আইনের প্যাঁচাল

৪৭(ক)(২) এ বলা হয়েছে, “এই সংবিধানে (১০৫ অনুচ্ছেদ) যাহা বলা হইয়াছে, তাহা সত্ত্বেও যে ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদের (৩) দফায় বর্ণিত কোনো আইন প্রযোজ্য হয়, এই সংবিধানের অধীন কোনো প্রতিকারের জন্য সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করিবার কোনো অধিকার সেই ব্যক্তির থাকবে না।”


৪৭(ক)(২) এ বলা হয়েছে, “এই সংবিধানে (১০৫ অনুচ্ছেদ) যাহা বলা হইয়াছে, তাহা সত্ত্বেও যে ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদের (৩) দফায় বর্ণিত কোনো আইন প্রযোজ্য হয়, এই সংবিধানের অধীন কোনো প্রতিকারের জন্য সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করিবার কোনো অধিকার সেই ব্যক্তির থাকবে না।”

বিশ্লেষণঃ সংবিধানের ১০৫ অনুচ্ছেদ হচ্ছে বাংলাদেশের যেকোন নাগরিকের “নাগরিক অধিকার সুরক্ষা” নিশ্চিতকরনের লক্ষ্যে করা আইন। যে কোন আদালতের মামলার রায়কে চ্যালেঞ্জ করে তা পুনঃবিবেচনার বা রিভিউ আবেদন করার জন্য একই বা উচ্চ আদালতে রিভিউ করার অধিকার নিশ্চিত করেছে সংবিধানের ১০৫ অনুচ্ছেদ। (এই অনুচ্ছেদের কথা জামাত এবং কিছু আইনজীবী বলছে)
……………………..
সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদের (৩) দফায় ‘গণহত্যাজনিত অপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ বা যুদ্ধাপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অন্যান্য অপরাধের জন্য কোনো সশস্ত্র বাহিনী বা প্রতিরক্ষা বাহিনী বা সহায়ক বাহিনীর সদস্য, বা অন্য কোনো ব্যক্তি, ব্যক্তি সমষ্টি বা সংগঠন কিংবা যুদ্ধবন্দিকে আটক, ফৌজদারিতে সোপর্দ কিংবা দণ্ডদান’ সম্পর্কে বলা হয়েছে।

বিশ্লেষণঃ একই সংবিধানের ৪৭(ক)(২)-এ বলা হয়েছে যে, ” ৪৭ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুযায়ী কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেয় রায় বা দন্ড সুপ্রিম কোর্টে পুনঃবিবেচনা বা রিভিউ আবেদন করিবার অধিকার রাখে না।
অর্থাৎ ১০৫ অনুচ্ছেদ থেকে খুব স্পষ্ট ভাবেই ৪৭ (৩) বিষয়টিকে exception বা ব্যতিক্রম হিসেবে সংগায়ীত করা হয়েছে। অর্থাৎ ‘গণহত্যাজনিত অপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ বা যুদ্ধাপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অন্যান্য অপরাধের জন্য কোনো সশস্ত্র বাহিনী বা প্রতিরক্ষা বাহিনী বা সহায়ক বাহিনীর সদস্য, বা অন্য কোনো ব্যক্তি, ব্যক্তি সমষ্টি বা সংগঠন কিংবা যুদ্ধবন্দির বিরুদ্ধে আনিত রায়ের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ বা আপত্তি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে রিভিউ আবেদন করা যাবে না।
…………………………..

উল্লেখ্য, কাদের মোল্লার দন্ডদান ৪৭ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুসারে নেয়া হয়েছে। ১৯৭২ সালের স্পেশিয়াল ট্রাইব্যুনাল এক্ট একটি সম্পূর্ন স্বতঃন্ত্র এবং স্বাধীন আইন হওয়া সত্বেও, বাংলাদেশের মূল সংবিধানে ৪৭ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে আইনটির সুরক্ষা করা সহ একই সাথে এর স্বতঃন্ত্রীকরন করা হয়েছে।

সেকারনে স্বভাবতই কাদের মোল্লার আপিলের রায়ের রিভিউ আবেদন করার সুযোগ নাই।

৯ thoughts on “আইনের প্যাঁচাল

  1. লেখাটা ব্লগে শেয়ার করার জন্য
    লেখাটা ব্লগে শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ সাব্বির ভাই। সবার জানা থাকা দরকার। নাহলে জামাতি ঝোল খাওয়া বেশ্যা বুদ্ধিজীবী আর আইনজ্ঞরা ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা চালিয়েই যাবে। আইনে স্পষ্ট আছে এই রায় রিভিউয়ের সুযোগ নেই। তাই সোজা ঝুলায়ে দেওয়া হোক। ফাঁসির মঞ্চ মিরপুরে হোলে আরও ভালো হতো। মিরপুরের শহীদেরা শান্তি পেতো।

    1. ধন্যবাদ আতিক ভাই। বিষয়টিকে
      ধন্যবাদ আতিক ভাই। বিষয়টিকে প্যাঁচালে অনেক দূর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া যায়। কিন্তু সরল ভাষায় পড়লে এ বিষয় নিয়ে প্যাঁচালের কিছু নাই;আমি এটাই বোঝাতে চেয়েছি। তাছাড়া আইনের টেক্সতো আর সোজা ভাষায় লেখা হয়না। সাধারনকে হাইকোর্ট দেখানের এরচেয়ে আর সহজ পদ্ধতি কি হতে পারে। যাইহোক, প্যাঁচাল খুব সহজেই থামছে না, এটা ধরে রাখতে পারেন। এ প্রসঙ্গে বলা যেতে পারে ২৭ জানুয়ারি ২০১০ বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেয় আপিল বিভাগ। এই রিভিউ-এর উপর শুনানি হয়েছিল মাত্র ৩ দিন। খারিজের দিন রাতেই রায় কার্যকর হয়। সুতরাং…

      1. আপনি আমার কথা বুঝতে পারেন নি
        আপনি আমার কথা বুঝতে পারেন নি ॥
        বিশিষ্ট আর নিরপেক্ষ কথাটা বিদ্রুপ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে॥

  2. আইন ও সংবিধান অনুসারে রিভিউ
    আইন ও সংবিধান অনুসারে রিভিউ করার কোন সুযোগ নেই ।এরপর ও বলা যায়না, যদি আন্তর্জাতিক লবিস্টদের উদ্বেগ হেতু সরকার আইনটিকে বিএসটিআই এর অনুমোদন নেবার ইচ্ছা পোষন করে তবে হয়তো কাদের মোল্লা ফাঁক দিয়ে বের হয়ে যেতে পারে ।নয়তো তাকে ঝুলতেই হবে ।

  3. সাধারণত উচ্চ আদালতে কোন
    সাধারণত উচ্চ আদালতে কোন ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড দিলে বা বহাল রাখা হলে ওই রায় বিচারিক আদালতে যায়। বিচারিক আদালত থেকে মৃত্যু পরোয়ানা জারি হয়। এরপর কার্যকরের বিষয়টি আসে।

    গত মঙ্গলবার রায়ের পর সাধারণ এই নিয়মটি অ্যাটর্নি জেনারেলও বলেছিলেন। তবে বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধীদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হবে।

    আইনের {২০(৩) ধারা} ধারা সরকারের আদেশে এই আইনের অধীনে দেয়া দণ্ড কার্যকর হবে।” তিনি বলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াটি সাধারণ আইনে (ফৌজদারি কার্যবিধি ও সাক্ষ্য আইন) মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

    অথচ ট্রাইব্যুনাল আইনে (২৩ ধারা) বলা হয়েছে, এই দুটি আইসিটি অ্যাক্টের কোনো পর্যায়ে প্রযোজ্য হবে না। রিভিউর বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারল বলেন, “কাদের মোল্লার আইনজীবীরা ১০৫ অনুচ্ছেদ অনুসারে রিভিউ করে একটি প্রতিকার চাচ্ছেন। ৪৭ অনুচ্ছেদের (৩) দফায় উল্লেখিত মানবতাবিরোধী অপরাধ করায় ৪৭(ক)(২) অনুযায়ী সেই প্রতিকার তিনি চাইতে পারেন না। তাই এটা স্পষ্ট যে কাদের মোল্লার ক্ষেত্রে রিভিউর সুযোগ নেই।”

    ৪৭(ক)(২) এ বলা হয়েছে, এই সংবিধানে যাহা বলা হইয়াছে, তাহা সত্ত্বেও যে ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদের (৩) দফায় বর্ণিত কোনো আইন প্রযোজ্য হয়, এই সংবিধানের অধীন কোনো প্রতিকারের জন্য সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করিবার কোনো অধিকার সেই ব্যক্তির থাকবে না। সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদের (৩) দফায় ‘গণহত্যাজনিত অপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ বা যুদ্ধাপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অন্যান্য অপরাধের জন্য কোনো সশস্ত্র বাহিনী বা প্রতিরক্ষা বাহিনী বা সহায়ক বাহিনীর সদস্য, বা অন্য কোনো ব্যক্তি, ব্যক্তি সমষ্টি বা সংগঠন কিংবা যুদ্ধবন্দিকে আটক, ফৌজদারিতে সোপর্দ কিংবা দণ্ডদান’ সম্পর্কে বলা হয়েছে।

    এত কিছুর পরও আসলে সন্দেহ থেকে যায়। কারণ বাংলাদেশ সব সম্ভবের দেশ। এমনিতেই জামাতি শুয়োরদের বাঁচানোর জন্য বঈদেশিক চাপ আছে। তার উপর শুরু হচ্ছে বিশ্ব মিডিয়া গুলোর বিশ্ব বেহায়া কর্মকান্ড। আল জাজিরা কিংবা হালের টেলিগ্রাফ সবগুলো ইস্যুকে মনে হচ্ছে একই সূতায় গাঁথা। তাছাড়া যুদ্ধাপরাধের মত ভয়ঙ্কর অপরাধে বিশ্বের ‘মানবতা সংগঠন’ গুলোর ভূমিকা না থাকলেও তারা ট্রাইব্যুনাল নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। সব মিলিয়ে ভয়ঙ্কর খারাপ কিছুর আভাস পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু আমরা মৃত্যুঞ্জয়ী জাতি। আমরা করে দেখাতে পারি। প্রথমে প্রহসনের রায়ে গণজাগরণ হয়েছে, ফাঁসি কার্যকর না হলে গণ অভ্যুত্থান হবে। আমরা ছেড়ে দেবোনা। রাজাকার ঝুলিয়ে ছাড়বোই। বাই হুক অর বাই ক্রুক, উই উইল হ্যাং দোজ পাকি শুয়োর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *