নেই কিন্তু আছে!

প্রতিদিন যাচ্ছি গণজাগরণ আন্দোলনে, ভাবছি গণজাগরণ নিয়ে; ভাল লাগছে দুটোই। যুদ্ধ অপরাধীদের ফাঁসির দাবীতে গণজাগরন এক অপার বিস্ময় কিন্তু এক দারুন বাস্তবতা। কাজের। অকাজের আন্দোলন-সমাবেশ এদেশে অনেক হয়েছে,হচ্ছে ও হবে। ঐতিহাসিক বলে বিশেষণ আরোপ করে তাতে রঙ চড়ানো হলেও সেসব কখনোই জন-স্মৃতিতে কালোত্তীর্ণ হয়নি। কেননা সেসব আন্দোলন-সমাবেশে তেমন উপাদানই খুঁজে পাওয়া যায়নি। দলের ধ্বব্জাধারী নেতা, তাদের চেলা, অন্ধ সমর্থক আর ভাড়া করা সমাবেশকারীদের নিয়েই হয়েছে নব্বই’য়ের গনআন্দোলন পরবর্তী সকল সমাবেশ।

pic-1


প্রতিদিন যাচ্ছি গণজাগরণ আন্দোলনে, ভাবছি গণজাগরণ নিয়ে; ভাল লাগছে দুটোই। যুদ্ধ অপরাধীদের ফাঁসির দাবীতে গণজাগরন এক অপার বিস্ময় কিন্তু এক দারুন বাস্তবতা। কাজের। অকাজের আন্দোলন-সমাবেশ এদেশে অনেক হয়েছে,হচ্ছে ও হবে। ঐতিহাসিক বলে বিশেষণ আরোপ করে তাতে রঙ চড়ানো হলেও সেসব কখনোই জন-স্মৃতিতে কালোত্তীর্ণ হয়নি। কেননা সেসব আন্দোলন-সমাবেশে তেমন উপাদানই খুঁজে পাওয়া যায়নি। দলের ধ্বব্জাধারী নেতা, তাদের চেলা, অন্ধ সমর্থক আর ভাড়া করা সমাবেশকারীদের নিয়েই হয়েছে নব্বই’য়ের গনআন্দোলন পরবর্তী সকল সমাবেশ।

pic-1

কী এমন আছে গণজাগরণে? আছে প্রাণ। আছে স্বতস্ফুর্ততা। আছে সহমত। আছে আকাঙ্খা। আছে ঐক্য। আছে তারুণ্য। আছে আবেগ। দেশপ্রেম? সেকথা বলার অপেক্ষা রাখে না। হাজারো কন্ঠে যখন উচ্চারিত হয় জয় বাংলা, তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা-মেঘনা-যমুনা, রাজাকারের ফাঁসি চাই-পক্ষ নিলে রক্ষা নাই, ধর ধর ধর জামাত ধর ধইরা ধইরা জবাই কর তখন রক্তে কাঁপন ধরে। তুই রাজাকার আর রাজাকারের ঘৃণা-সূচক নাম দিয়ে প্রায় বদলে যাচ্ছে বর্ণমালার পাঠ! শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলেই আসছেন। সংহতি জানাতে মোমবাতি জ্বালিয়ে মৌণ হয়ে বসে থেকে কিংবা উচ্চকিত শ্লোগানে মুখর করে রেখেছেন নিজেদের অবস্থানস্থল।
‘কী নেই?’ এমন প্রশ্নের উত্তর করা মুশকিল। আপাত দৃষ্টিতে নেই এর তালিকায় আছে ‘রাজনীতি’।

pic-2

আয়োজক ব্লগার ও অনলাইন এক্টিভিষ্ট’রা এখনো সফলভাবে একটা রাজনৈতিক দাবী নিয়ে অরাজনৈতিক আন্দোলন সংগঠিত করতে পেরেছেন। তাদের এই প্রচেষ্টা আন্দোলন থেকে রাজনীতি ‘বিযুক্ত’ করার উদ্দেশ্য নিয়ে নয়। এ আন্দোলন যেন ছিনতাই হয়ে না পড়ে বা কোন রাজনৈতিক দলের পকেটে না যায় এটাই সম্ভবত আন্দোলন’কে রাজনৈতিক দলের প্রভাবমুক্ত রাখার প্রচেষ্টার অন্যতম কারন।
এ বিষয়টি নিয়ে ভাববার আছে। এটি আমাদের জানিয়ে দিলো প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতি জনগনের মাঝে কী প্রবল অনাস্থা বিরাজমান। জনমতের তোয়াক্কা না করা রাজনীতিক’দের জন্য এ এক বিরাট ধাক্কা। এটি একই সাথে জন-মানসে সুপ্ত রাজনীতি বিমুখতা উস্কে দিতে পারে। একথা ভাবার কোন অবকাশ নেই যে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন যেসব ব্লগার ও অনলাইন এক্টিভিষ্টগণ তারা রাজনৈতিক মতাদর্শ ধারন ও চর্চা করেন না। ব্যক্তিগত ভাবে তাদের অনেকেই হয়তো দুই প্রধান দলের বা দ্বি-দলীয় বৃত্তের বাইরের রাজনৈতিক মতাদর্শের চর্চা করেন। ব্লগার’রা তাদের জগতে রাজনীতি, ব্যক্তিগত বিশ্বাস, মতামত সব কিছু নিয়েই লিখে থাকেন; বাদানুবাদ বা যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন করেই জনমত সংগঠনে কাজ করেন। ব্যক্তিগত মত-যুক্তি-তর্ক প্রাণ পায় সমষ্টিক জ্ঞান-অভিজ্ঞতা-প্রয়াসে।
রাজনীতিমনষ্ক এইসব ব্লগার ও অনলাইন এক্টিভিষ্ট’রা এখন ১৯৭১ এর মানবতা বিরোধী অপরাধীদের যৌক্তিক বিচারের দাবী নিয়ে রাজপথে আন্দোলনে নেমেছেন। এটা তাদের নিত্যদিনের কাজের জায়গার বাইরের একটা বৈরী জগৎ। অনুমান করা যায় কতখানি প্রতিকূল পরিস্থিতি সামলে নিয়ে তারা এগুচ্ছেন। তবুও তারা নুয়ে পড়েন নি,রাজনৈতিক চেহারা বাছেন নি আন্দোলনের জন্য। তাদের সশ্রদ্ধ সালাম। এটা সম্ভব হয়েছে বোধকরি ১৯৭১ এর মানবতা বিরোধী অপরাধীদের যৌক্তিক বিচারের বিষয়ে জনগণের মধ্যে বিরজমান আকাঙ্খা’র জন্য। ব্লগার ও অনলাইন এক্টিভিষ্ট’রা এমন কোন জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব নন যে ডাকলেই হাজার-লাখো মানুষ ছুটে আসবেন। তাই জনগণের এই ব্যাপক জাগরণে তাদের আত্বপ্রসাদ লাভের সুযোগ ততোটা নেই যতখানি আছে বিশাল কর্মযজ্ঞের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব। লক্ষ্যনীয় যে তারা এখনো অবধি এরকম দাবী করেন নি। এখানেই তারা উৎরে গেছেন, ভিন্নতর কর্মযজ্ঞে অনেক ভুল-চুক করলেও পেশাদার রাজনীতিকদের হারিয়ে জনগনের আস্থা-ভাজন হয়েছেন । যুদ্ধ অপরাধীদের বিচারের বিষয়ে মানুষের আকাঙ্খার সলতেয় আগুন দিয়েছেন। আগুন ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশে। যুদ্ধ-অপরাধীদের বিচারের দাবির সাথে তাই উচ্চকিত হচ্ছে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি।

pic-3

নেই নেই করে এই আন্দোলনে তাই আষ্টে-পৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে রাজনীতি। না থাকাটাই অস্বাভাবিক হতো। গণজাগরণ তাই শেষ বিচারে বাংলাদেশের মানুষের রাজনৈতিক মুক্তির নতুন নিশানা । এ থেকে কতোটা (শিক্ষা ) নেবেন আর দেবেন তার দায় পেশাদার রাজনীতিবিদদের। মানুষের আকাঙ্খা বাস্তবায়নে কতখানি তৎপরতা দেখাবেন তাই এখন দেখবার। চেতনায় শানিত ৭১; মুক্তিযুদ্ধের বাংলায় রাজাকারের ঠাই নাই, পক্ষ নিলে রক্ষা নাই।

৪ thoughts on “নেই কিন্তু আছে!

  1. রাজনীতিমনষ্ক এইসব ব্লগার ও

    রাজনীতিমনষ্ক এইসব ব্লগার ও অনলাইন এক্টিভিষ্ট’রা এখন ১৯৭১ এর মানবতা বিরোধী অপরাধীদের যৌক্তিক বিচারের দাবী নিয়ে রাজপথে আন্দোলনে নেমেছেন। এটা তাদের নিত্যদিনের কাজের জায়গার বাইরের একটা বৈরী জগৎ। অনুমান করা যায় কতখানি প্রতিকূল পরিস্থিতি সামলে নিয়ে তারা এগুচ্ছেন। তবুও তারা নুয়ে পড়েন নি,রাজনৈতিক চেহারা বাছেন নি আন্দোলনের জন্য। তাদের সশ্রদ্ধ সালাম। এটা সম্ভব হয়েছে বোধকরি ১৯৭১ এর মানবতা বিরোধী অপরাধীদের যৌক্তিক বিচারের বিষয়ে জনগণের মধ্যে বিরজমান আকাঙ্খা’র জন্য। ব্লগার ও অনলাইন এক্টিভিষ্ট’রা এমন কোন জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব নন যে ডাকলেই হাজার-লাখো মানুষ ছুটে আসবেন। তাই জনগণের এই ব্যাপক জাগরণে তাদের আত্বপ্রসাদ লাভের সুযোগ ততোটা নেই যতখানি আছে বিশাল কর্মযজ্ঞের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব। লক্ষ্যনীয় যে তারা এখনো অবধি এরকম দাবী করেন নি। এখানেই তারা উৎরে গেছেন, ভিন্নতর কর্মযজ্ঞে অনেক ভুল-চুক করলেও পেশাদার রাজনীতিকদের হারিয়ে জনগনের আস্থা-ভাজন হয়েছেন । যুদ্ধ অপরাধীদের বিচারের বিষয়ে মানুষের আকাঙ্খার সলতেয় আগুন দিয়েছেন। আগুন ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশে। যুদ্ধ-অপরাধীদের বিচারের দাবির সাথে তাই উচ্চকিত হচ্ছে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি।

    :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:
    চমৎকার বলেছেন। আপনার এই কথাগুলোই হচ্ছে সবার মনের কথা। এই আন্দোলন নিয়ে যদি কোন রাজনৈতিক দল অন্য কোন চিন্তা করেন, এখানে রাজনীতি খেলার চেষ্টা করেন, তাহলে এর ফলাফল খুব একটা ভাল হবেনা। হিতে বিপরীত হবে। আমও যাবে, ছালাও যাবে। এটা সবার জন্য প্রযোজ্য। সেটা ডান, বাম, উত্তম, মধ্যম সব।

  2. জামাত-শিবির যা শুরু করেছিলো,
    জামাত-শিবির যা শুরু করেছিলো, বিশেষ করে হরতাল,পুলিশের উপর আক্রমন তাতে এমন একটা কিছুর অবশ্যই দরকার ছিলো। এখন তাদের সবার ল্যাঞ্জা লুকায়ে বসে আছে। এই দেশের ডাস্টবিনের কুকুরটাও যে তাদের সাথে নাই এই আন্দোলন থেকে তামরা তাই প্রমান করলাম ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *