প্রাণেশ্বরীর কাছে খোলা চিঠি…

মেজো ফুফুর হাত ধরে ছোট বেলা থেকেই সাহিত্যের অনুরাগী। নজরুল আমার অদৃশ্য গুরু। তার মত করেই সব কিছু ভাবি, করার চেষ্টা করি। হিন্দু বন্ধুদের সাথে সম্পর্কটাও তাই প্রাণের সাথেই বেঁধেছি। কেবল নজরুলের মত ধুতিটাই পড়া বাকী। কারণ আজকালের হিন্দু বাড়ির ছেলেরাই ধুতি খুব একটা পড়ে না। সেখানে আমি কিভাবে পরি!

মেজো ফুফুর হাত ধরে ছোট বেলা থেকেই সাহিত্যের অনুরাগী। নজরুল আমার অদৃশ্য গুরু। তার মত করেই সব কিছু ভাবি, করার চেষ্টা করি। হিন্দু বন্ধুদের সাথে সম্পর্কটাও তাই প্রাণের সাথেই বেঁধেছি। কেবল নজরুলের মত ধুতিটাই পড়া বাকী। কারণ আজকালের হিন্দু বাড়ির ছেলেরাই ধুতি খুব একটা পড়ে না। সেখানে আমি কিভাবে পরি!
মোদক পাড়ার অলিতে গলিতে আমার বহুদিনের যাতায়াত। সেখানে আমার প্রাণের অনেক নিঃশ্বাস সবুজ হয়েছে, নীলও হয়েছে। রাস্তা, আঙ্গিনা, উঠোন, বড় ঘর, খাবার ঘর, শোবার ঘর, ঠাকুর ঘরে অনেক অনুভূতি পড়ে আছে। কখনও কোনদিন মনে হয়নি আমি আলাদা কোন প্রজাতির সাথে মিশছি।
কিন্তু সেদিন থেকে মনে হয়, যেদিন তোমার স্বরসতি চোখে আমি আমার হৃদয়ের মানচিত্র হারিয়ে ফেলেছি। যেদিন তোমার কছি বাঁশের কঞ্চির মত ঠোট জোড়া বারবার আমাকে আঘাত করেছে। যেদিন রবি ঠাকুরের মৃন্ময়ীর মত তোমার বাঁধ না মানা হাসিটা আমার সময়গুলো বদলে দিয়েছে।
মুগ্ধতার ঢালি উজার করেই তুমি আমাকে মুগ্ধ করেছ। তবে এড়িয়েও গিয়েছ সব দিক থেকে। সেকি ধর্মের দোহাইয়েই??? জানতে খুব ইচ্ছে করে আমার!
আমাকে তোমার এড়িয়ে চলার মানসিকতাই হাতে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে সমাজে ভিন্ন জাতের মানুষের বসবাস। পৃথিবীর সভ্য নগরীর শ্রেষ্ঠ একটিতে থেকেও তুমি গড়পরতার বাইরে যেতে পারনি। এটাও আমাকে অপমানিত করেছে।
আমি নজরুল নই। আমার কাজী মোতাহারের মত বিজ্ঞানী কোন বন্ধু নেই যার কাছে চিঠি লিখে জানতে চাইব-কত ফোটা রক্তে এক ফোটা অশ্রু হয় তা কি তোমার বিজ্ঞান জানে বন্ধু???
আমি আমার এক জীবনে অনেক সাধিকার আরাধ্যের দেবতা হয়েছি। বর দিয়েছি ভালবাসার। অভিনয়, স্বার্থ আর ভালবাসার মুখোশে নষ্টামী, উড়নচন্ডী, চাড়ালের সেই গল্পগুলো হারিয়ে গেছে সময়ের অসময়ে। কিন্তু আমি আমার এক জীবনে দেবীর পূজো দিয়েছি কেবল একবার। সে দেবী তুমি। এমন মুগ্ধতাও আমি পাইনি, এমন তীব্র যন্ত্রণাও আমি দেখিনি। লোকে বলে এটাই প্রেম। সংসার পাতার আজন্মের পিপাসা…
আমি ভাবি-এমন পৃথিবি কি কোনদিন হবে না যেখানে ধর্মের দেয়াল থাকবে না? এমন জগত কি আসবে না যেখানে কৃষ্ণের হাত ধরে লাইলী ভাল থাকার গান গাইবে। কিংবা সম্রাট শাহজাহান নতুন কোন সীতামহল গড়বেন লক্ষী সীতার ভালবাসার সম্মানে? আসবে না দেবী?
আমি চাই আসুক। তোমাকে প্রেমিকা হিসেবে, স্ত্রী হিসেবে পাব বলে নয়, আমি আমার সময়গুলো ফেরত চাই, আমি আমার মানচিত্রটা ফেরত চাই, যা তোমার কাছে হারিয়ে ফেলেছি…

৪ thoughts on “প্রাণেশ্বরীর কাছে খোলা চিঠি…

  1. আমি ভাবি-এমন পৃথিবি কি কোনদিন

    আমি ভাবি-এমন পৃথিবি কি কোনদিন হবে না যেখানে ধর্মের দেয়াল থাকবে না?

    ভাল লেগেছে। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :তালিয়া: :তালিয়া:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *