রামপাল এবং প্রধানমন্ত্রির রাম ছাগল উইথ কোরবানি।

কালকে রামপাল নিয়ে ছোট একটি জোকস লিখে মানুষের মৃদু গালমন্দ খেয়েছি,আজ তাই বড় কিছু লিখবো সেই ইচ্ছেতেই বসলাম।আমরা রামপাল নিয়ে ছোট জোকস লিখেলেই গালি খেতে হয় আর প্রধান মন্ত্রি যে প্রকল্পের স্থান চূড়ান্ত করণ ও জমি অধিগ্রহণ থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের চুক্তি স্বাক্ষর ইত্যাদি যাবতীয় কাজ শেষ হওয়ার পর কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব নিরুপন বা এনভাইরনমেন্টাল ইমপেক্ট অ্যাসেসমেন্ট(ইআইএ) করার জন্য জনসাধারণের কাছে মতামত চেয়েছেন এটা কি জনগনের সাথে বড় কোনো জোকস বা তামাশা নয়? এমন একটি বিষয় নিয়ে জোকিং করার জন্য তাদের কি কি গালি খাওয়া উচিৎ? সরকার এমন একটি বিষয় নিয়ে তামাশা করলো যা বাংলাদেশের প্রাণ স্বরুপ সুন্দরবন বাংলাদেশকে নানা ঝড় ঝন্জায় বুকে মায়ের মতো আগলে রেখেছে।যখন সিডর হলো তখন আবহাওয়াবিদ রা বললেন সুন্দরবনের প্রাকৃতিক বর্মে বাধা পেয়ে সিডর অনেকআংশে দুর্বল হয়ে গেছে তা না হলে এর চেয়ে কয়েকগুন বেশি ক্ষতি হতো।সেই সুন্দরবনকেই এখন ধ্বংসের পায়তারা চলছে আর লিগাররা উঠে পরে লেগেছেন সুন্দরবন থেকে রামপালের দুরত্ব ১৪ কিলোমিটার এটি প্রমান করবার জন্য আচ্ছা আমিও মানলাম ১৪ কিলোমিটার ,ঠিক আছে।কিন্তু ভারতেই ওয়াইল্ড লাইফ প্রটেকশান অ্যাক্ট ১৯৭২ অনুযায়ী, পরিবেশ আইনেই বলা আছে- কোনো প্রাকৃতিক বনসম্পদের ১৫ থেকে ২০ কিমি এর মধ্যে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের অনুমোদন দেয়া নিষিদ্ধ।আমার প্রশ্ন হচ্ছে ভারত তার নিজের দেশে যেটা করে না তা আমাদের দেশে কেনো করতে আসলো? আর বিদ্যুতের দাম, জ্বালানি. ভাগ বাটোয়ারা .মালিকানা ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে অনেক সন্দেহ রয়েছে জাতীয় স্বার্থ বিরোধি অনেক গোপন চুক্তিও রয়েছে এই প্রকাশ্য চুক্তির মধ্যে।বুয়েটের একজন বিজ্ঞানি সরকারের কাছে আবেদন করেছিলেন আমেরিকা থেকে দুষন নিরোধোক একটি যন্ত্র আনার জন্য যার নাম সম্ভবত এমটিপি।কিন্তু জ্বালানি সচিব বলেছেন -এগুলোর কিছুই দরকার হবে না; তিনি আবার তাকে আম্বস্ত করে বলেছেন উপকুলে নতুন বন তৈরি করা হবে।আমি মনে করি পাগল ছাড়া এসব কথা কেউ বলে না ।এখন আমার দাবি ওই বন আগে তৈরি করা হোক তারপর ওই বনের একটি কাঠাল গাছের নিচে উপদেস্টা ছাগলটাকে কয়েক বছর বেধে রাখা হোক তারপর যদি মনে হয় এটা সুন্দর বনের নুন্যতম পরিপুরুক, এবং তার মতো প্রাণিরা ওখানে কাঠালপাতা খেয়ে জীবন ধারন করতে পারবে তাহলে এরপর সুন্দরবন ধ্বংসের চিন্তা করা যাবে,তার আগে নয়।প্রধানমন্ত্রি কয়েকমাস আগে একটি সমাবেশে জোর গলায় বলেছিলেন- তার চেয়ে বড় দেশ প্রেমিক আর কেউ নেই। নিজের দেশের স্বার্থ না দেখে দাদা দের দেশের স্বার্থ দেখা যদি দেশপ্রেমিকের পরিচয় হয় তবে উনি দেশ প্রেমিকই বটে।

২০ thoughts on “রামপাল এবং প্রধানমন্ত্রির রাম ছাগল উইথ কোরবানি।

  1. এক ফুলবাড়িয়ার আঘাত কাটতে না
    এক ফুলবাড়িয়ার আঘাত কাটতে না কাটতেই আরেকটা শুরু হলো । রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরুদ্ধে অবস্থানটা আরো জোড়াল ও সমন্বিত হওয়া উচিৎ । তবে এটাকে কোন রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে না বরং সামাজিক ইস্যু হিসেবেই দেখা উচিৎ । আর সরকারের উচিৎ যাবতীয় বিষয়াবলী জনসমক্ষে স্পষ্ট করে তুলে ধরা । প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে একটা মধ্যপন্থা বের করা । কারন আমাদের বিদ্যুতের ঘটতিও কিন্তু ভুলে যাওয়া যাবে না ।

    আশা করি রামপাল যেনো ‘ দ্বিতীয় ফুলবাড়িয়া ‘ না হয় ।

    1. আশা করি রামপাল যেনো ‘ দ্বিতীয়

      আশা করি রামপাল যেনো ‘ দ্বিতীয় ফুলবাড়িয়া ‘ না হয় ।

      কিছু একটা বলতে হয় বলেই বললাম। কিন্তু কি বললাম সেইটা ভেবে দেখলাম না। :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: দয়া করে নিচে শাহিন ভাইয়ের দেয়া তথ্যগুলা ভালমতন পড়েন। তারপর বলেন কি বলতে চান… :মানেকি: :ক্ষেপছি:

  2. ‘এটি ভারতের কোনো প্রকল্প নয়।
    ‘এটি ভারতের কোনো প্রকল্প নয়। এটি বাংলাদেশের প্রকল্প। যারা এর বিরোধীতা করছেন তাদের উচিত এগুলো জেনে বুঝে তার পর বিরোধীতা করা। কারণ, তারা হয়তো সঠিক প্রযুক্তি কিংবা ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানেন না ।
    –প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই এলাহী চৌধুরী।

  3. রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র।(প্রথম
    রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র।(প্রথম অংশ ।ব্রাউজার সমস্যার কারনে চিত্র সংযোজন এবং পুরো লিখা কপি করা সম্ভব হয়নি ।২য় অংশে বাকীটা দিচ্ছি ।চাইলে ২য় অংশে দেয়া লিংকে ঢুকে পুরোটা দেখে নিতে পারেন)।

    ১) মুল ক্যাপাসিটি ১৩২০ মেগাওয়াট।
    ২) ৫০:৫০ মালিকানায় প্রতিষ্ঠা
    ৩) ১৮৩৪ একর জায়গা লাগবে
    ৪) বাংলাদেশ পাবে ৬৬০ মেগাওয়াট, যা বাংলাদেশের মুল উৎপাদনের ১০%
    ৫) দেশের আরও ৭% মানুষ মানে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ বিদ্যুতের আওতায় আসবে
    ৬) জিডিপি বারবে ০.৬%, মানে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ফলে জিডিপি গিয়ে দাঁড়াবে ৭.৩% এ
    ৭) দক্ষিন অঞ্চলের হাজার হাজার বেকার যুবকের কাজের ক্ষেত্র তৈরি হবে
    ৮) দক্ষিণ অঞ্চল বাংলাদেশের দ্বিতীয় বিজনেস হাবে পরিণত হবে
    ৯) মংলা বন্দর ফিরে পাবে তার প্রাণ
    ১০) দেশের শিল্পাঞ্চলের প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণে দেশ আরেক ধাপ এগিয়ে যাবে।
    ১১) রামপাল থেকে সুন্দরবন ২২.৩ কিমি দূরে তাই প্রকৃতির উপর প্রভাব পরার কোন প্রস্নই আসে না।
    ১২) বিদ্যুৎ খরচ অনেকাংশে কমে যাবে
    ১৩) মানুষ কৃষিকাজের পাশাপাশি শিল্পের দিকে আরেক ধাপ আগায়ে যাবে।
    ১৪) বিদেশ যাওয়া বা বিদেশ নির্ভর অনেক পরিমানে কমিয়ে দিবে।
    বেশী দিন আগের কথা নয়। মাত্র দুই বছর পিছনে ফিরে গেলেই আমরা দেখতে পাবো আমাদের আসল চিত্র। শুধু ঢাকা নয়, পশ্চিমবঙ্গ এবং করাচির চিত্রও যেন একই। ২০১২ সালের পর থেকে ঢাকার চিত্র পালটাতে থাকে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ এবং করাচি এখনও যেন ডিজিটাল শহর। এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে আবার এক ঘণ্টা নাই। মানে দিনের সারাদিনের ৯ ঘণ্টা কাজের মোট ৪-৫ ঘণ্টা তারা করতে পারে।
    সারা পৃথিবীর মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ ৫০০০ গেগাওয়াট। যার ২৬% ই কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। সেখানে বাংলাদেশের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ৮.৫ গেগাওয়াট, যা মুল উৎপাদনের মাত্র ০.০২% এর মতো। কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে, দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে, খুলনা শহর ডুবে যাবে পানির নিচে, কি সুন্দর তোতা পাখীর মতো মুখস্ত বুলি গুলান আওরিয়ে যাই আমরা। কিন্তু একবারও চিন্তা করিনা আবহাওয়ার কোন ভুগলিক সীমারেখা আছে কিনা? পাশের দেশ ভারত, যার মুল উৎপাদন ১৯০ গেগাওয়াট বিদ্যুৎ, এর মধ্যে ১০০ গেগাওয়াটই কয়লা ভিত্তিক। চায়নার মুল উৎপাদনের ৭০% কয়লা ভিত্তিক। তাহলে পরিবেশ কি শুধু চায়নার নষ্ট হচ্ছে না তার প্রভাব আমাদের উপরও এসে পরছে?
    কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নয়ে আলোচনা করতে গেলে আমাদের আগে সেই প্রযুক্তি সম্পর্কে জানা দরকার। কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে যে কয়লা ব্যাবহার করা হয় সেইটা অনেক ময়লা যুক্ত থাকে, তাই প্রথমে সেইটাকে ধুয়ে পরিষ্কার করা হয়। এরপর ডাম্প করে রেখে দেয়া হয় অন্তত পক্ষে ৪০ দিনের মতো। কয়লাটা যেহেতু সঠিক ফর্মে থাকে না তাই তাকে শুকিয়ে এইবার নিয়ে যাওয়া হয় ক্রাশ করবার জন্য। ক্রাশ করতে নিয়ে যাওয়ার আগে কয়লা থেকে তার আয়রন পার্টিকেল আলাদা করে ফেলা হয়। পুরো কয়লাটা ক্রাশ মেসিনে যায় বেল্ট দিয়ে, সেখানে কোন মানুষের কাজের দরকার পরে না। ক্রাশ মেসিনে কয়লা ক্রাশ হয়ে গুরায় পরিণত হয়, অতঃপর সেইটা বারনিং এর জন্য পাঠানো হয়। গুরা কয়লা বয়লারের মধ্যে বার্ন হয়ে শক্তি উৎপাদন করে। এভাবেই মেকানিক্যাল শক্তিকে ইলেক্ট্রিক্যাল শক্তিতে পরিণত করা হয়।
    http://indianpowersector.com /home/power-station /thermal-power-plant/
    সমালোচকরে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করার কথা বলে উদাহরণ হিসাবে টেনে আনেন ভারতের তামিল নারুর কোদালর ৪০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রর কথা। তারা বলে এইটা নাকি পরিবেশ অধিদপ্তর ছাড়পত্র দেয়নি। কি সুন্দর মিথ্যাচার।
    http://www.guruchandali.com /default/2013/08 /30/1377803280000.html#wr itehere
    কিন্তু সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল, বৃহৎ এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র ২০১৪ সালের মধ্যে অপারেসনে যাচ্ছে। ভারতের রাজ্য সরকার তাদেরকে কাজ খুব দ্রুত শেষ করার জন্য তাগাদা দিয়েছেন। যে কেউ তাদের ওয়েভ পেইজে গিয়ে দেখে আসতে পারেন কাজের অগ্রগতি।
    http://www.infraline.com /Details/Cuddalore- PowerGen-gets-2- more-years-to-arrange- funds-for-Rs-62-billion- project-192823.htm
    এইবার আসা যাক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রামপালে হইলে প্রকৃতির উপর তার প্রভাব পরবে কতো টুকু?
    ১ম চিত্রঃ
    রামপাল থেকে সুন্দরবনের নিচের দিকের দুরুত্ত ২১.২৫ কিমি, যা কিনা প্রকৃতি বা সুন্দর বনের উপর কোন প্রভাব পরবারই কথা নয়। যারা এইটা নিয়ে সমালোচনা করেন তারা বলেন সুন্দর বন নাকি মাত্র ১০ কিমির মধ্যে। চিত্রটি নিজে চোখে দেখুন। আমি কোন সমালোচকের মতো হাতে আঁকানো ছবি এখানে দেইনি। এইটা স্যাটেলাইট ভিউ। যারা কথায় কথায় ডাক্তার পিনাকী (বিদ্যুৎ ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ’র এই লিংক সেঁটে দেন তাদের জন্য এই ছবি, পিনাকি নিজে বলেছেন রামপাল থেকে সুন্দরবন নাকি ১৪ কিমি দূরে। কতো বড় মিথ্যাচার।
    http://opinion.bdnews24.com /bangla/2013/04 /23/রামপাল-বিদ্যুৎ- প্রকল্প-ব/
    ২য় চিত্রঃ
    রামপাল থেকে সুন্দরবনের সবচেয়ে কাছের অংশের দুরুত্ত ১৯.৩৮ কিমি। কিন্তু পিনাকী বলে ১৪ কিমি, আরেকজন বলে ১০ কিমি। পিনাকী বলে ১৫ কিমির মধ্যে করা যাবে না, আরেকজন বলেন ২০ কিমির মধ্যে করা যাবে না। পিনাকী ডাক্তার, তাই দুরুত্তের মাইর প্যাঁচ অতটা বুঝে নাই। কিন্তু কল্লোল ইঞ্জিনিয়ার, টেলিকম ইঞ্জিনিয়ার, সে খুব ভালো করে জানে স্যাটেলাইট শট কি? স্যাটেলাইট শট দিলে যে ধরা পরে যাবে বলে দিয়েছে হাতে আঁকানো ছবি। সে যেই জায়গা নির্দেশ করেছে সেইটা মংলা বন্দর, রামপাল নয়। এবং যাতে নিজে ধরা না পরে তার জন্য বলে দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর নাকি ২০/২২ কিমির মধ্যে বিদ্যুৎ কেন্দ্র ছার পত্র দেবার নজির নাই। উপরে তামিল নারুর উদাহরণ কিন্তু দিয়ে দিয়েছি।
    https://m.facebook.com /notes/kallol-mustafa /সুন্দরবনের- কাছে-রামপাল- কয়লা-বিদ্যুৎ-কেন্দ্রের- পরিবেশগত-প্রভাব-নিরুপন- বা-ইআইএ- বিশ/467961333258258

    1. মূল পোষ্টের চাইতে মন্তব্যটা
      মূল পোষ্টের চাইতে মন্তব্যটা বেশী গুরুত্বপূর্ণ এবং তথ্য-যুক্তি সংবলিত। তারপরও বলবো, সাহিন ভাই, আমি আপনার সাথে ১০০% দ্বিমত পোষণ করছি। কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে কি সমস্যা সেটা আপনাকে আন্দাজে বললে হবে না। আমাকেও কিছু যুক্তি তথ্য দিতে হবে। একটু গুছিয়ে নিয়ে তারপর আগাচ্ছি খাড়ান।

  4. (২য় অংশ)
    ৩ য় ছবিঃ
    রামপাল

    (২য় অংশ)

    ৩ য় ছবিঃ
    রামপাল থেকে সুন্দরবনের সবচেয়ে বেশী দুরুত্তর যে এইজ সেইটার দুরুত্ত ২২.৬৯ কিমি। এখন আপনারই বলুন, কল্লোল মস্তফা কি সুন্দর করেই না লুকিয়ে গিয়েছেন পিনাকীর পথ। আসলে উনারা কি চায় সেইটা আগে জানা উচিৎ।
    ৪রথ ছবিঃ
    কল্লোল তার ছবিতে যেখানে বলছে বিদ্যুৎ কেন্দ্র সেইটা আসলে মংলা পোর্ট। মংলা পোর্ট থেকে রামপাল আরও ১৪.৬৯ কিমির মতো দূরে। ছবিতে লাল তির চিনহ দিয়ে দেখানো হয়েছে পশুর নদির অবস্থান এবং যেখান দিয়ে জাহাজ আসা যাওয়া করে। মংলা পোর্টের জাহাজ মুলত সুন্দ্র বনের ভিতর দিয়েই যাওয়া আসা করে। পরিবেশ যদি ক্ষতিই হয় জাহাজ চলাচলের জন্য। হরিন, বাঘ, কুমির যদি ভয়ই পায় তবে অনেক আগেই জন্তু জানোয়ার দের সুন্দর বন ছেঁড়ে পালানোর কথা। যে জোরে শব্দ করে জাহাজ গুলো। ১০ মাইল দূর থেকে শুনা যায়। চলুন সবাই মিলে মংলা বন্দর বন্ধ করে দেই।
    পরিবেশ বাদিরা ক্ষয়ক্ষতির যে কথা বলে সেখানে বিদ্যুৎ হইলে কি হবে তার কথা একবারও বলে না। বিদ্যুৎ হইলে কি হবে তার কিছু পয়েন্ট উপরে দিয়েছি। আর ক্ষতির কথা আপনারা অনেক আগেই অনেকের কাছে জেনেছেন। তবে আমার কিছু প্রশ্ন আছে এখানে—-
    ১) সারা বিশ্বের মুল উৎপাদনের ২৬% কয়লা ভিত্তিক। তাহলে তারা যে দূষণ করছে তার জন্য আমাদের কি করা উচিৎ?
    ২) দূষণের কোন আন্তর্জাতিক সীমারেখা আছে কিনা?
    ৩) সারা বিশ্বে দূষণ হইলে তার প্রভাব বাংলাদেশে পরে কিনা?
    ৪) বাংলাদেশ তাদের দূষণ থেকে মুক্ত কিনা?
    ৫) যারা খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষিরা সহ অন্যান্য জেলায় ধানি জমিতে লবানাক্ত পানি ঢুকিয়ে চিংড়ি চাষ করছে তারা পরিবেশ দূষণের জন্য কতটুকু দায়ি
    ৬) চিংড়ি চাশের কারণে সাতক্ষীরার অর্ধেক তলিয়ে গেছে এর জন্য কোন বিদ্যুৎ কেন্দ্র দায়ি?
    ৭) চিংড়ি ঘেরের সাথে প্রকৃতপক্ষে কারা জড়িত ছিল? এবং তাদের এখনকার ভুমিকা কি?
    ৮) চিংড়ি ঘেরের জন্য দক্ষিন বঙ্গের যে হাজার হাজার ছেলে জীবন দিয়েছে বামপন্থীদের হাতে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে তাদের স্বার্থ কতটুকু রক্ষা হবে?
    ৯) রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র হবার ফলে যে চিংড়ি ঘের মারা যাবে সেখানে কারা ক্ষতিগ্রস্থ হবে এবং কারা লাভবান হবে?
    ১০) খুলনাতে যারা ছনের ঘরে বাস করে তাদের কয় শত বিঘা জমির উপরে চিংড়ি ঘের আছে? না, ঘেরের মালিক সব বন্দুক ধারি এবং তারাই চাইতেছে বিদ্যুৎ কেন্দ্র যেন না হয়।
    পরিশেষে, বিদ্যুৎ কেন্দ্র হইলে খুলনার খেটে খাওয়ায় মানুষের কাজের সন্ধান হবে। দুই বেলা ভাতের যোগার হবে। আর যারা জমি দখল করে চিংড়ি ঘের করছে সেই সব বামপন্থীদের খুনিদের ভাত বন্ধ হবে। নিশ্চয় বামেরা চাইবে না তাদের অর্থের যোগান বন্ধ হয়ে যাক?
    ভেবে দেখুন আপনি কি চান?—
    পুরো লিখার লিংক… https://m.facebook.com/685352578/timeline/story?_e_pi_=7%2CPAGE_ID10%2C8494543848

    1. তথ্যগুলো দেবার জন্য শাহিন
      তথ্যগুলো দেবার জন্য শাহিন ভাইকে অজস্র গোলাপ… :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ:

      পাবলিকের ফালাফালি দেখে মনে হচ্ছে কিয়ামত লেগে গেছে :মানেকি: :মাথাঠুকি: … তথ্যগুলা পড়ে তারপর কি বলে দেখি… :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি:

  5. শাহীন ভাই, এই তথ্যটা ইস্টিশন
    শাহীন ভাই, এই তথ্যটা ইস্টিশন থেকেই নিলাম। কপি করে দিলাম:

    রামপাল কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মান প্রকল্পের মোট ব্যয়ের ৭০ ভাগ অর্থ আসবে বিদেশী ঋণ থেকে, বাকি ৩০ ভাগের
    মধ্যে ভারত বহন করবে ১৫ ভাগ আর বাংলাদেশ ১৫ ভাগ। আর ওই ৭০
    ভাগের ঋণের সুদ টানা ও পরিশোধ করার দায়িত্ব বাংলাদেশের। ভারতের বিনিয়োগ মাত্র ১৫ ভাগ, কিন্তু মালিকানা পাবে ৫০ ভাগ। চুক্তি অনুযায়ী কয়লা আমদানির দায়িত্বও বাংলাদেশের কাঁধে। সময়মত কয়লা না পাওয়া কিংবা অন্য কোনো কারণে বিদ্যুতকেন্দ্র কিছুদিন বন্ধ থাকলে সেজন্য ক্ষতির দায় বহন করতে হবে বাংলাদেশকেই।

  6. ইলেকট্রন ভাই, আপনার দেয়া
    ইলেকট্রন ভাই, আপনার দেয়া তথ্যটি কতটুকু সঠিক জানিনা ।তবে তথ্যটি সঠিক হলে এই ব্যাপারে অবশ্যই কথা বলা উচিৎ।কিন্তু বন ধ্বংশের ফাকা দোহাই দিয়ে পুরো প্রকল্পের বিরুধীতা আমি সমর্থন করি না ।

  7. সহজ একটা কথা হচ্ছে, কয়লা
    সহজ একটা কথা হচ্ছে, কয়লা বিদ্যুত এখানে কেন???????? হোয়াই! অন্য জায়গাতে করে সুন্দরবনের আশেপাশে বিদ্যুৎ সাপ্লাই দেয়া যায়। কিন্তু এইখানে কেন??

  8. আমাদের দেশের কিছু অতি পণ্ডিত
    আমাদের দেশের কিছু অতি পণ্ডিত দেশের জন্য বড় এক সমস্যা, এই সব পণ্ডিতদের মানুষের চাইতে জঙ্গলের জন্য দরদ বেশি । জনগণকে লোডশেডিং থেকে বাঁচাতে যে করেই হোক বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়াতে হবে । রামপালে বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে যাদের আপত্তি আছে তাঁদের উচিৎ অন্য কোথাও বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য সরকারকে জায়গা সরবরাহ করা । আমাদের শুধু জঙ্গলের কথা না ভেবে জনগণের কথাও ভাবা উচিৎ ।

    1. আচ্ছা এস এ দেওয়ান ভাই আপনি
      আচ্ছা এস এ দেওয়ান ভাই আপনি কোন দেশের জনগনের কথা বলছেন? ভারতের!
      আপনি কি জানেন- ভরত ১৫% অর্থ সরবরাহ করে মালিকানা ৫০% পাবে।

  9. প্রশ্ন(১): দেশে অন্যান্য
    প্রশ্ন(১): দেশে অন্যান্য জায়গা থাকতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য সুন্দরবন সংলগ্ন রামপালকে কেন বেছে নেওয়া হল?
    আমাদের বক্তব্য :সম্ভাব্যতা যাচাই, জনসংখ্যার ঘনত্ব, কয়লা পরিবহন সুবিধা, জমি পাওয়া, স্থানীয়দের পুনর্বাসন সবদিক বিবেচনা করেই রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলে শিল্পের উন্নয়নের বিষয়টিও বিবেচনায় নেয়া হয়েছে । এছাড়া বাস্তবতা এই যে জীবিকার জন্য সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল স্থানীয়দের জন্য বনের ক্ষতি হচ্ছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে বিকল্প কর্মসংস্থানের মাধ্যমে ওই সব মানুষ কাজ পাবে।
    প্রশ্ন(২): ১৪ কিলোমিটারের মধ্যে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নিসৃত ধোঁয়া সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট করবে।
    উত্তর :রামপালে কম সালফারযুক্ত উন্নত মানের কয়লা আমদানি করা হবে, যাতে সর্বোচ্চ কম লেভেলে কার্বন-ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ হয়। এ কেন্দ্রের চিমনি প্রায় ২৭৫ মিটার(প্রায় ৯০ তলা বিল্ডিং এর সমান) উচুঁতে থাকবে বলে সুন্দরবনের ওপর এর প্রভাব পড়বে না বা পড়লেও জীব বৈচিত্রের তেমন একটা ক্ষতি হবার সম্ভাবনা নাই।
    প্রশ্ন(৩): জ্বালানি হিসেবে আনা কয়লা পরিবহনের সময় নদীদূষণ ঘটাবে। বনের ভেতর দিয়ে প্রবাহমান নদী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্য পশুর বিচরণে ব্যাঘাত সৃষ্টি করবে।
    উত্তর: আকরাম পয়েন্ট থেকে সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে কয়লা নিয়ে প্রতিদিন একটি জাহাজ মংলা হয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্রে যাবে। এই জাহাজ পুরো ঢাকা থাকবে। জাহাজ থেকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লা নামবে কাভার কনভেয়ার বেল্টের মাধ্যমে। তাই এখানে দূষণের কোনো আশঙ্কা নেই। আকরাম পয়েন্ট থেকে মংলা বন্দর পর্যন্ত এখনো প্রতিদিন জাহাজ চলাচল করছে
    এছাড়া , সারা পৃথিবীতে ৪১ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় কয়লা থেকে, ভারতে হয় ৬৮ শতাংশ, সেখানে বাংলাদেশে কয়লা থেকে ১ শতাংশেরও কম বিদ্যুৎ হয়। বিদ্যুৎ খাতের মহাপরিকল্পনায় দৈনিক উৎপাদন ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এত বিদ্যুৎয়ের জন্য কয়লার কোনো বিকল্প নেই।

    আমরা সুন্দরবনকে ভালোবাসি। বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাও সুন্দরবনকে ভালোবাসেন। অতএব সুন্দরবনের ক্ষতি হোক এমন কোনো কাজ এ সরকার করবে না। সরকার ইমোশনের ওপর ভিত্তি না করে বাস্তবতার আলোকে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আবেগ দিয়ে নয়, বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে এটা বুঝতে হবে। আপনাদের সমালোচনা তথ্যভিত্তিক নয়, প্রযুক্তিভিত্তিক নয়।
    – দায়িত্ব প্রাপ্ত জৈনিক সরকারী প্রকৌশলী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *