শুরু হলো ঢাকা-রামপাল লংমার্চ, জয় সুন্দরবন

সেইবার বলা হইছিলো যে দেশ গ্যাসের উপরে ভাসতাছে। এতো গ্যাস দিয়া কি হবে। তার চেয়ে বিবিয়ানার অতিরিক্ত গ্যাস ভারতে রপ্তানি করে দেশের দুই চাইর পয়সা ইনকাম করা হউক। কিন্তু অনেকেই প্রতিবাদ করলেন। আন্দোলনে নেতৃত্ব দিল তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি। বিবিয়ানা লংমার্চ সেইসময় ভারতে রপ্তানির নামে গ্যাস পাচার ঠেকানো বন্ধ করতে বিশেষ ভুমিকা রাখছিল। তাদেরকে গালি দেয়া হইলোযে তারা নাকি দেশের উন্নতি চায়না। দেশের উন্নতি কে চায়, তা দুইদিন পরেই বুঝা গেলো, যখন দেখা গেলো যে দেশে গ্যাসের সংকট, এতোই সংকট যে বাংলাদেশের বাসা বাড়িতেও গ্যাস দেওন যাইতাছেনা, ভারত তো অনেক দুরের জিনিস। জাতীয় কমিটির স্লোগান ‘বাসা বাড়িতে গ্যাস নাই, রপ্তানির সুযোগ নাই’ যে কতো যথার্থ ছিল তা প্রমানিত হইলো। আন্দোলনটা সফল না হইলে দেশ আরো কতো বড় বিপর্যয়ে পরতে পারতো সেইটাও বুঝা গেলো।

ফুলবাড়িতে এশিয়া এনার্জিরে যদি ঠেকানো না যাইতো তাইলে কি হইতো? উন্নয়নের দোহাইএ দেশের মানুষ, যারা ভিটা মাটি জমি ছাড়তে চায়না, তাদের বুকেও উপনিবেশিক প্রভুর স্বার্থ রক্ষায় গুলি চালানো হইলো। ফুলবাড়িতে রক্ত দিয়া, জীবন দিয়া এশিয়া এনার্জিরে ঠেকানো যদি না যাইতো তাইলে যেই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে এই দেশের মানুষ পরতো, যেই পরিমান মানুষ ভিটা মাটি ছাড়া হইতো, যেই পরিমান ফসলের জমি ধ্বংস হইতো তার বদলে কতোটুকু উন্নয়ন চুক্তি আমাদের দিতে পারতো? আমরা আজকে জানি, ঐ মহা অন্যায্য চুক্তিতে উন্নয়নের নামে দেশের হাতে গোনা কিছু কমিশনভোগিদের পকেটের বিশেষ উন্নয়ন হইতো বটে, মানুষের হইতোনা। কমিশন দিয়া মন্ত্রী কিনন যায়, আমলা কিনন যায়, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককেও দালাল হিশাবে ভাড়া নেওন যায়। সেই কমিশনের দাম ফুলবাড়ির জনতারে চুকাইতে হইলো রক্ত দিয়া, জীবন দিয়া। কিন্তু এশিয়া এনার্জিরে ঠেকানো গেলো, এবং দেশ একটা বিপর্যয় থেকে বাঁচলো। এশিয়া এনার্জি এখনো বাংলাদেশের উপরে শকুনের মতো ঘুরঘুর করে। নতুন নতুন দালাল ভাড়া দেয়। কিন্তু জনগণ হুশিয়ার আছে।

বিবিয়ানা এবং ফুলবাড়ী, তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সবচেয়ে সফল দুইটা আন্দোলনের নাম। দুইটা আন্দোলনেই জনগণের সমর্থন ও অংশগ্রহণ ছিল লক্ষ করার মতো। জনগণের এই স্বতস্ফুর্ত সমর্থন ও অংশগ্রহণ সুন্দরবন রক্ষায় জাতীয় কমিটির প্রধান ভরশা। আমরা বিবিয়ানায় পারছি, ফুলবাড়ীতে পারছি, সুন্দরবনেও পারবো। জনগণ সহায়। জয় বাঙলা, জয় জনগণ, জয় সুন্দরবন।

এইমাত্র ঢাকা থেকে রামপালের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলো তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির লংমার্চ। যারা লংমার্চে যান নাই তারা নিজ নিজ ইউপন্স অব ম্যাস কমিউনিকেশন নিয়া লড়াইয়ে সামিল থাকুন। লংমার্চের খবর ছড়িয়ে দিন চারিদিকে। জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করুন।

৯ thoughts on “শুরু হলো ঢাকা-রামপাল লংমার্চ, জয় সুন্দরবন

    1. সুন্দরবনে বিদ্যুৎ কেন্দ্র না
      সুন্দরবনে বিদ্যুৎ কেন্দ্র না হলে ৮ ঘন্টা লোডশেডিং হবে না। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে সবচেয়ে উত্তম বিকল্প প্রস্তাব অনেক আগেই জাতীয় কমিটির তরফ থেকে দেয়া হয়েছে।

  1. লংমার্চে শারিরীকভাবে অংশগ্রহণ
    লংমার্চে শারিরীকভাবে অংশগ্রহণ করে পারছিনা। তবে ভার্চুয়াল ভাবে আছি। লংমার্চ সফল হোক।

  2. সবাই যখন আমরা ক্ষমতার দখল
    সবাই যখন আমরা ক্ষমতার দখল নিয়ে কুকুরের মতো কামড়া কামড়ী করছি সেই সময়ে আপনাদের এই লং মার্চ কর্মসূচী পালিত হচ্ছে। লং মার্চ কর্মসূচী সফল হোক। জাতীয় স্বার্থ সবার আগে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *