রামপালের কোনো প্রভাব সুন্দর বনের উপর পড়বে না এইটা আসলে কথার কথা মাত্র কেননা সুদূর পাশ্চাত্যের কার্বন নিঃসরণ যদি অ্যান্টার্টিকার বরফ গলিয়ে দিতে পারে, তবে রামপালের কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র যে মাত্র ১৪ কিলোমিটার দূরে সুন্দরবনের সতীত্ব নষ্ট করবেনা এইটা মানি না-মানতে পারি নয়া!!

      কিন্তু তাহলে আমাদের করনীয় কি? এই দুইটি বিষয় সম্পর্কে সরকারের বক্তব্য পরিষ্কার হওয়া উচিৎ… আমরা যখন একটা বহুতল ভবন নির্মাণ করতে যায় তখনও সরকারি সকল প্রতিষ্ঠানকে হাজারও ব্যাখ্যা দিতে হয়… তাদেরকে বুঝিয়ে নিতে হয় যে এই এই কারণে এইটা করা উচিৎ এবং করলে আসলেই এই এই কারণে পরিবেশের জন্য কোন প্রকার ক্ষতিকর কিছু হবে না!!

      কিন্তু আতিক ভাই, আমি যদি একজন বুয়েট/চুয়েট প্রকৌশলী হয়ে সরকারের আরও বিশাল এক প্রকৌশলী দলকে দালাল বলি আর কমিশনখোর বলে শুরুতেই অভিযোগের তীর ছুড়ে দেই তবে কি আমার কথা বা যুক্তি তার আমলে নেয়ার কি কোন কারণ আছে? এর অর্থ কি বহন করে? আন্দোলনকারীদের এমন সহিংস অবস্থান সরকারকে এমন কাজ করা থেকে বিরত রাখার স্বদিচ্ছা প্রমাণ করে নাকি সরকারকে এমন কাজ করতে প্রলুব্ধ করার অপকৌশল প্রমাণ করে?

      রামপাল নিয়ে সরকারের সাথে খোলামেলা আলোচনায় বসা উচিৎ, এইভাবে কাঁদা ছুড়ে আমরা কি নিজেদের ১৯৭৫ পরবর্তী বিপথগামী আদর্শহীন রাজনীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখছি না?
      শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্ছ থেকে যদি এমন তরুন আন্দোলনকর্তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে স্মারকলিপি দিয়ে নিজেদের দাবী আদায় করে নিতে পারে, সেক্ষেত্রে
      আপনারা আন্দোলনকারীরা কেন নিজদের সুনির্দিষ্ট দাবী-দাওয়া নিয়ে সরকারের সাথে কোন প্রকার আলোচনায় গেলেন না? এই একটা যায়গায় আমি রামপাল লংমার্চকে সমর্থন দিতে পারছি না!! তবে রামপাল সুন্দরবনের আসলেই কতটা ক্ষতিসাধন করবে বা আদৌ করবে কিনা তা নিয়ে বিতর্কের অবকাশ অবশ্যই আছে…
      দেখি শেষ পর্যন্ত কি কি তথ্য আমি জানতে পারি এবং সবাইকে জানাতে পারি!!

      1. আমি যতদূর জানি তেল গ্যাস
        আমি যতদূর জানি তেল গ্যাস রক্ষা কমিটি সরকারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছিলো সাথে এই প্রকল্প বন্ধের আলটিমেটাম। কিন্তু সরকার গা করেনি। তাহলে দোষ কার?

        আর তর্কের খাতিরে না হয় মেনেই নিলাম তেল গ্যাস কমিটির এই আন্দোলনের উদ্দেশ্য অসৎ। তাতেও কি রামপালে এই প্রকল্প করা হালাল হয়ে যায়? আপনি তো আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন তোলার সাথে সাথে ব্লগ বা ফেসবুকে সরাসরিই প্রকল্পের পক্ষেই কথা বলে আসছেন। কেন? ও আমার শত্রু। ও যেটাই বলুক আমাকে সেটার বিরোধিতা করতে হবে, এইরকম মানসিকতা থেকেই কি?

        1. কে আমার শত্রু? কি বুঝাতে
          কে আমার শত্রু? কি বুঝাতে চেয়েছেন আতিক ভাই?
          বুঝলাম না… কবে একটা দিকনির্দেশনামূলক এবং গঠনমূলক সমালোচনা দিয়েছিল?
          একটু রেফারেন্স দিলে ভাল হত… আমি অন্তত এমন কিছু দেখি নাই পত্র-পত্রিকায়!! পরলে অনেকের থেকে বেশী খুশী হইতাম… আর আমি কোন দলাদলিতে নাই ভাই… আমি প্রকল্পের পক্ষেই অবস্থা নিয়েছি তা কীভাবে বুঝলেন?
          আমি উভয় পক্ষের মতামতই সমান মুল্য দিয়ে দেখছি… কিন্তু কথা হচ্ছে এই আন্দোলনকি আদৌ এই কাজটা বন্ধ করতে সক্ষম? নাকি খালি লোক দেখানো?
          কোন কিছু করতে না বলা কখনই দিকনির্দেশনা নয়, দিক নির্দেশনা হল কীভাবে-কেন-কোথায় এইসব সহ বলা!! যেমনটি গণজাগরণ মঞ্চ করেছিল…

          আমি কারও পক্ষে এখনও মতামত দেয় নি!! তবে যারা ৪.৫ বছরে দেশের জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন দ্বিগুণ করেছে তাদের প্রতি একটু আস্থা আছে বলতে পারেন…
          ডঃ তৌফিকও বুয়েট থেকে পাশ করেছেন… তিনি কাজ করেছেন শুধু মুখে বলেন নি!! আমি ত্রুটিহীন বুদ্ধিজীবী থেকে ত্রুটিযুক্ত উদ্যোক্তা বা কর্মী বেশী পছন্দ করি।।

          1. পক্ষ নেওয়ার ব্যাপারে আপনি
            পক্ষ নেওয়ার ব্যাপারে আপনি মুখে বলছেন এখনও নেন নাই। কিন্তু আপনার কথার সুর কিন্তু তা বলে না। আর আমি কিন্তু ব্লগের সাথে ফেসবুক শব্দটাও লিখেছি। ব্লগারদের ফেসবুকে বন্ধুত্ব থাকার এই এক সমস্যা। ফেসবুকের রেশ ব্লগেও চলে আসে, যেটা অনুচিত। :মাথাঠুকি:

  18. অর্থাৎ ৫ টি বিশেষ সংরক্ষিত

    অর্থাৎ ৫ টি বিশেষ সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ৩ টিই আওয়ামীলীগের আমলে সংরক্ষণ করার উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। এইসব তথ্য থেকে আমরা পাই দেশের মোট সংরক্ষিত জাতীয় উদ্যান, অভয়ারণ্য বা সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ১৭+১৭+৫=৩৯ টির মধ্যে ২৫ টিবা, ৬৪.১০% -ই আওয়ামীলীগের শাসনামলে সংরক্ষন করা হয়েছে অথচ বাঙলাদেশের স্বাধীনতা উত্তর সময়ের ৪২ বছরের মাত্র ১৩ বছর ৬ মাস সময় তারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিল। যার অর্থ দাঁড়ায় রাষ্ট্র ক্ষমতার ৩২.১৫% সময় শাসন করে জীব বৈচিত্র্য রক্ষার সরকারী উদ্যোগের ৬৪.১০% কাজই এই দলটি করেছে। এদিকে ২ টি বা ৫.১৩% বনাঞ্চলের সরক্ষন ঘোষণা এসেছে ব্রিটিশ বা পাকিস্তান আমলে অর্থাৎ রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকা সামরিক বা ছদ্ম সামরিক অথবা তাদের রাজনৈতিক দলদের শাসন আমলের ৬৭.৮৫% সময়ে জীব বৈচিত্র্য রক্ষায় তারা কাজ করে ৩০.৭৭% কাজ।

    তথ্যগুলো কাজে লাগবে এখন… :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: :গোলাপ: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল:

    বঙ্গবন্ধুর আমলে করা জাতীয় বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) (সংশোধন) আদেশ ১৯৭৪-এর ২নং অনুচ্ছেদের ‘জ’ ধারা অনুযায়ী বোঝানো হয় মনোরম ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যবিশিষ্ট অপেক্ষাকৃত বৃহত্তর এলাকা, যার মুখ্য উদ্দেশ্য প্রাকৃতিকভাবে সুন্দর চিত্রানুগ দৃশ্য, উদ্ভিদকুল রক্ষা এবং সংরক্ষণ করা ও যেখানে বিনোদন, শিক্ষা এবং গবেষণার জন্য জনসাধারণের প্রবেশ অনুমতি দেওয়ার ব্যবস্থা থাকে। মূলত এই আইনের উপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে জীব বৈচিত্র্য রক্ষায় এবং মানবকল্যাণে এসবের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের উপর জোর দেয়া হয়। সেই ধারাবাহিকতায় ২০১২ সালে আসে পূর্ণাঙ্গ বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন।
    বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২
    (২০১২ সনের ৩০ নং আইন ) ১০ জুলাই, ২০১২

    তারপরও যদি কেউ মনে করে যে এই সরকার সুন্দরবন ধ্বংসে তৎপর রেওয়েছে, তবে আর কিছু বলার নাই। আপনার পুরো পোস্টটি আবার পড়তে হবে… তারপর বিস্তারিত মন্তব্য করবো… :-B :ভাবতেছি: :গোলাপ: :গোলাপ: :বুখেআয়বাবুল: :থাম্বসআপ:

  19. এই সবগুলার বিনিময়ে সুন্দরবন
    এই সবগুলার বিনিময়ে সুন্দরবন নষ্ট করার নষ্টামীর পক্ষে সাফাই গাইতেছেন কার স্বার্থে? আপনার পোস্টে উল্লেখিত সবগুলার বিনিময়েও সুন্দরবনের বিকল্প করতে পারবেন না। সুন্দরবন ভৌগলিক কারণেই এখানে প্রয়োজন। এটা বুঝতে হলে চোখে আওয়ামী চশমাটা খুলে ফেলুন আগে। আপনি যেসব জায়গার কথা উল্লেখ করেছেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন একদিনে হয় নাই। সবগুলো আওয়ামী সরকার করে নাই। আগের সরকারগুলোর সিদ্ধান্তই অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করেছে আওয়ামীলীগ।

    ভোটের রাজনীতিতে বিদেশীদের হস্তক্ষেপ আমাদের দেশের সবগুলো রাজনৈতিক দল মনেপ্রাণে কামনা করে। যারফলে ভোটের এই পুর্ব মহুর্তে এই প্রকল্প নিয়ে বিম্পি-জামায়াতের কোন বক্তব্য নাই। জাতীয় স্বার্থ জলাঞ্জলী দিয়ে ভোটের রাজনীতিতে এই দুই দলই সমান বলে আবারও প্রমাণিত হল। আর সাথে কিছু দলকানাদের কিচির-মিচির বড়ই মধুর লাগছে!

    1. আমি আপনার গঠমূলক মন্তব্য কখনও
      আমি আপনার গঠমূলক মন্তব্য কখনও পাই নাই, অবশ্যই এখন আর আশাও করি না!!
      তবে আপনি ব্লগিয় আচরণবিধি বা ন্যুনতম শিষ্টাচার মেনে আপনি আলোচনায় আসেন না বেশীর ভাগ সময়….
      তারপরও ধন্যবাদ!! আর আপনার শুভবুদ্ধির জয় হবে সেই প্রত্যাশায় থাকলাম…

      1. এখানে অগঠনমুলক আলুচনার কি
        এখানে অগঠনমুলক আলুচনার কি দেখলেন? আপনি কিসের সাথে কি মিলাচ্ছেন? কোথায় কৃত্রিমভাবে তৈরী করা সাফারি পার্ক আর কোথায় প্রাকৃতিকভাবে প্রাপ্ত সুন্দরবন। যুক্তিহীন হয়ে সব কিছুই অগঠনমুলক মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক।

        এখানে আপনার আম্বারা কি কাজ করেছে সেই বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে না, আম্বারা দলীয় স্বার্থে, ক্ষমতা আসার স্বার্থে প্রভু দেশ ভারতকে খুশী করার স্বার্থে ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনকে ধ্বংস করার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। আম্বারা কয়টা ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছে সেটা ঢাকা শহরের বিলবোর্ডে আছে। আমরা সবাই দেখতে পাচ্ছি। আপনি গঠনমুলক আলোচনা করেন, আমার থেকে গঠনমুলক আলোচনা পাবেন। অগঠনমুলক আলোচনায় গঠনমুলক কথাবার্তা কেমনে বলি?

        কিছু দিন আগে আপনিতো বলেই ফেললেন আমি অনিয়মিত ব্লগার, তাই ব্লগের সব বিষয়ে মাথা ঘামানো উচিত না। এই কথাটা কি গঠনমুলক ছিল?

        1. ৩৯ তাই কৃত্রিম সাফারি পার্ক,
          ৩৯ তাই কৃত্রিম সাফারি পার্ক, নাকি আওয়ামীলীগের আমলের গুলো সব (২৫ টিই) কৃত্রিম? “এখানে আপনার আম্বারা কি কাজ করেছে সেই বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে না, আম্বারা দলীয় স্বার্থে, ক্ষমতা আসার স্বার্থে প্রভু দেশ ভারতকে খুশী করার স্বার্থে ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনকে ধ্বংস করার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে।”—
          এই কথা বলার পর কি আর আলোচনার দরকার আছে?
          আমি যদি বলি ‘ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনকে ধ্বংস’ হবে না!! আপনি তার প্রমাণ পাবেন ১০ বছর পর… আবার আমি যদি বলি ২০৫০ সালে মানুষের বসতিই সুন্দরবনের ২০% বন উজার করে দিবে… তখন বলবেন আমি জাস্টিফাই করতেছি!!
          আমিও সুন্দরবন চাই… কীভাবে? পোস্টগুলো পড়ে তারপর আমার লেঞ্জা খুইজেন… Predetermined হলে ব্লগে না আলোচনা করে ফেসবুকে গিয়ে তামাশা করেন গিয়ে!!

  20. “কিসের মধ্যে কি, পান্তা ভাতে
    “কিসের মধ্যে কি, পান্তা ভাতে ঘি”== টাইপ লেখা হয়েছে। রামপাল নিয়ে আওয়ামী লীগ এগুচ্ছে বলেই কি এই সব অদ্ভুত যুক্তি দেখাচ্ছিস? হে হে ! শেষ পর্যন্ত তুইও আমার মতো নীতিহীন হয়ে গেলি!
    একটা লেখা শেয়ার করলাম। পড়ে দ্যাখঃ
    সুন্দরবনের কাছে রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিবেশগত প্রভাব নিরুপন বা ইআইএ বিশ্লেষণ-১

    Final Report on Environmental Impact Assessment of 2x (500-660) MW Coal Based Thermal Power Plant to be Constructed at the Location of Khulna
    Environmental Impact Assessment for The Proposed 1320 MW Super Critical Coal based Thermal Power Plant at Kukurda In Raigarh Thesil and District in Chhattisgarh State

    1. আসলে ব্যাপারটা হচ্ছে
      আসলে ব্যাপারটা হচ্ছে দোস্ত,
      “যাকে দেখতে নারী, তার চলন বাঁকা…”
      :নৃত্য: :নৃত্য: :নৃত্য: :হাসি: :হাসি: :ফুল: :ফুল: :ফুল:

      1. শেয়ার করা লিংক গুলো পড়ে
        শেয়ার করা লিংক গুলো পড়ে দ্যাখ। রামপাল নিয়ে ধারণা পরিষ্কার হবে।
        একটা জিনিষ ভেবে খুব হাসি লাগে। ব্লগে অনেকে আমি লীগ সাপোর্টার, আমি বিএনপি সাপোর্টার – হ্যান ত্যান নানান কথা বলে পার্ট নিতে দেখি। ব্যাক্তিগত জীবনে সে হয়তো কোন দলের কেন্দ্রীয় অফিসের ধারে কাছে কোন দিন যায় নাই। গেলেও পাত্তা পায় নাই। এইসব ডাইহার্ড সাপোর্টারদের জন্য আমার খারাপ লাগে। কারন অনেক ক্ষেত্রেই তারা দলকানা হয়ে কুতর্ক সৃষ্টি করে।
        মোহাম্মদপুরে যে চায়ের দোকানে আড্ডা দেই সেখানে বুয়েটের ছাত্রলীগের যে প্রেসিডেন্ট ছিল (সোহাগ), সিলেট মেডিকেলের ছাত্রদলের সেক্রেটারি, এমনকি মাঝে জামাতের ভক্ত রিমনও আসে। নিজের কথা বাদই দিলাম। আমরা সবাই কিন্তু সেখানে দলের কথা মোটামুটি ভুলে দেশের কথা ভাবি। এজন্য কিন্তু সোহাগ লীগ ছেড়ে দেয় নাই বা আমি দল ছেড়ে দেই নাই বরং আত্ম সমালোচনা করে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছি।
        যুক্তি দেখানো ভাল কিন্তু অন্ধের মতো সাপোর্ট দেয়া ভাল কথা না।

  21. প্রথম প্যারায় লিখলি
    প্রথম প্যারায় লিখলি “ব্যাক্তিগত জীবনে সে হয়তো কোন দলের কেন্দ্রীয় অফিসের ধারে কাছে কোন দিন যায় নাই। গেলেও পাত্তা পায় নাই।”

    আবার দ্বিতীয় প্যারায় “এজন্য কিন্তু সোহাগ লীগ ছেড়ে দেয় নাই বা আমি দল ছেড়ে দেই নাই বরং আত্ম সমালোচনা করে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছি…”

    সমস্যা কি তোর? আমিতো জানি কোন দল করতি, নিজেও স্বীকার করলি…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *