হোলি গ্রেইল

হোলি গ্রেইল বলতে সবাই কোনো পবিত্র পেয়ালা বা ‘চ্যালিস’ মনে করে। হোলি গ্রেইলের ব্যাপারে সবচেয়ে বহুল প্রচলিত কুসংস্কারটা হচ্ছে, এটি এমন একটি পেয়ালা বা কাপ যেটি যীশু তার জীবনের শেষ খাবারের সময় ব্যবহার করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে এটি আসলে কোনো কাপ নয়। হোলি গ্রেইল আসলে একজন ব্যক্তি। একজন নারী, নাম মেরী ম্যাগডালিন।
লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি তার জগত বিখ্যাত শিল্প কর্ম ‘দ্য লাস্ট সাপার’ এ খুব খোলামেলা ভাবেই হোলি গ্রেইলকে চিনিয়ে গেছেন। ছবিটি দেখলেই বোঝা যাবে।


হোলি গ্রেইল বলতে সবাই কোনো পবিত্র পেয়ালা বা ‘চ্যালিস’ মনে করে। হোলি গ্রেইলের ব্যাপারে সবচেয়ে বহুল প্রচলিত কুসংস্কারটা হচ্ছে, এটি এমন একটি পেয়ালা বা কাপ যেটি যীশু তার জীবনের শেষ খাবারের সময় ব্যবহার করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে এটি আসলে কোনো কাপ নয়। হোলি গ্রেইল আসলে একজন ব্যক্তি। একজন নারী, নাম মেরী ম্যাগডালিন।
লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি তার জগত বিখ্যাত শিল্প কর্ম ‘দ্য লাস্ট সাপার’ এ খুব খোলামেলা ভাবেই হোলি গ্রেইলকে চিনিয়ে গেছেন। ছবিটি দেখলেই বোঝা যাবে।

এটি যীশুর অন্তর্ধান বা ক্রুশবিদ্ধ হবার আগে তার জীবনের শেষ খাবারের দৃশ্য। ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে যীশু বা ঈসা (আ: ) সবার মাঝখানে বসে আছেন। তার দু’দিকে মোট বার জন শীষ্য তার সাথে বসা। একটু খেয়াল করলে দেখা যাবে যে যীশুর ঠিক ডান দিকে একজন নারী ডান দিকে হেলে বসে আছে। ছবিতে যীশুর আর ঐ নারীর অবস্থান পাশাপাশি হলেও তাদের মধ্যবর্তী ফাকা স্থানটি অনেকটা “V” এর আকৃতি লাভ করেছে। এই “V” আকৃতিটি অনেকটা পেয়ালা বা চ্যালিসের মতো। তারচেয়েও বড় কথা এটার আকৃতি নারীর যোনীর মতো। এই প্রতীকটা নারীত্বের, মাতৃত্বের আর উর্বরতার। আর যীশুর ডানদিকে বসা ছবিটির সেই একমাত্র নারীটির নামই হচ্ছে মেরী ম্যাগডালিন। একটু খেয়াল করলে দেখা যাবে যে যীশু যে পোশাকটি পড়েছেন তার মিরর ইমেজের পোশাক পড়েছেন ম্যাগডালিন। যীশু পড়েছেন লাল রঙের রোব এবং নীল রঙের ক্লোক। ম্যাগডালিন পড়েছিলেন নীল রঙের রোব আর লাল রঙের ক্লোক। আসলে ম্যাগডালিন যীশুর স্ত্রী ছিলেন। আর তাকেই হোলি গ্রেইল বলা হয় কারন তিনিই ছিলেন সেই পেয়ালা বা ধারক যিনি যীশু বা ঈসা (আ: ) এর পবিত্র রক্তকে ধারন করেছিলেন। অর্থাত ম্যাগডালিন যীশুর সন্তানকে তার গর্ভে ধারন করেছিলেন। তাই তাকে হোলি গ্রেইল বলা হয়। এই হলো হোলি গ্রেইলের পরিচিতি।

হোলি গ্রেইল বা ম্যাগডালিনের কফিন এখনো লুকায়িত আছে। কারন যীশুর অন্তর্ধান বা মৃত্যুর পর চার্চ ম্যাগডালিনকে যীশুর পতিতা বলে অপবাদ দেয়। যার কারনে যীশুর কিছু অনুসারীগন ম্যাগডালিনের কফিন সংরক্ষনের জন্য একটা গোপন সংগঠন তৈরি করে। সংগঠনটির নাম প্রায়োরি অব সাইওন। এর অর্থ রক্ষক। হোলি গ্রেইলের অবস্থান একমাত্র এই সংগঠনের উপরের সারীর চার জন সদস্য জেনে থাকে। ১ম জনকে গ্র্যান্ড মাষ্টার আর বাকি তিন জনকে তাদের সহকারী বলা হয়। এদের কাজ হচ্ছে হোলি গ্রেইলের অবস্থান সম্পুর্ন গোপন রাখা। আর এর যথাযথ রক্ষনাবেক্ষন করা। গ্রেইলের অবস্থান যতটা গোপনীয় ঠিক ততটাই গোপোনীয় সংগঠনটির সদস্যদের পরিচয়। এদের গোপনীয়তা এতও কঠোর যে আজ পর্যন্ত একবারের জন্যও হোলি গ্রেইলের অবস্থান প্রকাশ হয়নি। অনেক জগত বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব এই সংগঠনটির গ্র্যান্ড মাষ্টার ছিলেন। যেমন: স্যার আইজ্যাক নিউটন, লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি, প্রমুখ। ইতিহাসবিদদের ধারনা এই সংগঠনটির অস্তিত্ব এখনো আছে। তারা এখনো হোলি গ্রেইলের অবস্থান গোপন করে রেখেছেন। অনেক ইতিহাসবিদ আজও হোলি গ্রেইলের অস্তিত্ব খুঁজে বেড়ান। আর প্রায়রি অব সায়ন অত্যন্ত দক্ষতার সাথেই গ্রেইলের অবস্থান তাদের নিকট হতে গোপন করে রেখেছে।

বি.দ্র: পোস্টে উল্লেখিত তথ্য সমূহ “ড্যান ব্রাউন” এর “da vinci code” আর উইকিডিয়া হতে সংগৃহীত এবং সংকলিত। আর ইতিহাসের কিছু স্পর্শকাতর বিষয় পোস্টে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

১ thought on “হোলি গ্রেইল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *