ডিএনএ কী? ১৩ তম পর্ব,বার্ধক্য যখন কৈশোর অভিমুখী, ভ্রুণ, STEM CELLও CLONING সম্পর্কে(১)।

ডিএনএ কী? ১৩ তম পর্ব,বার্ধক্য যখন কৈশোর অভিমুখী, ভ্রুণ, STEM CELLও CLONING সম্পর্কে(১)।



ডিএনএ কী? ১৩ তম পর্ব,বার্ধক্য যখন কৈশোর অভিমুখী, ভ্রুণ, STEM CELLও CLONING সম্পর্কে(১)।

Sir John B. Gurdon
জন্ম: ১৯৩৩, Dippenhall, United Kingdom


Shinya Yamanaka

জন্ম: ১৯৬২,Osaka, Japan
এরা দুজনে মেডিসিন বা ফিজিওলজিতে নোবেল বিজয়ী হন ২০১২ সালে।
কী আবিস্কার করেছিলেন তারা? তারা উভয়েই জীব বিঞ্জানের উপর এক যুগান্তকারী আবিস্কার করিয়া এক অসাধারন অবদান রেখেছিলেন।

কী ছিল তাদের সেই অসাধারণ অবদান?

আমরা জানতাম ভ্রুণ জন্মাবার পর হতে তার প্রতিটা কোষ জীবন চক্রের মধ্য দিয়ে একমুখি হয়ে শুধু বার্ধক্যের দিকে যেতে থাকে। উপরোক্ত বিজ্ঞানীদ্বয় দেখিয়ে দিয়েছিলেন, যে, না, পরিপক্ক জীবনের বিশেষায়িত (DIFFERENTIATED)কোষকেও STEM কোষে পরিণত করিয়া সম্পূর্ণ নব কোষে এবং নব প্রাণীতে পরিণত করার মধ্য দিয়ে সম্পূর্ণ নব জীবন চক্র গঠন করা সম্ভব।
বিষয়টি বুঝার পূর্বে আমাদের কয়েকটি বিষয় সম্পর্কে একটু পূর্ব ধারনা থাকা দরকার আছে। যেমন-

১) ভ্রুণ বৃদ্ধি কীভাবে হয় ? ২) STEM CELL কী? ৩) SPECIALIZED OR DIFFERENTIATED CELL কী? ৪) CLONING কী? ইত্যাদি।

এগুলী সম্পর্কে একটু পূর্ব ধারনা পেলে বিষয়টি বুঝতে সহজ হবে।

STEM CELL কী?

বিষয়টি বর্ণনার পূর্বে ছোট্ট একটা উদাহরণ দিলে বোধ হয় বুঝতে আরো সহজ হবে।
ধরুন সিদ্ধেশ্বরীর হাই স্কুলের ৮ম শ্রেনীতে ১৯৯৬ সালে ছাত্র সংখা ছিল ৩০০ জন। আজ ২০১৩ সনে আমরা যদি সেই সমস্ত ছাত্রদের একটু খোজ খবর লয়ে জানতে চাই তাহলে তাদের কে আজ কেমন অবস্থানে পেতে পারি?

একটু চিন্তা করে দেখুন সেই ৮ম শেনীর ছাত্রদের আজ কাকেও পাওয়া যাবে- ১)ছোহরাওয়ার্দী হার্ট হসপিটালে হার্টের রোগীদের চিকিৎসা করছেন,২)কেহ পি-জীতে কীডনি বিভাগে বসে কীডনী চিকিৎসা করতেছেন, ৩)কেহ স্নায়ু বিভাগে বসে স্নায়ুর চিকিৎসা করতেছেন, ৪)আবার কেহ ASTRO PHYSICS পড়া শুনা করে আমেরিকার নাসায় যোগদান করে মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানোর কাজে নিয়োজিত আছেন।, ৫)কেহ বা পরমানুর উপর পড়াশুনা করিয়া পরমানু চুল্লী নির্মানের কাজে নিয়োজিত আছেন। ৬)কেহ বা কম্পিউটার বিজ্ঞান পড়াশুনা করে,MICROSOFT কোম্পানীতে যোগদান করিয়া কম্পিউটার গবেষণায় লিপ্ত রয়েছেন।৭)কেহ বা কৃষি বিশ্বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে, উন্নত জাতের ধান উৎপাদন গবেষনায় লিপ্ত রয়েছেন।
এটা কেন হয়?

কারণ, সবাই যদি একটি বিষয়ের উপর পড়াশুনা করতো তাহলে এই সমাজ বা রাস্ট্র ব্যবস্থা অচল হয়ে যেত।ধরুন সবাই যদি কৃষিবিশেষজ্ঞ হয়ে শুধু কৃষি উৎপাদনের উন্নতি করতে থাকল, তাতেও রাষ্ট্র চলতোনা।

যদিও এটাই সব কিছু নয়, তবুও এবার আশা করি একটা মোটামুটি ধারনা পেয়েছেন কোনটাকে আমি STEM CELL আর কোনটাকে বিশেষায়িত কোষ বুঝাতে চেয়েছি।

অস্টম শ্রেনীর ঐ ৩০০ জন ছাত্র STEM CELL,কারন এরা যেকনো বিষয়ের দিকে অগ্রসর হওয়ার ক্ষমতা রাখে। আর এদের যারা পরবর্তীতে বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হয়েছেন তারা হল “বিশেষায়িত কোষ”এবং তাদের কাজ ও বিশেষ বিশেষ ধরনের।

STEM কোষ ও ঠিক এভাবেই প্রকার অনুসারে শরীরের মধ্যে বিভিন্ন ধরণের বিশেষ বিশেষ দায়িত্ব পালনের জন্য বিভিন্ন ধরনের বিশেষায়িত কোষে পরিণত হওয়ার ক্ষমতা রাখে এবং তা হয়েও থাকে এবং সে ভাবে তারা কাজ ও করে থাকে।

যেমন ধরুন ভ্রুনের বয়স ৪-৫ দিন এর মধ্যেই, বিভাজিত কোষ গুলী STEM কোষ থাকে ।তখন থেকে এই কোষ গুলী বিভাজিত হয়ে একদিকে যেমন ভ্রুণটাও বৃদ্ধি হতে থাকে, আবার এই STEM কোষগুলী বিশেষায়িত কোষে পরিণত হয়ে হয়ে কিছু কিছু হৃদপিন্ড তৈরী করতে থাকে, কিছু কিছু মস্তিস্কের বিশেষ কোষ তৈরী করতে থাকে, আবার কিছু কিছু চর্মের বিশেষ কোষ তৈরী করতে থাকে।

তা এভাবে শিশুও বর্দ্ধিত হতে থাকে, আবার একই সংগে সমস্ত প্রকারের বিশেষ বিশেষ কোষ, যা ২২০ প্রকারের, তৈরী করা লাগে। এর মধ্য দিয়ে শিশুর জন্ম হয়, বয়ষের পূর্ণতা ও বার্ধক্য ও আসে।

কিন্তু প্রশ্ন হল একটা পরিপক্ক বিশেষায়িত কোষ কি কখনো তার পূর্বের শিশু কালের STEM কোষে ফিরে যেতে পারে? যেমন ধরুন একজন পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির চর্মের একটি বিশেষায়িত কোষ কে কি, একটা STEM কোষে পরিণত করা যেতে পারে?

যদি তা পারা যায়, তহলে, যেহেতু STEM কোষের দ্বারা নব জীবন সৃষ্টি হয়, তাহলে তো ঐ পূর্ণ বয়স্ক বা একটা বৃদ্ধ চর্ম কোষ দ্বারাও একটা জীবন সৃষ্টি সম্ভব হতে পারার কথা।
সত্যিই কী সেটা সম্ভব?

জী, হ্যাঁ, ঊক্ত বিজ্ঞানীদ্বয় সেইটাই সম্ভব প্রমাণ করেছেন, এবং পশুর খেত্রে অহরহ করাও হচ্ছে।

তবে এভাবে মানব সৃষ্টি করা ইউরোপ, আমেরিকা, ও অস্ট্রেলিয়ায় আইন প্রণয়ন করে নিষিদ্ধ করে রাখা হয়েছে।

তবে অন্যান্য প্রাণীর উৎপাদন এই STEM কোষ COLONING পদ্ধতির মাধ্যমে ইউরোপ, আমেরিকায়, অষ্ট্রেলিয়ায় বর্তমানে অহরহ করা হচ্ছে। তাদের মাংসও বাজারে বৈধ ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।(১,২,৩)

সম্পূর্ণ বিষয়টি এক পর্বে ধারণ করতে গেলে পর্ব অনেক বড় হবে এবং পাঠকদের পড়তে কষ্ট হবে এ কারণে ছোট ছোট করে দেওয়া হবে।
চলতে থাকবে-

আগের পর্ব সমূহ-

সূত্র-
NOBEL PRIZE 2012
১. http://www.nobelprize.org/nobel_prizes/medicine/laureates/2012/
২. http://en.wikipedia.org/wiki/Stem_cell
3. http://www.genetics.edu.au/Publications-and-Resources/Genetics-Fact-Sheets/FactSheet26CloningandStemCells.pdf

১১ thoughts on “ডিএনএ কী? ১৩ তম পর্ব,বার্ধক্য যখন কৈশোর অভিমুখী, ভ্রুণ, STEM CELLও CLONING সম্পর্কে(১)।

  1. আসলেই প্রিয়তে রাখার মত একটি
    আসলেই প্রিয়তে রাখার মত একটি সিরিজ! :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :bow: :bow: :bow: :bow:
    চমৎকার একটা কাজ করেছেন চাকলাদার ভাই… :রকঅন: :রকঅন: :রকঅন: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া:
    ধন্যবাদ এমন অক্লান্ত পরিশ্রম করার জন্য!! :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ:

  2. সাবলীল লেখা খুব ভাল লাগলো।
    সাবলীল লেখা খুব ভাল লাগলো। আশাকরি বাকি পর্ব গুলো তারাতারিই পাবো। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *