রাষ্ট্র ক্ষমতায় আওয়ামীলীগ : তবুও আড়াই বছর ধরে শিবিরের ভয়ে বন্ধ কারমাইকেল কলেজের সব ছাত্রহল

উত্তর বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ রংপুর কারমাইকেল কলেজ। প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মোট ৭ টি (ছাত্রদের ৪ টি ছাত্রীদের ৩ টি) ছাত্রাবাস/ছাত্রীনিবাস রয়েছে বিশাল কলেজ ক্যাম্পাসেই। ছাত্রীদের হলগুলি যথারীতি খোলা থাকলেও গত আড়াই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে ছাত্রদের ৪টি ছাত্রাবাসই। ২০১১ সালের ১৩ জুন স্টাফ কাউন্সিলের এক সভা শেষে ছাত্রদের চারটি ছাত্রাবাসের সকল আবাসিক ছাত্রের সিট বরাদ্দ বাতিল এবং ২০ জুনের মধ্যে ঐ চার ছাত্রাবাসে থাকা ছাত্রদের সব মালপত্র সরিয়ে নেয়ার জন্য চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ । এর পর থেকেই হলগুলি বন্ধ রয়েছে।

সীট বরাদ্দ বাতিলের পরে কারমাইকেল কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ ডঃ দীপ কেন্দ্র নাথ দাস সাংবাদিকদের জানান, ”

কলেজের ৪টি ছাত্রাবাস রয়েছে। যাদের মধ্যে জিএল, ওসমানী, সিএম এই ৩টি ছাত্রাবাসে ইসলামী ছাত্রশিবির ক্যাডাররা অবস্থান করে বিভিন্ন অরাজকতাসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল গত দুই দশক ধরে। কেবি ছাত্রাবাস সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য। গত মার্চে (২০১১) ছাত্রলীগ ও শিবির কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায় সবগুলো ছাত্রাবাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এর পর থেকে শিবির ক্যাডাররা ছাত্রাবাস ৩টি পুনরায় দখল করার জন্য নানা রকমের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে সোমবার কলেজ একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভায় ৪টি ছাত্রাবাসের আবাসিক সকল ছাত্রের সিট বরাদ্দ বাতিল করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সেই সাথে ২০ জুনের মধ্যে আবাসিক ছাত্রদের সমস্ত মালামাল নিয়ে যাবার চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে। কেবি ছাত্রাবাস শুধুমাত্র সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য হলেও কোন প্রকার বিতর্ক এড়াতে ঐ ছাত্রাবাসেরও সিট বরাদ্দ বাতিল করে দেয়া হয়েছে।পরবর্তীতে মেধার ভিত্তিতে এই সব ছাত্রাবাসের সিট বরাদ্দ প্রদান করা হবে।

সীট বরাদ্দ বাতিলের পরে রংপুর ওয়েবের রিপোর্টে অধ্যক্ষের ভাষ্য পাওয়া যাবে এই লিংকে

অধ্যক্ষের কথায় পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে হলগুলি খোলা থাকলে সেখানে আবারও ইসলামী ছাত্র শিবির তাদের দখলদারিত্ব পুনপ্রতিষ্ঠা করবে। অর্থাৎ ছাত্রাবাস বন্ধ রয়েছে শিবির সন্ত্রাসীদের ভয়ে। তাহলে কি আমরা ধরে নেবো কলেজ প্রশাসন এবং সরকার শিবির সন্ত্রাসীদের এই রূপ কর্মকাণ্ডের কাছে অসহায়? শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ এই সরকার এবং কলেজ প্রশাসন। তাই নয় মাসেও ছাত্রাবাসগুলি খুলে দেয়া যাচ্ছে না? বর্তমানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আওয়ামীলীগ এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ইস্যুতে চরম রাজনৈতিক সংকটকাল পার করছে জামাত শিবির চক্র। এমন সময় কারমাইকেল কলেজের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্বাধীনতা বিরোধী জামাত-শিবির চক্রের সন্ত্রাসীদের ভয়ে প্রায় আড়াই বছর (হ্যাঁ, ঠিকই পড়ছেন ৩০ মাস) ধরে ছাত্রাবাস বন্ধ রাখা হয়েছে! শিবির কি এতোই শক্তিশালী এই কলেজে? তাও আবার বর্তমান প্রেক্ষাপটে?

কারমাইকেল কলেজে শিবিরের রাজনীতি যারা খুব কাছে থেকে দেখেছেন তারা কেউই মানতে রাজি নন শিবিরের ভয়ে ছাত্রাবাস খোলা যাচ্ছেনা । কলেজে শিবিরের প্রবেশ, সাংগঠনিক বিস্তার, উত্থান এবং শেষে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পথে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে গিয়ে জেলা জামাতের আমীর আতাউর হামিদিসহ কমপক্ষে পাঁচ জন নিহত হয়েছে জামাত শিবিরের। অসংখ্য সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে কলেজ কমপক্ষে ২৫ বার। হল ভ্যাকেন্ট করা হয়েছে অনেক বার। ছাত্র রাজনীতির উপরে নিষেধাজ্ঞা জারী করা হয়েছে। কিন্তু কখনও ছাত্রাবাসের আসন বরাদ্দ বাতিল এবং এতো দীর্ঘ সময়ের জন্য হল বন্ধ রাখার প্রয়োজন হয়নি। এমনকি কারমাইকেল কলেজের ৯৭ বছরের ইতিহাসে কখনই এমন ঘটনা ঘটেনি।


(শিবিরের বাঁধার কারণে এই ভাস্কর্যের নির্মাণ কাজ শেষ হতে সময় লাগে ১৯ বছর)

এখনও কলেজে এমন কোন উত্তেজনাকর অবস্থা নেই যে ছাত্রাবাস বন্ধ রাখতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে যখন ক্যাম্পাসে শিবিরের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল তখনও ছাত্রাবাসগুলিতে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের নেতা কর্মীরা অবস্থান করতেন। অনেক ছাত্র সংগঠনের শীর্ষ নেতারাও হলে থেকেই সংগঠন পরিচালনা করেছেন। সেখানে এখন ক্যাম্পাসে শিবির মিছিল করতে পারছে না, প্রকাশ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না আগের মতো। এখানে একটা কথা বলে রাখা উচিৎ, প্রকাশ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারলেও তাদের কাজ কিন্তু থেমে নেই। সাংগঠনিক অবস্থানেরও কোন হেরফের ঘটেনি। তবে সব কিছুই যখন শিবিরের বিপক্ষে যাচ্ছে যেই সময়টাতে কি কারণে হলগুলির আসন বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে না, বন্ধ হল খুলে দেয়া হচ্ছে না? তাও আবার আড়াই বছরেরও বেশী সময় ধরে? তাহলে কি আমাদেরকে ধরে নিতে হবে যে, কলেজ প্রশাসন ভুলে গিয়েছেন এখানে চারটি ছাত্রাবাস আছে যেগুলো দীর্ঘ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে? না এটা যে নয় তা আমরা সবাইই জানি ।

এই কলেজে আশির দশকে শিবিরের উত্থান। তো কলেজের সেই সময়ের ছাত্র রাজনীতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৮০-৮১ এবং ১৯৮১-৮২’র কাকসু নির্বাচনে পর পর দুই বার জাতীয় ছাত্রলীগের থেকে জিএস পদে নির্বাচিত হন এনায়েতুর রহিম ভাই (বর্তমানে বিচারপতি, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি ও বর্তমানে দিনাজপুরের সাংসদ ইকবালুর রহিমের বড় ভাই) এবং এজিএস পদে জাতীয় ছাত্রলীগের আব্দুর রাজ্জাক যিনি এখন সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক। সব মিলিয়ে জাতীয় ছাত্রলীগ প্রায় ষাট ভাগ পদে জয়ী হয় এবং বাকী পদে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন, এবং জাসদ ছাত্রলীগ প্রার্থীরা জয়ী হয়। তাই ১৯৮৭ সালের কাকসু নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত ক্যাম্পাসে সাংগঠনিক দিক থেকে জাতীয় ছাত্রলীগ (বাকশাল সমর্থিত) ছিল সবচেয়ে ভালো অবস্থানে। উল্লেখ্য, ১৯৮৭ সালের এপ্রিলে একই দিনে কারমাইকেল কলেজ ও সরকারী রংপুর কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়। এই নির্বাচনে সকল হিসেবে নিকেশ পালটে দিয়ে দুই কলেজেই ছাত্র শিবির পূর্ণ প্যানেলে জয়ী হয়ে হতভম্ব করে দেয় সকলকে। বাম সংগঠনগুলোর প্রতিরোধের মুখে শিবির রংপুর কলেজে জয়ী হয়েও অভিষেক অনুষ্ঠান করতে ব্যর্থ হলেও হাত কাঁটা, রগ কাটার রাজনীতির মধ্য দিয়ে কারমাইকেল কলেজে একক আধিপত্য বিস্তার করে। যাক, সে প্রসঙ্গে অন্য পোস্টে লেখার চেষ্টা করবো।

শুরু করেছিলাম ইসলামী ছাত্র শিবিরের দখলদারিত্বের ভয়ে দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে কারমাইকেল কলেজের চারটা ছাত্রাবাস বন্ধ থাকা নিয়ে। এপ্রসঙ্গে জানতে চেয়েছিলাম আশির দশকের শেষ দিক থেকে নব্বই দশকের শেষ ভাগ পর্যন্ত রংপুরে এবং কারমাইকেল কলেজে জামাত-শিবির প্রতিরোধ সংগ্রামের একজন কর্মী, সাবেক এক ছাত্র নেতার কাছে। অত্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেছেন,

ছাত্রাবাস আসলে বন্ধ রয়েছে কলেজ প্রশাসন বিশেষ করে তৎকালীন অধ্যক্ষ ডঃ দীপ কেন্দ্র নাথ দাসের ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারী দলের প্রতি অতি ভক্তি, সীমাহীন দুর্নীতি এবং ব্যক্তিত্ব হীনতার কারণে। যার ধারাবাহিকতা রক্ষা করছেন বর্তমান অধ্যক্ষ। জানিনা তাদের এই অতিভক্তি চোরের লক্ষণ কি না! কিন্তু এতো দীর্ঘ সময় ধরে ছাত্রাবাসগুলি বন্ধ রাখাটা সুদূর প্রসারী প্রভাব তো ফেলতেই পারে, যাতে করে পরোক্ষভাবে ছাত্র শিবিরই লাভবান হবে। ইচ্ছাকৃত ভাবেই হোক আর অজান্তেই হোক হল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে তৎকালীন অধ্যক্ষ ডঃ দীপ কেন্দ্র দাস এবং বর্তমান অধ্যক্ষ যে শিবিরকে ভবিষ্যতে আরও বেশী হিংস্র হয়ে ওঠার সুযোগ করে দিচ্ছেন একথা নির্দ্বিধায় বলা যায়। হলে থেকে রাজনীতি করার কারণে একাধিকবার অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে ক্যাম্পাসের জনপ্রিয় ছাত্রনেতা কলেজ জাসদ ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায়কে। আজকে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকার পরেও ছাত্রাবাস খুলতে পারছে না কলেজ প্রশাসন, অথচ প্রদীপ রায়, নব্বইয়ের দশকের মধ্যভাগে ক্যাম্পাসের জনপ্রিয় মুখ পরবর্তীতে ছাত্র ইউনিয়নের জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক পিন্টু সাহা, ছাত্রলীগের কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক রফিক সরকার, এমনকি ছাত্রদলের শিবির বিরোধী অংশের নেতৃত্বে থাকা সুমন দেবরা হাজার ভয় ভীতি উপেক্ষা করে ছাত্রাবাসে থেকেই নিজ নিজ সংগঠন পরিচালনা করেছেন দক্ষতার সাথেই। তাই শিবিরের ভয়ে হল খুলে দেয়া যাচ্ছে না-এই যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়।

আমি ব্যক্তিগতভাবে কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ, একাধিক শিক্ষক, ছাত্রলীগের আগের কমিটির আহ্বায়ক এবং দুই যুগ্ম আহ্বায়ক, বর্তমান কমিটির আহ্বায়ক, অন্যান্য সংগঠনের নেতাদের সাথে কথা বলেছি। অধ্যক্ষ ঠিক আগের অধ্যক্ষের সুরেই কথা বলেছেন। অর্থাৎ ছাত্রলীগ চাচ্ছে না, তাই খুলে দেয়া যাচ্ছে না। অন্যান্য শিক্ষকদের কয়েকজন জানিয়েছেন আসল ঘটনা, অধ্যক্ষের অবসরে যাওয়ার সময় চলে এসেছে, তাই শেষ সময়ে এসে কোন ঝামেলায় যেতে চাচ্ছেন না তাই হলের ব্যাপারে কার্যকর কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয় না। এতো গেলো কলেজ প্রশাসনের কথা। আসুন দেখা যাক ছাত্র নেতৃবৃন্দ কি বলেন। কি আশ্চর্য কাউকেই খুব একটা সিরিয়াস মনে হয়নি আমার। প্রায় সবারই এক কথা, ছাত্রলীগ না চাইলে কি আমাদের কথায় হল খুলে দিবেন অধ্যক্ষ? আর ছাত্রলীগের নেতারা তো বলেন ফেললো, “এমনেই তো ভালো আছে ভাই। খুলে দিলেই আবার শিবির শেল্টার নিবে। তারচেয়ে তারা বাইরেই থাকুক।”

এব্যাপারে কি ভাবছেন কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা? এটা জানতে একদিন একটা ফেসবুক পেইজে স্ট্যাটাস দিলাম- বন্ধ হলগুলোর কথা কলেজ প্রশাসন ভুলে গেছে নাকি? আর এই আবাসন সংকটের মধ্যে সাড়ে চারশো সীটের হল চারটা আড়াই বছর ধরে বন্ধ পরে আছে শিক্ষার্থীরাও চুপ কেন? সেখানে অসংখ্য কমেন্টের মধ্যে একটা ছিল, “ভাই, কলেজে গেলে দেখবেন হলগুলোর বারান্দায় চট বা পেপার বিছিয়ে বিসিএস এর প্রস্তুতি নিচ্ছে ছাত্র ছাত্রীরা। সাড়ে চারশো আসনের জন্য তো ২৫ হাজার শিক্ষার্থী সাফার করতে পারেনা। আমরা বর্তমান ছাত্র-ছাত্রীরা আমাদের স্বার্থ বুঝি। তাই আমরা চাইনা হল খুলে দেয়া হোক।”

এর জবাবে বলতে পারতাম তোমরা যে স্বার্থের কথা ভাবছো এটা ভালো কথা, কিন্তু একবারও তোমাদের মনে প্রশ্ন জাগে না কেন, যে কলেজ আমার প্রাণপ্রিয়, উত্তরবাংলার সেই সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটার হল খুলে দেয়া হচ্ছে না স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের দখলের ভয়ে? কেন মনে হচ্ছে না এটা আমার এই প্রিয় কলেজটার জন্য একটা চরম লজ্জাজনক অধ্যায়? কেন মনে হচ্ছে লজ্জাটা শুধু কলেজের না তোমাদেরও? নাকি তোমরা নিজেদের স্বার্থ দেখতে গিয়ে আজ যেমন প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ ভূলুণ্ঠিত করতেছো, তেমনি ভবিষ্যতে সমাজের, প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হয়ে আজকের মতোই নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে জাতীয় স্বার্থ জলাঞ্জলি দেবে? যদি তাই হয় তাহলে বলতেই হচ্ছে, এখন যতো বড় কথাই বলো না কেন, যতোই রাজনীতির চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করো না কেন, দিনের শেষে তোমরাও তো জাতির অকাল কুষ্মাণ্ড ও স্বার্থপর সন্তান হিসেবেই চিহ্নিত হবে। তোমারদেরই কেউ হয়তো একদিন এই কলেজেরই প্রিন্সিপাল হয়ে যাবে, কিন্তু সত্যিকার অর্থে মানুষের মতো মানুষ হতে পারবে কি? কিন্তু বলতে পারিনি। কেনই বা বলতে যাবো?

যেখানে অপরাপর ছাত্র সংগঠনগুলোর চাপ নেই হল খুলে দেয়ার ব্যাপারে, যেখানে কলেজ প্রশাসন ছাত্রদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ, যেখানে রাষ্ট্র একটা কলেজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ, সেখানে দূর দূরান্ত থেকে উচ্চ শিক্ষা অর্জনের জন্য কারমাইকেলে আসা এই ছেলে মেয়েগুলোকে খুব বেশী কিছু বলার মতো মুখ কি থাকে?

প্রত্যক্ষ অতীত অভিজ্ঞতা থেকে এই কথা নিশ্চিত করেই বলতে পারি হল বন্ধের পিছনে অধ্যক্ষ ও কলেজ প্রশাসনের গাফিলতি দায়ী, শিবির নয়। আর হলগুলি শিবির মুক্ত করা হয়েছে ভেবে যারা খুশীতে বগল বাজাচ্ছেন তাদের বলতে চাই, সরকারী দলের প্রতি মাত্রাতিরিক্ত আনুগত্য প্রদর্শন করতে গিয়ে অধ্যক্ষ ডঃ দীপ কেন্দ্র নাথ দাস এবং বর্তমান অধ্যক্ষ বা কলেজ প্রশাসন হলগুলি সাময়িকভাবে শিবির মুক্ত করতে পারলেও পরোক্ষ ভাবে শিবিরের দখলদারিত্ব আরও পাকাপোক্ত করছেন।

ছাত্রাবাসগুলি দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকার ব্যাপারে কলেজ প্রশাসনের ভাষ্য ফলাও করে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে এবং দীর্ঘ আড়াই বছরেও সমস্যার কোন সমাধান হচ্ছে না দেখে পরবর্তীতে নিশ্চয়ই কোন অভিভাবকই চাইবেন না সন্তানকে ছাত্রাবাসে রাখতে। বিশেষ করে আওয়ামীলীগ রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকার পরেও শিবিরের ভয়ে ছাত্রাবাস খুলে দিয়ে ছাত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়াতে অভিভাবকদের মধ্যে বদ্ধমূল ধারণা জন্ম নেবে যে ছাত্রাবাসে থাকা নিরাপদ নয়। ছাত্রাবাসে থাকা নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের এই শিবির ভীতিই তো হলগুলোতে আবারও শিবিরের দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। আগে সাড়ে চারশো আবাসিক ছাত্রের মধ্যে ৫০ জন শিবিরের কর্মী থাকতো, এখন হল খুলে দিলে সাড়ে চারশো জনই শিবিরের কর্মী থাকবে।

এই সহজ সত্য বিষয়টি কলেজ প্রশাসন এবং ছাত্রলীগসহ অন্যান্য ছাত্র সংগঠনগুলো যত জলদি বুঝতে পারবেন ততোই মঙ্গল।

সাবেক অধ্যক্ষ ডঃ দীপ কেন্দ্র নাথ দাস আগের টার্মে (২০০৭ সালে আগেও একবার অধ্যক্ষ ছিলেন) অধ্যক্ষ থাকাকালীন সময়ে তাঁর ডানে বামে সব সময়ের জন্য দেখা যেতো শিবিরের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদককে । এমনকি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ছাত্রাবাসে সরস্বতী পূজায় অধ্যক্ষের সাথে থেকে নির্দেশনা দিতে দেখা গেছে শিবির সভাপতি ও সম্পাদককে।


(শিবিরের সভাপতি ও সেক্রেটারীকে দুই পাশে নিয়ে ডঃ দীপ কেন্দ্র দাসের পূজা দর্শন।)

আর ২য় বার দায়িত্ব গ্রহণের পরে সে স্থান দখল করে ছাত্রলীগের নেতারা। তখন অনেকেই অভিযোগ করতেন, অধ্যক্ষ ডঃ দীপ কেন্দ্র নাথ দাস কারমাইকেল কলেজের অধ্যক্ষের চাইতে ছাত্রলীগ নেতাদের নেতা হিসেবেই বেশী স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন।

শেষ কথা : ক্যাম্পাসে শিবির নেই, তাই বলে তারা বসেও নেই, একথা উপরে বলেছি। কথাটা যে বিন্দুমাত্র বাড়িয়ে বলিনি তার প্রমাণ তো গত ১২ সেপ্টেম্বর দিয়েই দিলো শিবির সন্ত্রাসীরা, কলেজ পাড়া এলাকায় ছাত্রলীগের কারমাইকেল কলেজ শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক, ব্যবস্থাপনা চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মোশাররফ হোসেনের দুই পায়ের রগ কেটে দেয়ার মধ্য দিয়ে। দুর্ভাগ্য মোশাররফ হোসেনের, রংপুরে শিবিরের রগ কাঁটা রাজনীতির প্রথম শিকার তাকেই দিতে হলো এমন এক সময়ে যখন আওয়ামীলীগ রাষ্ট্র ক্ষমতায়। এখন আমাদের মতো সাধারণ পাবলিকের মতো মোশাররফেরও হয়তো একই প্রশ্ন জাগবে, কারমাইকেল কলেজ দেশের বাহিরের কোন জায়গা? যেখানে কলেজ প্রশাসন ছাত্রদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ, রাষ্ট্র একটা কলেজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ?


(ছবি-আহত ছাত্রলীগের কলেজ শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মোশাররফ)

আমার কথা : ছাত্র হিসেবে মাত্র দুই বছর (ইন্টারমিডিয়েট) এই কলেজে পড়ার সুযোগ হয়েছে আমার। কিন্তু ঐ দুই বছরেই কারমাইকেল কলেজ ক্যাম্পাসের সাথে একটি আত্মার বাঁধনে জড়িয়ে পড়েছি। আমার কাছে কারমাইকেল কলেজ এমন এক স্মৃতির মঞ্চ – যেখানে দাঁড়িয়ে আমি দেখতে পাই আমার সুবর্ণ অতীতকে। এই স্মৃতি মিশে আছে আমার হৃদয়ে, অন্তরের অন্তঃস্থলে, জড়িয়ে আছে সকল অঙ্গে। আমার প্রাণপ্রিয় এই প্রতিষ্ঠানটা আজ শিবিরের সন্ত্রাসীদের ভয়ে ছাত্রাবাস বন্ধ রাখার দুর্নাম বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে। আমি লজ্জিত। লজ্জিত একজন ছাত্র হিসেবে, স্বাধীন দেশের একজন নাগরিক হিসেবে। কলেজে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন, সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীদের অবস্থান শক্ত করতে না পারলে কোন দিনই হল ভিত্তিক শিবিরের কর্মকাণ্ড বন্ধ করা সম্ভব নয়। তাই কারমাইকেল কলেজকে শিবিরমুক্ত করতে হলে অবিলম্বে হলগুলি খুলে দেয়া উচিৎ। মাথা ব্যথা হলে ওষুধ সেবন না করে মাথা কেটে ফেলা কখনই সমাধান হতে পারে না। কলেজের শিক্ষার্থীরা, প্রশাসন এবং সর্বোপরি সরকারের শীর্ষ মহল কি বিষয়টা ভেবে দেখবেন?

========================
আমি চাইলেও ছোট করে লিখতে পারি না। কেন জানি বড় হয়ে যায়। যাই হোক, উত্তর বাংলার লোক আমি, তাই ছবির মাধ্যমে আপনাদের দেখাতে চাই কারমাইকেল কলেজ : মন যেখানে বার বার ফিরে যেতে চায়

১৩ thoughts on “রাষ্ট্র ক্ষমতায় আওয়ামীলীগ : তবুও আড়াই বছর ধরে শিবিরের ভয়ে বন্ধ কারমাইকেল কলেজের সব ছাত্রহল

  1. ছাত্রলীগের নেতারা তো বলেই
    ছাত্রলীগের নেতারা তো বলেই ফেললো, “এমনেই তো ভালো আছে ভাই। খুলে দিলেই আবার শিবির শেল্টার নিবে। তারচেয়ে তারা বাইরেই থাকুক।”
    – এসব কি শুনছি?!

    আমার মনে হয় ঐ কথা যে বা যারা বলেছে বা বলতে পারে তারা ছাত্রলীগ হতে পারে না, ওরা পল্টিবাজ, ওরা ভীতূ, ওরা সুবিধালীগ।

    1. আমার মনে হয় ঐ কথা যে বা যারা

      আমার মনে হয় ঐ কথা যে বা যারা বলেছে বা বলতে পারে তারা ছাত্রলীগ হতে পারে না, ওরা পল্টিবাজ, ওরা ভীতূ, ওরা সুবিধালীগ। – See more at: http://www.istishon.com/node/4912#new

      :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মানেকি: :এখানেআয়:

    2. আনফরচুনেটলি ওরা ছাত্রলীগেরই
      আনফরচুনেটলি ওরা ছাত্রলীগেরই নেতা। তবে আপনার কথাও যুক্তিযুক্ত। ওরা পল্টিবাজ, সুবিধাবাদীলীগ। আতিক ভাই, পুরো ক্যাম্পাসে যখন আপনার একক প্রভাব প্রতিপত্তি থাকবে তখনই কিন্তু আপনার দিকে সুবিধাভোগীরা ভিড়বে। যা হয়ে থাকে দেশের মেডিকেল কলেজগুলোতে। যখন যে দল তখন সেই দলেরই নিয়ন্ত্রণে সব কিছু। ফলে নতুনরা এসে প্রভাবশালী দলটাতেই ভিড়ে যায়। এবং একটা সময় এরাই নেতৃত্বে চলে আসে। …………… এজন্যই প্রতিপক্ষ থাকা উচিৎ। তাতে অন্তত দলীয় কর্মীদের পরীক্ষাটা হয়ে যায়। ……… ধন্যবাদ আপনাকে।

  2. উত্তর বাংলা ভাই, আপনার কাছ
    উত্তর বাংলা ভাই, আপনার কাছ থেকে প্রেরণা পেয়ে চট্টগ্রাম কলেজ ও ভার্সিটি নিয়ে তথ্য জোগাড় করতেছি। আশা করি, অতি সত্ত্বর একটা বোমা ফাটাইত্র পারবো।

    আর আপনাকেও ধন্যবাদ পোস্টের জন্য। তবে, ছাত্রলীগের ঐ ব্যাপারটা আসলেই বুঝিনাই।

    1. চট্টগ্রাম কলেজ ও ভার্সিটি

      চট্টগ্রাম কলেজ ও ভার্সিটি নিয়ে তথ্য জোগাড় করতেছি। আশা করি, অতি সত্ত্বর একটা বোমা ফাটাইত্র পারবো।

      খুব ভালো হবে যদি চট্টগ্রামের শিবির নিয়ে একটা পোস্ট ইষ্টিশনে থাকে। নিঃসন্দেহে তা ব্লগকে সমৃদ্ধ করবে। আনিস রায়হান ভাইয়ের সহি শিবির নামাটা দেখিয়েন। সেখানে বেশ কিছু তথ্য পাবেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের।

      আর ছাত্রলীগের ব্যাপারটা বুঝা কি খুব কঠিন? পোস্টে বলছি আমি মাত্র দুই বছর ওই কলেজের ছাত্র ছিলাম, কিন্তু ওই কলেজে যাওয়া আসা ছিল আরও অনেক বছর ধরে। তো যখন ওই কলেজে ঢুকতাম সব সময় একটা শঙ্কা থাকতো এই বুঝি হামলার শিকার হই। ………… বর্তমান ছাত্রনেতাদের কাছে অপশন আছে যেহেতু, তাই তারা কোন দুঃখে ঝাড়ের বাঁশ নিজের ঘাড়ে নিতে যাবে? শিবির কলেজের বাহিরে আছে বলেই তো আমাদের মতো করে সব সময় হামলার শঙ্কা নিয়ে বেড়াতে হচ্ছে না। সো সিম্পল।

  3. নির্বাচনের আগে আগে লীগের
    নির্বাচনের আগে আগে লীগের সমালোচনা করে লিখলেন? আপনি তো জামাত-বিএনপির পারপাস সার্ভ করলেন। :ভেংচি:
    এইসব অধ্যক্ষ্যের মতো সুবিধাবাদী চাটুকারের জন্যই লীগের ভরাডুবি হয়। অথচ এরাই দলে চোখের মনি হয়ে থাকে।

    1. হা হা হা ………… আতিক
      হা হা হা ………… আতিক ভাই, আওয়ামীলীগের সমালোচনাকারীদের একটা বড় অংশ দলটার সম্পদ। এমন দল দেশে আর একটাও নাই যাদের এতো সংখ্যক সমালোচনাকারী শুভাকাঙ্ক্ষী আছে। যদিও বিষয়টা অনলাইনের আওয়ামীলীগাররা বুঝতেই পারেন না। ………… আর কেউ যদি ভাবেন আমি বিএনপির পারপাস সারভ করছি তাইলে আমার কি বলার আছে?

      1. আপনার মন্তব্য বুঝার মতো গ্রে
        আপনার মন্তব্য বুঝার মতো গ্রে ম্যাটার দলকানা মাশায়েখদের আল্লাহ দান করুন… আমীন :চোখমারা: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

        1. রংপুরের আঞ্চলিক ভাষায় বলে,
          রংপুরের আঞ্চলিক ভাষায় বলে, “মুই না বুঝলে মোক মুঝাইবে কায়”? আসলেই তো, কেউ যদি নিয়ত করে থাকে আমি বুঝবো না। তাহলে কিভাবে বুঝাবেন? তাও :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: একদিন হয়তো তাদের আগেই না বুঝতে চাওয়ার নিয়ত করা মানসিকতার পরিবর্তন হবে। ধন্যবাদ/

  4. নিজে একটা প্রগতিশীল ছাত্র
    নিজে একটা প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের কর্মী, তাই আমার সংগঠনের ব্যর্থতা স্বীকার করে নিলাম। এই বিষয়ে কলেজ ছাত্রলীগের বর্তমান এবং আগের কমিটির অনেকের সাথেই কথা হয়েছে একাধিকবার। কিন্তু তাদেরকে বিন্দুমাত্র সিরিয়াস মনে হয়নি এই হলগুলো খুলে দেয়ার ব্যাপারে। তাই এই ইস্যুতে ছাত্রলীগের কাছে প্রত্যাশা করি না কিছুই। অন্যান্য ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে ছাত্র ইউনিয়ন ও জাসদ ছাত্রলীগ যদিও মাঝে মধ্যে হল খুলে দেয়ার দাবীতে মিছিল সমাবেশ করে। কিন্তু ছাত্রফ্রন্ট, ছাত্র মৈত্রী, ছাত্র ফেডারেশনের নেতা কর্মীদের তাদের দলীয় কর্মসূচী নিয়ে যতোটা সিরিয়াস দেখি এই ব্যাপারে ঠিক ততোটাই উদাস। অথচ, সবাই এক হয়ে দাবী উত্থাপন করলে ছাত্রলীগের প্রয়োজন ছিল না। প্রশাসন হল খুলে দেয়ার ব্যবস্থা করতো। আন্দোলনের মাধ্যমেই নাহয় দাবী আদায় করে নেয়া যেতো। কিন্তু তারা তেল গ্যাস বন্দর বিদ্যুৎ এর বিভিন্ন প্রোগ্রাম, রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ফুলবাড়ি এই সব জাতীয় ইস্যু নিয়েই বেশী ব্যস্ত। অবশ্যই সেসব জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। কিন্তু ছাত্র সংগঠনের মূল ক্ষেত্র ক্যাম্পাস আর নিজের ঘরে এতো বড় একটা সমস্যা বিদ্যমান। বলতে ইচ্ছা করছে “দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া ……… ঘর হতে শুধু দুইপা ফেলিয়া ………!

    1. আপনি কি মূলাটোলের শুভ্র?
      আপনি কি মূলাটোলের শুভ্র? বাসির ভাইয়ের সব থেকে ছোট ভাই? তেমনই মনে হচ্ছে কমেন্ট পড়ে। সবার কথা বাদ, আপনারাও তো একক ভাবে দাবী জানাতে পারতেন। ডাক দিয়ে কাউকে না পাওয়া গেলে তো একলাই চলতে হবে, তাই না? ধন্যবাদ।

      1. হ্যাঁ হ্যাঁ ভাই, আপনি ঠিক
        হ্যাঁ হ্যাঁ ভাই, আপনি ঠিক চিনছেন। কিন্তু আপনে ……।।

        আপনে তো সবই জানেন, কারণ এতো সুন্দর করে পোস্ট লিখছেন। তাই এইটাও ভালো করেই জানেন বর্তমানে আমাদের যথেষ্ট সাংগঠনিক দুর্বলতা আছে সেখানে। সেই সীমিত শক্তি নিয়ে কি সম্ভব হইত একা চলা? ভাই, আমার ফেসবুক আইডি লিংক দিলাম — https://www.facebook.com/rshajeeb

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *